বিবিধ ভাবনা (২৩)

image_pdfimage_print

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১. অপরাধী হয়েছে সন্মানিত

ঈমানদারের জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো সত্যের পক্ষে ও মিথ্যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদান নিয়ে বাঁচা। তবে ফরজ শুধু এ নয়, সাক্ষী দিবে শুধু মহান আল্লাহতায়ালা এবং তাঁর রাসূল ও তাঁর দ্বীনের পক্ষে। বরং কোথাও খুন বা চুরিডাকাতি হতে দেখলে খুনিকে খুনি এবং চোরকে চোর বলে সাক্ষী দিবে। নইলে গাদ্দারী হয় সত্যের সাথে। এবং পক্ষ নেয়া হয় দুর্বৃত্তের। এতে বাড়ে দুর্বৃত্ত শাসনের তান্ডব।

অথচ বাংলাদেশে দুর্বৃত্তদের পক্ষের কাজটিই বেশী হয়েছে। পাকিস্তান আমলে মুজিব কাজ করেছে ভারতের এজেন্ট রূপে। আগরতলা মামলা তার দলিল। ক্ষমতায় গিয়ে মুজিব গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়েছে। প্রতিষ্ঠা দিয়েছে একদলীয় বাকশাল। কেড়ে নিয়েছ বাকস্বাধীনতা, বন্ধ করেছে সকল পত্র-পত্রিকা। হত্যা করেছে৩০ হাজারের বেশী বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে। নিষিদ্ধ করেছে সকল ইসলামী দলকে। প্রতিষ্ঠা দিয়েছে ভারতের গোলামী। এসবই বিশাল মাপের অপরাধ। এরূপ অপরাধ বাংলার ইতিহাসে আর কেউ করেছে কী? অথচ সে মুজিবকে জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু বানানো হয়েছে। অপর দিকে মুজিবী চেতনার ধারক এবং ভোটচোরকে হাসিনাকে বলা হয় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী।

২. একমাত্র রেকর্ড বাংলাদেশের

বিশ্বের সব দেশেই চোর-ডাকাতদের অপরাধী বলা হয়। তাদের গ্রেফতার করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে বিচার হয় এবং বিচারে শাস্তিও হয়। বাংলাদেশে হয় উল্টোটি। বরং খুনের অপরাধ মাফ করে জেল থেকে খুনিদের বের করে দেয়া হয়। খুনিদের সাথে মিলে দেশের প্রসিডেন্ট বিয়ের অনুষ্ঠান করেন, এক সাথে ফটো তুলেন।

বাংলাদেশে দেশজুড়ে ভো্টডাকাতী হয়েছে। ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা ডাকাতি হয়ে গেছে। বহু গুম ও বহু খুন হয়েছে সরকারি বাহিনীর হাতে। কিন্তু এসব অপরাধের নায়কদের বিচার করা হয়নি। শাস্তিও হয়নি। চোরডাকাতগণ চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, গুম-খুন করবে -সেটি যেন তাদের অধিকার। কিন্তু অপরাধ গণ্য করা হচ্ছে সে অপরাধকে অপরাধ বলা। আল-জাজিরার বিরুদ্ধে তাই মামলা। অথচ আল-জাজিরা অপরাধের অকাঠ্য প্রমাণ পেশ করে অপরাধীদের ধরা ও তাদের বিচার করাটি সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু দুর্বৃ্ত্ত সরকারের অপরাধীদের ধরা ও তাদের বিচার নিয়ে আগ্রহ নেই্। বরং আল-জাজিরার উপর ক্ষেপেছে তারা কেন অপরাধগুলোকে প্রকাশ করে দিল।

৩. রাষ্ট্র যেখানে জাহান্নামের বাহন

প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর উপর ফরজ শুধু এ নয়, তারা শুধু নামায-রোযা ও হজ্ব-যাকাত পালন করবে। বরং ফরজ হলো দেশের আদালতে শরিয়তী আইন পালন। যারা শরিয়তের আইন পালন করে না তাদেরকে সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে যথাক্রমে কাফের, জালেম ও ফাসেক বলা হয়েছে। আরো লক্ষণীয় হলো, বাংলাদেশে ন্যায় মুসলিম দেশের সেক্যুলারিস্ট রাজনৈতিক দলগুলো শরিয়ত প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে। তাদের অনেকে শরিয়তের আইনকে এ যুগে অচল বলেন। এ ভূমিকা যে তাদেরকে জাহান্নামে নিবে -সে হুশ কি তাদের আছে? এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহতায়ালার সুস্পষ্ট ঘোষণা: “এবং যারা আল্লাহর আয়াত (তথা তাঁর হুকুম ও শরিয়তী বিধান)’র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রচেষ্টাকে নিয়োজিত করে তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।”-(সুরা সাবা, আয়াত ৫)। সেরূপ বিরোধীতার শাস্তি যে জাহান্নামের আযাবের -সে কথাটি পুণরায় শুনানো হয়েছে সুরা হজ্বের ৫১ নম্বর আয়াতে। অথচ মহান আল্লাহতায়ালার সে ঘোষণাটি বাঙালি মুসলিম জীবনে গুরত্ব পায়নি। বরং গুরুত্ব পেয়েছে দেশের আদালত থেকে শরিয়তী আইনের বিলুপ্তি ঘটিয়ে জাহান্নামের পথে চলা। এভাবে রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে জাহান্নামে চলার বাহনে।  এমন বাহনে বসে যতই তাসবিহ পাঠ হোক না কেন তাতে কি মুক্তি মিলবে? 

৪. পাকিস্তান আমলের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ আমলের স্বাধীনতা
বলা হয় পাকিস্তান আমলে আমরা পরাধীন ছিলাম। অথচ সে সময় মুজিবসহ সকল বিরোধী দল শত শত মিটিং মিছিল করেছে। নির্বাচন হয়েছে; সরকারি দল মুসলিম লীগ ১৯৫৪ সালে হেরেছে। কিন্তু সরকারি দল ভোটডাকাতি করেনি। বহু বিরোধী দলীয় পত্র-পত্রিকাও বের হয়েছে। সে পাকিস্তানী আমলকে পরাধীনতা বললে হাসিনার বাংলাদেশী আমলকে কি বলা যাবে?

সরকারের উচিত বাংলাদেশ আমলের এ স্বাধীনতা বাদ দিয়ে পাকিস্তান আমলের স্বাধীনতাটুকু দেয়া। পাকিস্তান আমলের সে স্বাধীনতা দিয়ে দেখুক ভোটচোর হাসিনা কোথায় যায়? জনগন তাকে বস্তায় ভরবে এবং আবর্জনার ভাগারে ফেলবে। এবং আওয়ামী গুণ্ডারা পালাবার রাস্তা পাবে না।


৫. যুদ্ধটি সর্বক্ষণের

মুসলিমদের বিরুদ্ধে শয়তান ও তার অনুসারিদের যুদ্ধটি সর্বক্ষণের। ফলে ঈমানদারের জীবনে দুই অবস্থা। হয় সে যুদ্ধ করে, অথবা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। দুটোই ইবাদত। ঈমানদার তাই কখনো নিষ্ক্রীয় হয় না। সে নিজে জাগে এবং লাগাতর অন্যকে জাগায়।

৬. দেশের মুখে চুনকালি লাগাচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ লাগাতর রেকর্ড করেই চলেছে। তবে সেটি সুবৃত্তিতে নয়, দুর্বৃত্তিতে। বিশ্বে এমন কোন দেশ আছে কি, যে দেশের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগের রাতে দেশবাসীর ভোটের ব্যালটগুলো চুরি করে বিজয়ী করে নিজেকে ও নিজের দলকে? সেটি ঘটেছে একমাত্র বাংলাদেশ।

যে বাড়ীর ছেলে চোর -সে বাড়ীর লোকদের মুখে চুনকালি লাগে। অন্যদের কাছে তার ইজ্জত থাকে না। তেমনি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ভোটচোর –সে দেশের মুখে চুনকালি লাগে বিশ্ববাসীর সামনে। হাসিনা এভাবে বাংলাদেশের কলংক বাড়িয়ে চলেছে। কোন ভদ্র নাগরিক কি নিজদেশের জন্য এমন দুর্বৃত্তকে প্রধানমন্ত্রী রূপে মেনে নেয়?

 

৭. অপরাধীদের সন্মানিত করার সংস্কৃতি!

কোন সভ্য মানুষ কি কখনো কোন অপরাধীকে সন্মান করে? সেটি করলে তো অপরাধীর ঘৃণ্য অপরাধকে সমর্থন দেয়া হয়। সভ্য সমাজ গড়তে যা অতিশয় জরুরি তা হলো, অপরাধীদের ঘৃনা করার সংস্কৃতি। ঘৃণ্য অপরাধীকে জাতির পিতা, বন্ধূ বা মাননীয় বল্লে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম তাদের নামে করে সন্মান দেখালে দেশে প্লাবন আসে দুর্বৃত্তির।

তাই শুধু অপরাধীদের পিতা, বন্ধু ও মাননীয় বলার অসভ্যতাটি ছাড়লে চলে না। বরং জরুরি হলো, যে সব প্রতিষ্ঠানের গায়ে বাকশালী স্বৈরাচারী, খুনি ও ভারতের দালাল শেখ মুজিবের নাম আছে সেখান থেকে সে ফলকগুলো সত্বর সরিয়ে ফেলা। একমাত্র তখনই প্রকাশ পাবে, দুর্বৃত্তদের ঘৃণা করার ন্যূনতম সামর্থ্যটি কতটুকু বেঁচে আছে বাংলাদেশীদের মাঝে।  

৮. জ্ঞানশূণ্যতাই দায়শূণ্য করে

মানুষ জ্ঞানশূণ্য হলে দায়শূণ্য হয়। তখন পশু ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকে না। সে জ্ঞানশূণ্যতার কারণেই সামনে কাউকে খুন হতে দেখেও গরু ঘাস খায়। তেমনি স্বভাব জাহেল তথা অজ্ঞ জনগণের। নিজেদের ভোট ডাকাতি হয়ে গেলেও তারা ডাকাতদের পিছনে ধাওয়া করে না। জ্ঞানবান সভ্য মানুষদের দেশে কি এটা ভাবা যায়?  

একমাত্র জ্ঞানীবান সুবোধ মানুষেরাই স্বাধীনতা চায়। গরুছাগল যেমন স্বাধীনতা নিয়ে ভাবে না; তেমনি জাহেল মানুষেরাও ভাবে না। তাই দেশ থেকে দুর্বৃত্ত নির্মূল করতে হলে জনগণের মাঝে জ্ঞানের আলো জ্বালাতে হবে। তখন মানুষ শুধু দুর্বৃত্তদের ঘৃণার সামর্থ্যই পাবে না, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সামর্থ্যও পাবে। সেটি না হলে এক দুর্বৃত্ত অপসারিত হলে আরেক দুর্বৃত্ত মাথায় চাপবে। সংকট যাবে না।

৯. দেশ এখন যুদ্ধ ক্ষেত্র

সমগ্র দেশ এখন যুদ্ধ ক্ষেত্র। শত্রু পক্ষটি হলো, স্বৈরাচারি ভোটডাকাত হাসিনার অবৈধ সরকার। এ যুদ্ধে জিতলে হলে প্রতিটি নাগরিককে সৈনিক এবং প্রতিটি কথা ও লেখাকে অস্ত্রে পরিণত করতে হবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সে অস্ত্রকে অবিরাম ব্যবহার করতে হবে। এটিই ইমানদারের জিহাদ। যতদিন এ দুর্বৃত্তদের শাসন থাকবে ততদিন এ জিহাদ থেকে নিষ্কৃতি নাই।

১০. অসম্ভব করে নেক আমল

ঈমান নিয়ে বাঁচতে হলে নেক আমল নিয়ে বাঁচতে হয়। ঈমানের পরীক্ষা হয় নেক আমলের সামর্থ্যে। এবং বড় নেক আমল হলো: পবিত্র কোরআন থেকে জ্ঞানলাভ ও কোর’আন শেখানো এবং অন্যায়র নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। স্বৈরশাসকদের বড় নাশকতাটি হলো, নেক আমলের পরিসরকে তারা ক্ষুদ্রতর করে, এবং বাঁধা দেয় নেক আমলে। অপর দিকে বৃদ্ধি ঘটায় দুর্বৃত্তিতে। বাংলাদেশে আজ যে দুর্বৃত্তির প্লাবন তার কারণ তো দুর্বৃত্তদের স্বৈরাচার।   

১১. মুজিবকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে

শেখ মুজিব মানেই গণতন্ত্র হত্যা, মানবাধীকার হরন, বাকশালী স্বৈরাচার, ভারতের গোলামী, হাসিনার ভোটডাকাতী,  গুম-খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি, কোর’আন শিক্ষার সংকোচন, ইসলামপন্থিদের হত্যা ও  ইসলামী দল নিষিদ্ধকরণ। মুজিবের সে অসভ্য লিগ্যাসি বেঁচে আছে হাসিনার রাজনীতিতে। ইবলিস শয়তান ও মীর জাফর যেমন ইতিহাসে বেঁচে আছে ঘৃণার টার্গেট হয়ে, তেমনি মুজিবকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে ঘৃণার পাত্র রূপে। একমাত্র শয়তানই তার মুর্তি গড়াতে আগ্রহ দেখাতে পারে্।

 

১২. স্বৈর শাসনের সবচেয়ে বড় নাশকতাটি

 

পশুর শুধু পানাহার লাগে, তার স্বাধীনতা লাগে না। অথচ মানুষ শুধু

পানাহার বাঁচে না, তার স্বাধীনতাও লাগে। স্বৈর শাসকেরা চায়, মানুষেরা স্বাধীনতা ভূলে পশুতে পরিণত হোক। দেশকে এরা জঙ্গলে পরিণত করে। স্বৈর শাসনের এটিই সবচেয়ে বড় নাশকতা। তাই সকল দেশের সভ্য মানুষেরা স্বৈর শাসন হটায়। অথচ বাংলাদেশে সে স্বৈরশাসন বেঁচে আছে ১২ বছর ধরে্। কোন সভ্য জনগণ কি এরূপ অসভ্য শাসন একদিনও সহ্য করতো?

১৩. অভাব লজ্জাশরমের


হাদীস: “লজ্জা ঈমানের অর্ধেক।”  ঈমান ও লজ্জা থাকার কারণেই সভ্য মানুষ কখনোই চোরডাকাত হয় না। অপর দিকে যারা চোরডাকাত -তারা চুরিডাকাতিতে হাতে নাতে ধরা পড়লেও তাদের শরম লাগে না। তারা জনসম্মুখে দাঁত বের করে হাঁসে। তাই আল-জাজিরার রিপোর্টে জাতিসংঘসহ সারা দুনিয়ায় হৈ চৈ পড়লেও যারা চুরিড়াকাতি ও নানারূপ দুর্বৃত্তির সাথে জড়িত –সেই শেখ হাসিনা ও তার সহচরদের মাঝে এ রিপোর্ট নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া নাই। যেন কিছুই হয়নি। ০৯/০২/২০২১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *