বিবিধ প্রসঙ্গ-৯

১. যে অপরাধ ভারতকে বিজয়ী করায়

সমগ্র বিশ্বমাঝে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক দেশ হলো ভারত। দেশটির সরকারের সামান্যতম আগ্রহ নাই মুসলিমদের জানমাল ও ইজ্জতের সুরক্ষায়। মুসলিমদের উপর কোথাও হামলা শুরু হলে পুলিশ বাহিনী সে হামলা না থামিয়ে নিজেরাই হিন্দু গুন্ডাদের পক্ষ নেয়। সে প্রামাণ্য চিত্রটি এবার দিল্লিতে দেখা গেল। সেখানে পুলিশ যেমন  নিজেরা পিটিয়েছে ও গুলি চালিয়েছে তেমন গুন্ডাদের হাতে ইটের টুকরো তুলে দিয়েছে। ১৯৪৭ সালের ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর থেকে্ই মুসলিমগণ সেখানে বার বার গণহত্যার শিকার হচ্ছে। মুসলিম রমনীগণ হচ্ছে গণধর্ষণের শিকার। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। সমগ্র কাশ্মিরই এখন একটি জেল; প্রতিটি নাগরিক সেখানে গৃহবন্দী। বিপদের আরো কারণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই একজন ভয়ংকর অপরাধী। ১৯৯২ সালে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয় অযোধ্যার বাবরী মসজিদ। সে কাজে গুন্ডা সংগ্রহের কাজ করেছিল মোদি। তার সে কাজে মোহিত হয়ে ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী তাকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী রূপে নিয়োগ দেয়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ভয়াবহ দাঙ্গার আয়োজন করে গুজরাতে এবং সে দাঙ্গায় ২ হাজারের বেশী মুসলিম হত্যা করা হয় এবং পুড়িয়ে দেয়া হয় বহু হাজার  মুসলিমের ঘরবাড়ী। সেখানে গণহারে ধর্ষিতা হয়েছে মুসলিম নারীরা। এরূপ গণহত্যা ও গণধর্ষণ আয়োজন করাতে বিজিপি-আর, এস. এস মহলে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা তু্ঙ্গে উঠে। ফলে ২০১৪ সালে তাকে দেয়া হওয়া হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদ। উগ্র হিন্দুদের মাঝে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে নরেন্দ্র মোদি গত ফেব্রেয়ারিতে গুজরাতের মডেলের দাঙ্গা শুরু করে দিল্লিতে। হত্যা ও মুসলিমদের গৃহে ও দোকানে আগুণ দেএয়ার পাশাপাশি আগুণ দেয়া হয় দিল্লির ৯টি মসজিদে।

ভারতের মুসলিম বিরোধী চরিত্রটি তাই গোপন কিছু নয়। প্রশ্ন হলো, এরূপ মুসলিম গণহত্যাকারী ভারতের ঘরে যারা বিজয় তুলে দেয় এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় পণ্যের জন্য বাজার খুলে দেয় –তারা কি ঈমানদার? ঈমানদার হতে হলে তো মুসলিমের শত্রুদের ঘৃণার সামর্থ্য লাগে। লাগে মুসলিম স্বার্থের সুরক্ষা দেয়ার গভীর ইচ্ছা। অথচ সে সামর্থ্য ও ইচ্ছা একাত্তরে মুজিবের ন্যায় বাঙালী সেক্যুলারিস্টদের মাঝে দেখা যায়নি। মুসলিম বিরোধী এরূপ একটি দেশের সাথে যারা বন্ধুত্ব গড়ে তারা কি কখনো মুসলিম দেশের শাসক হওয়ার যোগ্যতা রাখে? হতে পারে কি মুসলিমের বন্ধু? অথচ ভারত বন্ধু গণ্য হচ্ছে মুজিবের ন্যায় হাসিনার কাছেও। এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে ভারতকে। সেদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যত হত্যা, যত ধর্ষণ এবং যত নির্যাতনই হোক না –শেখ হাসিনা তা নিয়ে মুখ খুলতে রাজী নয়। অথচ ভারত সরকারের নিন্দা করছে বহু ভারতীয় নেতাও। মুসলিম জীবনের অন্যতম মিশন হলো অন্যায় ও জুলুমের নির্মূল। তাই রাজা দাহিরের নির্যাতন থেকে সিন্ধুর হিন্দুদের বাঁচাতে মুসলিম বাহিনী জিহাদে নেমেছিল।      

প্রতিবেশী দেশ রূপে বাংলাদেশীদের দায়িত্বটি বিশাল। বিপন্ন মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ। কিন্তু সে দায়িত্বটি পালিত হচ্ছে না। কারণ, ক্ষমতায় রয়েছে ভারতসেবী ইসলামের শত্রুগণ। হাসিনা ক্ষমতায় এসেছে ভোট ডাকাতি করে। ভারত এ নিয়ে নিশ্চু্প। বরং হাসিনার এরূপ ভোট ডাকাতির বিজয়ে প্রচণ্ড খুশি ভারত। কারণ ভারত চায়, দেশটিতে তার সেবাদাস ও সেবাদাসীগণ যে কোন রূপে ক্ষমতায় থাক এবং অব্যাহত থাকুক ভারতের প্রতি দাসত্বের রাজনীতি। তাছাড়া ভারত জানে, সুষ্ঠ নির্বাচন হলে শোচনীয় পরাজয় ঘটবে তার সেবাদাসদের।

 

২. প্রসঙ্গ বাঙালীর বিবেকবোধ, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব

মানুষের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে শত্রুকে শত্রু এবং বন্ধুকে বন্ধু রূপে বরণ করার মাঝে। তাই সুবুদ্ধির কোন মানুষই কোন নেকড়কে গলা জড়িয়ে চুমু খায় না। এবং নিজ ঘরে তুলে আদর করে চোর-ডাকাতকে। বরং হাতের  কাছে যা পায় তা দিয়ে তাড়া করে। হিংস্র পশু ও চোর-ডাকাতদের প্রতি এটিই হলো সভ্য মানুষের সনাতন নীতি। তেমনি কোন বিবেকবান মানুষই স্বৈরাচারি শাসকের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে না। তাকে নেতার আসনেও বসায় না। কিন্তু বাংলাদেশে  সে সভ্য বিচারটি হয়নি। ফলে শেখ হাসিনার ন্যায় ভোট-ডাকাতও দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়্যারে বসার সুযোগ পেয়েছে। এবং মুজিবের ন্যায় এক খুনি এবং স্বৈরাচারিও দেশের নেতা,পিতা ও বঙ্গবন্ধুর খেতাব পেয়েছে। কোন সভ্য দেশে কি এমনটি ভাবা যায়?

একদলীয় বাকশাল সরকার প্রতিষ্ঠা দিয়ে শেখ মুজিব কেড়ে নিয়েছিল দেশবাসীর স্বাধীনতা। এবং রাজনৈতিক দল গড়ার অধীকার কেড়ে নিয়েছিল ইসলামপন্থিদের। ইসলামপন্থিদের সাথে এরূপ অসভ্য ও অমানবিক আচরণ ঔপনিবেশিক কাফের শাসনামলেও হয়নি। মুজিবের শাসনামলে স্বাধীনতা পেয়েছিল কেবল মুজিবের অনুগত দুর্বৃত্ত দলীয় বাহিনী এবং তার প্রভুরাষ্ট্র ভারত। এবং যারাই মুজিবের বাকশালী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আ্‌ওয়াজ তুলেছে্ তারা্ই গ্রেফতারি, হত্যা ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রক্ষিবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে তিরিশ হাজারেরও বেশী রাজনৈতিক নেতাকর্মী। মুজিবের রাজনীতির মূল কথা ছিল ভারতের প্রতি নিঃশর্ত গোলামী। মুজিব ভারতকে দিয়েছিল ফারাক্কার মুখে পদ্মার বুক থেকে পানি তুলে নেয়ার অধিকার। দিয়েছিল বাংলাদেশের ভূমি বেরুবাড়ী। দেশের সীমান্ত বিলুপ্ত করে ভারতকে দিয়েছিল লুন্ঠনের অবাধ স্বাধীনতা। সে ভারতীয় লুটপাটের ফলেই নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ -যাতে মৃত্য হয় বহু লক্ষ বাংলাদেশীর। মুজিবের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু প্রবল ভাবে বেঁচে আছে মুজিবের ভারতসেবী রাজনীতি। এবং সেটি বাঁচিয়ে রেখেছে মুজিব কণ্যা হাসিনা।   

এখানেই প্রশ্ন উঠে। শেখ মুজিবের ন্যায় একজন স্বৈরাচারি খুনি ভোট-ডাকাত হাসিনার পিতা হতে পারে। বন্ধু হতে পারে আগ্রাসী ভারতেরও। কিন্ত বন্ধু বা পিতা হতে পারে কি কোন বিবেকমান বাংলাদেশীর? এ প্রশ্নটি উঠা উচিত তাদের পক্ষ থেকে যাদের মধ্যে বিবেক ও সাহস বলে এখনো কিছু বেঁচে আছে এবং যারা পরওয়া করে না ভোট-ডাকাত দুর্বৃত্তদের গালিগালাজের। চোর-ডাকাত, ভোট-ডাকাত ও ফ্যাসিস্টদের নেতা, নেত্রী, পিতা বা বন্ধু বলায় তাদের চারিত্রিক কালীমা কমে না, কিন্তু এরূপ চাটুকারিতায় মারা পড়ে স্তাবকের বিবেক, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ। তাই দেশে যখন কোন চোর, ডাকাত, ভোট-ডাকাত ও ফ্যাসিস্টগণ নেতা, পিতা, বন্ধু বা প্রধানমন্ত্রী রূপে প্রতিষ্ঠা পায় -তখন কি বুঝতে বাঁকি থাকে বিপুল সংখ্যক দেশবাসীর মাঝে বিবেক, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ কতটা মৃত?  

 

৩.স্বাধীনতা স্রেফ গোলামীর

স্বৈরাচারি শাসকদের স্বাধীনতা প্রতি যুগেই ছিল। কিন্তু  তাদের শাসনে স্বাধীনতা ছিল না জনগণের। জনগণকে সে স্বাধীনতা দিয়েছিল গণতন্ত্র। সেটি যেমন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসনোর স্বাধীনতা, তেমনি নামানোর। ভোটডাকাত শেখ হাসিনা সে স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। এর আগে শেখ মুজিবও সে স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসনের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার লক্ষ্যে মুজিব নিষিদ্ধ করেছিল সকল বিরোধী দলীয় পত্রিকা। কেড়ে নিয়েছিল মিটিং-মিছিলের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে এ ছিল মুজিবের অতি  নৃশংস ও ঘৃণ্য অপরাধ। এরূপ অসভ্য ও অপরাধী শাসককে সভ্য নাগরিকগণ ঘৃণা করবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু  বাংলাদেশে সেটি হয়নি। কারণটি বোধগম্য। ডাকাতদের কাছে নৃশংস ডাকাত সর্দারও যেমন হিরো রূপে গৃহীত হয়, তেমনি স্বৈরাচারি মুজিবও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী রূপে গণ্য হচ্ছে ভোট-ডাকাত বাকশালীদের কাছে।   

শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার কাছে স্বাধীনতার অর্থ হলো ভারতের প্রতি আত্মসমর্পণের স্বাধীনতা। সে আত্মসমর্পণ জাহির করতে পত্রিকায় লেখালেখিতে যেমন বাধা নাই, তেমনি বাধা নেই টেলিভিশনের পর্দায় কথা বলায় বা রাজপথের মিছিলে। কিন্তু ভয়ানক অপরাধ গণ্য হয়, সে আরোপিত গোলামীর বিরুদ্ধে কথা বলা। যারাই ভারতের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে তাদের পিটাতে পুলিশ এবং শেখ হাসিনার দলীয় গুন্ডাগণ একত্রে ময়দানে নামছে। অপর দিকে আদালতের গোলাম বিচারকদের কাজ হয়েছে আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা নয়; বরং সরকার দলীয় গুন্ডা ও খুনিদেরকে আইনের হাত থেকে বাঁচানো। এরূপ গোলামদের হাতেই বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবারার ফাহাদকে শহীদ হতে হলো। গোলামগণ প্রতি যুগে এমনটিই করে তাদের বিদেশী প্রভুদের খুশি করতে।

 

৪. ঈমানদারের ইসলাম ও মুনাফিকের ইসলাম

বেঈমানের জীবনে মূল লড়াইটি হলো নিজ দল, নিজ নেতা ও নিজ দলীয় আদর্শকে বিজয়ী করায়। অপর দিকে ঈমানদারের লড়াইটি আল্লাহর দ্বীন তথা শরিয়তকে বিজয়ী করায়। যে দেশে ঈমানদার ও বেঈমানদের বসবাস সে দেশে এ দু’টি বিপরীত এজেন্ডা নিয়ে রাজনীতির অঙ্গণে সৃষ্টি হয় প্রচন্ড মেরুকরণ। এমন মেরুকরণের রাজনীতিতে থাকে মাত্র দু’টি পক্ষ। একটি আল্লাহর পক্ষ, অপরটি শয়তানের পক্ষ। মহান আল্লাহর নিজের ভাষায় হিযবুল্লাহ (আল্লাহর দল) ও হিযবুশশায়তান (শায়তানের দল)। নিরপেক্ষ বলে কেউ থাকে না। বাংলাদেশে শয়তানের পক্ষটি বিজয়ী। তাদের বিজয়ের ফলেই মহান আল্লাহতায়ালার শরিয়তি আইন আজ পরাজিত। এবং আদালতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কাফেরদের রচিত  আইন। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা পাক -এ শয়তানী পক্ষটি তা কখনোই চায় না।

বাংলাদেশে নিজেকে মুসলিম রূপে দাবী করে এমন মানুষের সংখ্যা ১৬ কোটি। কিন্তু মুসলিম হওয়ার অর্থ্ কি -তা নিয়েই তাদের অজ্ঞতাটি গভীর। তারা ভাবে, মুখে কালেম ও তাসবিহ পাঠ এবং নামায-রোযা-হজ্ব-যাকাত পালনের মধ্যেই পরিপূর্ণ ইসলাম। এবং মনে করে রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও যুদ্ধবিগ্রহের অঙ্গণে অন্য কিছু না করলেও চলে। অথচ মুসলিম হওয়ার অর্থ বিশাল। সেটি মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডাকে আমৃত্যু হৃদয়ে নিয়ে জীবনের প্রতি অঙ্গণে বাঁচা। সে এজেন্ডার বিজয়ে থাকতে  হয় নিজের জান, মাল ও সর্বপ্রকার সামর্থ্যের বিনিয়োগ। সে এজেন্ডার অপরিহার্য বিষয় হলো ৫টি। ১).এমন এক পরিপূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা যেখানে থাকবে একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব এবং সে রাষ্ট্রে  বিলুপ্ত হবে জনগণ, পার্লামেন্ট, স্বৈরাচারি শাসক বা রাজার সার্বভৌমত্ব। ২). রাষ্ট্র চলবে শুরা বা পরামর্শের ভিত্তিতে; রাষ্ট্রীয় প্রধান সার্বভৌম হবে না, বরং হবে নবীজী (সাঃ)র খলিফা বা প্রতিনিধি। প্রায়োরিটি পাবে নবীজী (সাঃ)র আদর্শের প্রতিষ্ঠা ৩). প্রতিষ্ঠা পাবে শরিয়ত ও হুদুদের আইন, ৪). নানা ভাষা, নানা গোত্র ও নানা ভৌগলিক পরিচয়ের নামে গড়ে উঠা বিভক্তির দেয়ালের বিলুপ্তি এবং সচেষ্ট হবে একতার প্রতিষ্ঠায়, ৫), থাকবে অন্যায়ের নির্মূল এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার লাগাতর জিহাদ। নবীজী (সাঃ) এবং তার খলিফাদের জীবনে ইসলাম বলতে বুঝাতো এ এজেন্ডাগুলি নিয়ে বাঁচা। কিন্তু মুনাফিকের জীবনে ইসলামের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের জীবনে এর কোনটিই থাকে না। কেবল থাকে “আমিও মুসলিম” এ কপট দাবী। এবং ময়দানে থাকে ইসলামকে পরাজিত রাখার লড়াইয়ে তাদের জান, মাল ও মেধার বিনিয়োগ।

 

৫.জান্নাতের পথ ও জাহান্নামের পথ

মুসলিম হওয়ার অর্থটি বিশাল ও বিপ্লবাত্মক। সেটি আমৃত্যু এক পরম দায়বদ্ধতা নিয়ে বাঁচা। সে দায়বদ্ধতাটি প্রতি পদে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এবং অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর। দোযগের আগুণ থেকে বাঁচতে হলে এ ছাড়া ভিন্ন পথ নাই। নইলে মরতে হয় শয়তানের অনুসারি এক বেঈমান রূপে। ঈমানের চুড়ান্ত পরীক্ষাটি কখনোই নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাতে হয় না। সেটি হয় কে কোন পক্ষ দাঁড়ালো ও প্রাণ দিল তা থেকে। নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাত, দান-খয়রাত মুনাফিকদের জীবনেও থাকে। ফলে কাফেরদের গড়া স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের সংখ্যা কি কম? কিন্তু তাদের মধ্যে যে গুণটি থাকে না তা হলো, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এবং অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সামর্থ্য। বাংলাদেশে যারা নিজেদেরকে মুসলিম রূপে দাবী করে তাদের মধ্যে এরূপ সামর্থ্যের অভাবটি বিকট। সে সামর্থ্য না থাকার কারণেই তথাকথিত ১৬ কোটি মুসলিমের দেশে ইসলাম আজ পরাজিত। এবং দেশ অধিকৃত ভোটডাকাতদের হাতে।

অথচ ঈমানদারগণ বাঁচে ভিন্নতর পরিচয় নিয়ে। তাদের অন্তরে থাকে নবী-রাসূল ও নেক বান্দাদের প্রতি যেমন গভীর ভালবাসা তেমনি থাকে চোর-ডাকাত, ভোট-ডাকাত ও গুম-খুনের রাজনীতির দুর্বৃত্তদের প্রতি প্রবল ঘৃণা। জান্নাতের পথে চলতে হলে ছাড়তে হয় দুর্বৃত্তদের পথ। আলো ও আঁধার কখনোই একত্রে চলে না। তেমনি একত্রে চলে না নবীপ্রেম ও দুর্বৃত্তপ্রেম। দুর্বৃত্তপ্রেম প্রবল হওয়ার কারণেই মুজিবের ন্যায় একজন গণতন্ত্র হত্যাকারি ও ভারতসেবী ফ্যাসিষ্টও জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুর খেতাব পায়। অথচ দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ঘৃনার সামর্থ্য না থাকলে ঈমানদার হওয়াই অসম্ভব। অসম্ভব হয় মানব হওয়াও। পবিত্র কোর’আনে এরূপ বেঈমানদের গবাদীপশুরও চেয়েও অধম বলা হয়েছে। কারণ, গবাদী পশু ঘাস খায় এবং জবাই হয় বটে, তবে দুর্বৃত্তদের পক্ষে ভোট দেয় না, মিছিল করে না ও তাদের পক্ষে লাঠিও ধরে না। ২৭/০৩/২০২০

 

 




করোনা ভাইরাসের বিপদ বনাম সেক্যুলারিজমের বিপদ

বিপদ ঈমান বিলুপ্তির

জাতির ভয়ানক ক্ষতিটি শুধু করোনা ভাইরাস করছে না। করছে সেক্যুলারিস্টগণও। সে সাথে করছে ধর্মব্যবসায়ীগণ। করোনা ভাইরাস মৃত্যু দেয় বটে, কিন্তু কাউকে জাহান্নামে টানে না। বরং ঈমান ও এক্বীন থাকলে, করোনা ভাইরাসের মহামারি শহীদের মর্যাদা দেয়। করোনা ভাইরাস ভারতীয় হিন্দু ধর্মব্যবসায়ীদের বাজারে রমরমা এনেছে। করোনার প্রতিরোধের নামে তারা গো-মুত্র পান করাচ্ছে। এমনকি ভাইরাসের মুর্তি গড়ে সে মুর্তিতে পূজা দেয়াও শুরু করেছে। বিষয়টি হিন্দু ধর্মের সাপের মুর্তিতে পূজা দিয়ে বিষধর সাপকে বসে আনার ন্যায়। করোনাও এখন ভগবানের আসনে বসেছে। সে চিত্রটিও ভারত থেকে ছড়ানো সোসাল মিডিয়াতে  দেখা গেল। বিপদ-আপদ দেখে মানুষের বিবেককে যেমন জাগ্রত হয়, তেমনি বিপদগামীও হয়। এ হলো তার নজির। 

করোনার পাশাপাশি সেক্যুলারিস্টদের সৃষ্ট বিপদও কি কম ভয়ানক? তারা ভাইরাসের বিপদটি তুলে ধরছে  বটে; কিন্তু ভাইরাসও মহা­ন আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি এবং এ মহামারীর পিছনে রয়েছে যে তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা–সে সত্যটিকে তারা আড়াল করছে। সেক্যুলারিস্টগণ বিপদকে মানতে রাজী, কিন্তু যে কারণে বিপদের আগমন তা নিয়ে ভাবতে  রাজী নয়। যার পক্ষ থেকে এ মহাবিপদের আগমন তাঁকে মানতে রাজী নয়। সেক্যুলারিস্টদের মাঝে ভাইরাস নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে, কিন্তু ঘটনার গভীরে যাওয়ার আগ্রহ নাই। ভাইরাসের যিনি স্রষ্টা তিনি তাদের আলোচনায় নাই। অথচ ঘটনা যত তুচ্ছ, ক্ষুদ্র বা বিশাল হোক, তা এমনিতেই হয় না। সে ঘটনার পিছনে কাজ করে মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা। তাই করোনা ভাইরাসের যে মহামারি শুরু হয়েছে সেটিও মহান আল্লাহতায়ালার সৃষ্ট বিশ্বজগতের বাইরের কোন ঘটনা নয়, ফলে তার ইচ্ছার বাইরের বিষয়ও নয়। তাই এ করোনার মহামারিকে দেখতে হবে মহান আল্লাহতায়ালার উপর গভীর বিশ্বাসকে চেতনায় রেখে। বিপদের এ মুহুর্তে মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে বিস্মৃত হওয়ার অর্থ  মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা ও পরিকল্পনাকে অস্বীকার করা। সেটি কুফুরি। এ কাজ কাফেরদের যা জাহান্নামে নিয়ে পৌঁছায়।   

ঈমানদারগণ সকল ঘটনার মধ্যেই মহান আল্লাহতায়লার ইচ্ছার প্রকাশ দেখতে পায়। এরূপ দেখার মধ্যেই ঈমানদারি। মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা ছাড়া মানুষের মৃত্যুর ন্যায় গুরুতর ঘটনা দূরে থাক, গাছের একটি পাতাও পড়ে না। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া মানুষ যেমন বেঁচে থাকতে পারে না, তেমনি মরতেও পারে না। জন্মের ন্যায় মৃত্যুও মহান আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি। সে ঘোষণাটি এসেছে সুরা মুলকের ২ নম্বর আয়াতে। এ পৃথিবী একমাত্র তাই ঘটে যা তিনি ঘটাতে চান। পবিত্র কোরআনে তাই বলা হয়েছেঃ “তোমরা যা চাও সেটি হয় না, আল্লাহ যা চান সেটিই হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং প্রজ্ঞাময়।” –সুরা ইনসান (দাহর), আয়াত  ৩০। হায়াত-মউত তথা মানব জীবনের প্রতিটি ঘটনার মাঝে ঘটে মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছার প্রকাশ -সেটি বিশ্বাস করার মাঝেই প্রকৃত ঈমান। আল্লাহতায়ালা নয়, বরং মৃত্যু ঘটায় ভাইরাস -এরূপ বিশ্বাস হলো শিরক। এরূপ বিশ্বাস নিয়ে কেউ কি মুসলিম থাকে? নবীজী (সাঃ)র গুরুত্বপূর্ণ হাদীস হলো, সব গুনাহরই মাফ হতে পারে, কিন্তু মাফ নেই শিরকের গুনাহর। এমন বিশ্বাসধারীর কাফের হওয়ার জন্য কি মুর্তিপূজার প্রয়োজন পড়ে? মহামারি তাই শুধু মৃত্যু নিয়ে হাজির হয় না, হাজির হয় শিরক থেকে কে বাঁচার সামর্থ্য রাখে -সে পরীক্ষা নিয়েও।

চেতনার অঙ্গণে আল্লাহর স্মরণ থেকে এরূপ বিস্মৃতি তথা তাঁর উপর বিশ্বাসশূণ্যতার প্রবেশ ঘটায় সেক্যুলারিজম। ঘটনাকে তারা মহান আল্লাহর কুদরতের স্মরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। বিপদ এখানে করোনা ভাইরাসের মহামারির চেয়েও ভয়াবহ। করোনা ভাইরাস দেয় দেহের মৃত্যু, সেক্যুলারিস্টগণ দেয় ঈমানের মৃত্যু। ঈমানের সে মৃত্যু নিয়ে বেঈমান ব্যক্তিটি তখন জাহান্নামের অন্তহীন আযাবে গিয়ে হাজির হয়। সেক্যুলারিজমের মূল বিপদ এখানেই। সেক্যুলারিস্টগণ শুধু রাজনীতিকেই ইসলামশূণ্য করছে না, মুসলিমদের চেতনা থেকে বিলুপ্ত করছে মহান আল্লাহতায়ালার ভয় ও তাঁর প্রতি দায়বদ্ধতার ভাবনা। শুধু রাজনীতি ও শিক্ষা-সংস্কৃতির অঙ্গণে নয়, এমন কি চিকিৎসা বিজ্ঞানের অঙ্গণেও এরা ইসলামী চেতনার প্রবেশকে নিষিদ্ধ করেছে।  এটিই হলো চেতনা বা ধ্যান-ধারণার সেক্যুলারাইজেশন। এভাবেই তারা বিপুল সংখ্যক মুসলিমদের কাফেরে পরিণত করছে। এভাবেই তারা বিপুল ভাবে বাড়িয়ে চলছে জাহান্নামমুখি পথচারিদের সংখ্যা। নবীজী (সাঃ)র যুগে মুর্তিপূজারী কাফেরগণ যা করতো তা করছে আধুনিক যুগের সেক্যুলারিস্টগণ।  

 

সেক্যুলারিজম এক আদিম অজ্ঞতা

সেক্যুলারিজম কোন আধুনিক মতবাদ নয়, বরং এটি এক আদিম অজ্ঞতা। বহু হাজার পূর্বে এমন এক অভিন্ন ধারণা দেখা গেছে হযরত নূহ (আঃ)র পুত্রের মধ্যেও। নবীর পুত্র হয়েও ঘটনার মাঝে আল্লাহর কুদরতকে দেখার সামর্থ্য তার ছিল না। বৃষ্টির পানিতে মাঠ-ঘাট যখন তলিয়ে যাচ্ছে তখনও সে ভেবেছে উঁচু পাহাড় তাকে বাঁচাবে। প্লাবন যে মহান আল্লাহতায়ালা পক্ষ থেকে কাফেরদের ডুবিয়ে মারার আযাব -সেটি সে দেখতে পারিনি। ফলে সে তার পিতার নৌকা নির্মাণকে অহেতুক ও হাস্যকর মনে করেছে। সেক্যুলারিস্টদের সমস্যা, বিপদ-আপদগুলিকে তারা স্রেফ বিপদ-আপদ রূপেই দেখে; তাদের কাছে সুনামী, ভূমিকম্প ও করনোর মহামারী কেবল দুর্যোগই। এখানে অন্ধত্বটি  মনের। মনের এরূপ অন্ধত্বের কারণে তারা দেখতে পায় না বিপদগুলির মহান স্রষ্টাকে। এবং তা নিয়ে তারা ভাবতেও চায়না। এখানেই তাদের বোধশূণ্যতা। আর এরূপ বোধশূণ্যতার আযাব হলো, তারা বঞ্চিত হয় ঈমানদার হতে এবং ধাবিত হয় জাহান্নামের দিকে।

মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণাঃ “নিশ্চয়ই জমিন ও আসমানের সৃষ্টি সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের পালাবদলের মাঝে রয়েছে বোধসম্পন্ন মানুষের জন্য আল্লাহর নিদর্শন।” –(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১৯০)। আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি শুধু জমিন এবং আসমানই নয়, বরং প্রতিটি সৃষ্টি এবং প্রতি ধ্বংস কান্ডও। তাই তাঁর সুস্পষ্ট নিদর্শন শুধু তাঁর সৃষ্টির মাঝে নয়, আযাবের মাঝেও। তাই আল্লাহতায়ালাকে বিশ্বাস করলে বিশ্বাস করতে হয় তাঁর আযাবকেও। তবে আযাব আসে মানুষের নিজ হাতের কামাইয়ের শাস্তি রূপে। সেটি শুধু অপরাধীদের উপরই আসে না, যারা অপরাধীদের নির্মূল না করে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তাদের উপরও। তাই আযাব শুধু ফিরাউনের উপর আসেনি, এসেছিল সাধারণ মিশরবাসীর উপরও। তাদের অপরাধ ছিল, ফিরাউনের ন্যায় এক দুর্বৃত্ত বিদ্রোহীকে রাজস্ব দিয়ে প্রতিপালন করতো। অথচ সে ভয়ানক পাপের কাজটি অধিকাংশ মুসলিম দেশগুলিতে আজও অতি ব্যাপক ভাবে হচ্ছে। ইসলামের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারি জালেম শক্তিবর্গের আজ যে রম রমা বিজয় তা তো জনগণের সহযোগিতা বা নিরবতার কারণেই। ফলে যে আযাব অতীতের জালেম শক্তি ও তাদের সহযোগিদের ঘিরে ধরেছিল তা আজ আসবে না সেটিই বা কীরূপে ভাবা যায়?     

 

আযাব যে কারণে অনিবার্য হয়

বান্দার নেক আমলকে পুরস্কৃত  করা এবং জুলুমের জন্য শাস্তি দেয়া মহান আল্লাহতায়ালার চিরাচরিত সূন্নত। তাই জুলুম হলো অথচ শাস্তি হলো না সেটি ঘটে না। পবিত্র কোর’আনে ফিরাউন ও মিশরবাসীর উপর আযাবের বর্ণনা এসেছে সুরা আল-আরাফে। মহান আল্লাহতায়ালার নিজের দেয়া সে বর্ণনাটি হলোঃ “অবশেষ আমি তাদের উপর প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্তধারার শাস্তি পাঠিয়ে কষ্ট দেই; এগুলো ছিল আমার সুস্পষ্ট নিদর্শন। কিন্তু তারা শেষ অবধি দাম্ভিকতায় মেতে রইলো। তারা ছিল একটি অপরাধী জাতি।” –সুরা আল আ’রাফ, ১৩৩। মহান আল্লাহতায়ালা এখানে স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন, তাদের উপর আযাবের কারণ হলো, তারা ছিল অবাধ্য ও অপরাধী জাতি। হযরত মূসা (আঃ) যে দ্বীন নিয়ে এসেছিলেন তারা সেটি মানেনি। বরং ইতিহাস গড়েছিল বনি ইসরাইলীদের উপর বর্বর অত্যাচারে। তারা তাদের মেয়ে সন্তানদের জীবিত রাখতো দাসী রূপে ব্যবহারের জন্য এবং পুত্র সন্তানদের হত্যা করতো। এরূপ নৃশংস অপরাধই তাদের উপর আযাব নামিয়ে এনেছিল।

মহান আল্লাহতায়ালার তাঁর সূন্নতের প্রয়োগের প্রেক্ষাপটই এখানে সুস্পষ্ট। শিক্ষণীয় বিষয়টি হলো, যেখানেই মহান আল্লাহতায়ালার বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সেখানেই হাজির হয় তাঁর আযাব। ঈমানদারগণ প্রতিটি আযাবকে দেখে সে সূন্নতকে সামনে রেখে।  লক্ষ্যণীয় হলো, যে দাম্ভিকতা এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে যেরূপ বিদ্রোহ নিয়ে মেতেছিল ফিরাউন ও তার অনুসারীগণ, সে একই রূপ দাম্ভিকতা এবং বিদ্রোহে ডুবে আছে সমগ্র বিশ্ব। লক্ষাধিক নবী-রাসূল মারফত যে শিক্ষা ও বিধান মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন -তা কোথাও আজ বেঁচে নাই। বনি ইসরাইলীদের মধ্যে যেমন হযরত মূসা (আঃ)য়ের উপর নাযিলকৃত শরিয়ত বেঁচে নাই, তেমনি বেঁচে নাই খৃষ্টানদের মাঝেও। তারা বাঁচছে মহান আল্লাহতায়ালার বিধানকে বাদ দিয়েই। তেমনি মুসলিমদের মাঝেও বেঁচে নাই মহান নবীজী (সাঃ)র প্রতিষ্ঠিত ইসলাম -যাতে ছিল ইসলামী রাষ্ট্র, শরিয়ত, হুদুদ, খেলাফত, জিহাদ এবং প্যান-ইসলামিক মুসলিম ভাতৃত্ব। দুর্বৃত্ত স্বৈরাচারি শাসক চক্রের হাতে  অধিকৃত হয়েছে ইসলামের জন্মভূমি জাজিরাতুল আরবও। নবীজী (সাঃ)র এ পবিত্র ভূমির নামই শুধু তারা পাল্টে দেয়নি, পাল্টে দিচ্ছে তার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আইন-কানুন। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুকরণে সেখানেও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ক্লাব, নাইট ক্লাব ও সিনেমা হল। 

 

শয়তানী শক্তির যুদ্ধ ও আল্লাহর সৈন্য

সামরিক শক্তি ও সম্পদ  মানুষকে শয়তানের ন্যায় অহংকারি করে। তখন মন থেকে বিলুপ্ত হয় আল্লাহর ভয়। তাই প্রচণ্ড অহংকার চেপে বসেছে শক্তিশালী দেশগুলির শাসকদের মনে। তাদের অপরাধ কি ফিরাউনের চেয়ে কম? ফিরাউনের গণহত্যার শিকার হয়েছিল বনি ইসরাইলীগণ। তবে ফিরাউনের বাহিনীর হাতে যত মানুষ নিহত হয়েছিল তার চেয়ে শতগুণ বেশী মানুষ নিহত হয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদি শক্তি ও তাদের দোসরদের হাতে। তাদের  নৃশংস তান্ডবের কারণেই আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ার শত শত নগর আজ ধ্বংসপুরি। সেখানে নিহত হয়েছ ২০ লাখেরও বেশী মানুষ। নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ দেশে দেশে উদ্বাস্তুর বেশে ঘুরছে। অপরাধ এখানে সমগ্র বিশ্ববাসীর। কারো অপরাধ ঘটেছে সক্রিয় অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে, কারো ঘটেছে অপরাধ দেখেও নিরব ও নিষ্ক্রীয় থাকার মধ্য দিয়ে। এমন অপরাধ কি কখনো পুরস্কৃত হয়? বরং তা যে শাস্তি ডেকে আনবে –সেটি কি স্বাভাবিক নয়? ফলে শাস্তির যে এজেন্ডা নিয়ে অপরাধী মিশর বাসীর উপর প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্তধারা নেমে এসেছিল তেমন এজেন্ডা নিয়ে ভাইরাস বা অন্যকিছু আজও আবির্ভুত হতে পারে -তাতেই বা অবিশ্বাসে কি আছে?

যে অহংকার নিয়ে ইয়েমেনের বাদশাহ আবরাহার তার বিশাল হাতি-বাহিনী নিয়ে ক্বাবার উপর হামলার উদ্দেশ্য বেরিয়েছিল সে অহংকার আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা, কোথাও তারা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হতে দিবে না। তার ও তার কোয়ালিশন পার্টনারদের আক্রোশটি নবীজী (সাঃ)র আমলের প্রতিষ্ঠিত ইসলামের মৌলিক বিধানগুলির বিরুদ্ধে। কোথাও সে বিধানগুলির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিমান বাহিনী সে দেশকে গুড়িয়ে দিবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মূলতঃ মহান আল্লাহতায়ালার কোর’আনী ঘোষিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে। এক কালে তারা কম্যুনিজমকে প্রতিদ্বন্দী জীবনাদর্শ মনে করতো। এখন মনে করে ইসলামকে। তাদের প্রকল্প একমাত্র পাশ্চাত্যের  জীবনধারা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে বিশ্বময় প্রতিষ্ঠা দেয়া। সেখানে ইসলামের কোন স্থান নাই। ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধটিও তাই বিশ্বময়। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সে প্রজেক্টের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে বহু মুসলিম রাষ্ট্রও। 

আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে চলমান এ যুদ্ধে তিনি তাঁর সৈন্যদের নামাবেন সেটিই স্বাভাবিক। আবরাহার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র পাথর টুকরো মিজাইলে পরিণত হয়েছিল। তেমনটি আজও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচণ্ড অহংকার অস্ত্রের বিশাল ভান্ডার ও সম্পদ  নিয়ে। অতিশয় গর্বিত বহু মুসলিম দেশ দখল ও দখলকৃত সে দেশগুলির অসংখ্য শহর ধ্বংস করায়। কিন্তু তা আজ ব্যর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। এ যুদ্ধে দেশটির এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কারখানাগুলি বন্ধ, বন্ধ করা হয়েছে অফিস-আদালত,  বিমান যোগাযোগ স্থগিত এবং জনগণ গৃহবন্দী। দ্রুত নীচে নামছে অর্থনীতি। একই অবস্থা ইতালী, জার্মাানী, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের। কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধেই টালমাটাল অবস্থা। এ যুদ্ধ কয়েক মাস বা কয়েক বছর চললে অবস্থা কীরূপ হবে? আবরাহার  বিশাল হাতির বাহিনীকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে কোন ট্যাংক বাহিনী বা বিমান বাহিনীর প্রয়োজন পড়েনি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবাবিল পাখি ও ছোট ছোট পাথর  টুকরোই যথেষ্ট  ছিল। বৃহৎ শক্তিবর্গের দর্প চুর্ন করায় তেমনি কাজ দিচ্ছে অতি ক্ষুদ্র করোনা ভাইরাস। আল্লাহ যে সর্বশক্তিমান এবং তাঁর পরিকল্পনাকে প্রতিহত  করা যে মানুষের অসাধ্য -ক্ষুদ্র করোনা ভাইরাস সে সত্যটিকেই প্রবল ভাবে প্রমাণ করছে। ২৪/০৩/২০২০  




বিবিধ প্রসঙ্গ-৮

এক. যে অপচয়ে এ জীবনে বাঁচাটাই ব্যর্থ হয়

একজন নারী বা পুরুষ তার সমগ্র জীবনে যা কিছু খরচ করে তার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হলো তার সময়। ব্যক্তির জিম্মায় মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে অর্পিত অতি মহামূল্য আমানত হলো এটি। সময় শেষ হয়ে গেলে সকল সামর্থ্যই শেষ হয়ে যায়। কোটি কোটি টাকার সম্পদও তখন কাজে লাগে না; সে সম্পদের মালিক তখন অন্য কেউ হয়। কাজ লাগে না মেধা, ডিগ্রি বা দৈহিক বল। তাই ব্যক্তির জীবনে অতি গুরুতর খেয়ানত বা পাপ হলো মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া এ শ্রেষ্ঠ আমানতের খেয়ানত। সে মহামূল্য আমানতটি কীরূপে ব্যবহৃত হলো তার ভিত্তিতেই জুটবে জান্নাত বা জাহান্নাম পাবে। কাজে না লাগালে বহু কোটি টাকার সম্পদও কোন কাজ দেয় না। সূর্য্যের তাপে বরফের টুকরো যেমন হাওয়া হয়ে যায়, তেমন জীবনের গতিতে হারিয়ে যায় সময়ও। তাই ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার পরিচয়টি মেলে সময়ের সুষ্ঠ ব্যবহারে। সবচেয়ে বড় কথা, জীবনের সকল সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে সময়ের বিনিয়োগটি কীরূপে হলো তার উপর। এবং সবচেয়ে বুদ্ধিমান তো তারাই যারা সময়কে হারিয়ে যেতে দেয় না, বরং ধরে রাখে জীবনের শ্রেষ্ঠ কর্মের মাঝে এবং পাঠিয়ে দেয় পরকালের ট্রেজারে। মানব জীবনের এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দ্বিতীয়টি নেই। বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে সেটি বুঝাতেই মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোর’আনে একটি সুরা নাযিল করেছেন এবং সেটি হলো সুরা আছর।

‘আছর’ শব্দের অর্থ হলো সময়। সুরা আছরে মহান আল্লাহতায়ালা সময়ের কসম খেয়ে যে মহা সত্যটি তুলে ধরেছেন তা হলোঃ “নিশ্চয়ই বিলুপ্ত হয় সময় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিটি মানুষ। কিন্তু সে ক্ষতি থেকে বাঁচে একমাত্র তারাই যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও তাঁর বিধানের উপর, নেক কর্মে বিনিয়োগ করে নিজের সময় ও সামর্থ্য এবং একে অপরকে উদ্বুদ্ধ করে হকের প্রতিষ্ঠায় ও ধৈর্য ধারণে।” তবে বিনিয়োগকৃত সময় মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে কতটা প্রতিদান দিবে -সেটি নির্ভর করবে ব্যক্তি তার সময়ের মূল্য কতটা বাড়ালো তার উপর। সবার যোগ্যতা বা সামর্থ্য যেমন এক নয়, তেমনি এক নয় সবার সময়ের মূল্যও। সময়ের উপর ভ্যালুএ্যাডিং তথা মূল্যসংযোজনটি হয় ব্যক্তির যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সৎ কাজে নিজের সামর্থ্য থেকে। সামর্থ্য বৃদ্ধির কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারটি হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। যে জানে এবং যে জানে না –উভয়ে যে এক নয়, সে সত্যটি পবিত্র কোর’আনে বার বার বলা হয়েছে। জ্ঞানহীন, অভিজ্ঞতাহীন ও কর্মহীন ব্যক্তির সময়ের মূল্য তাই জ্ঞানবান অভিজ্ঞ ব্যক্তির সমান হয় না। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বলে যে তাঁর নিজের যোগ্যতা বাড়ালো সেই বহুগুণ বৃদ্ধি করলো তার সময়ের মূল্য। বস্তুতঃ মানব জীবনে এটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সে কাজটি ত্বরান্বিত করতেই মহান আল্লাহতায়ালা জ্ঞানার্জনকে নামায-রোযার আগে ফরজ করেছেন। নামাজের ওয়াক্ত দিনে ৫ বার, কিন্তু জ্ঞানার্জনের ওয়াক্তটি দিন-রাতের প্রতি মুহুর্ত এবং তা আমৃত্যু। এবং এ ফরজ ছুটে গেলে ক্বাজা আদায়ের সুযোগ নেই, বরং ভয়ানক কুফলটি ভুগতে হয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে। সেটি যেমন এ দুনিয়ায়, তেমনি আখেরাতে। সে ব্যর্থতা আখেরাতে জাহান্নামে হাজির করে।

আলো-বাতাস ও পানাহারের ন্যায় সময়ের খরচ সবার জীবনেই থাকে। কারো জীবনে সেটি হয় কল্যাণের পথে, কারো জীবনে অকল্যাণের পথে। বিশাল ভিন্নতা থাকে গুণগত সামর্থ্যের অঙ্গণেও। সৎকর্মশীল জ্ঞানীর বিনিয়োগে সমাজ ও রাষ্ট্রের বুকে বাড়ে নেক আমলের ফসল। জাহেলের বিনিয়োগে বাড়ে দুর্বৃত্তি; এবং তা টানে জাহান্নামে। প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত সময়টি সীমিত। একটি মুহুর্তও বাড়ানো যায় না বহুকোটি অর্থ ব্যয়ে –এ হুশিয়ারিটি এসেছে সুরা মুনাফিকুনে। অপর দিকে সুরা মুলক’য়ে এ দুনিযার জীবন চিত্রিত হয়েছে পরীক্ষাপর্ব রূপে। ব্যক্তির ঈমান ও আমলের বিচারটি হয় পার্থিব জীবনের এ পরীক্ষা অঙ্গণে। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিচা্র হয় কীরূপে সে মহা মূল্যবান সময়কে খরচ করলো -তা থেকে। সীমিত সময়ের শেষ ঘন্টাটি বেজে উঠলে পরীক্ষার খাতা কেড়ে নেয়া হয়। তাই যার সুস্থ্য বিবেক-বুদ্ধি আছে সে কখনো্ই পরীক্ষার হলে বসে নাচ-গানে মন দেয় না। এবং বাজে কথা ও কাজে সময় নষ্ট করে না। ইসলামে সময়ের এরূপ অপচয় তাই অতি গর্হিত কর্ম। এর পরিনাম নিয়ে ভবিষ্যতের চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে সুরা মুদাচ্ছেরে। বলা হয়েছে, জাহান্নামবাসীদের যখন জিজ্ঞেস করা হবে তোমরা কী করে জাহান্নামে পৌছলে, তখন যে কারণগুলি তারা তুলে ধরবে তার মধ্যে অন্যতম কারণটি হবে, তারা সময় কাটিয়েছিল বাজে আ্ড্ডায় অর্থহীন আলোচনায়।

শুধু সময় নয়, ব্যক্তির প্রতিটি দৈহিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক সামর্থ্যই হলো মহান আল্লাহতায়ালার দান তথা আমানত। ব্যক্তির ঈমানী দায়বদ্ধতা হলো, এ আমানতকে সে ব্যবহার করবে মহান আল্লাহতায়ালার জমিনে তাঁরই প্রদর্শিত দ্বীন তথা ইসলামের প্রতিষ্ঠায়। এবং প্রতিষ্ঠা দিবে তাঁরই দেয়া কোর’আনী আইন তথা শরিয়ত। একমাত্র এভাবেই পালিত হতে পারে আল্লাহর খলিফা রূপে একজন মুসলিমের আমৃত্যু দায়বদ্ধতা। ফলে মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কি হতে পারে যে, সে সামর্থ্য ব্যয় হবে জাতীয়তাবাদ ও সেক্যুলারিজমের ন্যায় কুফরি মতবাদের প্রতিষ্ঠায় এবং বাধা দিবে শরিয়ত প্রতিষ্ঠায়? অথচ বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশগুলিতে সে হারাম কাজটিই হচ্ছে।

 

দুই. জাহেল হওয়ার শাস্তি ও অসভ্যতা

মানুষ যখন জাহেল হয়, তখন তার জন্য অসম্ভব হয় ঈমানদার হওয়া। সে সাথে অসম্ভব হয় সভ্য ও বিবেকমান মানুষ রূপে বেড়ে উঠা। জাহেল বা অজ্ঞ হওয়ার এটিই হলো বড় শাস্তি। জাহেলিয়াত হলো মনের ভূবনে গভীর অন্ধকার। ঈমানদার যাওয়ার জন্য যা জরুরী -তা হলো জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা। গভীর রাতের অন্ধকারে পথ চেনা যায় না। তেমনি মনের অন্ধকারে দেখা যায় না সিরাতুল মুস্তাকীম। সেজন্য চাই কোর’আনের জ্ঞান। চাই সে জ্ঞানে আলোকিত মন। কোর’আনের জ্ঞান দেয় হালাম-হারাম, ন্যায়-অন্যায় চেনার সামর্থ্য। দেয় অতি মানবিক মূল্যবোধ। পবিত্র কোর’আনের জ্ঞানার্জন এজন্যই ফরয। ইসলামের শুরুটি এজন্যই নামায-রোযা দিয়ে হয়নি, হয়েছে আল্লাহর উপর ঈমানের সাথে “ইকরা” দিয়ে। অর্থাৎ “কোর’আন পড়” তথা কোর’আন থেকে জ্ঞানার্জন করো –এ দিয়ে। কোর’আনের জ্ঞানার্জন তাই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। 

দিনের আলোর ন্যায় রাতের অন্ধকার চেনাটিও সহজ। তেমনি অতি সহজ হলো সমাজের বুকে চলাফেরা কোর’আনের জ্ঞানশূণ্য বেঈমানদের চেনা। কারণ অঙ্গারের উত্তাপের ন্যায় তাদের বেঈমানীর উত্তপাটিও নিজেদের মধ্যে সীমিত থাকে না। বরং তা প্রচার ও প্রতিষ্ঠা পায় রাষ্ট্র জুড়ে। এরা ক্ষমতায় গেলে খুলে দেয় পাপের সকল রাস্তা। দেশে তখন দুর্বৃত্তির প্লাবন আসে। রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি জুড়ে তখন শুরু হয় সীমাহীন পাপাচার ও জুলুম। সংস্কৃতি নামে পাপাচারকে প্রতিষ্ঠা দেয়াই তখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। কাফেরদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যারাই কাফের তারাই জালেম। তাই কাফের হলো অথচ জালেম হলো না -সেটি তাই ভাবা যায় না। তবে তাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় জুলুমটি হয় মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর দ্বীনের বিরুদ্ধে। আল্লাহতায়ালার দেয়া খাদ্য-পানীয়’তে পুষ্ট হয়ে তারা বিদ্রোহ করে তাঁর সার্বভৌমত্ব ও বিধানের বিরুদ্ধে। ইসলামের বদলে তারা বিজয়ী করে জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, সেক্যুলারিজমের ন্যায় নানারূপ  কুফরি মতবাদকে। তাদের কাছে এমন কি সাপ-শকুন,গরু-ছাগল ও মুর্তিও পূজনীয় গণ্য হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও রাজনীতির নামে তারা শুরু করে ইসলামের বিজয় প্রতিরোধের রক্তাত্ব সন্ত্রাস। প্রতিষ্ঠা পায় গুম, খুন ও বিচারেরর নামে হত্যার রাজনীতি। সবচেয়ে বড় ভোট-ডাকাতও তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী রূপে গৃহীত হয়। গণতন্ত্র হত্যাকারি এবং বাকস্বাধীনিতা হরণকারীও তখন দেশবাসীর পিতা ও বন্ধু রূপে গণ্য হয়।

 

তিন. আল্লাহপ্রদত্ত উপাধিটি ভাই’য়েরঃ কিন্তু কতটুকু বেঁচে আছে সে চেতনা?

“একমাত্র মুমিনগণই পরস্পরের ভাই। অত:পর পরিশুদ্ধি আনো ভাইদের মাঝে এবং ভয় করো আল্লাহকে যাতে পেতে পার রহমত।” -সুরা হুজরাত,আয়াত ১০। এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই সেটি মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া পদবী। মু’মিনের ঈমাদারী শুধু মহান আল্লাহতায়ালার উপর বিশ্বাস নয়, বরং তাঁর দেয়া সে বিশেষ পদবীকেও সন্মান দেয়া। নইলে প্রচণ্ড বেঈমানী হয়। এবং পরস্পরের মাঝে ভাতৃসুলভ সম্পর্কের সে পরিচয়টি মেলে এক ভাই অপর ভাইয়ের সুখ-দুঃখ কতটুকু অনুভুত করে -তা থেকে। নিজের ভাই বহু হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও তার পা হারানোর ব্যাথাটি হৃদয়ে অনুভুত হয়। তার ব্যাথা লাঘবে অন্য ভাইয়ের অন্তর ছটফট করে। তার বোন ধর্ষিতা বা নিহত হলে সে তখন প্রতিশোধে নামে। দেহে প্রাণ না থাকলে হাত-পা কেটে ফেললেও মৃত ব্যক্তি ব্যাথা পায় না। তেমনি হৃদয়ে ঈমান না থাকলে দুর্বৃত্তদের হা্তে দেশে বা বিদেশে হাজার হাজার মুসলিম ভাই ও বোন নিহত বা ধর্ষিত হলেও তাতে বেদনা জাগে না। বরং দুর্বৃত্ত বেঈমান ব্যক্তিটি নিজ স্বার্থে খুনি ও ধর্ষকের পক্ষ নেয়। বাংলাদেশের ভোট-ডাকাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আচরণ তো অবিকল তেমনই। ভেতরের বেঈমানী তো এভাবেই বেড়িয়ে আসে। কে বলে মানুষের ঈমান বা বেঈমানী দেখা যায় না? অন্য মুসলিমের বিপদে আচরণ কীরূপ হয় -সেটি দেখে ব্যক্তির ঈমাদারী ও বেঈমানী নীল আকাশের সূর্য্যের ন্যায় খালি চোখেও দেখা যায়। দেখা না গেলে বেঈমানদের বিরুদ্ধে যে ফরজ জিহাদ -সেটিই বা হবে কী করে? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চরিত্র বিশ্ববাসী জানে। সে যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিল তখন তিন হা্জারের বেশী মুসলিমকে গুজরাতের রাজধানী আহমেদাবাদে হত্যা করা হয়। গণধর্ষণের শিকার হয় বহুশত মুসলিম রমনীক। আগুণ দিয়ে ছাই করা হয় মুসলিমদের শত শত ঘরবাড়ী ও দোকানপাট। এ জঘন্য অপরাধের নায়ক যে নরেন্দ্র মোদি তা নিয়ে বিশ্ববাসীর কোন সন্দেহ ছিল না বলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোদির ভিসাদানে নিষেধাজ্ঞা লাগিয়েছিল। অথচ সে মোদিকে হাসিনা দাওয়াত দিয়েছিল হাসিনা।

নিজ গৃহে অন্য ভাইয়ের আগমনে কেউ কি নিষেধাজ্ঞা লাগায়? বরং দরজায় দাঁড়িয়ে তাকে আলিঙ্গণ করে। তাই একশত বছর আগেও মুসলিম উম্মাহর বুকে ভৌগলিক বিভক্তির দেয়াল গড়া হয়নি। তখন মক্কা, মদিনা, ইস্তাম্বুল, লাহোর, করাচী বা অন্য কোন মুসলিম দেশে ঘর বাঁধতে বা দোকান দিতে কোন বাঙালী মুসলিমের ভিসা লাগেনি। তেমনি অন্য দেশ ও অন্য ভাষার মুসলিমেরও ভিসা লাগেনি বাংলায় এসে ঘর বাঁধতে।  দেয়াল গড়ার এ জাহিলিয়াত এসেছে ইসলাম ছেড়ে জাতীয়তাবাদের ন্যায় কুফরি মতবাদে দীক্ষা নেয়ার পর। তখন তারা উৎসবভরে ভায়ের গলায় ছুরি চালিয়েছে। তাই একাত্তরে বহু হাজার অবাঙালী মুসলিম নিহত হয়েছে বাঙালী মুসলিমের হাতে। এবং তাদের ঘরবাড়ী, দোকানপাট ছিনিয়ে নিয়ে বস্তিতে তোলা হয়েছে। বাংলার সমগ্র ইতিহাসে এরূপ মানবতা বিরোধী বর্বর অপরাধ কোন কালেই ঘটেনি। অথচ সে অপরাধের জন্য কা্উকে কোন শাস্তিও দেয়া হয়নি। বরং পুরস্কৃত করা হয়েছে ছিনিয়ে নেয়া ঘরবাড়ী ও দোকানপাট দিয়ে। আজ যেসব বাঙালী বুদ্ধিজীবী বড় বড় নীতি বাক্য আওড়ায় তারাও বাঙালীর সে ঘৃণ্য অপরাধ নিয়ে কথা বলে না। যেন বিজয়ী হলে সকল অপরাধই জায়েজ হয়ে যায়। অথচ জয় বা পরাজয়ে –সর্বাস্থায় ন্যায়ের পথে থাকাতেই ঈমানদারী। বেঈমানীর লাইসেন্স নাই কোন অবস্থাতেই।

অতিশয় বেঈমানী হলো মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া ভাইয়ের পরিচয়টি ভূলে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তির দেয়াল গড়া ও খুনোখুনি করা। মুসলিম বিশ্বজুড়ে সে বেঈমানীটি ব্যাপক ভাবে হচ্ছে ভাষা, বর্ণ, গোত্র ও আঞ্চলিকতার নামে। এবং সে বেঈমানীর উপর ভিত্তি করেই মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতীক অঙ্গণে গড়ে উঠেছে ৫৭টি রাষ্ট্রের বিভক্তির দেয়াল। আরব, ইরানী, তুর্কী, কুর্দী, মুর তথা নানা ভাষার মুসলিমগণ ইসলামের গৌরব কালে এক অখন্ড মানচিত্রে বসবাসের মধ্য দিয়ে যে ঈমাদারীর প্রমাণ দিল সে ঈমানদারীটি আজ মুসলিম জীবনে কই? তাদের সে সূন্নত কি এতই তুচ্ছ? বরং তাদের শক্তি ও ইজ্জতের মূল উৎস ছিল সে একতা। সে একতার মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছিল মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমের প্রতি আনুগত্য। এবং এরূপ আনুগত্য গায়েবী সাহায্য আনবে -সেটিই তো স্বাভাবিক। অপর দিকে বিভক্তি গড়ার প্রতিটি প্রচেষ্টাই মূলতঃ বেঈমানী। অথচ এ বেঈমানী নিয়ে দেশের আলেম নামধারীরা যেমন নিষ্চুপ, তেমনি নিষ্চুপ তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা। প্রশ্ন হলো, এমন বিদ্রোহ কি কখনো রহমত আনে? বরং যা আনে তা তো প্রতিশ্রুত আযাব। তাছাড়া বিভক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে যে চরম অবাধ্যতার কবিরা গুনাহ, তা কি স্রেফ নামায-রোযায় দূর হয়? নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাত তো মুনাফিকের জীবনেও থাকে। নবীজী (সাঃ)র যুগের মুনাফিকেরা তো মসজিদে নববীতে নবীজী (সাঃ)র পিছনে প্রথম সারিতে নামায পড়েছে্। কিন্তু তাতে তাদের মুনাফিকী দূর হয়নি। এ মহাপাপের শাস্তি থেকে তো তখনই মুক্তি জুটবে যখন বিদ্রোহের বদলে আসবে পূর্ণ আত্মসমর্পণ। বিভক্তির বদলে সৃষ্টি হবে একতা। এবং দেয়াল গড়া বা পাহারা দেয়ার বদলে শুরু হবে দেয়াল ভাঙ্গার জিহাদ।

ঈমানদার কোন জিহাদ বা যুদ্ধে বিজয়ের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে পুরস্কার পায় না। কারণ, বিজয় তো মহান আল্লাহরতায়ালার দান। সে পুরস্কার পায়, নিজের বলিষ্ঠ ঈমানদারী, নিয়েত ও নিজ সামর্থ্যের বিনিয়োগের বিনময়ে। নিজের সামর্থ্যের সে বিনিয়োগ থাকলে পরাজিত হলেও সে বিজয়ী। তাই প্রকৃত ঈমানদার বিজয় নিয়ে ভাবে না, ভাবে নিজের ঈমানী দায়ভার কতটা পালিত হলো তা নিয়ে। মুসলিমদের পরাজিত এবং জান্নাতের পথ থেকে তাদেরকে দূরে রাখার শয়তানী শক্তিবর্গের প্রকল্প অনেক। মুসলিম বিশ্বের বিভক্ত এ মানচিত্রটি  হলো মুসলিম উম্মাহকে পরাজিত, শক্তিহীন ও ইজ্জতহীন রাখার শয়তানী প্রকল্প। তাই এ বিভক্তি মানচিত্র মেনে নিয়ে বসবাসে কোন পুরস্কার নাই। কোন ইজ্জত বা শান্তিও নাই। বরং যা আছে তা হলো শাস্তি। এবং সে শাস্তি শয়তানী প্রকল্পের কাছে আত্মসমর্পণ ও শয়তানী শক্তিবর্গকে বিজয়ী রাখার শাস্তি। আজ সে শাস্তিই মুসলিম উম্মাহকে ঘিরে ধরেছে। তাই দেশে দেশে মুসলিমগণ নিহত, ধর্ষিতা ও উদ্বাস্তু হচ্ছে। সে সাথে তাদের দেশগুলি অধিকৃত হচ্ছে এবং শহরগুলি শত্রুর বোমা ও মিজাইলের আঘাতে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। অথচ গোলামীর এ অবকাঠামো বিলুপ্তির জিহাদ শুরু হলে সত্ত্বর বিজয় না জুটলোও পরকালে নিশ্চিত জান্নাত জুটতো। মুসলিম দেশগুলিতে নামাযী ও রোযাদারের সংখ্যাটি কোটি কোটি, কিন্তু ইসলামের সে ন্যূনতম ধারণাটি ক’জনের? ২১/০৩/২০২০          




বিবিধ প্রসঙ্গ-৭

১. ভারতে হিন্দুত্ব শাসনঃ এ কোন অসভ্যতা!

কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা ১২ই মার্চ এমন এক বিষয়ে সম্পাদকীয় ছেপেছে যা পত্রিকায় না পড়লে বিশ্বাস করাই কঠিন হতো। বিষয়টি বেছে বেছে মুসলিমদের শাস্তি দেয়ার আইন। আধুনিক যুগে এমন আইন কোন দেশে থাকতে পারে -সেটি কল্পনা্ করাই কঠিন। ভারতের বুকে কীরূপ অসভ্য ও নৃশংস শাসন চেপে বসেছে -এ হলো তারই এক করুণ চিত্র। ভয়ানক দুশ্চিন্তার কারণ হলো, ভারতের ২০ কোটি অসহায় মুসলিম এ অসভ্য ও নৃশংস শাসক ও তাদের দলীয় গুন্ডাদের হাতে জিম্মি। তারা  যে কোন সভ্য দেশে সরকারের কাজ হয়, অন্যায়ের নির্মূল এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ভারতে হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত। অসভ্যতার অতি নৃশংস চিত্রটি ২০০২ সালে দেখা গিয়েছিল গুজরাতে। তখন গুজরাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রি ছিল আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি মুসলিম গণহত্যার সে গুজরাতি মডেলকেই সম্প্রতি প্রতিষ্ঠা দিল রাজধানী দিল্লিতে।

দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বিজিপি সরকারের সে অসভ্য চিত্রটি তুলে ধরেছে “বিষম ব্যবস্থা” শিরোনামায়। সেটি সরকারের একটি আইন নিয়ে। সে আইনী বিধানটি হলো, যদি কোন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, ও শিখ ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে বেড়াতে এসে ভিসায় প্রদত্ত মেয়াদের চেয়ে অধীক কাল অপেক্ষা করে তবে তাকে ১০০ রুপি জরিয়ানা দিতে হবে। কিন্তু সেটি যদি কোন মুসলিমের পক্ষ থেকে হয় তবে তাকে ২১ হাজার রুপি জরিয়ানা দিতে হবে। অর্থাৎ মুসলিম ব্যক্তির জরিমানাটি হবে ২০০ গুণ। ধর্মের নামে এ এক বিস্ময়কর বৈষম্য!   

এটি কি কোন সভ্য দেশের আচরণ? পাকিস্তান ভারতের ন্যায় নিজেকে ধর্ম নিরেপক্ষ রাষ্ট্র বলে দাবী করে না। শাসতান্ত্রিক ভাবে দেশটি শুরু থেকেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র। সেখানেও নানা দেশের নানা ধর্মের মানুষ বেড়াতে আসে। ভিসায় প্রদত্ত মেয়াদের চেয়ে বেশী কাল অপেক্ষা করে –এমন ঘটনা সেখানেও বিরল নয়। কিন্তু দেশটি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করে –এমন অভিযোগ এমন কি দেশটির শত্রুগণও এ অবধি অভিযোগ  তোলেনি। আইন ভঙ্গ হলে সে দেশে সবাইকে একই জরিমানা দিতে হয়। অপর দিকে ভারতীয়রা গর্ব করে ধর্মনিরেপেক্ষতার দাবী নিয়ে। প্রশ্ন হলো, আইন প্রয়োগে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এরূপ পক্ষপাত-দুষ্টতা কি ধর্মনিরেপেক্ষতা? ধর্মনিরেপেক্ষতার নামে ভারতে কীরূপ অসভ্য জালিয়াতি চলছে –আনন্দবাজারের সম্পাদকীয় হলো তারই নজির।

যারা আইন প্রণয়ন করে তারা গাঁজাসেবী বা মাতাল নয়। তারা উচ্চ শিক্ষিত। তাদের মনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে পর্বত-সমান ঘৃণা না থাকলে কি এমন আইন তৈরী করতে পারে? সে ঘৃণাটি যেমন দাঙ্গার নামে গণহত্যাতে প্রকাশ পায়, তেমনি প্রকাশ পায় আইনের প্রয়োগে। ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন ঘৃণা যে শুধু সে দেশের আইন-প্রণেতা বিজিপি সাংসদদের মাঝেই বিরাজ করছে -তা নয়। সে বিষাক্ত ঘৃণাটি দেখা যায় ভারতীয় পুলিশ ও ভারতের উচ্চ আদালতের বিচারকদের মাঝেও। দেখা যায় হিন্দু মিডিয়া কর্মীদের মাঝেও। তাই কোথাও মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও লুটপাট শুরু হলে পুলিশকে সে অপরাধ দমনে দ্রুত ময়দানে নামতে দেখা যায় না। ময়দানে নামলেও তারা অপরাধ থামায় না। বরং দেখা যায় হিন্দু গুণ্ডাদের সাথে মুসলিমদের বিরুদ্ধে পাথর ছুড়তে বা লাঠি দিয়ে পিঠাতে। সেটি প্রামাণ্য চিত্র দেখা গেছে সোসাল মিডিয়াতে ছড়িয়া পড়া ভিডিওগুলোতে। এমন গভীর ঘৃণা নিয়েই দিল্লির পুলিশগণ মুসলিম গণহত্যা এবং মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে জ্বালাও-পোড়াওয়ের পর্বটি তিন দিন ধরে চলতে  দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে পুলিশ কিছু সংখ্যক মুসলিম যুবককে রাস্তায় ফেলে পিটাচ্ছে এবং তাদেরকে বলছে জয় শ্রীরাম বলতে। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। এমন পুলিশকেই বাহবা দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। উল্লেখ্য হলো এই অমিত শাহের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ উঠেছিল ২০০২ সালে গুজরাতে মুসলিম বিরোধী গণহত্যায় জড়িত থাকা নেয়। দিল্লির পুলিশ যেহেতু অমিত শাহের অধীন, মুসলিম গণহত্যার সে গুজরাতী মডেলেরই প্রয়োগ হলো এবাব দিল্লিতে। সেটিই লিখেছে কলকাতার “দি টেলিগ্রাফ” পত্রিকাটি।

পুলিশ ও বিজিপির গুন্ডাদের ন্যায় ভারতের উচ্চ-আদালতের বিচারকদের মুসলিম বিদ্বেষ কি কম? হিন্দু গুণ্ডাগণ কোন মসজিদ ভাঙ্গলে ভারতের উচ্চ-আদালতের বিচারকদের কাছে সেটি কোন অপরাধ গণ্য হয় না। সে গুন্ডামীর জন্য কারো কোন শাস্তি হয় না। বরং আদালতের কাজ হয়, ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের জমিতে মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেয়া। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এমন রায়ই দিয়েছে্ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘৃণ্য অপরাধকে জায়েজ করতে। বিজিপি’র নেতাগণ যখন প্রকাশ্যে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে “গোলি মারো শালেকো” বলে গুন্ডাদের উস্কানী দেয় -সেটিও বিচারকদের কাছে অপরাধ রূপে গণ্য হয় না। দিল্লিত ৯ মসজিদের উপর হামলা হয়েছে, মসিজদের মিনারে হনুমান অংকিত গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে অপবিত্র করা হয়েছে -কিন্তু সে অপরাধে পুলিশ কাউকে ধরেনি। বরং নিরব দাঁড়িয়ে দেখেছে। তাই আদালত  থেকে কারো কোন শাস্তিও হয়নি। আইনের প্রয়োগ ও জানমালের নিরপত্তা দিতে ভারত যে কতটা ব্যর্থ রাষ্ট্র -এ হলো তারই প্রমাণ।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা যে কতটা সঠিক ছিল এবং ৪০ কোটি মুসলিমের জীবনে দেশটি যে কীরূপ বিশাল কল্যাণ দিয়েছে -সেটি বুঝার জন্য ভারতীয় হিন্দুদের এরূপ অসভ্য শাসনই যথেষ্ট। একমাত্র ভারতের সেবাদাসগণই পাকিস্তান সৃষ্টির অপরিসীম কল্যাণকে অস্বীকার করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশী জনগণের বিপদ হলো, হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্টদের প্রতি নতজানু দাসত্ব নিয়ে বাঁচতে চায় এমন অসভ্য মুসলিম বিদ্বেষীদের সংখ্যাটি ভারতের ন্যায় বাংলাদেশেও বিশাল। বরং সত্য তো এটাই, বাংলাদেশে শাসন চলছে এরূপ নৃশংস ফ্যাসিস্টদেরই। এবং সে শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং বেঁচে আছে ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের সাহায্য নিয়েই। চাকর-বাকর ও দাসী-বাঁদীর মাঝে দুর্বৃত্ত মনিবের খুন-খারবাী ও ধর্ষণের ন্যায় অপরাধের নিন্দার সাহস থাকে না। তারা বরং সে অপরাধে জোগালের কাজ করে। সে ভূমিকাটিই পালন করছে ভারতপালিত শেখ হাসিনা। তাই ভারতে মুসলিম হত্যার নিন্দা না করে শেখ হাসিনা সে দেশের অসভ্য ও দুর্বৃত্ত নরেন্দ্র মোদির প্রতি বন্ধুত্বের হাত প্রসার করেছে।

 

 

২. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি সবচেয়ে অবহেলিত

মানব জীবনে যে কাজটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি অর্থ-সম্পদের বৃদ্ধি নয়। নাম-যশ বা প্রভাব-প্রতিপত্তির বৃদ্ধিও নয়। সেটি হলো ঈমান-বৃদ্ধি। একমাত্র ঈমান বাড়লেই মুসলিম রূপে বেড়ে উঠাটি সম্ভব হয়। একমাত্র তখনই শান্তি আসে যেমন এ দুনিয়ায়, তেমনি সম্ভব হয় জান্নাত লাভ। এমন মানুষের সংখ্যা বাড়লে শান্তি ও কল্যাণ কর্মের জোয়ার সৃষ্টি হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে। তখন পরস্পরে কলহ-বিবাদ ও হানাহানিতে লিপ্ত না হয়ে মুসলিমগণ ভাতৃ-সুলভ সীসাঢালা দেয়ালের জন্ম দেয়। তখন বাড়ে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে জিহাদে জান-মালের বিনিয়োগ। তখন নির্মিত হয় শক্তিশালী সভ্য রাষ্ট্র, আসে উপর্যোপরি বিজয়। তবে ঈমানের বৃদ্ধি ভাত-মাছ বা অর্থসম্পদে বাড়ে না। সে জন্য অপরিহার্য হলো কোর’আনের জ্ঞান। খাদ্য-পানীয় ছাড়া যেমন দেহ পুষ্টি পায় না, তেমনি কোর’আনের জ্ঞান ছাড়া পুষ্টি পায় না ঈমান। নবীজী (সাঃ) কোর’আনী জ্ঞানের মহাজোয়ার আনতে পেরেছিলেন বলেই সে সময় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈমানদার গড়তে পেরেছিলেন। মহা আল্লাহতায়ালা তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের মাঝেও গর্ব করতেন। অথচ আজ সে কোর’আনী জ্ঞান তলানীতে ঠেকেছে। ফলে হাজার হাজর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার পরও মুসলিমদের মাঝে ঈমাদারি বাড়ছে না। বরং দ্রুত বাড়ছে বেঈমানী।  

মুসলিম উম্মাহর মাঝে দুর্বৃত্তি, বিভক্তি ও পরাজয় দেখে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, ঈমান বৃদ্ধির কাজটি হয়নি। এর অর্থ, যথার্থ ভাবে হয়নি কোর’আনী জ্ঞানার্জনের কাজ। অভাব এখানে লোকবল, অর্থবল বা অস্ত্রবলের নয়, বরং প্রকৃত ঈমানদারের। সভ্য রাষ্ট্র ও সভ্য সমাজ নির্মিত হয় সভ্য মানব নির্মাণের মধ্য দিয়ে। উন্নত রাস্তাঘাট বা কলকারখানার কারণে নয়। তাই রাষ্ট্রের বুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগটি রাস্তাঘাট বা কলকারখানার নির্মাণ নয়, বরং কোর’আনী জ্ঞানের বিতরণ। একমাত্র তখনই সম্ভব হয় সভ্য ও ঈমানদাররূপে বেড়ে উঠার কাজটি। মানব ইতিহাসের এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটির জন্যই মহান আল্লাহতায়ালা নবী পাঠিয়েছেন এবং পবিত্র কোর’আন নাযিল করেছেন। মানব তার নিজ জ্ঞানে রাস্তাঘাট, কলকারখানা ও মারণাস্ত্রও নির্মাণ পারে। কিন্তু নিজে গড়ে উঠতে পারে না সভ্য মানব ও ঈমানদার রূপে। সে অসম্ভব কাজটি সমাধা করতেই ফেরেশতা মারফত পবিত্র কোর’আনের আগমন। সমগ্র মানব ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা গড়ে উঠেছে সে জ্ঞানের বলেই। তাই পবিত্র কোর’আন থেকে জ্ঞনার্জনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ ভূবনে দ্বিতীয়টি নাই। অথচ সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই গুরুত্ব হারিয়েছে মুসলিম দেশগুলোতে। ফলে ঘিরে ধরেছে বহুমুখি ব্যর্থতা, পরাজয় ও অপমান। এবং এরচেয়েও ভয়ানক অপমান ও আযাব অপেক্ষা করছে আখেরাতে –যার প্রতিশ্রুতি বার বার শোনানো হয়েছে পবিত্র কোর’আনে।

 

৩. সমস্যাটি বাঁচার নিয়তে  

লক্ষ্য যদি হয় আল্লাহকে খুশি করা ও আখেরাত জান্নাত পাওয়া -তবে আল্লাহর যে কোন হুকুম-পালনই অতি সহজ হয়ে যায়। এমন কি আল্লাহর রাস্তায় বিপুল অর্থদান ও প্রাণদানও। তখন ব্যক্তির জীবন সৃষ্টি হয় মহা বিপ্লব। তখন সহজ হয়, কোর’আনী জ্ঞানার্জনের কাজে অর্থব্যয় ও সময়ব্যয়। মুসলিমদের জীবনে মূল সমস্যাটি এখানেই। অধিকাংশ মানুষ বাঁচে নিজেকে, নিজের পরিবার, দল বা নেতাকে খুশি করতে। ভ্রান্তিটি এখানে বাঁচার নিয়তে। অথচ নামায-রোযার ন্যায় নিয়েত থাকতে হয় ব্যক্তির বাঁচায়। নিয়েত থাকতে হয় প্রতিটি কর্মে। সে নিয়েতের মধ্যেই ধরা পড়ে ব্যক্তির ঈমান এবং নির্ধারিত হয় মহান আল্লাহতায়ালার কাছে তার মর্যাদা।

মুমিন কি জন্য বাঁচবে সে গুরুত্বপূর্ণ নিয়েতটি শিখিয়েছেন খোদ মহান আল্লাহতায়ালা। এবং সেটি পবিত্র কোর’আনে এসেছে এভাবে, “ক্বুল, ইন্নাস সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়া’ইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। -(সুরা আনয়াম, আয়াত ১৬২)” অর্থঃ “বল (হে মুহম্মদ), নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কোর’বানী, আমার বেঁচে থাকা ও আমার মৃত্যু –এসব কিছুই আল্লাহ রাব্বিল আলামীনের জন্য অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছা পূরণে।” ঈমানদারের প্রতি মুহুর্তের বাঁচাটি মূলতঃ এ পবিত্র নিয়েত পূরণে। জায়নামাযে দাঁড়িয়ে অন্য কাজ করা যায় না, নামাযের পুরা সময়টি দিতে হয় আল্লাহর উদ্দেশ্যে। তেমনি যে নিয়েতটি নিয়ে ঈমানদারের বাঁচা, সেখানেও কাফের, জালেম, ফাসেক তথা ইসলামের শত্রুপক্ষের কোন অংশদারিত্ব নাই, কোনরূপ দখলদারিও না্ই। তাই ঈমানদার ব্যক্তি সেক্যুলার রাজনীতির সৈনিক হয় না। গোত্র, দল বা নেতার নামে যুদ্ধও করে না। বরং তাঁর সমগ্র সামর্থ্য ব্যয় হয় মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাপূরণে। এরূপ নিয়েত নিয়ে বাঁচাতে ব্যক্তির সমগ্র বাঁচাটিই ইবাদতে পরিণত হয়। এমন বাঁচার মাঝে গুরুত্ব পায় না মুসলিমের ঐক্য, শরিয়তের প্রতিষ্ঠা ও ইসলামের বিজয়ের বিষয়টি। ব্যক্তির এভাবে বাঁচা্টি মর্যাদা বাড়ায় মহান আল্লাহতায়ালার কাছে। এবং পরকালে জান্নাতে নিয়ে পৌঁছায়।   

মুসলিমদের মূল সমস্যাটি এই নিয়তেই। ক’জন বাঁচে মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত নিয়েতটি নিয়ে? বরং অধীকাংশের বাঁচাটি হয় নিজের ইচ্ছা পূরণে; অথবা নিজ দেশ, নিজ ভাষা, নিজ গোত্র ও নিজ দলের স্বার্থ পূরণে। সেটি যেমন রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির অঙ্গণে, তেমনি যুদ্ধবিগ্রহে। আল্লাহর উদ্দেশ্যে বাঁচা-মরা ও যুদ্ধবিগ্রহটি গণ্য হয় সাম্প্রদায়িকতা বা মৌলবাদী চরমপন্থা রূপে। দেশ, ভাষা, গোত্র ও দলের স্বার্থ পূরণে এরা জোট বাঁধে ইসলামের দুষমন কাফেরদের সাথে। এভাবেই নিজের সকল সামর্থ্য দিয়ে জাহান্নামের পথে দৌড়ানোটিকে তারা অতি সহজ করে নেয়।

 

৪. উৎসব বিভক্তি নিয়ে

নামায়-রোযা যেমন ফরজ প্রতিটি ব্যক্তির উপর, তেমনি ফরজ হলো মুসলিম উম্মাহর মাঝে একতা গড়ার কাজটি। নামায়-রোযায় ক্বাজা আছে, কিন্তু ক্বাজা নেই এ ফরজ পালনে। কে কোন দলের বা ভাষার –রোজ হাশরের বিচার দিনে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। বরং হিসাব দিতে হবে বিভক্ত মুসলিম উম্মাহকে একতাবদ্ধ করার কাজে আদৌ কোন ভূমিকা ছিল কিনা -সেটি। এবং কি ভূমিকা ছিল আল্লাহর আইন তথা শরিয়তকে আল্লাহর ভূমিতে বিজয়ী করায়? মুসলিম উম্মাহর শক্তিহানী ও পরাজয়ের মূল কারণটি লোকবল বা অর্থবলের কমতি নয়। বরং সেটি হলো ৫৭টি দেশ ও শত শত দলের নামে মুসলিম বিভক্তি। এ ভয়ানক পাপের কাজটি শুধু হালাল কর্ম নয়, উৎসবের কারণে পরিণত হয়েছে। কথা হলো, মুসলিম মানচিত্রের বিভক্তির দিনগুলিকে বিজয় দিবস রূপে উৎসব করা কি কোন ঈমানদারের কাজ হতে পারে? তা নিয়ে তো উৎসব হবে কাফেরদের রাজধানীতে –যেমন একাত্তরের বিজয় নিয়ে উৎসব হয় দিল্লিতে। এরূপ বিভক্তি নিয়ে তো বরং মাতম হওয়া উচিত।

মহান আল্লাহতায়ালা তো চান মুসলিম উম্মাহর মাঝে সীসাঢালা প্রাচীরসম একতা। তাই যারা মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করতে চান তারা কি খুশি হতে পারে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি নিয়ে? নামাযের কাতারে নানা ভাষা, নানা বর্ণ ও নানা অঞ্চলের মানুষ যেমন একত্রে দাঁড়ায় তেমনি তাদের একত্রে বসবাস করতে হয় অভিন্ন মুসলিম ভূমির মানচিত্রের মাঝে। নবীজী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাদের আমলে তো সেটিই হয়েছে। নামাযের কাতার ভাঙ্গা যেমন হারাম, তেমনি হারাম হলো মুসলিম রাষ্ট্রের মানচিত্র ভাঙ্গা। একাজে একজন কাফের খুশি হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত ঈমানদার নয়। বেঈমানী শুধু মিথ্যাচর্চা, চুরি-ডাকাতি ও নানারূপ দুর্বৃত্তির মাঝেই ধরা পড়ে না, ধরা পড়ে ভাষা,বর্ণ ও আঞ্চলিকতার নামে বিভক্ত মানচিত্র গড়ার মাঝে। সারা জীবন নামায-রোযা ও বার বার হজ্ব-উমরাহ করে কি সে বেঈমানী ঢাকা যায়? মুসলিমদের আজকের দুরাবস্থার কারণ তো এই ভয়াবহ বেঈমানি। এ বেঈমানি আজ জাতির অহংকারে পরিণত হয়েছে।    

একতা মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রচুর রহমত বয়ে আনে। এবং বিভক্তি আনে প্রতিশ্রুত আযাব। তাই মানচিত্র ভেঙ্গে মুসলিম দেশগুলি যতই ছোট হয়েছে, ততই বেড়েছে আযাব। ভূগোল ছোট করলে শক্তি বাড়েনা, বরং তা ভয়ানক ভাবে কমে যায়। মুসলিমগণ শক্তিতে তখনই অপ্রতিরোধ্য ছিল এবং সে সাথে ইজ্জতের অধিকারী ছিল যখন তাদের একটি মাত্র রাষ্ট্র ছিল এবং ছিল না ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার নামে কোন দলাদলি। দেশ ও দলের সংখ্যা যখন থেকে বাড়তে শুরু করেছে তখন থেকেই দ্রুত কমতে শুরু করেছে তাদের শক্তি। এবং দ্রুত কমতে শুরু করেছে ইজ্জত ও নিরাপত্তা। কথা হলো, এ মৌলিক বিষয়গুলি বোঝার জন্য কি স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার প্রয়োজন পড়ে? ইসলামের গৌরব যুগে ভেড়ার রাখালগণও সেটি বুঝতো। তার কারণ, তাদের ছিল কোর’আনের জ্ঞান। সে জ্ঞানের বলে তারা বুঝতেো, মুসলিম জীবনে অতি পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো মুসলিম উম্মাহকে বিভক্তি থেকে বাঁচানো। এবং তেমন এক চেতনার কারণেই তাদের কাছে পবিত্র জিহাদ গণ্য হতো গোত্র, ভাষা, অঞ্চল ও বর্ণের নামে গড়ে উঠা বিভক্তি ও বিভেদের দেয়ালগুলি ভাঙ্গা।  ১৪.০৩.২০২০




বিবিধ প্রসঙ্গ-৬

১. নৈতিক বিপ্লব কীরূপে?

এখন এটি ধ্রুব সত্য, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি চরিত্র, কর্ম ও নীতিতে আদৌ কোন বিপ্লব আনে না। সেটি সম্ভব হলে বাংলাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের অঙ্গণে নৈতীক বিপ্লব আসতো। সে বিপ্লবের ফলে সেখানে যারা বসে আছে তারা চোর-ডাকাত ও ভোট-ডাকাত সরকারের চাকর-বাকর বা দাসী-বাঁদি না হয়ে তাদের বিদায়ের রাস্তা দেখিয়ে দিত।  কারণ, তারা তো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রিধারি। দেশ তখন দূর্নীতিমুক্ত হতো। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টোটি। তাদের কারণেই দেশে নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি হয়। সম্ভব হয় ব্যাংক লুট, শেয়ার মার্কেট লুট –এমন কি রাষ্ট্রীয় বিজার্ভ লুট। এ শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশকে যারা বিশ্বমাঝে দূ্র্বৃত্তিতে ৫ বার প্রথম স্থানে পৌঁছিয়ে দিয়েছিল তারাও দেশের নিরক্ষর কৃষক-শ্রমিক ছিল না। তারা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারীরাই। যেখানে আবরার ফাহাদের মত নিরীহ ছাত্রকে নির্মম ভাবে শহীদ হতে হলো সেটিও কোন নিভৃত বন-জঙ্গল ছিল না, সেটিও ছিল তথাকথিত শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণ।

মানব জীবনে নৈতীক বিপ্লব আনে আখেরাতের ভয়। সে ভয়ে মানুষ ফেরেশতায় পরিণত হয়। তখন তাঁকে জোর করেও ঘুষ বা সূদ খাওয়ানো যায় না। তার কাছে সেটি বিষপানের ছেয়েও ভয়ংকর মনে হয়। মানুষের মন নিজেই তখন পুলিশে পরিণত হয়। ঘরে আগুণ লাগলে পানির জন্য ছুটাছুটি শুরু হয়। আখেরাতের ভয়ে তেমনি লাগাতর ছুটাছুটি শুরু হয় বেশী বেশী নেক আমলে। তেমন এক ভয় নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে  প্রায় ৫০ গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রের শাসক খলিফা হযরত উমর (রাঃ) নিজের চাকরকে উটের পিঠে বসিয়ে নিজে রশি ধরে টেনেছেন। মধ্যরাতে না ঘুমিয়ে খাদ্যের ভান্ডার কাঁধে উঠিয়ে মদিনার রাস্তায় রাস্তায় ক্ষুদার্ত মানুষ খুঁজেছেন। মহান নবীজী (সাঃ) সাহাবাদের জীবনে যে চারিত্রিক বিপ্লবটি এনেছিলেন তার মূলে রাজনৈতীক বা অর্থনৈতীক বিপ্লব ছিল না, ছিল আখেরাতের প্রচন্ড ভয়। সমগ্র মানব ইতিহাসের মাঝে এটিই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লব।

মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা কাফেরদের বেঈমানীর মূল কারণটি বর্ণনা করেছেন সুরা মুদাচ্ছেরের ৫৩ নম্বর আয়াতে। বলেছেনঃ “কাল্লা বাল্লা ইয়াখাফুনাল আখেরা”; অর্থঃ  না, (এদের এরূপ অবস্থার মূল কারণ), তারা আখেরাতকে ভয় করে না। আখেরাতের ভয় সৃষ্টি হয় পবিত্র কোর’আনের জ্ঞান থেকে। কোর’আনের জ্ঞান বাড়ায় ব্যক্তির মনের দৃষ্টি। মনের সে দৃষ্টিতে ঈমানদার ব্যক্তি জাহান্নাম ও জান্নাতকে ততটাই পরিস্কার দেখতে পায় যতটা দেখতে পায় মেঘমুক্ত দিনে সূর্য্যকে। এমন ব্যক্তি তখন সে জান্নাত লাভের লক্ষ্যে নিজের জান ও মালের কোরবানীতে লেগে যায়। শুরু হয় জিহাদে সর্বসামর্থ্যের বিনিয়োগ। যার মধ্যে সে বিনিয়োগে তাড়াহুড়া নাই সে ব্যক্তি যতই নামাযী, রোযাদার বা হাজী হোক না কেন, কোর’আনের জ্ঞান যে তার মধ্যে প্রবেশ করেনি -তা নিয়ে সন্দেহ সামান্যই। এজন্যই মহান আল্লাহতায়ালা তার মিশনটি নামায-রোযা ফরজ করা দিয়ে শুরু করেননি। বরং শুরু করেছেন কোরআন শিক্ষাকে ফরজ করার মধ্য দিয়ে। ৫ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়েছে কোর’আন নাযিল শুরু হওয়ার ১১ বছর পর।

যে সমাজে কোর’আনী জ্ঞানের চর্চা প্রবলতর হয়, সেখান শুরু হয় অন্যায়ের নির্মূলে এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায়  লাগাতর জিহাদ –যেরূপ হয়েছিল সাহাবায়ে কেরামের আমলে। এজন্যই ইসলামের শত্রুপক্ষ মসজিদের দরজায় তালা লাগায় না, জায়নামাযও কেড়ে নেয় না। বরং বন্ধ করে কোর’আন বুঝার কাজকে। সে লক্ষ্যে শয়তানের বিনিয়োগটিও বিশাল। সে মিশন পূরণে শয়তান ধর্মব্যবসায়ীদের ময়দানে নামায়। তারা যু্ক্তি দেখায়, কোর’আন না বুঝে তেলাওয়াতেই প্রচুর ছওয়াব, অতএব না বুঝলেও চলে। ফলে এ ধর্মব্যবসায়ীদের আগ্রহ নাই নর-নারীর মাঝে কোর’আন বুঝার সামর্থ্য দৃষ্টিতে। তারা বরং দায়িত্ব সারে স্রেফ তেলাওয়াত শিখিয়ে। এভাবেই পরিকল্পিত ভাবে মুসলিমদের কোর’আন থেকে দূরে সরানো হয়েছে। বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশগুলিতে ধর্মব্যবসায়ীদের সাফল্য এতটাই বিশাল যে কোর’আন বুঝা যে প্রতিটি নরনারীর উপর ফরজ -সে ধারণাটাই বিলুপ্ত হয়েছে। এরফলে কোর’আনের জ্ঞানে অধিকাংশ মুসলিম জাহেলই থেকে গেছে। ফলে গড়ে উঠেনি মুসলিমদের চরিত্র। এতে বিজয় এসেছে শয়তানের এবং পরাজয় বেড়েছে মুসলিমদের। অথচ কোর’আন বুঝার ফরজ পালন করতে গিয়ে মিশর, ইরাক, সিরিয়া, সূদান, মরক্কো, আলজিরিয়াসহ বহু দেশের জনগণ নিজেদের মাতৃভাষা দাফন করে আরবী ভাষাকে নিজেদের ভাষা বানিয়ে নিয়েছে। কারণ, তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছিল ভাষা-পূজার বদলে মহান আল্লাহতায়ালা-প্রদত্ত পথনির্দেশনা বুঝার ফরজ কাজটি।        

২. হারাম রাজনীতি ও ফরজ রাজনীতি

প্রতিকর্মে মহান আল্লাহতায়ালার স্মরণকে মগজে নিয়ে চলতে হয় প্রতিটি ঈমানদারকে। এটিই হলো যিকর। আল্লাহতায়ালার এ যিকর যেমন প্রতিপদে সিরাতুল মোস্তাকীম দেখায়, তেমনি পরকালে জান্নাতে পৌঁছায়। মহান আল্লাহতায়ালার সে স্মরণটি না থাকার বিপদটি ভয়ংকর। শাস্তি স্বরূপ তখন ঘাড়ের উপর সাথি রূপে জুটে শয়তান; এতে অসম্ভব হয় জান্না্তের পথে চলা। মহা ভীতিকর এ ঘোষণাটি এসেছে সুরা জুখরুফের ৩৬ নম্বর আয়াতে। বিষয়টি অন্য ভাবেও বুঝা যায়। পশুর গোশতো তখনই হালাল হয় যখন জবাইটি বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবর বলে করা হয়। নইলে সেটি হারাম। বিষয়টি তেমন রাজনীতির বেলায়ও। রাজনীতি হলো মানব জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে বিনিয়োগ হয় কোটি কোটি মানুষের ভোটই শুধু নয়, বরং শ্রম, অর্থ, মেধা ও সময়। থাকে হাজার হাজার মানুষের প্রাণের কোরবানী। রাজনীতি থেকেই নির্ধারিত হয় দেশ ও দেশবাসীর ভাগ্য। নির্ধারীত হয় দেশের বুকে কার নীতি, আদর্শ্ বা আইন বাধ্যবাধকতা এবং ইসলামের প্রতিষ্ঠা পাবে সে বিষয়টি।

রাজনীতিতেই প্রকাশ পায় ব্যক্তির অদৃশ্য ঈমান। ঈমানদার এখানে হাজির হয় ইসলামের অতি নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে। কখনো বা সেটি রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নেয়। ক্ষেত-খামার বা কল-কারখানাতে সেটি ঘটেনা। তাই কৃষি, শিল্প বা বাণিজ্যের চেয়েও অধীকতর গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনীতি। ফলে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনীতির হালাল হওয়ার বিষয়টিও। কারণ, হালাল না হলে জান ও মালের সমগ্র বিনিয়োগে যা জুটে তা হলো জাহান্নাম। রাজনীতি তখনই হালাল হয় যখন সে রাজনীতির মূলে থাকে ইসলামের বিজয় এবং শরিয়তের প্রতিষ্ঠা। থাকে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের নির্মূলের অঙ্গিকার। এমন রাজনীতি শুধু হালালই নয়, বরং ফরজ।এমন রাজনীতিতে শুধু ভোট দিলে চলে না, মাল, মেধা ও জানের বিনিয়োগও করতে হয়। ব্যক্তির প্রতিটি সামর্থ্যই মহান আল্লাহ-প্রদত্ত আমানত। সে আমানতের বিনিয়োগটি ইসলামের বিজয় এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছাপূরণ ভিন্ন অন্য খাতে হওয়াটি হারাম। এটিই হলো ইসলামী আক্বীদার অতি মৌলিক বিষয়। সেক্যুলার রাজনীতি ইসলামের বিজয়ের সে অঙ্গিকার থাকে না বলেই সে রাজনীতিতে জানমাল তথা সামর্থ্যের বিনিয়োগটি হারাম।     

পবিত্র কোর’আনের সুরা মুদাছছেরের ৩ নম্বর আয়াতে ঘোষিত হয়েছে মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশঃ “ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির” অর্থঃ “এবং তোমার রব যে আকবর তথা সর্বশ্রেষ্ঠ সেটির ঘোষণা দাও।” তাই ঈমানদারকে শুধু আযানে ও নামাযে আল্লাহু আকবার বললে চলে না, সেটি বলতে হয় জীবনের প্রতি অঙ্গণে। এবং এ ঘোষণাটি দেয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গণ হলো রাজনীতি। এক্ষেত্রটিকে ঈমানদারগণ কখনোই অন্য ধর্ম বা অন্য মতাদর্শের অনুসারীদের জন্য ছেড়ে দিতে পারে না। সেটি গণ্য হয় পরাজয় বা আত্মসমর্পণ রূপে। মুসলিমের রাজনীতির মূলপ্রত্যয়, স্লোগান বা যিকর হলো আল্লাহু আকবার। যে রাজনীতিতে সে প্রত্যয় বা বিশ্বাস গুরুত্ব পায় না -সে রাজনীতি কখনোই হালাল হয়না।

তাই বেঈমানের রাজনীনিতে ভাষা, দেশ, নেতা বা দলের নামে জয়োধ্বনি উঠলেও মুসলিম চিরকালই রাজপথে ও রণাঙ্গণে আল্লাহু আকবার বলেই গগনবিদারী আওয়াজ তুলেছে। তাই বাংলার মুসলিমগণ অতীতে কখনোই কংগ্রেসী হিন্দুদের সাথে গলা মিলিয়ে বন্দেমাতরম বা “জয় হিন্দ” বলেনি, বরং ধ্বনি তুলেছে আল্লাহু আকবারের। সে অভিন্ন কারণে “জয় বাংলা” বলার রাজনীতিও হালাল হয় না। কারণ “জয় বাংলা”র রাজনীতিতে বাদ পড়ে মহান আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার অঙ্গিকার। তাতে ধ্বণিত হয় দেশ বন্দনার চেতনা। গলায় আওয়াজ তোলার সামর্থ্যটি দেশের মাটি বা আলো-বাতাস দেয়না, দেয় মহান আল্লাহতায়ালা। তাই সে সামর্থ্যটি ব্যয় হবে আল্লাহু আকবর বলায়, জয় বাংলা বলাতে নয়। এভাবেই তো প্রকাশ ঘটে ঈমানের।

৩.     
চোর-ডাকাত কখনোই জনগণের বন্ধু  হয় না, তারা শত্রু। এরা শুধু জনগণের পকেটে, দোকানে বা গৃহের উপরই হানা দেয় না, হানা দেয় ভোটের বাক্সেও। এরা জানে, জনগণের শক্তি বাড়লে তাদের বিপদ বাড়ে। তাই ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় গেলে এদের প্রথম কাজটি হয় জনগণকে শক্তিহীন করা। সেটি করে বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমিতির স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে। সে সাথে শক্তিবৃদ্ধি করে নিজ দলের চোর-ডাকাতদের। একাজে হাত পড়ে সরকারি কোষাগার ও ব্যাংকের উপর। ব্যাংক থেকে এসব চোর-ডাকাতদের শত শত কোটি কোটি টাকা লোন দেয়া হয় ফেরত নেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদেরকে ধনী করার লক্ষ্যে। সরকারের পক্ষে লাঠি ধরে বলে এটি তাদের বেতন। যেহেতু তারা জানে তাদের ক্ষমতা চিরদিনের নয়, চুরির টাকায় বিদেশে বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এদের কারণেই আজ দেউলিয়া। এদের কাছে স্বাধীনতার অর্থ জনগণের স্বাধীনতা নয়, বরং এরূপ লুটপাটের স্বাধীনতা।

৪.
ভারতে এখন অতিশয় অসভ্য ও নৃশংসদের শাসন চলছে। সে শাসনে মহাবিপদে পড়েছে সে দেশে বসবাস করা অসহায় ২০ কোটি মুসলিম। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না এমনকি প্রতিবেশী বাংলাদেশও।বাংলাদেশ বলছে, ভারতে যা কিছু হচ্ছে সেটি দেশটির নিজস্ব বা আভ্যন্তরীণ বিষয় ব্যাপার। 

অথচ কোন ঘরে যখন খুন বা ধর্ষণ হয় -তখন সেটি আর সে ঘরের নিজস্ব বা আভ্যন্তরীণ বিষয় থাকে না। সে নৃশংস অসভ্যতা রুখাটি অন্যদের উপরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে পড়ে। সভ্য প্রতিবেশীরা তখন দ্রুত ছুটে আসে। কিন্তু প্রতিবেশী নিজেই যদি গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের ন্যায় নানারূপ নৃশংস অসভ্যতায় লিপ্ত হয় তখন তার কাজ হয় পাশের ঘরের অসভ্যতাকে সমর্থণ করা। ভারতে মুসলিমদের উপর চলছে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের নিষ্ঠুর রাজনীতি। কিন্তু শেখ হাসিনার মুখে তা নিয়ে সামান্যতম প্রতিবাদও না। বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পিতার জন্ম শত বার্ষিকীতে দাওয়াত দিয়ে সন্মানিত করেছে। ১১/০৩/২০২০




বিবিধ প্রসঙ্গ-৫

১.

মৌমাছি কখনোই মল-মূত্রের স্তুপে বসে না। সে বহু মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর পাড়ি দিয়ে সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগিচা খোঁজে। দুর্গন্ধময় মলমুত্রের উপর বসে মশা-মাছি। তেমনি সমাজেও থাকে মৌমাছি ও মাছি চরিত্রের মানুষ। ঈমানদারের লক্ষণ সে চোর-ডাকাত, ভোট-ডাকাত, সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষকদের সঙ্গ দেয় না। একাজ বেঈমানদের্; তারাই সমাজে মাছি-চরিত্রের জীব। তাই যে শাসক দলের রাজনীতিতে থাকে চুরি-ডাকাতি, ভোট-ডাকাতি, ব্যাংকলুট, শেয়ার মার্কেট লুট এবং গুম-খুনের রাজনীতি তাদের দলে দেখা যায় এরূপ মাছি-চরিত্রের মানুষের প্রচন্ড ভিড়। নানা দল ভেঙ্গে প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয় সে দলের দিকে। এদের ভিড়ে গড়ে উঠে মহা জোট। তাদের কারণেই দেশে দুর্বৃত্তির জোয়ার আসে। আবরার ফাহাদের ন্যায় নিরপরাধ ছাত্রকে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যম্পাসে নৃশংস ভাবে খুন হতে হয়। নুসরতদের মত মেয়েদের লাশ হতে হয়।কোনটি মৌমাছি আর কোনটি মাছি –সেটি চিনতে যেমন অসুবিধা হয় না; তেমনি কে ঈমানদার আর বেঈমান -সেটি চিনতেও কোন বেগ পেতে হয় না।

পবিত্র কোর’আনে মৌমাছির নামে একটি সুরা আছে। সুরাটির নাম নামল। নামলের অর্থ মৌমাছি।মৌমাছির জীবন থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু শেখার আছে। ক্ষুদ্র এ জীবটির জীবন অতি  কল্যাণময় ও সংগ্রামী। তার সমগ্র জীবনটাই কাটে হাজার হাজার ফুল থেকে বিন্দু বিন্দু মধু সংগ্রহ করে বিশাল মৌচাক গড়ায়। মৌমাছির জীবনে এটি এক অবিরাম জিহাদ্। এবং সেটি নিজের কল্যাণে নয়, বরং মানুষের কল্যাণে। এবং সে মধুতে মহান আল্লাহতায়ালা রেখেছেন নানা রোগ থেকে রোগমুক্তি।

ঈমানদারও তেমনি নিজ জীবনের সকল মেধা,অর্থ, শ্রম ও সময় বিনিয়োগ করে কল্যাণময় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায়। মানব সমাজে এটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ কর্ম। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে এটিই শ্রেষ্ঠ ইবাদত। এ পবিত্র ইবাদতে নিরাপত্তা ও কল্যাণ পায় অগণিত  মানুষ। পায় জান্নাতে পথে চলার সিরাতুল মুস্তাকীম। এটিই হলো নবীজী (সাঃ)র শ্রেষ্ঠ সূন্নত। মৌমাছির ন্যায় ঈমানদারের জীবনেও এটি আমৃত্যু জিহাদ। এ জিহাদে প্রাণ গেলে তাঁকে মৃত বলা হারাম ঘোষিত হয়েছে। সে শহীদ হয়, মৃত্যুর পরও রেযেক পায় এবং সরাসরি জান্নাতে যায়।             

২.

বাংলাদেশে বহু কোটি মানুষের জায়গা-জমি নাই, দিনে দু-বেলা খাবার জুটে না। অথচ জনগণের রাজস্বের শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে মুজিবের জন্ম শতবার্ষিকী নিয়ে বিশাল উৎসব হতে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাটি মুজিবের অর্জন, তাই মুজিবকে সন্মান দেয়া প্রতিটি বাংলাদেশীর দায়িত্ব। অথচ এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মিথ্যা। কোন একটি মুসলিম দেশ ভেঁঙ্গে ক্ষুদ্রতর করায় কাজটি ইসলামের শত্রুপক্ষীয় কাফেরগণ নিজ খরচে ও নিজ রক্ত দিয়ে প্রকান্ড যুদ্ধ লড়ে সমাধা করে দিতে সব সময়ই রাজী। এবং সেটি যদি হয় পৃথিবীপৃষ্ঠে সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র। মুজিবের অবদান এখানেই সামান্যই। কারণ, কাফের শত্রুগণ জানে, মুসলিম দেশ ভাঙ্গার যুদ্ধটি কখনোই মুসলিমদের যুদ্ধ নয়, এটি তাদের অতি নিজস্ব যুদ্ধ। লক্ষ্য এখানে মুসলিমদের মেরুদন্ড ভাঙ্গা। আরব ভূখন্ডকে তার ঔপনিবেশিক কাফেরগণ ২২ টুকরায় বিভক্ত করেছে।

ভারত তার নিজের সে যুদ্ধটি ১৯৪৭’য়ে পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম দিনেই শুরু করতে প্রস্তুত ছিল। তারা শুধু অপেক্ষায় ছিল মুজিবের ন্যায় ভারতের প্রতি নতজানু দাস চরিত্রের এক বাঙালী নেতার। ১৯৪৭ সালে খাজা নাজিমুদ্দীন, শহীদ সহরোয়ার্দী, শেরে বাংলা ফজলুল হকের মত তৎকালীন বাঙালী মুসলিম নেতাগণ ভারতের আগ্রাসী অভিসন্ধির সাথে পুরাপুরি পরিচিত ছিলেন। ভারতে সাথে বন্ধুত্ব করার অর্থ বাঘের সাথে বন্ধুত্ব করা। তাঁরা চেয়েছিলেন ভারতের পরাধীনতা থেকে বাঁচতে। ফলে তাদের কেউই ভারতের জালে তারা ধরা দেননি। ফলে সেদিন অপূর্ণ থেকে যায় ভারতের সে আগ্রাসী আশা ।

কিন্তু ভারতের আশা পূর্ণ হয় ১৯৭১ সালে। মুজিবের ইশারা’ই ভারতের জন্য যথেষ্ট ছিল। ফলে মুক্তি বাহিনীকে নিজ সামর্থ্যে পুরা দেশ দূরে থাক, একটি জেলা বা একটি মহকুমাকেও স্বাধীন করতে হয়নি। খোদ মুজিবকেও রণাঙ্গনে আসতে হয়নি। বরং ভারত নিজ খরচে ও নিজ সৈন্য দিয়ে যুদ্ধজয় করে পুরা দেশ সেদিন মুজিবের হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে ভারতে যুদ্ধ একাত্তরে শেষ হয়নি। পাকিস্তানের বাঁকি অংশকে খণ্ডিত করার কাজে ভারতের পুঁজি বিনিয়োগটি এখনো বিশাল। কিন্তু ভারতের দুর্ভাগ্য, সেখানে কোন মুজিব, তাজুদ্দিন, জিয়া বা ওসমানি জুটছে না। মুক্তি বাহিনীও সৃষ্টি হচ্ছে না। ভারতের আরো দুর্ভাগ্য হলো, পাকিস্তান এখন আর একাত্তরের পাকিস্তান নয়, দেশটি এখন পারমানবিক শক্তি।  দেশটির হাতে রয়েছে বহু শত বালিস্টিক মিজাইল।    

৩.
নবীজী (সা:) নিজে রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। ফলে তাঁর জীবনে রাজনীতিও ছিল। এবং তাঁর রাজনীতি ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, সে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা এবং সে ভূমিতে শরিয়ত প্রতিষ্ঠার কাজে লাগাতর এক জিহাদের রাজনীতি। এ রাজনীতিই হলো ইসলামের শ্রেষ্ঠ ইবাদত। ইবাদতে ব্যয় হয় জানমালের। নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাতের কাজ এ ইবাদতের জন্য ব্যক্তিকে প্রস্তুত করা।  সাহাবাদের জান ও মালের সিংহভাগ খরচ হয়েছে এ ইবাদতে। নবুয়ত লাভের পর নবীজী (সাঃ) তাঁর ১৩ বছর মক্কায় কাটান। কিন্তু সেখানে তিনি একখানি মসজিদও গড়েননি, কোন মাদ্রাসাও গড়েননি। বরং পূর্ণ মনযোগ দিয়েছেন এমন মানুষ গড়ায় যারা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় ও প্রতিরক্ষায় যোগ্য মোজাহিদ হবে এবং প্রয়োজনে শহীদ হবে। সমগ্র মানব ইতিহাসের এরাই হলেন শ্রেষ্ঠ মানব। এরাই পরবর্তীতে ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা হয়েছেন। এবং বিশাল বিশাল প্রদেশের গভর্নর ও বিচারপতি হয়েছেন। নানা রণাঙ্গণে তাঁরা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ জেনারেল রূপে অবদান রেখেছেন।

ইসলামী রাষ্ট্র গড়াই নবীজী (সাঃ)র জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ সূন্নত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। লক্ষ লক্ষ মসজিদ-মাদ্রাসা গড়ার কাজটি এর সমকক্ষ হতে পারে না। হযরত মূসা (সাঃ)’য়ের জীবনে বড় আফসোস, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বে্ও তিনি একাজটি করে যেতে পারেননি। কারণ, তার সাহাবাদের জিহাদে অনাগ্রহ। তাদেরকে জিহাদে ডাক দিলে তারা বলেছিল, “হে মূসা, তুমি ও তোমার আল্লাহ গিয়ে যুদ্ধ করো। আমরা অপেক্ষায় রইলাম।” ফলে তাঁর হাতে শরিয়তি বিধান থাকলেও তিনি সে শরিয়ত পালনের লক্ষ্যে খেলাফায়ে রাশেদা গড়ে যেতে পারেননি। ফলে বনি ইসরাইল ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব শক্তি রূপে খাড়া হতে। বরং তাদের ঘাড়ে আযাব চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা ঘুরেছে নানা দেশের পথে-প্রান্তরে।

ইসলামী রাষ্ট্রের বিকল্প একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রই। লক্ষ লক্ষ মসজিদ-মাদ্রাসা গড়েও শরিয়ত পালন হয় না। ফলে পূর্ণ ইসলাম পালনের ফরজও আদায় হয়না। তাতে ইসলামের প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের ইজ্জতও বাড়ে না। সে জন্য ইসলামী রাষ্ট্র চাই। মুসলিমদের আজকের পরাজয়ের কারণ বহু। তবে মূল কারণটি মুসলিমদের সংখ্যার কমতি যেমন নয়, তেমনি মসজিদ-মাদ্রাসার কমতিও নয়। বরং সেটি হলো, তারা নবীজী (সাঃ)র বহু ছোট ছোট সূন্নত আঁকড়ে ধরলেও ব্যর্থ হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্রগড়া এবং সে লক্ষ্যে জিহাদের ন্যায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতটি পালনে। 

৪.
বাজারে প্রচার পেয়েছে, ভারতের বাংলাদেশী সেবাদাসগণ নাকি মুখে পাকিস্তানের নাম নিলে টুথপেষ্ট দিয়ে দাঁত মাজে। সম্প্রতি সেটি তারা ঘটা করে ঘোষণাও দিয়েছে। এর কারণ, তাদের মনিব মুসলিম-ঘাতক নরেন্দ্র মোদিকে খুশি করা। তাদের এ কথা শুনে মোদি যে বিপুল ভাবে পুলকিত হবে এবং অন্যদেরও কাছেও যে সেটি বলে বেড়াবে -সেটি স্বাভাবিক। কারণ, বাংলাদেশীদের মগজ ধোলাইয়ের কাজে ভারতীয়দের বিনিয়োগটি বিশাল। এবং এ ঘোষণাটি হলো সে বিনিয়োগের সাফল্যের দলিল।  বাংলাদেশের মাটিতে ভারত যে এরূপ মগজ ধোলাইকৃত বিপুল সংখ্যক মানুষ সৃষ্টি করতে পেরেছে -তা নিয়ে ভারতে উৎসব হওয়া উচিত। তবে যাদের মগজ এখনো ধোলাই হয়নি তাদের বুঝা উচিত, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা না পেলে বাংলাদেশ  ও পাকিস্তানের ৪০ কোটি মুসলিম বিজিপি গুণ্ডাদের হাতে হত্যা, ধর্ষন ও নির্যাতনের শিকার হতো।

৫.

বলা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় আসছে। সেটি মুজিব শতবার্ষকী উৎসবে যোগ দিতে। তার আগমণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় ভারতসেবীদের গায়ে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের মাটিতে কারা ভারত সরকারের দালাল – তাদের চিনে রাখার এখনই সময়। নরেন্দ্র মোদি নিশ্চয়ই  বিস্মিত হবে, তার আগমন নিয়ে ঢাকাতে আবার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কেন? কারণ গোলাম রাষ্ট্রের নাগরিকদেরও তো সে অধীকার থাকে না। বাংলাদেশ যেহেতু তাদেরই সৃষ্টি তাদের পাওনা তো স্রেফ আনুগত্য।

৬.

সাহাবায়ে কেরামদের যুগ এবং এ যুগের মুসলিমদের মাঝে পার্থক্য বহু ক্ষেত্রেই। তবে মূল পার্থক্যটি হলো, সে যুগে তাঁরা সংখ্যায় কম হলেও তাঁদের সবার জীবনে জিহাদ ছিল। আর জিহাদ্ শুরু হলে নানা ভাষাভাষী মানুষের মাঝে ঐক্যও সৃষ্টি হয়। কারণ. জিহাদের ময়দানে সবাই হয় জান্নাতমুখি। জিহাদের ময়দানে তখন গুরুত্ব পায় মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করার বিষয়। গুরুত্ব পায়, শত্রুর হামলার মুখে মুসলিম স্বার্থ ও অস্তিত্বের বিষয়। তখন দল, নেতা, পীর, মজহাব ও ফেরকা নিয়ে চিন্তা-ভাবনার সুযোগ থাকে না। বিশ্বশক্তি রূপে মুসলিমদের উদ্ভব ঘটেছিল জিহাদের বরকতেই।

৭.
নবীজী (সা:)র হাদীসঃ যে কোন দিন জিহাদে যায়নি এবং জিহাদের নিয়তও করেনি সে মুনাফিক। মদিনার মুনাফিকগণ নবীজী(সাঃ)’র পিছনে নামায পড়েছে এবং রোযাও রেখেছে। কিন্তু  তারা জিহাদে যায়নি। জিহাদই তখন ঈমানদারকে মুনাফিকদের থেকে পৃথক করেছে। মুনাফিকের জীবনে নামায়-রোযা থাকতে পারে, কিন্তু জিহাদ যে থাকেনা -সেটি নবীজী(সাঃ)’র যুগেও দেখা গেছে। তাদের সংখ্যাটিও সেদিন কম ছিল না। ওহুদের যুদ্ধে নবীজী(সাঃ)র প্রস্তুতি ছিল এক হাজার জনের। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে ৩০০ জন্ই ছিটকে পড়ে। অর্থাৎ শতকরা ৩০ ভাগ। এরাই পরিচিতি পায় মুনাফিক রূপে। নবীজী(সাঃ)র যুগেই যখন এ অবস্থা, তাদের দল আজ যে কতটা ভারি -সেটি সহজেই অনুমেয়। এরাই ইসলামের ঘরের শত্রু। মুসলিম ও ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের নাশকতাটি বিশাল। দেশে দেশে তারাই অসম্ভব করে রেখেছে ইসলামের বিজয়কে। এরূপ ঘৃণ্য কর্মের জন্য জাহান্নামে তাদের স্থানটি হবে কাফেরদের চেয়েও নীচে।

পবিত্র কোর’আনে মহান আল্লাহপাকের ঘোষণা, “তোমরা কি হাজিদের পানি পান করানো এবং ক্বাবার খেদমতকে সে ব্যক্তির সমান মনে করো যে ঈমান এনেছেন আল্লাহ  ও আখেরাতের উপর এবং জিহাদ করেছেন আল্লাহর রাস্তায়। আল্লাহর কাছে তারা কখনোই সমান নয়। আল্লাহ কখনোই জালেমদের হিদায়েত দেন না।” – (সুরা তাওবা আয়াত ১৯ )।জিহাদ-বিমুখ লোকগুলি যে জালেম এবং তারা যে হিদায়েতের অযোগ্য মহান আল্লাহতায়ালা সেটিরই ঘোষণা দিয়েছেন উপরুক্ত আয়াতে ।     

৮.
যে ব্যক্তি মহান আল্লাহতায়ালাকে ভালবাসে -সে কখনোই তাঁর দ্বীনের পরাজয় নিয়ে খুশি, নিরব বা নিষ্ক্রীয় থাকতে পারে না। বরং ঈমানদার হওয়ার শর্তই হলো, কোর’আনে ঘোষিত মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাটির বাস্তবায়নে নিজের সমুদয় সামর্থ্যের বিনিয়োগ। আল্লাহতায়ালার সে বহুল ঘোষিত ইচ্ছাটি হলো, “লি’ইউযহিরাহু আলাদ্দিনে কুল্লিহি” অর্থাৎ সকল ধর্মের উপর ইসলামের বিজয়। এ বর্ণনাটি এসেছে সুরা সাফ, সুরা তাওবাহ ও সুরা ফাতহ’য়ে। ইসলামের বিজয় সাধনে ঈমানদারের জীবনে জিহাদ তাই অনিবার্য।

অথচ তা্জ্জবের বিষয় হলো, মুসলিমদের নিজ দেশেই ইসলাম আজ পরাজিত। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে বিজয়ের উৎসব হচ্ছে ইসলামের শত্রুপক্ষের। পরাজয়ের সুস্পষ্ট সে আলামত্ হলো, মুসলিম দেশের আদালতে শরিয়তের আইনের বদলে কাফেরদের আইনে বিচার। প্রতিষ্ঠিত নেই মহান আল্লাহতায়ালার নিজ জমিনে তাঁর নিজ আইনের সার্বভৌমত্ব। এভাবে মুসলিমদের চোখের সামনে অবমাননা হচ্ছে মহান আল্লাহতায়ালার। সামান্যতম ঈমান আছে এমন ব্যক্তি কি কখনো ইসলামের এহেন পরাজয় এবং আল্লাহতায়ালার এরূপ অবমাননা মেনে নিতে পারে? এরূপ পরাজয়ের ভূমিতেও যার মধ্যে জিহাদ নাই এবং শরিয়তের এরূপ বিলুপ্তি নিয়েও মাতম নাই -সে কি কখনো ঈমানদার রূপে নিজেকে পরিচয় দিতে পারে?

৯.
যারা উঁচু মানের জ্ঞানী তাদের জীবনে বেশীর ভাগ জ্ঞানলাভটি ঘটে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে। সেটি সার্টিফিকেট লাভের পর। এবং সেটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার কারণে। জ্ঞানলাভের কাজটি ছাত্র জীবনে শেষ হওয়ার নয়; বরং নামায-রোযার ন্যায় কবরে যাওয়ার পূর্ব-মুহুর্ত অবধি এটিয়ে চালিয়ে যাওয়ার কাজ। ইসলামে এটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কবিরা গুনাহ হলো অজ্ঞ বা জাহেল থাকা। এ পাপটি আরো গুরুতর পাপের জন্ম দেয়। নবীজী (সাঃ)র হাদীসঃ যার জীবনে পর পর দু’টি দিন অতিক্রান্ত হলো অথচ তার জ্ঞানের ভূবনে কোন বৃদ্ধি্ই হলো না তার জন্য ধ্বংস।

১০.
অন্য মুসলিমকে ভাই রূপে গ্রহণ করার মধ্যেই প্রকৃত ঈমানদারী। মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া এটি এমন এক পরিচিতি যা অমান্য করার অর্থ আল্লাহতায়ালার হুকুমের অবাধ্যতা। তাই এটি সুস্পষ্ট বেঈমানী। অপর বিষয়টি হলো, ভা্ই যত দূরের দেশেই থাক, তাতে ভাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন হয় না। হাজার মাইল দূরের ভাইয়ের পায়ের ব্যথা তখন হৃদয়ে অনুভুত হয়। তাই নিজের ভাইকে ভারতে বা পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে হত্যা করা হলে -একমাত্র বিবেকহীন বেঈমানই নিরব থাকতে পারে।

১১.
মানবতা বিরোধী অপরাধের নামে ভোট-ডাকাত হাসিনা বহু ব্যক্তিকেই ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। অথচ মানবতা বিরোধী অতি অসভ্য ও অতি নৃশংস অপরাধ লাগাতর ঘটছে ভারতে। এবং সে বীভৎস নৃশংসতার নায়ক হলো নরেন্দ্র মোদি। সারা বিশ্ব জুড়ে মোদির বিরুদ্ধে ধিক্কার উঠেছে। বিশ্বের নানা দেশের পার্লামেন্টে তার সরকারের অসভ্য অপরাধের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ হয়েছে। অথচ এ মানবতা বিরোধী ঘৃণ্য অপরাধীকেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আমন্ত্রিত করে সন্মানিত করছে। একজন মানুষের পরিচয় পাওয়া যায় তার ঘনিষ্ট বন্ধুকে দেখে। কারণ বন্ধু নির্বাচনে গুরুত্ব পায় নিজের চেতনা ও চরিত্রের সাথে ম্যাচিং। তাই মোদির চরিত্রের মাঝে কাশ পাচ্ছে হাসিনার চরিত্রও। প্রশ্ন হলো, নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনার বন্ধু হতে পারে, কিন্তু তার মত এক অসভ্য খুনিকে বাংলাদেশের মুসলিম কেন বন্ধু রূপে গ্রহণ করবে? এক মুসলিম যে আরেক মুসলিমের ভাই -সেটি কি হাসিনা জানে না? তাই বাংলাদেশের মুসলিমগণ কেন তাদের ভারতীয় ভাইদের খুনিকে সন্মান দেখাবে? এরূপ অসভ্য কাজে কি ঈমান থাকে?   

১২.
বড় বড় কথা চোর-ডাকাত, ভোট-ডাকাত, খুনি ও ধর্ষকদের ন্যায় অতিশয় দুর্বৃত্তও বলতে পারে। ভোট-ডাকাত হাসিনাও বলছে সে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করবে। ভাল মানুষের লক্ষণ, মুখে যা বলে তা করে দেখায়। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে নিকৃষ্ট হলো তারাই, যারা যা মুখে বলে তা করে না।

১৩.
ঈমানদারের পরিচয় হলো, সে সব সময় পক্ষ নেয় নিরপরাধের। এবং কখনোই সাক্ষ্য দেয় না দুর্বৃত্তের পক্ষে। এটি বলা হয়েছে সুরা ফুরকানে। তাই বাংলাদেশে যারা চোর-ডাকাত ও ভোটডাকাত সরকারের সাফাই গায় এবং সে সরকারকে প্রতিরক্ষা দিতে লাঠি ধরে, কলম ধরে এবং বক্তৃতা দেয় -তারা কি ঈমানদার?

১৪.
রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ধ্যানধারণার বহমান স্রোতে ভাসায় কোন গর্ব নাই। সেকাজ কচুরীপানার।যারা নবী-রাসূলদের অনুসারি তারা স্রোতের বিপরীতে চলে। কারণ ইসলামের পথটি কখনোই স্রোতে ভাসার পথ নয়।
নবীজী (সাঃ)র আগমন কালে আরবের জনগণের মাঝেও ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও সমাজরীতি ছিল। কিন্তু মুসলিমগণ তাতে ভেসে না গিয়ে নিজেরাই নতুন স্রোত সৃষ্টি করেছেন। সর্বকালের মুসলিমদের জন্য সেটিই তো অনুকরণীয়।

১৫.
শয়তানের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটি কখনোই মদ,জুয়া, নাচগান, সূদী ব্যাবসা, দেহব্যবসা বা সেক্যুলার  রাজনীতিতে হয় না। বরং সেটি হয় ধর্মব্যবসায়। কারণ, সে বিনিয়োগে মানুষকে জাহান্নামে নেয়া সহজ হয়। শয়তানের সে বিনিয়োগের ফলেই ইহুদি ও খৃষ্টানগণ ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ফলে মূসা (আঃ)’য়ের শরিয়ত শুধু কিতাবেই রয়ে গেছে। এবং খৃষ্টানগণ ফিরে গেছে পৌত্তলিকতায়। তারা হযরত ঈসা(আঃ)’য়ের মুর্তি গড়ে গির্জাগুলোতে বসিয়েছে্। এজন্যই পবিত্র কোরআনের সুরা ফাতেহা’তে তারা চিহ্ণিত হয়েছে পথভ্রষ্ট ও লালতপ্রাপ্ত রূপে। প্রশ্ন হলো, শয়তানের সে বিনিয়োগটি কি মুসলিমদের উপরও কম? সে বিনিয়োগের ফলেই ৫৭টি মুসলিম দেশের কোনটিতেই বেঁচে নাই নবীজী (সাঃ)র প্রতিষ্ঠিত ইসলাম -যাতে ছিল ইসলামী রাষ্ট্র, শরিয়তের প্রতিষ্ঠা, জিহাদ ও প্যানি-ইসলামিক মুসলিম ভাতৃত্ব। বরং তারা সরে গেছে সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে এবং ভেসে চলেছে আত্মঘাতি হানাহানীতে। ৮/৩/২০২০




বিবিধ প্রসঙ্গ-৪

১.

মানব জীবনে সবচেয়ে বড় ইবাদত হলো খুনি-ধর্ষক, জালেম-ফাসেক, চোর-ডাকাত, ধর্মব্যবসায়ী, বিদেশী হানাদার ও নানারূপ দুর্বৃত্তদের থেকে দেশকে পাহারা দেয়া। ইসলামে এরূপ নির্মূলের কাজটি হলো পবিত্র জিহাদ। মহান আআল্লাহর কাছে এটিই হলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত -যা বলা হয়েছে সুরা সাফ’য়ের ৪ নম্বর আয়াতে। সমাজে জিহাদ না থাকলে বিলুপ্ত হয় নবীজীর ইসলাম যাতে রয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র, আদালতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা এবং ভাষা-বর্ণ-আঞ্চলিকতার নামে গড়া বিভক্তির দেয়াল ভেঙ্গে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য। ইসলামের শত্রুপক্ষ তাই মুসলিম জীবনে জিহাদ চায় না। তারা চায়, মুসলিমগণ বাঁচুক ইসলাম ছাড়াই।  
২.
বাঁচার সংগ্রাম পশু-পাখির জীবনেও থাকে। শ্রেষ্ঠ ও বিবেকমান মানুষ তো সেই -যে সংগ্রাম করে পরকালে জান্নাত পাওয়ার লক্ষ্যে। এমন মানুষের পরিচয়, সে সব সময় মগ্ন থাকে নেক আমলে এবং দূরে থাকে সকল রকমের গুনাহ থেকে। তখন বিপ্লব আসে জ্ঞানের রাজ্যে ও জিহাদের ময়দানে। কারণ, এ দুটি খাতই হলো নেক আমলের শ্রেষ্ঠতম খাত। সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়লে নির্মূল হয় দুর্বৃত্ত শাসন। এবং তখন জোয়ার আসে শান্তি ও উন্নয়নে। একটি দেশে দুর্বৃত্তদের শাসন দেখে বলা যায়, সমাজে এমন মানুষের সংখ্যাটি কত নগণ্য।  
৩.
মানব সমাজে সব চেয়ে বড় এবং ক্ষতিকর ব্যবসাটি হয় ধর্মের নামে। এ ব্যবসায় পুঁজি লাগে না। লাগে ধোকা দেয়ার সামর্থ্য। এ ব্যবসা জনগণকে টানে জাহান্নামের পথে। এদের কারণেই নবীজী (সাঃ)র ইসলাম যাতে ছিল শরিয়ত, জিহাদ, মুসলিম ঐক্য ও ইসলামী রাষ্ট্র -তা কোন মুসলিম দেশেই বেঁচে নাই।মুসলিমগণ বাস করছে নবীজী (সাঃ)র ইসলাম ছাড়াই।  
৪.
ফ্যাসিস্টদের পরিচয় হলো,এরা ধোঁকা দিয়ে জনগণের ভোট নেয় সে ভোটের অধীকার কেড়ে নেয়ার জন্য। যারাই তাদের বিরুদ্ধে খাড়া হয় তাদেরকেই এরা নির্মূলে করে। এরা বিলুপ্ত করে ন্যায় বিচারকে। বাংলাদেশে এর উদাহরণ শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা। হিটলার একই পথে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল জার্মানিতে।  
৫.
ঘরে আগুণ লাগলে ঘুমিয়ে থাকায় প্রাণনাশ হয়। সেটি হয় দেশে আগুণ লাগাতেও। দুর্বৃত্ত-অধিকৃত মুসলিম দেশগুলি জ্বলছে। এমন সময়ে জিহাদ ফরজ।এ সময় ঘুমিয়ে থাকাটি হারাম। তাতে মৃত্যু ঘটে দুর্বৃত্তদের হাতে। সেটি শুধু দেহের মৃত্যু নয়, ঈমানের মৃত্যুও।
৬.
গর্বের কাজটি ভাষার নামে বা এলাকার নামে রাষ্ট্র গড়ার যুদ্ধ লড়া নয়। এরূপ কাজ বেঈমানও করতে পারে।ঈমানদারের কাজ নানা ভাষা ও নানা এলাকার মানুষ নিয়ে বিশ্বশক্তি গড়া।এটিই নবীজী ও তাঁর সাহাবাদের পথ। এ কাজের মাধ্যমেই পরকালে জান্নাত জুটে। এবং ইহলোকে জুটে ইজ্জত।
৭.
ভারত-প্রতিপালিত শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে ভারতের বা মায়ানমারের মজলুম মুসলমানদের জন্য কিছু করা অসম্ভব। ঘাড়ের উপর বিশাল বোঝা চাপানো থাকলে -সেটি করা যায় না। বোঝাটি নামাতে হয়। তাই কিছু ভারত, মায়ানমার ও কাশ্মিরের মজলুম মুসলিমদের জন্য কিছু করতে হলে প্রথমে এ ভোটডাকাত সরকারকে মাথা থেকে নামাতে হবে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির সরকার সেটি হতে দিতে  রাজি নয়। মোদির ন্যায় শেখ হাসিনাও মুসলিমদের দুষমন। মোদি গুজরাতে ও দিল্লিত মুসলিম হত্যা করছে। হাসিনা সেটি করছে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে। এবং সেটি গুম-খুনের রাজনীতির প্রয়োগ করে।
৮.
১৯৭১’য়ে বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভারতের যুদ্ধ করার মূল লক্ষ্যটি ছিল পূর্ব সীমান্তে পাকিস্তান ভেঙ্গে এক অনুগত বাঁদি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়া। শর্ত ছিল, ভারতে মুসলিম নিধন হলেও বাংলাদেশ সে প্রসঙ্গে নিশ্চুপ থাকবে। বরং ভারত সরকারকে সমর্থণ করবে। সেটি যেমন শেখ মুজিব করে গেছে। এখন সেটি শেখ হাসিনা ও তার অনুসারিগণ করছে।
ভারতে মুসলিম হত্যা হচ্ছে। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। নরেন্দ্র মোদি ও তার অনুসারিদের কাছে মুসলিম হওয়াটাই অপরাধ। হাসিনার কাজ হয়েছে মজলুম মুসলিমদের পাশে না দাঁড়িয়ে মোদিকে বাংলাদেশে এনে সন্মানিত করা।
৯.
ব্যক্তির জন্মই ইবাদতের জন্য। সে ইবাদত শুধু নামায-রোযা ও হজ্ব-যাকাতে শেষ হ্‌ওয়ার নয়। তাই শুধু নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাতে সে ইবাদত পালিত হয় না। তাতে জান্নাতও জুটে্ না। বরং মেধা, অর্থ, সময় এবং সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় হতে হবে মহান আল্লাহতায়ালার মাগফেরাত লাভে। এখানে কারো অংশীদারিত্ব থাকতে পারে না। মাগফেরাত লাভের বরকতেই জুটে জান্নাত। এমন পরকালমুখি ব্যক্তিরাই সব সময় নেক্কার হয়। এমন মানুষের সংখ্যা বাড়লে সমাজ-উন্নয়নে বিপ্লব আসে।
১০.

পশ্চিম  বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এক জনসভায় বলেছেন, দিল্লিতে নিহতদের লাশ লুকানো হয়েছে। মাত্র ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। অথচ ৭০০ জন নিখোঁজ।

১১.
ফ্যাসিবাদীদের চরিত্রটি মুনাফেকীর। জনগনকে ধোকা দিতে তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। তারা গণতান্ত্রিক বিধান থেকে ফায়দা নেয় মাত্র; কিন্তু ক্ষমতায় এসেই হত্যা করে গণতন্ত্রকে। সে কাজটি জার্মানীর হিটলার, ইটালির মুসোলিনি যেমন করেছে, তেমনি করেছে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী মুজিব ও হাসিনা। তারা মুখে জনগণের ভোটের কথা বলে বটে, কিন্তু ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে। দেশের পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য ও বিচারকদের পরিণত করে চাকর-বাকরে।
১২.
দাসদের উৎসব কখনোই মনিবদের ছাড়া হয় না। হাসিনার কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মর্যাদাটি তাই বিশাল। মোদি হাসিনার গদির পাহারাদার। মুজিবের শতবার্ষিকীতে মোদিকে দাওয়াত দিয়ে পুরস্কৃত করা এতো আয়োজন। হাসিনার কাছে অতি বেদনাদায়ক হবে যদি তার অতি আপনজন ও মনিব নরেন্দ্র মোদিকে মাঝে বসিয়ে পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর উৎসব করতে না পারে। কারণ আপনজন ছাড়া উৎসব হয় কীরূপে?
১৩.
যাদের ইতিহাস গুম,খুন, সন্ত্রাস, স্বৈরাচার, চুরি-ডাকাতি ও ভোটডাকাতির -তারা সে পাপ ঢাকতে বিপুল অর্থ খরচ করে জনগণের চোখে ঠুসি লাগায়। কারণ তাদের খায়েশটি শুধু ক্ষমতায় থাকা নিয়ে নয়, বরং ইতিহাসে বিশাল ভাবে বেঁচে থাকা নিয়েও। মুজিবের পাপ এবং বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে তার কৃত অপরাধটি বিশাল।তার শাসনামলটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়। সেটি যেমন গণতন্ত্র হত্যা, মানব হত্যা, সন্ত্রাস এবং দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির, তেমনি ভারত সেবার। মুজিব সুযোগ করে দেয় ভারত পরিচালিত সীমাহীন লুটের। ফলে সৃষ্টি হয় দুর্ভিক্ষের। মুজিব ভোট নেয় গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই জনগণের ভোটের অধীকার, দলগড়ার অধীকার এবং মতপ্রকাশের অধীকার কেড়ে নেয়। প্রতিষ্ঠা দেয় একদলীয় বাকশালী স্বৈর শাসন। নিজেকে আমৃত্যু প্রেসিডেন্ট রূপে দেশ শাসনের বিধি প্রণয়ন  করে। নিজের শাসন বাঁচাতে জনগণের উপর তার পেটুয়া রক্ষিবাহিনী দাবড়িয়ে দেয়। মানবতা বিরোধী এ অপরাধ তো বিশাল। এ অপরাধ ঢাকতেই হাসিনা নেমেছে বিশাল বিনিয়োগে এবং রাজস্ব দিয়ে সে ফজুল কাজে খরচ জোগাতে হচ্ছে খোদ জনগণকেই। মুজিব-শতবার্ষিকীর নামে ভোট ডাকাত হাসিনার লক্ষ্য হলো মুজিবের পাপ ধৌত  করে ইতিহাসে তাকে ফেরেশতা রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়া।
১৪.
নামায দিনে ৫ বার, কিন্ত জিহাদ প্রতি মুহুর্তে। সেটি যেমন নফসের বিরুদ্ধে তেমনি ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রুদের বিরুদ্ধে।নামাযে ক্বাজা আছে, কিন্তু জিহাদে তা নাই।

১৫.
ফরজ হলো, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ নিয়ে বাঁচা। মুসলিম হত্যার মধ্য দিয়ে ভারত প্রমাণ করছে দেশটি মুসলিমের শত্রু। পণ্য কিনলে শত্রুর শক্তি বাড়ে। ভারতের পণ্য কিনলে দেশটির শক্তি বাড়ে মুসলিম হত্যায়।সে শক্তি তখন ব্যবহৃত হয় ভারতে ও কাশ্মিরে মুসলিম হত্যার কাজে। তাই এ কাজ হারাম। পণ্য কিনলে মহাপাপ হয় মুসলিম হত্যায় ভারতকে সাহায্য করার। এজন্যই হারাম হলো ভারতের পণ্য কেনা।

১৬.
If fascists get power, they destroy the judiciary. In India, the judiciary now works as a servile tool of the ruling party. The judges now openly support the personality and politics of fascist Prime Minister Norendra Modi. Recently, the third senior-most judge of the Indian Supreme Court Arun Mishra highly praised Norendra Modi for his talent & foresight. But this judge couldn’t find any crime in his genocidal murder against Muslims. Such judges couldn’t find any crime in barbaric destruction of the historic Babri mosque; hence they could award the criminals who destroyed the mosque with the ownership of the mosque site.  7.03.2020

 




বিচিত্র প্রসঙ্গ-৩

১.
মুসলিমদের মাঝে ইসলাম থেকে দূরে সরার কাজটি সবচেয়ে ভয়ানক ভাবে হয়েছে সেক্যুলার রাজনীতির নামে। এবং সেটি বলবান হয়েছে ইউরোপীয় কাফেরদের হাতে মুসলিম দেশগুলো অধিকৃত হওয়ার কারণে। সেক্যুলার রাজনীতি হলো মহান আল্লাহতায়ালার সাথে  চরমতম গাদ্দারি। সে সাথে পরমতম বিদ্রোহও। তাই এটি শতকরা শতভাগ কুফরি তথা কাফেরদের কাজ। যার মধ্যে সামান্যতম ঈমান আছে, সে কখনোই সেক্যুলার হতে পারেনা। নবী-রাসূলগণ সেক্যুলার ছিলেন না। কোন সাহাবীও সেক্যুলার ছিলেন না। তাই যারা নবী-রাসূলদের প্রকৃত অনুসারি তারা কখনোই সেক্যুলার হতে পারে না। এ কাজ তো তাদের যারা কোর’আন হাদীস ও নবী-রাসূলদের বাদ দিয়ে কাফেরদের অনুসরণ করে। ফলে তাদের একাজটি অতি পছন্দের হলো শয়তানের কাছে। 

সেক্যুলার রাজনীতি কেন হারাম -তার ব্যাখ্যা দেয়া যাক। পবিত্র কোর’আনে মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণাটি হলোঃ “ওয়া মা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসানা ইল্লা লি ইয়াবুদুন।”। অর্থঃ “এবং মানুষ ও জিনদের আমি এছাড়া অন্য কোন কারণে সৃষ্টি করেনি যে তারা নিশ্চয়ই আমার ইবাদত করবে্।” এর অর্থ হলো, ইবাদতের বাইরে মানব জীবনের কোন কর্ম বা মুহুর্তই থাকতে পারে না। ইবাদতের অর্থ হলো মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিটি হুকুমের দাসত্ব।  যেখানে সে দাসত্বের বদলে বিদ্রোহ -সেটিই কুফরি। ইবাদতের সে দায়িত্বটি প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাযের মাঝে মাত্র এক ঘন্টা বা দুই ঘন্টা কাটিয়ে পালিত  হতে পারে না। সীমিত হতে পারে না রমযানের রোযা, যাকাত বা হজ্বের মাঝে। বরং সেটি হতে হবে জীবনের প্রতিক্ষণ এবং প্রতি কাজ-কর্মের প্রতি অঙ্গণে।  সেটি কর্মে শরিয়ত ও হালাল-হারাম মানার মধ্যে। তাই রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসনিক কাজকর্ম, বিচার-আচার, শিক্ষাদান ও শিক্ষালাভের ন্যায় জীবনের প্রতিক্ষেত্রে এবং প্রতিটি কর্মে ঈমানদারের উপর বাধ্যতামূলক হলো সে মেনে চলবে একমাত্র আল্লাহর বিধান।

সেক্যুলারিজম শতকরা হারাম এজন্য যে, এটি ইবাদত নিষিদ্ধ করে রাজনীতি, বিচার-আচার, প্রশাসন, শিক্ষা সংস্কৃতি ও যুদ্ধ-বিগ্রহে। সেটি করে রাষ্ট্রের বুকে আল্লাহতায়ালার দেয়া শরিয়তি বিধান ও জিহাদ পালনকে নিষিদ্ধ করে। তাই কে কাফের ও কে ঈমানদার এবং কে ইসলামে শত্রু বা মিত্র –সে বিচারের জন্য তার ঘরে মুর্তি আছে কিনা বা সে মুর্তিপূজা করে কিনা -তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন নাই। সে বিষয়টি অতি সঠিক ভাবে সনাক্ত করা যায় তার সেক্যুলার রাজনীতি দেখে। ইবাদতের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় আল্লাহতায়ালার হুকুম পালনে লাগাতর অঙ্গিকারবদ্ধতা। আর সেক্যুলারিজমের মধ্যে প্রকাশ পায় ইবাদতে অঙ্গিকারহীনতা।
২.
শরিয়তের প্রতিষ্ঠা নিয়ে যার মধ্যে ভাবনা নাই এবং প্রচেষ্টা ও তাড়াহুড়াও নাই -সে ব্যক্তি নামাযী, রোযাদার, হুজুর, আলেম, মসজিদের ইমাম বা মাদ্রাসার শিক্ষক হতে পারে। কিন্তু সে যে সত্যিকার ঈমানদার নয় এবং তার মধ্যে যে পরকালের ভয়ও নাই -সেটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। এমন ব্যক্তি ঈমানের বিশাল দাবীদারও হতে পারে। কিন্তু তার দাবী যে কুফরি, মুনাফিকি, ফুসুকি ছাড়া অন্য কিছু নয় –সে ঘোষণাটি দিয়েছেন অন্য কেউ নয়, খোদ মহান আল্লাহতায়ালা। সেটি সুরা মায়েদের ৪৪, ৪৫ এবং ৪৭ নম্বর আয়াতে।
৩.

যার মধ্যে পবিত্র কোর’আনের  জ্ঞানলাভ ও জ্ঞানদান এবং ইসলামের বিজয় সাধনে নিজ অর্থ, শ্রম, সময় ও সামর্থ্যের বিনিয়োগ নাই -সে যতই নামায-রোযা-হজ করুক না কেন, বুঝতে হবে সে ইসলাম বুঝেনি।
৪.

ভারতে মুসলিম গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডন্ট রজব তাইয়েব আরদোগান। ভারতের বিরুদ্ধে শুধু নিন্দা নয়, বিশ্বশক্তি গুলিকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নরেন্দ্র মোদির পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে নিহত হচছে। জ্বলছে তাদের গৃহ ও দোকান।তাদের সে বেদনা হাসিনার কাছে কোন বিষয়ই নয়। হাসিনার কাছে সেটি ভারতীয় নিজস্ব বিষয়। অথচ প্রতিবেশীর ঘরে খুন-ধর্ষণ হলে সেটি সে ঘরের নিজস্ব বিষয় থাকে না। প্রতিবেশীগণও সে অপরাধ থামাতে উদ্যোগী হয়। অন্যরা তো সে বিবেকবোধ নিয়েই ভারত সরকারের নিন্দা করছে। অথচ হাসিনার নিরবতা প্রমাণ করছে সে কতটা মানবতাশূণ্য।

শুধু তাই নয়। বাংলাদেশের ভোটডাকাত ও শাপলা চত্ত্বরের খুনি শেখ হাসিনা গুজরাত ও দিল্লির খুনি নরেন্দ্র মোদিকে মুজিবের জন্ম শতবার্ষকীতে দাওয়াত দিয়েছে। খুনি আরেক খুনিকে আপন করে নিবে সেটিই স্বাভাবিক নয়?  ৩/৩/২০২০ তারিখের খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার মোদিকে সন্মান দিতে দেশের সর্বোচ্চ পদকও দিবে। দাস ও চাকর-বাকরগণ মনিবকে শুধু ভক্তিই দেখাতে পারে। মনিবের ঘরে ধর্ষণ বা খুনের ঘটনা ঘটলেও তার বিরুদ্ধে নিন্দার সাহস তাদের থাকে না। শেখ হাসিনার সরকার সেটিই প্রমাণ করে চলেছে।
৫.
মুসলিম সমাজে দ্বীন শব্দের অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তিটিও কি কম? দ্বীন শব্দটি পবিত্র কোর’আনের নিজস্ব পরিভাষা। জীবনের নানা অঙ্গণে পথ চলায় প্রতিটি নর ও নারী রোডম্যাপ তথা পথ নির্দের্শনা চায়। দ্বীন হলো মহান আল্লাহর দেয়া সে রোডম্যাপ। অনেকে দ্বীন বলতে বুঝে ধর্ম। সে অর্থে হিন্দু ধর্মও একটি ধর্ম। কিন্তু  হিন্দু ধর্ম রাজনীতি, যু্দ্ধ-বিগ্রহ, প্রশাসন, ইবাদত-বন্দেগী, বিচার-আচার, হারাম-হালাল, মৃতের সম্পদের বন্টনের ন্যায় শত শত বিষয়ে পথ দেখায় না। অথচ ইসলাম দেখায়। ফলে ইসলাম দ্বীন বলতে যা বুঝায় হিন্দু ধর্ম তা বুঝায় না। ফলে যে অর্থে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন -সে অর্থে হিন্দু ধর্ম কোন দ্বীনই নয়।

পবিত্র কোর’আনে মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণাঃ “ইন্নাদ্বিনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম”। অর্থঃ আল্লাহতায়ালার কাছে গৃহিত একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। “আল ইয়াওমা আকমালতু দ্বীনাকুম” (অর্থঃ আজ পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম তোমাদের দ্বীনকে) –পবিত্র কোর’আনে এ কথা বলে মহান আল্লাহতায়ালা জানিয়ে দিলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। তাই কোর’আনী রোডম্যাপ পথ দেখায় মহান আল্লাহতায়ালার পূর্ণাঙ্গ দাসত্বের। এর নিগূঢ় অর্থটি হলো, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন-প্রণয়নসহ অন্য কোন ক্ষেত্রে কাফেরদের বিধান অনুসরণ করা হারাম। সেটি করলে পরম অবাধ্যতা ও অবজ্ঞা হয় মহান আল্লাহ-প্রদত্ত দ্বীনের তথা ইসলামী বিধানের। নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাত যেমন দ্বীনের অংশ তেমনি সে রোডম্যাপের অবিচ্ছেদ্দ অংশ হলো শরিয়তি বিধান। লক্ষণীয় হলো, সুরা ইউসুফের ৭৬ নম্বর আয়াতে দ্বীন ব্যবহৃত হয়েছে রাষ্ট্র্রের আইনী বিধান বুঝাতে। তাই প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রের বুকে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা না দিয়ে কি কখনো দ্বীন পালন তথা ইসলাম পালন হয়? অথচ বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোতে তো সেটিই হচ্ছে্। আর এভাবেই প্রচণ্ড অবাধ্যতা হচ্ছে মহান আল্লাহতায়ালার।   

৬.
মহান আল্লাহতায়ালার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ২টি নেক আমল হলোঃ ১.কোর’আন থেকে শিক্ষালাভ ও শিক্ষাদান, ২. আল্লাহর পথে জিহাদ। শিক্ষালাভ ও শিক্ষাদানের ন্যায় নেক আমলের লাগাতর মাধ্যম হতে পারে ফেসবুক ও অন্যান্য সোসাল মিডিয়া।
৭.

The Indian Hindus are proud of their own merit, heritage and achievement. They consider the Muslim rule in India a great disgrace. But while US President Donald Trump came to visit India, they couldn’t take him & his wife to show any Hindu icon of excellence in the whole India. They took Trump to show Taj Mahal. Jogi Adithyanath -the Hindutva Chief Minister of Uttar Pradesh presented President Trump a picture of Taj Mahal –the most beautiful human construction in the whole world. The Hindutva elements in India should feel shame for it.
8.

পবিত্র কোর’আনের মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণা: “ইন্নামাল মু’মিনুনা ইখওয়াতুন”। অর্থঃ মুসলিমদের একমাত্র পরিচয়, তারা পরস্পরে ভাই। ঈমানদারকে তাই শুধু নামায-রোযা নিয়ে বাঁচলে চলে না, মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া পরিচয়টি নিয়েও বাঁচাও ফরজ। প্রশ্ন হলো, ভাইয়ের অবস্থান যতই দূরের দেশে হোক না কেন -তার বেদনা হৃদয়ে অনুভব না করলে তাকে কি ভাই বলা যায়? তাতে কি ঈমানদারির প্রকাশ ঘটে? মাওলানা আবুল কালাম আযাদ তাই বলকান যুদ্ধকালে লিখেছিলেনঃ “কোন তুর্কী সৈনিকের পা যদি গুলি বিদ্ধ হয়, আর তুমি যদি সে গুলির ব্যাথা হৃদয়ে অনুভব না করো তবে খোদার কসম তুমি মুসলিম নয়।” তাই যে ভারতীয় মুসলিমগণ হিন্দুদের হাতে নিহত ও ধর্ষিতা হচ্ছে -তাদের বেদনা প্রতিটি ঈমানদার হৃদয়ে অনুভব করবে সেটিই তো ঈমানের লক্ষণ। অথচ হাসিনার হৃদয়ে সে বেদনার লেশ মাত্র নাই। বরং সে পক্ষ নিয়েছে মোদির ন্যায় অপরাধীর। তার ভাতৃত্ব খুনিদের সাথে। এমন ব্যক্তিকে শাসক রূপে মেনে নেয়াও কি কম গুনাহ?
৯.
ফ্যাসিবাদীরা কখনোই জনগণের বন্ধু হয় না। তারা সহযোগী দুর্বৃত্ত ফ্যাসিবাদী খোঁজে। সিরিয়ার খুনি, বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী প্রেসিডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাই ভারতের বন্ধু নয়, তার বন্ধু খুনি ও ফ্যাসিবাদী নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদিও তেমনি বাংলাদেশীদের বন্ধু নয়। সে বন্ধু ফ্যাসিবাদী ও শাপলা চত্ত্বরের খুনি শেখ হাসিনার।
১০.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ব্যর্থতা হলো এটি এ পার্থিব জীবনে বাঁচার জন্য কিছু ভাষা জ্ঞান ও পেশাদারি জ্ঞান দেয়। কিন্তু কেন বাঁচতে হবে সে মৌলিক জ্ঞানটি দেয় না। ফলে অজ্ঞতা থেকে যায় জীবনের মূল লক্ষ্য ও দর্শন নিয়ে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে ধর্ষক, খুনি, সন্ত্রাসী ও ঘুষখোর হয় এবং ভোট ডাকাতি ও গুম-খুনের রাজনীতির নেতা-কর্মী হয়।

১১.
মুসলিমেরা পরস্পরে বিচ্ছন্ন হতে রক্তাত্ব যুদ্ধ করতে রাজী। প্রাণ দিতেও রাজী। মুসলিম বিশ্বে ৫৭ দেশের বিভক্ত মানচিত্র নির্মিত হয়েছে তো এ পথ ধরেই। কিন্তু একতার পক্ষে কথা বলতেও রাজি নয়। ফলে বিভক্তির পথে চলায় কোর’আনে বর্ণিত যে প্রতিশ্রুত আযাব সেটিই তাদের ঘিরে ধরেছে।

 

১২.
মুসলিম দেশগুলিতে এমন লোকের অভাব নাই যারা নিজ দল, দলের নেতা, হুজুর, পীরের জন্য জীবন দিয়ে যুদ্ধ করতে রাজী। যুদ্ধ করতে রাজী নিজ ভাষা, গোত্র ও দেশের জন্যও। অভাব হলো আল্লাহর রাস্তায় তথা ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করবে এমন লোকের্। ফলে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়লেও ইসলাম পরাজিতই থেকে যাচ্ছে।
১৩.
ভারতে সরকারের অনুমতি ছাড়া কখনোই সে দেশে দাঙ্গা হয় না। হিন্দুগণ মুসলিম গণহত্যার দাঙ্গা শুরু করলে সরকারের কাজ হয় পুলিশকে পুরাপুরি নিষ্ক্রীয় রাখা। এবার দিল্লিতে আহত মুসলিমদের হাসপাতালে নিতে এ্যামবুলেন্সও দিতে দেরি করা হয়েছে। দিল্লী হাইকোর্টের এক বিচারপতি এস. মুরলিধরকে এ অপরাধে রাতারাতি বদলি করা হলো, তিনি পুলিশ নির্দেশ দিয়েছিলেন দাঙ্গায় উস্কানিদাতা শাসকদলের নেতাদের গ্রেফতারের। গুজরাতে যেসব পুলিশ অফিসার দাঙ্গা রুখতে তৎপর হয়েছিল তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছিল।
১৪.
আর.এস.এসের ক্যাডারগণ নিয়মিত ট্রেনিং নেয় মুসলিম হত্যার। মাঝে মাঝে দাঙ্গা বাধিয়ে তার প্রয়োগ করে। কয়েকদিন ধরে দিল্লির মুসলিমদের উপর তাদের পক্ষ থেকে সেটিরই বীভৎসতা দেখা গেল।
১৫.
সকল প্রতিবেশী দেশগুলির মাঝে একমাত্র বাংলাদেশই ভারতের বন্ধুদেশ। নীতির জন্য এমন কি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেপালও ভারতকে ঘৃণা করে। ভারতীয় মুসলিমদের পাশে যেভাবে পাকিস্তান খাড়া হয়েছে সেভাবে বাংলাদেশ খাড়া হলে ভারতের মুসলিমদের এতো নৃশংস খুনের মুখে পড়তে হতো না।3/3/2020




দিল্লিতে সরকারি উদ্যোগে মুসলিম গণহত্যা

প্রকল্পটি সরকারি ও পরিকল্পিত

নরেন্দ্র মোদি সরকারের ন্যাশনাল রেজিষ্টার অব সিটিজেন (এন.আর.সি.) এবং সিটিজেনশিপ এ্যামেন্ডমেন্ট এ্যাক্ট (সি.এ. এ.)’য়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে প্রায় দুইমাস যাবত। থামবার নাম নিচ্ছে না। সেটি শুরু হয়েছিল দিল্লির শাহিন বাগে মুসলিম নারী-পুরুষদের দিনরাত অবস্থান ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে। প্রতিবাদের সে মডেল ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। একই রূপ মডেলের অবস্থান ধর্মঘট চলছে কলকাতার পার্ক সার্কাসেও। শুরু হয়েছে ভারতের অন্যান্য বড় বড় শহরে। আন্দোলনকারিদের ঘোষণা, সি.এ. এ. এবং এন.আর.সি এ বাতিল না করা পর্যন্ত  এ আন্দোলন তারা চালিয়ে যাবে। তাদের কথা, এটি তাদের নিজ জন্মভূমিত বাঁচা-মরার অধিকার আদায়ের লড়াই। আন্দোলন থামলে বিপন্ন হবে তাদের নাগরিক অধিকার। আন্দোলনের ফলে পশ্চিম বাংলা, পাঞ্জাব, বিহার, কেরালা, তামিল নাড়ুসহ বেশ কিছু প্রদেশের সংসদ এ মর্মে প্রস্তাব পাশ করেছে যে তারা এ আইন বাস্তবায়ন করবে না। এ আন্দোলন কি করে থামানো যায় সেটিই হলো নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় বিজিপি সরকারের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যাথা। শাহিন বাগে যখন ধর্না চলছে তখনই শুরু হয় দিল্লির প্রাদেশিক সংসদের নির্বাচন। বিজিপি নির্বাচন লড়ে শাহিন বাগের ধর্না নির্মূলের এজেন্ডা দিয়ে। কিন্তু নির্বাচনে বিজিপি’র ভরা ডুবি ঘটে। নির্বাচনে জিতলে ধর্না নির্মূলে পুলিশ নামানোর পক্ষে যুক্তি পেশ করতো। সে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় মোদি রাস্তায় দলীয় গুন্ডা নামিয়েছে এবং শুরু করেছে নির্মম গণহত্যা এবং মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন দেয়ার কাজ। এটি যে  মোদি সরকারের নিজ হাতের কাজ -সে যুক্তিতেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলেছে।   

অপরদিকে সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার অপপ্রচারটিও লক্ষ্যণীয়। এরা সরকারি দলের গুন্ডাদের একতরফা মুসলিম নির্মূলের হত্যাকান্ডকে এন.আর.সি’র পক্ষ ও বিপক্ষের মাঝে সংঘাতের পরিণতি বলে চিত্রিত করছে। অথচ মুসলিম প্রতিবাদকারিগণ দুইমাস যাবত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছে কারো উপর কোন রূপ হামলা না করেই। বরং বার বার হামলা হয়েছে তাদের উপরই। কখনো সেটি পুলিশের পক্ষ থেকে, কখনো বা হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য হলো, মুসলিমদের দুর্বল ও নির্মূলের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সাল থেকে মুসলিম মহল্লার উপর হিন্দুদের পক্ষ থেকে বহু হাজার হামলা হয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় হলো, হামলাকারিদের গুরুতর অপরাধকে লঘু করার দায়িত্ব নিয়েছে মিডিয়া। এবং সেটি করছে এক পক্ষের নিরেট হামলাকে দুই পক্ষের দাঙ্গা রূপে জাহির করে।

মুসলিমদের উপর এরূপ হামলার হেতু বুঝতে হলে শাসকদল বিজেপি’র জন্ম কাহিনী, দর্শন ও নীতি বুঝতে হবে। বিজিপি কোন স্বয়ংসৃষ্ট রাজনৈতিক দল নয়। এটি মূলতঃ ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ (আর.এস.এস)’য়ের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। আর.এস.এস’য়ের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে মারাঠীদের রাজ্য মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে।  এর প্রতিষ্ঠাতা হলো, উগ্র হিন্দুত্ববাদী মারাঠী হেডগিয়ার। হেডগিয়ারের মগজে ছিল প্রচণ্ড মুসলিম ভীতি। তার ধারণা ছিল, ব্রিটিশের দিন ঘনিয়ে এসেছে। তাদের চলে যাওয়ার পর ভারত জুড়ে অস্তিত্বের মূল লড়াইটি হবে মুসলিমদের সাথে। সংখ্যা লঘু হয়েও ভারতে ৬ শত বছরেরও অধীক কাল মুসলিম শাসন তাদের সে ভয়কে আরো তীব্রতর করেছে। বস্তুতঃ মুসলিম নির্মূলের সে লড়াইয়ে মানসিক ও সামরিক দিক দিয়ে হিন্দুদের সদা প্রস্তুত রাখাই হলো আর.এস.এস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য। ফলে শুরু থেকেই আর.এস.এস গড়ে উঠেছে একটি উগ্র জঙ্গি সংগঠন রূপে। ভারত জুড়ে মুসলিমদর উপর উপর্যপরি হামলা হলো সে জঙ্গি চেতনারই প্রকাশ। দিল্লিতে সেটিই সম্প্রতি দেখা গেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ আজকের শত শত বিজিপি নেতাকর্মীগণ হলো মূলতঃ  সে জঙ্গি চেতনা নিয়ে বেড়ে উঠা  আর.এস.এস’এর ফসল।

 

লক্ষ্য হিন্দু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা

নরেন্দ মোদি ও অমিত শাহের ন্যায় আর.এস.এস নেতাকর্মীদের মুসলিম বিরোধী হিংস্র রূপটি অতীতে বার বার ধরা পড়ছে মুসলিম নির্মূলের নৃশংস গণহত্যা গুলিতে। সেটি যেমন ১৯৯২ সালে মোম্বাইতে, তেমনি ২০০২ সালে গুজরাতে, ২০১৩ সালে মোজাফ্ফর নগরে এবং ২০২০ সালে দিল্লিতে। সাভারকার আর.এস.এসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগিয়ারের বুদ্ধিবৃত্তিক গুরু। সাভারকার নিজে হিন্দুত্বের মূল শিক্ষাটি পেয়েছিল বাঙালী সাম্প্রদায়িক সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চ্যাটার্জি থেকে। বঙ্কিমচন্দ্র চ্যাটার্জি তার আনন্দমঠ উপন্যাসে হিন্দুত্ব শব্দটির প্রথম প্রয়োগ করেন। আনন্দমঠের কবিতার একটি প্যারা থেকেই ভারতের জাতীয় সঙ্গিতের উদ্ভব। তখন কলকাতা ছিল হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মূল উৎস। শুধু বঙ্কিম চ্যাটার্জি নয়, হিন্দু মহাসভার সভাপতি ও বিজিপির পৈতিক সংগঠন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিও কলকাতার।   উল্লেখ্য হলো, সে কলকাতাতেই বেশ কিছু বছর কেটেছিল হেডগিয়ারের। সেটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে লেখাপড়া করার লক্ষ্যে।  

সাভারকার ও হেডগিয়ার –এ দুই জনই ভারতে মুসলিমদের হিন্দুদের সমান নাগরিক রূপে গ্রহণ করার বিপক্ষে। ১৯৪০’য়ে আর.এস.এস’য়ের সভাপতি হয় গোলওয়ালকার। ভারতে তখন ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন।গোলওয়ালকারের যুক্তি ছিল, হিন্দুদের মূল দুষমন ইংরেজগণ নয়, সেটি ভারতবাসী মুসলিম। এমন একটি চেতনার কারণেই আর.এস.এস. কখনোই ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেয়নি, বরং সুযোগ নিয়েছে ইংরেজদের ছত্রছায়ায় শক্তি বৃদ্ধির। তাদের সে চরিত্র সুস্পষ্ট ধরা পড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালে। তখন গোলওয়ালকার ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় হিন্দুদের ভর্তির কাজে লেগে যায়।

১৯৪৮ সালে নাথুরাম গডসে নামক এক আর.এস.এস কর্মী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলেনর প্রধান হিন্দু নেতা গান্ধিকে হত্যা করে। নাথুরাম গডসে মনে করতো, গান্ধির কারণেই পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে। সে ধারণাটি অধিকাংশ আর.এস.এস কর্মীর। আর.এস.এস’য়ের উদ্দেশ্য, ভারতকে একটি হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করা। তাদের ধারণা, সে কাজে বাধাটি শুধু মুসলিমগণ নয়। বাধা গান্ধি ও তাঁর অনুসারিগণও। শুরুতে এ দলের নেতাকর্মীগণ ভারতীয় সংবিধানকেও মেনে নিতে অস্বীকার করে। কারণ সংবিধান রচনায় হাত ছিল দলিত নেতা ভিম অম্বিদকারের। তাতে রয়েছে,  ধর্মনিরপেক্ষিতা এবং সকল ধর্মমতের মানুষের সম-অধিকারের কথা। তাদের বিরোধ ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়েও। এবং সে বিরোধের কারণেই ১৯৪৭ সাল থেকে ২০০২ সাল অবধি ৫২ বছর আর.এস.এস তার কেন্দ্রীয় অফিসে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি। তাদের দাবী, ভারতের পতাকাটি হবে গৈরিক।

সংগঠন রূপে আর.এস.এস’এর বিস্তৃতি সমগ্র ভারত জুড়ে। ২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী আর.এস.এস’য়ের শাখার সংখ্যা ৮৪,৮৭৭। সন্ত্রাসী কর্মের জন্য এ অবধি আর.এস.এস ৪ বার নিষিদ্ধ হয়েছে; সেটি  ১৯৪৭, ১৯৪৮, ১৯৭৫ এবং ১৯৯২ সালে। ১৯৪৮ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল গান্ধিকে হত্যার কারণে এবং ১৯৯২ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার অপরাধে। আর এস এসের মূল এজেন্ডা যে ভারত থেকে মুসলিম নির্মূল -সেটি প্রকাশ পায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার শুরুতেই। আর.এস.এস’য়ের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে। প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মাথায় এর জন্মস্থান নাগপুর থেকে মুসলিম নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যাকান্ড শুরু করে। হামলার তিন দিনের মুখে সকল মুসলিমকে নাগপুর ছাড়তে বাধ্য হয়। ইংরেজ শাসকগণ তাতে বাধা দেয়নি। মুসলিম নির্মূলে নামে কাশ্মিরেও। শ্রীনগরের ন্যায় কাশ্মিরের জম্মু এলাকাটিও ছিল মুসলিম সংখ্যাগুরু। কিন্তু কাশ্মিরের শেষ হিন্দু ডোগরা রাজা তার শাসনের শেষ দিনগুলিতে এ স্ট্রাটেজিক এলাকাটিকে মুসলিম শূণ্য করতে সেনা বাহিনী নিয়োগ করে। সে কাজে সহায়তা দিতে ডাক পড়ে আর এস এস’এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গুণ্ডাদের। তখন সেখানে হাজির হয় ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত আর.এস.এস কর্মী। ১৯৪৮ সালে মুসলিম নিধন শুরু হয় নিজাম শাসিত হায়দারাবাদে। সে কাজেও ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে আর.এস.এস।

 

গণহত্যার গুজরাতি মডেল

মুসলিম নির্মূলের কাজটি আর এস এস তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বার বার করেছে ক্ষমতার বাইরে থেকে।  সে কাজটি অতি সহজ হয় বিজিপির হাতে ক্ষমতায় আসার পর। নাথুরাম গডসে মাত্র একজন ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। কিন্তু তার সতীর্থ আর এস এস ক্যাডার নরেন্দ্র মোদি হত্যা করেছে বহু হাজার মানুষকে। কারণ, মোদি সে হত্যাকান্ডে সমগ্র রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও প্রশাসন থেকে সাহায্য পেয়েছে। নাথুরাম গডসে সে সহায়তা পায়নি। নরেন্দ্র মোদি মুসলিম হত্যার যে প্রকল্পটি দিল্লিতে প্রয়োগ করলো সেটি মূলতঃ তার নিজ হাতে রচিত গুজরাতি মডেল। সে মডেলটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, মুসলিম হত্যা, মুসলিম নারী ধর্ষন এবং তাদের ঘরাবাড়ি ও দোকানপাটে আগুণ দেয়ার কাজে আর এস এস গুণ্ডাদের নামানো। এবং সে কাজে পূর্ণ সুযোগ দিতে পুলিশ ও সরকারি প্রশাসনকে পুরাপুরি নিষ্ক্রীয় রাখা। ফলে যে নৃশংসতা ২০০২ সালে গুজরাতে দেখা গিয়েছিল সেটিই দিল্লিতে ঘটলো।

সভ্য দেশে কোন গৃহে ডাকাত বা খুনিদের হামলার সংবাদ পেলে ৫/১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ হাজির হয়। ডাকাত বা খুনিরা যাতে পালাতে না পারে সে জন্য পুরা এলাকা ঘিরে ফেরা হয়। জনগণ সে নিরাপত্তাটুকু পেতেই পুলিশ পালতে রাজস্ব দেয়। কিন্তু পুলিশের সেরূপ সভ্য কর্ম যেমন গুজরাতে হতে দেয়া হয়নি, তেমনি দিল্লিতেও হয়নি। ফলে গুজরাতে পুলিশের অনুপস্থিতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে খুনি ও গুন্ডারা ইচ্ছামত মুসলিমদের হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন দিয়েছে। পুলিশ বাধা দেয়নি। সে পুলিশ নিষ্ক্রীয়তার নজির বহু। একটি দৃষ্টান্ত দেয়া যাক। গুজরাতে একজন মুসলিম নেতা ছিলন এহসান জাফরি। তিনি কংগ্রেস দলের স্থানীয় এমপিও ছিলেন। তার ঘরে অআশ্রয় নিয়েছিল প্রায় তিন শত মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশু। জনাব জাফরি মোদির কাছে পুলিশ সাহায্য চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পুলিশের নিরাপত্ত পাননি। তিনি গৃহের বাইরে এসে হামলাকারীদের বলেন, তোমরা সাথে  যা ইচ্ছা করো তবে অআমার গৃহে যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের হত্যা করো না।” কিন্তু গুন্ডাগণ জনাব জাফরি হাতপা কেটে আগুনে জ্বালিয়েছে। এবং যারা তার গৃহে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের অধিকাংশকেও হত্যা করেছে। যেসব পুলিশ অফিসার সে বীভৎস অপরাধকর্ম থামানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে মোদি সরকার তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ অন্যত্র বদলী করেছে।       

 

পুলিশের যে নিষ্ক্রিয়তা দিল্লিতে

দিল্লিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিররণ দিয়েছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। পত্রিকাটি ২৯/২/২০২০ তারিখে ছাপে, “দিল্লিতে চার দিনব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের কাছে ১৩ হাজার ২০০টি ফোন গিয়েছিল। কোথাও গুলি চলছে, কোথাও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ আসছিল। তা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফোনে বার বার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।” ফলে গুণ্ডাদের হাতে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা হত্যাকান্ডে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শত শত –যাদের মাঝে অনেকেই এখনো মৃত্যুর সাথে লড়ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা যে আরো বাড়বে সে সম্ভাবনাই অধীক। সে সাথে পেট্রোল ঢেলে শত শত ঘরবাড়ি ও দোকানপাটও জ্বালানো হয়েছে।

২৯/২/২০২০ তারিখে আনন্দবাজারের আরো রিপোর্টঃ “পুলিশ কন্ট্রোল রুমের কল লগ খতিয়ে দেখা গিয়েছে, ২৩ তারিখ, রবিবার বিক্ষোভের প্রথম দিন সন্ধ্যাতেই ৭০০ ফোন গিয়েছিল পুলিশের কাছে। ২৪ তারিখে একধাক্কায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০০। ২৫ ফেব্রুয়ারি ৭ হাজার ৫০০ ফোন পায় পুলিশ। তার পর দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫০০টি ফোন পায় পুলিশ। শুধুমাত্র যমুনা বিহার থেকেই ভজনপুরা থানায় ২৪-২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার ফোন এসেছিল বলে জানিয়েছে ওই সংবাদমাধ্যম। ভজনপুরা থানার আট পাতার কল রেজিস্টার খতিয়ে দেখে তারা জানিয়েছে, কোন নম্বর থেকে ফোন আসছে, কী অভিযোগ এবং তার প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার জন্য রেজিস্টারের পাতায় আলাদা আলাদা কলাম থাকলেও, শুধুমাত্র কোথা থেকে ফোন এসেছিল, কী অভিযোগ তা-ই লেখা রয়েছে। এমনকি গুলি চলা এবং আগুন লাগানোর অভিযোগও লেখা রয়েছে তাতে। কিন্তু অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার উল্লেখ নেই সে ভাবে। অর্থাৎ অভিযোগ পেয়েও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।”

 

নৃশংস সন্ত্রাসে পুলিশ

মুসলিম বিরোধী সন্ত্রাসের কাজটি শুধু বিজিপি ও আর.এস.এসের দলীয় গুন্ডাদের কাজই নয়, সে নৃশংস কাজে নামে খোদ পুলিশকেও। সে ঘটনা যেমন পূর্বেও বহুবার দেখা গেছে, তেমনি এবারও দেখা গেল রাজধানী শহর দিল্লিতে। আহত ও আধমরা মুসলিমদের হাসপাতাল না নিয়ে পুলিশ তাদের মাথায় আঘাত দিয়েছে এবং জয় শ্রীরাম ও বন্দে মাতরম গাইতে চাপ দিয়েছে। এমন কি ঘটনাস্থলে এ্যামবুলেন্সও পৌঁছতে দেয়নি। তারা যেন আহতদের মৃত্যুই কামনা করছিল। এ প্রসঙ্গে আনন্দবাজারের ২৯/২/২০২০ তারিখের রিপোর্টঃ “সাম্প্রদায়িক হিংসা চলাকালীনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল ভিডিয়োটি। তাতে আধমরা অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা পাঁচ যুবকের উপর নৃশংস অত্যাচার চালাতে দেখা গিয়েছিল পুলিশকে। জোর করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানো হচ্ছিল তাঁদের দিয়ে। না গাইলে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় মাথাও ঠুকে দেওয়া হচ্ছিল। জানতে চাওয়া হচ্ছিল, ‘‘আর আজাদি চাই!’’ নৃশংস অত্যাচারের শিকার সেই পাঁচ যুবকের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই যুবককে ফয়জান (২৪) বলে শনাক্ত করা গিয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক কিশোর সিংহ বলেন, ‘‘মঙ্গলবার নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ওই যুবককে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ওঁর শরীরে গুলি লাগে। অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। ভিডিয়োতে ফুটপাতের পাশে নীল জামা পরা এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তিনিই ফয়জান বলে জানা গিয়েছে।’’

 

“নাগরিকত্ব চাই? দিচ্ছি, দাঁড়া!”

২৯/২/২০২০ তারিখে আনন্দ বাজার আরো রিপোর্ট করেছে, “মৌজপুরে মহম্মদ ইব্রাহিমের বাড়ির গেট ভেঙে ঢুকে এক দল লোক যখন পেট্রল ছড়াচ্ছে, তাদের মুখে একটাই শাসানি। বিএসএফ জওয়ান মহম্মদ আনিসের বাড়িতে তাণ্ডব শুরুর সময় একই সুরে গালিগালাজ— ‘ইধার আ পাকিস্তানি! তুঝে নাগরিকতা দেতে হ্যায়।’ প্রথমে বাড়ির বাইরে গাড়িতে আগুন লাগানো হয়, তার পরে আনিসের বাড়িতে ঢুকে গ্যাস সিলিন্ডার খুলে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা, ২০০২ সালে গুজরাতের মতোই। বাবা, কাকা, খুড়তুতো বোনকে নিয়ে কোনও ক্রমে পালান আনিস। তাঁর আর বোনের বিয়ের জন্য টাকা, গয়না রাখা ছিল বাড়িতেই। সব পুড়ে ছাই। মৌজপুর-বাবরপুর চক থেকে বাঁ দিকে বাঁক নিলেই সারি সারি দোকানের ধ্বংসস্তূপ কালো ছাই মেখে দাঁড়িয়ে। দোকানের সামনে আবিদ হুসেন বলছিলেন, ‘‘আগুন লাগানোর সময় বাধা দিয়ে বললাম, কী দোষ করেছি? মারতে মারতে বলল, তোদের বড্ড বাড় বেড়েছে। গোটা দেশকে শাহিন বাগ বানাতে চাইছিস!’’ মঙ্গলবার রাতে ভজনপুরায় পাঁচ যুবককে রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়। কারখানার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের এক জন, বছর কুড়ির হাবিবের মাথায় ব্যান্ডেজ। মুখ ফেটেছে। হাবিব বলেন, ‘‘উইকেট দিয়ে পেটাচ্ছিল আর বলছিল, তোদের নাকি আজাদি চাই? এই নে আজাদি।’’

 

“গুজরাতের দাওয়াই”

২৯/২/২০২০ আনন্দবাজার আর ছেপেছে, “জাফরাবাদের রাস্তার পাশের মাঠে শাহিন বাগের মতোই দু’মাস ধরে সিএএ-এনআরসি-র বিরুদ্ধে ধর্না চলছিল। সীলমপুর থেকে জাফরাবাদ পর্যন্ত দু’কিলোমিটার রাস্তায় বন্ধ দোকানের শাটারে কালো কালিতে লেখা: ‘নো সিএএ, নো এনআরসি’। জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের হলুদ রঙের দেওয়াল, রাস্তার মধ্যে মেট্রো লাইনের স্তম্ভের গায়েও একই স্লোগান। জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের নীচের রাস্তায় ধর্না শুরুর পরেই বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র তিন দিনের মধ্যে রাস্তা খালি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার পুলিশ-আধাসেনা জাফরাবাদের রাস্তা খালি করার পরে কপিল ঘোষণা করেন, ‘‘আর কোনও শাহিন বাগ হবে না।’’ গোকুলপুরীর ছাই হয়ে যাওয়া টায়ার মার্কেটের ব্যবসায়ী ইউসুফ হারুন বলেন, ‘‘সোমবার বিকেল থেকে ওরা একের পর এক দোকানে আগুন লাগিয়েছে। আর বলেছে, গোটা দিল্লিটাকে শাহিন বাগ করতে দেব না।’’ ব্যবসাদার জামিল সিদ্দিকির কথায়, ‘‘ওরা বলছিল, তোরা গোটা দেশে সিএএ-এনআরসি নিয়ে অশান্তি পাকাচ্ছিস। গুজরাতের মতো আর একটা দাওয়াই না-দিলে চলবে না।’’বধ্যভূমি উত্তর-পূর্ব দিল্লির এ-সব আলাদা ঘটনার একটাই যেন যোগসূত্র— সিএএ-এনআরসি-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা। দিল্লির উদাহরণ দেখিয়ে শাহিন বাগের মতো আন্দোলন আর কোথাও দানা বাঁধার আগেই শেষ করে দেওয়া।

দিল্লির ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডিজ় অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ়’-এর অধ্যাপক হিলাল আহমেদের মন্তব্য, ‘‘বার্তা স্পষ্ট। রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিয়ে মত প্রকাশের অধিকার নেই। বিশেষত আপনি যদি গরিব, চাষি, মহিলা, দলিত, আদিবাসী বা মুসলিম হন।’’ ২০১১-র জনগণনা বলছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির প্রায় ২২.৪ লক্ষ মানুষের ৬৮.২ শতাংশ হিন্দু। যেখানে দুই সম্প্রদায় মিলেমিশে বাস করছিল, সেখানেই সংঘর্ষ হয়েছে। নারায়ণ বলছেন, ‘‘মুসলিমরা এ বার নিজেদের মহল্লার মধ্যেই থাকবে। ভাইচারা শব্দটাই শিকেয় উঠে গেল। ভেদাভেদ এখন আরও স্পষ্ট।’’

 

পরিকল্পিত গণহত্যা

দেশের কোন নিভৃত গ্রামগঞ্জে নয়, গণহত্যা এবং জ্বালাও পোড়াও ঘটেছে দিল্লির ন্যায় রাজধানী শহরে। এবং ৪ দিন ধরে। এমন গণহত্যা কখনোই হঠাৎ করে হয় না। কোন দৈবাৎ  দুর্ঘটনার কারণেও হয়না। তাছাড়া এমন প্রকাণ্ড ধ্বংস কান্ড বা গণহত্যা কখনোই রাষ্ট্রের কর্ণধারদের অনুমতি ছাড়া ও সহযোগিতা ছাড়া ঘটেনা। বরং রাজধানীর বুকে এমন বিশাল হত্যাকান্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ হয় প্রশাসনের পরিকল্পনা মাফিক। সেটি যেমন ২০০২ সালে নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে গুজরাতে হয়েছে, সেটিই হলো মোদির ছত্রছায়ায় দিল্লিতেও। দাঙ্গার জন্য চাই চিহ্নিত শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে গভীর ঘৃণা। এখানে সরকারের শত্রুপক্ষ হলো তারাই যারা সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে। প্রতিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টির কাজটিই করা হয়েছে সরকারি মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে। ২০১৯ সালের নির্বাচন কাল থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ মুসলিমদের দেশের শত্রু তথা ভেতরের “উঁইপোকা” রূপে অভিহিত করে আসছে। কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী বিজিপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর ২৭/১/২০২০ তারিখে দিল্লির শাহিন বাগের আন্দোলনকারিদের দেশদ্রোহী রূপে চিত্রিত করেছে এবং বলেছে, “দেশ কো গাদ্দারকো গোলি মারো শালোকো”। কতবড় কুৎসিত ও উস্কানিমূলক কথা! বস্তির গুন্ডার গালি একজন মন্ত্রীর মুখে! এটি কি তবে অসভ্য গুন্ডারাজ? বিজিপি এমপি প্রবেশ বর্মা বিকাশপুরী জনসভায় শাহিন বাগের আন্দোলনকারিদের লক্ষ্য করেছে বলেছে, “এরা এবার ঘরে ঘরে ঢুকে মা-বোনদের ধর্ষণ করবে”। এমন কথা বলার উদ্দেশ্য যেমন ঘৃণা সৃস্টি, তেমনি শাহিন বাগের আন্দোলনকারিদের বিরুদ্ধে হামলায় উস্কানি দেয়া।

অপরদিকে সন্ত্রাস দমনে পুলিশের নিরবতা কতটা তীব্র -সেটিও ধরা পড়ে ৩০/১/২০২০ তারিখে। সেদিন সারিবদ্ধ পুলিশের সামনে এক যুবক জামে মিল্লির প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে গুলি ছুঁড়ে এই বলে, “তোম আজাদি চাহতে হো, এ লও আজাদী।” কিন্তু তাকে গ্রেফতার বা থামাতে পুলিশের মাঝে কোন নড়াচড়া নজরেপড়েনি। যে কোন সভ্য দেশেই সন্ত্রাসের লক্ষ্যে মানুষের মাঝে ঘৃণা ছড়ানো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সে অপরাধে মন্ত্রী বা পুলিশকে আদালতে তোলা হয়, তাদের চাকুরিও যায়। কিন্তু ভারতে সে সব কিছু হয় না, বরং প্রমোশন হয়। নরেন্দ্র মোদি চা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী পদ অবধি পৌঁছেছে লাগাতর ঘৃণাপূর্ণ বক্তৃতা ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে। মোদির সবচেয়ে বড় ও সফল সন্ত্রাসটি ছিল মোঘল আমলে গড়া ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসে। সে সফল সন্ত্রাসের জন্য বিজিপি নেতা প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী তাকে রাজপথ থেকে তুলে নিয়ে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেয়। নিয়োগপ্রাপ্তির ২ মাসের মধ্যে গুজরাতে আরেক বীভৎস বর্বরতা ঘটায়। সেটি মুসলিম নির্মূলের গণহত্যা, গণধর্ষণ ও ধ্বংসকান্ড। তাতে মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও তার নিজদেশে প্রকাণ্ড প্রমোশন মেলে। কিছুকালের মধ্যে তাকে  প্রধানমন্ত্রীর পদটি দেয়া হয়। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির এটিই নিয়ম।যে যত বর্বর, সেই ততো বড় নেতা। বিজিপির অন্য নেতারাও সে পথ ধরেছে। অপর দিকে যারাই তাদের বিরুদ্ধে দাড়ায় তারাই শাস্তি পায়। তাই শাস্তি পেল দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস. মুরলিধর। তাঁর অপরাধ, দিল্লির পুলিশকর্তাকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেসব নেতাগণ ঘৃনাপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে। আর তাতেই তাঁকে সে পদ থেকে সরিয়ে রাতারাতি পাঞ্জাবে বদলি করা হয়।

ভারতে ভয়ানক দুর্দিন শুধু মুসলিমদের জন্যই নয়, প্রতিটি সভ্য ও বিবেকবান মানুষের জন্যও। এরূপ অসভ্যতা কখনোই কোন দেশের সীমানায় সীমিত থাকে না। করোনা ভাইরাসের ন্যায় ফ্যাসিবাদের ভাইরাসও সীমানা পেরিয়ে দ্রুত প্রতিবেশী দেশেও ছড়ায়। বাংলাদেশে মোদি-ভক্ত হাসিনার প্রচন্ড ফ্যাসিবাদী তান্ডব তো তারই আলামত। ডাকাত কখনোই একাকী ডাকাতিতে নামে না, বরং অন্য ডাকাতদের সাথে নিয়ে বিশাল দল গড়ে। সেরূপ নীতি ফ্যাসিবাদীদেরও। তাদের সে বন্ধনটি শুধু দেশীয় রাজনীতির অঙ্গনেও দেখা যায় না, দেখা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। জার্মানীর হিটলার, ইটালীর মোসোলিনী ও স্পেনের ফ্রাংকোর ফ্যাসিবাদীদের মাঝে তাই গভীর বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে পেরেছিল। একই কারণে হাসিনার সাথে নরেন্দ্র মোদির সম্পর্কও অতি গভীর।নিজ পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মোদিকে সন্মানিত অতিথি রূপে দাওয়াত দিয়ে হাসিনা প্রমাণ করলো মোদি তার কত আপন। কোন ভদ্রজন কি খুনিকে নিজ গৃহে দাওয়াত দেয়? তাতে ধরা পড়ে চরিত্র, চেতনা ও রাজনীতিও। তাই বিপদ শুধু ভারতীয় মুসলিমদের নয়, গুরুতর বিপদ বাংলাদেশের মুসলিমদেরও। ০১/০৩/২০২০     

 




বিচিত্র প্রসঙ্গ-২

 ১.

দেশের স্বাধীনতার অর্থ দেশের আলোবাতাস বা মশামাছির স্বাধীনতা নয়; বরং সেটি জনগণের স্বাধীনতা। সে স্বাধীনতার অর্থ স্বাধীন ভাবে জনগণের মতপ্রকাশ, দলগড়া ও মিছিল-মিটিংয়ের স্বাধীনতা। তাই যারাই জনগণের সে স্বাধীনতা কেড়ে নেয় তাঁরাই স্বাধীনতার মূল শত্রু। সে স্বাধীনতা হরন করেছিল শেখ মুজিব। তার হাতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল একদলীয় বাকশালী স্বৈরাচার এবং নিষিদ্ধ হয়েছিল সকল বিরোধী রাজনৈতীক দল। নিষিদ্ধ কর হয়েছিল সকল বিরোধী দলীয় পত্র-পত্রিকা। সে স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে শেখ হাসিনাও। তাই দিল্লির শাহিনবাগে বা কলকাতার পার্ক সার্কাসে মাসাধিক কাল ধর্ণা চললেও শেখ হাসিনা সেরূপ ধর্ণা রাজধানী ঢাকাতে এক দিনের জন্যও হতে দিতে রাজী নয়। তাই হিফাজতে ইসলামের শাপলা চত্ত্বরের শান্তিপূর্ণ ধর্ণা নির্মূলে সেনাবাহিনীকে দিয়ে কামান দাগা হয়েছিল। শত শত মুসল্লীকে রাতের আঁধারে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের অনেকের লাশ ময়লার গাড়িতে করে গায়েব করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা ব্যালটের উপর ডাকাতি করে কেড়ে নিয়েছে জনগণের ভোটদানের অধীকারও। ফলে স্বাধীনতার শত্রু তাই বাকশালী মুজিব ও হাসিনা। তবে বাংলাদেশী বাঙালীর বিবেকশূণ্যতাও কি কম? স্বাধীনতার শত্রুদের একজনকে এ বাঙালীরা বঙ্গবন্ধু বলে। আরেকজনকে মাননীয় জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বলে।

২.
ফ্যাসিবাদী সরকার থেকে কখনোই মৌলিক মানবিক অধিকার মেলে না। সে সরকারের বিচারকদের থেকে ন্যায়বিচারও মেলে না। স্বৈরাচারি ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে বিচারকদের মূল কাজটি হয় পুলিশের ন্যায় স্বৈরাচারি সরকার নিরাপত্তা দেয়া, জনগণকে ন্যায় বিচার দেয়া নয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতাগণ ফাঁসিতে ঝুলে এবং খালেদা জিয়া জেলের মধ্যে বছরের পর বছর পচে সেটিই প্রমাণ করছেন।

৩.
একটি দেশের পত্রিকার দিকে নজর দিলেই বুঝা যায় সে দেশের জনগণ কতটা স্বাধীন। দিল্লিতে মুসলিম নিধন ও তাদের ঘরাড়ীতে আগুণ দেয়ার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ঘৃনা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে পাকিস্তানের পত্রিকাগুলোতে। এমন কি ঝড় তুলেছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাও। কিন্তু খামোশ শুধু বাংলাদেশের সরকারই নয়, বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকাও। এতে স্পষ্ট বুঝা যায় বাংলাদেশ কতটা পরাধীন।

৪.

খালেদা জিয়ার রাজনীতির নতুন করে পাঠ নেয়া উচিত। রাজনীতির সামান্যতম জ্ঞান থাকলে তিনি কখনোই স্বৈরাচারি হাসিনা সরকারের চাকর-বাকরদের কাছে বিচার বা জামিন চাইতে যেতেন না। সে জ্ঞান থাকলে তিনি বুঝতেন, স্বৈরাচারি সরকারের অধীনস্থ্ বিচা্রকদের কাজ হয় বিরোধী দলীয় নেতাদের গলায় ফাঁসের দড়ি পড়ানো বা পায়ে জেলের শিকল লাগানো। বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাসিনা যে কাজটি রাজপথে করছে তার চেয়েও জঘন্য কাজ করছে আদালতের বিচারকগণ।

৫.
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাতে দুই হাজারের বেশী মুসলিম হত্যার সাথে জড়িত। মোদি যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী তখন তিন মাস ধরে সেখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মুসলিম নারীদের ধর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়িতে আগুণ দেয়ার কাজ চলে। এমন দুর্বৃত্ত খুনির সাথে কি কোন সভ্য মানুষ সম্পর্ক রাখে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নরেন্দ্র মোদির উপর যুক্তরাষ্ট্রের ঢুকার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা লাগিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নও। সে খুনি মোদিকে শেখ হাসিনা তার পিতা শেখ মুজিবের শত বার্ষিকীতে দাওয়াত দিয়েছে। এক খুনি ও ডাকাত আরেক খুনি ও ডাকাতকে সাক্ষী বানাবে সেটি তো এক পুরনো কৌশল। অথচ মুসলিম হত্যার সাথে জড়িত কোন কাফেরের সাথে যে ব্যক্তি বন্ধুত্ব করে সে তো তাবত মুসলিমের দুষমন। একাজ তো ভারতীয় বিজিপি ও আর.এস.এসের সদস্যদের। তবে কি বাংলাদেশও তারা দখলে নিয়েছে? শেখ হাসিনা কি নিজ দেশে এদেরই নেত্রী? এজন্যই কি মোদিকে দাওয়াত?

৬.
ঈমানদার ও বেঈমানের মধ্যে মূল পার্থক্যটি পোষাক-পবিচ্ছদে নয়, সেটি বাঁচার নিয়েতে। ঈমানদার প্রতি মহুর্ত বাঁচে পরকালে কী করে জান্নাতে পৌঁছা যায় -সে ভাবনা নিয়ে। ফলে তাদের হাতে বাড়ে নেককর্ম। অপরদিক বেঈমান বাঁচে এ দুনিয়ার জীবনে  ক্ষমতা ও জৌলুস  বাড়াতে। তাদের হাতে বাড়ে ভোট-ডাকাতি, ব্যাংক-ডাকাতি এবং গুম-খুনের রাজনীতি। সে বেঈমানীটা প্রকট ভাবে ধরা পড়ে বাংলাদেশের সরকারি দলের নেতাকর্মীদের জীবনে।

৭.
শেখ হাসিনা পূর্ববর্তী কংগ্রেস দলীয় সরকার এবং বর্তমান বিজিপি দলীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে প্রতিপালিত। হাসিনার ভোট ডাকাতির অপরাধকে দেশে বিদেশে পুর্ণ সমর্থণ দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি। হাসিনা তার পিতার ন্যায় ভারতের বিরুদ্ধে নিমক হারামী করতে রাজী নয়। ভারতে মুসলিম হত্যার বিরুদ্ধে এজন্যই শেখ হাসিনা নিরব। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াইটি তাই মামূলী বিষয় নয়। এটি মূলতঃ খুনি মোদির ও আর.এস.এসের গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে লড়াই। বা্ংলাদেশের মুসলিমদের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে সে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে।

৮.
শেখ হাসিনা এ অবধি ভারতের নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে একটি কথাও বলেনি। গুজরাতে যখন মুসলিম গণহত্যা চলে তখনও বলেনি। বরং পিতার শতবার্ষিকে নরেন্দ্র মোদিকে অতিথি করে সে দুর্বৃত্তকে সন্মানিত করেছে। এটি কি কোন সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে? হাসিনা যে ভারতের সন্ত্রাসী হিন্দুদের সন্ত্রাসের পক্ষে –এ নিরবতা তো তারই প্রমাণ।

৯.
মুসলিম উম্মাহর একটি অংশের উপর যখন বিপদ নেমে আসে তখন অন্য মুসলিমদের পরীক্ষা শুরু হয়। ভারত, কাশ্মির, ফিলিস্তিন, উইঘুর ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর যে মহা দুর্যোগ চলছে -তা দেখে একমাত্র বেঈমানই নিরব থাকতে পারে? মাওলানা আবুল কালাম আযাদ লিখেছিলেন, আফ্রিকার জঙ্গলে কোন মুসলিমের পায়ে যদি কাঁটা বিদ্ধ হয় এবং সে কাঁটার ব্যাথা যদি তুমি হৃদয়ে অনুভব না করো তবে আল্লাহর কসম তুমি মুসলিম নও।

১০.
গরু-ছাগলের কাছে কে চোর-ডাকাত সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো মুখের সামনে প্রচুর ঘাস। তেমনি বেঈমান সামরিক-বেসামরিক সরকারি দাসদের কাছে জরুরী হলো মাস শেষে মোটা অংকের বেতন। বেতন বাড়িয়ে দিলে তারা ভোট-ডাকাত দুর্বৃত্ত সরকারকে বাঁচাতে প্রাণ দিবে। বাংলাদেশ তারই প্রমাণ। এ দাসশ্রেণীর কারণেই অতিশয় দুর্বৃত্ত ভোট-ডাকাতেরাও বিশাল প্রতাপ নিয়ে ক্ষমতায়।


১১.
উচ্চ আদালতের কিছু বিচারক রায় দিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুজিবের দেয়া ভাষন জনগণের শোনানো উচিত। প্রশ্ন হলো, জনগণ কেন? যারা ব্যাংক ডাকাতি  এবং ভোট ডাকাতি করে তারা বাদ যাবে কেন?

১২.
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দিল্লির মসজিদে আগুণ ও মুসলিম হত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশ্ববাসীর সামনে আবেদন রেখেছেন এ অপরাধের বিরুদ্ধ সোচ্চার হতে।  বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নিরব।

গরুছাগল কাউকে ধর্ষিত বা জবাই হতে দেখেও প্রতিবাদ করে না। সে পশু নীতিই কি বাংলাদেশ সরকারের নীতি? বাংলাদেশের জনগণ কি এ পশু নীতির সরকারকে রাজস্ব দিয়ে প্রতিপালন করবে? 

১৩.
গুজরাতের এক খুনি নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আরেক খুনি অমিত শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দিল্লিতেও তারা শুরু হয়েছে গুজরাতের ন্যায় মুসলিম নির্মূলের গণহত্যা।এ বিপদে মুসলিমদের পিছনে দাঁড়ানোর কেউ নাই। স্মরণীয় হলো, সৌদি আরব ও আমিরাতের স্বৈরাচারি সরকার মোদিকে দেশের সর্বোচ্চ খেতাব দিয়ে সম্মানিত করেছে। বাংলাদেশ সম্মানিত করছে মুজিবে শত বার্ষিকিতে দাওয়াত দিয়ে। খুনি ও দুর্বৃত্তরা যদি এভাবে সম্মানিত হতে থাকে তব সত্য ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা পাবে কি করে? ২৭/০২/২০২০