দেশ ও মানুষ নিয়ে সাম্প্রতিক ভাবনা-২

১.

কোন ডাকাত যদি বলে সে সমাজ থেকে অপরাধ দুর করবে -এর চেয়ে বড় মশকরা আর কি হতে পারে? ডাকাতের ন্যায় অপরাধীগণ শুধু অপরাধ বাড়াতেই জানে, অপরাধের নির্মূল নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাই সবচেয়ে বড় কৌতুক হলো, ভোট ডাকাতি করে যে শেখ হাসিনা দেশকে হাইজ্যাক করলো সে নাকি দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করবে।

২.

চুরি, ডাকাতি, খুন ও ব্যভিচারের ন্যায় নানারূপ পাপের পথে নামার মূল কারণটি হলো পরকালের ভয় না থাকা। সে বিষয়টিই মহান আল্লাহতায়ালা সুস্পষ্ট করেছেন সুরা  মুদাছছেরের ৫৩ নম্বর আয়াতে।

৩.

আখেরাতের ভয় ব্যক্তিকে পাপ থেকে দূরে রাখে। তাই যারা চোর-ডাকাত, ভোট-ডাকাত ও গুম-খুনের রাজনীতির অনুসারি তারা যে আখেরাতের ভয়শূণ্য বেঈমান -তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ থাকে? বাংলাদেশে তাদেরই রাজত্ব চলছে। পবিত্র কোরআনের বিশাল ভাগ ব্যয় হয়েছে বস্তুতঃ আখেরাতের ভয়কে তীব্রতর করতে। যারা না বুঝে কোর’আন তেলাওয়াত করে -তাদের মনে সে ভয় জাগে না।

৪.

মানুষের মাঝে সম্পদ, সন্তান, বিদ্যা-বুদ্ধি ও স্বাস্থ্যের ন্যায় আল্লাহতায়ালার নানা রূপ নিয়ামতের যে ভিন্ন ভিন্ন বন্টন তা নিয়ে যে ক্ষোভ –তা থেকেই জন্ম নেয় হিংসা-বিদ্বেষ। এটি মহান আল্লাহতায়ালার প্রজ্ঞা ও নীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। তাই এটি বিশাল পাপ। এটি বস্তুতঃ বেঈমানীর লক্ষণ। এ বন্টন নিয়ে রাজী থাকা এবং সন্তুষ্টির যে প্রকাশ –সেটিই হলো শুকরিয়া। এটি ইবাদত।

৫.

সাম্প্রতিক এক বক্তৃতায় শেখ হাসিনা জনগণকে তার উপর ভরসা করতে বলেছেন। অথচ এক্ষেত্রে তার নিজের আচরণটি লক্ষণীয়। তিনি জনগণের ভোটের উপর ভরসা না করে গভীর রাতে ভোট ডাকাতি করে গদিতে বসেছেন। কথা হলো, ডাকাতের উপর ভরসা করা কি কোন বু্দ্ধিমানের কাজ হতে পারে? এটি তো বেওকুপদের কাজ। কোন বুদ্ধিমান সভ্য ও সাহসী মানুষ কি কখনো ডাকাতের উপর ভরসা করে? তারা তো হাতের কাছে যা পায় তা দিয়ে ডাকাত তাড়াতে রাস্তায় নামে। হাসিনা যে ভাবে ক্ষমতায় এলো সেটি কি নেপাল, শ্রীলংকা বা ভূটানে সম্ভব হতো? তাই হাসিনা বাংলাদেশীদের জন্য বিশ্ব মাঝে যা বাড়িয়েছে তা উন্নয়ন নয়, বরং সীমাহীন অপমান।

৬.

দেশে কতটা কলকারখানা, রাস্তাঘাট ও বিল্ডিং হলো সেটি উন্নয়নের মাপকাঠি নয়।বরং সেটি হলো দেশে কতজন মনুষ চোর-ডাকাত, খুনি বা ধর্ষক না হয়ে সৎ মানুষ রূপে বেড়ে উঠলো সেটি। মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে এ প্রশ্ন কখনোই তোলা হবে না যে, দেশে কতটা কলকারখানা, রাস্তাঘাট ও বিল্ডিং গড়া হয়েছিল এবং সে গড়ার কাজে তোমার কি ভূমিকা ছিল।  বরং এ প্রশ্ন অবশ্যই উঠবে, কতজন সৎ মানুষ রূপে বেড়ে উঠেছিল সেটি।

৭.

মুসলিম বাঁচে, লড়াই করে ও প্রাণ দেয় কোন নেতা বা দলের স্বপ্ন পূরণে নয় বরং একমাত্র মহান আল্লাহর ইচ্ছা পূরণে।এরূপ বাঁচাতেই ঈমানদারী। “ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি”র এটিই অর্থ। একমাত্র মহান আল্লাহর ইচ্ছা পূরণে বাঁচার মধ্য দিয়েই মানুষ জান্নাতে পৌঁছবে। বাঁচাটি অন্য পথে হলে জাহান্নামের অন্তহীন আযাবটি অনিবার্য। রাষ্ট্র দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হলে যা অসম্ভব হয় তা হলো আল্লাহর  লক্ষ্যে বাচা ও প্রাণ দেয়াটি অসম্ভব করা। সেরূপ বাচাকে তারা মৌলবাদ বলে। ইসলামের শত্রুপক্ষ সেটিকে সন্ত্রাস বলে।

৮.

অন্যায়ের নির্মূল এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো রাষ্ট্র। কিন্তু সে রাষ্ট্র যখন অধিকৃত হয় চোর-ডাকাত ও ভোটডাকাতদের হাতে তখন দেশ ইতিহাস গড়ে গুম,খুন, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে। বাংলাদেশ তারই সুস্পষ্ট নজির।

৯.

যাত্রাপথে কেউই গন্তব্যের  আসল ঠিকানাকে ভূলে না। সব সময় সে ঠিকানাটি মাথায় রেখে পথ চলে। এখানে ভূল হলে যাত্রাটি ভূল পথে হয়। কিন্ত অধিকাংশ মানুষ জীবন যাপন করে জীবনের শেষ ঠিকানা আখেরাতকে ভূলে।

১০.

মানব সমাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অন্যায়ের নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। মুসলিম জীবনের এটিই মূল মিশন। এটিই ঈমানদারের জিহাদ। এ লক্ষ্য পূরণে মহান নবীজী (সাঃ) নিজের ঘর না ঘরে সর্বপ্রথম ইসলামী রাষ্ট্র গড়েছিলেন। শতকরা ৭০ ভাগ সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন। এবং এমন কোন সাহাবী ছিলেন না যিনি জিহাদ করেননি। এ পবিত্র জিহাদে প্রতিটি মুসলিম তাদের সকল সামর্থ্য বিনিয়োগ করে বলেই পবিত্র কোর’আনে মহান আল্লাহতায়ালা তাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি বলে অভিহিত করেছেন। অথচ যারা পৃথিবী পৃষ্ঠে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অধঃপতিত জাতি রূপে ইতিহাসে স্থান পেতে যায় এবং পরকালে পেতে চায় জাহান্নাম তারা বেছে নেয় দুর্নীতির পথ। ২৯/০১/২০২০




The Global Terrorism and the Muslims

The terrorising war of the imperialists

Terrorism has a precise dictionary meaning. It is the use of weapons to fill people’s minds with terror for political or monetary gain. The terrorising power of a weapon depends directly and proportionately on its destructive power. So, the terror of a knife-wielding robber can’t match with the terror done with bombs, drones, missiles or nuclear bombs. Hence, no one on the earth can match the terrorising power of the USA. Awe of terror has some paralysing effect. This is why, while the USA Army with its massive air, land and naval power invaded Afghanistan, Iraq, and Syria and went on killing spree there, no country or international body could show any sign of morality or humanity to protest against such blatant war crime. Even the UN had to bow down to the US barbarity.

 

In World War II, the US dropped nuclear bombs on two Japanese cities. Its objective was not to occupy and colonise Japan. Instead, to achieve a massive terrorising goal. It could fill people’s mind all over the world with fear of the devastating power of the new weapon. As a result, the USA –with the collaboration of other imperialists, could easily twist the political course of many parts the world to fit into its own agenda; even could dare disintegrate the whole map of Middle East into more than 20 pieces. And, could also install an illegal state of Israel in its midst by cleansing its settled population. Moreover, Israel has been given the most sophisticated weapon by the US and other western powers to terrorise the whole Muslim World. So it works as an unfettered bully in the Middle East.

 

The USA still continues to deploy the same strategy to terrorise the whole world –especially the Muslim World. President Donald Trump –a proven anti-Muslim rogue, destroyed almost every house of Mosul -the second largest city of Iraq to achieve that goal. He also razed the cities of Kobani, Raqqa, Fallujah, Ramadi, Deira’zour and many others to the ground for the same purpose. Whereas, the US could win the war without such massive destruction. President George W Bush too had the same mindset. He invaded Afghanistan and Iraq to reinforce the image of the American might on the world stage. The main purpose of the USA’s occupation of Afghanistan, Iraq and Syria was not for oil or gas, but for terrorising the whole world, especially the Muslim population. It was a calculated act of robust terrorism to enforce the full capitulation of the Muslim rulers. It has indeed fully achieved that. As a result, the US could easily twist the arms of the Saudi, Qatari, Kuwaiti, Emirati, Omani, and Bahraini rulers to deposit trillions of petrodollar in the US economy. In return, the US provides security to these tyrants. Now they are trying to do the same against Iran. To continue with the same terrorising aim, the US government has embedded with thousands of military bases around the world. Now it has turned indispensable for the US to pursue such a coercive strategy to sustain its Super Power status. The US is already the most indebted country in the world – more than a trillion-dollar it owes to China. The security cost of the US has turned so huge that it can’t sustain on its own.  Only through a coercive strategy, the US can force other nations to bear the maintenance cost of the American global empire. So, it has no other option but to engage in a constant robbery –the classic version of terrorism, all over the world.

 

Terrorism with the distorted connotation

Military occupation never ends with the mere physical occupation of a country. It is followed by an occupation cum colonisation of people’s minds. And it is done through media. For that, the western imperialists and their partners in crime in the Muslim World have already taken over the media. As a result, they could hide their own crimes and demonise those who stand against them. The captured media helped them even to distort the true meaning of terrorism. So, in their vocabulary, those who are killing and terrorising the people with deadly weapons and reducing cities to the ground are not labeled as terrorist. So, even the armed Israeli illegal settlers or soldiers who shoot at unarmed Palestinians are labeled innocent. In fact, they mean the opposite. The children who protest with empty hands or throw stones to the Israeli tanks are portrayed as a terrorist. In Kashmir, the unarmed Kashmiri men, women, and children who protest in the streets and demand freedom from Indian occupation are killed with a label of terrorist.

With the emerging trend of Islamic revival in the Muslim World, the meaning of terrorism has been given another deceitful distortion. Even the people who want to practise original Islam –as was practised by the Prophet of Islam (peace be upon him) with its indispensable components like sharia, hudud, shura, khilafa, shura, and jihad, are also labeled as extremist cum terrorist. So, the fascist regimes in Egypt, Bangladesh, and other Muslim countries do not hesitate to kill the unarmed Islamists. So, on 6th May in 2013, hundreds of sit-in protesters were killed in Shapla roundabout in Dhaka in Bangladesh and on 14th August in 2013, more than two thousand peaceful protestors were killed in Raba al-Adawiya square in Cairo.

 

Terrorism: a multi-national imperialist enterprise

A mad dog doesn’t need to be hurt to get offensive. The same is true with the imperialists. No man or woman from Afghanistan, Iraq and Syria bombed any American city; but the Americans came from another end of the glove to bomb the cities of those countries to kill more than a million. They dropped bombs, mother of all bombs, depleted uranium bombs, missiles, and drones to turn thousands of Muslim houses and hundreds of cities to rubbles. But such killing campaigns have never been labeled in the western countries as a terror campaign. The US forces have detained and tortured thousands of innocent people with extreme brutality in Afghanistan, Iraq, and Syria. They established torture cells in Guantanamo Bay in Cuba, Bagram base in Afghanistan, Abu Gharib in Iraq to run brutality in an industrial scale. They also introduced a rendition scheme to franchise such a torturing schemes to other regimes known for cruel state apparatus. Awfully, under the US patronage, terrorism thus has become a multi-national state enterprise.

It is worth noting that the US-led imperialists aren’t concerned about the absence of basic human rights in the Muslim countries ruled by the US-supported tyrants. They get happy if these brutal killers help strengthen the national security of the US and serve their political, ideological & economic interests. Moreover, they appreciate these tyrants if they crush any Islamic resurgence. This is why the killer tyrant like General Abul Fatah al-Sisi of Egypt gets such a robust appreciation for killing, torturing and arresting the Islamists. It is clear, in the world order established by the US-led western powers, there is no scope for the Muslims to raise their heads and emerge as a significant global power. Such a world order is only to safeguard the interests of the US-led imperialists and Israel. Its prime aim is to keep the Muslims de-empowered.

 

The case of Russia, China & India

Vladimir Putin’s Russia has taken the same route. Like the US, it has committed similar crimes against the Chechen Muslims. And, like any other member state of the UN Security Council, Putin also enjoys full impunity for his war crimes. On the other hand, the Chechen Muslims are labeled as terrorists for demanding freedom from the Russian occupation. To suppress their aspiration and liberation movement, in the year of 2000, the whole Chechen city of Grozny was bombed to the ground. Thousands were killed and many more were put in torture cells. And the Russian brutality still continues. In the Soviet era, the Russians did the same in Afghanistan in the eighties. Although the Russians were badly defeated in Afghanistan in 1989, but they didn’t stop their anti-Muslim campaigns. Now they are dropping bombs in Syria; and trying to expand the same state terrorism to Libya and the Central Republic of Africa.

China is committing the same brutality against the Uighur Muslims. In the name of cultural education, the Chinese government is carrying out a massive social engineering project of de-Islamisation. About a million Muslims are being kept in prisons and are being brainwashed to take them away from Islam. They are not allowed to enjoy the basic human rights -like the right to practise their own religion. Even they were prevented to keep fasting and wearing their traditional dress. The religious education has also been strictly restricted.

The case of India is no less brutal against the Muslims either. Muslims constitute about 15% of the Indian population; but they are not give even 5% of the government jobs. Socio-economically, they are kept inferior to so-called untouchables. The Indian Army is on a long killing mission in the Muslim majority state of Kashmir. About a hundred thousand Kashmiri Muslims have already been killed and thousands of Kashmiri women are raped. In the Indian vocabulary, such state-run crimes are not called terrorism either. Rather, those who are standing for freedom from Indian occupation and wand basic human rights are labeled as terrorists. 

 

The crime of the Israeli terrorists

The case of Israel is a classic example of a state that could be established solely through terrorism and could survive through terrorism. It is the old practice of ethnic cleansing of the original people and colonisation by the foreign people in modern age. The Jewish people came from all over the world to Palestine to grab lands from the Palestinians. The Palestinians are either killed or forced to live in refugee camps for more than 70 years. On the illegally seized lands, hundreds of thousands of luxurious flats are built for those who were not born in Palestine. The same old policy of eviction, the same policy of land grabbing and the same scheme of settling the foreign Jews in the Arab land that started 70 years ago still continue. Apartheid practice has died in South Africa, but now thrives in the occupied Palestine. The old western colonial powers not only support such illegal Israeli occupation of the Muslim lands politically but also sponsor it economically and militarily. So, the crime of brutal occupation and killing continues unabated. And, such state-run crimes are not called terrorism either.

There is no doubt that the Jews have suffered a lot under the fascist regime in the west. Millions of them faced brutal death there. But, instead of learning compassion and humanity, they have learned a lot of brutal skills and inhumanities. These are now being deployed against the Muslims in Palestine. This is why, the atrocities against the occupied people of Palestine could attain such a scale of brutality. They have even lost all morality and civility to call the on-going brutality against the Palestinians as a cruel act, let alone calling it terrorism. Hatred against the Muslims has been so deeply embedded in the mind of Israeli rulers that they even feel highly content to embrace Prime Minister Narendra Modi of India as the friend of Israel. Whereas Narendra Modi is an Indian version of Adolph Hitler for the Indian Muslims. In 2002, he engineered the killing of more than two thousands innocent Muslim men, women and children in Gujrat while he was the Chief Minister of the province. He also instigated his followers to raze the historic Babri Mosque to the ground. Recognising his robust criminality, even the US government imposed a ban on his entrance to the US –although later on withdrawn in order to promote the American business interest with India.

 

 

 

The case of Sri Lanka

The Sri Lankan Army is already known for genocidal war crimes against the Tamils. Such crimes have already been documented by the international human rights organizations. But the failure of the international bodies like the UN and the International Criminal Court has emboldened them to continue the similar crimes against other people. Now their guns are turned against the Muslims. The extrajudicial killing has started with the new strategy to target the Muslims in their living quarters. To cover up the killing, they are telling the world that the Muslim women and children are blowing up themselves. Last year, the Sri Lankan Muslims didn’t explode any bomb anywhere; but the Buddhists hooligans led by the monks went on killing spree. They looted, vandalized and burnt down the Muslim houses and businesses. Such anti-Muslim rampage went on for many days, but the Sri Lankan Army and the police did very little to protect the Muslims’ life and properties. The judiciary too showed its inaction to bring the criminals to justice. Moreover, such mob killings and arsons didn’t find any place in their vocabulary to be called as terrorism or Buddhist extremism.

 

Boiling up the Muslim blood

Every action has an equal and opposite reaction. Hence, every crime has a consequence. The Muslims are terribly suffering from all sorts of barbarity in almost every part of the world. The people of no other faith suffer in such an awful way. The cases of Palestine, Afghanistan, Iraq, Syria, Kashmir, Uighur, Rohingya are only a few to mention. In the west, Muslim women are tormented only for wearing a headscarf. President Donal Trump has put a ban on the Muslims coming to the USA. The Indian Muslims are being lynched to death only for keeping or eating beef. Many East European countries have put a wall of barbed wire to keep away the Muslim refugee out of their country. The Muslim countries ruled by the brutal dictators are embedded with thousands of Guantanamo Bay-like torture cells. The USA and its cronies like it.

The US, the French, the British, and the Italian Air Force have shown their ever readiness to bomb any people in any part of the world who want to go back to original Islam -as has been practised by the Prophet of Islam (peace be upon him) about 15 hundred years ago. They have their own prescription for the Muslims. It is far away from the Qur’anic prescription. Hence, the Islamic basics like Islamic state, sharia, hudud, pan-Islamic brotherhood, khilafa, shura, jihad against enemy occupation have no place in it. They have no problem with the Saudi mass execution, the Emirati tribal barbarity, the Bangladeshi mockery of democracy by Shaikh Hasina and the brutal tyranny of Egypt’s Abul Fatah Sissi. They appreciate their Islam as true and moderate Islam. By any decent standard, these are not any innocent act; rather, highly heinous crime against Prophet’s Islam, the innocent Muslims and the humanity.

 

Because of the hostile policy of the imperialists and their servile cronies, there exists not even a single space on earth for the full practice of true Islam –as was practised in Islam’s golden age! Thus, Muslims are prohibited to be a full Muslim. Hostility towards Islam and the Muslims must have a limit. One must not forget that 1.6 billion Muslims are not a collection of dead bodies. They have souls, emotions, faith, and intellect. They also share the same globe with others. The ongoing crimes against Islam and the Muslims are explosive enough to boil up their blood. The boiled-up blood can turn them to live bombs. And it is not unusual that the bombs fail to differentiate the innocents from the criminals. Islam doesn’t allow suicide but doesn’t prohibit to be a war appliance. So, it seems, the planet is turning rapidly to be an unsafe place for everyone. 01.05.2019

 

 

 




The Importance of Education and the Muslims’ Failure

First thing first

For any success, the first thing must be done first. But what is the first thing that needs to be done first? It is none but education. It is indeed the greatest Sunnah of Allah Sub’hana wa Ta’la (SWT) that He did the first thing first to help humans to attain the greatest success both here and in the hereafter. And that is through education. This is why “iqra” (read) –becomes the first word in the Holy Qur’an. The decree for five-time prayers, month-long fasting, zakat, haj and running the judiciary on sharia came much later. The Holy Qur’an -revealed piece by piece as the teaching materials, worked as the textbook in the educational curriculums. The result was excellent and unprecedented. The people who were produced in those early years of Islam proved to be the best in the whole human history. Allah SWT wants to create such a class of people with the highest mortality in all ages through the same Qur’anic textbook and through the same methodology.     

Prophet Muhammad (peace be upon him) and his companions also gave the highest emphasis on education. The prophet (peace be upon him) declared education as the life-long obligation for every man and woman. He also said, “Seek education from the cradle to the grave”. In this life-long process of education, each day should be used to earn new knowledge and a new skill. The prophet (peace be upon him) said, “Woe to him who had consecutive two days but his treasure of knowledge remained the same and didn’t increase”. In the war of Badr, the Muslims could capture some war criminals. They could be killed or used as hostages to get huge ransoms. But the prophet (peace be upon him) decided otherwise; he preferred education to money. He promised them freedom if could teach the illiterates how to read and write. The outcome of such a policy was phenomenal. The Holy Qur’an was the first book in Arabic. Within a short period of time, Muslims could build the largest treasure of knowledge in the whole contemporary world. 

 

Education decides the destiny

The quality of education decides the destiny -not only of a human but also of a nation. Allah SWT revealed in the Holy Qur’an, “Those who know and those who don’t know are not equal”. So, the qualitative difference between humans is not based on skin colour, language, ethnicity or other physical attributes, but on educational dissimilarities. This is why the educational depravity of today’s Muslims make them so low and utterly dissimilar to the early Muslims. Allah SWT has His Own principle of societal change. The principle is revealed in the Holy Qur’an as follows: “Certainly, Allah doesn’t change the state of a people unless they change their own state themselves”. Hence in making qualitative changes in humans, the decisive role is not played by foods or drinks, nor by the climate. It occurs through education. Therefore to have a proper estimate on the moral and intellectual state of a people, it doesn’t require a door to door survey on individuals. The education curriculum and the methodology of education reveal the real situation with precise accuracy. This is why, those who want to build a nation, must start with education. On the other hand, those who want to destroy a nation need not engage in a genocidal war. Turning off or corrupting the education system does the job perfectly. In fact, the external and the internal enemies of Islam did that in the Muslim World for centuries to precipitate the current downfall. This is why when the European colonialists occupied the Muslim countries, they didn’t destroy the agricultural lands; rather dismantled the educational institutions. In India, they disbanded Farsi –the language of Muslims’ education and closed thousands of madrasas. As a result, Muslims quickly become illiterate.

Education for the sake of education also proves disastrous. It must have a higher moral objective. In all ages, the educational institutions were built as human factories for mass-scale production of people with intended job specifications, skills, and training. The evil rulers didn’t recruit their foot soldiers from jungles. For that, they used the educational institutions as the breeding and recruitment premises. Because of such institutions, the evil ideologies like colonialism, imperialism, nationalism, fascism, racism could get a huge number of foot soldiers and could run ethnic cleansing with catastrophic dimensions. Because of such evil education, the most calamitous disasters in history need not be caused by earthquakes, cyclones, epidemics or tsunamis. These were caused by the evil humans –products of these evil institutions. More than 75 million people are killed only in two World Wars. Millions are killed in Afghanistan, Iraq, and Syria; and the killing process still continues. It is an irony that those who ran these genocidal killings are not illiterate; rather claim to be educated.

The British colonialists established their own educational institutions in the occupied countries to get obedient mercenaries in the civil and military establishments to run brutal and exploitive hegemony. Because of them, the British colonialists could prolong their rule for 190 years in South Asia. The most prominent military icons of the Muslim countries like Pakistan, Egypt, Sudan, Iraq, Syria, and many others are indeed the people who started their career as the most obedient mercenary of the occupying forces. After completion of their servile career in the colonial army, they turned against their own people. They appeared as brutal autocrats and worked as a huge bulwark against the practice of basic human rights in the newly independent Muslim countries. Because of the secularisation of education, the colonists could recruit more than 200 thousand Indian Muslims and more than a million Arab Muslims in the First World War to kill Muslims and dismantle the Khilafah. Even today, the secular educational factories operate in the Muslim countries to feed the multinational projects of the imperialists –the modern version of East India Company, with the incessant supply of the white-collar mercenaries. So the education system has become the part of the pipeline to drain out brains from the Muslim World –as they are draining out oil and gas.

                                                         

The Muslims’ role & the educational need

The Muslims’ assigned role is altogether different from others. Hence, their educational need is also different. Therefore, fixing the educational objective that can help fulfill the Divine role is crucial. In fact, for the Muslims, nothing is more important than setting the right educational objective and staying constantly focussed on that. Otherwise, schools, colleges, and universities in Muslim countries will be used by the evil forces to produce mercenaries to serve their wicked intentions. Thus, the Muslims will be producing their own enemies by investing their own resources. “Frying fish in its own oil” is the old strategy of the imperialists; hence use not only the Muslim men but also hundreds of billions of their petrodollars to kill the Muslims and occupy their lands. The US-led war in the Arab countries gives ample testimonies to that.

The objective of education depends on the objective of survival. Billions of people live on the same planet, but they do not survive for the same purpose. Most of the people live to maximize their worldly affluence and comfort. But the Muslims need to live with a different purpose. And the purpose must match with their religious belief and role. They need to plan not only for the worldly success but also for the success in the eternal hereafter. They must plan to get saved from the hellfire. Hence, their educational need must be different from that of a non-believer.

For a Muslim, acquiring skills in reading and writing and specializing in medicine, economics, science, technology, and others must not be the only educational objectives. He must know the purpose of his own creation and his own role in this world. Knowing the Vision of his Creator and how to fully align with that are also the most important educational priorities. These are the most crucial issues that each and every educational institution of the Muslim countries must address. Otherwise, education will lead to catastrophic failures; the students may excel as professionals but will cease to survive as true Muslims. Then they will sleepwalk to turn perfect mercenaries to serve the known enemies. Education thus works as a tool to earn the wrath of Allah SWT and leads only to the hellfire.  

The number of educational institutions in the Muslims World is huge. But the failure of the students to grow up as true Muslims is also huge. As a result, the Muslims stand divided, defeated and de-Islamised. Such failure doesn’t owe to climate, geography or topography of the Muslim countries, but to the failure of the educational institutions. Awfully, the Muslims are interested only to open new educational institutions; but show little concern to have the correct aim and objective of the education. This is indeed the root cause of all educational failures. And such failures breed more failures.

 

 The failed value-adding process

Agricultural or mineral goods get added values in the industries. The humans get added values in the educational institutions. And the highest degree of value is added to the moral premise of the man and the woman. Because of such a value-adding process in educational institutions, even a common man or woman may become an angel –as happened in the early days of Islam. As a result, the ruler of the first Islamic state -about 10 times larger than Pakistan, could draw the rope of the camel with the servant sitting on its back. Because of the people with such a moral highness, the early Muslims could raise the finest civilization on earth and emerge as the number one World Power. They didn’t need oil, gas or huge manpower to attain such global esteem. But today, the Muslims reveal another story. Instead of a value-adding process, the education system in the Muslim countries indeed works as a highly corruptive process. Those who pass through its process, turn morally corrupt and de-valued. Many of them become maliciously devil. Because of that, the scale of corruption runs high in so-called educated people in the government and non-government offices. No amount of oil, gas or material affluence could cover up such moral failures.

The Holy Qur’an receives little space or attention in these so-called educational institutions. Whereas the Holy Qur’an is the Divine key to add higher value to humans. But rote reading or memorization of the Qur’an can’t do the job. It needs the linguistic and intellectual skills to seek lessons from this greatest gift of Allah SWT -the only roadmap for the paradise. And it is the task of the educational institutions to generate such skills among the students. Only this way the education system can add higher values to the students –as happened in the golden days of Islam.

A human quickly succumbs to the physical death if the body’s immune system fails to fight against millions of bugs present all the time on the body surfaces. The HIV virus causes such deaths in AIDS. Similarly, the moral death of an individual is unavoidable if he or she is deprived of moral immunity. And the moral immunity doesn’t grow from good food, good house or wealth; but from the Qur’anic knowledge. It comes from the constant fear of accountability in the court of Allah SWT. Hence, deprivation of the Qur’anic knowledge -as caused by the secularisation of education system, could cause the total collapse of moral immunity. As a result, moral death in the Muslim World could get such an epidemic proportion. So, the flood gates of corruption stand wide open in almost all Muslim countries.

 

The best deed and the worst crime

As per Islamic faith, every Muslim is required to serve the assigned purpose in life. He or she must work as the viceroy of Allah SWT –the sole purpose of his or her existence here on earth. As the viceroy Allah SWT, he or she must take “enjoining the right and eradicating the evil” as a life-long mission –as prescribed in the Holy Qur’an. Therefore, a true Muslim eats, drinks and survives not for the sake of mere survival; but to serve such a solemn mission. The professional successes will bear the fruit in the hereafter only if his or her professional role fully aligns with his or her Divine role as the true viceroy of Allah SWT. Any non-alignment with the role only takes to the hellfire. Education must promote such alignment in students’ life and save from the deviation.   

Living life in this world has its own holy connotation. It must add to the journey towards paradise. For that, one must lead the life fully adherent to siratul mustaqeem –the roadmap shown in the Holy Qur’an. Any deviation from it takes only to the hellfire. And to avoid the deviation, one must learn to understand the signals of “no go areas” –as mentioned in the Qur’an. For that, one must know how to take lessons from the Holy Qur’an. Hence, acquiring Qur’anic knowledge is not an option but an obligation. And it is the prime responsibility of the education system to help students to know siratul mustaqeem. It is indeed the most critical issue in life. This is why “ih’dinas siratul mustaqeem” is the most important supplication. The real success in life comes only with full adherence to the Qur’anic roadmap. Only such success takes one to paradise.

Hence, the best deed in life is to show the Qur’anic roadmap to a man or a woman. All the prophets were sent to do this job. In fact, this must be the job of every teacher for his or her students. Every Muslim needs to engage in such a job, too. Indeed, such a deed is much better than donating millions of dollars to anyone. Millions of dollars can’t save one from hellfire but can be saved by true guidance. And the worst crime on earth is to deviate a man or woman from siratul mustaqeem. Such a crime takes one to the hellfire. It is indeed the crime of a devil. But awfully, such a worst crime is being committed nowhere else but in schools, colleges and universities in the Muslim World in the name of education. The Muslim ummah can only be saved in this world and in the hereafter if they are saved from this ongoing crime. 22.01.2020




কিছু অপ্রিয় ভাবনা-১

১.

ঈমানের সংজ্ঞা কি এবং ঈমানদার কাকে বলে -এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞানটি মানব জীবনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ জ্ঞান। ভাষা, বিজ্ঞান বা গণিতের জ্ঞান না হলেও জান্নাতে পৌঁছা যাবে। কিন্তু ঈমানের অর্থ কি এবং ঈমানদার কীরূপে হওয়া যায় -সে বিষয়ে অ্জ্ঞতা নিয়ে প্রকৃত ঈমানদার হওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব হলো জান্নাতে পৌঁছা। বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, এখানে ভূল হওয়ার কারণে অতিশয় বেঈমানও নিজেকে ঈমানদার মনে করে। তখন ভূল হয়, কে ইসলামের শত্রু এবং কে বন্ধু -সেটি চিনতে। অথচ মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে বড় অজ্ঞতাটি হলো এ বিষয়ে।

বান্দার উদ্দেশ্যে ঈমানদারের সংজ্ঞাটি জানিয়ে দিয়েছেন খোদ মহান আল্লাহতায়ালা। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত সে সংজ্ঞাটি হলো: “ঈমানদার একমাত্র তাঁরাই যারা বিশ্বাস করে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে এবং এ নিয়ে আর কোন রূপ দ্বিধা-দ্বন্দ করে না এবং তারা নিজেদের মাল ও জান নিয়ে জিহাদ করে আল্লাহর রাস্তায়। ঈমানের দাবীতে একমাত্র তারাই হলো সত্যবাদী।” -(সুরা হুজরাত, আয়াত ১৫)।

তাই জীবনে জিহাদ ছাড়া নিজেকে ঈমানদার রূপে দাবী করাটি নিরেট ভন্ডামী। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের অর্থ হলো আল্লাহর নিজের রাজ্যে অর্থাৎ দুনিয়ার বুকে একমাত্র তাঁরই সার্বভৌমত্ব ও তাঁরই প্রদত্ত শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠার জিহাদ। তাই যার জীবনে আল্লাহর আইন তথা শরিয়তকে বিজয়ী করার জিহাদ নাই, সে ব্যক্তি নামাযী, রোযাদার বা হাজী হতে পারে; মসজিদের ইমাম, আলেম, মাদ্রাসার শিক্ষক, মোফাছছের বা ইসলামী দলের নেতাও হতে পারে; কিন্তু সে ব্যক্তি কি প্রকৃত ঈমানদার হতে পারে?

জিহাদের পাশাপাশি শরিয়ত পালনের বিষয়টি আল্লাহর দরবারে ঈমানদার রূপে গণ্য হওয়ার জন্য অতি জরুরী। সে বিষয়টি মহান আল্লাহতায়ালা পরিস্কার করেছেন পবিত্র কোর’আনের সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে। উপরুক্ত তিনটি আয়াতে বলা হয়েছে, যারা শরিয়তের আইন অনুযায়ী বিচার করে না তারা কাফের, জালেম ও ফাসেক। মুসলিম রূপে গণ্য হওয়ার জন্য বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, ঔপনিবেশিক কাফেরদের হাতে অধিকৃত হওয়ার আগে সিরাজুদ্দৌলা-শাসিত বাংলা, মোগল-শাসিত ভারতসহ প্রতিটি মুসলিম দেশে শরিয়তের আইন অনুযায়ী বিচার হতো।

২.
রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মচারি প্রতি কাজে সরকারি আইন মেনে চলে। সে আইন অমান্য করলে বা তা্র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে শুধু চাকুরি থেকেই বহিস্কৃত হয় না, কঠোর শা্স্তিও ভোগ করে। কোর্টমার্শাল হয় বিদ্রোহী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের।

তাই জেল-জরিমানা থেকে বাঁচতে হলে দেশের আইন মেনে চলতে হয়। তেমনি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে হলে মানতে হয় শরিয়তের আইন। স্রেফ নামায়-রোযায় মুক্তি মিলে না। ঈমানের প্রকাশ তাই জীবনের প্রতি পদে শরিয়ত মেনে চলায়। নইলে ঈমানের দাবীটি ভূয়া গণ্য হয়। শরিয়তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে শাস্তি শুধু পরকালে নয়, দুনিয়ার বুকেও অনিবার্য হয়ে উঠে। মুসলিমগণ বস্তুতঃ দেশে দেশে সে আযাবের মধ্যেই। বাংলাদেশেও সে ভূয়া ঈমানেরই প্রদর্শণী হচ্ছে দেশের আদালতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা না দিয়ে।

৩.
পরকালের ভয় না থাকলে অতি কঠিন পাপও সহজ হয়ে যায়। পরকালের ভয়ই ঈমানদারের জীবনে বিপ্লব আনে। তখন ঈমানদারের জীবনে জিহাদ আসে এবং রাষ্ট্রের বুকে শরিয়ত প্রতিষ্ঠায় শহীদ হওয়ার অদম্য বাসনাও জাগে। পরকালের ভয় থাকাতেই নবীজী (সাঃ)র সাহাবীদের শতকরা৭০ ভাগের বেশী শহীদ হয়ে গেছেন। ফলে মুসলিমগণ বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে। নামায-রোযা, হজ্ব-উমরাহ মুনাফিকও করতে পারে। কিন্তু তার জীবনে জিহাদ থাকে না, শহীদ হওয়ার আগ্রহও থাকে না। তাদের সকল সামর্থ্য ব্যয় হয় পার্থিব জীবনকে সমৃদ্ধ করতে।

৪.

আলু-পটল,মাছ বা পোষাক রপ্তানি করা যায়। কিন্তু নারীও কি রপ্তানি করা যায়? শরিয়তে নারীদের তো একাকী হজ্বে যাওয়ারও অনুমতি নাই। অজানা বিদেশে এক অপরিচিতের ঘরে একজন পিতা বা মাতা তার মেয়েকে, ভাই তার বোনকে এবং স্বামী তার স্ত্রীকে কীরূপে কাজ  করার অনুমতি দেয়? সে ব্যক্তি যে নারী লোভি দুর্বৃত্ত নয় -সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হলো কী করে? কত মেয়ে ধর্ষিতা হয়ে দেশে ফিরছে সেটি কি তারা জানে না? সরকারই বা কেন নারীদের বানিজ্যিক পণ্যে পরিণত করে? এ কুফুরির বিরুদ্ধে আলেমদেরই বা প্রতিবাদ কই? অর্থের লোভে মানুষ কি এতটাই বিবেকশূণ্য ও ঈমানশূণ্য হতে পারে? এ বিবেকশূণ্যতার কারণেই সূদী লেনদেন ও বেশ্যাবৃত্তির ন্যায় জঘন্য পাপ কর্মও বৈধ অর্থনৈতিক কর্মে পরিণত হয়েছে।

৫.
যে আরএসএস গান্ধীকে হত্যা করেছিল তাদের হাতেই আজ অধিকৃত ভারতের শাসন ক্ষমতা, পুলিশ ও আদালত। ফলে মসজিদ ভাঙ্গলে এবং মুসলিমদের হত্যা ও ধর্ষণ করলেও ভারতে শাস্তি হয়না। মুসলিম নির্যাতনের যে কাজটি করে থাকে আরএসএস’য়ের গুন্ডারা, সেটিই করছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের পুলিশ। নরেন্দ্র মোদি নিজে আরএসএস’র প্রডাক্ট। অথচ তাকে ঘনিষ্ট বন্ধু রূপে পেয়ে নিজেকে ধণ্য মনে করে শেখ হাসিনা। উপঢৌকন রূপে হাসিনা মোদির জন্য পাঠায় বাংলাদেশী আম ও পাঞ্জাবী –যা বলেছে স্বয়ং মোদি। নরেন্দ্র মোদি যে নির্যাতনটি করছে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে, হাসিনাও সেটিই করছে বাংলাদেশী মুসলিমদের বিরুদ্ধে। মোদি প্রখ্যাত ইসলামী মনিষী যাকির নায়েককে ভারতে নিষিদ্ধ করেছে। হাসিনা সেটিই করেছে বাংলাদেশে। যে বীভৎস ও নৃশংস মুসলিম হত্যাকান্ডটি মোদি ঘটিয়েছে গুজরাতে, শেখ হাসিনা সেরূপ নৃশংস হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে হিফাজতে ইসলামের মুসল্লীদের বিরুদ্ধে ঢাকার শাপলা চত্ত্বরে।  




এতো জরুরী কেন একাত্তরের ইতিহাস?

ব্যর্থতা ইতিহাস তুলে ধরায়

ইসলামের শত্রুপক্ষ বিজয়ী হলে বিচার-আচারের মানদন্ডটিও তাদের অনুকুলে পাল্টে দেয়া হয়। তখন সে মানদন্ডে ইসলামের ভয়ানক শত্রু এবং কাফের শক্তির সেবাদাসও বন্ধু ও পিতা রূপে চিত্রিত হয়। সে সাথে ইসলামের পক্ষের শক্তি চিত্রিত হয় ভিলেন রূপে। মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের চরিত্রহরণ করা হয় এবং তাদের ফাঁসিতেও চড়ানো হয়। সেটি যেমন নমরুদ-ফিরাউনের আমলে হয়েছে, তেমনি হচ্ছে বাংলাদেশেও। এমন এক বিকৃত মানদন্ড প্রতিষ্ঠা দিয়ে শেখ মুজিবের ন্যায় গণতন্ত্র হত্যাকারি বাকশালীকে এবং তার দুর্বৃত্ত সাথীদেরকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। সে সাথে বন্ধু দেশ রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়া হয়েছে ভারতকে। অপরদিকে যারা ইসলামি ব্যক্তিত্ব তাদের চরিত্র হরণ করা হয়েছে নানা রূপ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে।

একাত্তরের ঘটনাবলিকে জনগণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ইসলামপন্থিদের ব্যর্থতাটি বিশাল। সত্য ইতিহাসকে তুলে ধরাটি মহান আল্লাহতায়ালার সূন্নত। পবিত্র কোর’আনে মহান আল্লাহতায়ালা সে বিশাল ইতিহাস তুলে ধরেছেন বলেই ফিরাউন, নমরুদ, কারুণের ন্যায় দুর্বৃত্তগণ  ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায়নি। মানব ইতিহাসে তারা হাজার হাজার বছর বেঁচে আছে মানুষের ঘৃণা ও অভিশাপ নিয়ে এবং নিজ নিজ অপরাধ কর্মগুলির শিক্ষ্যণীয় বিবরণ নিয়ে। অপর দিকে মানব জাতির জন্য অনুকরণীয় শ্রেষ্ঠ চরিত্র রূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ), হযরত মূসা (আঃ) এবং অন্যান্য নবীগণ। ইসলামের পক্ষের শক্তির পক্ষ থেকে তেমন একটি মূল্যায়ন একাত্তর নিয়েও হওয়া জরুরী ছিল।

এটি সত্য যে, একাত্তরে ইসলামের পক্ষের শক্তি পরাজিত হয়েছে। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়টি হয়েছে একাত্তরের পর। এবং সেটি নৈতিক, আদর্শিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয়। তারা পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছে একাত্তরের সত্য ইতিহাস তুলে ধরতে। কেন তারা অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষ নিল -সে সত্যটি তারা আজও তুলে ধরেনি। একাত্তরে যে দলগুলি পাকিস্তান ভাঙ্গার পক্ষ নিয়েছিল তারা হলো আওয়ামী লীগ, চীনপন্থি ও মস্কোপন্থি ন্যাপ, কম্যুনিস্ট পার্টি এবং হিন্দুগণ। এদের ভোট সংখ্যা আজ ৩৫% ভাগের বেশী নয়। অপর দিকে যারা অখন্ড পাকিস্তান বাঁচানোর পক্ষ নিয়েছিল তারা হলো মুসলিম লীগের তিনটি উপদল, জনাব নুরুল আমীনের পাকিস্তান ডিমোক্রাটিক পার্টি, নেজামে ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং সকল আলেম সম্প্রদায় ও পীরগণ। এদের বিশাল গণভিত্তি ছিল। সেটি শেখ মুজিব জানতো বলেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির নামে রেফেরেন্ডামের দাবী কখনোই করেনি। রেফেরেন্ডাম হলে পাকিস্তানপন্থিদের ভোট ৫-৬ দলের মাঝে বিভক্ত হতো না। তখন ভোট ভাগ হতো দুই ভাগে। শেখ মুজিব স্বাধীনতার দাবী তুলেছে ৬ দফার নামে ভোট নেয়ার পর।  ফলে পাকিস্তান ভাঙ্গার বিরোধী ছিল এমন বহু লোক তার দলকে ভোট দিয়েছে। এটি ছিল জনগণের সাথে মুজিবের বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ জনগণ কখনোই তাকে পাকিস্তান ভাঙ্গার ম্যান্ডেট দেয়নি।

একাত্তরে নেজামে ইসলাম একটি বৃহৎ দল ছিল। পঞ্চাশের দশকের এ দলের নেতা চৌধুরী মহম্মদ আলী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৫৬ সালে প্রণীত হয় পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান। দলটির আরেক নেতা কক্সবাজারের মৌলভী ফরিদ আহমেদ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন। জামায়াত নেতা জনাব গোলাম আযম লিখেছেন পিস কমিটি বানানোর ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী উদ্যোগী ছিলেন মৌলভী ফরিদ আহমেদ। আজকের হিফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা শফির ওস্তাদ মাওলানা সিদ্দিক আহমেদ সাহেব ছিলেন একাত্তরে নেজামে ইসলাম দলের প্রবীন নেতা। সত্তরের দশকে মাওলানা সিদ্দিক আহমেদ সাহেব ছিলেন হাট হাজারী মাদ্রাসার প্রধান। পাকিস্তানের অখন্ডতা বাঁচানোর কাজে এ দলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অথচ এ দলের নেতাগণও তাদের সে ভূমিকা নিয়ে আজ নিশ্চুপ। যেন তারা কিছুই জানে না। ফলে চরিত্র হনন হচ্ছে তাদেরও। তাদের নীরবতাটি বরং ইসলামের শত্রুদের জন্য চরিত্র হননের কাজটি আরো সহজ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সত্য বলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি তাদের অনেকে ইসলামের শত্রুদের সাথে মিতালী গড়ে তাদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও কদর বৃদ্ধিরও চেষ্টা করছেন। এ কাজে তাদেরকে শেখ হাসিনার পাশেও দেখা যায়। তাদের অনেকে হাসিনার ন্যায় এক দুর্বৃত্ত ভোট-ডাকাতকে ‘কওমী জননী’র খেতাবও দিয়েছে। নৈতীক দিক দিয়ে নীচের নামার এটি এক বিরল দৃষ্টান্ত।

ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একাত্তরে ইসলামের পক্ষের শক্তিগুলির যে গৌরবময় ভূমিকা ছিল -সেটিকে তারা নিজেরাই নিজেদের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত করেছে। এদিক দিয়ে  জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের ভূমিকাটি অতি বিস্ময়কর। ‌বিজয় দিবসের নামে ১৬ ডিসেম্বরে  তারা যেরূপ বিজয় মিছিল বের করে -সেরূপ মিছিল একাত্তরের যারা প্রকৃত বিজয়ী তারাও করে না। অথচ কে না জানে, ‌১৬ ডিসেম্বরে বিজয়টি ইসলামের পক্ষের শক্তির ছিল না। সে বিজয় ছিল ভারত ও তার সেবাদাসদের। এ দিনটি ছিল বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের মাতমের দিন। যাদের মনে সামান্যতম ঈমান আছে তারা কি কোন মুসলিম দেশ ভেঙ্গে যাওয়াতে খুশি হতে পারে? এ দিনে সে বিজয় মিছিলই বা বের করবে কোন আনন্দে? সে দেশটি পাকিস্তান না হয়ে যদি সূদান, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক বা অন্য যে কোন মুসলিম দেশ হতো -তবু্ও তো সেটি মাতমের দিন রূপে গণ্য হতো।

 

জিহাদ চাই বুদ্ধিবৃত্তির অঙ্গণে

মুসলিমদের ব্যর্থতা শুধু বন্ধুদের চেনায় নয়, শত্রুদের চেনাতেও। এরূপ ব্যর্থতার কারণে মুসলিম উম্মাহর মাঝে একতার চেয়ে বিভক্তিই শ্রেয় গণ্য হয়েছে। এর ফলে শত্রুগণ যেমন নেতা বা পিতা রূপে চিহ্নিত হয়েছে, তেমনি বন্ধুগণ চিহ্নিত হয়েছে শত্রু রূপে। অথচ শত্রু-মিত্র চেনার এ ব্যর্থতাটিই ব্যক্তির সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা। এরূপ অযোগ্যতায় মহান সৃষ্টিকর্তাকে চেনাও অসম্ভব হয়। ফিরাউনের ন্যায় দুর্বৃত্তগণ তখন জনগণের কাছে ভগবান, নেতা, পিতা বা প্রধানমন্ত্রী রূপে গৃহিত হয়। শাপ-শকুন, গরু-বাছুর, মুর্তি ভগবানের আসনে বসার সুযোগ পেয়েছে তো মানুষের সে বোধহীনতার কারণে। এক্ষেত্রে বাঙালী মুসলিমের ব্যর্থতাটি বিশাল।

একটি জনগোষ্ঠি কতটা জাহান্নামী -সেটি বুঝা যায় কাকে তারা ভগবান বলে মান্যতা দেয় বা পূজা দেয় তা থেকে। তেমনি একটি দেশের মানুষ কতটা অযোগ্য, অশিক্ষিত বা বোধশূণ্য সেটি বুঝা যায় সেদেশে কীরূপ মানুষ জাতির পিতা, নেতা বা শাসক রূপে গৃহীত হয় -তা দেখে। যেদেশে শেখ মুজিবের ন্যায় একজন গণহত্যাকারি বাকশালী ফ্যাসিস্টকে বঙ্গবন্ধু বা জাতির পিতার আসনে বসানো হয় বা শেখ হাসিনার ন্যায় নৈশকালীন ভোট-ডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলা হয় –সে দেশের মানুষকে কি সুসভ্য, সুশিক্ষিত ও বিবেকবান বলা যায়? গণতন্ত্রের এরূপ শত্রুদেরকে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স বা জার্মানীর ন্যায় দেশে রাজনীতি করতে দেয়া দূরে থাক, বাঁচার অধিকার দিত? অথচ বাংলাদেশে এ দুর্বৃত্তগণই ছিল একাত্তরের নেতা এবং আজ দেশ তাদের হাতেই অধিকৃত।  

জীবনে বাঁচাটি নিরাপদ করতে হলে শুধু বিষাক্ত শাপ ও হিংস্র পশুকে চিনলে চলে না; মানবরূপী দুর্বৃত্তদেরও চিনতে হয়। সে সামান্য সামর্থ্যটুকু না থাকলে অসম্ভব হয় মহান আল্লাহতায়ালা, তাঁর দ্বীন ও তাঁর প্রিয় রাসূলকে চেনা। অসম্ভব হয় সমাজের সভ্য মানুষদের চেনা। অথচ এটিই মানব জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এমন ব্যর্থতা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে পৌঁছায়। শাপ যে প্রাণনাশী -সেটি জানা যায় শাপের দংশনে কারো মৃত্যু দেখে। তেমনি দুর্বৃত্ত নেতাদের চেনা যায় তাদের হাতে জনগণের প্রাণনাশ, ক্ষয়-ক্ষতি ও মুসলিম উম্মাহ দুর্বল হওয়া দেখে। তাই যারা ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার নামে মুসলিম উম্মাহর দেহকে খণ্ডিত করে -তাদেরকে কি কখনো বন্ধু বা নেতা বলা যায়? অথচ বাংলাদেশে সেটিই হয়েছে।

বাংলাদেশে যারা ইসলামের পক্ষের আলেম, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী তাদের জন্য যে কাজটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, জনগণের মনকে কোর’আন-হাদীস ও ইতিহাসের জ্ঞানে আলোকিত করা। নইলে অন্ধকার নিয়ে কে শত্রু এবং কে মিত্র সেটি চেনার কাজ কখনোই সঠিক হয় না। বিশেষ করে সেটি একাত্তর প্রসঙ্গে। এটি এক বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ। নইলে রাজনীতির অঙ্গণে ইসলামের শত্রু ও ভারতেসেবী মীর জাফরদের বিরুদ্ধে যে জিহাদ চলছে তাতে  বিজয়ী হওয়া অসম্ভব হবে। এক্ষেত্রে ইসলামপন্থিদের ব্যর্থটি বিশাল। এটি যে চরম ব্যর্থতা -সে ধারণাও তাদের নাই। এ ব্যর্থতার কারণেই কাফের শক্তির সেবাদাসগণ যেমন নেতা গণ্য হচ্ছে, তেমনি ইসলামপন্থি ব্যক্তিগণ ব্যর্থ হ্চছে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে। অথচ ভারতসেবী মীর জাফরদের মুসলিম স্বার্থ বিরোধী চক্রান্তকে তুলে ধরার জন্য একাত্তরের ঘটনাবলি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একাত্তরের ইতিহাসের ছত্রে ছত্রে রয়েছে তাদের কৃত অপরাধের রক্তাত্ব স্বাক্ষর।

ইতিহাসের মধ্যে থাকে অমূল্য জ্ঞানের ভান্ডার। অতীতের ইতিহাস থেকে যেমন পাওয়া যায় শয়তানী শক্তির পরিচয়, তেমনি পাওয়া যায় সঠিক পথে সামনে চলার প্রয়োজনীয় জ্ঞান। বিজ্ঞান না জানার কারণে কোন জাতি জাহান্নামী হয় না, জাহান্নামী হয় ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেয়ার কারণে। তখন জ্ঞানহীন কাপালিকগণ নিজ যুগের ফিরাউনকেও পদসেবা দেয়। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ন্যায় স্বৈরাচারি, বাকশালী ও মানব-হত্যাকারিদের নেতা হওয়ার পিছনে রয়েছে তো কাপালিক-সুলভ এ অজ্ঞতা। তাদের কারণেই তো দেশে প্লাবন এসেছে গুম, খুন, ধর্ষণ ও পিটিয়ে মানুষ হত্যার রাজনীতির। মহান আল্লাহতায়ালা তাই তাঁর পবিত্র কোর’আনে জীববিদ্যা, পদার্থ বিদ্যা বা গণিতের পাঠ দেননি, কিন্তু বিপুল পাঠ দিয়েছেন ইতিহাস জ্ঞানের। পরিতাপের বিষয় হলো সত্য জ্ঞান তুলে ধরায় মহান আল্লাহতয়ালার সে পবিত্র সূন্নত বাংলাদেশের ইসলামপন্থিদের দ্বারা পালিত হয়নি। অথচ এটিই কাঙ্খিত ছিল যে, একাত্তর নিয়ে সবচেয়ে বেশী লেখা-লেখি ও গবেষণা হবে ইসলামপন্থিদের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেটি হয়নি। তারা সে ইতিহাসকে বরং ঢাকার চেষ্টা করেছে। ইতিহাস চর্চার এ অঙ্গনে তাদের অনুপস্থিতি শত্রুপক্ষের জন্য যেটি সহজ করেছে তা হলো ইতিহাস বিকৃতি। একাত্তরকে ভূলে নয়, বরং ইতিহাসের এ গুরুত্বপূর্ণ পর্ব থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং শিক্ষা দান করেই ইসলামের পক্ষের শক্তিকে সামনে এগুতে হবে। ০১/০১/২০২০  

 




একাত্তরের শিক্ষা এবং স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রসঙ্গ

যে ভয়ানক নাশকতাটি অনৈক্যের

মুসলিম উম্মাহ আজ যে কারণে শক্তিহীন ও ইজ্জতহীন -সেটি মুসলিম দেশগুলির ভূমি বা জলবায়ুর কারণে নয়। সম্পদের কমতির কারণেও নয়। জনসংখ্যার কমতিতেও নয়। বরং মূল কারণটি হলো, মুসলিমদের অনৈক্য্। সে অনৈক্যের মূল কারণটি হলো, মুসলিম দেশগুলিতে দুর্বৃত্তদের নেতৃত্ব। দেশ চলে নেতাদের নির্দেশে। ফলে নেতাগণ ভ্রষ্ট, অযোগ্য, দুর্বৃত্ত ও বেঈমান হলে দেশও তখন দুর্বৃত্ত কবলিত ও ব্যর্থ হতে বাধ্য। দুর্বৃত্ত নেতাদের সবচেয়ে বড় দুর্বৃত্তিটি হয় ভাষা ও বর্ণের নামে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তির দেয়াল গড়ার মধ্য দিয়ে। মুসলিম সমাজে এরাই শয়তানের দাস। তাদের লক্ষ্য, মুসলিমদের কল্যাণ নয়, পরাজয় ক্ষতিসাধন। সেটি করে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি গড়ে। এজন্য তারা ইসলামের শত্রুশক্তির কাছে এতো প্রিয়। শেখ মুজিব এবং তার কন্যা হাসিনা ভারতের শাসকচক্রের কাছে এজন্যই এতো প্রিয়। একই রূপ গাদ্দারির কারণে ব্রিটিশ সরকার থেকে শুধু রাজনৈতিক প্রশ্রয়ই নয়, অর্থ, অস্ত্র এবং সামরিক বাহিনীর সহায়তা পেয়েছিল মক্বার গর্ভনর শরিফ হোসেনকে। কারণ সে উসমানিয়া খলিফার বিলুপ্তির লক্ষ্যে বিদ্রোহ করেছিল। 

দেশ বিভক্ত হলে দুর্বলতা বাড়ে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন যত বিশালই হোক ক্ষুদ্র ভূগোলের কারণে তা দিয়ে শক্তি বাড়ে না। মাথা পিছু আয়ের দিক দিয়ে কাতার সমগ্র পৃথিবীতে প্রথম। কিন্তু সে আয়ের কারণে দেশটির শক্তি বাড়েনি। মাথা পিছু আয় তা থেকে আরো শতগুণ বাড়লেও তাতে  কাতার কোন শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে না। কারণ দেশটি ক্ষুদ্র। রাশিয়ার অর্থনীতি দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়েও দুর্বল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটি একটি বিশ্বশক্তি। কারণ, রাশিয়ার রয়েছে বৃহৎ ভূগোল। তাই ভূগোল ক্ষুদ্রতর করা মানে রাষ্ট্রকে শক্তিহীন করা। ইসলামে তাই এটি হারাম। কারণ মহান আল্লাহতায়ালা মুসলিমদের দুর্বল দেখতে চান না। এতে খুশি হয় শয়তান এবং শয়তানের অনুসারি কাফেরগণ। তাই মুজিবের ন্যায় যারাই মুসলিম দেশের ভূগোল ছোট করেছে তারা ভয়ানক ক্ষতি করেছে মুসলিমদের। এমন ব্যক্তিগণ কখনোই মুসলিমদের বন্ধু হতে পারে না। ইসলামের এরূপ শত্রুদের বিজয়ে কাফেরগণ যেমন পুঁজি বিনিয়োগ করে, তেমনি তাদের বিজয় নিয়ে উৎসবও করে। একাত্তরে ভারত সেটিই করেছে।

অথচ ঈমানদারের চেতনাটি সম্পুর্ণ ভিন্ন। কোন মুসলিম দেশ যদি ভেঁঙ্গে যায় এবং ভেঁঙ্গে যাওয়ার বেদনাটি যদি কেউ হৃদয়ে অনুভব করে তবে বুঝতে হবে তার ঈমানের ভান্ডারটি শূণ্য। এজন্যই একাত্তরে কোন আলেম, কোন ইসলামী দল, ইসলামী চেতনাসমৃদ্ধ কোন বুদ্ধিজীবী এবং কোন পীর পাকিস্তান ভাঙ্গার পক্ষ নেয়নি। পাকিস্তান ভাঙ্গার প্রকল্পটি ছিল ইসলামের শত্রু পক্ষের। বাংলাদেশ আজ ইসলামের এ শত্রুদের হাতেই অধিকৃত। নামায়-রোযা, হজ্ব-উমরাহ মুনাফিকও পালন করতে পারে। নবীজী (সাঃ)র যুগে মুনাফিকগণ তার পিছনেও নামায পড়েছে। কিন্তু তারা হৃদয়ে ঈমান নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে না।

যে কোন বৃহৎ দেশ সেদেশে বসবাসকারি মুসলিমদের জন্য বৃহৎ ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি করে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র্র পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠি হওয়ার কারণে বাঙালী মুসলিমগণ বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে যে ভূমিকা পালনের সুযোগ পেয়েছিল সে সুযোগ হারিয়ে তারা এখন ভারতের পদতলে আত্মসমর্পিত। ভারতের বিরুদ্ধে কথা বললে পিটুনি খেয়ে লাশ হতে হয়। এটিই হলো একাত্তরের প্রকৃত অর্জন। বাংলাদেশে অসভ্য নাচগানের আসর করতে অনুমতি লাগে না। কিন্তু অনুমতি লাগে কোরআনের তাফসির করতে। কম্যুনিস্ট, নাস্তিক বা অমুসলিমদের দল করতে বাঁধা নাই। কিন্তু বাঁধা আছে ইসলামের নামে দল করতে। সেটির শুরু মুজিবের হাতে।  ক্ষমতা হাতে পাওয়ার সাথে সাথে মুজিব সকল ইসলামী দলকে নিষিদ্ধ করে এবং দলগুলির নেতাকর্মীদের কারাবন্দী করে। অথচ পাকিস্তানে সে বিপদ ছিল না।

 

হারাম বিষয় কখনোই হালাল হয় না

কোর’আন-হাদীস নিয়ে যাদের সামান্য জ্ঞান আছে তাদের মাঝে মুসলিম দেশ ভাঙ্গার কাজটি যে হারাম -তা নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ থাকার কথা নয়। অথচ সে হারামকে হালাল বানানোর চেষ্টাটি বাঙালী সেক্যুলারিস্টদের মাঝে কম নয়। দেশ ভাঙ্গাকে জায়েজ করতে তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, পাকিস্তান আমলে অনৈক ইসলামী কাজ ও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাতে কি একটি দেশ ভাঙ্গার ন্যায় একটি হারাম কাজ জায়েজ হয়? হারাম তো সব সময়ই হারাম। জনপদে সভ্য মানুষের বসবাস যেমন গড়ে উঠে, তেমনি বিষাক্ত সাপও সেখানে বাসা বাঁধার চেষ্টা করে। ঘরে সাপ ঢুকলো সে সাপ মারতে হয়, সে জন্য ঘরে আগুণ দেয়াটি শুধু বুদ্ধিহীনতাই নয়, গুরুতর অপরাধ। তাই শাসক যত দুর্বৃত্তই হোক -সে কারণে দেশ ভাঙ্গা জায়েজ হয় না। জায়েজ হয় না জনগণের মাঝে ভাষা বা বর্ণ ভিত্তিক ঘৃণা, ভিন্নতা বা শোষণের কারণেও। দেশ বাঁচিয়ে রেখেও এসব রোগের চিকিৎসা আছে। তাছাড়া প্রশ্ন হলো, একাত্তরের পূর্বে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ -এ ২২ বছরের পাকিস্তানী আমলে ২২ জন পূর্ব পাকিস্তানীও কি পুলিশ বা সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে? অথচ ২০১৩ সালের ৫’মের এক রাতে শাপলা চত্তরে হিফাজতে ইসলামের শত শত মুসল্লীকে হত্যা করা হয়েছে। এবং মিউনিসিপালিটির ময়লা ফেলার গাড়িতে তুলে তাদের লাশ গায়েব করা হয়েছে। পঞ্চাশের বেশী সেনা অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে পিলখানাতে। মুজিবের শাসনামলে রক্ষিবাহিনী হত্যা করেছে তিরিশ হাজারের বেশী বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের। যু্দ্ধ আসলে সে সাথে  যুদ্ধাপরাধও আসে। একাত্তরের যুদ্ধে তাই বহু হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ভয়নাক গণহত্যাগুলি হয়েছে কোনরূপ যুদ্ধ ছাড়াই। ৯ মাসের যুদ্ধকালীন সময়টি ছাড়া পাকিস্তান আমলে কখনোই এরূপ গণহত্যা হয়নি।    

তাছাড়া অনেক খুনখারাবী ও অনৈসলামিক কাজ উমাইয়া ও আব্বাসী খলিফাদের আমলেও হয়েছে। মক্কায় পবিত্র ক্বা’বাতে আগুন দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইমাম হোসেন (রাঃ)’য়ের ন্যায় মহান ব্যক্তিও সে সরকারি নৃশংসতা থেকে রেহাই পাননি। তারপরও জনগণ মুসলিম রাষ্ট্রকে ভাঙ্গেনি। কারণ ক্বা’বাতে আগুন দেয়া বা হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের হত্যার চেয়েও হাজার গুণ বেশী ক্ষতি হয় যদি মুসলিম রাষ্ট্র ভাঙ্গা হয়। এজন্যই মহাজ্ঞানী আল্লাহতায়ালা মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি হারাম করেছেন এবং ভাষা ও বর্ণের নামে গড়ে উঠা ভেদাভেদের দেয়াল ভেঙ্গে একতা গড়াকে ইবাদত বলেছেন। একাত্তরে এ জ্ঞানটুকু থাকার কারণেই কোন ইসলামী দল বা ব্যক্তি পাকিস্তান ভাঙ্গার পক্ষ নেয়নি।

 

যে ব্যর্থতা জনগণের

তবে ব্যর্থতা শুধু নেতাদেরই নয়, সাধারণ জনগণের। জনগণকে শুধু চাষাবাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরি-বাকুরি জানলে চলে না। তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বপালনেও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হয়। মুসলিম মাত্র দায়িত্ববান ব্যক্তি। দায়িত্বহীনগণ মুনাফিক হয়, কাফের হয়; কিন্তু তারা মুসলিম হতে পারে না। মুসলিমকে যোগ্যতার পরিচয় দিতে হয় শত্রু-মিত্র চেনাতেও। চোর-ডাকাতদের বন্ধু, নেতা বা পিতা রূপে জড়িয়ে ধরার মধ্যে যা প্রকাশ পায় সেটি বেঈমানী। তাতে যেমন দুনিয়ায় কল্যাণ নাই, তেমনি আখেরাতেও কল্যাণ নেই। এটি অবিকল বিষাক্ত শাপকে জড়িয়ে ধরার মত।

মুসলিমদের বড় বড় ক্ষতিগুলো যারা করেছে তাদের অপরাধগুলো কোন কালেই লুকানো ছিল না। কিন্তু তাদের সে অপরাধগুলি স্বচোখে দেখেও তারা সে অপরাধীদের নেতার আসনে বসিয়েছে। এরচেয়ে বড় অপরাধ কি হতে পারে? বাঙালী মুসলিমদের ব্যর্থতার মূল কারণ এখানেই। বাসের সকল যাত্রী মাতাল হলেও সে বাস গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় না -যদি চালক সুস্থ্য হয়। কিন্তু যাত্রীগণ দরবেশ হলেও গাড়ী দুর্ঘটনা ঘটাবে বা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হবে -যদি চালক মাতাল বা মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়। এজন্যই সবচেয়ে যোগ্যবান ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের ড্রাইভিং সিটে বসানোর মধ্যেই কল্যাণ। এটিই নবীজী (সাঃ)র সূন্নত। তাই ইসলামের গৌরব যুগে রাষ্ট্র নায়কের সে সিটে বসেছেন খোদ নবীজী (সাঃ)। এবং নবীজী (সাঃ)’র ইন্তেকালের পর সে আসনে বসেছেন তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহাবাগণ। অথচ বাংলাদেশ হচ্ছে তার উল্টোটি। রাষ্ট্র হাইজ্যাক হয়েছে ভোট-ডাকাত ফ্যাসিস্টদের হাতে। অথচ বাংলাদেশীদের মাঝে তা নিয়ে কোন প্রতিবাদ নেই। গরুছাগল সামনে কোন অন্যায় হতে দেখেও যেমন নীরবে ঘাস খায়, বাংলাদেশের মুসলিমদে অবস্থা কি তা থেকে ভিন্নতর?

রাষ্ট্রের কল্যাণ কাজের শুরুটি সমাজের নীচের তলা থেকে হয় না। সেটি শুরু করতে উপর থেকে। দেশের জনগণদের সবাইকে ফেরেশতা বানিয়ে তাই রাষ্ট্রে কল্যাণ আনা যায় না। সবাইকে ফেরেশতা বানানোর কাজটি সম্ভবও নয়। কারণ, অধিকাংশ মানুষ যে জাহান্নামে যাবে সেটি তো মহান আল্লাহতায়ালার কথা। সমাজ বিপ্লবের পথে তাই জরুরী হলো শাসন ক্ষমতায় নেক বান্দাদের বসানোর বিপ্লব। নইলে হাজার হাজার মসজিদ-মাদ্রাসা গড়েও দেশে কোন কল্যাণ আসবে না। বাঙালী মুসলিম দুর্গতির মূল কারণ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ভাল মানুষকে বসানোর ন্যায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জনগণের কাছে গুরুত্বই পায়নি। তারা কল্যাণ খুঁজেছে মসহজিদ-মাদ্রাসা গড়ায়। এবং স্রেফ নিজে ভাল হওয়ায়। নবীজী (সাঃ) ও তাঁর প্রিয় সাহাবাগণ রাষ্ট্রীয় বিপ্লবের যে মহান সূন্নত রেখে গেছেন -তা থেকে তারা কোন শিক্ষাই নেয়নি।

 

একাত্তরের যুদ্ধের ধারাবাহিকতা

ইসলামের শত্রুপক্ষীয় দুর্বৃত্তদের নীতি হলো, “মানুষকে বিভক্ত করো এবং শাসন করো”। এদের কাজ তাই ভাষা, বর্ণ, ভৌগলিক ভিন্নতা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে জনগণের মাঝে বিভক্তি গড়া। শেখ মুজিবের রাজনীতির মূল পুঁজিই ছিল ঘৃণাভিত্তিক এ বিভক্তির রাজনীতি। পাকিস্তান আমলে তার বিভক্তির রাজনীতির ব্যাকারণ ছিল বাঙালী ও অবাঙালীর বিভক্তি। তেমন একটি ঘৃণাপূর্ণ মগজ নিয়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে নিজ দলকে শক্তিশালী করার কোন চেষ্টাই করেননি। সমগ্র পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে আগ্রহ থাকলে সে গরজটি তার মাঝে দেখা যেত। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর বিভেদ গড়লেন বাংলাদেশ সৃষ্টির পক্ষ-বিপক্ষের ভিত্তিতে। এমন ক্ষমতালিপ্সু ক্ষুদ্র মনের মানুষদের কারণেই মুসলিম দেশগুলি খন্ডিত হয়েছে এবং দুর্বল হয়েছে। শয়তান এবং তাবত ইসলাম বিরোধীশক্তিও তো সেটিই চায়। এজন্যই কাফের অধিকৃত দেশগুলিতে তাই এদের বন্ধুর অভাব হয়না। বাংলাদেশের বুকে আত্মবিনাশী সে বিভক্তির রাজনীতিকে বলবান করার কাজে ভারতীয়দের বিনিয়োগ এজন্যই বিশাল। সে রাজনীতিকে বিজয়ী করতে একাত্তরে তারা যুদ্ধও করেছে। এবং তাদের সে নীতি আজও প্রয়োগ করে চলছে। ফলে শেখ হাসিনার পিছনে ভারতীদের রাজনৈতিক ও সামরিক বিনিয়োগটিও একাত্তরের ন্যায় বিশাল। দেহ খন্ডিত হলে যেমন অসম্ভব হয় নিজ পায়ে দাঁড়ানো, তেমনি এক পঙ্গুদশা হয় খন্ডিত দেশেরও। ইসলামে তাই এটি হারাম। অথচ শয়তানী শক্তির স্ট্রাটেজী সম্পূর্ণ বিপরীত।

ফলে ভারতের ন্যায় যারাই ইসলাম ও মুসলিমের ক্ষতিসাধনে উদগ্রীব তাদের স্ট্রাটেজীটি হলো, প্রতিটি মুসলিম দেশে বিচ্ছিন্নতাকামী দুর্বৃত্তদের ময়দানে নামানো। সেটি যেমন বাংলার মাটিতে পাকিস্তান আমলে দেখা গেছে, তেমনটি এখনও দেখা যাচ্ছে্। ভারত শুধু পাকিস্তান ভাঙ্গা নিয়ে খুশি নয়, মেরুদন্ড ভাঙ্গার বাসনা রাখে প্রতিটি মুসলিম দেশ ও জনপদে। মেরুদন্ড ভাঙ্গার সে কাজ ত্বরান্বিত করতেই কাশ্মীরে ভারত ৭ লাখ সৈন্য মোতায়েন করেছে। অথচ কাশ্মীরের জনসংখ্যা এক কোটিরও কম।  তেমন একটি মেরুদন্ড ভাঙ্গার লক্ষ্য বাংলাদেশেও। সে লক্ষ্যে ভারতের বিপুল বিনিয়োগ বাংলাদেশে। সেটি যেমন ভারতসেবী গুন্ডা উৎপাদনে, তেমনি গ্রামে গ্রামে গুপ্তচর বাহিনী গড়ে তোলায়। ভারতসেবীদের ক্ষমতায় রাখা এজন্যই ভারতীয়দের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ। ভোটে জিতবে না সেটি নিশ্চিত হয়েই ভারত মধ্যরাতে ভোট-ডাকাতির মাধ্যমে হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার চক্রান্ত করে। এবং দমন প্রক্রিয়া চালু রেখেছে, এ ভোট-ডাকাত সরকারের বিরুদ্ধে যে কোন বিদ্রোহকে ব্যর্থ করায়।

ভারতীয়দের একাত্তরের যুদ্ধটি একাত্তরে শেষ হয়নি। একাত্তরে তাদের যুদ্ধটি ছিল পাকিস্তানকে খন্ডিত করার। পাকিস্তানকে খন্ডিত করার প্রয়োজনটি দেখা দিয়েছিল উপমহাদেশে মুসলিম শক্তিকে দুর্বল করার প্রয়োজনে। একাজে তারা কলাবোরেটর রূপে বেছে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও ন্যাপসহ ইসলামী চেতনাশূণ্য সেক্যুলারিস্টদের। তবে পাকিস্তান খন্ডিত হলেও দুর্বল হয়নি, বরং পরিণত হয়েছে পারমানবিক শক্তিশালী দেশে। ফলে একাত্তরে যেরূপ রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে বিজয়ী হয়েছিল, সেরূপ বিজয় এখন অসম্ভব। এর ফলে ভারতের সমস্যা বা ভয় কোনটাই কাটেনি। উপরুন্ত ভারতীয়দের মনে ভয় জেগেছে পূর্ব সীমান্তে আরেক শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব নিয়ে। ভারত-অনুগত দাস শাসনের অবসান হলে তেমন একটি বাংলাদেশের উদ্ভব যে সম্ভব -তা নিয়ে ভারত নিজের বিশ্বাসটিও প্রবল। তখন যুদ্ধ দেখা দিবে ভারতে পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি প্রদেশে। এ কারণেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাটেজী হলো বাংলাদেশের বুকে যারা ভারতের গোলামী নিয়ে বাঁচতে চায় তাদের সযত্নে বাঁচিয়ে রাখা। এবং যারা মুসলিম পরিচিতির ধারক তাদের নির্মূল করা। তেমন একটি লক্ষ্যে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে যেতেও রাজি।   

বাংলাদেশের মাটিতে চলমান ভারতীয় যুদ্ধের আলামতগুলি প্রচুর। সেটি চলছে গুম-খুনের রাজনীতির নামে। বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কথা বললে কেউ ক্ষিপ্ত হয়না। লাঠি হাতে কেউ ধেয়েও আসে না। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে কথা বললে লাঠি হাতে মারতে তাড়া করে ছাত্রলীগের গুন্ডাগণ। এবং পিটিয়ে হত্যাও করে। ভারতের বিরুদ্ধে ফেস বুকে বক্তব্য দেয়ায় বুয়েটের আবরার ফাহাদ এদের হাতেই নৃশংস ভাবে লাশ হলো। একই কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরা পিটিয়ে মরণাপন্ন করেছে ভিপি নুরুল হক সহ প্রায় তিরিশজনকে। অনেকে হয়েছে পঙ্গুত্বের শিকার।

 

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ভারতসেবী চেতনা

ভারতীয়দের একাত্তরের যুদ্ধের স্ট্রাটেজীর সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলমান যুদ্ধটির ধারাবাহিকতা যে কতটা গভীর সেটি বুঝা যায়, ভারতবিরোধীদের উপর সরাসরি হামলাগুলি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নামের সংগঠন থেকে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ক্যাডারদের কাজ হয়েছে যারাই ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদের উপর হামলা করা। তাদের কথা, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন কথা বলা যাবে না। কথা হলো, ভারতের বিরুদ্ধে নানা দেশে এবং জাতিসংঘে কথা বলা হচ্ছে, অতএব বাংলাদেশে যাবে না কেন? ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলা দুষণীয় হলে তারা কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কথা বলে? ভারতীয় স্বার্থের পাহারাদার এ গুন্ডা সংগঠনটি জনবল পাচ্ছে ছাত্রলীগ থেকে। ভারতের ন্যায় ভারতসেবী হাসিনা সরকারের কাজ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এ দাস-যোদ্ধাদের প্রটেকশন দেয়া। ফলে তাদের হাতে সাধারণ ছাত্রগণ গুরুতর আহত হয়ে ইনটেনসিভ কেয়ারে ঢুকলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কেস নেয়না।

একাত্তরে ভারত ও ভারতসেবী আওয়ামী বাকশালীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি ছিল –সেটি বুঝার মোক্ষম সময় মূলতঃ এখন। মুজিব স্বাধীনতাও চায়নি, গণতন্ত্রও চায়নি। স্বাধীনতা চাইলে কি ভারতের সাথে ২৫ সালা দাসচুক্তি স্বাক্ষর করতো? গণতন্ত্রও চায়নি। গণতন্ত্র চাইলে কি দেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতো? নিষিদ্ধ করতো কি সকল বিরোধী দলীয় পত্র-পত্রিকা? মুজিবের ছিল একটি মাত্র এজেন্ডা। সেটি হলো যে কোন মূল্যে গদিতে বসা। সে লক্ষ্যে সে যেমন পাকিস্তান ভাঙ্গতে দু’পায়ে খাড়া ছিল, তেমনি প্রস্তুত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিক্রি করাতেও। সে অভিন্ন এজেন্ডাটি নিয়ে কাজ করছে হাসিনাও। আর এরূপ ক্ষমতালোভী দেশ বিক্রেতাদের দাস রূপে পেলে ভারত তাকে দিয়ে ইচ্ছামত কাজ করিয়ে নিবে সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? তাই মুজিবকে দিয়ে যেমন ২৫ সালা দাসচুক্তি, পদ্মার পানি ও বেরুবাড়ি আদায় করে নিয়েছে, তেমনি হাসিনার মাধ্যেমে নিয়েছে করিডোর, তিস্তা ও ফেনি নদীর পানি, বাংলাদেশের বন্দরে ভারতীয় জাহাজের প্রবেশাধীকার এবং আরো অনেক কিছু। ক্ষমতালিপ্সুদের ক্ষমতায় যাওয়াতে এভাবে দেশের ভয়ানক স্বার্থহানি ঘটে।

ভারত ও ভারতসেবী আওয়ামী বাকশালীদের চেহারাটি একাত্তরেও সুস্পষ্ট ভাবে প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু সেদিন অনেকের চোখই অন্ধ ছিল পাকিস্তানের প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণার কারণে।  আকাশে মেঘ জমলে সূর্যও আড়াল হয়ে যায়; তেমনি মনে বিদ্বেষ ও ঘৃণা জমলে সত্যকে দেখার সামর্থ্যও বিলুপ্ত হয়। একাত্তরে ভারত ও ভারতসেবীদের কুৎসিত চেহারাটি এজন্যই অনেকে দেখতে পায়নি। এখন তো বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান নাই। ফলে সবাই দেখতে পাচ্ছে ভারত ও ভারতসেবী আওয়ামী বাকশালীদের প্রকৃত চেহারাটি। তাই তাদের প্রতি ঘৃণাটি শুধু একাত্তরের রাজাকারদের বিষয় নয়, সেটি পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষের নিজস্ব উপলব্ধি।  

ফলে ভারতসেবী বাকশালীদের মিথ্যাচার সরিয়ে একাত্তরের সত্য ঘটনাগুলি জানার এখনই উপযুক্ত সময়।  প্রকৃত বীর, আর কারা ভারতসেবী গাদ্দার -একাত্তরের ইতিহাসের মাঝে রয়েছে তার প্রামাণিক দলিল।  সে দলিল যে বিষয়টি সুস্পষ্ট তা হলো, আগ্রাসী ভারতের হামলা থেকে স্বাধীনতা বাঁচানোর চেতনাটি কখনোই বাকশালী ভোট-ডাকাত ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের গুন্ডাদের চেতনা নয়। বরং সেটি হলো একাত্তরের রাজাকারদের চেতনা -যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে ভারতীয় বাহিনী ও ভারতের অর্থে পালিত সেবাদাসদের বিশাল আগ্রাসন রুখতে জিহাদে নেমেছিল।  বহু হাজার রাজাকার সে ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচতে শহীদও হয়েছিল। ০১/০১/২০২০