বিবিধ ভাবনা (৫১)

image_pdfimage_print

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১. ফেল করছে বাংলাদেশীরা

ঘরে ডাকাতের হামলা হলে যে ব্যক্তি ঘুমায় তার বিবেক যে মৃত –তা নিয়ে কি সন্দেহ থাকে? বিবেকহীনতার জন্য সে ব্যক্তি সবার ধিক্কার পায়। বাংলাদেশের জনগণও তেমনি বিশ্ববাসীর ধিক্কার কুড়াচ্ছে। কারণ, বিশ্ববাসী জানে হাসিনা ভোটডাকাত। ভোটডাকাতি করে সে ক্ষমতায় এসেছে। ডাকাতকে যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে সন্মান দেখায় -সভ্য মানুষের আসরে তাদের কি সন্মান থাকে? ডাকাত সর্দারনীকে সন্মান দেখায় তো ডাকাতেরা। এটি তো ডাকাত পাড়ার অপসংস্কৃতি। ডাকাতকে প্রধানমন্ত্রী বলা ও তাকে সন্মান দেখানো কখনোই কোন সভ্য মানুষের রুচি বা সংস্কৃতি হতে পারে না। সভ্য সমাজে ডাকাতদের স্থান হয় কারাগারে, প্রধানমন্ত্রীর ভবনে নয়। শরিয়তের আইনে হাসিনার ন্যায় চোরের ন্যায্য শাস্তি হলো হাত কেটে দেয়া। সে শাস্তি না দেয়াটিই মহান আল্লাহতায়ালার বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। বাংলাদেশের মুসলিমগণ সে বিদ্রোহের অপরাধে অপরাধী।এরূপ ভূমিকার জন্য পরকালে কি আযাব জুটবে না?   

প্রতিটি ব্যক্তির ন্যায় প্রতিটি জাতিকেও প্রতি পদে পরীক্ষা দিতে হয়। সে পরীক্ষায় অবশ্যই পাশ করতে হয়, নইলে আযাব নেমে আসে। ফিরাউনের সময় মিশরবাসী নৈতিক পরীক্ষায় ফেল করেছিল। তারা হযরত মূসা (আ:)’য়ের বিরুদ্ধে ও ফিরাউনের পক্ষ নিয়েছিল, তার অপরাধ কর্মের বিরুদ্ধে নীরব থেকেছিল এবং সে ভয়ানক অপরাধীকে খোদা বলেছিল। নৈতিক পরীক্ষায় ফেল করায় আযাব শুধু ফিরাউনের উপর আসেনি, মিশরের জনগণের উপরও এসেছিল। একই কান্ড ঘটছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশীরা নৈতিক পরীক্ষায় পদে পদে ফেল করেছে। তারা মুজিবের ন্যায় গণতন্ত্ হত্যাকারী, মানব হত্যাকারী ও ইসলাম বিরোধীকে জাতির পিতা এবং বঙ্গবন্ধু বলে এবং হাসিনার ন্যায় ভোটডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে।  অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে কি মানুষ খুন ও চুরি ডাকাতির জন্য? জাহান্নামের আগুনে পুড়বে নৈতিক পরীক্ষায় ফেল করার জন্য। বাঙালীগণ সে ফেলের পথই বেছে নিয়েছে।

 ২. বাংলাদেশীদের বিবেকহীনতা

বিলেতে কোভিডের ভয়ে মানুষ এখনো মানুষ রাস্তায় বেরুয় না। অথচ সে বিপদ দূরে ঠেলে গাজার উপর ইসরাইলী হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রায় ২ লাখ নারী-পুরুষ লন্ডনের রাস্তায় নেমেছিল। ২০০৩ সালে ইরাকে যুদ্ধ থামাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। অনেকের মতে সংখ্যাটি ছিল তিরিশ লাখের। অথচ ফিলিস্তিন ও ইরাকের মানুষের সাথে বিলেতবাসীর রক্ত ও ধর্মের বন্ধন নাই। বিশাল বিশাল মিছিল হয়েছে নিউয়র্ক, ওয়াশিংটন, বার্লিন, রোমসহ অনেক নগরে। অথচ সেরূপ মিছিল বাংলাদেশের রাস্তায় হয়নি। সেরূপ মিছিল এমন কি ভোটডাকাত হাসিনার বিরুদ্ধেও এ যাবত হয়নি। অথচ লন্ডনে যেখানে ৬০ লাখ মানুষের বাস, ঢাকা শহরে প্রায় দুই কোটি মানুষের বাস। ২০ লাখ বা ৩০ লাখ নয়, ১০ লাখ মানুষ যদি রাস্তায় নামতো -তবে কি হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে পারতো? বুঝা যায় বাঙালী জনগণ ভাতেমাছে বাঁচাকে গুরুত্ব দেয়, বিবেক বা স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচা তাদের কাছে গুরুত্বহীন। কথা হলো, বিবেক ও স্বাধীনতা নিয়ে না বাঁচলে পশুপাখীর ন্যায় খাঁচায় বাঁচা থেকে পার্থক্যটি কোথায়?

বাংলাদেশ আজ নৃশংস ডাকা্তদের কবলে। ডাকাত সর্দারনী হাসিনার কবজায় প্রধানমন্ত্রীর কুরসি। ডাকাত কখনোই কারো বন্ধু হয় না। তারা শত্রু সবার। ডাকাতদের কৌশল হলো তারা সবার বাড়ীতে এক সাথে হামলা করে না। একে একে হামলা করে এবং সবার ঘাড় মটকায়। এবং কাউকেই ছাড়ে না। হাসিনার নেতৃত্বে ডাকাতেরা ফ্রিডম পার্টি দিয়ে তাদের হত্যাকান্ড শুরু করলেও জামায়াত, বিএনপি, হেফাজতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস –ইত্যাদী কাউকেও বাদ দেয়নি। অথচ ডাকাত তাড়াতে শুরুতে সব দল একতাবদ্ধ হলে এতবড় ক্ষতি কোন দলেরই হতো না। সবাই তখন স্বাধীনতা পেত। ডাকাত তাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলির একতা ও জনগণের উদ্যোগ না দেখে ডাকাত সর্দারণী হাসিনা আরো নৃশংস ডাকাতীতে সাহস পাচ্ছে। ছাত্র ও সাংবাদিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

তবে ডাকাতদের নাশকতার এখানেই শেষ নয়। ডাকাতেরা ক্ষমতায় থাকলে বহু মানুষ খুন হবে, বহু মানুষ গুম হবে, বহু নারী ধর্ষিতা হবে, বহু মানুষ কারাবন্দী হবে এবং বহু হাজার কোটি টাকা লুন্ঠিত হবে। ডাকাতদের সত্ত্বর না তাড়ালে দেশের স্বাধীনতাও ডাকাতী হয়ে যাবে। এখনো কি তাই বিভক্ত ও নীরব থাকার সময়? যার মধ্যে সামান্যতম বিবেক আছে, সে কি এ ভয়ানক মুহুর্তে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে? দেশের কেউই সামর্থ্যহীন নয়। মহান আল্লাহতায়ালা প্রত্যেককেই কথা বলা, লেখালেখি করা, রাস্তায় প্রতিবাদে নামা –এরূপ কোন না কোন কাজের সামর্থ্য দিয়েছেন। সে সামর্থ্য নিয়ে এখন পরীক্ষা দেয়ার পালা। ঘরে ডাকাত পড়লে ডাকাত তাড়াতে প্রত্যেকেই কোন না কোন ভূমিকা নিতে হয়। তখন নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকাটাই অপরাধ। কারণ তাতে লাভ হয় ডাকাতদের। তাই উচিত, যার যা সামর্থ্য আছে তা নিয়ে স্বৈরাচারী শাসকের নির্মূলে ময়দানে নামা। কোথায় কে কোন ভূমিকা পালন করতে পারে সেটি ঠিক করে প্রত্যেকেরই উচিত রাস্তায় নামা। এরূপ ভয়ানক অবস্থায় কোন ভূমিকা নাই, কোন প্রতিবাদ নাই –এমন একজন মানুষও দেশে নীরবে বসবাস করবে সেটি কি ভাবা যায়? হাত গুটিয়ে নীরবে বসে থাকার অর্থ, বিবেকের পরীক্ষায় ফেল করা। এবং সেটি হলো প্রদত্ত আমানতের খেয়ানত।

বুঝতে হবে দেশ বিএনপি, জামায়াত বা হেফজতের নয়। দেশটি সকল দেশবাসীর। ডাকাতদের দখলে গেলে ক্ষতি প্রতিটি মানুষের। অথচ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলে লাভ শুধু বিএনপি, জামায়াত বা হেফজতের নয়। তখন লাভ হয় প্রতিটি মানুষের। সবাই তখন কথা বলা, ভোট দেয়া ও প্রতিবাদের অধিকার পায়। পায় জীবনের নিরাপত্তা। সরকার গঠনে তাদের মতামত তখন প্রতিষ্ঠা পেত। তখন সবার কদর ও ইজ্জত বাড়তো। গণতন্ত্র তো এভাবেই জনগণকে অধিকার এবং ইজ্জত দেয়। এবং রাষ্ট্রের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ দেয়। তখন সভ্য মানুষ রূপে বিশ্ববাসীর সামনে দেশবাসীর মর্যাদা বাড়ে। তাছাড়া ডাকাত নির্মূল করলে দেশের রাজস্ব ভান্ডারের হাজার হাজার কোটি টাকা চোর-ডাকাতদের হাতে ডাকাতী হওয়া থেকে বাঁচে। তখন দেশের দ্রুত উন্নয়ন হয়।   

৩. ভেড়া চরিত্র ও মানবচরিত্র

পালে হাজারটি ছাগল বা ভেড়া থাকলেও একটি তাগড়া কুকুর দিয়ে সেগুলিকে সহজেই কন্ট্রোলে রাখা যায়। যেসব দেশ ছাগল-ভেড়া পালা হয় – সেসব দেশে এ দৃশ্যটি সচারচর দেখা যায়। ছাগল-ভেড়ার মালিকগণ তাই বড় বড় কুকুর পালে।

তবে জনগণ যদি ভেড়া চরিত্রের হয়, তখন সে অবিকল দৃশ্যটি মানব সমাজেও দেখা যায়। তখন কিছু সংখ্যক দলীয় গুল্ডা, পুলিশ ও RAB’য়ের ক্যাডার দিয়ে একজন স্বৈর শাসক সমগ্র দেশকে কন্ট্রোল করতে পারে। স্বৈরাচারী শাসকগণ চায়, দেশের জনগণ অবিকল ভেড়া চরিত্রের হোক। এবং চায়, ভয়ানক কুকুর চরিত্রের হোক দেশের সেনাবাহিনী, RAB ও পুলিশ। বাংলাদেশে সেটিই হয়েছে। ফলে দেশে চলছে লেলিয়ে দেয়া এক পাল কুকুরের বর্বর শাসন। তারা বিচারের উর্দ্ধে। কোন দেশের সভ্য জনগণ কি সেটি মেনে নেয়। এমন শাসন চাপানো হলে যে কোন সভ্য দেশেই তৎক্ষণাৎ যুদ্ধ শুরু হয়। যেমন শুরু হয় জনপদে কোন হিংস্র পশু ঢুকলে। এরূপ কুকুর শাসন কি ভারত, পাকিস্তান, ভূটান বা নেপালের মত দেশে আছে?

ব্রিটেনের রাজা প্রথম চার্লস সেরূপ এক স্বৈর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সে অপরাধে ১৬৪৯ সালে রাজার গর্দান কাটা হয়। বস্তুত স্বৈরশাসন মানেই কুকুর-শাসন। এটি এক অসভ্য শাসন। সভ্য মানুষ কখনোই ভেড়া নয় যে তারা এরূপ কুকুর-শাসন মেনে নিবে। একটি দেশ কতটা সামনে এগুলো সে বিচারটি দেশের রাস্তাঘাট, দালানকোঠা, কলকারখানা ও জিডিপি দিয়ে হয়না, বিচার হয় কতটা কুকুর-শাসন বিলুপ্ত করে সভ্য শাসন প্রতিষ্ঠা দেয়া হলো -তা থেকে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানটি অনেক নীচে।

৪. কাফেরদের বিনিয়োগ ও মুসলিমদের গাদ্দারী

যারা ১৯১৭ সালে উসমানিয়া খেলাফত ভেঁঙ্গে ১৬টি আরব রাষ্ট্র বানালো এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙ্গলেো তাদের মধ্যে একটি বিশেষ মিল লক্ষণীয়। তারা সবাই সে হারাম কাজটি করেছে কাফেরদের অস্ত্র ও সাহায্য নিয়ে। উসমানিয়া খেলাফত ভাঙ্গতে অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে ঔপনিবেশিক ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। এবং পাকিস্তান ভাঙ্গতে অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভারত। তাদের লক্ষ্য ছিল কাফেরদের শক্তি বাড়ানো এবং মুসলিমদের দুর্বল করা। সে লক্ষ্যে তারা সফল হয়েছে।

প্রতি মুসলিম ভূ-খন্ডেই ইসলামের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির মাঝে লাগাতর যুদ্ধ থাকে। সেসব যুদ্ধে কাফেরদের বিপুল বিনিয়োগও থাকে। কারণ নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকাটি শয়তানের রীতি নয়। ১৯১৭ সালে আরব বিশ্বে কাফের শক্তির বিনিয়োগটি ছিল বিশাল। তাদের বিনিয়োগ ছিল আরব জাতীয়তাবাদীদের দিয়ে উসমানিয়া খলিফাকে বিলুপ্ত করা। তারা সে কাজে সফল হয়েছিল। এর ফলে প্রতিষ্ঠা পায় বিভক্ত আরব মানচিত্রের মাঝে ইসরাইল। আজকের ফিলিস্তিন সংকটটি মূলত ১৯১৭ সালে ব্রিটিশদের বিনিয়োগের ফসল। এবং সে সাথে দায়ী আরবের সেক্যুলারিস্ট জাতীয়তাবাদীগণ।

১৯৭১ সালে ভারতীয় কাফেরদের বিনিয়োগ ছিল তৎকালীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানকে ভাঙ্গা।সেটি বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের মাধ্যমে। ভারত তাতে সফল হয়। ফলে বাংলাদেশ পরিণত হয় ভারতের গোলাম রাষ্ট্রে। এবং ভারত পরিণত হয় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তিতে। অথচ একাত্তরের পূর্ব ভারতের সে মর্যাদা ছিল না। ফলে আজ যারা ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস রূপে উৎযাপন করে তারা মূলত উৎযাপন করে ভারতের বিজয়কে। বাংলাদেশ আজ যে বিপর্যের মুখে পৌঁছেছে সেটি একদিনে ঘটেনি, সেটি মূলত ১৯৭১’য়ে ভারতীয় কাফেরদের বিনিয়োগের ফসল। লক্ষণীয় হলো, ১৯৭১’য়ে যারা ভারত-পালিত বাঙালী জাতীয়তাবাদী পক্ষের নায়ক ছিল, তারাই আজ বাংলাদেশে ভোট ডাকাতীর সরকার প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

৫. মৃত রাজাকার

আওয়ামী লীগ নেতা সহরোওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। বেঁচে থাকলে অবশ্যই তিনি রাজাকার রূপে আখ্যায়ীত হতেন। ১৯৪৬ সালে ইনিই মুসলিম লীগের দিল্লি অধিবেশনে তৎকালীন পূর্ববাংলাকে পাকিস্তান ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। তার সন্তান পাকিস্তান ভাঙ্গা সমর্থন করেননি, তিনি করাচীতে অবস্থান করেন। শেরে বাংলা ফজলুল হক বেঁচে থাকলে তিনিও রাজাকার হতেন। তিনিই ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেনে। তার সন্তানও পাকিস্তান ভাংঙ্গাকে সমর্থন করেনি।  

৬. জ্ঞানের মূল্য ও  বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ

প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়ভার হলো ইসরাইল ও ভারতের ন্যায় শত্রুদের অপরাধগুলো তুলে ধরা ও মুসলিমদের ঘুম ভাংঙ্গানো।এ কাজও জিহাদের অংশ। এটিই বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ। এ জিহাদ না হলে রণাঙ্গণের জিহাদে সৈনিক জুটে না। এ বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদটি অতীতে হয়নি বলেই মুসলিমগণ কাফের শত্রুদের গলা জড়িয়ে ধরেছে। সে ব্যর্থতার কারণেই ১৯৭১ সালে বাঙালী মুসলিমগণ ভারতের ন্যায় শত্রু শক্তিকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করে। এবং ১৯১৭ সালে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করে আরবগণ। সে জ্ঞানশূণ্যতার কারণেই প্রায় দুই লাখ ভারতীয় মুসলিম ব্রিটিশদের বাহিনীতে যোগ দিয়ে ইরাক, সিরিয়া ও  ফিলিস্তিনের ভূমিতে উসমানিয়া খলিফার মুসলিম সৈনিকদের হত্যায় যুদ্ধ করে। এদের মধ্যে বাংলার কাজী নজরুল ইসলামও ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ছিল আতাউল গণি ওসমানী। ওসমানীরা একই অপরাধ করেছে একাত্তরে। ব্রিটিশের বদলে একাত্তরে তারা খেটেছে ভারতীয় কাফেরদের সহচর রূপে। সঠিক জ্ঞান থাকলে এরূপ ভয়ানক অপরাধে তারা কখনোই জড়িত হত না। বিষাক্ত সাপকে অন্ধ ব্যক্তি যেমন জড়িয়ে ধরে, তেমনি মনের অন্ধকারে শত্রুকেও অনেকে বন্ধু মনে করে। মনের সে অন্ধকার দূর করে জ্ঞান। জ্ঞানার্জনকে এজন্যই নামায-রোযার ১১ বছর আগে ফরজ করা হয়েছে। জাহেলের পক্ষে ইসলামের সৈনিক হওয়া দূরে থাক, মামূলী মুসলিম হ্ওয়াও অসম্ভব। জনগণের মাঝে ঈমানশূণ্যতা ও ইসলামী জ্ঞানশূণ্যতা গভীরতর হলে শয়তানী শক্তির ব্যবসা জমে। শুধু ব্রিটিশ ও ভারতীয় কাফেরগণই নয়, শেখ মুজিব ও হাসিনার ন্যায় ইসলামবিরোধীগণ প্রয়োজনীয় সন্ত্রাসী ক্যাডার পেয়েছে তো এরূপ ঈমানশূণ্য ও জ্ঞানশূণ্যদেরই থেকেই।

৭. হাসিনা পরিবারের ইসরাইল প্রাতি

ইসরাইলীদের বন্ধু রূপে নিজেকে পেশ করেছে হাসিনা। এর আগে বাংলাদেশী পাসপোর্টে লেখা থাকতো ইসরাইলে প্রবেশ নিষেধ। হাসিনা সেটি তুলে দিয়েছে। আল জাজিরা টিভি দেখিয়েছে হাসিনার সরকার ইসরাইল থেকে আড়িপাতার যন্ত্র কিনেছে। এটিও ছিল অপরাধ। হাসিনার বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকী ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন এম.পি। সে ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে। বাংলাদেশীদের জন্য এটি এক বিশেষ কলংকের বিষয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বেশ কয়েক জন পাকিস্তানী মুসলিম এম.পি আছেন। কিন্তু তাদের কেউই ইসরাইলের পক্ষ নেয়ার ন্যায় গর্হিত কাজটি করেনি।

৮. শিক্ষা নিতে হবে ফিলিস্তিন থেকে

ইসরাইলীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফাতাহ ও পপুলার ফ্রন্টের ন্যায় সেক্যুলারিসটগণ এখন আর ময়দানে নাই। অনেক আগেই তারা লড়াই ছেডে দুর্নীতিতে নেমেছে। ফাতাহ নেতা মাহমুদ আব্বাস ১৬ বছর যাবত ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট পদ দখল করে আছেন, নির্বাচন দেয়ার নাম করছেন না। ২০০৬ সালে হামাস যখন নির্বাচনে বিপুল ভাবে বিজয়ী হয় তখন হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে মহামুদ আব্বাস সামরিক ক্যু করেন। তখন থেকেই গাজার উপর অবরোধ। ফলে গাজাবাসীর বিরুদ্ধে অপরাধ শুধু ইসরাইলের নয়, মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন সেক্যুলারিস্ট ফিলিস্তিনীদেরও।   

অপর দিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লাগাতর লড়াই করে যাচ্ছে হামাস। গোলামী নিয়ে বাঁচার বদলে শহীদ হওয়াকে হামাসের নেতাকর্মীগণ শ্রেয় মনে করে। বাংলাদেশীদের শিক্ষা  নিতে হবে ফিলিস্তিনীদের থেকে। বাংলাদেশেও ভারত ও তার সেবাদাস আওয়ামী ফ্যাসিসটদের বিরুদ্ধে মূল লড়াইটি করতে হবে ইসলামপন্থীদেরই। এ পবিত্র জিহাদে সেক্যুলারিস্টদের কখনোই পাওয়া যাবে না। যেমন পাওয়া যায়নি ভারতীয় কাফেরদের বিরুদ্ধে ১৯৭১’য়ের জিহাদে। জিহাদে যোগ দেয়ার বদলে ভারতের পদসেবাকেই তারা অধিক গুরুত্ব দিবে। কারণ তারা চায় ক্ষমতা। ভারতের পক্ষে থাকলে সে লক্ষ্য সাধনে সুবিধা হয়।

অথচ ভারতের ন্যায় কোন কাফর দেশ যখন মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তখন সে যুদ্ধ স্রেফ যুদ্ধ থাকেনা, মুসলিমদের জন্য সেটি শতভাগ জিহাদে পরিণত হয়। আলেমদের মাঝে বহু বিষয়ে মতভেদ থাকলেও এ বিষয়ে কোন মতভেদ নাই। কারণ ইসলামের এটি অতি মৌল বিষয়। এটুকু বুঝার জন্য কোন ফকিহ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এজন্যই একাত্তরে একজন আলেমও মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়নি। কোন আলেম ভারতে যায়নি এবং ভারতীয় বাহিনীর সাথে মিলে যুদ্ধও করেনি। একাজকে তারা শতভাগ হারাম গণ্য করেছে। এটি ছিল ভারতপন্থী, রুশপন্থী, চিনপন্থী ও বাঙালী জাতীয়তাবাদী ইসলামচ্যুৎদের কাজ, কোন ঈমানদারের নয়।

৯. ভারতে গরুর পেশাব ও গোবরের কদর এবং আল্লাহতায়ালার আযাব

নরেন্দ্র মোদীর শাসনে ভারতে গরুর পেশাব ও গোবরের কদর বৃদ্ধি পেয়েছে চরম ভাবে। এবং মূল্য কমেছে মানুষের। দেশটিতে ভাঙ্গা হচ্ছে মসজিদ এবং হত্যা ও নানা ভাবে অপমান করা হচ্ছে মুসলিমদের। নরেন্দ্র মোদী গুজরাতের খুনি। যখন সে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী তখন তার নেতৃত্বে প্রায় ৫ হাজার মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ মোদী জড়িত বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার সাথে। অথচ এ অপরাধী মোদীকে বিশ্বগুরুর আসনে বসাতে চায় বিজেপি-আরএসএস শিবির। কোন অপরাধীকে সন্মানিত করাই তো বড় অপরাধ। কোভিডের দ্বিতীয় জোয়ার আসার আগে এরাই ভারতের বুকে কোভিড জয়ের কিচ্ছা শুনাচ্ছিল। গরুর পেশাব ও গোবরের কদর বিপুল ভাবে বেড়েছে কোভিডের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়াতে। তবে চিকিৎসকগণ হুশিয়ারী দিয়েছেন, গরুর পেশাবের কারণে রোগীদের চোখ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদীর দাবী হিন্দু ঋষিগণ বহু হাজার বছর আগেই প্লাষ্টিক সার্জারী জানতো। তাদের প্লাষ্টিক সার্জন ঋষিগণ নাকি হাতির নাক কেটে গনেশের নাকে বসিয়েছিল। মোদীর আরো দাবী, তাদের হিন্দু  ঋষিরা রথে চড়ে আকাশে উড়তো বিমান আবিস্কারের বহু হাজার বছর আগে। এসব কথা মোদী জনসভায় বলে এবং ভারতীয় মিডিয়াও সেসব ছাপে। তাই বলা যায়, ভারতে চলছে ভয়ানক অপরাধী ও মিথ্যুকদের শাসন।  ভারতীয়দের উপর এ এক বিশাল আযাব। পাপ তাদের ঘিরে ধরেছে। তারা মহান আল্লাহতায়ালার একাধিক ঘর মসজিদকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। সেরূপ অপরাধে উদ্যোগী হওয়ায় মহান আল্লাহতায়ালা ইয়েমেনের রাজা আবরাহকে ছাড়েননি। ভারতীয় হিন্দুদেরও কি তিনি ছাড় দিবেন? দেরীতে হলেও শাস্তি থেকে অপরাধীরা কখনো নিস্তার পায়না। আযাব শুধু ঝড়, তুফান, সুনামী, মহামারী ও ভূমিকম্প রূপে আসেনা; আযাবের নৃশংস হাতিয়ারে পরিণত হয় জালেম ও জাহেল শাসকগণও। সেটি যেমন বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে, তেমনি দেখা যাচ্ছে ভারতেও। ২৯/০৫/২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *