বিবিধ ভাবনা (১৫)

image_pdfimage_print

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১.

প্রসঙ্গ: হারাম রাজনীতির বিজয়

পানাহারে যেমন হালাল-হারাম আছে, তেমনি হালাল-হারাম আছে রাজনীতিতেও। কিছু লোকের মদপান বা ব্যাভিচারে পুরা জাতি পরাজিত, পতিত ও জাহান্নামমুখী হয় না। কিন্তু সেটি হয় দেশে হারাম রাজনীতি বিজয়ী হলে। কারণ রাজনীতিই হলো জাতির ইঞ্জিন। রাজনীতি যেদিকে যায়, জাতিও সেদিকে যায়। তাই ইসলাম বিরোধী ব্যক্তিকে রাজনীতিতে নেতা রূপে মেনে নেয়া ও তাকে রাষ্ট্রের কর্ণধার বানানোর অর্থ চালকের সিটে শয়তানকে বসনো। এটি ইসলামের সাথে চরম গাদ্দারী। রাষ্ট্রনায়কের সিটে খোদ নবীজী (সা:) বসেছেন। নবীজী (সা:)’র পর তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহাবাগণ বসেছেন। তাই সূন্নত হলো নবীজী(সা:)’র আদর্শের যারা অনুসারি তাদেরকে এ সিটে বসানো। কিন্তু বাংলাদেশে নবীজী (সা:)’র সে মহান সূন্নতটি বেঁচে নাই্। ফলে বেচে নাই নবীজী (সা:)’র ইসলামও। রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে জনগণকে জাহান্নামে টানার জাহাজ রূপে। এটি হলো হারাম রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ানক নাশকতা। তাই সবচেয়ে বড় নেক কর্ম হলো জনগণকে এ হারাম রাজনীতি থেকে নাজাত দেয়া।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভিত্তি হলো বাঙালী জাতীয়তাবাদ এবংর্ ধর্মনিরপক্ষতা। দলটির ধর্মনিরপক্ষতার অর্থ: ইসলামের বিজয় ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করা। ইসলামের পক্ষ নেয়ার ফরজ কাজকে এরা সাম্প্রদায়িকতা বলে। একেই এরা বলে সেক্যুলারিজম। একই রাজনীতি হলো বিএনপির। শরিয়ত মোতাবেক এ রাজনীতি শতভাগ হারাম। কারণ, হারাম হলো ভাষা, বর্ণ ও অঞ্চলের নামে মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করার রাজনীতি। অথচ বাঙালী জাতীয়তাবাদের লক্ষ্যই হলো বিভক্তির দেয়াল খাড়া করা। এ যুক্তিতে তারা ভারতীয় কাফেরদের সাথে নিয়ে পাকিস্তান ভেঙ্গেছে। এবং হারাম হলো সে সেক্যুলার রাজনীতিও -যা আদালতে শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করে। এরূপ হারাম রাজনীতিতে যা অসম্ভব হয় সেটি হলো, পূর্ণ ইসলাম পালন। কারণ আদালতে শরিয়ত অনুযায়ী বিচার না হলে কি ইসলাম পালন হয়?

বাংলায় মুসলিম শাসনের শুরু থেকে ইংরেজ কাফের শাসন শুরুর পূর্ব সময় পর্যন্ত আদালতে ছিল শরিয়তের আইন। শরিয়ত বিলুপ্ত করেছিল ইংরেজ কাফেরগণ। বাংলাদেশে সেক্যুলার রাজনীতি ইংরেজ কাফেরদের শরিয়ত বিলুপ্তির সে ইসলাম বিরোধী রাজনীতিকেই বাঁচিয়ে রেখেছে। এভাবে বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে বিজয়ী হয়েছে ইসলামকে পরাজিত রাখার শয়তানী এজেন্ডা্। এবং ঈমানদারের জন্য অসম্ভব করছে মহান আল্লাহতায়ালার পবিত্র এজেন্ডার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া।

প্রশ্ন হলো, রাজনীতিতে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডা কী? সেটি হলো এ জমিনের উপর তার সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠা এবং সেটির প্রকাশ ঘটে দেশের আদালতে তাঁর শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। এবং আল্লাহ সুবহানাওয়ালা চান, অন্যান্য ধর্মের উপর ইসলামের পূর্ণ বিজয়। মহান আল্লাহতায়ালার সে এজেন্ডাটি পবিত্র কোর’আনে তিন বার ঘোষিত হয়েছে “লিইউযহিরাহু আলা দ্বীনি কুল্লিহি” এ পবিত্র বয়ানে।

ইসলাম কবুল করার অর্থই হলো মহান আল্লাহতায়ালার এ এজেন্ডাকে বিজয়ী করার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করা। সে রাজনীতিতে নিজের অর্থ, মেধা, শ্রম এবং রক্তের বিনিয়োগ করা। ঈমানদার হওয়ার অর্থই হলো তাঁকে  বাঁচতে হয় সকল দল ও মতের উপর ইসলামের বিজয় করার জিহাদ নিয়ে এবং শরিয়তের প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার নিয়ে। এ কাজের জন্যই ঈমানদার মাত্রই মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা। সকল সাহাবায়ে কেরাম এ রাজনীতি নিয়ে জিহাদ করেছেন। খোদ নবীজী (সা:) এ রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত দিতে গিয়ে নিজে রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে বসেছনে । একই কাজ করেছেন খোলাফায়ে রাশেদাগণ।

অথচ বাংলাদেশে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডা বাদ দিয়ে শয়তানের এজেন্ডা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। বড়ই আফসোস! তা নিয়ে সেক্যুলার রাজনীতির নামে জনগণকে শয়তানের খলিফা বানানো হচ্ছে। পরিতাপের বিষয়, দেশের আলেমগণ এ ভয়ানক বিপদ নিয়ে কিছুই বলে না। তারা নিজেরাও পালন করে না নবীজী (সা:)’র রাজনৈতিক সূন্নত। ফলে ইসলাম আজ পরাজিত এবং দেশের আদালত থেকে বিলুপ্ত হয়েছে শরিয়ত। যে আসনে খোদ নবীজী (সা:) বসেছেন, সে আসনে বসেছে ভোটচোর এবং গুম-খুন-সন্ত্রাসের নেত্রী। কিন্তু তা নিয়েও আলেমগণ নিশ্চুপ। এটিও কি কম বিস্ময় যে, ভোটচোর নেত্রীকে তারা দিয়েছে কওমী জননীর খেতাব! চেতনা ও চরিত্রের এরূপ পচন এবং মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডার সাথে এরূপ গাদ্দারী নিয়ে কেউ কি জান্নাতের ধারে কাছে যাওয়ার আশা করতে পারে? নামের আগে আলেম, আল্লামা, মাওলানা, সুফি, পীর, আউলিয়া ইত্যাদি  খেতাব লাগানো খুবই সহজ, কিন্তু কঠিন হলো প্রকৃত মুসলিম হওয়া। কারণ, মুসলিম হতে হলে তো নিজের এজেন্ডা ছেড়ে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডার কাছে পুরাপুরি আত্মসমর্পণ করতে হয়।

২.

সূর্য যেমন খালি চোখে দেখা যায়, তেমনি ঈমান ও বেঈমানীও খালি চোখে দেখা যায়। ঈমান দেখা যায় নেক আমলে ব্যস্ততায় এবং বদ আমল থেকে বাঁচার অবিরাম পেরেশানী থেকে। এবং দেখা যায় ইসলামকে বিজয়ী করার জিহাদে নিজের জান, মাল ও মেধার বিনিয়োগে। তেমনি বেঈমানী দেখা যায় আল্লাহর হুকুমের অবাধ্যতায়। এবং দেখা যায় শরিয়ত প্রতিষ্ঠার বিরোধীতায়। সূর্যের আলোর মত বেঈমানী জ্বলসে উঠে মিথ্যাচার, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, গুম-খুনের রাজনীতিতে এবং বেহিজাব নারীর পর্দাহীনতায়।

৩.
ভাল ও খারাপ -উভয় কাজেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো রাষ্ট্র। রাষ্ট্র দুর্বত্তদের হাতে অধিকৃত হলে সবগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরাধ কর্মের হাতিয়ারে পরিণত হয়। তখন দেশে সবচেয় বেশী অপরাধ করে রাষ্ট্রীয় কর্মচারীগণ। পুলিশ, বিচারক ও সৈনিকেরা তখন খুনিতে পরিণত হয়। ব্যাংক লুট, ট্রেজারি লুট, শেয়ার মার্কেট লুট, সরকারি প্রজেক্টের অর্থলুট, পিলখানা হত্যাকান্ড, শাপলা চত্ত্বরের গণহত্যা তখন মামূলী ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দেশে চুরিডাকাতি,গুম,খুন,সন্ত্রাসের জোয়ার আনতে চোরডাকাত বা দুর্বৃত্তদের কোন বিশেষ বাহিনীর দরকার পড়েনা। তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বৃত্তগণই দেশে দুর্বৃত্তির সুনামী এনে দেয়। বাংলাদেশ অতীতে দুর্নীতিতে বিশ্ব মাঝে ৫ বার প্রথম হয়েছে। এবং দেশের ললাটে সে অপমানটি পল্লীর ডাকাত দলগুলোর কারণে জুটেনি। বরং সেটি অর্জিত হয়েছে রাষ্ট্র দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হওয়াতে।

তাই সবচেয়ে বড় নেককর্ম হলো, রাষ্ট্রকে অপরাধীদের দখলদারী থেকে মূক্ত করা। একাজ পবিত্র জিহাদ। রাষ্ট্র ঈমানদারদের হাতে পড়লে নেক আমলের প্লাবন আসে। অতীতে মুসলিমগণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার জন্ম দিয়েছিলেন। তার কারণ এ নয় যে, তারা শত শত মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন। বরং এজন্য যে, রাষ্ট্রকে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে মুক্ত করে ঈমানদারদের হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। তখন রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে বসেছিলেন খোদ নবীজী (সা:) এবং তার শ্রেষ্ঠ সাহাবাগণ। তখন প্লাবন এসেছে নেক আমলে। তখন রাষ্ট্র পরিণত হয়েছিল জনগণকে জান্নাতে নেয়ার বাহনে। ইসলামী রাষ্ট্রের এটিই হলো শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।

 

৪.
মিথ্যার নাশকতা ভয়ংকর। মিথ্যা সত্যকে চেনা অসম্ভব করে। মানুষ মহান আল্লাহতায়ালাহকে চিনতে ব্যর্থ হয় চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নয়; বরং মগজে মিথ্যা ধারণা, মিথ্যা ধর্ম ও মিথ্যা মতবাদ  বাসা বাঁধার কারণে। শয়তানের কাজ মিথ্যা ছড়ানো। সত্য ও মিথ্যার মাঝে চলমান লড়াইয়ে উত্তম ইবাদত হলো সত্যের সৈনিক হওয়া। সত্যের নির্ভূল ভান্ডার হলো পবিত্র কোর’আন। ঈমানদারের কাজ হলো, সে মহা সত্যকে ছড়িয়ে দেয়া। তাই মহান আল্লাহতায়ালাহর নির্দেশ, “ফাযাক্কির বিল কোর’আন”। মানুষকে সাবধান করো কোর’আন দিয়ে।

৫.
মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সামর্থ্যটি হলো কোনটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা -সেটি চেনার সামর্থ্য। এবং কে ন্যায় পরায়ন এবং কে দুর্বৃত্ত -সেটি বুঝার সামর্থ্য। সে সামর্থ্য না থাকাটি মানব জীবনের সবচেয়ে বড় জাহিলিয়াত তথা অজ্ঞতা। অনেকেরই বড় বড় ডিগ্রি আছে, তারা প্রফেসর, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী বা আদালতের বিচারকও হয়, কিন্তু সে সামর্থ্যটি তাদের নাই। ফলে বড় বড় ডিগ্রিধারীরা মুর্তিকে পূজা দেয় এবং ভোটচোর দুর্বৃত্তকেও মাননীয় বলে।

বাংলাদেশের মূল সমস্যাটি হলো, নৈতিক সামর্থ্যের অভাব। ব্যর্থতাটি সভ্য মানুষ রূপে বেড়ে উঠায়। ফলে দেশে রাস্তাঘাট, চাল-ডাল, ব্রিজ বা উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে সভ্যতর করা যাবে না। তখন অসম্ভব হবে মুসলিম হওয়া। কারণ, মুসলিম তো তারাই হয় যারা সভ্য মানুষ হয়। তাই বাড়াতে হবে নৈতিক সামর্থ্য। একমাত্র তখনই সম্ভব হবে সভ্য মানুষ ও মুসলিম রুপে বেড়ে উঠা। আর সভ্য রূপে বেড়ে উঠার অপরিহার্য সামগ্রীটি হলো মহান আল্লাহাতায়ালার দেয়া কোর’আন।   

৬.
বিষ প্রাণনাশ ঘটায়। তেমনি মিথ্যা ঈমানের মৃত্যু ঘটায় এবং চেতনার ভূমিতে জন্ম দেয় নানা অসত্য ধারণা। মিথ্যুকগণ মারা যায়, কিন্তু তাদের মিথ্যা বেঁচে থাকে। মুর্তিপূজার মিথ্যাকে যে ব্যক্তিজন্ম দিয়েছিল সে মারা গেছে, কিন্তু সে মিথ্যা বেঁচে আছে। মিথ্যা থেকে বাঁচাই বড় বাঁচা। মিথ্যা থেকে বাঁচায় কোর’আনের জ্ঞান। তাই মহান আল্লাহ সুবহানা ওয়া তায়ালা নামায-রোযার পূর্বে সর্বপ্রথম জ্ঞানার্জন ফরজ করেছেন।

৭.
মিথ্যা রটানো মানব সভ্যতার সবচেয়ে ক্ষতিকর অপরাধ। মিথ্যুকেরা বিষকে মধু রূপে পেশ করে প্রাণ নাশ ঘটাতে পারে। এবং জাহাননামের পথকে কল্যাণের পথ রূপে দেখিয়ে জাহান্নামে নিতে পারে। শেখ মুজিব ৮ আনা সের চাঊল, গণতন্ত্র ও সোনার বাংলার মিথ্যা শুনিয়ে ১৯৭০ সালে ভোট নিয়েছিল। প্রতি যুগে প্রতি দেশে শয়তানের মূল হাতিয়ার হলো মিথ্যা। মিথ্যার মাধ্যমে শয়তান আদম (আ:)কে জান্নাত থেকে বের করেছিল। শয়তান আজও মিথ্যার চর্চা বাড়িয়ে আবার মানব সন্তানদের জাহান্নামে নিতে চায়।

মিথ্যার চর্চা হয় ধর্ম, রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, দর্শন তথা সর্বত্র জুড়ে। এ কাজে সকল মিথ্যাজীবীরাই শয়তানের সৈনিক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরাই বিজয়ী। এবং তারা বিজয় পেয়েছে মিথ্যার জোয়ার এনে। তাদের বিজয়ের কারণ, তারা ময়দান ফাঁকা পেয়েছে। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর লোকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। মিথ্যা রটিয়ে তারা বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে অপরাধীদের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী রূপে পরিচিত করেছে এবং কলংক ছড়িয়েছে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে। তাই মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই হলো উত্তম জিহাদ।

৮.
মহান আল্লাহতায়ালা সবাইকে জিহাদের প্রচুর সামর্থ্য দিয়েছেন। জিহাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো ব্যক্তির জিহবা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য। সেই তো শ্রেষ্ঠ মানব -যে মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া সে সামর্থ্যগুলোকে কাজে লাগায়। নবী-রাসূলদের অর্থ ছিল না, কিন্তু সে সামর্থ্যগুলোকে তাঁরা কাজে লাগিয়েছেন। এ কাজের মাধ্যমে বহু মানুষকে তারা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়েছেন। অর্থদানে কি সেটি সম্ভব হতো?

সবচেয়ে বড় গাফেল ও দায়িত্বহীন হলো তারা -যারা কাজে লাগায় না সে সামর্থ্যগুলোকে।  উত্তম জিহাদ হলো মিথ্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সকল নবী-রাসূল এ জিহাদ করেছেন। মিথ্যাই দুর্বৃত্তদের উৎপাদন বাড়ায়। দেশে মিথ্যার বিরুদ্ধে জিহাদ না থাকলে দেশে মিথ্যার সুনামী আসে এবং দুর্বৃত্তদের শাসন চেপে বসে। সে জিহাদ বাংলাদেশে না থাকার কারণেই বিজয় এসেছে দুর্বৃ্ত্তদের।

৯.
দেশে দুর্বৃত্তদের শাসন দেখে বুঝা যায়, দেশে প্রকৃত ঈমানদারদের সংখ্যা কত কম। যে দেশে ঈমানদার থাকে সে দেশে দুর্বৃত্ত শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদ অনিবার্য। কারণ ঈমানদার দুর্বৃত্তদের সাথে আপোষ করতে জানেনা। দেশে দুর্বৃত্তদের শাসন থাকবে অথচ তার বিরুদ্ধে জিহাদ থাকবে না সেটি কি ভাবা যায়?

১০.

চোর-ডাকাত চায় গৃহের মালিক ঘুমিয়ে থাকুক। তাতে চুরি-ডাকাতির কাজ সহজ হয়। দেশে চোর-ডাকাত সরকারও চায় জনগণ ঘুমিয়ে থাকুক। তাতে তাদের তাদে চুরি-ডাকাতি সহজ হয়। তাই উত্তম নেক কাজ হলো জনগণের ঘুম ভাঙানো। আর সে ঘুম ভাঙানোর কাজে হাতিয়ার হলো মুমিন ব্যক্তির কথা, লেখনী ও বুদ্ধিবৃত্তি। ইসলামে সেটিও জিহাদ। ১৮/০১/২০২১।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *