আযাবের গ্রাসে বাংলাদেশ

মুসলমান হওয়ার শর্ত শুধু এ নয়, আল্লাহকে উপাস্য এবং মুহাম্মদ (সাঃ)কে তাঁর রাসূল রূপে মেনে নিবে। বরং এ বিশ্বাসও অবশ্যই থাকতে হবে যে আল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিটি অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ আযাব ডেকে আনে। আর সে অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ একটি জনগোষ্ঠির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ও তাদের নেতাদের দ্বারা হলে তখন আযাব অনিবার্য হয়ে পড়ে সে জনগোষ্ঠির উপর। পবিত্র কোরআনে সে কথা একবার নয়, বহু বার বলা হয়েছে। তাছাড়া এ শিক্ষা ইতিহাস বিজ্ঞানেরও। বাংলাদেশের বিপর্যয় কেবল রাজনৈতিক নয়। নিছক সামরিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতি, অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও নয়। বরং সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটছে মুসলমানদের মুসলমান রূপে বেড়ে উঠা নিয়ে। আর মুসলমান হওয়ার অর্থ শুধু নামায-রোযা পালন নয়, বরং আল্লাহর প্রতিটি হুকুমের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রচন্ড আফসোস ছিল বাঙ্গালীর মানুষ রূপে বেড়ে উঠার ব্যর্থতা নিয়ে। তিনি লিখেছেন, “হে বিধাতা, সাত কোটি প্রাণীরে রেখেছো বাঙ্গালী করে, মানুষ করনি।” রবীন্দ্রনাথ এ কথা বলেছেন প্রায় শত বছর আগে। বিগত শত বছরে মানুষ রূপে বেড়ে উঠার এ ব্যর্থতা না কমে বরং প্রকট ভাবে বেড়েছে।

বাড়তে বাড়তে দেশটি দূর্বৃত্তিতে বিশ্বে পাঁচবার শিরো্পা পেয়েছে। এ হলো বাংলাদেশীদের ব্যর্থতার দলীল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের নিজের ব্যর্থতা ও বিভ্রান্তি হলো, বাঙালীর মানুষ রূপে বেড়ে উঠার দায়ভার তিনি বিধাতার উপর চাপিয়েছেন। অথচ এ দায়ভার একান্তই মানুষের নিজের। মানুষ রূপে বেড়ে উঠার কাজে সহায়তা দিতে করুণাময় মহান আল্লাহতায়ালা ব্যক্তিকে যেমন প্রয়োজনীয় বুদ্ধি-বিবেক দিয়েছেন তেমনি যুগে যুগে সত্যদ্বীনসহ নবী-রাসূলও পাঠিয়েছেন। মানুষের প্রধানতম দায়িত্ব হলো, সে সত্যদ্বীনের অনুসরণ করা। আল্লাহর প্রদর্শিত এ পথ বেয়ে মানুষ ফেরেশতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠতর পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। মুসলমানগণ অতীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল এ পথেই। একমাত্র এ পথই হলো সিরাতুল মোস্তাকিম। অন্য পথগুলো হলো অবাধ্যতার তথা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের। মানুষ রূপে বেড়ে না উঠা নিছক ব্যর্থতা নয়, এটিই মানুষের সবচেয়ে বড় অপরাধ। আল্লাহর দরবারে এটি শাস্তিযোগ্যও। তাই এমন ব্যর্থতা শুধু শিরোপা আনে না, আনে আল্লাহর আযাবও। সেটি যেমন বিশ্বজোড়া অপমান রূপে আসে, তেমনি আসে ভয়ংকরি প্রলয়ের বেশেও। আর বাংলাদেশে সে আযাবের আগমন হচ্ছে দুই ভাবেই। প্রশ্ন হলো, মানুষ রূপে বেড়ে উঠার এ গভীর ব্যর্থতা নিয়ে কেউ কি মুসলমান রূপে বেড়ে উঠতে পারে? কারণ মুসলমান হওয়ার পর্ব তো শুরু হয় মানুষ রূপ বেড়ে উঠার পরই। ফলে বিপর্যয় ঘটছে শুধু আল্লাহর নেয়ামত প্রাপ্তি নিয়ে নয়, বরং সে বিপর্যয় অনিবার্য করছে ভয়াবহ আযাবকেও। আল্লাহর বিরুদ্ধে যে অবিরাম অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ চলছে সেটি শুধু রাজনীতির অঙ্গণে নয়, বরং তা গ্রাস করছে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচার-আদালত, সংস্কৃতিসহ প্রতিটি অঙ্গণ। 

কোন বিমান বা বাসের যাত্রীদের জন্য বড় আযাব হলো চালক রূপে একজন দুর্বৃত্তকে পাওয়া। তেমনি একটি দেশের জন্য আযাব হলো সরকার প্রধান বা নেতা হিসাবে পাওয়া কোন দৃর্বৃত্ত ব্যক্তিকে। দুর্বৃত্ত ব্যক্তি যেমন চালকের সিটে বসে যাত্রীবাহী বাস বা বিমানকে হ্যাইজাক করে, ক্ষমতলোভী দুর্বৃত্ত নেতারা তেমনি হাইজ্যাক করে সমগ্র দেশ। আর বাংলাদেশে দুর্বৃত্তদের সবচেয়ে বড় জমায়েত ঘটেছে রাজনীতির অঙ্গেন। তাদের হাতে নির্বাচন ব্যবহৃত হচ্ছে দেশ ও দেশেবাসীর সুখ-শান্তি ও আশা-আকাঙ্খা হ্যাইজাক করার কাজে। আর একাজে সবচেয়ে সফলতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি বার বার নির্বাচনি বিজয়ে সফলতা দেখালেও জনকল্যাণে কোন কালেই কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জিতে দলটি দেশকে দূর্নীতি, কালোবাজারি আর রাজনীতিতে খুনোখুনি উপহার দিয়েছিল। তখন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পীকারকে হত্যা করেছিল এমন কি সংসদের মাঝখানে। সংসদের মেঝেতে সে খুনটি কোন দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীর হাতে হয়নি, বরং ঘটেছিল নির্বাচিত সংসদ সংদস্যদের হাতে। সত্তরের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ এ প্রতিশ্রুতিতে জিতেছিল যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রকে আরো সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে এবং মজবুত করবে গণতন্ত্র চর্চা। অথচ নির্বাচনে জিতার পর পরই তারা ভারতের অস্ত্র কাধে নিয়ে দেশটিকে ধ্বংসের কাজে নেমে পড়ে। আর গণতন্ত্র চর্চা? এটিকে শেখ মুজিব আস্তাকুড়ে পাঠিয়েছিল। দেশটি ভাঙ্গার পর শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে ঢাকা ফেরার পর পরই সোহরোওর্দ্দী উদ্দানের জনসভায় বললেন, পাকিস্তান ভাঙ্গার কাজটি তিনি শুরু করেছিলেন ১৯৪৭ থেকেই। জনগণের সাথে এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কি হতে পারে? সিকিমের লেন্দুপ দর্জিও নির্বাচনে জনগণের ভোট নিয়েছিল জনগণের স্বাধীনতা, সুশাসন ও নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করবে। কিন্তু নির্বাচনি বিজয়ের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই সে সিকিমের ভারত ভূক্তির ঘোষণা দেয়। একইভাবে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হাতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, নিরাপত্তাসহ মৌলিক নাগরিক-অধিকার হ্যাইজাক হয়েছে বার বার। অসম্ভব হয়েছে আল্লাহর আইনের প্রতিষ্ঠা। 

আওয়ামী লীগ শুধু দেশের সরকার, পার্লামেন্ট, প্রশাসন বা রাজনীতির ময়দান দখল নিয়ে খুশি নয়, তারা প্রবল ভাবে দখলে নিচ্ছে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দানও। দখলদারি প্রতিষ্ঠা করছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ঈমানের ভূবনেও। ঈমানের সুস্থ্যতার আলামত নিছক নামায-রোযা–হজ্ব-যাকাত পালনে নয়, বরং ন্যায়কে ভালবাসা এবং অন্যায়-অসত্য ও দুর্বৃত্তকে ঘৃনা করার সামর্থ। এমন সামর্থের বলেই ব্যক্তি সত্যের সৈনিকে পরিণত হয়। সে তথন “নারায়ে তকবির” তথা আল্লাহু আকবর ধ্বণি শুধু জায়নামাজে দেয় না, দেয় রাজনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি ও যুদ্ধবিগ্রহসহ জীবনের প্রতিক্ষেত্রে। অথচ বাংলাদেশ থেকে আল্লাহু আকবরের চেতনা রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছে। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে দল, দলীয় নেতা, ভাষা ও জাতীয় অহংকারের চেতনা। সে সাথে বিজয় পেয়েছে সেকুলারিজম। এটিই একাত্তরের চেতনা। এ চেতনার ফলে অসম্ভব হয়েছে ইসলামপন্থিদের বিজয়। বার বার বিজয়ী হচ্ছে চিহ্নিত দুর্বৃত্ত, খুনি, লম্পট, নাস্তিক ও স্বৈরাচারি। সমাজে গ্রহনযোগ্যতা এবং সে সাথে ব্যাপক ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে পতিতাবৃত্তি, সূদ-ঘুষ, উলঙ্গতা ও কুফরি আইন। এমন একাত্তরের চেতনার বড় পাহারাদার হলো আওয়ামী লীগ। ধর্মবিরোধী এ চেতনাকে রাজনীতি, সংস্কৃতি ও দেশবাসীর চেতনা-রাজ্যে স্থায়ী ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ এখন আর নিছক রাজনৈতিক দল নয়, আবির্ভুত হয়েছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আদর্শিক আন্দোলন রূপে। এ চেতনার প্রতিপক্ষ রূপে চিহ্নিত করছে ইসলাম ও দেশের ইসলামপন্থিদেরকে। ইসলামকে বিজয়ী করার অঙ্গিকারকে তারা চিহ্নিত করছে মধ্যযুগীয় সাম্রাজ্যবাদী চেতনা রূপে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে তারা ইসলামেরও অপব্যাখা শুরু করেছে। ইসলামের প্রতিষ্ঠা বা বিজয়ের প্রতি কোন অঙ্গিকার না থাকলে কি হবে, জোরেশোরে ব্যাখা দিচ্ছে কোনটি জিহাদ আর কোনটি জিহাদ নয়। এবং সেটি ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাফেরদের সাথে সুর মিলিয়ে। ফলে ইসলামের যে ব্যাখা প্রেসিডেন্ট বুশ বা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দেয় সেটিই দেয় আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীরা। 

বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই অধিকৃত ইসলামের বিপক্ষ শক্তির হাতে। বিজয়ী এ শক্তিটি যে শুধু নানা দল-উপদলে বিভক্ত বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদী, সমাজবাদী, কমিউনিষ্ট, নাস্তিকদের সম্মিলিত কোয়ালিশন তা নয়, সে কোয়ালিশনে শামিল হয়েছে দেশের হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ ধর্মমতের অনুসারীরাও। তারা বিজয় পেয়েছে নির্বাচনের মাধমে। তাদের বিজয়ে ইসলামের বিপক্ষ দেশী-শক্তিই যে শুধু খুশি হয়েছে তা নয়, প্রচন্ড খুশি হয়েছে বিদেশী শত্রুপক্ষও। প্রতিবেশী ভারত সরকার ও সেদেশের প্রচার মাধ্যম সে খুশি গোপন রাখেনি। সরকারি ভাবে ভারত যে কতটা খুশি হয়েছে সেটি বুঝা যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির বক্তব্য থেকে। প্রণব মুখার্জি বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কোন হুমকি আসলে ভারত সরকার নিশ্চুপ বসে থাকবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তারা সশস্ত্র হস্তক্ষেপে নামবে। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশের মানুষ অতি কঠিন বিপদে পড়েছিল। ক্ষুদার্ত মানুষ তখন প্রাণ বাঁচাতে আস্তাকুড়ে উচ্ছিষ্ট খুঁজেছে, খাবারের খোঁজে কুকুর বিড়ালের সাথে লড়াই করেছে, রাস্তায় বমিও খেয়েছে। লজ্জা ঢাকতে মহিলারা তখন মাছধরা জাল পড়তে বাধ্য হয়েছিল। সে বীভৎসতার বিবরণ বাংলাদেশী ও সে সাথে বহু বিদেশী পত্র-পত্রিকায় প্রচুর ছাপা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সে বিপদের দিনে ভারত এগিয়ে আসেনি। কোন আর্থিক সাহায্যও পেশ করিনি। বরং দেশটির সীমান্ত ফুটো করে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত খয়রাতী মাল টেনে নিয়েছে নিজ দেশে। শেখ মুজিব তখন কয়েক কোটি ছাপার ঠিকাদারি দিয়েছিল ভারতীয় সরকারি ছাপাখানায়। কিন্তু ভারত নোট ছাপার সে কাজে আদৌ সততার পরিচয় দেয়নি। তখন কয়েকগুণ বেশী নোট ছেপে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দেয়। ভারত এভাবে বাড়িয়েছে দুঃখ-যাতনা ও মৃত্যু। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বাংলাদেশকে তখন ছুটতে হয়েছে নানা দেশের দ্বারে দ্বারে। ভিক্ষার ঝুলির সে খেতাব বিশ বছরের যুদ্ধেও দরিদ্র আফগানিস্তানের ভাগ্যে জোটেনি। জোটেনি ভিয়েতনামের ভাগ্যেও। একটি দেশকে ভিক্ষার ঝুলিতে পরিণত হতে যে শুধু যুদ্ধ লাগে না, বরং লাগে প্রতিবেশী দানব রাষ্ট্রের অবিরাম শোষণও। আফগানিস্তান ও ভিয়েতনামের পাশে তেমন দানব ছিল না। ফলে যুদ্ধ তাদের রক্তক্ষয় বাড়ালেও তাতে তারা ইজ্জতহীন ভিখারি হয়নি। ভারত যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বন্ধু নয়, বরং রক্ষক একটি বিশেষ পক্ষের -সেটি শুধু মুজিবামলের বিষয় নয়। আজও সেটি অবিকল সত্য। শ্রী প্রণব মুখার্জির বক্তব্যে বস্তুতঃ সেটিই প্রকাশ ঘটেছে। তার সে বক্তব্যে এটিই আজ নতুন ভাবে প্রমাণিত হলো, বাংলাদেশে ভারতের নিজস্ব এজেন্ডা আছে। এবং সে এজেন্ডার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের নিজস্ব লোকও আছে। আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যে তাদের নিজস্ব লোক -প্রণব মুখার্জি মূলতঃ সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। 

আওয়ামী সরকারের মূল আক্রোশ শুধু শিক্ষা, শিল্প, কৃষি বা সেনাবাহিনীর উপর নয়, বরং সেটি ইসলাম ও তার মৌল-বিশ্বাসের প্রতি। এটিকেই তারা তাদের রাজনীতির মূল শত্রু ভাবে। ইসলামের সে বিশ্বাসকে মৌলবাদ বলে সেটির নির্মূলে তারা কোঁমড় বেধেছে। সম্প্রতি তারা উদ্যোগ নিয়েছে, দেশের শাসনতন্ত্র থেকে “সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস” কথাটি উচ্ছেদ করবে। এ উচ্ছেদ কাজে তারা দেশের সেকুলার আদালতকে হাতিয়ার রূপে বেছে নিচ্ছে। অতীতে দেশের সেকুলার আদালত থেকে এ রায় হাসিল করেছিল যে “সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস” কথাটি দেশের শাসতনন্ত্র বিরোধী। বিএনপি সরকার ঢাকা হাইকোর্টের সে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল। কিন্তু তাদের আমলে সে আপিলের কোন রায় বের হয়নি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে হাইকোর্টের সে রায়টি এতটাই মনঃপুত যে সে রায়ের বিরুদ্ধে তারা আর আপিল করবে না। আর এতে ফল দাঁড়াবে, “সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস” কথাটি এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। এভাবেই বাতিল হবে ইসলামের একটি মৌলিক বিশ্বাস। সরকার এখন উদ্যোগ নিয়েছে দেশের সেকুলার আদালতের সাহায্যেই তারা সংবিধান থেকে উচ্ছেদ করবে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”। বাংলাদেশের আদালতে ব্যভিচার কোন হারাম কর্ম নয় যদি সেটি দুইপক্ষের সম্মতিতে হয়। হারাম নয় সূদও। কিন্তু সে আদালতেই নিষিদ্ধ হলো “সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস”। এমন আদালত থেকে মুসলমান আর কি আশা করতে পারে? অথচ আল্লাহর আইন মোতাবেক বিচার পরিচালনা করা ইসলামে অতি গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে শুধু নামায-রোযা-হজ-যাকাতের হুকুম দেওয়া হয়নি। হুকুম এসেছে শরিয়ত-ভিত্তিক আদালতের প্রতিষ্ঠায়। ইসলামে এটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহর এ জমিনে কাফেরদের দখলদারীত্বের বিলুপ্তি ও আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ তো এ শরিয়ত প্রতিষ্ঠার কাজ। একাজে যার উদ্যোগ নাই মহান আল্লাহতায়ালা তাকে কাফের, জালেম ও ফাসেক এ তিনটি বিশেষণে আখ্যায়ীত করেছেন। সুত্রঃ সুরা মায়েদার পর পর তিনটি আয়াত (৪৪,৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াত)। লক্ষ্যণীয় হলো, চোর-ডাকাত, ব্যাভিচারী, সূদখোর বা খুনীকেও কোরআনের কোথাও এভাবে কাফের, জালেম ও ফাসেক এ তিনটি বিশেষণে একত্রে আখ্যায়ীত করেনি। আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত এ বিশাল দায়িত্ব তাই শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সাধিত হয় না। শরিয়তের প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন একমাত্র শরিয়ত প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সম্ভব। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে শয়তানের মূল শত্রুতাটিও মূলতঃ এখানে, নামায-রোযা-হজ-যাকাত নিয়ে নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের তাবত কাফের দেশ নিজদেশে মুসলমানদের মসজিদ স্থাপনে বাধা দেয় না। বরং জমি ও অর্থ দিয়ে সাহায্যও করে। ব্রিটিশ সরকার এককালে ভারতে সরকারি খরচে আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইফতারির দাওয়াত দেয়, ঈদের পূণঃর্মিলনীও করে। কিন্তু বিশ্বের কোথাও শরিয়ত প্রতিষ্ঠার সামান্য প্রমাণ পেলে তারা সেখানে তৎক্ষনাৎ যুদ্ধ শুরু করে। আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার মূল কারণ তো এটিই। একই কারণে মার্কিনীদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে সোয়াতের ধর্মভীরু মানুষ। তাদের অপরাধ, তালেবানদের ন্যায় তারাও প্রতিষ্ঠা করেছিল আল্লাহর আইন। সে অপরাধে এখন মার্কিন মিজাইল নিক্ষিপ্ত হচ্ছে পাকিস্তানের অভ্যন্তুরে। দশ লাখেরও বেশী মানুষকে তারা ইতিমধ্যেই ঘরহীন উদ্বাস্তু করেছে। নিজেদের ঘোষিত এ যুদ্ধে অংশীদার করেছে পাকিস্তানের সেকুলার সরকার ও আর্মিকে। 

সব গরুই যেমন একই ভাবে ঘাস খায়, তেমনি সবদেশের সেকুলারদের আচরণ একই রূপ। তুরস্কের আদালতে ব্যাভিচারী বা সূদখোর দন্ডিত হয়েছে সে প্রমাণ নেই। কিন্তু সেদেশের একজন শিশুও আদালত থেকে মাথায় রুমাল বাধার অনুমতি পায়নি। মহিলার উলঙ্গ হওয়া বা দেহ নিয়ে ব্যবসায় নামা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু মাথায় রুমাল বাধা অপরাধ। অথচ মহিলাদের মাথা না-ঢাকা বা বেপর্দা হওয়া হলো আল্লাহর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বিদ্রোহ। এমন বিদ্রোহীর নামায-রোযা কি কবুল হয়? কবুল হয় কি কোন দোয়া? সম্ভব কি তার পক্ষে মুসলমান হওয়া? কারণ, মুসলমান হওয়ার অর্থই আল্লাহর প্রতিটি হুকুমের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। আর এমন বিদ্রোহীরাই ইসলামী পরিভাষায় কাফের। আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সে ধ্বনিই এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সরকারের এ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সংবিধানের কোন অংশই নয়। তার ভাষায় তাই সেটির সংবিধানে থাকার কোন অধিকারই নাই। যেখানে ইসলাম ও আল্লাহর নাম, তাদের কাছে সেটিই সাম্প্রদায়ীকতা। আল্লাহর উপর আস্থা তাদের কাছে যেমন সাম্প্রদায়িক কুসংস্কার, তেমনি প্রগতি-বিরোধীও। তাদের সাফ জবাব, এমন কুসংস্কার (?) ও প্রগতি-বিরোধী (?) বিশ্বাসকে তারা শাসনতন্ত্রে স্থান দিতে রাজি নয়। শুধু তাই নয়, তারা বাদ দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় ধর্ম রূপে ইসলামকেও। কথা হলো, এমন কাজ কি কোন ঈমানদারের হতে পারে? মুসলমানের কাজ তো শুধু শাসনতন্ত্রে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম রূপে ঘোষণা দেওয়া নয়, বরং দায়িত্ব হল আল্লাহর বিধানের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহর হুকুমের প্রতি আনুগত্য শুধু মসজিদে নয়, শাসতন্ত্রেও ধ্বণিত হতে হবে। মার্কিনীরা ডলারের নোটের উপর বড় বড় হরফে লিখে “WE TRUST IN GOD” অর্থ আমরা আল্লাহর উপর আস্থা রাখি। আল্লাহর নির্দেশকে তারা কতটুকু মানে এখানে সেটি বড় কথা নয়, আল্লাহর প্রতি এটি তাদের নুন্যতম ভদ্রতা বা শালীনতা। কিন্তু মহান আল্লাহর সাথে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সে শালীন আচরণটুকুও করতে রাজী নয়। আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অশালীন ও অভদ্র আচরণের মাত্রা এতটাই তীব্র যে, আল্লাহর আইন তথা শরিয়তকে তারা বাংলাদেশের আদালত-গৃহে ঢুকতে রাজী নয়। এমন কি বরদাশত করতে রাজি নয় শাসনতন্ত্রে আল্লাহর নামকেও। আল্লাহর সাথে এর চেয়ে বড় অশালীন উদ্ধত আচরণ আর কি হতে পারে? আরও লক্ষণীয়, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নামের সাথে এমন অশালীন আচরণের পরও তা নিয়ে রাজপথে কোন প্রতিবাদ নেই, কোন আন্দোলন নেই। এরপরও কি একটি দেশের জনগণ আল্লাহর নেয়ামত পেতে পারে? এটি তো আযাবপ্রাপ্তির পথ। কোরআনে বর্ণিত আদ-সামুদ গোত্র, বনি ঈসরাইল ও মাদাইনের অধিবাসীদের অবাধ্যতা বা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ কি এর চেয়েও গুরুতর ছিল? তাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট কোরআন ছিল না যা বাংলাদেশীদের কাছে আছে। আর কোরআন থাকার কারণে দায়িত্বটাও বেশী। আর সে দায়িত্বটা পালিত হতে পারে, সে কোরআনী আইনের প্রয়োগের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সে কোরআনী বিধানের প্রয়োগটি কোথায়? 

মুসলমান হওয়ার সবচেয়ে বড় দায়বদ্ধতা হলো, সে হবে আল্লাহর অতি অনুগত খলিফা বা প্রতিনিধি। রাষ্ট্রের প্রতিনিধির কাজ হলো রাষ্ট্রের আইনের সর্বত্র অনুসরণ ও প্রয়োগ। সে দায়িত্ব “আমিও মুসলমান” -শুধু এ কথা বলার মধ্য দিয়ে পালিত হয় না। আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হওয়ার চেতনা মুসলিম মনে প্রচন্ড এক বিপ্লবী চেতনার জন্ম দেয়। সরকারের ডিসি, এসপি বা কমিশনার হওয়ার চেয়েও এ চেতনার শক্তি এবং দায়িত্ববোধ অনেক বেশী। কারণ সরকারের ডিসি, এসপি বা কমিশনার হওয়ায় কিছু বেতন বা বাড়ী-গাড়ী জুটে, কিন্তু সে দায়িত্ব-পালন যত ভালভাবেই হোক না কেন তাতে বেহেশত পাওয়ার প্রতিশ্রুতি মেলে না। আল্লাহর খলিফা হওয়ার এমন চেতনা নিয়ে ঈমানদার যখন জায়নামাযে দাঁড়াবে তখন সে আনুগত্যে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যখন সে রাজনীতিতে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও তাঁর আইন তথা শরিয়তকে প্রতিষ্ঠার কাজে নিজের জানমাল বিলিয়ে দিবে। নবীজীর শতকরা ৬০ ভাগ সাহাবা সে কাজে শুধু অর্থ ও শ্রম-দানই করেননি, প্রাণও দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীগণের বিপুল ভাগ নিজেদের মুসলমান রূপে দাবী করলেও তাদের সে বিণিয়োগটি কই? দায়িত্ব-পালন দূরে থাক, তারা এখন কোমড় বেঁধেছে সে দায়িত্বপালনের চেতনাকে বিলুপ্ত করায়। খেলাফতের দায়িত্বপালনের চেতনাকে তারা বলছে মৌলবাদ। আর সে ইসলামি চেতনার বিলুপ্তি সাধনের চেতনাকে বলছে একাত্তরের চেতনা। মহান আল্লাহতায়ালার সাথে এমন অশালীন ও অবাধ্য আচরণ কি ব্যক্তি ও জাতির জন্য কোন কল্যাণ ডেকে আনে? আল্লাহর বিরুদ্ধে মুজিবের অবাধ্য আচরণ সত্তরের দশকে বাংলাদেশের বুকে আযাব ডেকে এনেছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ তখন না খেয়ে বা প্রলয়ংকরি জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে মরেছে। আদ-সামুদ গোত্র, মাদাইনের অধিবাসী, নমরুদ বা ফিরাউনের বাহিনীরও এত লোকক্ষয় হয়নি যতটা হয়েছে বাংলাদেশের বুকে ঘটে যাওয়া সেসব প্রলয়ংকরি আযাবে। প্রচন্ড তান্ডব নেমে এসেছিল মুজিবের পরিবারের উপরও। এমন ঘটনা গাছের ঝরা-পাতা পরার ন্যায় মামূলী ব্যাপার ছিলনা। অথচ ঝরে পরা পাতাটিও মাটিতে পড়ে আল্লাহর অনুমতি নিয়ে। আল্লাহর অনুমিত ছাড়া কোন সামুদ্রীক ঝড়ের কি সামর্থ আছে মানুষ হত্যা দূরে থাক গাছের একটি মরা পাতা ফেলার? মানুষ তো বাঁচে মরে আল্লাহর অনুমতি নিয়েই। প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগ নেতাদের কি সে বিশ্বাস আছে? আল্লাহর নিয়ামতকে নিয়ামত আর আযাবকে আযাব বলার সামর্থ সবার থাকে না। সে সামর্থ আসে একমাত্র ঈমানের বলে। সেটিই হলো ইসলামি চেতনা। সেকুলার চেতনায় সে সামর্থ নির্মিত হয় না। এ অসামর্থতার কারণেই আল্লাহর আযাবকে তারা আযাব বলতে রাজী নয়। বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আযাবকে এভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে আল্লাহর কুদরতকেই তারা আড়াল করতে চায়। আড়াল করতে চায় আল্লাহর সাথে কৃত কদর্য আচরণকেও। তাদের বিদ্রোহ যে আযাব ডেকে আনতে পারে সে ধারণাকেও এভাবে তারা জনগণের মন থেকে বিলুপ্ত করতে চায়। অথচ ঈমানদার হওয়ার জন্য চেতনার নুন্যতম এ সামর্থটুকু অতি প্রয়োজন। এটুকু না থাকলে কি তাকে মুসলমান বলা যায়? আর তেমন একটি বিশ্বাস থাকলে কোন ব্যক্তি কি “সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস” এর ন্যায় কথাটি শাসনতন্ত্র থেকে বিলুপ্ত করতে পারে? শিরক শুধু দেব-দেবীকে উপসানায় ভাগীদার করা বা পুজা দেওয়া নয়। শিরক হলো আল্লাহর কুদরতের সাথে অন্যকে ভাগীদার করা। প্রলয়ংকরি ঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, খড়া, ভূমিকম্প -এসব সৃষ্টির ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। অথচ সেকুলার চেতনাধারিরা আল্লাহর সে ক্ষমতাকে ভূলিয়ে বা সে ক্ষমতাকে অস্বীকার করে সে স্থলে বসায় প্রকৃতিকে। এমন এক চেতনার কারণেই তারা আল্লাহর আযাবকে বলছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি কি কম শিরক? অথচ শিরক হলো মহান আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে অমার্জনীয় গুনাহ। বিচার দিনে আল্লাহতায়ালা বান্দাহর সকল গুনাহ মাফ করলেও এগুনাহ মাফ করবেন না। 

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল নতুন প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু কার্যতঃ তারা অনুসরণ করছে শেখ মুজিবের সেই পুরনো নীতিকেই। ফলে মুজিব আমলের ন্যায় আজও চলছে আল্লাহর আযাবকে অতি দ্রুত নীচে নামিয়ে আনার কাজে। সে লক্ষ্যেই আজ তীব্রতা পাচ্ছে আল্লাহর প্রকাশ্য অবাধ্যতা। ষড়যন্ত্র হচ্ছে ইসলাম ও ইসলামের অনুসারিদের বিরুদ্ধে। ইসলামপন্থিদের নির্মূলে আঁতাত গড়া হচ্ছে ইসলাম-বিরোধী কাফেরদের সাথে। ফলে বিপর্যয় যে অনিবার্য তাতে কি সামান্যতম সন্দেহ আছে? তবে কথা হলো, এ অবস্থায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কোন পথটি বেছে নিবে? আল্লাহর বিরুদ্ধে এমন বিদ্রোহের মুখে জনগণের নীরবতা কি আদৌ ঈমানদারী? আল্লাহর খলিফার দায়িত্ব কি এ বিদ্রোহের নীরব দর্শক হওয়া? রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে কোন রাজকর্মচারি কি সেটি নীরবে দেখে? সে নীরবতায় কি তার চাকরি থাকে? অথচ মুসলমানদের অপরাধ আজ এরচেয়েও গুরুতর। আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর বিরুদ্ধে পরিচালিত এ বিদ্রোহের মুখে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান যে নীরব বা নিরপেক্ষ থাকছে অবস্থা তা নয়, বরং ভোট দিচ্ছে, অর্থ দিচ্ছে, মেধা ও শ্রম দিচ্ছে এমন কি প্রয়োজনে প্রাণও দিচ্ছে সে বিদ্রোহী শক্তিটির পক্ষে। ফলে আযাব শুধু সরকারকে নয়, জনগণকেও যে ঘিরে ধরবে তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ আছে? এমন আযাবে ঘর, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বিদায় নেয় শান্তি, সুখ, নিরাপত্তা। মানুষ তখন লাশ হয় পথে ঘাটে। তখন নারীরা ধর্ষিতা হয় শুধু রাজপথে নয়, নিজঘরেও। নিরাপত্তার খোঁজে মানুষ তখন ঘর ছেড়ে বনে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। অনেকে বাধ্য হয় দেশ ছাড়তেও। মুজিব আমলে তো সেটিই হয়েছিল। এমন এক নিরাপত্তাহীনতার কারণে শেখ মুজিবকে রক্ষিবাহিনী গড়তে হয়েছিল। কিন্তু তারপরও কি তিনি নিরাপত্তা পেয়েছিলেন? পেয়েছিল কি তার পরিবার? তিনি সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ভোট নিয়েছিলেন। কিন্তু দেশবাসীর জন্য উপহার দিয়েছিলেন দুর্ভিক্ষ, সীমাহীন দূর্নীতি, মৃত্যু আর ‘তলাহীন ভিক্ষার ঝুলি’র খেতাব। খাদ্যের খোঁজে মানুষ তখন কুকুরের সাথে লড়াই করেছে। একই ভাবে আজ নিরাপত্তাহীনতা নেমে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে গরীবের জীর্নকুটির অবধি। নেতা-নেত্রীর প্রাণ বাঁচাতে তাই আজ কোটি কোটি টাকা খরচ করে বুলেট প্রুফ গাড়ী আমদানি করতে হয়। জনগণের মুখোমুখি দাঁড়াতেও তাদের প্রচন্ড ভয়। নিজ গৃহে বা অফিসে তাদেরকে আশ্রয় নিতে হয় শত শত পুলিশের প্রহরায়। এভাবে বন্দী জীবন নেমে এসেছে শুধু জেলের কয়েদীর জীবনেই নয়, সরকারি-বেসরকারি নেতা-নেত্রীদের জীবনেও। এভাবে নেতা-নেত্রীরা প্রাণে বাচলেও বাঁচছে না সাধারণ মানুষ। লাশ হচ্ছে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ ছাত্র। নিরাপত্তা পাচ্ছে না এমনকি সামরিক বাহিনীর পদস্থ্য অফিসারগণও। একসাথে ৫৭ জন অফিসার প্রাণ দিয়ে দেশবাসীকে সে নিরাপত্তাহীনতার কথা তারা জানিয়ে দিয়ে গেলেন। কথা হলো, এসব কি কম আযাব? তবে আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা যেভাবে অবিরাম বেড়ে চলেছে তাতে আযাবের বর্তমান মাত্রাই বা আর কতকাল স্থির থাকবে? এ অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ কি অচিরে এক ভয়ানক আযাবকে অনিবার্য করবে না?

 




আবুল বারাকাতের মহাবিপর্যয় ভীতি ও মিথ্যা উৎপাদন

কে এই আবুল বারাকাত?

রাজনৈতীক ভাবে নির্মূল হওয়ার ভীতি আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের মনে যে কতটা প্রকট সেটিরই উৎকট প্রকাশ ঘটেছে গত ১৮/০৫/১৩ তারিখে ঢাকা থেকে প্রকাশিত “সাপ্তাহিক”য়ে দেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.আবুল বারাকাতের একটি সাক্ষাতকারে। প্রশ্ন, কে এই আবুল বারাকাত? ইসলামের বিরুদ্ধে তার দুষমনি ও প্রতিহিংসার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইসলামের শত্রু পক্ষের তিনি একজন প্রথমসারির সৈনিক। তার লড়াই বুদ্ধিবৃত্তির ময়দানে। শাহবাগের নাস্তিক আয়োজকগণ হলো তার নিজের ভাষার আলোকিত সৈনিক। ফলে তারা যে তার অতি কাছের লোক সেটি তিনি গোপন রাখেনি। তার কন্যাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ইসলামের বিরুদ্ধে তার ন্যায় তার কন্যার আক্রোশও অধিক।সম্প্রতি তার কন্যা সে আক্রোশের প্রকাশ ঘটিয়েছিল,সপ্তাহের আর সব দিন বাদ দিয়ে জুম্মার নামাযের সময় ছাত্রদের পরীক্ষার আয়োজন করে। অবশেষে ছাত্রদের প্রতিবাদের মুখে তার সে ষড়যন্ত্র সে বানচাল হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের বাংলাদেশকে তারা যে কোন দিকে নিতে চায় সেটি কি এর পরও গোপন  থাকে?

আবুল বারাকাত লেখাপড়া করেছেন সোভিয়েত রাশিয়ায়। ভারতীয় লবির অতি কাছের লোক তিনি। ঢাকায় অবস্থানরত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী মহলের সাথেও তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক। ইসলামের বিরুদ্ধে আজ বিশ্বব্যাপী যে কোয়ালিশন সে কোয়ালিশনের সাথে তার গভীর সম্পর্ক। চাকুরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলেও তার আসল  কাজটি অন্যত্র। গবেষণা ও ইভালিউশনের নামে তার একটি এনজিও আছে। সে এনজিও’র সূত্র ধরে তিনি প্রচুর অর্থ পান পশ্চিমা দাতা সংস্থাগুলো থেকে। সে সাথে আওয়ামী শাসনামলের অতি সুবিধাভোগী ব্যক্তিও। জনতা ব্যাংকের তিনি একজন কর্ণধার। আবুল বারাকাতের মূল কাজটি হলো, বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের নির্মূলের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা খাড়া করা এবং সেটির বাস্তবায়নে অন্যদের উস্কানি দেয়া। তার গবেষণা ও লেখালেখির বিষয় মূলতঃ দুটি। এক). কি করে বাংলাদেশের মাটিতে হিন্দু ও হিন্দুস্থানের স্বার্থকে বৃদ্ধি করা যায়, দুই). কি করে বাংলাদেশের ইসলামপন্থিদের রাজনৈতীক ও অর্থনৈতীক মেরুদন্ডকে ভেঙ্গে দেয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলা যাওয়া হিন্দুদের জমিজমা ফিরত দেয়ার পক্ষে তিনি জোর চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। ভারত থেকে এ কাজে তিনি মদদও পাচ্ছেন। সরকার তার সে দাবি মেনে নিয়েছে। অথচ মুজিব আমলে বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা ভারত যে লুটে নিয়ে গেল তা নিয়ে তিনি কোন সময়ই মুখ খুলেননি। সে লুটের মধ্যে ছিল পাকিস্তান আর্মির অব্যবহৃত হাজার হাজার কোটি টাকার যুদ্ধাস্ত্র্র। ভারতীয় বাহিনীর  হাতে বাংলাদেশ অধিকৃত হওয়ার পর পাকিস্তান আর্মির ফেলে যাওয়া কোন ট্যাংক, কোন দূরপাল্লার কামান ও গোলাবারুদই তারা বাংলাদেশে রেখে যায়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট মুজিবের বিরুদ্ধে ঢাকার রাস্তায় যে কয়েক খানি ট্যাংক নামানো হয়েছিল তা এসেছিল মিশর থেকে। এসেছিল তৎকালীন মিশরীয় প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের খয়রাত হিসাবে।

 

আবুল বারাকাতের ইসলামভীতি

কিছু কাল আগে আবুল বারাকাত গবেষনার ছদ্দবেশে এক বই লিখে দেখিয়েছিলেন, ইসলামি ব্যাংক কিভাবে বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের অর্থনীতির বিশাল ভিত গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি এ ব্যাংকটিকে তিনি পেশ করেছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য বিপদজনক প্রতিষ্ঠান রূপে। উস্কানি দিয়েছেন, এ ব্যাংককে ইসলামপন্থিদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রনে নেয়ার। লক্ষ্য, এ ব্যাংকটিও পরিনত হোক সোনালী ও জনতা বাংকের মত আওয়ামী বাকশালীদের লুটপাটের উর্বর ক্ষেত্র রূপে। ইসলামি ব্যাংকের অর্থে বাংলাদেশে যে কয়েক হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, গড়ে উঠেছে বহু হাসপাতাল, বহু পশুপালন ও মৎস্যপালন প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তায় নেমেছে যেরূপ হাজার হাজার যানবাহন -সেটি তার নজরে পড়েনি। সম্প্রতি দেশের নানা স্থানে ইসলামি ব্যাংকের নানা শাখা ও বুথের উপর যে হামলা হয়েছে তার পিছনে আবুল বারাকাতের মত ব্যক্তিদের উস্কানি যে সক্রিয় ছিল তা নিয়ে কি সামান্যতম  সন্দেহ আছে?

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের উপর্যপরি হরতালের সফলতা দেখে আবুল বারাকাতের মত ব্যক্তিদের ভয় আরো গভীরতর হয়েছে। সে ভয় আরো তুঙ্গে উঠেছে ৬ই এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের প্রায় তিরিশ লাখ লোকের লংমার্চ দেখে। এই ভয়ই তাদের মরণের ভয়। আবুল বারাকাতের আশংকা,বাংলাদেশ শ্রীঘ্রই তালেবান রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে। তার নিজের উক্তি, “এখনই সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্র হতেই পারে। কারণ একটি বিপ্লব বা পটপরিবর্তনের জন্য কোটি কোটি লোকের প্রয়োজন পড়ে না। শতকরা দুই ভাগ বা পাঁচ ভাগ কর্মী থাকলেই অনেক কিছু সম্ভব। জামায়াত-শিবিরের তো ৫ ভাগ সক্রিয় সমর্থক আছেই। এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাংশ যোগ হতেই পারে। না হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, জামায়াত রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্র তৈরি করেছে। আপনি আইনজীবীদের নির্বাচনগুলো দেখেন,ওরা কত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।”

 

অসুস্থ্যতা যেখানে বিবেকের

অতি ভয়ে মানুষ পাগলের প্রলাপ বকে। এমন ভীতু মানুষের সামনে ছোট খাটো মানুষও ভয়ংকর দৈত্য মনে হয়।এমন ভয়ে আক্রান্ত আবুল বারাকাত।  তার মুখে তাই প্রলাপও অনেক। এরূপ ভয়ের কারণে জামায়াত ইসলামের ন্যায় একটি সংগঠন তার কাছে সাধারণ সংগঠন মনে হয়নি। মনে হয়েছে বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দী একটি পৃথক রাষ্ট্র। তার নিজের কথাঃ “তারা সৃষ্টি করেছে মূল ধারার রাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি রাষ্ট্র,মূল ধারার সরকারের মধ্যে আরেকটি সরকার,মূল ধারার অর্থনীতির মধ্যে আরেকটি অর্থনীতি।” প্রশ্ন হলো একটি রাষ্ট্র বলতে কি বোঝায় সে জ্ঞান কি আবুল বারাকাতের আছে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কিতাবে রাষ্ট্রের সংজ্ঞা কি সেটি কি কখনোই তিনি একবার পড়ে দেখেছেন? রাষ্ট্র মানব সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। রাষ্টের যেমন নিজস্ব মানচিত্র থাকে, তেমনি সরকার,বিশাল প্রশাসন ও  বিশাল বিশাল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও থাকে। থাকে বিচার-কার্য নির্বাহের জন্য আইন-কানূন ও আদালত। থাকে বেতনভোগী বিশাল সশস্ত্র সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী। কিন্তু জামায়াতে হাতে এর কোনটিও কি আছে? তাদের অফিসগুলি তো দীর্ঘকাল যাবত তালাবদ্ধ। তাদের কর্মীরা তো রাজপথে নামে খালি হাতে। তাদের রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট মানচিত্র বা সীমানাটি কোথায়? কোথায় সে রাষ্ট্রের প্রহরায় সশস্ত্র সেনাবাহিনী? কোথায় তাদের সে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন? একটি ব্যাংক, কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অর্থ কি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা? ভারতে রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে এর চেয়ে বেশী প্রতিষ্ঠান আছে। মিশরে ইখওয়ানাল মুসলিমিনের হাতে তার চেয়েও বেশী প্রতিষ্ঠা। তাই বলে সে সংগঠনকে কেউ কি রাষ্ট্র বলেছে? জামায়াত যদি আলাদা রাষ্ট্র হয়েই থাকে তবে সে রাষ্ট্রের প্রধান বছরের পর বছর শত্রু পক্ষের জেলে থাকলে সে রাষ্ট্র বেঁচে থাকে কি করে? আবুল বারাকাতের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর আছে কি? অথচ এরাই আওয়ামী লীগের প্রথম শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী। এককালে বাংলাদেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। সে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের প্রাদেশিক গভর্নর ছিল এবং তার একটি প্রশাসনও ছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালে ভারতীয় বাহিনীর দখলদারির ফলে সে প্রাদেশিক সরকারের সবাই কারারুদ্ধ হয়। তখন পাকিস্তানী রাষ্ট্রও এ প্রদেশটিতে আর বাঁচেনি।  ফলে জামায়াত যদি রাষ্ট্রই হয়ে থাকে তবে দলটির প্রধান ও তার কেন্দ্রীয় নেতাগণ কারারুদ্ধ হলে সে রাষ্ট্র বাঁচে কি করে? এসব প্রশ্ন কি আবুল বারাকাতের মনে একবারও উদয় হয়েছে?

বহু মানুষ শুধু মানসিক বিকলঙ্গতা নিয়ে জন্মায় না। জন্মের পর, এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রি নিয়েও বহু মানুষ পাগল হয়। আওয়ামী লীগে এমন অপ্রকৃতস্থ পাগলের সংখ্যা কি কম? বরং এ আওয়ামী পাগলদের পাগলামীটা ভিন্ন মাত্রার। কোন পাগলও কি কখনো বলবে,কিছু মানুষের ঝাঁকুনিতে একটি ৮ তলা বিশাল বিল্ডিং ধ্বসে পড়বে? অথচ যিনি বলেছেন তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারি। এবং তার  নাম মহিউদ্দীন আলমগীর। ফলে আওয়ামী লীগে এমন পাগল শুধু আবুল বারাকাত একা নন। ডাকাত দলে একজনও সুস্থ্য মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না, তেমনি পাওয়া যাবে না আওয়ামী লীগেও। কারণ সুস্থ্য মানুষের সুস্থ্যতার সবচেয়ে বড় গুণটি হলো ডাকাতিকে ঘৃণা করা। তাই ডাকাত দল গড়ে উঠে শতকরা শতভাগ অসুস্থ্য ও চরিত্রহীন মানুষ দিয়ে। এ অসুস্থ্যতাটি দৈহীক নয়, বরং নৈতীক। তেমনি কোন স্বৈরাচারি শাসকের দলেও কোন সুস্থ্য ও চরিত্রবান মানুষ পাওয়া যায় না। মুর্তিপুজারি কাফেরদের মন্দিরে ঈমানদার খুঁজে পাওয়ার ন্যায় সেটিও এক অচিন্তনীয় ব্যাপার।কারণ সুস্থ্য ও চরিত্রবান মানুষদের দিয়ে তো আর ফ্যাসীবাদী দল গড়া যায় না। এবং তাদের দিয়ে বাকশালী স্বৈরাচার ও হাজার হাজার মানুষ হত্যার নীতিকে সমর্থণ করিয়ে নেয়া যায় না।

 

মিথ্যা বলা যেখানে স্ট্রাটেজী

ইসলামের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘকালীন গণহত্যার যুদ্ধকে ন্যায় সঙ্গত করার স্বার্থে আল কায়েদাকে একটি দানবীয় শক্তিরূপে চিত্রিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জনগণকে আল কায়েদা’র ভয় না দেখালে সরকারের পক্ষে কি সম্ভব হতো তাদের পকেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুট করা? সম্ভব হতো কি আফগানিস্তান ও ইরাকে প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যায়ের বিশাল যুদ্ধকে গ্রহণযোগ্য করা? বাংলাদেশেও তেমনি ইসলামপন্থিদের সহিংস নির্মূলের লক্ষ্যে ইসলামি দলগুলোকে দানবীয় শক্তিরূপে চিত্রিত করার সর্বপ্রকার প্রচেষ্টা হচ্ছে। হিফাজতে ইসলামের হাজার হাজার কর্মীকে নির্মম ভাবে হতাহত করাকে জায়েজ করতে তারা প্রচার করছে হেফাজতের মুসল্লিরা বায়তুল মোক্কাররমের সামনে বইয়ের দোকানে পবিত্র কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। বলা হচ্ছে,তারা রাস্তার গাছ নষ্ট করেছে। শত শত মানবহত্যাকারি এ খুনিরা এখন গাছপ্রেমিক হয়েছে। বলা হচেছ তারা নাকি ব্যাংকগুলোতে আগুন দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এক্ষেত্রে আবুল বারাকাতের নিজের মিথ্যাচারটিও দেখবার মত। তিনি বলেছেন,“বাংলাদেশে এখন প্রতি ৩ জন ছাত্রের ১ জন মাদ্রাসার ছাত্র (যার মোট সংখ্যা হবে ৮০ লাখ)। দেশে মোট মাদ্রাসার সংখ্যা হবে ৫৫,০০০-এর বেশি,যার মধ্যে ৭৩ শতাংশ কওমি মাদ্রাসা;এসব মাদ্রাসা পরিচালনে বছরে ব্যয় হয় আনুমানিক ১,৪০০ কোটি টাকা,আর মাদ্রাসা পাসদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭৫ শতাংশ।” বুঝা যাচ্ছে, যেখানেই তিনি নজর দেন সেখানেই মাদ্রাসার ছাত্র দেখতে পায়,সে সংখ্যা প্রতি তিন জনে একজন। ফলে সর্বত্র দেখতে পান বিপুল সংখ্যক ইসলামের ঝান্ডাবাহিদের। এটি তার মহা দুশ্চিন্তা।তার ভাষায় মহা বিপর্যয়। প্রশ্ন হলো,এমন মহাবিপর্যয়ের এত দুশ্চিন্তা নিয়ে তিনি ঘুমোন কি করে? অথচ তার মনে ঈমান থাকলে বিষয়টি ভিন্নতর হতো। কারণ যেখানেই ইসলাম, যেখানে মাদ্রাসার ছাত্র -তা দেখে তো একজন ঈমানদার প্রচন্ড খুশি হয়। কারণ তারা তো ইসলামের সেবক। তাদের দেখে মৃত্যুর ভয় পাবে তো ইসলামের শত্রুগণ। কিন্তু সেটিই হয়েছে আবুল বারাকাতের ক্ষেত্রে। ইসলাম ও মাদ্রাসার ছাত্র দেখে তিনি ভয়ে জর্জরিত। তিনি ভয় পাচ্ছেন, ইসলামপন্থিগণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অচিরেই দখল করে নিবে। তার ভয়,ইসলামি যুবকদের আত্মদানে। তার বিস্ময়,তারা কেন শহীদ হয় এবং শহীদী জজবা নিয়ে বোমায় পরিণত হয়।

আরো প্রশ্ন হলো,এসব আজগুবি তথ্য আবুল বারাকাত পেলেন কোত্থেকে? বাংলাদেশের প্রতি তিন জন ছাত্রের মাঝে একজন মাদ্রাসা ছাত্র এবং তাদের সংখ্যা ৮০ লাখ –এসব কি বিশ্বাস যোগ্য? মাদ্রাসার পিছনে ১৪ শত কোটি টাকা ব্যয় হয় –এমন নিখুঁত হিসাবই বা কোত্থেকে বের করলেন। মিথ্যা আবিস্কারে তাদের মগজ যে কত উর্বর এ হলো তার নমুনা। একাত্তরে ৩০ লাখ নিহত হওয়ার তথ্যটি এভাবেই বাজারে ছাড়া হয়েছিল। যিনি এ ভূয়া   তথ্যটি ছেড়েছিলেন তিনি ভেবে দেখেননি,নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ হলে পাকিস্তান আর্মিকে যুদ্ধকালীন ৯ মাসের প্রতিদিন গড়ে ১১ হাজার মানুষের বেশী মানুষকে হত্যা করতে হত। এবং জনসংখ্যার প্রতি ২৫ জনে একজনকে মারতে হতো। হার্ভাডে বসে হাসিনা তনয় জয়ও এমন মিথ্যা আবিস্কার করেছিল। সে বলেছিল, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক অফিসার হলো মাদ্রাসার ছাত্র। আওয়ামী নেতাকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের ঘরে ঘরে এভাবেই মিথ্যা উৎপাদনের ফ্যাক্টরি।

 

নিন্দিত হচ্ছে জিহাদ ও ইসলামি রাষ্ট্র

ইসলামের শত্রুদের কাছে ইসলামি রাষ্ট্র যেমন নিন্দিত। তেমনি অপরাধ হলো সে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জিহাদ।আবুল বারাকাত সে জিহাদকে চিত্রিত করেছেন জঙ্গিবাদ রূপে। তার মত লোকদের কাছে জঘন্য ভাষায় নিন্দিত হচ্ছে ইসলামপন্থিদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে নেয়ার চেষ্ঠা। ইসলামি রাষ্ট্র তাদের কাছে ফ্যাসীবাদি রাষ্ট্র।  ইসলামের বিরুদ্ধে এমন এক বিষাক্ত ঘৃণা নিয়েই তো নাস্তিক ব্লগারগণ মহান আল্লাহতায়ালা,তাঁর প্রিয় রাসূল (সাঃ) ও রাসূল (সাঃ)র বিবিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে। হেফাজতে ইসলামের উত্থানের পর থেকে ইসলামের শত্রুপক্ষের মনে ইসলামভীতি এখন তুমুলে। তাদের বিরুদ্ধে আবুল বারাকাতের অভিযোগ, “সুসংগঠিত জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে উদ্যত”। বলেছেন, “তারা ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে”। অভিযোগ তুলেছেন,“ধর্মভিত্তিক এ রাজনৈতিক মতাদর্শ ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”

প্রশ্ন হলো, ইসলামের প্রতিষ্টায় জিহাদ করা এবং সে জিহাদের প্রাণ দেয়া এবং ধর্মকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করা কি এক কথা? মুসলমান হওয়ার দায়বদ্ধতা হলো, ইসলামি বিধানের প্রতিষ্টায় রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে নেয়া। রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে না নিলে রাষ্ট্রের বুকে ইসলামের শরিয়তি বিধানের প্রতিষ্ঠা কীরূপে সম্ভব? ইসলাম তাই মসজিদ,মাদ্রাসা,খানকাহ বা মাজারে বন্দী থাকার বিষয় নয়। নবীজী নিজে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে নিয়েছেন, সাহাবাগণও নিয়েছেন। ইসলামের শত্রুপক্ষের অধিকৃতি হটিয়ে দখলে নেয়ার কাজটি হলো জিহাদ, এমন জিহাদে প্রাণদান হলো শাহাদাত। ইসলামে তো এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মকর্ম। অথচ আবুল বারাকাত এর মধ্যে দোষ খুঁজছেন। ইসলাম যতদিন মসজিদ-মাদ্রাসা,সূফীদের মাজারে বা খানকায়ে আবদ্ধ থাকবে ততদিনই সেটি তার কাছে প্রকৃত ধর্ম। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে নেয়ার চেষ্টা হলেই সেটি উগ্র জঙ্গিবাদ। রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে নিয়েছেন খোদ নবীজী (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশাদা।প্রশ্ন হলো, তাদেরকে  তিনি কি বলবেন? আবুল বারাকাতের কাছে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টা হলো রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ। অথচ মুজিব যেভাবে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্টা করলো,ছিনিয়ে নিল জনগণের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং হত্যা করলো ৩০-৪০ হাজার মানুষ -তাকে তিনি কি বলবেন? মুজিবের ন্যায় গণদুষমন ও গনতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রমাণিত শত্রুকে তিনি বঙ্গবন্ধু বলতে পাগল!  তিনি মুজিবকে এতটা মাথায় তুলেছেন তার নিজের অবস্থান গণতন্ত্র, মানবতা ও ইসলামের বিপক্ষে হওয়ার কারণে। মানবতা ও ইসলামের বিরুদ্ধে এমন একটি বিপক্ষীয় অবস্থান থেকে তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করবেন এবং শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের নাস্তিকদের ইসলামপন্থি রাজনীতি নিষিদ্ধ ও ইসলামি নেতাদের ফাঁসির আন্দোলনকে “তরুণ প্রজন্মের আলোকিত-আন্দোলন” বলবেন সেটিই কি স্বাভাবিক নয়?

 

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা কি বিপর্যয়?

যেখানেই ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থের প্রতি অঙ্গিকার সেখানেই আবুল বারাকাতের মত ব্যক্তিবর্গ পশ্চাতপদতা ও সাম্প্রদায়িকতা দেখেন। দেখেন বিপর্যয়। এবং মুসলমানদের গলাকাটার মধ্যে দেখেন প্রগতি। তাই প্রচন্ড প্রগতি দেখেছেন মতিঝিলে হাজার হাজার মুসল্লি হত্যার মধ্যে। অথচ ভারতে মুসলিম নিধন ও মুসলমান নারীদের ধর্ষণের মাঝে তিনি কোন পশ্চাদপদতা দেখেন না।তাই তার বিরুদ্ধে নিন্দাবাদও জানান না। বহু ভারতীয় হিন্দু ভারতে এরূপ মুসলিম হত্যার প্রবল নিন্দা জানিয়েছে।অরুন্ধতি রায়ের মত ব্যক্তিরা আন্দোলনেও নেমেছেন।কিন্তু আবুল বারাকাতগণ কি একটি বারের জন্যও নিন্দা বা প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাঝে যৌক্তিকতা দেখেছে এমনকি অনেক অমুসলমানেরাও। আবুল বারাকাতগণ যে ভারতীয় হিন্দুদের চেয়েও বেশী মুসলিম বিদ্বেষী সেটি কি এরপরও বুঝতে বাঁকি থাকে? এমন একটি মুসলিম বিদ্বেষ নিয়েই তিনি ১৯৪৭ সালের উপমহাদের মুসলমানদের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা আন্দোলনকে বলেছেন পশ্চাদমুখি। তার কথায় “পূর্ব বাংলায় ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে প্রথম বড় মাপের পশ্চাদমুখী রূপান্তর (বিপর্যয়) ঘটেছে গত শতাব্দীতে যখন ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে যখন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ এলো।” যেখানেই মুসলমানের জাগরণ ও স্বার্থ রক্ষণের বিষয় –সেটিই আবুল বারাকাতের কাছে মনে হয়েছে পশ্চাদপদতা। সে ধারণা নিয়েই তিনি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের প্রতিষ্টাকে বলছেন সাম্প্রদায়িকতা। কথা হলো, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি না হলে আজকের বাংলাদেশ কোত্থেকে আসতো? সে হুশ কি তার আছে? তার আফসোস “ধর্মভিত্তিক দেশ বিভাজনে ইসলাম ধর্মের উদারনৈতিক-মানবিক ধারার সুফি-ওলামারা বাধা দিতে পারলেন না।” অথচ ভূলে যান, মহম্মদ ঘোরির হাতে দিল্লি বিজয়েরে পর দক্ষিণ এশিয়ার বুকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবজনক ঘটনা। মুসলমানের বিজয় ও গৌরব নিয়ে যাদের মনকষ্ট একমাত্র তারাই ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সৃষ্টিতে কষ্ট পেতে পারে। সে কষ্ট যেমন ভারতীয় হিন্দুগণ পায় তেমনি বাংলাদেশের বুকে তাদের প্রতিপালিন এজেন্টগণও পায়।

বাংলাদেশে আজও ইসলামপন্থিদের ফাঁসিতে ঝুলানো যায়নি তা নিয়ে আবুল বারাকাতদের বড়ই আফসোস।  সে কাজ যে হাসিনা শুরু করেছে তাতেই তার আনন্দ। তবে তার ভয় বেড়েছে ইসলামের পক্ষে  গণজাগরণ দেখে।সে জাগরণের মাঝে তিনি বিপন্নতা দেখছেন।বলেছেন,“উগ্র জঙ্গিবাদ যে ‘আত্মঘাতী বোমা সংস্কৃতি’ চালু করেছে তার ফলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের জীবন বিপন্ন প্রায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া যতই ত্বরান্বিত হচ্ছে এ বিপন্নতা ততই বাড়ছে।” অথচ আবুল বারাকাত দেখেও দেখেন না যে, দেশে আজ প্রচন্ড ফ্যাসীবাদী শাসন। শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে ইসলামপন্থিদের হাতে নয়, বরং আওয়ামী দুর্বৃত্তদের হাতে। দেশ বিপন্ন তো হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে। দেশের স্বাধীনচেতা মানুষের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ৩০-৪০ হাজার মানুষ আজ জেলে। ৫মে ও ৬ মে বহু হাজার মুসল্লিদর এ ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মম ভাবে নিহত ও আহত করলো। তার আগে নিহত করেছে প্রায় দুই জামায়াত শিবির কর্মী ও সাধারন মানুষকে। সরকার বিরোধী গণমাধ্যমগুলো একের পর এক বন্ধ করা হচ্ছে। মানুষ গুম হচ্ছে। “আমার দেশ” সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের। এরূপ ফ্যাসীবাদী নির্মমতার বিরুদ্ধে বহু বিবেকমান মানুষই প্রতিবাদ করছে। প্রতিবাদে সাধারণ জনগণও জেগে উঠেছে। জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। যখনই কোন স্বৈরশাসক জনগণের উপর এরূপ আঘাত হানে তখনই জনগণ এভাবে জেগেছে। সেটি যেমন মুজিব আমলে জেগে উঠেছিল সেটি আজও হচ্ছে। এটিই একটি জীবিত জনগণের স্বাভাবিক রূপ। কিন্তু বিবেকের সে সুস্থ্যতা কি আবুল বারাকাতের মত আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের আছে? থাকলে এ নৃশংসতার বিরুদ্ধে তার মুখে প্রতিবাদ কই? জনগণের জেগে উঠার বিরুদ্ধে তারা এত শংকিত কেন?

 

ফ্যাসীবাদের নাশকতা

রোগজীবানূর আক্রমনে দেহের মৃত্যু ঘটে। আর ফ্যাসীবাদের আক্রমণে হাজার হাজার মানুষের দৈহীক মৃত্যুর সাথে মৃত্যু ঘটে অসংখ্য মানুষের বিবেকেরও। বিপুল হারে উৎপাদিত হয় দাস চরিত্রের মানুষ। বাংলাদেশের বুকে আওয়ামী ফ্যাসীবাদের হাতে এখানেই ঘটেছে সবচেয়ে বড় নাশকতা। তারা বহু হাজার মানুষকেই শুধু হত্যা করনি, হ্ত্যা করেছে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিবেকও। অন্ধ করে দিয়েছে তাদের মনও। সেটি যেমন মুজিব আমলে ঘটেছিল তেমনি আজও ঘটছে। ফলে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রপক্ষের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা আজ বিবেকশূণ্য। হাসিনা সরকারের হাতে নির্মম নৃশংস ভাবে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু যেমন তাদের নজরে পড়ে না,তেমনি নজরে পড়ে না শেখ মুজিবের বাকশালী স্বৈরাচারের নিষ্ঠুরতাও। সরকারি প্রচার যন্ত্র ব্যস্ত মুজিবের সে নিষ্ঠুরতা ভূলিয়ে তাকে ফেরেশতা তূল্য জাহির করার কাজে। সে কাজে নেমেছেন আবুল বারাকাতের মত শত শত ব্যক্তি। সে মুজিবী নিষ্ঠুরতা যে কত নির্মম ছিল তার বিবরণ বহু। উদাহরণ দেয়া যাক কমিউনিস্ট নেতা (সিপিবি নয়)শান্তি সেনের স্ত্রী অরুণা সেনের বিবৃতি থেকে।অরুণা সেন ও তার পুত্রবধূ রিনা সেন ও হনুফা বেগমকে রক্ষীবাহিনী কী বর্বর নির্যাতনই না করেছিল! শারীরিক নির্যাতন,যৌন নির্যাতন,পুকুরে চুবানো,চাবুক দিয়ে পেটানো,নগ্ন-অসুস্থ অবস্থায় কম্বলচাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে রাখা (কথামালার রাজনীতি ১৯৭২-’৭৯/ড.রেজোয়ান সিদ্দিকী,তৃতীয় সংস্করণ,পৃ.৫৫)।মুজিব আমলে বাজিতপুরের ইকোটিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল আলীর ছেলে রশিদের খুনের ঘটনাটি কত নৃশংসা ভাবে ঘটেছিল সে বিবরণ দিয়েছেন জনাব আবদুল আলী এক  সাক্ষাৎকারে। সেটি এরূপঃআমার সামনে ছেলেকে গুলি করে হত্যা করল। আমার হাতে কুঠার দিয়ে বলল,“মাথা কেটে দে,ফুটবল খেলব”। আমি কি তা পারি? আমি যে বাপ। কিন্তু অত্যাচার কতক্ষণ আর সহ্য করা যায়। সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের হাতে ছেলের মাথা কেটে দিয়েছি।”-(বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড,ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ,আহমেদ মুসা,পৃ. ৬৭-৬৮)। এরূপ নির্যাতন ও এরূপ নৃশংস হত্যাকান্ড শুধু অরুণা সেন,রিনা সেন কিংবা কৃষক আবদুল আলীর ছেলে রশিদের ক্ষেত্রেই ঘটেনি;ঘটেছে আরও হাজার হাজার মানুষের ক্ষেত্রে। ইদানিং একই নৃশংসতা ঘটে গেল শাপলা চত্তরে। আজও ঘটছে ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শত শত জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে।

 

ঘরের শত্রু ও বিপর্যয়ের পথে দেশ

কিন্তু আবুল বারাকাতের দৃষ্টিত এ নৃশংস মুজিবই বাংলার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।এবং তার দল আওয়ামী লীগই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সংগঠন। তিনি তার বয়ানে আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতার সংগ্রামী সংগঠন রূপে ভূষিত করেছেন।অন্য কোন দলের প্রশংসায় তিনি একটি কথাও বলেননি। কথা হলো,আবুল বারাকাত কি স্বাধীনতার অর্থ বুঝেন?স্বাধীনতার অর্থ কি শুধু একটি মানচিত্র লাভ? বাংলার মানচিত্র কি আগেও কেউ গিলে খেয়েছিল? স্বাধীনতার অর্থ তো সাধারণ জনগণের মতামত প্রকাশ,সংগঠন গড়া,রাজনীতি করা ও দাবীদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করার পূর্ণ স্বাধীনতা,সেটি স্রেফ কোন ব্যক্তি বা দলের স্বাধীনতা নয়।শেখ মুজিব ও তার দল আওয়ামী লীগ কি সে স্বাধীনতা জনগণকে কোন কালেও দিয়েছে? আজও  কি দিচ্ছে? বরং জনগণের সে স্বাধীনতা নির্মম ভাবে কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।সেটি যেমন একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে।তেমনি পত্র-পত্রিকা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা হরন করে। বরং আওয়ামী লীগের অপরাধ তো আরো জঘন্য।শুধু কথা বলা, দল গড়া বা রাজনীতির অধিকারই তারা হরন করেনি,বরং কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার অধিকারও। মুজিব তার শাসনামলে হত্যা করেছে ৩০-৪০ হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে। ৫ই মে ও ৬ই মে মাত্র এ দুটি দিনে মুজিব কন্যা নিহত ও আহত করেছে হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার মুসল্লিদের। বাংলার বুকে মুসলমানদের এতবড় ক্ষতি কোন মনুষ্য জীবের হাতে কি কোন কালেও হয়েছে? জনগণের জানমাল ও স্বাধীনতার এতবড় শত্রুকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বললে স্বাধীনের শত্রু কে?

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট মুজিব ও তার পরিবারের অনেকেই নিহত হয়েছেন। কিন্তু মুজিব পরিবারের সকল সদস্য তার পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে ডাইনোসোরের ন্যায় নির্মূল হয়ে যায়নি। বাংলার মানুষ তাই ডাইনোসরকে না চিনলেও মুজিব ও তার পরিবারকে চেনে। মাঝে মাঝে ভূলে গেলেও স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য মুজিব পরিবারের সদস্যরা এখনও বেঁচে আছে। গোখরা শাপ যেমন তার বিষাক্ত ফনা নিয়ে আজও  বাংলার নানা প্রান্তে বেঁচে আছে,তারাও রাজনীতিতে বেঁচে আছে মুজিবী নৃশংসতা নিয়ে।গোখরার প্রাণনাশী বিষাক্ততা জানার জন্য স্কুল-কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।গ্রামগঞ্জের নিরক্ষর শিশুরাও সেটি জানে।স্মৃতিতে মাঝে মধ্যে বিলুপ্তি ঘটলে সেটি ছোবল দিয়ে আবার স্মরণ করিয়ে দেয়।তেমনি বাংলাদেশে জনগণের বুকে বার বার ছোবল মারছে মুজিবী বাকশাল। আওয়ামী লীগের ইতিহাস জানার জন্য তাই কি ইতিহাসের বই পাঠের প্রয়োজন পড়ে? আবুল বারাকাতদের বায়ান শুনারও কি প্রয়োজন হয়? তবে তার বায়ানে যেটি প্রকাশ পেয়েছে সেটি তার নিরেট মিথ্যাচার ও চাটুকর চরিত্র।সে সাথে ইসলামের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রোশ। বাংলাদেশের মুসলমানের বিরুদ্ধে এরাই ঘরের শত্রু।

জানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু গোখরা শাপগুলোক চিনলে চলে না,ভাল ভাবে চিনতে হয় এসব ঘরের শত্রুদেরও।চিনতে হয় বিদেশী শত্রুদেরও।বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রির চেয়েও এজ্ঞানের গুরুত্ব অনেক বেশী।নবীজী (সাঃ)র সময় কোন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না,কিন্তু মসজিদের পবিত্র মেঝেতে এ জ্ঞানলাভটি সঠিক ভাবে হয়েছিল।ফলে ঘরের গোখরা শাপগুলো চিনতে ও নির্মূলে সাহাবাগণ সেদিনি ভূল করেননি।ইসলামের শত্রু নির্মূলের সে জিহাদের হাজার হাজার সাহাবা সেদিন শহীদ হয়েছেন। শহীদের সে রক্তে আল্লাহর শরিয়ত যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তেমনি মুসলমানগণ বেড়ে উঠেছে বিশ্বশক্তি রূপে। তাদের হাতে নির্মিত হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা। কিন্তু বাংলাদেশে শত্রু চেনার সে কাজটাই যথার্থভাবে হয়নি।অজ্ঞতা নিয়ে ঘরের শত্রুদের মাথায় তোলা হয়েছে।দেশে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বিপুল ভাবে বাড়লেও সে অজ্ঞতা দূর হয়নি। বরং বেড়েছে। ফলে দেশ অধিকৃত হয়ে গেছে ভয়ানক শত্রুদের হাতে। মুসলিম ভূমিতে তাই পরাজিত হয়ে আছে মহান আল্লাহর শরিয়তি বিধান। বিষাক্ত গোখরাগুলো এখন ফনা বিস্তার করে আছে শুধু শাপলা চত্ত্বরে নয়,বরং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়,পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবী,মিডিয়া ও প্রচার মাধ্যম,আদালত,প্রশাসন,অপরাধ ট্রাইবুনাল,মন্ত্রীপাড়াসহ ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে।ফলে নিরীহ আলেম-উলামা,ইসলামি আন্দোলনের নেতাকর্মী ও তাওহিদী কাফেলার তরুন সৈনিকেরা পথেঘাটে লাশ হচ্ছে এবং তাদের লাশও গুম করা হচ্ছে।আল্লাহর শরিয়তি বিধানকে পরাজিত রাখা এবং ঈমানদার মুসল্লিদের এভাবে হাজারে হাজারে লাশ করা ও তাদের লাশগুলো গুম করার মধ্যেই তাদের উৎসব।বাংলাদেশের আওয়ামী শাসক মহলে তো সে উৎসবই মহা ধুমধামে লাগাতর চলছে।যেদিন কয়েক হাজার মানুষ লাশ হলো সাভারের রানা প্লাজা ধসে সেদিনও উৎসব বসেছিল প্রেসিডেন্ট ভবনে। অথচ স্বজন হারা এবং নিহত সন্তানের লাশ না পাওয়া আপনজনের ক্রন্দনে ভারি হয়ে উঠছে বাংলার বাতাস। প্রশ্ন হলো,যাদের হৃদয়ে সামান্য ঈমান আছে,আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ে যাদের সামান্যতম অঙ্গিকার আছে এবং পরকালে জবাবদেহীতার ভয় আছে তারাও কি নীরবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে উৎসব দেখবে? আবুল বারাকাতরা তো সেটাই চায়। ২৭/০৫/১৩

 




আনন্দবাজারের মিথ্যাচার,হাসিনার দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ  ও প্রণব মুখার্জির আশ্বাস

আনন্দবাজারের মিথ্যাচার

ঢাকায় তিন দিনের হরতাল চলছে। সারাদেশে যুদ্ধাবস্থা,পুলিশ ও র‌্যাব নির্বিচারে গুলি ছুড়ছে।  গুলিতে নিহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। সারা দেশে লাশ আর লাশ। হরতালের কারণে মানুষ আটকা পড়েছে নানা স্থানে।ঘৃণা ও ক্ষোভে সারা দেশ জ্বলে উঠেছে। চরম আক্রোশে বিক্ষুব্ধ মানুষ এমন কি পুলিশের গাড়িতে আগুন দিচেছ।হামলা হচ্ছে থানায় ও টিএনও অফিসে।জ্বলছে দূরপাল্লার ট্রেন। রাতে পুলিশও রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলকলেজ,স্থগিত হয়ে গেছে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা। খোদ ঢাকাতে হাজার হাজার পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা সত্ত্বেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙ্গে পড়েছে। এমন হরতাল দেশে পূর্বে কখনো হয়নি। আল –জাজিরাসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ছবি দেখাচ্ছে ঢাকার জনবিরল ফাঁকা রাস্তা ও বন্ধ দোকান-পাট। সড়কে পুলিশের সাঁজোয়া গাড়ি ছাড়া কোন গাড়ি চলছে না। একই রূপ চিত্র দেখাচ্ছে বহু দেশী টিভি চ্যানেল।

কিন্তু কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় বাংলাদেশের সে চিত্র প্রকাশ পায়নি।ঢাকার জীবনযাত্রা ও যানবাহন চলাচলে যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে সেটিও তাদের নজরে পড়েনি। দেশটিতে সব কিছুই যেন ঠিকঠাক। এমন একটি চিত্রই আনন্দবাজার পত্রিকা তুলে ধরেছে ভারতবাসী বিশেষ করে পশ্চিম বাংলার জনগণের সামনে। তেসরা মার্চের হরতাল নিয়ে ৪/৩/১৩ তারিখের দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছে,“রাস্তায় গাড়ির স্রোত। দোকান পাট খোলা। শেয়ার বাজার আর ব্যাংকে লেনদেন চলছে আর পাঁচটা দিনের মতই। জামায়াতে ইসলামির ডাকা হরতালের ছবিটা এ রকমই।” বাংলাদেশের যারা খবর রাখেন তারা কি আনন্দবাজারের এ সংবাদের সাথে এক মত হতে পারেন? মিথ্যাচার আর কাকে বলে? সত্যগোপন আর মিথ্যা প্রকাশে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাটি ঢাকার আওয়ামী ঘড়ানার জনকন্ঠ,সমকাল,কালের কন্ঠ,ভোরের কাগজ,প্রথম আলো,ডেইলি স্টারের ন্যায় পত্রিকাগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

দৈনিক আনন্দবাজার কোন তুচ্ছ দৈনিক নয়।শুধু পশ্চিম বাংলার নয়,এটি সমগ্র ভারতের প্রথম সারির পত্রিকা।কিন্তু এই কি পত্রিকার মান? বাংলাদেশ প্রসঙ্গে খবর দিতে গিয়ে পত্রিকাটি যে কতটা বিবেকশূণ্য ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে হরতাল নিয়ে উপরের খবরটি হলো তার নমুনা। তারা সাংবাদিকতার ন্যূনতম মান এবং খবর প্রকাশে সামান্যতম সততারও পরিচয় দেয়নি। খবরের সুস্থ্যতা হলো তার সত্যতা। অসত্য খবর প্রকাশের অর্থ দেশবাসীকে অন্ধকারে রাখা। সংবাদপত্রের উপর দেশবাসীর ন্যায্য পাওনা আছে,তেমনি অধিকারও কাছে। সেটি পত্রিকার পাতায় সঠিক খবর পাওয়ার। ভেজাল বা মিথ্যাদূষন সর্বক্ষেত্রেই দূষনীয়। বাঁচার স্বার্থে ভেজালমুক্ত খাবার ও ঔষধ যেমন অপরিহার্য,তেমনি ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ে সঠিক মূল্যায়ান ও সিদ্ধান্তের জন্য তেমনি অপরিহার্য হলো সঠিক খবর ও সংবাদ। তাই মিথ্যাচার দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সভ্যসমাজে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। হযরত আলী (রাঃ)বর্নীত নবীজী (সাঃ)র হাদীসঃ “মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ হলো মিথ্যা বলা”। সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে সে মিথ্যাটি হলো অসত্য খবর সংবাদ পরিবেশনা করা। জনগণের সাথে এভাবেই তারা গাদ্দারি তথা বিশ্বাসঘাতকতা করে। আওয়ামী ঘরানার পত্রিকাগুলোর ন্যায় আনন্দবাজারও তেমনি এক অপরাধ করেছে হরতাল নিয়ে ডাহা মিথ্যা খবর পরিবেশনা করে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আনন্দবাজারের নিজস্ব একটি পক্ষ আছে। সেটি বাংলাদেশের ইসলাম বিরোধী পক্ষ। তসলিমা নাসরিনের ন্যায় ব্যক্তিগণ ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বই লিখলে তাদের মনপ্রাণ আনন্দে ভরে উঠে। সেগুলি তারা ছাপিয়ে বিপুল ভাবে প্রকাশের দায়িত্ব নেয়। তসলিমা নাসরিনের বই ছেপেছে তাদেরই প্রকাশনি। আনন্দবাজার গ্রুফের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কারও দেয়া হয়েছে। মুসলমানদের উপর যেখানেই হামালা,ইসলামের বিরুদ্ধে যেখানেই কুৎসা সেখানেই আনন্দবাজার গোষ্ঠির পুলক। ফলে বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের ফাঁসি দেয়ার দাবী নিয়ে শাহবাগে যে আয়োজন হচ্ছে তাতে তাদের ফুর্তি দেখে কে? আনন্দে তারা ডুগডুগি বাজানো শুরু করেছিল। এতে শাহবাগের মোড়ে ইসলামের দুষমন মুরতাদদের সে উৎসবকেই তারা আসল বাংলাদেশ মনে করেছিল। কিন্তু সে আনন্দে প্রচন্ড বাঁধা পড়ে যখন মহান আল্লাহতায়ালা ও মহান রাসুলকে গালি দেয়া মুরতাদদের বিরুদ্ধে দেশের তা্ওহিদী জনতার জেগে উঠা দেখে। হতভম্ব হয়ে যায় জামায়াতের ডাকে দেশব্যাপী হরতাল হতে দেখে। সেটি তারা ভাবতেই পারিনি। আজও  সেটি হরতালের সত্যতা তারা বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ ১৬ কোটি মানুষের দেশে হরতাল করা যা তা ব্যাপার নয়। এর আগে কোন দলই সেটি একক ভাবে পারেনি। অতীতে হরতাল হয়েছে নানা দলের জোটবদ্ধ হয়ে ডাকায়। হরতালের সফলতা নিয়ে আওয়ামী শিবিরেও দ্বিমত নাই। এমন কি তাদেরও অনেকে বিস্মিত হয়েছে এরূপ কঠোর হরতাল হতে দেখে। রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া নেই,দুরপাল্লার কোন বাস চলছে না। স্কুল-কলেজ বন্ধ,দোকান-পাট বন্ধ,অফিসে খালি খালি ভাব সেটিই এসবের চিত্র। জামায়াতের এ হরতাল বন্ধে সরকার হাজার হাজার পুলিশ ও র‌্যাব নামিয়েছে। কোন কোন স্থানে সেনাবাহিনী নামিয়েছে। কিন্তু তাতেও হরতাল বন্ধ হয়নি। প্রশ্ন হলো, জনগণের সমর্থণ না থাকলে কি এরূপ হরতাল জামায়াতের একার পক্ষে হরতাল সম্ভব হতো?

 

আনন্দবাজারের ধৃষ্টতা


শুধু পক্ষপাতদুষ্টতাই নয়,বাংলাদেশের প্রতি কদর্যতাপূর্ণ প্রকাণ্ড ধৃষ্টতাও ফুটে উঠেছে আনন্দবাজার পত্রিকার পৃষ্ঠায়। পত্রিকাটি অতি বিক্ষুব্ধ হয়েছে বাংলাদেশে সফররত ভারতীয় প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সাথে খালেদা জিয়ার সাক্ষাত বর্জনে। হরতাল যে ব্যর্থ হয়েছে, ঢাকার যানবাহন চলাচল ও জীবনযাত্রার উপর এ হরতাল কোন প্রভাবই ফেলেনি সে মিথ্যাকাহিনী রচনার পর আনন্দবাজার লিখেছে,“আর এ হরতালকে ঢাল করে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে দিলেন বাংলাদেশের বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া।” আনন্দবাজারের রিপোর্টটি পড়ে বুঝা যায় প্রণব মুখার্জির সাথে খালেদা জিদা সাক্ষাত না করায় তারা কতটা রেগেছে। তাদের সে রাগটি গোপন থাকেনি। রাগের মাথায়  মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। ফলে তারা দেখতে পারেনি, এবং বুঝতেও পারিনি বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা। সে সাথে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অতি অশালীন অভদ্র কথাও লিখেছে। আনন্দ বাজার লিখেছে, খালেদা জিয়া নাকি একরকম ঝুলোঝুলি করেই গত নভেম্বরে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ আদায় করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রতি আনন্দবাজারের  তাচ্ছিল্যতা যে কতটা প্রকট সেটি কি এর পরও গোপন থাকে? তারা ভূলে যায়,বাংলাদেশ সিকিম,ভূটান নয়,১৬ কোটি মানুষের একটি স্বাধীন দেশ। প্রণব মুখার্জি কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী? ভারতের রাজনীতিতে তিনি কি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ব্যক্তি? বাংলাদেশে যেমন জিল্লুর রহমান,ভারতে তেমনি প্রণব মুখার্জি। প্রশ্ন হলো,বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং দুইবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফলে গিয়ে প্রণবমুখার্জির মত একজন ক্ষমতাহীন পোষাকি রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতে ঝুলোঝুলি করতে হবে কেন? প্রণব মুখার্জির কি সামর্থ আছে কিছু দেয়ার? তিনি কি পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যাণার্জির চেয়েও শক্তিধর? তার মত ক্ষমতাহীন এক ব্যক্তি বাংলাদেশে সফরে আসলে খালেদা জিয়া বা অন্য কোন নেতাকে ছুটে যেতে হবে চরণধুলি নিতে, সেটিই বা কেমন কথা? অথচ আনন্দবাজার সেটিই চেয়েছিল। সেটি হয়নি দেখে তারা তেলে বেগুণে জ্বলে উঠেছে।

 

প্রণব মুখার্জির হাসিনাপ্রীতি

প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের প্রতি ভালবাসার টানে বাংলাদেশে আসেননি। এসেছেন হাসিনার টানে। হাসিনার বর্তমান অবস্থা তার পিতার মতই। ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়া ছাড়া শেখ মুজিবের কোন বন্ধু ছিল না। অধিকাংশ মুসলিম দেশ তাকে স্বাধীন শাসক রূপে বিশ্বাস করতো না,চীনও বিশ্বাস করেনি। ফলে তারা বাংলাদেশকেও স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে স্বীকৃতি দেয়নি। ইসলামপন্থিদের নির্মূলে নামায় হাসিনার বিরুদ্ধেও আজ  শুধু বাংলাদেশে নয়,বিদেশেও মানুষ বিক্ষুব্ধ। পত্রপত্রিকা ও টিভির কারণে দুনিয়াটা অতি ছোট হয়ে গেছে। ঢাকায় মুসল্লিকে দাড়ি ধরে টানলে সেটি বিশ্বময় খবর হয়।বাংলাদেশ অলিম্পিকে বা ওয়ার্ল্ডকাপে সোনা জিতে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়নি, কিন্তু বহুদেশে খবরের প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছে মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে ফাঁসীর হুকুম শুনিয়ে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে ইস্তাম্বুল,কায়রো,লন্ডন,প্যারিসসহ বিশ্বের নানা নগরে। এমনকি খোদ কলকাতাতেও বহু হাজার মানুষ প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে। আনন্দবাজার কি সে খবর রাখে না? ফলে বাংলাদেশে হরতাল হবে,বিক্ষোভ হবে সেটি কি এতটাই অসম্ভব? পুরা বাংলাদেশ কি শাহবাগ চত্ত্বর? শাহবাগ চত্ত্বরে জমায়েত বিভ্রান্ত নাস্তিকেরাই বাংলাদেশের একমাত্র জনগণ নয়।বাংলাদেশ হাজার হাজার মসজিদ-মাদ্রাসা,লক্ষ লক্ষ আলেম-উলামা ও কোটি কোটি মুসল্লির দেশ। সেদেশে আলেমদের ফাঁসি হতে থাকবে এবং সাধারণ মানুষ সেটি নীরবে মেনে নেবে সেটি আনন্দবাজার বুঝলো কি করে?

প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশে এসেছে শুধু জিদের বশে নয়,গরজের টানেও। শুধু হাসিনাকে বাঁচানো নয়,ভারতের স্বার্থ বাঁচানোটি তাদের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ।সে জন্যই তিনি ছুটে এসেছেন। তিনি জানতেন,বাংলাদেশ জ্বলছে।গ্রামে গঞ্জে অগণিত মানুষের লাশ পড়ছে।সরকার ব্যস্ত পরিকল্পিত একটি গণহত্যায়। যে বাড়িতে আগুণ লাগে সে বাড়ির মানুষের মেহমানদারির সময় থাকে না,তাতে তাদের রুচিও থাকে না। সেটি জেনে শুনেও কেন প্রণব বাবু বাংলাদেশে বেড়াতে আসলেন? বলা হচ্ছে,তিনি এ সফরে তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি নড়াইলেও যাবেন। কথা হলা এটি কি নায়ারে আসার সময়? দেশের বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নির্মূলে সরকার যেখানে জেলজুলুম,হত্যা,হামলা ও মামলার ন্যায় নৃশংস বর্বরতা নিয়ে এগুচ্ছে সেখানে কি বিরোধী দলীয় নেতাদের মেহমানদারিতে মন থাকে? অথচ প্রণব বাবু তারপরও এসেছেন। তবে কেন এসেছেন তারও ব্যাখা দিয়েছেন। বলেছেন,তিনি না আসলে মৌলবাদীরা বিজয়ী হতো। তাতে তাদের সাহস বেড়ে যেত। তার এমন কথার অর্থ দাঁড়ায়,তিনি বাংলাদেশে এসেছেন ইসলামপন্থিদের মনবল ভাঙ্গতে, সে সাথে সাহস দিতে হাসিনা সরকারকে। তাঁর এরূপ কথার মধ্যে অবশ্যই যুক্তি আছে। এটি যে তার মনের কথা, সেটিও মেনে নেয়া যায়। তার এ সফরে হাসিনা আর সাহস পেয়েছে সেটিও নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করা যায়। এ সফরের মারফতে বিশ্ববাসীর সামনে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন,বাংলাদেশের পরিস্থিতি অতি স্বাভাবিক।এত হরতাল,এত যে মানুষ হত্যা,জনজীবন যে এতটা বিপন্ন –এসবই মিথ্যা। দৈনিক আনন্দবাজার তো সেটিই লিখেছে। বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতবাসীকে এবং সে সাথে বিশ্ববাসীকে আনন্দবাজার তো এমন একটা ধারণাই দিতে চায়।

 

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ ও জিহাদ

হাসিনার সাহস বাড়াতে গিয়ে প্রণব বাবু আরো বলেছেন,একাত্তরের ন্যায় এবারও ভারত তাঁর পাশে থাকবে। এর অর্থ সুস্পষ্ঠ। প্রণব বাবুর এ কথার অর্থ দাঁড়ায়,একাত্তরের ন্যায় একটি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। একাত্তরে যেমন ভারতের সৈন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকেছিল,এবারও ঢুকবে। তবে তো ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ঠিকই বলেছেন। ১৯৭১য়ের যুদ্ধে ভারতের প্রধানতম শত্রু পাকিস্তান ভাঙ্গার কাজটি সমাধা হলেও তাতে বাংলাদেশ ভারতে মিশে যায়নি, ফলে অখণ্ড ভারত নির্মাণের লক্ষ্যটিও পূরণ হয়নি। তাই অসমাপ্ত রয়ে গেছে সে যুদ্ধ। ফলে বঙ্গীয় এ ভূ-খণ্ডে ভারতের জন্য আরো যুদ্ধ বাঁকি। সে কথাটাই স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শ্রী সন্দীপ চক্রবর্তি। ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯/১২/১২ তারিখে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের আয়োজিত এক সমাবেশে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি ঘোষণা করে দিয়ে বলেছেন,“এখনও অনেক যুদ্ধ বাঁকি।” সে যুদ্ধে কাদের সাথে তাদের সহযোগিতা হবে এবং কাদের বিরুদ্ধে সে যুদ্ধ পরিচালিত হবে সেটিও তিনি উল্লেখ করেছেন। সে হুশিয়ারিটি বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি বলেছেন, এটা তাঁর নিজের কথা নয়, ভারতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কথাও। -(সুত্রঃ দৈনিক আমার দেশ, ২০/১২/১২)।

 

ভারতের রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে এনে এবারের যুদ্ধে হাসিনার প্রতি সমর্থণ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে কি প্রমাণিত হয় না,ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তি যা বলেছেন তা মিথ্যা বলেননি। সন্দীপ বাবু বলেছিলেন, বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের যুদ্ধ একাত্তরে শেষ হয়নি,আরো যুদ্ধ বাঁকি আছে। এদিকে হাসিনা দ্বিতীয় মুক্তিযু্দ্ধের ঘোষাণাও দিয়েছেন এবং সে যুদ্ধের প্রথম শহীদ নিহত ব্লগার রাজীব সে কথাও তিনি বলেছেন। তারা যে ইসলামের পক্ষের শক্তি তারা সে কথা কোন দিনও মুখে আনেননি। তারা তো সে সব লোক যারা সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থার কথা সরিয়েছেন। তারা তো চান ইসলামের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে। তাদের লক্ষ্যটি তাই সুস্পষ্ট। ফলে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে হাসিনা ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে এটি এক গুরুতর ঘোষণা। কার্যতঃ যুদ্ধটি তারা রীতিমত শুরুও করে দিয়েছেন। পুলিশ, র‌্যাব, দলীয় ক্যাডারদের পাশে স্থানে স্থানে সেনাবাহিনীও নামানো হয়েছে। চারিদিকে অজস্র লাশ পরছে। এরপর আসছে এ যুদ্ধে ভারতী সাহায্যের প্রতিশ্রুতি। অতএব এ যেন এক ভয়ংকর রণপ্রস্তুতি। এ যুদ্ধটি কাদের বিরুদ্ধে সেটিও গোপন নাই। তারা চায় ইসলামের রাজনীতি ও ইসলামের পক্ষের শক্তির নির্মূল। অথচ ইসলামের রাজনীতিই তো মুসলমানের রাজনীতি। মুসলমানকে কি ইসলামের রাজনীতি থেকে আলাদা করা যায়? তার ধর্মকর্ম যেমন ইসলামের বিধান ছাড়া চলে না,রাজনীতিও চলে না। ইসলামের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার অর্থ মুসলমানের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। মুসলমানের রাজনীতি তো স্রেফ ভোটদানের রাজনীতি নয়,সেটি তো আল্লাহর শরিয়ত প্রতিষ্ঠার পথে অর্থদান,শ্রমদান,সময়দান এমন কি প্রাণদানের জিহাদ। তাই প্রশ্ন হলো,হাসিনার দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ ও তাঁর মিত্র ভারতের হামলার মুখে বাংলাদেশের মানুষ কি নীরবে আঙ্গুল চুষতে থাকবে? হাসিনার সে আশা যে পূর্ণ হবার নয় সেটি বাংলাদেশের তৈহদী জনতা ইতিমধ্যেই শতাধিক সংখ্যায় শাহাদত পেশ করে প্রমাণ করেছে।

 

জেগে উঠেছে বাংলাদেশ

ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশের অতি দূরের গ্রাম-গঞ্জের মানুষ। কাফনের কাপড় পড়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। হাসিনার বিরুদ্ধে ঝাঁটা নিয়ে নেমেছে মহিলারা। দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নামে ইসলামপন্থিদের নির্মূলের যুদ্ধ শুরু হওয়ায় এখন ইসলামন্থিগণও বসে নাই। তাদের পক্ষ থেকেও জিহাদ শুরু হয়েছে। আগ্রাসী ভারত ও তার বাংলাদেশী চরেরা নিশ্চয়ই সেটি বুঝতে পেরেছে। এজন্যই বাংলাদেশের মাটিতে প্রণব বাবুরা সাহায্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দ্রুত ছুটে এসেছেন। তবে এটাও সত্য,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত রাশিয়ার চেয়ে ভারত শক্তিশালী নয়। আর বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষও আড়াই কোটি আফগানদের চেয়ে দুর্বল নয়।ফলে আফগানিস্তানে সোভিয়েত রাশিয়া ও ন্যাটো বাহিনীর যা অবস্থা হয়েছে তার চেয়েও লজ্জাজনক অবস্থা অপেক্ষা করছে ভারতের জন্য। কারণ মুসলমান যখন নাস্তিক,মুনাফিক ও পৌত্তলিক কাফের তথা ইসলামের বিপক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করে তখন তারা একাকী জিহাদ করে না। তাদের সাথে থাকে মহান আল্লাহর অগণিত ফেরেশতারা। আর এটা ঈমানদারের মৌল বিশ্বাস। সে বিশ্বাসটুকু না থাকলে কি কাউকে মুসলমান বলা যায়? তাই আজকের বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুণ বাংলাদেশ দখলে ইখতিয়ার মহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির ১৭ জনের বেশী সৈন্য লাগেনি। বাংলাদেশের ১৫ কোটি মুসলমানের সম্মিলিত শক্তি কি সে ১৭ জন সৈন্যের চেয়েও কম? ৫/৩/১৩

 




আত্মবিনাশী বাংলাদেশঃ অভাব যেখানে দর্শনের

চলছে নীরব গণহত্যা

বাংলাদেশের ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক নেই। শয্যাশায়ী রোগীর গায়ে যখন পচন ধরে এবং সে পচন যখন দুর্গন্ধ ছড়ায় তখন সে রোগ শুধু ঘরের লোকই নয় প্রতিবেশীও টের পায়। বাংলাদেশের বেলায় সেটিই ঘটেছে। দেশটির রোগ মূলতঃ নৈতিক। সে নৈতিক পচনের বড় আলামত হলো দূর্নীতি। দূর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশের পরিচিতি আজ বিশ্বময়। নানা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নের মডেল রূপে যেখানে আলোচিত হয় জাপান, কোরিয়া বা সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ সেখানে ব্যর্থতার মডেল। অতিশয় বিশাল হয়েও ডায়নোসর যেমন বিশ্ব থেকে হারিয়ে গিয়ে ইতিহাস গড়েছে তেমনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বিশাল জনগোষ্ঠি ইতিহাস গড়েছে দ্রুত নীচে নামায়। দেশটি সবচেয়ে তলায় নেমেছে দূর্নীতিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন এ ব্যর্থতা? অনেকেই ভাবেন এ ব্যর্থতার মূল কারণ বিশাল জনসংখ্যা। বাংলাদেশের প্রশাসন মূলতঃ এ মতের ধারকদের দখলে।

ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যসব উন্নয়ন পরিকল্পনার চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় জন্মনিয়ন্ত্রণকে। তাই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প বা কৃষির গুরুত্ব বুঝাতে ঘরে ঘরে কোন সরকারি কর্মচারির পদধুলি পড়ে না। কিন্তু কনডম বা জননিয়ন্ত্রন বড়ি হাতে প্রতিমাসে প্রতি ঘরে কেউ না কেউ পৌঁছবেই। বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে স্বচ্ছল বিভাগ হলো এটি। বিদেশী ঋণদাতাদেরও সর্বাধিক নজর এ বিভাগটির উপর। বাংলাদেশের জন্ম থেকে এ অবধি যত বিদেশী অর্থ এ বিভাগটি পেয়েছে আর কোন বিভাগ তা পায়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বিণিয়োগ ও এত মেহনতের পরও দেশ কি সামনে এগিয়েছে?  প্রশ্ন হলো, জনসংখ্যাবৃদ্ধিকে সমস্যা মনে করা কি ইসলামে জায়েজ? এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ মুসলমানের ঈমান শুধু হালাল পানাহারে বাঁচে না, ধ্যাণ-ধারণা ও দর্শনকেও এজন্য হালাল হতে হয়। তাই জনসংখ্যাবৃদ্ধিও প্রশ্নটি নিছক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমাজনীতির বিষয় নয়, এটি অতি আক্বিদাগত বিষয়ও। এর সাথে জড়িত মুসলমান থাকা না থাকার প্রশ্ন। আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তথা আশরাফুল মাখলুকাত হলো মানুষ; সোনা-রূপা, তেল-গ্যাস বা কোন জীবজন্তু নয়। মানুষ শুধু শ্রেষ্ঠ-সৃষ্টিই নয়, বরং আল্লা্হর খলিফা। আল্লাহর এ খলিফার মর্যাদা ফেরেশতার চেয়েও উর্দ্ধে। নামায-রোযার ন্যায় এ বিশ্বাসটির ধারণ করাও ফরয। এ বিশ্বাস না থাকলে মুসলমান হওয়া যায় না। কোন শিল্পির শ্রেষ্ঠ শিল্পকে তুচ্ছ বলার অর্থ সে শিল্পিকে অবমাননা করা। তেমনি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে আপদ বললে অবমাননা হয় মহান আল্লাহর। হেয় করা হয় তার কুদরতকে। নামায পড়ে বা রোযা রেখে সে অবমাননা কি মোচন হয়? তাঁর শ্রেষ্ঠসৃষ্টির প্রতি এমন অবজ্ঞা নিয়ে কোন মুসলিম কি পেতে পারে আল্লাহতায়ালার রহমত? এমন চিন্তা বিবেকের পচনেই সম্ভব, সুস্থ্যতায় নয়। এবং সে পচনে বাংলাদেশী মুসলিমগণ যে বহুদূর এগিয়েছে সে প্রমাণই কি কম? এ পচনের কারণে সূদ-ঘুষ-দূর্নীতির ন্যায় হারাম কর্ম বাংলাদেশে আচারে পরিণত হয়েছে। পাপকে বৈধতা দিয়ে পতিতা পল্লী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং সে পাপের আইনগণ বৈধতাও দেয়া হয়েছে।

সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে কি হবে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সফল ভাবে পাহারাদারি দিচ্ছে ব্যভিচারের। ফলে দেশে পকেটমার গণপিটুতি মারা পড়লে কি হবে, পাপের ব্যবাসায়ী ব্যভিচারীদের কেউ নিন্দা করতে পারবে না। দেশে গবাদি পশুকে আপদ ভাবা হয় না। বরং সবাই গবাদী পশুর বংশ-বিস্তার চায়। কিন্তু সে মর্যাদা মানুষের নেই। ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ মরছে জন্মানোর আগেই। এ্যাবরশন বা গর্ভপাতের নামে দেশজুড়ে নীরবে গণহত্যা চলছে। দেশী-বিদেশী অর্থে অসংখ্য এনজিও কর্মী একাজে নৃশংস খুনীর বেশে নেমেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার অমুসলিম দেশেগুলিতেও এ্যাবরশনের নামে এরূপ মানবহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়। আন্দোলনও হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি নেই। সরকার, জনগণ, মসজিদের ইমাম, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব জেনেও না জানার ভান করে। বরং জনসংখ্যা এভাবে কমানোতে অনেকেই খুশি। সরকার বিশ্বময় এটিকে তাদের সফলতা বলে প্রচার করছে। ফলে জন্ম নিচ্ছে না মায়ের পেটে জন্ম নেওয়া শিশুদের বাঁচানোর পক্ষে আন্দোলন। এমন মৃত বিবেক ও বিকৃত চেতনার ফলে মানুষ হারিয়েছে তার নিজের মূল্যমান। শিশুহত্যার পাশাপাশি খুণীদের হাত পড়ছে এখন জীবিতদের গলায়ও। ফলে বেড়ে চলেছে হত্যা, ধর্ষণ ও সন্ত্রাস। আগুণ দেওয়া হচ্ছে যাত্রীভর্তি বাসে। ধর্ষনেও উৎসব হচ্ছে। মানুষ বিবস্ত্র ও লাঞ্ছিত হচ্ছে প্রকাশ্য রাজপথে।

 

মূল কারণ জাহেলিয়াত

সম্পদের অভাবকে যারা সকল ব্যর্থতার কারণ বলেন তাদের বিভ্রান্তিও কি কম? তাদের কথা, অভাব থেকেই স্বভাব নষ্ট হয়েছে। অথচ সবচেয়ে নষ্ট চরিত্র ও নষ্ট স্বভাব হলো বাংলাদেশের ধনীদের। দেশের অধিকাংশ ঘুষখোর, সূদখোর, মদখোর, ব্যভিচারি, সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত রাজনীতিবিদ ও ঋণখেলাফী এসেছে তাদের মধ্য থেকে। অথচ তাদের পাশে বহু অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি স্বভাব-চরিত্রে অতি উত্তম দৃষ্টান্ত রাখছে। কথা হলো দর্শন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রতিপদে যারা ব্যর্থ তারা কি সম্পদ সৃষ্টি করে? বরং আনে দারিদ্র্য। সম্পদ মানুষের সৃষ্টি এবং এ জন্য চাই সৃষ্টিশীল মানুষ। এমন মানুষ গড়ে উঠে শুধু দেহের গুণে নয়, বরং মনের গুণে। আর এমন মানবিক ভাবে বেড়ে উঠার জন্য চাই উপযুক্ত শিক্ষা ও দর্শন। অশিক্ষা, অপসংস্কৃতি ও দূর্নীতি একটি জনগোষ্টিকে শুধু সৃষ্টিহীনই করে না, অনাসৃষ্টিপূর্ণও করে। দারিদ্র্য ও দূর্ভিক্ষ এমন দেশের নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের বেলায় সেটিই হয়েছে।

দেশের দারিদ্র্যের জন্ম অজ্ঞতা থেকে, জনসংখ্যা থেকে নয়। ক্ষুদ্র ভূগোল থেকেও নয়। বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ হলো সিঙ্গাপুর। আয়তন মাত্র ২৪০ বর্গ মাইল। জনসংখ্যা ৪৫ লাখ। আয়তনে ও লোকসংখ্যায় ঢাকা শহরের চেয়েও ক্ষুদ্রতর। প্রতি বর্গমাইলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণ বেশী। অথচ দেশটির বাৎসরিক বৈদেশিক রফতানি ২২৩.৯ বিলিয়ন ডলার (২০০২ সালের পরিসংখ্যান মতে)। অথচ ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক রফতানি ছিল মাত্র ৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এবং এটি ছিল ঐ বছরের আমদানীর চেয়ে ৩.১ বিলিয়ন ডলার কম। অথচ সিঙ্গাপুরের রফতানি ছিল তাদের আমদানির চেয়ে ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার অধিক। বাংলাদেশ যেখানে এক বছরে তিন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক ঘাটতি টেনেছে সেখানে সিঙ্গাপুরের উদ্বৃত্ত ছিল বাংলাদেশের সমুদয় রফতানির দ্বিগুণ। সোনার খনি বা তেলের খনি নিয়ে সিঙ্গাপুর এ অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেনি। বরং এ সাফল্য এনেছে দেশটির সৃষ্টিশীল মানুষ। মানুষকে তারা আপদ ভাবেনি বরং সোনার বা তেলের খনির চেয়েও মহামূল্যবান ভেবে তাদের উন্নয়নে মনযোগী হয়েছে। ফলে তাদের মাথাপিছূ যে উৎপাদন ক্ষমতা তা বাংলাদেশের বহু হাজার মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি হয়নি।

 

 

অভাব দর্শন বা ফিলোসফির 

বাংলাদেশের অভাব মূলতঃ দর্শন বা ফিলোসফিতে। অথচ একটি দেশের অগ্রগতি বা বিজয় শুরু হয় এখান থেকেই। তাই যারা দেশ গড়তে চায় তারা মানুষের বিশ্বাসে বা দর্শনে হাত দেয়। ইসলামের আগমনে আরবের ভূগোলে বা জলবায়ুতে পরিবর্তন আসে নি। মাটির তলায় সোনার খনি বা তেলের খনিও আবিস্কৃত হয়নি। পরিবর্তন আসেনি মানুষের দৈহিক আকার-আকৃতি বা অবয়বে। বরং বিপ−ব এসেছিল তাদের জীবন দর্শনে। পরিবর্তন এসেছিল চিন্তার মডেলে। সে পরিবর্তনের ফলে জীবন ও জগত নিয়ে মানুষের ধ্যানধারণাই পাল্টে গিয়েছিল। পরিবর্তন এসেছিল তাদের কর্মে ও আচরণে। সে পরিবর্তনের পথ ধরে পাল্টে গিযেছিল মধপ্রাচ্যের ভূগোল, ভাষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি তথা সবকিছূ। দর্শনের শক্তির কাছে পারমানবিক শক্তিও অতি তুচ্ছ।

বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিস্কার হলো পারমানবিক শক্তি। সে  শক্তি বলে আলোকিত হয় কিছূ শহর, চালিত হয় কিছূ কলকারখানা, জাহাজ বা সাবমেরিন। অথচ দর্শন আলোকিত করে এবং পাল্টে দেয় কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জগত। পাল্টে দিতে পারে বিশ্বের মানচিত্র। এক্ষেত্রে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ উদাহরন পেশ করেছে ইসলাম। দর্শনের বলেই নিঃস্ব আরবেরা বিশ্বের সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়েছিল। পাল্টে দিয়েছিল তাদের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও রুচীবোধ। ইসলামের পূর্বে আরবের মানুষ ভাবতো জীবনের শুরু ও শেষ ইহলোকেই, পরকাল বা বিচার দিন বলে কিছু নেই। ভাবতো, মৃত্যুর পর তাদের হাড্ডিমাংস মাটিতে মিশে যাবে এবং ধুলায় হারিয়ে যাবে চিরতরে। ফলে সকল প্রচেষ্টা নিয়োজিত করতো এ দুনিয়ার জীবনকে আনন্দময় করতে। বাংলাদেশে আজ যারা ঘুষ খায়, সূদ খায়, ব্যভিচারি করে বা এ্যাবরশন করে নিজ সন্তান হত্যা করে তাদের মত তারাও সেদিন সন্ত্রাস করতো, মদ খেতো, ব্যভিচারি করতো, এমনকি নিজ সন্তানদেরকেও জীবন্ত করব দিত।

যে দর্শনটি আরবদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তার মূল উপাদানটি ছিল মানব জীবনের সঠিক ধারণা। সে আমলে গ্রহ-নক্ষত্রের পরিচয় না জানলেও তারা নিজেদের পরিচয়কে জেনেছিলেন সঠিক ভাবেই। এবং সেটি জেনেছিলেন যিনি স্বয়ং এ জীবন ও জগতের স্রষ্টা তাঁর কাছ থেকে। নবী (সাঃ) মারফত মহান আল্লাহপাক থেকে। ফলে জেনেছিলেন, ইহকালীন এ জীবন অনন্ত অসীম জীবনের শুরু-পর্ব মাত্র। এ জীবন শেষে যেমন পুরস্কার বা প্রমোশন আছে তেমনি শাস্তি বা ডিমোশনও আছে। প্রমোশন ও ডিমোশন নির্ধারণে পরীক্ষাও আছে। দুনিয়ার এ জীবন মূলতঃ সেই পরীক্ষাকেন্দ্র। পরীক্ষা নেওয়াটিই হলো ইহকালীন জীবনের মূল লক্ষ্য।

 

এ জীবন পরীক্ষাপর্ব 

মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরীক্ষার সমাপ্তি হয়, তবে জীবনের সমাপ্তি ঘটে না। শুরু হয় পরীক্ষায় পাশ বা ফেলের ফলাফল ভোগের পালা। মহান আল্লাহতায়ালার সে ঘোষনাটি এসেছে এভাবেঃ “আল্লাযী খালাকাল মাওতা ওয়াল হায়াতা লি ইয়াবলুয়াকুম আইয়োকুম আহসানা আমালা (সুরা মুলক, আয়াত-১)।” অর্থঃ তিনি মৃত্যু ও জীবনকে এ জন্য সৃষ্টি করেছেন যে তিনি পরীক্ষা করবেন তোমাদের মধ্যে কে আমলের দিক দিয়ে উত্তম। বস্তুতঃ মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো কোরআনের এ ঘোষণা। এটুকু না জানা হলে জীবনে সবজানা ব্যর্থ হয়ে যায়। পরীক্ষার হলকে তখন নাট্যশালা, পানশালা বা কর্মশালা মনে হয়। মানুষ মত্ত হয় তখন ফূর্তিতে। কর্মজীবী, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী বা পেশাদার রূপে জীবনে সফল হওয়াটাই জীবনের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়। উপার্জন, আনন্দ-উৎসব বা নিছক সময় কাটানোই বাঁচবার উদ্দেশ্য মনে হয়। জানাই হয় না যে এ জীবন একটি পরীক্ষা কেন্দ্র। নিদারুন অজ্ঞতা থেকে যায় কিসে সফলতা এবং কিসে বিফলতা সে বিষয়েও। অথচ এ পরম সত্যটুকু জানাতেই নবীগণ এসেছিলেন। এবং নাযিল হয়েছিল অন্যান্য আসমানি কিতাব ও পবিত্র কোরআন। পরীক্ষাকালে কেউ নাচগান, আমোদ-ফুর্তি করে না। অলস অবকাশে অনর্থক সময়ও কাটায় না। বরং পাায়খানা প্রশ্রাবের ন্যায় জরুরী কাজ আটকিয়ে রেখে সময়কে কাজে লাগায়। এ ভয়ে না জানি প্রশড়বপত্র অসম্পনড়ব থেকে যায়। তখন প্রতি মুহুর্তের চেষ্টা, পরীক্ষার খাতায় কি করে নাম্বার বাড়ানো যায়। সাহাবায়ে কেরাম এ জীবনকে পরীক্ষাপর্ব রূপে গ্রহন করেছিলেন বলেই তারা দিবারাত্র নেক আমলে ব্যস্ত থাকতেন। নেক আমলে তাড়াহুড়া ছিল তাদের সর্ব-অস্তিত্ব জুড়ে। পবিত্র কোরআনেও সেটিরই তাগিদ এসেছে এভাবেঃ ‘সা’রিয়ু ইলা মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম’ (সুরা আল ইমরান)। অর্থঃ তাড়াহুড়া কর তোমার রব থেকে মাগফিরাত লাভে।’  কারণ, পরীক্ষার শেষ ঘন্টা যখন তখন বীনা নোটিশে বেজে উঠতে পারে। তাই সন্যাসী সেজে সমাজ-সংসার, অর্থনীতি-রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, দাওয়াত ও জিহাদের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ ইসলামে নেই। নবীজী (সাঃ) নিজে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এবং বার বার জিহাদে নেমেছেন। এমনকি অআহতও হয়েছেন। নবীজী (সাঃ)র সে সূন্নত মেনে সাহাবায়ে কেরাম যেমন অবিরাম দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন, তেমনি রাজনীতি ও প্রশাসনে নেমেছেন। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশী জিহাদেও নেমেছেন। তারা কর্মময় ছিলেন প্রতি ক্ষেত্রে। রাতে না ঘুমিয়ে অভাবী মানুষ খুজেছেন। খলিফা হয়েও পিঠে আটার বস্তা নিয়ে গরীবের ঘরে ছুটেছেন। উটের পিঠে চাকরকে বসিয়ে নিজে রশি টেনেছেন। ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, মরুভূমি ও সাগর অতিক্রম করেছেন। যখন কাগজ-কলম আবিস্কৃত হয়নি তখনও তারা জ্ঞানচর্চায় ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

 

প্রতিটি সৃজনশীলতাই ইবাদত

ঈমানদারের কল্যাণধর্মী প্রতিটি কর্মই হলো ইবাদত। এগুলিই হলো নেক আমল। এতে সঞ্চয় বাড়ে আখেরাতের এ্যাকাউন্টে। সৃষ্টিশীল প্রতিটি মুসলমান এভাবেই পরিনত হয় শক্তিশালী পাওয়ার হাউসে। প্রকৃত ঈমানদারের এ সৃষ্টশীলতা বলিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরেছেন আল্লামা ইকবাল তার ফার্সি কবিতায়। লিখেছেনঃ ‘হরকে উ’রা লিয্যাতে তাখলিক নিস্ত, পিশে মা জু’জে কাফির ও যিনদিক নিস্ত।’ অর্থঃ ‘যার মধ্যে নাই সৃজনশীলতা, আমাদের কাছে সে কাফির ও নাস্তিকতা ভিন্ন অন্য কিছু নয়।’ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ওয়া লি কুলে− দারাজাতিন মিম্মা আমেলু’ অর্থঃ এবং মানুষের সকল মর্যাদা নির্ধারিত হবে তার কর্মের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ যার জীবনে কর্ম নেই (আল্লাহর কাছে) তার মর্যাদাও নেই। তাই কর্মহীন পরগাছা জীবন দ্বীনদারি নয়, এটি ধর্মহীনতা। মুসলমানতো যিকর করবে কর্মের মধ্যে থেকে। উত্তম চাষ ও বীজ ছিটানোর পরই রেযেক বৃদ্ধিতে সে আল্লাহর রহমত চাইবে। আল্লাহর কাছে বিজয় চাইবে জিহাদের ময়দানে দাঁড়িয়ে। কারণ, সাহায্যদানের পূর্বে আল্লাহতায়ালা বান্দাহর নিজের প্রস্তুতি বা বিণিয়োগ কতটুকু সেটিও দেখতে চান।

মুসলমানেরা তখনই বিশাল বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন যখন সে লক্ষ্যে নিজেদের প্রাণ কোরবানীতে দু’পায়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মুসলমানদের এমন প্রস্তুতি দেখে আল্লাহতায়ালা তাদের দোয়ার জবাব দিয়েছিলেন ফেরেশতা পাঠিয়ে। জিহাদ ছেড়ে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে মুসলমানেরা যখন বিজয় চাওয়া শুরু করেছে তখনই পরাজয় শুরু হয়েছে। আজ মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দোয়া আফগানিস্তান, ইরাক, ফিলিস্তিন, কাশ্মির ও চেচনিয়ার মুসলমানদেরকে জালেমদের হাত থেকে বাঁচাতে যে ব্যর্থ হচ্ছে তার কারণ তো এটি। মুসলমানের যুদ্ধবিগ্রহ, জ্ঞানার্জন, রাজনীতি, ব্যবসাবাণিজ্য, চাষাবাদ, শিক্ষকতা, চিকিৎস্যকতা, লেখালেখি আদৌ দুনিয়াদারি নয় বরং এর প্রতিটিই হলো নেক আমল বা ইবাদত। পথের কাঁটা সরানো যেখানে উত্তম নেক আমল, সেখানে গলার কাঁটা বা সমাজ, রাষ্ট্র বা বিশ্বের কাঁটা সরানো কি দুনিয়ারি হতে পারে? ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবের বিরান মরুভূমিতে যে বিশ্ব-শক্তি জন্ম নিয়েছিল সমগ্র মুসলিম ইতিহাসে আজও সেটিই সর্বাধিক গৌরবের। সেটি সম্ভব হয়েছিল কয়েক লাখ সৃষ্টিশীল মানুষের কারণে। তাদের একজনের সৃষ্টির সামর্থ্য বাংলাদেশের একেটি জেলাতেও সৃষ্টি হয়নি। তারা শুধু সম্পদেই সমৃদ্ধি আনেননি, বিপুল সমৃদ্ধি এনেছিলেন জীবনদর্শন তথা ফিলোসফিতে। আজকের দেড়শত কোটি মুসলমানের অর্জন সে তুলনায় অতি তুচ্ছ। দর্শনই দেয় দূর্নীতির বিরুদ্ধে ইম্যুউনিটি বা প্রতিরোধশক্তি। দেয় চারিত্রিক বল। নির্মাণ করে নৈতিক মেরুদন্ড। নিছক উৎপাদন বাড়িয়ে দর্শনের এ দারিদ্র্য দূর হয়না। অর্জিত হয় না চারিত্রিক সুস্থ্যতা।

 

মূল ব্যর্থতাটি শিক্ষাখাতে

বাংলাদেশে তাই কৃষি বা শিল্প-উৎপাদন বাড়লেও ডুবছে দূর্নীতির প্লাাবনে। ধ্বসেছে মেরুদণ্ড। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পত্র-পত্রিকা ও মসজিদ-মাদ্রাসা এবং বুদ্ধিজীবীদের মূল কাজ ছিল দর্শনে সমৃদ্ধি আনা। জ্ঞানার্জন ইসলামে ফরয করা হয়েছে একারণেই। কারণ এর মাধ্যমেই ব্যক্তি পায় তাকওয়া। এবং খাদ্য পায় ব্যাক্তির রুহ বা আত্মা। ব্যক্তির রুহ যেমন এছাড়া পুষ্টি পায় না তেমনি ঈমানও বাঁচে না। নবীপাক (সাঃ) এজন্যই এক মুহুর্তের জ্ঞানার্জনকে সারা রাতের নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলেছেন। জ্ঞানীর কলমের কালীকে শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র বলেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়া এজন্যই সাদকায়ে জারিয়া। কিন্তু বাংলাদেশে জ্ঞানার্জনের সে কাজটিই হয়নি। এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যর্থ খাত।

অথচ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি রাস্তাঘাট, প্রাসাদ ও কলকারখানা গড়া নয়। বরং সেটি জনগণকে জাহান্নামে আগুণ থেকে বাঁচানো। সে কাজটি নিজে হাতে করতেই নবীজী (সাঃ)  খোদ রাষ্ট্রের প্রধান রূপে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন জনগণকে জাহন্নামের আগুণ থেকে বাঁচানোর কাজে সবচেয়ে জরুরী রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সোসাল ইঞ্জিনীয়ারিং। সে কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি শিক্ষাখাতের। অথচ রাষ্ট্র ভোটডাকাত ও চোর-ডাকাতদের হাতে অধিকৃত হলে শয়তানী শক্তিবর্গ জাহান্নামের পথে টানে। এবং বাংলাদেশে সেটিই হচ্ছে। ফলে দেশের চাষিরা ও শ্রমিকেরা ক্ষেতে খামারে ও কারখানায় যতটুকু অগ্রগতি এনেছে, দেশের বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষকেরা তা বিদ্যালয়ে আনতে পারিনি। মসজিদ-মাদ্রাসা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় দেশে প্রচুর বেড়েছে। বেড়েছে শিক্ষিতের হার। কিন্তু জনমন সমৃদ্ধ হয়নি সুস্থ্য দর্শনে। বাড়িনি চরিত্র। যে শিক্ষা দূর্নীতি, সন্ত্রাস ও পাপাচার বাড়ায় তাকে কি ইবাদত বলা যায়? এটি তো পাপাচার। অথচ বাংলাদেশে সে পাপই প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জীবনের অতি মূল পাঠটিও শিখাতে পারিনি। ফলে বেড়ে উঠেনি নৈতিক মেরুদণ্ড সম্পন্ন সাহসী সৈনিক যারা দেশকে দুর্বৃত্তমূক্ত করবে। বরং কুশিক্ষা জীবনকে রঙ্গশালা ভাবতে শিখিয়েছে। উৎপাদন বাড়িয়েছে অসংখ্য দুর্বৃত্তের যারা দখল জমিয়েছে দেশের রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রে। ফলে ব্যর্থতা বেড়েছে সর্বস্তরে। ভ্রষ্টতার শিকার আলেম সম্প্রদায়ও। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি ফরয। নবীজী (সাঃ)র এমন কোন সাহাবী পাওয়া যাবে না যারা জনগণকে জাহান্নামের আগুণ থেকে মুক্তি দিতে অর্থদান, শ্রমদান এমনকি জীবন দানে জিহাদে নামেননি। অথচ আজ বহু মোল্লামৌলবী সে রাজনীতিকে দুনিয়াদারি বলছে। এবং দ্বীনদারি বলছে দুর্বৃত্তদের সাথে আপোষ ও সহযোগিতাকে। দেশ সর্বার্থেই আজ আত্মবিনাশের পথে। এ ব্যর্থতার জন্য অন্যদের দোষ দিয়ে কি লাভ ? যে দেশ আত্মহননের পথে নিজেই ধেয়ে চলছে সে দেশের বিনাশে বিদেশী শত্রুর প্রয়োজন আছে কি? এমূহুর্তে বাঁচতে হলে জাতিকে ফিরিয়ে নিতে জীবনের মূল পাঠের দিকে -যা আল্লাহপাক নবীদের মারফত শিখিয়েছেন। আত্মাবিনাশী আরবরা এ পথেই বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশের সামনেও এ ছাড়া বাঁচবার আর কোন পথ খোলা আছে কি? ১০/১০/২০০৪, সামান্য সংযোজিত ২৭/০২/২০১৯।




আওয়ামীলীগের নির্মূলের রাজনীতি  ও রক্তাত্ব পথে বাংলাদেশ

রাজনীতিতে যুদ্ধাবস্থা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচণ্ড উত্তপ্ত হাওয়া বইছে। যুদ্ধ যুদ্ধ ভাবই শুধু নয়,বরং যুদ্ধ শুরুও হয়ে গেছে। সরকার বিরোধীদের নির্মূলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একা নয়,বরং ময়দানে নেমেছে এক মহাকোয়ালিশন।সে কোয়ালিশনে রয়েছে যেমন রয়েছে পুলিশ ও সরকারি প্রশাসন,তেমনি যোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগের বামপন্থি মিত্ররা। এ কোয়ালিশনের নেতৃবৃন্দ মুখে জামায়াত শিবির নির্মূলের” কথা বললেও নির্মূল চায় সকল ইসলামপন্থিদের। তাদের দুষমনি বিশেষ কোন ইসলামি দলের নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে নয়,বরং মূল শত্রুতাটি বাংলাদেশে ইসলামের রাজনৈতীক প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে।বিশ্বের কোনে কোনে ইসলামের পক্ষে আজ যে জাগরণ শুরু হয়েছে সেটিকে এরা বাংলাদেশের মাটিতে যে করে হোক রুখতে চায়।

একাত্তরে কারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল সেটি ইসলামের বিপক্ষশক্তির কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোন সদস্যের বিচার নিয়েও তারা আগ্রহী নয়। বরং তারা দেখছে কারা তাদের বর্তমান শত্রু। ফলে যে শিবির কর্মীটির জম্ম একাত্তরের দশ-বিশ বছর পর,তাকেও তারা হত্যাযোগ্য মনে করে। ফলে তাঁকে তারা নিষ্ঠুর ভাবে নিহত করছে। হিযবুত তাহরিরের মত যেসব দলের জন্ম অতি সাম্প্রতিক,নিষিদ্ধ করছে তাদেরকেও। পুলিশী হামলা ও মামলায় নাজেহাল করা হচ্ছে প্রায় প্রতিটি ইসলামি দলের নেতাকর্মীদের। নিছক বইবিতরণ ও সেমিনার করার অপরাধে জেলে তোলা হচ্ছে ইসলামি দলের কর্মীদের। অপরদিকে পাকিস্তানেও তাদের যোগাযোগ ও দহরম মহরম বাড়ছে ইসলামের শত্রুপক্ষ এবং সেদেশে মার্কিন সাহায্যপুষ্ট সেক্যুলারিস্ট ও এনজিও কর্মীদের সাথে।ইসলামের এ চিহ্নিত বিদেশী দুষমনদের অনেককে শেখ হাসিনা পুরস্কার দিয়ে ভূষিত করেছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিকে যে রক্তাত্ব করতে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা শুধু দলীয় কর্মীদেরই তারা জড়িত করেনি,জড়িত করেছে পুলিশ,র‌্যাব,এনএসআই ,ডিবিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে। এগুলো এখন আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়,বরং পরিণত হয়েছে পুরোপুরি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতিষ্ঠানে। আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীদের চেয়েও এরা যেন বেশী আওয়ামী লীগার। ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে স্কুলছাত্র গুম হচ্ছে,ব্যবসায়ী খুন হচ্ছে,নারী ধর্ষিতা হচ্ছে,সরকারি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি লুন্ঠিত হচ্ছে, লুন্ঠিত হচ্ছে শেয়ার বাজার -তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ বাহিনীর মাথা ব্যাথা নেই। বরং প্রধান এজেণ্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা। সে সাক্ষ্যটি এসেছে খোদ স্বরাষ্টমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতা জনাব মহিউদ্দীন খান আলমগীর। গত ৯/১১/১২ তারিখে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে যুবলীগের আয়োজিত এক সমাবেশে বলেন,সরকার এ পর্যন্ত ১৪০০ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তবে চান,জামায়াত-শিবিরের নির্মূলে সরকারের সাথে দায়িত্ব নিক রাজনৈতীক দলগুলোও।তাই তিনি জামায়াত-শিবিরকে স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়ীক শক্তি আখ্যায়ীত করে তাদেরকে বিরুদ্ধে পাড়ায়-পাড়ায় ও মহল্লায়-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে তাদের প্রতিহত করার আহবান জানান। সরকারি দলের চাপে পুলিশ বাহিনী তাই থেমে নেই। থেমে নাই সরকারি দলের ক্যাডারবাহিনীও। ফলে চলছে হত্যা,গুম,গ্রেফতারি ও মামলা। পত্রিকায় প্রকাশ ১১/১১/১২ তারিখ নাগাদ ১২জন শিবির কর্মী গুম হয়ে গেছে। তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।এক তরুন শিবিরকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে। পুলিশ বাদী হয়ে শুধু চাঁদপুরেই ২৫০জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ঢাকার শুধু মিরপুর মডেল থানাতেই মামলা করেছে ২০০-২৫০ জনের বিরুদ্ধে।–(আমার দেশ,১২/১১/১২)।

 

রাষ্ট্রীয় বাহিনী এখন দলীয় বাহিনী

পুলিশ দ্রুত জামায়াত-শিবিরের ১৪০০ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে –এ ঘোষণা দিয়ে স্বরাষ্টমন্ত্রী ভেবেছিলেন তার উপর তার দলের ক্যাডাগণ খুশি হবে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা তো বিশাল। কয়েক হাজার জামায়াত-শিবির কর্মীর গ্রেফতারে তারা খুশি নয়। তারা চায় নির্মূল। চায় সে নির্মুলের পুরা দায়িত্বটি নিক সরকারি পুলিশ ও র‌্যাব। তাই বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ের সমাবেশে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরির দাবী,জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের আরো ব্যাপক ভাবে গ্রেফতার করা হোক। বলেছেন,পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে জামায়াত-শিবিরকে খোঁজার দায়িত্বটি সরকারের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন,“জামায়াত-শিবিরকে খোঁজেন।যদি না পারেন তাহলে আইজি,ডিআইজি,এসপিকে ধরবো।লাঠিপেটা করবো।”–(আমার দেশ, ১০/১১/১২)। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইজি,ডিআইজি,এসপি ও পুলিশকে দলীয় চাকর-বাকর বা লাঠিয়ালের চেয়ে বেশী কিছু ভাবে না। তাদের দাবী,চোর-ডাকাত ধরা বাদ দিয়ে পুলিশ জামায়াত ও শিবির কর্মীদের ধরুক। চোর-ডাকাত বা সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের শত্রু নয়,ফলে তাদের ধরা নিয়ে সরকারের কোনরূপ মাথাব্যাথা নেই। চাকর-বাকর হুকুম না মানলে তাকে যেমন লাঠিপেটা করা যায়,জনসম্মুখে চড়তাপ্পড়ও মারা যায়,তেমনি দলীয় ভৃত্য আইজি,ডিআইজি,এসপি ও পুলিশকে লাঠি পেটা করতে বাধা কিসের? যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরি তো সেটিই বুঝাতে চেয়েছেন।

 

তবে পুলিশ বা প্রশাসন নিয়ে এমন ধারণাটি ওমর ফারুক চৌধুরির একার নয়,বহু আওয়ামী লীগ,ছাত্র লীগ ও যুবলীগ কর্মীরও। ফলে বহু পুলিশ,বহু থানা নির্বাহী অফিসার ও বহু সরকারি কর্মচারি ইতিমধ্যে আওয়ামী ক্যাডারদের থেকে চড়থাপ্পড়ও খেয়েছেন।অনেকে চাকুরিও হারিয়েছেন।চাকর-বাকরদের সামনে জমিদারপুত্র অস্ত্র লুকিয়ে চলাফেরা করে না। ছাত্রলীগের ক্যাডারগণও তাই পুলিশের সামনে অস্ত্র লুকিয়ে চলাফেরা করে না।বরং হাতে অস্ত্র নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি ঘুরে। বহু পত্রিকায় সে ছবি ছাপা হয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করে বরং প্রটেকশন দেয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে না।বলে, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকার পুলিশের সাথে অভিযুক্ত আসামীটি ঘুরছে সে ছবিও বহু পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কিন্তু এরপরও পুলিশ অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করে না। অথচ খোঁঝে জামাত-শিবির কর্মীদের। পুলিশও যে নিজেদেরকে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চাকর-বাকরের চেয়ে বেশী কিছু ভাবে না এ হলো তার প্রমাণ। দুর্বৃত্ত মনিব মানুষ খুন করুক,কাউকে চড়থাপ্পড় মারুক বা কারো কন্যা বা বধুকে ধরে ধর্ষণ করুক -তাকে ধরার সাহস কি চাকর-বাকরের থাকে? সে তো বরং সে দুর্বৃত্ত মনিবকে পাহারা দেয়।বাংলাদেশে তো সেটিই ঘটেছে। নইলে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরি পুলিশকে নির্দেশ দেয়ার কে? গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশের নিরপেক্ষ হওয়াটি তাদের উপর শাসনতান্ত্রিক দায়ভার।পুলিশ তার নিজের দায়িত্ব নিজে স্বাধীন ভাবে পালন করবে,কোন দলীয় নেতার পক্ষ থেকে তাকে নির্দেশ দেয়ার অর্থ প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ। গণতান্ত্রিক দেশে এমন হস্তক্ষেপ শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। মন্ত্রী এমন কাজ করলে তার চাকুরি যায়। অপরদিকে পুলিশের অপরাধ হলো,নিরপেক্ষতা পরিহার করে কোন নেতার ফরমায়েশে কাজ করা। সভ্যদেশে এ অপরাধে পুলিশের চাকুরি থাকে না। অথচ পুলিশ ও প্রশাসন আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে সে শাসনতান্ত্রিক বিধানকেই অহরহ লংঘন করছে।

 

উলঙ্গ ফ্যাসীবাদ

ফ্যাসীবাদীদের চরিত্র,তারা আদালত মানে না। পুলিশ এবং প্রশাসনকেও মানে না। বরং আদালত ও প্রশাসনকে মেনে চলতে হয় তাদের। সম্প্রতি সে আচরণটি জাহির করলেন আওয়ামী লীগের নেতা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আদালতের প্রতি সম্প্রতি তিনি হুকুমনামা জারি করেছেন। বঙ্গবন্ধূ এ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে আয়োজিত জেল হত্যাদিবসের আলোচনায় সভায় তিনি দাবী করেন,“আগামী জাতীয় বিজয় দিবসের আগেই জেলহত্যার বিচার চাই। যারা খালাসপ্রাপ্ত হয়েছে,যারা লঘুদন্ড দেয়া হয়েছিল তারা শাস্তির আসবে বলে জাতি প্রত্যাশা করে।” -(আমার দেশ, ৬/১১/১২)।

আদালতের কাছে ন্যায্য বিচার দাবী করা যায়।কিন্তু কাকে শাস্তি দিতে হবে,কাকে খালাস দিতে হবে বা কাকে লঘুদন্ড দেয়া যাবে না -কেউ কি সে ফরমায়েশ আদালতকে দিতে পারে? এটি কি আদালত অবমাননা নয়? অথচ মহম্মদ নাসিম সে নির্দেশই দিয়েছেন আদালতকে। আদালতের বিচারপতিগণও যেন তাদের পোষা চাকর-বাকর। কিন্তু জনাব নাসিমের পক্ষ থেকে এরূপ ঘোষণার পরও আদালত নিশ্চুপ।পত্রিকায় তার এ বক্তব্য প্রকাশের পরও আদালত তাকে তলব করেনি।জবাবও চায়নি। জনাব নাসিমের এরূপ আচরণ এই প্রথম নয়। নাসিম যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন তখন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে মিছিল করে লাঠি দেখানো হয়েছিল। হাইকোর্টের চত্ত্বরে বস্তি পাঠানো হয়েছিল। তার পিতা যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তখন তিনি ছিলেন পাবনার ছাত্র লীগ নেতা। একটি জিপ নিয়ে তিনি পাবনা শহরে ঘুরতেন। পাবনা শহরের লোকজন সে জিপটাকে আজরাইল জিপ বলতো।তার নেতৃত্বে তখন পাবনায় শুরু হয় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্মূল অভিযান। বামপন্থি নেতা টিপু বিশ্বাসের বহু কর্মীকে সে জিপে তুলে নিয়ে আর ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। সে স্মৃতি আজও  বেঁচে আছে পাবনার হাজার হাজার মানুষের মনে। এমন ফ্যাসিস্ট চরিত্রের মানুষ আদালতকে তার পছন্দের রায়টি মেনে নিতে নির্দেশ দিবে বা আদালতকে লাঠি দেখাবে সেটিই কি স্বাভাবিক নয়?

তবে মিস্টার নাসিম এমন কথা বলেছেন তার মনের প্রচণ্ড ভয় থেকে। তার দল যে নিজেই নির্মূলের মুখে সেটি হয়তো তিনি টের পেয়েছেন। ফলে সে নির্মূল হওয়া থেকে দলকে বাঁচাতেই এখান দেশের আদালত,পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজে লাগাতে চান। চান,দেশের আদালত আওয়ামী লীগের পক্ষ নিক এবং শায়েস্তা করুক দলটির সকল রাজনৈতীক শত্রুদের। তবে দেশের আদালত,পুলিশ ও প্রশাসনকে লাঠিয়াল রূপে ব্যবহারের স্বার্থে তাদেরকে সরকারে থাকতেই হবে। তাদের ফ্যাসিস্ট রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার দ্বিতীয় পথ নেই। তিনি নিজেও উক্ত মিটিংয়ে সে গভীর দুশ্চিন্তার কথাটি ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন,“আগামী ১ বছর কঠিন সময় পার হতে হবে। কারণ, দেশে বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে।” ফ্যাসিস্ট শক্তি মরণের আগে আরো ফ্যাসিস্ট হয়। শেখ মুজিবও তাই তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলিতে বিরোধীদের উপর রক্ষিবাহিনী,লালবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তার রক্ষা হয়নি। কারণ বসন্ত কারো জীবনেই বারো মাস থাকার জন্য আসে না।

 

আস্তাকুরে গণতন্ত্র

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যে কতটা আস্তাকুরে গিয়ে পড়েছে তার কিছু প্রমাণ দেয়া যাক। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা যাদুঘরে আলোচনায় সভায় আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন,“পঁচাত্তরের পর হত্যা,ক্যু,ষড়যনন্ত্রের মাধ্যমে চক্রান্তকারীরা সংবিধানন বার বার কাটছাট করেছে।জাতীয় নেতাদের তৈরি সংবিধান বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনদিন পরিবর্তিত করতে দেয়া হবে না্। -(আমার দেশ, ৬/১১/১২)। প্রশ্ন হলো,এই কি গণতন্ত্র? এ কি কোন সভ্য নীতি? গণতন্ত্রের মূল কথা,দেশ পরিচালিত হবে জনগণের ইচ্ছা মাফিক। আর জনগণ প্রাণহীন পাথর নয়,তারা জীবিত। জীবিত মানুষের ধর্ম যেমন পাল্টায়, তেমনি দিন বদলের সাথে পাল্টে যায় তাদের রাজনৈতীক বিশ্বাস এবং প্রত্যাশা।যে আরবের মানুষ এককালে পুতুল পুজা করতো সে পুতুলগুলোকেই তারা আবার নিজ হাতে ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশের মানুষ একাত্তরে যে চেতনার ধারক ছিল সে চেতনা শত শত বছর ধারণ করে থাকবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? তা হলে তো আওয়ামী লীগ যুগ যুগ ধরে প্রতি নির্বাচনে বিজয়ী হতো।

কোন একটি চেতনা ধারণ করার ন্যায় সেটিকে বর্জন করার অধিকারও তো মৌলিক নাগরিক অধিকার। মানুষের ধ্যাণ-ধারণা পাল্টে গেলে সংবিধান পাল্টে যাবে সেটিই তো সভ্য সমাজের রীতি। ফলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সে পরিবর্তন রুখতে চান কোন যুক্তিতে? একাত্তর একটি মাত্র বছর দ্বারা সীমিত। সে বছরটিতে বাংলাদেশের একটি বিশেষ মহলের উপর বিশেষ কিছু ভাবনা বিজয়ী হয়েছিল। মানুষের মনে প্রতি বছর এরূপ বহু ভাবনার যেমন উদয় হয়,তেমনি সেগুলি আবার অস্তও যায়। এগুলো আল্লাহর ওহী নয় যে আজীবন ধরে রাখতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তবে। একাত্তরের সে ভাবনাকে যুগ যুগ মানুষের মাথার উপর চাপিয়ে রাখার অধিকার আওয়ামী লীগকে কে দিল? নতুন প্রজন্মই বা কেন একাত্তরের ভাবনা নিয়ে পিছনে পড়ে থাকবে? তাছাড়া বাহাত্তরের সংবিধান রচিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের হাতে। ফলে এ সংবিধানে প্রাধান্য পেয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা। কিন্তু জনগণ যদি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই প্রত্যাখান করে এবং দাবী করে ভিন্ন জাতের সংবিধান,তবে গণতন্ত্র তো জনগণকে সে সংবিধান সংশোধনের অধিকারও দেয়।সে অধিকার রুখাই তো স্বৈরাচার। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী কি দেশের উপর সে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চান?

বাহাত্তরের শাসনতন্ত্রে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সেক্যুলারিজম,জাতিয়তাবাদ,সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রকে। সেক্যুলারিজম,জাতিয়তাবাদ,সমাজতন্ত্র –এ তিনটি মতবাদই ইসলামে হারাম। যারা সূদ ও সূদী ব্যাংককে হালাল মনে করে এবং পতিতাবৃত্তির নায় ব্যভিচারিকে বৈধতা দেয় -একমাত্র সে পাপীরাই  এ মতবাদগুলোকে মেনে নিতে পারে। কোন ঈমানদার এগুলী গ্রহণ করতে পারে না। সে সময় একমাত্র গণতন্ত্র নিয়ে দেশবাসীর মাঝে ঐকমত্য ছিল। অথচ সে গণতন্ত্রকে আওয়ামী নিজেই কবরে পাঠিয়ে বাকশালী স্বৈরাচার কায়েম করেছে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রকে মুজিব ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত শিল্প করখানাগুলো ধ্বংসের লক্ষ্যে। সে কল-কারাখানাগুলো জাতীয়করণ করে মুজিব নিজদলের কর্মীদের হাতে তুলে দেয়। দলীয় কর্মীদের লুটপাটের ফলে সেগুলো অতিদ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়। এমন কি আদমজী জুটমিলের মত লাভজনক পাটকলটিও বাঁচেনি। এভাবে শিল্প ধ্বংসের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় পণ্যের বাজার। মুজিব আমলের চার স্তম্ভের মাঝে সেক্যুলারিজম এবং বাঙালী জাতিয়তাবাদকে তারা বাঁচিয়ে রেখেছে নিছক দলীয় প্রয়োজনে। কারণ এ দুটি দিয়ে তারা ইসলাম রুখতে চায়। রুখতে চায় শরিয়তের প্রতিষ্ঠা। বাঙালী জাতিয়তাবাদের অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে রবীন্দ্র চর্চা এবং রবীন্দ্রপুজা। আর সেক্যুলারিজমের অর্থ দাঁড়িয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষার বাজেট হ্রাস,কোরআন-হাদীস ও ইসলামের পাঠ্য-সংকুচন এবং নাচ-গান ও অশ্লিলতা বাড়িয়ে ইসলাম থেকে মানুষকে দূরে সরানো।

 

নিধনের সুর বামপন্থিদের মুখে

ফ্যাসীবাদী সন্ত্রাসে আওয়ামী লীগের চেয়ে বামপন্থিগণ কোন অংশেই কম হিংস্র নয়। ইসলামপন্থিদের এরা জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী বলছে। অথচ নানা জাতের কম্যুনিষ্ট পার্টি, সর্বহারা পার্টি,বিপ্লবী পার্টি ও গণবাহিনীর পরিচালিত গলাকাটা রাজনীতিকে তারা সন্ত্রাস বলতে রাজি নয়। ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে এসব বামপন্থিরা যে কতটা ফ্যাসিস্ট ও নিধনবাদী তার প্রমাণ মেলে রাশেদ খান মেনন,হাসানুল হক ইনু এবং মোজাহিদুল ইসলাম -এ তিন বামপন্থি নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যে। উদাহরণ দেয়া যাক। সম্প্রতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন,“সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তি নির্মূল না হলে বাংলাদেশসহ এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিপর্যয় নেমে আসবে।”-(আমার দেশ, ৬/১১/১২)।রাশেদ খান মেননদের কাছে আল্লাহর নাম,আল্লাহর ধর্মের নাম,আল্লাহর শরিয়তী আইন -এসবই হলো সাম্প্রদায়িকতা। তাই এসবের তিনি নির্মূল চান। তার দুশ্চিন্তাটি ইসলামের জাগরণ হলে বাংলাদেশের কি হবে শুধু তা নিয়ে নয়। সে জাগরণের ফলে প্রতিবেশী ভারতেও যে মুসলিম জাগরণ আসতে পারে এবং ভারত তাতে বিপর্যয়ে পড়তে পারে তা নিয়েও। ভারতীয়দের চেয়েও যেন তিনি বেশী ভারতীয়। অতএব তার কথা, ইসলামপন্থিদের নির্মূল করতেই হবে। প্রশ্ন হলো,সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদীর অর্থ বলতে তিনি কি বুঝেন? এর অর্থ যদি আল্লাহর শরিয়তের বিধানের প্রতিষ্ঠা এবং নবীজী (সাঃ)র দ্বীনের দিকে ফিরে যাওয়া বুঝে থাকেন -তবে সেটিই তো প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়বদ্ধতা। এখানে তো আপোষ চলে না। আপোষ হলে সে আর  মুসলমান থাকে না। মু’মিনের চেতনার মানচিত্রে ইসলাম এখানে অনতিক্রম্য “রেড লাইন” বা নিষিদ্ধ সীমা রেখা এঁকে দেয়। মেননের ন্যায় বামপন্থিরা সে রেড লাইন সজ্ঞানে অতিক্রম করেছেন,কিন্তু কোন ঈমানদারও কি তা জেনেবুঝে অতিক্রম করতে পারে? সেটি তো জাহান্নামের পথ।

বাংলাদেশের কম্যুনিষ্ট পার্টির নেতা মোজাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে যা বলেছেন সেটিই ইসলামের বিরুদ্ধে কম সহিংস নয়। তার কথা হলো,এরশাদের আমলে বাহাত্তরের সংবিধানে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা না হটালে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। নইলে দেশের ভাবমুর্তিও উদ্ধার হবে না। তার দাবী,এটি হটাতেই হবে। সরকারের সকল ভাল কাজের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন সে সংশোধনী যাতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম রূপে স্বীকৃত দেয়া হয়। এরশাদের ন্যায় এক স্বৈরাচারিকে জোটে নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে তার আপত্তি নেই। অথচ আপত্তি তাঁর আমলের সেই সাংবিধানিক সংশোধনীটি নিয়ে।

 

অথচ আরেক কম্যুনিষ্ট নুরুল ইসলাম নাহিদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী রূপে। নুরুল ইসলাম নাহিদও একসময় মোজাহিদুল ইসলামের ন্যায় মস্কোপন্থি একসময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। উভয়ই যে একই রূপ চিন্তা-চেতনার ধারক তা নিয়ে কি কোন সন্দেহ আছে? ফলে বাংলাদেশ যে কতটা বিপদে আছে সেটি বুঝতেও কি বাঁকি থাকে? শিক্ষালাভ নামায রোযার ন্যায় ফরয। শিক্ষার মধ্য দিয়েই শিশু মুসলমান রূপ গড়ে উঠে। নইলে অসম্ভব হয় মুসলমান হওয়া। তাই মুসলিম শিশুর শিক্ষাদানের দায়িত্ব তাই কোন কাফের বা নাস্তিকের উপর দেয়া যায় না। কারণ তাতে শিশুদের মুসলিম রূপে বেড়ে উঠাই অসম্ভব হয়। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে যেমন মুসলমান বানানো যায়,তেমনি কাফেরও বানানো যায়। অথচ কি আশ্চর্য! শতকরা ৯১ ভাগ মুসলমানের দেশে এমন এক ব্যক্তির হাতে দেশের শিক্ষা বিভাগের পুরা দায়িত্ব যার মনে ইসলামের প্রতি বিশ্বাস নাই, বিন্দুমাত্র অঙ্গিকারও নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ধর্মরূপে ইসলামকে মানতেও তিনি রাজী নন।

নুরুল ইসলাম নাহিদের ন্যায় একজন কম্যুনিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের হাতে নিয়েছে বিশেষ একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে। সেটি মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের ইসলাম থেকে দূরে সরানোর লক্ষ্যে। তাই তিনি কৃষিমন্ত্রী বা রেলমন্ত্রী হয়নি, হাতে নিয়েছে শিক্ষামন্ত্রনালয়। তসলিমা নাসরিনের চেয়েও সে বড় ক্ষতিটা করছে ইসলামের। তসলিমা নাসরিনের হাতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ন্যায় বিশাল হাতিয়ার ছিল না। হাতে ছিল শুধু কলম। কিন্তু এ কম্যুনিস্টটি হাতে পেয়েছে দেশের হাজার হাজারর স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়। শয়তানের এক চিহ্নিত এজেন্টের হাতে এত বড় বিশাল ও শক্তিশালী অস্ত্র তুলে দেয়ার বিপদ যে ভয়ানক সে হুশ বাংলাদেশে ক’জনের? অথচ সে প্রজেক্টের সমুদয় খরচ বইছে বাংলাদেশের জনগণ। গোখরা শাপকে গোখরা শাপ রূপে না চেনাটি জীবনের বড় মুর্খতা। তেমনি সবচেয়ে বড় মুর্খতা হলো ইসলামের শত্রুকে না চেনা। তখন বিপদে পড়ে নিজের ও নিজ সন্তানের মুসলিম রূপে বাঁচা। বিপদে পড়ে আখেরাত। বাংলাদেশের মুসলমানদের বড় অপরাধটি ঘটেছে মূলত এক্ষেত্রে। তারা ইসলামের এ চিহ্নিত শত্রুকে মন্ত্রী রূপে নিজেদের মাথার উপর বসিয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী এবং জাসদ নেতা হাসানূল হক ইনু সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন,“জিয়াউর রহমান,এরশাদ ও খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক শক্তি আমদানি করেছিলেন। এ শক্তি সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে। তাই এ শক্তির দমন অথবা নিধন করতে হবে।” -(আমার দেশ,৬/১১/১২)। হাসানুল হক ইনুর মুখে এখনও নিধনের সুর। প্রশ্ন হলো,রাজনীতি বলতে কি  তার কাছে স্রেফ রাজনৈতীক শত্রু-নিধন ছাড়া অন্য কিছু বোঝায় না? মুজিব আমলে এই ইনু সাহেবেরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও নিধন যোগ্য মনে করতেন। জাসদের গণবাহিনী সে সময় আওয়ামী লীগের বহুহাজার নেতাকর্মীকে নিধন করেছে। একাত্তরের যুদ্ধে আওয়ামী লীগের এত নেতাকর্মী নিহত হয়নি যত হয়েছে জাসদের হাতে। তারা নিধন যোগ্য মনে করতেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অফিসারদের। সেপাহী বিপ্লবের নামে তারা খুন করেছেন বহু সামরিক অফিসারদের। আর এখন এখন নিধনে নেমেছেন জামায়াত-শিবির কর্মীদের। তবে তিনি তার বক্তব্যে শুধু জামায়াত ও শিবির কর্মীদেরই নিধন চাননি। নিধন করতে চেয়েছেন তাদের সাথে জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার রাজনীতির অনুসারিদের।

বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য হলো, দেশটির বুকে জন্ম নিয়েছে হাসানুল হক ইনুর ন্যায় ব্যক্তিবর্গ। নির্মূল ছাড়া রাজনীতিতে অন্য কোন সৃষ্টিশীল কর্ম নিয়ে তারা ভাবেন না। রাজনৈতীক বিরোধীদের শারিরীক অস্তিত্ত্বকে মেনে নেয়ার মত মানসিকতাই তাদের নাই। তাদের এ এক বিশাল মানসিক বিকলাঙ্গতা। মুজিব আমলে তারা জনসভায় শেখ মুজিবের পিঠের চামড়া খুলে ঢোল বানানোর আস্ফালন শুনাতেন। তবে আওয়ামী লীগের সমস্যা হলো তাদের ফ্যাসীবাদী রাজনীতিতে সন্ত্রাসী খুনিদের কদর অনেক বেশী। ফলে তাদের রাজনীতিতে ফেনীর জনয়াল হাজারী,লক্ষিপুরের আবু তাহের ও নারায়নগঞ্জের শামীম ওসমানীর যেমন কদর আছে তেমনি কদর আছে কুষ্টিয়ার ইনুরও।ফলে বহু আওয়ামী নেতাকর্মী নিধনকারি জাসদের নেতা ইনু মন্ত্রী হয় তো সে কারণেই।আর সে সাথে বাংলাদেশের মুসলমানদের বিপদ,তার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে রেডিও-টেলিভিশনসহ সকল সরকারি প্রচার মাধ্যম। প্রচারমাধ্যমের দায়িত্ব হলো জনগণের মাঝে সত্যকে তুলে ধরা। তেমনি শত্রুকে পরিচিত করা। কিন্তু যে ব্যক্তির রক্তে ইসলামপন্থিদের নিধনের নেশা সেকি সত্যের সেবক হতে পারে?

 

গড়াতে নয় ভাঙ্গাতেই বাহাদুরি

দেশের রাজনীতিতে রক্তাত্ব বিভক্তি ও সংঘাত গড়ায় আওয়ামী লীগের জুড়ি নেই। দলটির বাহাদুরি ভাঙ্গাতে,গড়াতে নয়।পাকিস্তানের রাজনীতিতেও ভাঙ্গন ছাড়া আওয়ামী লীগে কোন গঠনমূলক কাজই করেনি। অথচ দলের নেতা সহরোওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। গড়ার রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনীতিতেও করছে না। অথচ মুসলমানদের মাঝে বিভক্তি গড়া কবিরা গুনাহ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বিভক্তির বিরুদ্ধে বার বার সাবধান করেছেন। আল্লাহর আযাব পাওয়ার জন্য পুতুল পুজারি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মুসলিম দেশ ভাঙ্গা ও মুসলমানদের মাঝে বিভক্তি গড়ার অপরাধই সে জন্য যথেষ্ঠ। সে আযাব থেকে বাঁচার চেতনাটি অতি প্রবল থাকার কারণেই আরব, কুর্দি, ইরানী, তুর্কী এরূপ নানা ভাষাভাষী জনগণের বিশাল ভূগোল জুড়ে অখন্ড মুসলিম রাষ্ট্র হাজার বছর যাবত অটুট ছিল। নইলে সে ভুগোল ভেঙ্গে বহু শত বছর আগেই শতাধিক বাংলাদেশ তৈরী হতে পারতো। অথচ সে বিশাল ভূগোল পাহারা দেয়ার জন্য সে সময় মুসলমানদের হাতে বিশাল সেনাবাহিনী ছিল না। মুসলিম ভূমির কোনে কোনে আজকের মত সেনানীবাসও ছিল না। হাজার বছর ধরে সে ভূগোলের অখন্ডতা পাহারা দিয়েছে তাদের প্যান-ইসলামী চেতনা।মুসলিম উম্মাহর অখন্ড ভুগোলের মানচিত্রটি স্রেফ জমিনে নয়,বরং তাদের চেতনার অঙ্গণে অংকিত হয়ে গিয়েছিল। সে ভূগোল ভাঙ্গা সাধারণ মুসলমানের কাছেও শাস্তিযোগ্য মহা অপরাধ মনে হত। তারা বুঝতো, উত্তাল মহাসমূদ্রে ছোট ডিঙ্গি ভাসানো যায় না। চাই বিশাল জাহাজ। তেমনি সংঘাতময় বিশ্বেও সম্মান ও প্রতিপত্তি নিয়ে বাঁচার জন্য চাই বিশাল রাষ্ট্র। নবীজী(সাঃ)ও তাঁর সাহাবাগণ উত্তরাধিকার সুত্রে কোন বিশাল ভূগোল দূরে থাক কোন রাষ্ট্রই পাননি। শূণ্য থেকে তাঁরা বহু শ্রম ও বহু রক্ত ব্যয়ে রাষ্ট্রগড়া শুরু করেন। নবীজী (সাঃ)র কাছে রাষ্ট্রের বিশাল ভূগোল অতিগুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছিল।তাই রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কন্সটান্টিনোপল দখলের নসিহত করেছিলেন। ১৯৪৭ য়ে এজন্যই বাংলার বিজ্ঞ মুসলিম নেতাগণ জেনে বুঝে বিশ্বের বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলেন। তারা তাই ক্ষুদ্র বাংলাদেশ গড়েননি। সে অভিন্ন প্রজ্ঞার কারণেই পশ্চিম বাংলার বাঙালীরা বিহারী,পাঞ্জাবী, গুজরাতি,মারোয়ারি ও নানা ভাষী অবাঙালীদের সাথে অখন্ড ভারতে বাস করছে। অথচ সে প্রজ্ঞা কি মুসলিম নামধারি বাঙালী কাপালিকদের কোন কালেই ছিল? বিশ্বরাজনীতিতে শুধু সংখ্যা দেখা হয় না,হিসাব হয় শক্তির। সে শক্তিটা দারুন ভাবে কমে ভূগোল ছোট হলে। অন্যদের কাছে তখন দেশ গুরুত্ব হারায়। পাকিস্তান সীমান্তে ভারত মানুষ দূরে থাক,গরুছাগলের গায়েও কি গুলি করার সাহস রাখে? অথচ বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত লাশ হচ্ছে মানুষ। অমুসলমানদের কাছে একতা গড়া বা বৃহৎ রাষ্ট্রগড়া হলো তাদের সামরিক ও রাজনৈতীক কৌশল, অথচ মুসলমানদের কাছে সেটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। বিচ্ছিন্নতা হলো হারাম। একাত্তরে তাই শুধু জামায়াত নয়,কোন ইসলামি দল,কোন হাক্কানী আলেম এবং দ্বীনদার মুসলমান পাকিস্তান ভাঙ্গাকে সমর্থণ করেনি।পাকিস্তান ভাঙ্গাটি ছিল ইসলামে অঙ্গিকার শুণ্য ন্যাশনালিষ্ট,সোসালিষ্ট ও সেক্যুলারিষ্ট একান্ত নিজস্ব প্রজেক্ট। এর পিছনে ছিল ভারতের ন্যায় এমন এক চিহ্নিত শত্রু রাষ্ট্র যারা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সৃষ্টিই চায়নি। অথচ ইসলামের সে শত্রুপক্ষের প্রজেক্টে অংশ না নেয়াকে বলা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধ!বলা হচ্ছে মানবাধিকার লংঘন। সে অভিযোগে ঘটা করে বিচার বসছে।

মুসলমানদের বিভক্ত করা,শক্তিহীন করা এবং কাফেরদের পদসেবী করাতেই সেক্যুলারিষ্টদের আনন্দ। তাদের হাতে পাকিস্তান যেমন বাঁচেনি,তেমনি বিপদে পড়েছে বাংলাদেশও। তাদের হাতে বাংলাদেশ আজ  দ্বিজাতিতে বিভক্ত। এক দিকে ইসলামের পক্ষ,অপর দিকে বিপক্ষ। এ দুই পক্ষের রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত মুখি। দেশের রাজনীতি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে এ দুই বিপরীত মেরুতে। নাস্তিক,সেক্যুলারিষ্ট,সোসালিস্ট,কম্যুনিষ্টসহ সকল ইসলামবিরোধীগণ আজ আওয়ামী লীগের সাথে একাকার হয়ে গেছে। রাজনৈতীক সংঘাতে রক্তপাত বাড়াতে হলে বিবাদমান পক্ষের মাঝে গভীর ঘৃনা চাই। বিবাদের নানাবিধ উপকরণও চাই। আওয়ামী লীগের সে কাজটি সুচারু ভাবে করেছে। বিবাদ খুঁজতে তাদের নজর শুধু একাত্তরের উপর সীমিত নয়, ১৯৭৫য়ের উপরও নয়। কারা তাদের রচিত বাহাত্তরের সংবিধানে হাত দিল,কারা অতীতে তাদের রাজনীতির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল -সেগুলোও বিচারে আনছে। দেশের রাজনীতিতে তারা লাগাতর ছিটাচ্ছে ঘৃনার পেট্রোল। সে পেট্রোলে আগুনও দিচ্ছে। ঘৃনা বাড়ালে মানুষ যে নিজেরাই বোমাতে পরিণত হয় তার প্রমাণ আজকের ইরাক ও আফগানিস্তান। অথচ সে ঘৃণার আবাদটি ব্যাপক ভাবে বাড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশে। সেটি বাংলাদেশের ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে। ফলে বাংলাদেশ ধেয়ে চলছে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে। শত্রুরা সে খুশিতে যে ডুগডুগি বাজাবে তাতে কি সন্দেহ আছে?

 

অথচ দায়িত্ববান রাজনীতিবিদদের মূল কাজটি হলো চলমান সংঘাতকে কমিয়ে আনা। রাজনীতি হলো সংঘাত বা বিভক্তি কমানোর বিজ্ঞান। নানা ভূখন্ডের নানা ভাষাভাষি মানুষ একতা গড়ে, অখন্ড ভূখন্ডে বিশাল রাষ্ট্র গড়ে তোলে সুস্থ্য রাজনীতির মাধ্যমে। ১৯৪৭সালে ১২০০ মাইলের বিভাজন নিয়ে শত্রুদের প্রচন্ড বিরোধীতার মুখে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র পাকিস্তানে গড়তে তাই কোন যুদ্ধ লড়তে হয়নি। সে সময়ের রাজনৈতীক নেতাদের এটিই সবেচেয়ে বড় কৃতিত্ব। অবুঝ শিশুর হাতে কাঁচের পাত্র যেমন নিরাপদ নয়,তেমনি অবুঝ ও দুর্বৃত্ত নেতাদের হাতে দেশের মানচিত্রও নিরাপদ নয়। দেশকে বিভক্ত ও দুর্বল করতে তখন বাইরের শত্রু লাগে না। বরং ভিতরের শত্রুরাই সে কাজটি সুচারু ভাবে করে। তখন দেশকে তারা বিদেশী শত্রুর পদানত করে ছাড়ে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ  তেমনি এক আত্মঘাতি ধারা।

ঘৃনা ও বিভক্তির রাজনীতিতে লড়াই অনিবার্য। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ সেটি জানে। সে লড়াইয়ে পরাজিত পক্ষের রাজনীতি নির্মূল হয় সেটিও আওয়ামী লীগ বুঝে। জেনে বুঝেই আওয়ামী লীগ তেমন তেমন একটি লড়াই দেশের উপর চাপিয়ে দিতে চায়।তাদের ধারণা, যুদ্ধ বাধলে ভারতও আসবে। কারণ, বাংলাদেশের মাটিতে এমন যুদ্ধ তাদের একের নয়,সেটি ভারতেরও। আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করা ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প নেই্। ফলে তাদের বিশ্বাস,ভারত ১৯৭১ নিজেদের অর্থ ও রক্ত ব্যয়ে তাদের পক্ষে যেমন যুদ্ধ লড়ে দিয়েছে,এবারও সেটি করবে। “একাত্তরে হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার” –তাদের মুখে এজন্যই তো এ স্লোগান। তারা চায়,সেটি লড়াইটি তাদের ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শুরু হোক। তাতে সুবিধা হবে তারা নিজেদের পক্ষে পাবে দেশের পুলিশ,র‌্যাব,সেনাবাহিনী,প্রশাসন ও আদালতকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহারের সুযোগ। নির্বাচনের মাধ্যমে পুণরায় ক্ষমতায় যাওয়া যে অসম্ভব সেটি তারা বুঝে। ফলে একটি রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধকে অনিবার্য করতেই ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে হামলা শুরুও হয়ে গেছে।

 

অভিযান নির্মূলের

সরকারের বর্তমান টার্গেট যদিও জামায়াত-শিবির,তবে জামায়াত-শিবির যেমন প্রথম টার্গেট নয়,তেমনি শেষ টার্গেটও নয়।ফলে বিপদ এখানে সমগ্র দেশের। আওয়ামী লীগ চায়,যে কোন মূ্ল্যে তাদের ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি নিরাপদ হোক। ফলে যারাই পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে তাদেরই নির্মূলে হাত দিবে। ক্ষুদার্ত নেকড়ে দুটি শিকারকে এক সাথে ধরে না। ধরে একটি একটি করে। আওয়ামী লীগের স্ট্রাটেজীও তাই সব শত্রুকে একসাথে নির্মূল নয়। সে সামর্থও তাদের নাই। সামর্থ থাকলে শেখ হাসিনাও তার পিতা শেখ মুজিবের ন্যায় সকল বিরোধী দলকে এক যোগে নিষিদ্ধ করতো। সামর্থ নাই বলেই ধীরে ধীরে এবং একে একে বিরোধীদের নির্মূলে কাজ শুরু করেছে। তাদের দৃষ্টিতে একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া সবাই অপরাধী। জামায়াতে ইসলামির অপরাধ তারা ১৯৭১ য়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। সে অভিযোগ এনে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ধুঁয়া তুলে জেলে তুলেছে। অথচ এসব নেতাদের কেউই কোনদিন কোন রণাঙ্গনে যায়নি, যুদ্ধও করেনি। যুদ্ধাপরাধ তো তারাই করে যারা যুদ্ধ করে। অথচ যারা রণাঙ্গনে ছিল সে পাকিস্তানী সৈন্যদের টিকিটাও তারা স্পর্শ করেনি।

 

কুমতলব থাকলে নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে অসংখ্য অপরাধ আবিস্কার করা যায়,তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীসাবুদও বাজারে কেনা যায়।এবং বিচারে ফাঁসীর আদায় করা যায়।ক্ষমতায় থাকলে সেটি তো বেশী বেশী করা যায়। নমরুদ,ফিরাউন ও আবুজেহেলগণ তো নবীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ আবিস্কার করেছিল। তাছাড়া বহু মানুষকে তো আজ বিচার ছাড়াই খুন ও গুম করা হচ্ছে। ক্রস ফায়ারে দিচ্ছে,পিটিয়েও মেরে ফেলছে। আওয়ামী লীগ কোন দলকে তাদের প্রতিদ্বন্দি হওয়ার অধিকার দিতে রাজী নয়। শেখ মুজিব যেমন দেয়নি, দিতে রাজী নয় শেখ হাসিনাও।তাদের যুক্তি,বাংলাদেশ হলো একমাত্র তাদের সৃষ্ট দেশ,অতএব শাসনের অধিকারও একমাত্র তাদেরই। বিএনপির সবচেয়ে বড় অপরাধ,তারা আওয়ামী লীগের সে অধিকার কেড়ে নেতে চায়। অপরাধ,তারা জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করে। অপরাধ,শেখ মুজিবের হত্যাকারিদের বিচার না করে বাঁচিয়ে রেখেছিল। আরো অপরাধ,তারা বাহাত্তরের সংবিধানে কাটছাট করেছে। অপরদিকে ইসলামি ঐক্যজোট ও অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর অপরাধ,তারা মৌলবাদী। তারা শরিয়তের প্রতিষ্ঠা চায়।আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নির্মূলযোগ্য হওয়ার জন্য তো এগুলিই গুরুতর অপরাধ।

 

স্ট্রাটেজী রাজপথ দখলের

সামনে নির্বাচন।তবে নির্বাচনী বিজয়ের পূর্বে তারা রাজপথের বিজয় চায়। তখন নির্বাচনে ইচ্ছামত কারচুপি করলেও তা নিয়ে রাজপথে কার্যকর প্রতিবাদ হবে না। ফলে নিরাপদ হবে ক্ষমতায় থাকা। আওয়ামী লীগের এটিই অতি সনাতন স্ট্রাটেজী। সে স্ট্রাটিজী ছিল ১৯৭০য়ের নির্বাচন কালেও। রাজপথের দখল নিতে তাদের কৌশল সব সময়ই দলীয় গুন্ডাবাহিনী দিয়ে সকল দলের নির্বাচনী জনসভা ভন্ডুল করা। তাদের সে সন্ত্রাসের কারণে ১৯৭০ সালে ঢাকার পল্টন ময়দানে জামায়াতে পক্ষে নির্বাচনি জনসভা করা যেমন সম্ভব হয়নি,তেমনি সম্ভব হয়নি মুসলিম লীগের পক্ষেও। সম্ভব হয়নি জনাব নুরুল আমীন সাহেবের দলের পক্ষেও। আর মাওলানা ভাষানী তো সে নির্বাচনে রণেভঙ্গ দিয়েছিলেন। মুজিব আমলে ১৯৭৩য়ে যে নির্বাচন হয়েছিল সে নির্বাচনেও বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে নামতে দেয়া হয়নি। এমনকি বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে ঘরে বন্দী রেখে বহু আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে নমিশেন পেপারও জমা দিতে দেয়নি। তাই আওয়ামী লীগের কাছে নির্বাচনী জয়ের লক্ষ্যে রাজপথের উপর দখলদারিটি গুরুত্বপূর্ণ। দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে আওয়ামী লীগের একার পক্ষে রাজপথ দখলে নেয়া সম্ভব হয় না। সরকার তখন সবার জন্যই রাস্তা করে দেয়। ফলে তাতে আওয়ামী লীগের বিপদ বাড়ে। এজন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিকেই আওয়ামী লীগ বিদায় করে দিয়েছে।

 

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজপথ দখলের সে স্ট্রাটেজীর কথাটি বেরিয়ে এসেছে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর মুখ থেকে। তিনি বলেন,“খালেদা জিয়া (ভারত থেকে ফিরে) দেশের মাটিতে পা রাখতে না রাখতেই তার উস্কানিতে জামায়াত শিবির ও তাদের প্রেতাত্মারা দেশকে নৈরাজ্যকর অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে। এসব চলতে থাকলে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না। তারা মাঠে নামলে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা পালানোর জায়গা পাবে না।” তিনি বলেন,“আপনারা তৈরী হোন,রাজপথ দখলে নিন।” –(বাংলাদেশ নিউজ, ৬/১১/১২)। সে দখলটি আগামী নির্বাচন অবধি রাখতে হবে সে ঘোষণাটিও আসছে।আওয়ামী লীগের সৌভাগ্য হলো,তাদের এ দুরভিসন্ধি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর হুশ নেই। ভাবনাও নাই। এক পাল খাসীর মধ্য থেকে একটি ধরে নিয়ে জবাই করলে অন্যগুলো তখনও মনের তৃপ্তিতে ঘাস খায় বা জাবর কাটে। তেমনি অবস্থা এ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের। ফলে জামায়াত-শিবিরের নেতাদের আজ একাকী আওয়ামী জুলুমের মোকাবেলা করতে হচ্ছে।অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সে নির্যাতনের দৃশ্য নিরাপদ দূরত্বে বসে দেখছে। বিএনপির উপর যখন নির্মূল অভিযান শুরু হবে তখন অন্যদের আচরণও কি ভিন্নতর হবে? ১৪/১১/১২

 




আওয়ামী শাসনের নাশকতা

রাষ্ট্র যেখানে জুলুমের হাতিয়ার

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সবচেয়ে বড় অপ্রিয় সত্যটি অবশ্যই বার বার বলতে হবে। তাতে যেমন সত্য বলার বিশাল সওয়াব মিলবে তেমনি সত্য লুকানোর কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে। সে বিশাল সত্যটি হলো দেশে জুলুমের সবচেয়ে নৃশস ও সবচেয়ে বড় হাতিয়ারটি পেশাদার চোর-ডাকাত বা খুনি-সন্ত্রাসীদের সংগঠন নয়। সেটি খোদ রাষ্ট্র। সরকারের পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নিরস্ত্র মানুষ হত্যায় কতটা নৃশংস ও কতটা বর্বর হতে পারে সেটি তারা ২০১৩ সালের ৫ই মের রাতে ঢাকার মতিঝিলে অগণিত নিরস্ত্র মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছিল। বাংলাদেশের সকল ডাকাত বা সকল খুনি-সন্ত্রাসী সারা বছরে যত মানুষকে হত্যা করতে পারিনি সেখানে সরকারি এ খুনি বাহিনীগুলি একরাতে তা করেছে। দৈনিক যুগান্তর ১২/০৫/১৩ তারিখে লিখেছিল শেখ হাসিনার সরকার ৭, ৫৮৮ জন্য অস্ত্রধারি সেপাইকে এ কাজে নামিয়েছিল। তাদের ১,৩০০ জন এসেছিল র‌্যাব থেকে, ৫,৭১২ জন পুলিশ থেকে এবং ৫৭৬ জন বিজিবী থেকে। যেন প্রকাণ্ড এক যুদ্ধ। পত্রিকাটি লিখেছে, তারা এক লাখ ৫৫ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। প্রশ্ন হলো ১৯০ বছরের ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলে বা ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলে কোনদিনও কি এতবড় বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামানো হয়েছে? এবং এতগুলি ছোড়া হয়েছে? সরকারি বাহিনী আরেকটি অপরাধ কর্ম ঘটালো ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে। এবং সেটি নির্বাচনে চুরির ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের সকল চোর মিলে যতবড় চুরির কর্ম এ অবধি করতে পারিনি তা করলো দেশের সরকারি বাহিনী। তাতে চুরি হয়ে গেছে সকল দেশবাসীর ভোটদানের স্বাধীনতা।

বনেজঙ্গলে মানুষের জীবনের জানমালের নিরাপত্তা থাকে না। কারণ সেখানে চলে পশুর রাজত্ব। সেখানে কোটকাচারি যেমন থাকে না তেমনি পুলিশও থাকে না। খুনের দায়ে বন্য বাঘ-ভালুককে ধরে হাজতে তোলা বা তাদের বিরুদ্ধে বিচার বসানোর রীতিও বনে জঙ্গলে না‌ই। পশু তাই অন্যের প্রাণ নাশ করেও তাই হুংকার দিয়ে চলা ফেরা করে। এক সময় মানবও অসভ্য ছিল।পাহাড়ের গুহায় বা বনেজঙ্গলে তারা বাস করতো,এবং বহু মানুষ ন্যাংটা হয়ে চলাফেরা করতো। সে সমাজেও আইন-আদালত ও বিচার-আচার ছিল না। ছিল “জোর যার মুল্লুক তার” –এর রাজত্ব। কিন্তু মানুষ যখন থেকে সভ্য হতে শিখেছে তখন থেকেই নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত দিতে সভ্য রাষ্ট্র গড়তে শিখেছে। সে রাষ্ট্রে সভ্য ও দায়িত্ববান সরকার নির্বাচন করতেও শিখেছে।

একটি সরকার কতটা সভ্য বা অসভ্য সেটি কোন সরকারেরই গায়ে লেখা থাকে না। তবে সেটি নির্ভূল ভাবে ধরা পড়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার কতটা তৎপর ও সফল তা থেকে। তাই যে কোন সভ্য রাষ্ট্র তার কোন নাগরিক দেশে বা বিদেশে,গভীর সমুদ্রে বা গহীন জঙ্গলে হঠাৎ হারিয়ে গেলে তার জীবন বাঁচাতে যেমন দিবারাত্র লাগাতর তল্লাশী করে, তেমনি কোন ব্যক্তি খুন হলে সে খুনের বিচারে বছরের পর বছর এমন কি দশকের পর দশক ধরে লাগাতর তদন্তও করে। সরকারের মানবতা ও সভ্যতার বিচার হয় জনগণের নিরাপত্তায় এরূপ আপোষহীন অঙ্গিকারে। কিন্তু যে দেশের সরকার লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশে অস্ত্রধারি পুলিশ, বিজিবী ও র‌্যাবকে রাতের আঁধারে ব্রাশফায়ারে নির্বিচারে মানুষ হত্যার অনুমতি দেয়,তাকে কি আদৌও সভ্য সরকার বলা যায়? রাষ্ট্রের এমন প্রধানকে কি আদৌও সুস্থ্য মানুষ বলা যায়? এমন সরকার প্রধান ও তার মন্ত্রীদের পশু বললেও তো পশুর অবমাননা হয়। কারণ আফ্রিকা বা আমাজানের গহীন বনে সকল বন্যপশুরা মিলেও কি কোন কালের কোন এক রাতে এত মানুষকে বধ করেছে? তাছাড়া পশু ক্ষুধার্ত না হলে শিকার ধরে না, ধরলেও এক সাথে একটার বেশী নয়। তাই মতিঝিলে যেরূপ শত শত লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেল সেটি কোন বনেজঙ্গলে কোন কালেই দেখা যায়নি। তাই বিশ্বের কোন জঙ্গলে এ অবধি যে অসভ্য বর্বরতাটি ঘটেনি সেটিই বাংলাদেশে প্রকান্ড ভাবে সংঘটিত করেছে হাসিনা সরকার।

এত খুনের পর এ সরকার কোন খুনিকে গ্রেফতার করবে বা তার বিচার করবে সেটিও কি আশা করা যায়? ডাকাত দলের সর্দার তো নিজ দলের ডাকাতের বিচার করে না। সেটি করলে তো তার দল বাঁচে না। বরং তার এজেন্ডা তো হয় সবচেয়ে বড় ডাকাতদের আরো পুরস্কৃত করা। হালাকু-চেঙ্গিসেরা কি তাদের দলের কোন খুনিকে বিচার করেছে? শেখ মুজিবের আমলে ৩০-৪০ হাজার মানুষ খুন হলেও একটি খু্নেরও কি বিচার হয়েছে? হয়নি। বরং সে সব খুন নিয়ে মুজিব “কোথায় সিরাজ সিকদার?” বলে উল্লাস করেছে। সে নীতি হাসিনারও। এরূপ দুর্বৃত্তদের শাসনে যা বাড়ে তা হলো আরো খুন, আরো নির্যাতন।সমগ্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তখন হয়ে পড়ে গুম, নির্যাতন ও মানব খুনের হাতিয়ারে। প্রতিযুগের হালাকু-চেঙ্গিজ-হিটলারেরাই বেছে বেছে সমাজের সবচেয়ে ভয়ানক চরিত্রের খুনিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্টানে বসিয়েছে। সেটি ঘটেছে বাংলাদেশেও।তাই নিরীহ নাগরিক হত্যার কাজটি এখন আর শুধু পুলিশ, র‌্যাব বা বিজিবীর মধ্যে সীমিত নয়। বরং প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতানেত্রীর সাথে আদালতের বিচারকগণও সে নৃশংসতায় নেমেছে। বিচারের নামে আদালত থেকে তাই সরকারের রাজনৈতীক শত্রুদের বিরুদ্ধে ফাঁসির হুকুম শোনানো হচ্ছে।তাছাড়া যেদেশের সরকার বিনাবিচারে শত শত মানুষ হত্যা করতে পারে সেদেশে বিচারেরই বা মূল্য কোথায়? জালেম সরকার কি বিচারের অপেক্ষায় থাকে? বাংলাদেশের সামনে তাই মহাদুর্দিন।

 

মশকরা মদিনা সনদ নিয়ে!

দেশে এত খুন, এত জুলুম, পত্রিকা ও টিভি অফিসে এত তালা ও এত চুরিডাকাতির পরও শেখ হাসিনা বলছেন, দেশ চলবে মদিনা সনদ অনুযায়ী। মশকরা আর কাকে বলে! প্রশ্ন হলো, মদিনা সনদ কি সেটি কি তিনি বুঝেন? গণতন্ত্রের সাথে তার পিতার মশকরা এবং তার নিজ সরকারের গাদ্দারি জনগণ বার বার দেখেছে। দেখেছে দেশের অর্থনীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী আমলের নাশকতাও।তাছাড়া বাংলাদেশের স্বাধিনতার সাথে মুজিব ও তার দল আওয়ামী লীগের বিশ্বাসঘাতকতাই কি কম? গণতন্ত্রের কথা বলে ১৯৭০য়ে ও ১৯৭৩য়ে ভোট নিয়েছিলেন শেখ মুজিব। অথচ উপহার দিয়েছিলেন একদলীয় বাকশালী স্বৈরাচার। নিষিদ্ধ করেছিলেন সকল বিরোধী দল ও সকল বিরোধী পত্র-পত্রিকা। স্বাধীনতার নামে মুজিবের মুখে খৈ ফুটতো। অথচ তিনিই ডেকে এনেছিলেন ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অধীনতা।দেশের অভ্যন্তরে হাজার হাজার বিদেশী সৈন্য থাকলে কি স্বাধীনতা থাকে? মুজিব স্বাক্ষর করেছিলেন ভারতের সাথে ২৫ সালা দাসত্ব চুক্তি।সে চুক্তির বদৌলতে ভারত পেয়েছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যখন ইচ্ছা তখন সৈন্য সমাবেশের অধিকার। একমাত্র সে অধিকার পাওয়ার পরই ভারত ১৯৭২ সালে নিজ সৈন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে সরিয়ে নিতে রাজী হয়।ইসলামের বিরুদ্ধে মুজিবের বিশ্বাসঘাতকতা কি কম? ১৯৭০ সত্তরের নির্বাচনে মুজিব ভোট নিয়েছিলেন এ ওয়াদা দিয়ে যে, কোরআন সুন্নাহর বিরুদ্ধে কোন আইন প্রণয়ন করা হবে না। অথচ ক্ষমতায় এসেই সে ওয়াদা তিনি ভূলে যান। কোরআন সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শণ দূরে থাক,কোরআনী বিধানের প্রতি অঙ্গিকার নিয়ে রাজনীতিকেই তিনি নিষিদ্ধ করেন।তিনি তালা ঝুলিয়ে দেন জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ সবগুলো দলের অফিসে।

মদিনা সনদের নিজস্ব একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে এ ভূপৃষ্ঠে নবীজী (সাঃ)র আগমনেরও। প্রেক্ষাপট আছে ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার। শুধু নামায-রোযা, হজ-যাকাত প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন কোরআন নাযিল হয়নি, তেমনি শুধু সে ইবাদত শেখাতে ইসলামের মহান নবী (সাঃ)রও আগমন ঘটেনি। প্রশ্ন, সে মুল লক্ষ্যটি কি? মহান রাব্বুল আলামীন সে লক্ষ্যটি বার বার ব্যক্ত করেছেন পবিত্র কোরআনে। সেটি হলো, “লিইউযহিরাহু আলা দ্বীনি কুল্লিহি” সমগ্র প্রচলিত ধর্মের উপর আল্লাহর নিজের ধর্ম ইসলামের বিজয়। নবীজী (সাঃ)ও তাই শুধু নামায-রোযা, হজ-যাকাত প্রতিষ্ঠার মধ্যে নিজের কাজকে সীমিত রাখেননি। নবীজী (সাঃ)র মিশন ছিল, আল্লাহর জমিনকে শয়তানি শক্তির দখলদারি থেকে মুক্ত করা। তাঁর জীবনে এটিই ছিল তাঁর আমৃত্যু মুক্তিযুক্ত। মু’মিনের জীবনে এটিই জিহাদ। আল্লাহর জমিনের যেখানেই শয়তানি শক্তির দখলদারি সেখানেই শুরু হয় এ জিহাদ। ঈমানদার হওয়ার অর্থই হলো, এ জিহাদে জান ও মাল দিয়ে অংশ নেয়া। সাহাবাদের যুগে কি এমন একজন সাহাবীও খুঁজে পাওয়া যাবে যার জীবনে জিহাদ ছিল না? যে মুখে মুসলমান হওয়ার কথা বলে অথচ জীবনে জিহাদ নাই তাঁকে নবীজী (সাঃ) মুনাফিক বলেছেন। বোখারি শরীফের সে প্রসিদ্ধ হাদীসটি হলো,“যে ব্যক্তি মৃত্যবরণ করলো অথচ জিহাদ করলো না এবং জিহাদের নিয়তও কোনদিন করলো না সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলো মুনাফিক রূপে।”

 

মদিনা সনদের লক্ষ্য কি মুসল্লি হত্যা?

নবীজী(সাঃ)র যখন ইসলামের প্রচার শুরু করেন তখন থেকেই কাফেরগণ তাঁকে পদে পদে বাধা দেয়। সর্বশেষে পরিকল্পনা নেয় নবীজী (সাঃ)র প্রাণনাশের। সে মুহুর্তে নবীজীর উপর আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে হুকুম আসে মক্কা ছেড়ে হিজরতের। তখন তিনি মদিনায় চলে যান। সাহাবাদের অনেকেই ইতিমধ্যে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। মদিনা ও মদিনার আশে পাশে তখন মুষ্টিমেয় মুসলমানদের পাশে ছিল বহু কাফের, ইহুদী ও খৃষ্টান গোত্রের বসবাস। গোত্রগুলির মাঝে ছিল শতাধীক বছরব্যাপী চলা গোত্রীয় সংঘাত। নবীজী (সাঃ) উদ্যোগ নেন সে গোত্রগুলির মাঝে সংঘাত থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায়। কারণ, ইসলামের সদ্য রোপণ করা বৃক্ষের নিরাপদে বেড়ে উঠার স্বার্থে এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ জরুরী ছিল। তাছাড়া এমন একটি সমাঝোতা জরুরী ছিল বহিঃশক্তির হামলা থেকে ক্ষুদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠির প্রতিরক্ষার স্বার্থেও। তেমন একটি প্রেক্ষাপটেই মদিনা ও তার আশে পাশে বসবাসরত গোত্রগুলোকে নিয়ে নবীজী (সাঃ) পারস্পারীক শান্তি,নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তাতে ছিল স্বস্ব ধর্ম পালনের অধিকার। সেটিই হল মদিনা সনদ। নিজ ধর্ম পালনে তেমন শান্তি ও নিরাপত্তা মুসলমানগণ মক্কাতে পাননি।

প্রশ্ন হলো, মদিনার সনদে মুসলমানগণ ধর্ম পালনে যে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন সে স্বাধীনতা কি হাসিনা সরকার বাংলাদেশের মুসলমানদের আদৌ দিচ্ছে? ইসলাম পালনের অর্থ তো শুধু নামায-রোযা, হজ-যাকাত পালন নয়, বরং সেটি পরিপূর্ণ রূপে ইসলাম পালন। সে ধর্মপালনে অবশ্যই শরিয়ত পালনও এসে যায়। শরিয়ত পালন না করাটি কবিরা গুনাহ। ফলে রোজ হাশরের বিচার দিনে মহান আল্লাহর সামনে যার জবাবদেহীর ভয় আছে সে কি শরিয়ত পালন থেকে কি সামান্যক্ষণের জন্যও দূরে থাকতে পারে? মহান আল্লাহর ঘোষণাঃ “যারা আমার নাযিলকৃত বিধান অনুসরারে বিচার আচার করে না তারা কাফের .. তারা জালেম .. তার ফাসেক।” –(সুরা মায়েদা আয়াত ৪৪, ৪৫, ৪৭)।কিন্তু মহান আল্লাহর নাযিলকৃত সে বিধান পালন তথা শরিয়ত পালন আজ অসম্ভব করা হয়েছে বাংলাদেশে। সেটি সরকারের পক্ষ থেকে। কাফের ব্রিটিশ সরকার সেটি অসম্ভব করেছিল, আর পরবর্তী সরকারগুলো সেটিকেই চালু রেখেছে। অথচ মদিনার মুসলমানগণ পরিপূর্ণ ধর্ম পালনের সে সুযোগটি প্রথম দিন থেকেই পেয়েছিলেন। মদিনা সনদ অনুসারে সেখানে বসবাসরত অমুসলমানগণ মুসলমানদের সে পরিপূর্ণ ধর্মপালনে কোনরূপ বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটছে উল্টোটি। এদেশে অমুসলমানগণ তাদের ধর্ম পালনে পুরা সুবিধাগুলো পেলেও সে সুযোগ পাচ্ছে না মুসলমানগণ।তারা আপোষহীন অবস্থান নিয়েছে শরিয়তের প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে।

শেখ হাসিনা যে নীতি অনুসরণ করছেন সেটি তো মক্কার কাফেরদের নীতি। সেটি হলো ইসলামের নির্মূলের নীতি। সেটি শরিয়তের প্রতিষ্ঠা প্রতিরোধের নীতি। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড় নাশকতা আর কি হতে পারে? যারা ইসলামের পূর্ণ অনুসরণ চায় তাদের জন্য নিরাপত্তা না বাড়িয়ে তিনি বরং নানা ভাবে বিপদ বাড়িয়ে চলেছেন। সে নীতির বাস্তবায়নের তিনি পূর্ণ সহায়তা নিচ্ছেন ভারতীয় কাফেরদের। তাই তার সরকার বাংলাদেশে কোরআনের তাফসির বন্ধ করে দিয়েছে,এবং ফাঁসির হুকুম শুনিয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রখ্যাত তাফসিরকারকের বিরুদ্ধে।শুধু তাই নয়,মক্কার কাফেরগণ যেমন নবীজীকে প্রকাশ্যে ইসলামের প্রচারের অনুমতি দেয়নি হাসিনা সরকারও তেমনি অনুমতি দিচ্ছে না দেশের ইসলামি দলগুলোরে সমাবেশের।গত রাতে (৫/৫/১৩)তাই নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে। শাহবাগের মোড়ে নাস্তিক ব্লগারদের মাসের পর মাস লাগাতর সমাবেশের অধিকার দিলেও সে অধিকার হাসিনা ইসলামপন্থিদের দেননি। ইসলামপন্থি দলগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে ইতিমধ্যেই জেলে তোলা হয়েছে। বিগত কয়েক মাসে ২ শত জনের বেশী নিরস্ত্র মানুষকে তারা শহীদ করেছে।সরকার শত শত মানুষের ঘরে পুলিশ ও র‌্যাব নামিয়েছে জিহাদ বিষয়ক বই বাজেয়াপ্ত করার কাজে।এমনকি ইসলাম বিষয়ক বইপত্র রাখার অপরাধে সরকার হেজাবধারি মহিলাদের হাজতে তুলেছে।এমনকি নামাযীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রত করতে তালা ঝুলিয়েছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে।প্রশ্ন হলো,এই কি হলো মদিনার সনদ অনুযায়ী দেশ-শাসন? ৫/০৫/১৩ তারিখে ছিল হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী।এ অবরোধ কর্মসূচী ছিল শান্তিপূর্ণ।তাদের উদ্দেশ্য ছিল ১৩ দফা দাবী আদায়।কিন্তু আলেম-উলামাদের এ কর্মসূচীর বিরুদ্ধে সরকার হাজার হাজার পুলিশ লেলিয়ে দেয়।পুলিশের পাশাপাশি ছিল সরকারি দলের বিশাল গুন্ডাবাহিনী।

 

শত্রুর দখলদারি ও মুক্তির জিহাদ

লাগাতর জিহাদ ও কোরবানীর মাধ্যমে নবীজী (সাঃ) আরব ভূমিকে কাফের শত্রুদের অধিকৃতি থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। নবীজী (সাঃ)র রাজনীতির এটিই গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত। নবীজী(সাঃ)র এ সূন্নত পালনটি হলো মু’মিনের জীবনে পবিত্র জিহাদ। সে জিহাদ পালনটি নবীজী(সাঃ)র আমলে যেমন সীমিত ছিল না, তেমনি স্রেফ আরব ভূমিতেও সীমিত ছিল না। বরং যেখানেই তারা দেখেছেন কাফের শক্তির দখলদারি, সেখানেই তারা শুরু করেছেন সে দখলদারি থেকে মুক্তি দেয়ার লড়াই। সে মিশন নিয়ে তারা যেমন পৃথিবীর নানা প্রান্তে গেছেন,তেমনি বাংলাদেশেও পৌছেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ আজ আবার অধিকৃত হয়ে গেছে ইসলামের বিপক্ষ শক্তির হাতে।নবীজী(সাঃ)র শরিয়ত ভিত্তিক শাসনকে তারা মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলছে। অথচ মুসলমানদের সকল গৌরব সে মধ্যযুগে। শরিয়তের প্রতিষ্ঠা দূরে থাক, ইসলামের এ শত্রুপক্ষ সংবিধানে মহান আল্লাহর উপর আস্থার কথাটিও উল্লেখ করতে চায়না। তাদের কারণে আল্লাহর শরিয়তি বিধান আজ তাই আস্তাকুঁরে গিয়ে পৌছেছে। কিন্তু কোন মুসলমান কি ইসলামের এ পরাজিত দশা মেনে নিতে পারে? মেনে নিলে কি তার ঈমান থাকে?

শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিব নিজেকে মুসলমান রূপে দাবী করতেন। সে দাবী শেখ হাসিনাও করেন। ৪/৫/১৩ তারিখে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, তার দাদার মুখে দাড়ি ছিল। নিজেকে মুসলমান ও ইসলামের বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রূপে জাহির করার জন্য তিনি এখন দাদার দাড়ির উল্লেখ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিজের মুসলমান রূপে পরিচয় দেয়ার জন্য কি দাদার মুখে দাড়ি থাকাটি জরুরী। শেখ,সৈয়দ বা চৌধুরি পরিবারে পরিবারে জন্ম নিলে যে কেউ শেখ,সৈয়দ বা চৌধুরি হতে পারে। সেজন্য কোন যোগ্যতা লাগে না। পাগল এবং চোর-ডাকাতেরাও সে উপাধি পায়। কিন্তু মুসলমান হওয়ায় জন্য তো মহান আল্লাহর লক্ষ্য পুরণে আপোষহীন অঙ্গিকার চাই। সে লক্ষ্যে লাগাতর কোরবানীও চাই। কাফের পুত্রও মুসলমান হতে পারে যদি তার মধ্যে সে অঙ্গিকার ও কোরবানী থাকে। নবীজী(সাঃ)র প্রথম সারির সাহাবাদের পিতামাতা কি মুসলমান ছিলেন? প্রশ্ন হলো শেখ মুজিব, হাসিনা বা আওয়ামী লীগ নেতাদের জীবনে কোথায় সে অঙ্গিকার? মুসলমানের প্রতি সময়ের নামায-রোযা, হজ-যাকাত পালনে আল্লাহকে রাজী করার নিয়ত থাকতে হয়, নইলে সেগুলি ইবাদত হয় না।তেমনি তার যুদ্ধবিগ্রহ ও রাজনীতিতেও আল্লাহকে রাজী করার নিয়ত থাকতে হয়। মানুষ তো আখেরাতে জান্নাত পাবে সে নিয়তের কারণে। যুদ্ধে-বিগ্রহ ও রাজনীতিতে অর্থ, শ্রম ও প্রাণের কোরবানী তো বহু কাফেরও করে। কিন্তু তাদের কোরবানীতে কি মহান আল্লাহর লক্ষ্য পূরণের নিয়েত থাকে? সে নিয়েত না থাকার কারণেই তাদের সকল কোরবানী ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে তারা পৌছবে জাহান্নামে। কিন্তু মুসলমানের কোরবানীতে আল্লাহকে খুশি করার নিয়ত থাকার কারণেই সে বিনাবিচারে জান্নাত পায়। শেখ মুজিব আজীবন রাজনীতি করেছেন। জেলও খেটেছেন। রাজনীতি করছেন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীগণও। কিন্তু কোথায় সে আল্লাহর লক্ষ পূরণে সে নিয়ত? কোথায় সে অঙ্গিকার? কোথায় আল্লাহর জমিন থেকে শয়তানি শক্তির দখলদারি মুক্তির লড়াই? এ তো ক্ষতির ব্যবসা। সুরা আছরে কি মহান আল্লাহতায়ালা কি সে মহাক্ষতির কথাটিই শুনিয়ে দেননি। বরং শেখ মুজিব তো ভারতের কাফের সৈন্যদের সাথে কাঁধ মিলিয়েছেন। তাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডেকে এনেছেন। মুজিবের রাজনীতিতে অঙ্গিকার ছিল সমাজতন্ত্র ও বাঙালী জাতিয়তাবাদের প্রতিষ্ঠা, মহান আল্লাহকে খুশি করা নয়। তাঁর শরিয়তের প্রতিষ্ঠাও নয়। বরং ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রচন্ড ধর্ম-বিরোধীতা।ইসলামের বিরুদ্ধে সে অঙ্গিকার নিয়ে যেখানেই তিনি কোরআনের আয়াত ও ইসলাম দেখেছেন সেখান থেকেই তা সরিয়েছেন। তাই তার হাত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রামে কোরআনের আয়াত বাঁচেনি। বাঁচেনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল বা জাহাঙ্গির নগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাথে মুসলিম শব্দ। তেমনি বাঁচেনি ঢাকার নজরুল ইসলাম কলেজের ইসলাম শব্দটি। প্রশ্ন হলো, এমন চেতনার নেতাদের হাতে কি ইসলামী চেতনা বাঁচে? রক্ষা পায় কি মুসলিম স্বার্থ? আল্লাহর দ্বীনের এমন চিহ্নিত শত্রুকে বাঙালী মুসলমানের বন্ধু বলা যায়? বলা যায় কি জাতির পিতা? সেটি যে কোন হিন্দু বা বৌদ্ধ বলতে পারে, নাস্তিক বা কাফেরও বলতে পারে। কিন্তু কোন মুসলমানও কি বলতে পারে? কোন মুসলমান বললে কি তার ঈমান থাকে? মুখের কথার মধ্য দিয়ে যেমন ঈমানের প্রকাশ ঘটে,তেমনি বেঈমানিও ধরা পড়ে। আল্লাহর দ্বীনের শত্রুকে বন্ধু বলা যে ঈমানদারি নয় সেটি বুঝা কি এতই কঠিন? অতীতে মুসলমানগণ মুরতাদদের হত্যা করতেন তো তাদের কথার উপর ভিত্তি করেই।

কবিরা গুনাহর রাজনীতি 
মুজিবের অনুসারিরা একাত্তরে ভারতীয় কা-ফেরদের অস্ত্র কাঁধে নিয়ে কাফেরদেরই এজেন্ডা পূরণ করেছে। তাদের সে সফল কর্মে প্রচন্ড উৎসব বেড়েছে দিল্লির শাসক মহলে। আর মাতম বেড়েছে সমগ্র মুসলিম জাহানে। মুসলিম উম্মাহকে এভাবেই মুজিব কাঁদিয়েছেন এবং হাঁসি ফুটিয়েছেন ভারতের কাফেরদের মুখে।সমগ্র মুসলিম উম্মাহগর বিরুদ্ধে এটিই ছিল মুজিবের বড় অপরাধ। তাই ভারত ভূটানের ন্যায় অমুমুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে এলেও কোন মুসলিম রাষ্ট্র এগিয়ে আসেনি। মুজিব ও তার অনুসারিরা একটি মুসলিম রাষ্ট্রকে ভেঙ্গেছেন। অথচ ইসলামে এরূপ ভাঙ্গার কাজ শতভাগ হারাম। ইসলামে এটি কবিরা গুনাহ। অন্যের শ্লিলতাহানী বা পকেটে হাত দেয়াই শুধু কবিরা গুনাহ নয়, কবিরা গুনাহ হলো মুসলিম দেশের ভূগোলে হাত দেয়াও। ইসলামে এ অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কোরআন হাদীসের এটি মৌলিক জ্ঞান।বাংলাদেশ যে শুধু দুর্বৃত্তিতেই বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়েছে তা নয়। দেশটি বহু দূর এগিয়েছে কোরআন হাদীসের উপর সীমাহীন অজ্ঞতা নিয়েও। ফলে দেশ ছেয়ে গেছে সূদ, ব্যাভিচার, অশ্লিলতা ও মদ্যপানের ন্যায় নানাবিধ কবিরা গুনাহতে। কবিরা গুনাহ যে শুধু শিরক, মুর্তিপুজা, সূদঘুষ, ব্যাভিচার, অশ্লিলতা,মদ্যপান. চুরি-ডাকাতি তা নয়,বরং তার চেয়েও বড় কবিরা গুনাহ হলো ভাষা, বর্ণ বা ভৌগলিক পরিচয় নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রের সংহতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা। পবিত্র কোরআনে এমন কবিরা গুনাহর বিরুদ্ধে রয়েছে কঠোর হুশিয়ারি। কিছু লোকের ব্যাভিচার ও মদ্যপানের কারণে মুসলমানদের ঘাড়ে কাফের শত্রুদের গোলামী চেপে বসে না। অথচ মুসলিম ভূমিতে কাফেরদের দখলদারি প্রতিষ্ঠা পেলে সেটি হয়। মুসলমানগণ শক্তিহীন ও মর্যাদাহীন হয়। একাত্তরে মুজিব বাংলাদেশের ভারতের সে অধিকৃতিকেই নিশ্চিত করেছিল। এখানেই মুজিব ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মূল নাশকতা।

 

মুজিবের গাদ্দারি

মুজিবের গাদ্দারিটা শুধু পাকিস্তানের সাথে ছিল না।সে গাদ্দারিটা ছিল মূলত ইসলামের বিরুদ্ধেও।এবং ছিল বাংলাদেশের মুসলমানদের সাথে। পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ছিল বাংলাভাষী। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের লড়াইকে তিনি বিচ্ছিন্নতার লড়াইয়ে পরিণত করেন। এবং সেটি স্রেফ ভারতীয় অভিলাষ পুরণে। তাই একাত্তরে সকল লাভের ফসল মুজিব ভারতের ঘরে তুলে দেন। পাকিস্তানের অব্যবহৃত হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ভারত নিজ দেশে লুটে নিয়ে যায়। আওয়ামী নেতাগণ তার বিরুদ্ধে সামান্যতম প্রতিবাদও করেনি। প্রভুর সামনে গোলামদের প্রতিবাদের সে নৈতীক বল থাকারও কথা নয়।ইসলামে যেমন নামাযের বিধান আছে তেমনি রাজনীতির বিধানও আছে। ইসলামের হারাম হালামের বিধান শুধু খাদ্য-পানীয়ে নয়, সেটি রয়েছে রাজনীতিতেও। নবীজী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম রাজনীতিতে আমৃত্যু অংশ নিয়ে তা দেখিয়ে গেছেন। কিছু ইসলামি চেতনাশূণ্য মুজিব ও তার অনুসারিগণ সে বিধানের প্রতি সামান্যতম ভ্রুক্ষেপও করেননি। ফলে মুজিব ও তার সাথীরা পরিণত হন ভারতীয় আগ্রাসীদের অতি অনুগত সেবাদাসে। কথা হলো, রাজনীতিতে সামান্যতম ইসলামী জ্ঞান কি শেখ মুজিব ও তার অনুসারিদের ছিল? সে জ্ঞান এবং ইসলামের প্রতি সে অঙ্গিকার না থাকার কারণেই একাত্তরে আওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগ, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের সেক্যুলার ও সমাজতন্ত্রি নেতাকর্মীরা ভারতীয় কাফেরদের সাথে মিশে যায় এবং ভারতের কোলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। একাত্তরে ভারতের অস্ত্র ও ভারতের অর্থ নিয়েই তারা ইসলামপন্থিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইসলামের সাথে তাদের দুষমনি যে কতটা গভীর,এবং ভারতের প্রতি তাদের আনুগত্য যে কতটা প্রকট সেটি শুধু একাত্তরে ধরা পড়েনি, আজও  ধরা পড়েছে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে।

বাংলাদেশের মাটিতে একাত্তরে বহু ইসলামী দল ছিল। ইসলামী দলের বহু লক্ষ নেতা-কর্মী এবং সমর্থকও ছিল। কিন্তু তারা ভারতের এজেন্ডা পূরণে তাদের দেয়া অস্ত্র হাতে তুলে নেয়নি। তারা ভারতেও যায়নি। একই কারণে কোন আলেম এবং কোন পীর সাহেবও সে কবিরা গুনাহতে অংশ নেয়নি। তারা বরং দলে দলে রাজাকার হয়েছে, বহু হাজার রাজাকার প্রাণও দিয়েছে।একাত্তরের রাজাকারের চেতনা ছিল এই কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার চেতনা। মুসলমান যুদ্ধ করে মুসলিম দেশের ভূগোল বাড়াতে, সেটিকে ভাঙ্গতে বা খর্ব করতে নয়। এটি তো মুসলমানদের শত্রুদের কাজ। সে কাজটি একাত্তরে ভারত চেয়েছে।মুজিব ভারতের সে চাওয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কোন মুসলিমই মুসলিম দেশ ভাঙ্গতে বা মুসলিম দেশের ভূগোল বিলীন করতে যুদ্ধ করে না। তাই উসমানিয়া খেলাফত ভেঙ্গে যখন বিশের অধিক আরব রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা হয়,তাতে বিপুল অর্থ, অস্ত্র ও জনশক্তির বিনিয়োগ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। তাদের চর ও দাস হিসাবে খাটে আরব জাতিয়তাবাদীগণ। সে সাথে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, দুবাই, আবুধাবি, ওমানের কিছু ট্রাইবাই নেতা। কোন ঈমানদার ব্যক্তি সে কাজে যোগ দেয়নি। সে দাসদের কারণেই আরব ভূখন্ড আজ ২২ টুকরায় বিভক্ত। আরো বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে ইরাক, সূদান ও ইয়েমেনে। মুসলিম উম্মাহ শক্তিহানির মূল কারণ তো এ বিভক্তি, জনশক্তি বা সম্পদের কমতি নয়।আর বাংলাদেশের মাটিতে সে বিভক্তির নায়ক ছিলেন শেখ মুজিব। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন ভারতবন্ধু, বঙ্গবন্ধু নন।

 

দেশ শাসনের সনদটি দাসত্বের

শেখ হাসিনা ও তার পিতা শেখ মুজিব যে সনদ নিয়ে কাজ করেছেন সেটি মদিনার সনদ নয়, বরং সেটি ছিল ভারতের কাছে দাসত্বের। সে সনদের শর্ত অনুসারেই মুজিব বাংলাদেশের ভূমি বেরুবাড়ি ভারতে হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তুলে দিয়েছেন পদ্মার পানি। অথচ পাকিস্তানে ২৩ বছরে একদিনের জন্যও ভারত বেরুবাড়ির গায়ে হাত দিতে পারিনি। পদ্মার পানিও তুলে নিতে পারিনি। বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে মুজিব বাংলাদেশের অর্থনৈতীক সীমান্ত বিলোপ করেছিলেন। তিনি সীমান্ত বাণিজ্যের নামে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতকে অনুমতি দিয়েছিলেন বাজার বসানোর। ভারতের এ সেবাদাসটি তার প্রভু দেশের কাছে বাংলাদেশের কারেন্সি নোট ছাপানরো দায়িত্ব দেন। আর ভারত সে সুযোগ পেয়ে শত শত কোটির বেশী অতিরীক্ত নোট ছেপে নিজের হাতে রেখে দেয়। সে অর্থদিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘিরে বসানো মুক্ত বাজার থেকে বাংলাদেশের বিদেশী মুদ্রা, কাঁসা-পিতল,পাকিস্তান আমলে বিদেশ থেকে ক্রীত যন্ত্রপাতি ও সঞ্চয়কৃত ধাতব পদার্থ কিনে ভারতে নিয়ে যায়। জাতীয়করণের নামে মুজিব ধ্বংস করেন পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত কলকারখানা। এভাবে ধ্বংস করেন বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ডেকে আনেন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ  -যাতে প্রাণহানি হয় বহু লক্ষ মানুষের। দরিদ্র মানুষ তখন কাপড়ের অভাবে মাছধরা জাল পড়তে বাধ্য হয়।

 

মদিনার সনদের লক্ষ্য ছিল, মুসলমানদের দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি। লক্ষ্য ছিল ইসলামি রাষ্ট্র ও সভ্যতার নির্মাণ। অথচ হাসিনা যাচ্ছেন উল্টো দিকে। তার লক্ষ্য,মুসলমানদের শক্তি হানি। লক্ষ্য, ইসলামের রাষ্ট্র নির্মাণের সবল প্রতিরোধ। সেটি তিনি ঘোষণা দিয়েই করছেন। একটি দেশের শক্তির তিনটি মূল উৎস। এক. শিক্ষাগত শক্তি, দু্ই. সামরিক শক্তি, তিন. অর্থনৈতিক শক্তি। আওয়ামী এ তিনটি খাতেরই দ্রুত বিনাশে হাত দিয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলিকে তছনছও করে দিয়েছে। সে লক্ষ্য নিয়েই হাসিনা ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই সংঘটিত হয় পিলখানা হত্যাকাণ্ড। সেখানে হত্যা করা হয় সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসারকে। আর্মির পাশাপাশি শক্তি হানি করা হয় বিডিআরের। শত শত বিডিআর সদস্য এখনো কারাবন্দি। বন্দী অবস্থায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে জেলখানায়। অপর দিকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিণত করেছে দলীয় ক্যাডার তৈরীর কারখানায়। এবং বছরের বেশীর ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে রাজনৈতীক ক্যাডারদের মাঝে সংঘাতের কারণে। ফলে লেগে আছে দীর্ঘ সেসন জট। এভাবে নাশকতা ডেকে এনেছে দেশের শিক্ষা খাতে।

 

আওয়ামী নাশকতা অর্থনীতিতে

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার মাঝে ভারতের স্বার্থ বিশাল। ভারত চায় ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ টিকে থাকুক স্রেফ ভারতীয় পণ্যের ক্রেতা হিসাবে। অর্থনৈতীক প্রতিদ্বন্দি হিসাবে নয়। বাংলাদেশীদের ক্রয়ক্ষমতা ভারতীদের চেয়ে অনেক বেশী। কারণ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেমন উৎপাদন বেড়েছে,তেমনি বিদেশী অর্থের উপার্জন বেড়েছে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশীর বিদেশ গমনে। ফলে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর পকেটে এখন অনেক পয়সা। এতবড় বাজার ভারতের পশ্চিম বাংলা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, আসাম, উড়িষ্যা,ত্রিপুরা, মেঘালয়ের মত ছয়-সাতটি প্রদেশ মিলেও নাই। এ বাজার ভারত দখলে দখলে নিতে চায়। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের বিপুল অর্থনৈতীক বিনিয়োগ। শেখ মুজিব ও তার অনুসারিদের রাজনীতিতে বেড়ে উঠার মূল কারণ তো ভারতের এ বিনিয়োগ। এক সময় পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে সমগ্র পৃথিবীতে পূর্ব পাকিস্তান প্রথম ছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশী অর্থ উপার্জিত হত এ খাতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্বপাকিস্তানের এবং পরে বাংলাদেশের সে প্রতিদ্বন্দি অবস্থান ভারত মেনে নিতে পারেনি। ভারত চেয়েছিল সে মর্যাদা তা নিজের জন্য। সেজন্যই ভারতের প্রয়োজন দেখা দেয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ আদমজী জুটমিলসহ সকল পাট শিল্পের ধ্বংস। ভারতের স্বার্থে সে কাজটি সমাধা করে দেয় তাদেরই পালিত দাস মুজিব। মুজিব আমলে একদিকে যেমন পাটকলগুলোকে অচল করা হয় তেমনি পাটের গুদাম গুলোতে আগুণ দেয়া হয়। আর অপরদিকে ভারত তার পুরোন পাটকলের বদলে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘিরে গড়ে তোলে বহু পাটকল। তখন বাংলাদেশের সস্তা কাঁচা পাট দেশে মূল্য না পেয়ে ভারতের বাজারে গিয়ে উঠে। ভারত তখন তাড়াতাড়ি পাট শিল্পে বিশ্বে প্রথম হওয়ার হওয়ার মর্যাদা অর্জন করে। আজ বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দী উঠেছে গার্মেন্টস শিল্পে। ভারত সেটিকেও ধ্বংস করতে চায়। আর গার্মেন্টস শিল্পকে আজ ধ্বংস করা হচ্ছে অতি পরিকল্পিত ভাবে। এ শিল্পে নামানো হয়েছে কিছু দুর্বৃত্ত ও ডাকাতদের। যারা নেমেছে দরিদ্র শ্রমিকের রক্তচোষক রূপে। যে শিল্পে রক্তচোষন হয় দরিদ্র শ্রমিকের সে শিল্প কি বেঁচে থাকে? সে শিল্প বরং আল্লাহর আযাব ডেকে আনে। তখন তাতে আগুণ লাগে বা ভবন ধসে পড়ে। সাভারে যা ঘটে গেল তা কি তার ই আলামত নয়।

 

আওয়ামী লীগের ভোটের রাজনীতিতে দেশের দরিদ্র মানুষ পরিণত হয়েছে রাজনীতির কাঁচা মালে। সেটি যেমন মুজিব আমলে তেমনি হাসিনার আমলে। মুজিব সোনার বাংলা প্রতিশ্রুতি দিতে ১৯৭০য়ের নির্বাচনে ভোট নিয়েছিলেন। ওয়াদা দিয়েছিলেন আট আনা সের চাল খাওয়োনোর। অর্থ উপহার দিয়েছিলেন দুর্ভিক্ষ। তেমনি ২০০৮ সালে হাসিনা ওয়াদা দিয়েছিলেন ৮ টাকা সের চাল খাওয়ানোর। এখন খাওয়াচ্ছেন ৪৫ টাকা সের দরে। ওয়াদা দিয়েছিলে বিনা মূল্যে সারের। ওয়াদা দিয়েছেন ঘরে ঘরে চাকুরির। সবই ছিল প্রকান্ড মিথ্যাচার। ২৪ নভেম্বর ২০১২-তে আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডের গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লেগে ১১১ কর্মী পুড়ে মারা যায়। হাসিনা সরকার ওয়াদা দিয়েছিল ক্ষতিপুরণের। কথা ছিল কারণ খুঁজে শাস্তি দেয়ার। কিন্তু সে সব কিছুই হয়নি। স্বজন হারা পরিবারগুলিকে আজ অবধি কোনরূপ ক্ষতিপুরণ দেয়া হয়নি। কারণ, তাজরীনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দেলোয়ার হোসেন একজন সরকার সমর্থক ব্যক্তি।ফলে কারো পক্ষে তার পকেট থেকে স্বজনহারাদের জন্য ক্ষতিপুরণ আদায় করে দেয়াও সম্ভব হয়নি। শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে কথা বলবে এমন কোন শ্রমিক সংগঠনও গড়ে উঠতে দেয়া হয়নি। কয়েক বছর আমিনুল ইসলাম একজন ব্যক্তি গার্মেন্টস ইন্ডাসট্রিতে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। সে অপরাধে তাকে লাশ হতে হয়। পুলিশ ৪ দিন পর তার লাশ উদ্ধার করলেই দায়িত্ব সেরেছে। আজ অবধি তার খুনের কোন বিচার হয়নি। কারো কোন শাস্তিও হয়নি। তাজরীোন আগুন লাগার দুই দিন পরে ২৬ নভেম্বর ২০১২-তে চট্টগ্রামে বহদ্দার পুকুর পাড়ে নির্মীয়মান ফ্লাইওভারের গার্ডার ধ্বসে ১৫ জন নিহত হয়। কিন্তু কেন সে নির্মীয়মান ফ্লাইওভারের গার্ডার ধ্বসে পড়লো তার কোন তদন্ত হয়নি। কারো কোন শাস্তিও হয়নি। কারণ এই ফ্লাইওভার নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছিল প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু-র মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাকটো পারিসা লিমিটেড এবং মীর আক্তার কনসট্রাকশন দুটি ফার্ম যুগ্মভাবে।ফলে কে তাদের গায়ে আঁচড় দিবে? এভাবেই একের পর দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী দুর্বৃত্তগণ।

 

অর্থনীতিতে আওয়ামী নাশকতার আরো কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা দেশের চলমান বিদ্যুৎ সঙ্কট মেটানোর লক্ষ্যে স্থায়ী কোন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ না নিয়ে চালু করেন ব্যায়বহুল কুইক রেন্টাল সিস্টেম। এর ফলে হাজার হাজার কোটি টাকা পকেটে গেছে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ।বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড)র ক্ষতি ২৫,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রাইভেট কুইক রেন্টাল কম্পানি থেকে বেশি দামে বিদ্যুত কিনে তা কম দামে বিক্রি করে বিপিডিবি। রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুত কেনে ১৪ থেকে ১৭ টাকা। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে সাত থেকে আট টাকার মধ্যে। এখানে অর্ধেকই ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ভর্তুকির যে ৯,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে তার ৮০ শতাংশই দিতে হচ্ছে কুইক রেন্টাল থেকে বেশি দামে বিদ্যুত কেনায়।ভর্তুকিার এ অর্থ যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় কর্ণেল ফারুক খান,আজিজ গ্রুপ,গার্মেন্টস রফতানিকারক মোহাম্মদী গ্রুপ,ফার্নিচার বিক্রেতা অটবি গ্রুপ, সালমান রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ ইত্যাদি ন্যায় আওয়ামী রাজনীতির অর্থজোগানদারদের পকেটে। এভাবে শেখ হাসিনা তার পিতার ন্যায় রাজনীতিকে পরিণত করেছেন শুধু দেশ ধ্বংসের হাতিয়ারে নয়,বিপুল অর্থ-উপার্জনের হাতিয়ারেও।

 

নাশকতা শেয়ার বাজারে

যে কোন দেশের শিল্পায়নে অর্থের বিশাল জোগান আসে জনগণের পকেট থেকে। জনগণ তাদের অর্থ ফেলে না রেখে শিল্পকারখানার শেয়ার কিনে বিনিয়োগ করে। পাশ্চাত্যে তো এভাবেই অর্থনৈতীক অগ্রগতি এসেছে। শেয়ার মার্কেটের অর্থ নিয়েই ব্রিটিশ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানী ভারত জয় করেছিল। কিন্তু আওয়ামী নাশকতা  ঘটেছে এ ক্ষেত্রটিতেও। শেখ হাসিনা যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন তখন নভেম্বর ১৯৯৬য়ে শেয়ার মার্কেট প্রচন্ড ধস আসে। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসায় আবার ধস আসে অক্টোবর ২০১১য়ে। শেয়ার বাজারের দ্বিতীয়বারের কেলেঙ্কারিতে দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এতে নিঃস্ব হয়ে যান। শেয়ার বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাটের জন্য যারা দায়ী সরকার তাদের একজনকেও গ্রেফতার করেনি এবং শাস্তিও দেয়নি। অথচ দিশাহারা বিনিয়োগকারীরা যখন মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল করে তখন প্রধানমন্ত্রীর অথনৈতিক উপদেষ্টা ড.মসিউর রহমান বলেন, “ওরা দেশের শত্রু। সমাজের শত্রু। ওদের জন্য মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। তাদের কষ্টে আমার মন কাঁদে না। শেয়ারবাজার ধসে সরকারের মাথাব্যথার কিছু নেই। কারণ শেয়ারবাজারে পুঁজি প্রকৃত বিনিয়োগে যায় না… শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা দেশের অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখে না।”

 

অভয়অরণ্য চোর-ডাকাতদের

প্রতিটি আওয়ামী শাসনামলেই দুর্বৃত্তদের পোয়া বারো হয়। দেশ পরিণত হয় চোর-ডাকাতদের জন্য অভয় অরণ্যে। সেটি যেমন মুজিব আমলে  হয়েছিল, তেমনি হাসিনার আমলেও। ডাকাতদের এখন আর ডাকাত দল গঠনের প্রয়োজন পড়েনা। তারা ডাকাতির জন্য ভূয়া বাণিজ্যিক কোম্পানি গড়ে তোলে। তখন ডাকাতি শুরু করে দেশের অর্থভান্ডারে। সেটি হাজার হাজার কোটি টাকার অংকে। আওয়ামী লীগের আমলে জনগণের অর্থের নির্মম লুটেরা হলো ডেসটিনি নামক একটি কোম্পানি। এ কোম্পানিটি ৩,২৮৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং ও আত্মসাত করে। ডিসটিনির কর্মকর্তা হলেন জেনারেল হারুন। তদন্তে দুদক জেনারেল হারুনের কাছে জানতে চায় তার ব্যাংক একাউন্টে ২০ কোটি টাকা ঢুকলো কিভাবে? হারুনের জবাব,“মাসিক সম্মানী,ডিভিডেন্ড ফান্ড,এলাউন্স,কমিশন বাবদ এই টাকা আমার একাউন্টে ঢুকেছে। এছাড়া কিছু টাকা বাড়ি ভাড়া থেকেও এসেছে।” -(যুগান্তর ৫.১১.২০১২)।জেনারেল হারুন একজন আওয়ামী লীগ নেতা। দুদকের কি সামর্থ আছে এ নেতাকে একদিনের জন্যও জেলে নেয়ার? এতবড় দূর্নীতির পরও তাকে জেলে যেতে হয়নি।

 

ডেসটিনি ছাড়া আরো ত্রিশটির বেশি এমএলএম কোম্পানি অবাধে মানুষকে প্রতারণা করার সুযোগ পায় আওয়ামী সরকার শাসনে। এসব কম্পানির মধ্যে রয়েছে ইউনিপে টু ইউ, সাকসেস লিংক, গ্লোবাল নিউওয়ে, প্রভৃতি। দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েকটি এমএলএম প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে ৪,৯৬৩ কোটি টাকার কিছু বেশি এবং এর মধ্যে ব্যক্তিগত একাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল প্রায় ৪,৬০১ কোটি টাকা। (প্রথম আলো ৯.৯.২০১২)। টাকা বানানোর এরূপ সুযোগ দেখলে কি দুর্বৃত্তরা কি আর বসে থাকে। মরা লাশের গন্ধ পেলে যেমন শকুন ছুটে আসে তেমনি অর্থলুটের সুযোগ দেখলে দেশবিদেশের ডাকাতেরাও ছুটে আসে। বাংলাদেশের সরকার দুর্বৃত্ত চোর-ডাকাতদের জণ্য তো সে সুযোগই সৃষ্টি করেছে। তাই ২০০৫-এ এগিয়ে আসে চায়না থেকে তিয়ানশি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। (আমাদের সময়.কম ৫.১১.২০১২)। এসব চোর ডাকাতদের হাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কুশ্রী অর্থনৈতিক কেলেংকারির ঘটনা ঘটে সোনালী ব্যাংকের শেরাটন হোটেল ব্রাঞ্চে। সেটিও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের যোগসাজসে। বাংকের ঐ শাখা থেকে ৩,৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ বা প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা লুট হয়ে যায়। হলমার্ক একাই নিয়েছে প্রায় ২,৬৬৮ কোটি টাকা। একটি ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চে একটি কম্পানির এই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আর কোথাও ঘটেনি। এটিই ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। (প্রথম আলো ৫.৯.২০১২)। বাংলাদেশে সকল ডাকাত মিলেও গ্রামগঞ্জ থেকে এত অর্থ বাংলাদেশের বিগত ৫০ বছরে লুটতে পারেনি। অথচ সে লুটের সাথে জড়িত প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ।

 

ঈমানের হেফাজত যে পথে

কিন্তু এরূপ সীমাহীন লুটপাঠও আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষনেতাদের কাছে গুরুতর কিছু মনে হয়নি। এক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন,“ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিই। এর মধ্যে মাত্র তিন বা চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এটা কোনো বড় অঙ্কের অর্থ নয়। এ নিয়ে হইচই করারও কিছু নেই। সংবাদ মাধ্যমে এটা নিয়ে অতিরিক্ত প্রচারণা করে দেশের ক্ষতি করছে। এমন ভাব যেন দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ধসে গেছে। এতে আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।” “সোনালী ব্যাংকের এক রূপসী বাংলা শাখায় জালিয়াতি করা অর্থের পরিমাণই তিন হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অন্য কোনো বেসরকারি ব্যাংকে এই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটলে ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যেত। যেমন বন্ধ হয়েছিল ওরিয়েন্টাল ব্যাংক।” -(প্রথম আলো ০৫.০৯.২০১২)।

 

এই অর্থমন্ত্রীই সম্প্রতি দিল্লি সফরে গিয়ে সাভারে ভবন ধসে হাজারের বেশী মানুষের মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন, এটি কোন গুরুতর বিষয় নয়। বলেছেন,এ ভবন ধসে গার্মেন্টস শিল্পের কোন ক্ষতি হবে না। বিকৃত ও অসুস্থ্য বিচারবোধ আর কাকে বলে। চোর-ডাকাত বা ব্যাভিচারিদের ঘৃনা করার সামর্থ চোর-ডাকাত ও ব্যাভিচারিদের থাকে না। কিন্তু দেশের নিরক্ষর সাধারণ মানুষদের তা থাকে। এমনকি শিশুদেরও সে সামর্থ থাকে। কিন্তু সে সামর্থ নাই হাসিনা সরকারের এসব মন্ত্রীদের। নাই খোদ শেখ হাসিনার ও তার দলীয় কর্মীদের। বাংলাদেশের মূল বিপদটি এখানেই। দেশ আজ জিম্মি এসব বিবেকহীন অসুস্থ্য ও দুর্বৃত্ত ব্যক্তিদের হাতে। তারা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে তাতে শুধু দেশের নয়, ইসলাম এবং দেশবাসীর ঈমানের বিরুদ্ধেও নাশকতা বাড়বে। কতটা দ্রুততর সাথে এ আওয়ামী দখলদারির সমাপ্তি ঘটবে,তার উপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ও শান্তি। এবং নির্ভর করছে ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও ঈমানের হেফাজত। দেশের স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধি, দেশবাসীর ঈমানের হেফাজত  এবং তাদের ইহকাল ও আখেরাতের কল্যাণে এ ছাড়া ভিন্ন পথ আছে কি? ১২/০৫/১৩

 




অবিরাম হোক ইসলাম ও দেশ বাঁচানোর জিহাদ

শত্রুর গ্রাসে দেশ

বাংলাদেশ আজ আর স্বাধীন দেশ নয়। দেশ অধিকৃত ইসলামের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু, মানবতার শত্রু এবং চিহ্নিত বিদেশী শত্রুর ভয়ংকর জোগালদারদের হাতে। সাম্রাজ্যবাদী শত্রুদের হাত থেকে বাঙালী মুসলমানদের প্রকৃত স্বাধীনতা মেলে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্টে। সে স্বাধীনতা শুধু ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের হাত থেকেই নয়,নব্য হিন্দুসাম্রাজ্য নির্মাণে দু’পায়ে খাড়া আগ্রাসী হিন্দুদের হাত থেকেও। বাঙালী মুসলমানদের সে স্বাধীনতাকে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদী মহল শুরু থেকেই মেনে নেয়নি। কাশ্মীর,হায়দারাবাদ, গোয়া, মানভাদরের ন্যায় মুসলিম বাংলাকেও তারা ১৯৪৭ সালেই ভারত-ভূক্ত করতে চেয়েছিল। তারা তো চেয়েছিল অখন্ড ভারত। বাঙালী মুসলমানদের স্বাধীনতার সে মহান দিনটিকে ভারতীয় সাম্যাজ্যবাদী মহল আজও নিজেদের জন্য পরাজয়ের দিন মনে করে। ভারত মাতার দেহ খন্ডিত হওয়ার বেদনায় ভারতীয় হিন্দুগণ তো এখনও কাতর। তাদের স্বপ্ন তো সে খন্ডিত ভারতকে আবার একত্রিত করা। ভারতীয় বিদেশ নীতি, সামরিক নীতি ও স্বদেশ নীতির সেটি যে মোদ্দা কথা সেটি কি আজও কোন গোপন বিষয়? তাই ১৯৭১ য়ে পাকিস্তান ভাঙ্গাটি তাদের সে লক্ষ্য পূরণে প্রথম ধাপ মাত্র, শেষ ধাপ নয়। এজন্যই বাঙালী মুসলিমের স্মৃতি থেকে ভারত ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টকে ভূলিয়ে দিতে চায়। তবে সে লক্ষ্যটি শুধু ভারতীয়দের নয়, বাংলাদেশের বুকে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের জোগালদার ইসলামের ঘোরতর শত্রু আওয়ামী বাকশালী পক্ষটিরও। সে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে উভয়ের পক্ষ থেকেও প্রচন্ড ষড়যন্ত্র শুরু হয় ১৯৪৭ সাল থেকেই।বাকশালি মুজিবের আগরতলা ষড়যন্ত্রের মূল পেক্ষপট তো সে ভারতসেবী এ ইসলাম বিরোধী চেতনা। তাই ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের যারা মহান নেতা ছিলেন এবং ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থের প্রতি যাদের প্রবল অঙ্গিকার ছিল তাদের স্মৃতিকে এ ভারতসেবী পক্ষটি নিজেদের রচিত ইতিহাসের বই থেকে বিলুপ্ত করেছে, অথবা ভিলেন রূপে খাড়া করেছে।

ভারতীয় হিন্দুদের প্রতি ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের অনুগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বিশাল। অপর দিকে শোষণ ও নির্যাতনের যাঁতাকলে পড়ে মুসলমানগণ। হিন্দুদের খুশি করতেই আসাম ও পূর্ববঙ্গ নিয়ে গঠিত ১৯০৫ সালের ঢাকা কেন্দ্রীক নতুন প্রদেশকে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার রদ করে দেয়। এটি ছিল স্রেফ কলকাতা কেন্দ্রীক বাঙালী হিন্দুদের কল্যাণে। প্রবল খুশিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কবিতা লেখেন। সে কবিতায় তিনি রাজা পঞ্চম জর্জকে “জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারত-ভাগ্যবিধাতা! জয় হে,জয় হে,জয় হে,জয় জয় জয় জয় হে” বলে বিধাতার আসনে বসান। এই হলো রবীন্দ্রনাথের চেতনার মান। অথচ ভারতের বুকে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন ছিল ছিল দস্যুবৃত্তির শাসন। বরং বহুলাংশে সে শাসন ছিল দস্যুবৃত্তির চেয়েও খারাপ। দস্যুরা সম্পদ লুন্ঠন করে, কিন্তু গৃহস্বামীর  হাত কেটে উপার্জনের সামর্থ কেটে নেয় না। অথচ সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশগণ সেটি করেছিল। বাঙালী মুসলিম তাঁতশিল্পীদের আঙুলকেটে তারা জগতবিখ্যাত মসলিন শিল্পকে ধ্বংস করেছিল। সেটি ছিল ব্রিটিশ বস্ত্র শিল্পকে বাজারে প্রতিদ্বন্দিহীন করার লক্ষ্যে।এমন জালেম সাম্রাজ্যবাদীদের বিধাতার আসনে বসানোর জন্য চেতনার পচনটি গভীর হওয়াটি জরুরী। কিন্তু গরুবাছুর,শাপশকুন বা পুতুলকে যারা ভগবানের আসনে বসাতে পারে তাদের সে মানসিক পচনটি কম? ব্রিটিশগণ আর যাই হোক গরুবাছুর বা শাপশকুন নয়। চেতনায় সে গভীর পচন নিয়ে রবীন্দ্রনাথ যেমন ব্রিটিশ রাজাকে বিধাতার আসনে বসিয়েছেন,তেমনি ভারতীয় কংগ্রেস নেতা মোহনদাস করম চাঁদ গান্ধি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ বাহিনীর জন্য সৈন্য সংগ্রহে নেমেছিলেন। সাম্রাজ্য রক্ষার সে যুদ্ধে ব্রিটিশকে বিজয়ী করতে ৭০ হাজারের বেশী ভারতীয় প্রাণও দিয়েছিল।

বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মাঝে ব্রিটিশ বিরোধী প্রচন্ড ক্ষোভ। সে ক্ষোভকে প্রশমিত করতে ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওয়াদা দেয়। কিন্তু ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পাক -কলকাতাকেন্দ্রীক হিন্দু কায়েমীস্বার্থপরগণ সেটিও চায়নি।পূর্ব বাংলার বুকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে তারা প্রচন্ড আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেমে যায়। উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের বিরুদ্ধে এমন ইতর আন্দোলন মানব ইতিহাসের আর কোথায়ও হয়েছে -সে নজির নেই। অথচ সেটি হয়েছে বাংলার বুকে। আরো বিস্ময়, কলকাতার রাজপথে সে ইতর বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।অথচ সে রবীন্দ্রনাথের গানই আজ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গিত! বিবেকহীনতা আর কাকে বলে? বিবেকহীন এরূপ ব্যক্তিদেরকে সম্মান দিলে সে ভূমিতে কি বিবেকমান মানুষ সৃষ্টি হয়? বরং তাতে যা প্রবল ভাবে প্রতিষ্ঠা পায় তা হলো সত্যকে পরাজিত করা ও সত্যসেবী বিবেকমান মানুষদেব হত্যা করার পেক্ষাপট। এমন এক প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ আজ ইসলামের শত্রুপক্ষের হাতে অধিকৃত।

ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের চেয়েও ভারতের হিন্দুগণ যে অধিক সাম্রাজ্যবাদী ও অধিক মুসলিম-বিরোধী -সে প্রমাণ শুধু ১৯৪৭য়ের পূর্বেই নয়,আজও তারা লাগাতর পেশ করে চলেছে। ফলে ১৯৪৭য়ের পর বিগত ৬০ বছরে ভারতীয় হিন্দুদের হাতে যত মুসলিম নিহত হয়েছে বা যত মুসলিম নারী ধর্ষিতা হয়েছে বা যত মসজিদ ও মাদ্রাসা ধ্বংস হয়েছে তা ব্রিটিশ শাসনের ১৯০ বছরে হয়নি। ভারতে প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের বাস। বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে এত মুসলমান নেই। অথচ ঢাকা, করাচী বা লাহোরের ন্যায় একটি মাত্র শহরে যত মুসলিম ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী,ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ,আলেম, কৃষিবিদ বা হিসাববিজ্ঞানী তা সমগ্র ভারতের মুসলমানদের মাঝে নাই। ভারতীয় মুসলমানদের যে কতটা পরিকল্পিত ভাবে দাবিয়ে রাখা হচ্ছে সেটি প্রমাণে কি এরপরও কোন দলীলের প্রয়োজন পড়ে? অথচ বাংলাদেশের আওয়ামী বাকশালীদের কাছে ভারতের এ মুসলিম বিরোধী নেতারাই হলো পুজণীয় ব্যক্তিত্ব। বাকশালী বুদ্ধিজীবীগণ তো ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান সৃষ্টিকে মুসলমানদের জন্য অনাসৃষ্টি বলতে আজও উদগ্রীব। প্রশ্ন হলো,এমন গোলামী চেতনা নিয়ে কেউ  কি স্বাধীনতা, মানবতা,গণতন্ত্র, ইসলাম ও মুসলমানের বন্ধু হতে পারে?

 

বাঙালীর ব্যর্থতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ক্ষোভ 

খোদ রবীন্দনাথের মনে বাঙালীর মানব সন্তান রূপে বেড়ে উঠা নিয়ে দারুন সংশয় ছিল। তাই বিধাতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি কবিতা লিখেছেন, “হে বিধাতা! সাত কোটি প্রাণিরে রেখেছো বাঙালী করে, মানুষ করোনি।” প্রশ্ন হলো, কবি রবীন্দ্রনাথ নিজেও কি প্রকৃত মানব রূপে বেড়ে উঠতে পেরেছিলেন? সে ব্যর্থতা কি তার নিজেরও কম? সমাজের অতি নিষ্ঠুর চোর-ডাকাতেরাও শিক্ষাবিস্তারের বিরুদ্ধে কখনো মিছিল করে না। কারণ তারাও বুঝে,কারো বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধটি অর্থশূণ্য করা নয়, বরং শিক্ষাশূণ্য করা বা তাকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা। শিক্ষাশূণ্য করার অর্থ তার তার বিবেক বা আত্মাকে হত্যা করা। তাতে অসম্ভব করা হয় মানুষ রূপে বেড়ে উঠার সামর্থ।চোর-ডাকাতেরা অর্থ কেড়ে নিলেও সে বিবেক হত্যার সে অপরাধে হাত বাড়ায় না। অথচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো সে অপরাধে অপরাধি। চেতনার মৃত্যু হলে ব্যক্তি যেমন প্রাণহীন পুতুল,ইতর গরুবাছুর ও বিষাক্ত শাপশকুনকে দেবতার আসনে বসায়,তেমনি ধর্ম ও দেশের ভয়ানক শত্রুকেও পুজনীয় ব্যক্তি রূপে মেনে নেয়। ইসলামের শত্রু ও মিথ্যার প্রচারকগণ তো সেটিই চায়। তখন নমরুদ-ফিরাউনের ন্যায় দুর্বৃত্তনগণও ভগবান রূপে স্বীকৃতি পায়। গণতন্ত্রের দাফনকারি,গণহত্যার নায়ক এবং বিদেশের সেবাদাসও তখন জাতির পিতা, জাতির নেতা বা বন্ধুর খেতাব পায়। রবীন্দ্রনাথের ন্যায় ব্যক্তিও তখন গুরুদেব গণ্য হয়। বাংলাদেশের বড় ব্যর্থতা ও কদর্যতা এ এখানেই। দেশের রাজনীতি, আদালত, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বিভাগ এমন বিবেকশূণ্য মানুষে পরিপূর্ণ! ফলে দেশে প্রবল ভাবে বেড়েছে দুর্বৃত্তি ও মিথ্যাচার। ধর্মকর্ম, নীতিনৈতীকতা ও শিক্ষা-সংস্কৃতিতে বাংলাদেশ দিন দিন দ্রুত পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ তো এটিই। ফলে আজ থেকে শত বছর আগে বাঙালী মুসলমানের যে মান ছিল সেটি আজ কল্পনাও করা যায় না। বরং যেটি সহজ হয়েছে সেটি হলো দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে বার বার প্রথম হওয়া। এবং সহজ হয়েছে ভোটডাকাতি, গণতন্ত্র হত্যা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যা।

শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার শাসন স্বচোখে দেখার পরও ইসলাম, গণতন্ত্র ও মানবতার বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতা ও প্রচন্ড নাশকতা নিয়ে কি সন্দেহ চলে? সে গভীর শত্রুতা কি বাকশালী এ মহলটি আদৌ কোনদিন গোপন রেখেছে? আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহটি কাফেরগণ কখনোই গোপনে করে না, তারা তো সে বিদ্রোহটি ঢাকঢোল পিটিয়ে করে। এরূপ বিদ্রোহের মধ্যেই তো তাদের আনন্দ। শয়তান তো চায়, তার অনুসারিগণ এমন আনন্দের মাঝেই ডুবে থাক। শেখ মুজিবও তেমনি উৎসব ভরে গণতন্ত্র দাফন করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। আল্লাহর শরিয়তের বিরুদ্ধে এ বাকশালীদের আজকের যুদ্ধটিও গোপন বিষয় নয়। কোরআনে বর্নিত পবিত্র শরিয়তী আইনের বিরুদ্ধে তাদের বিষোদগার:এ আইন নাকি মধ্যযুগীয় বর্বরতা! অতীতে মুসলিম ভূমিতে কোন কাফেরও কি আল্লাহর পবিত্র আইনের বিরুদ্ধে এমন বিষোদগারের সাহস দেখিয়েছে? অথচ বাংলাদেশের বুকে মহান আল্লাহতায়ালার পবিত্র বিধানের বিরুদ্ধে এমন বিষ উদগিরণ হচ্ছে আওয়ামী বাকশালীদের পক্ষ থেকে। মুরতাদ হওয়ার জন্য কি এটুকুই যথেষ্ঠ নয়? শুধু ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, মানবতার বিরুদ্ধেও কি তাদের হিংস্র যুদ্ধটি লাগাতর নয়? শুধু মুসলিম রূপে নয়, স্বাধীন মানুষ রূপে বাঁচতে দিতেও তারা রাজি নয়। তাই গণতন্ত্র ও মানবতার বিরুদ্ধে পরিচালিত সে যুদ্ধে শেখ মুজিব ৩০-৪০ হাজার নাগরিককে হত্যা করেছিল। শেখ মুজিবের সে মিশনকে চালু রাখতেই শেখ হাসিনা ময়দানে নামিয়েছে দলীয় ক্যাডারদের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবী, সেনাবাহিনী ও পুলিশ।ফলে সমগ্র বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে শাপলা চত্বরে।

 

শত্রুশক্রির পদতলে দেশ

আওয়ামী বাকশালীগণ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই মহা বিপর্যয় ঘটে। তখন যে শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনতাই হয় তা নয়,হায়েনার হাত পড়ে দেশ ও দেশবাসীর ইজ্জতে। বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের মুখ তখন কালিমালিপ্ত হয়।এবং দুর্ভোগ বাড়ে জনগণের।সেটি যেমন মুজিবের আমলে ঘটেছিল,তেমনি হাসিনার আমলেও।অথচ যে কোন দায়িত্বশীল সরকারের মূল কাজটি তো দেশের মুখ উজ্বল করা ও দেশবাসীর সুখশান্তি বাড়ানো। অথচ আওয়ামী বাকশালীদের সে ভাবনা নাই। আর সেটি থাকার কথাও নয়।কারণ তাদের রাজনীতির মূল এজেন্ডা,ভারতের আগ্রাসী রাজনীতির জোগালদারি। দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষা যেমন নয়,দেশ ও দেশবাসীর ইজ্জত বাঁচানোও নয়।তাই ভারত যখন বাংলাদেশে চুরি-ডাকাতি করে তখন তাদের কাজ হয় সে লুন্ঠনে জোগালের কাজ করা।সেটি সুস্পষ্ট হয়ে যায় একাত্তরেই। ভারতীয় বাহিনীর ডাকাতি শুরু হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানের উপর তাদের দখলদারি প্রতিষ্ঠার পরই। তখন ডাকাতির লক্ষ্যবস্তু ছিল পাকিস্তান আর্মির অব্যবহৃত হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ও অবাঙালীদের মালিকাধীন শিল্পকারখানা ও তাদের গৃহের সহায় সম্পদ। সে ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর চাকুরি হারিয়েছিলেন এবং বন্দী হয়েছিলেন মেজর আব্দুল জলীল। অথচ বাকশালী জোগালেরা সেদিন টু’শব্দটি পর্যন্ত করেনি।বরং তাদের মুখে তখন প্রচন্ড ভারত-বন্দনা।সে বন্দনাটি এখনও অব্যাহত। আর যে ভাবনা থেকে জন্ম নেয় এমন ভারত-বন্দনা তাকেই তারা বলে একাত্তরের চেতনা।বাংলাদেশের ভূমি,নদ-নদী,সীমান্তু,সম্পদ,নারী-পুরুষ,গরুমহিষের উপর ভারতীয়দের পক্ষ থেকে ডাকাতি হলে এ চেতনাধারিরা প্রতিবাদ করে না।

এ জোগালদারদের ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতার মসনদকে টিকে থাকাটি সুনিশ্চিত করে ভারত।সেটি যেমন ১৯৭০, ১৯৭১ ও ২০০৮ সালে যেমন দেখা গেছে,তেমনি সেটি ২০১৪ সালেও  দেখা গেল।বাংলাদেশের বাইরে একমাত্র ভারতই তাদের নির্ভরযোগ্য মিত্র।জোগালদার পালার এ রাজনীতিতে ভারতের বিনিয়োগটি হাজার হাজার কোটি টাকার।আসামের দৈনিক নববার্তা লিখেছে,একমাত্র ২০০৮ সালের নির্বাচনেই ভারতের বিনিয়োগটি ছিল ৮০০ কোটি ভারতীয় রুপির।২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রস্তাবিত বিনিয়োগটি ছিল ১০০০ কোটি রুপির।নির্বাচনের বাইরেও তাদের রয়েছে শত শত কোটির টাকার বিনিয়োগ। তবে এ হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগটি যে ভারতীয়দের নিজস্ব ভান্ডার থেকে আসছে তা নয়। ডাকাত সর্দার কখনই নিজের জমিজমা বিক্রি করে ডাকাত পালে না। সে অর্থটি আসে লুন্ঠিত মালামাল থেকে। একই রূপ কইয়ের তেলে কই ভাজার নীতি ভারতীয়দের।বাকশালী জোগালদারদের সহযোগিতায় ভারত পেয়েছে ১৬ কোটি মানুষের বিশাল বাজার।এর চেয়ে ক্ষুদ্রতর বাজারের উপর দখল নিতে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেশেরা ৫ হাজার মাইল দূর থেকে বহু সাগর ও মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এসেছিল। সে বাজার ধরে রাখতে যুদ্ধ করেছিল এবং সেসব যুদ্ধে জানমালের বিনিয়োগও করেছিল।

ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতিটি আদৌ স্বাধীন দেশ রূপে নয়।তারা ভাবে,দেশটি তাদের নিজস্ব যুদ্ধের কামাই। ভাবে,তারা যুদ্ধ না করলে একাত্তরে বাংলাদেশের জন্মই হতো না।ফলে তাদের যুক্তি,জন্মসূত্রেই ভারতের কাছে বাংলাদেশ দায়বদ্ধ।এখন উচিত আজীবন ভারতের পদসেবা করে বাঁচা। সন্তান যেমন পিতাকে অস্বীকার করতে পারে না,বাংলাদেশও তেমনি পারে না ভারতকে অস্বীকার করতে।এমন ধারণাটি যে শুধু ভারতীয়দের -তা নয়। আওয়ামী বাকশালীদেরও।এমন কি বহু অ-আওয়ামীলীগারদেরও। তাই ভারতের কাছ থেকে ট্রানজিটের ফি নেয়াকে এরা বেয়াদবি মনে করে। কারণ পিতা থেকে তো আর ভাড়া আদায় করা যায় না।ভারত চায়,বাংলাদেশের রাজনীতির উপর দখলদারিটা এমন পদসেবী জোগালদারদের হাতেই চিরকাল থাকুক।

 

ডাকাতির নতুন পর্ব

লাগাতর ডাকাতি করাই ডাকাতদের স্বভাব। একটি বা দুটি ডাকাতি করে তারা ক্ষ্যান্ত দেয় না। নীরবে বসে থাকা তাদের স্বভাবও নয়। আওয়ামী বাকশালীদের হাতে বিগত ৫টি বছর ধরে বহু চুরি-ডাকাতি হয়েছে। দেশীয় ব্যাংক ডিঙ্গিয়ে এ ডাকাতেরা বিশ্বব্যাংকের ভান্ডারে হাত দিয়েছিল। আর তাতে পিছিয়ে গেল পদ্মা সেতুর ন্যায় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প।ভোট ডাকাতির পর্ব সম্প্রতি শেষ হলো।এবার শুরু হতে যাচ্ছে ডাকাতির নতুন পর্ব। সেটি আরো ৫ বছরের জন্য। তাই শুধু পদ্মা সেতু নয়,বহু কিছুই পিছিয়ে যাবে।থেকে যাবে সামনে চলা।সরকারে পক্ষ থেকে এখন বলা হচ্ছে,বিরোধী দলের সাথে আর কোন আলোচনা নয়। এখন ১৮ দলের বিরোধী দলকে আর বিরোধী দল বলতেও রাজী নয়।এখন বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে।শেখ হাসিনা ১৮ দলীয় জোটের নেত্রীকে নসিহত করেছেন,আগামী ৫ বছরের জন্য ধৈয্য ধরতে হবে। অর্থাৎ চুরি-ডাকাতিতে বাকশালীদের নতুন করে আরো ৫টি বছরদিতে হবে। দেশজুড়া এ ডাকাতিতে শেখ হাসিনা যে বিদেশী ডাকাতদেরও ডেকে আনবে সে আলামতটিও প্রকট। ভারত এমন লুন্ঠনে দু’পায়ে খাড়া। যেমনটি বাংলাদেশে ভূমিতে তাদেরকে একাত্তরে দেখা গেছে। তাছাড়া যে দেশ দুর্বৃত্তিতে বিশ্বের ২ শত রাষ্ট্রকে হারিয়ে ৫বার প্রথম হয় সে দেশটি নিজেও যে এমন ডাকাতদের স্বর্গ ভূমি –তাতেও কি সন্দেহ আছে? এমন ডাকাতদের উপস্থিতি যেমন রাজনীতির ময়দানে,তেমনি প্রশাসন, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীতেও।

বাকশালী ডাকাতদের ডাকাতির লক্ষ্যটি স্রেফ গ্রামীন মানুষের অর্থভান্ডার নয়। ডাকাতির টার্গেট শুধু দেশী ব্যাংক,রাজস্ব-ভান্ডার,সরকারি টেন্ডার,সরকারি ভূমি,বিদেশী অনুদানের অর্থও নয়।আধুনিক ডাকাতদের ডাকাতির সবচেয়ে বড় টার্গেটটি হলো জনগণের ভোট।ভোট ডাকাতিতে সফল হলে ডাকাতদের হাতে অধিকৃত হয়ে যায় সমগ্র রাষ্ট্র।তখন রাষ্ট্রীয় সম্পদের উপর ডাকাতি সহজ হয়ে যায়।তখন সরকারি ডাকাত দলের উপর বন্ধ হয়ে যায় পুলিশ বাহিনী ও আদালতের উৎপাত। মঙ্গোলিয়ার ট্রাইবাল ডাকাতগণ চেঙ্গিজ খান ও হালাকু খানের নেতৃত্বে দুর্ধর্ষ ডাকাতদল গড়ে তুলেছিল।দেশের পর দেশ তারা দখল করেছিল।দখল শেষে ব্যাপক লুন্ঠনও করেছিল।সমরখন্দ,বোখারা,বাগদাদ,নেশাপুরের ন্যায় সমৃদ্ধ নগরগুলিকে শুধু তারা লুন্ঠনই করেনি,ধ্বংসও করেছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরাও এদেশে ১৯০ বছর যাবত ডাকাতি করেছে। তাদের ডাকাতি বাংলাদেশে দুইবার দুর্ভিক্ষ ও সে দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ডেকে এনেছে। দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছে মুজিব আমলের ডাকাতিও।বাংলাদেশের এসব ডাকাতগণও এখন আর গ্রাম্য ডাকাতদল গড়ে না। বরং গড়ে রাজনৈতিক ডাকাত দল।ডাকাতিতে তাদের প্রবল আগ্রহটি যেমন মুজিব আমলে প্রমাণিত হয়েছে,তেমনি এরশাদ ও হাসিনার আমলেও।

সন্ত্রাস ও লুন্ঠনের বাইরে ডাকাতদলের কাছে অন্যকোন এজেন্ডা থাকে না। সন্ত্রাস ও দেশলুন্ঠন ছাড়া হাসিনারও কোন বাড়তি এজেন্ডা নাই। নির্বাচনে সকল দল ও সকল জনগণের অংশ্রগহণ বাড়াতে হাসিনা সরকারের এজন্যই কোন আগ্রহ ছিল না। জনগণ যে ভোটদানে অংশ নিল না -তা নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার দলীয় নেতাদের এ জন্যই কোন আফসোস নাই। বরং প্রচন্ড উল্লাস জাল বিজয় নিয়ে। বরং শেখ হাসিনা ৬/১/১৪ তারিখে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন,“জনগণ যতটুকু ভোট দিয়েছে এতেই আমরা সন্তুষ্ট।” সফল ডাকাতি শেষে উল্লাস করাই ডাকাতদের স্বভাব।ডাকাতগণ তখন মনযোগ বাড়ায় ডাকাতিলদ্ধ সম্পদ ধরে রাখার কাজে। তেমনি হাসিনা সরকারেরও এজেন্ডা,ভোট ডাকাতির মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে যে কোন রূপে ধরে রাখা। ফলে কদর বেড়েছে যৌথ বাহিনীর। ক্ষমতায় টিকে থাকাকে বৈধ করতে তামাশার এ নির্বাচনকেও তারা বৈধ বলছে।কথা হলো ডাকাতেরাও কি কোন কালেও তাদের ডাকাতিকে অবৈধ বলে? ফেরত দেয় কি ডাকাতির মাল? তাছাড়া এ ভোট ডাকাতিকে মেনে নিলে দেশের উপর হাসিনার লাগাতর ডাকাতিকেও বৈধতা দিতে হবে। আর সেটি হলে দেশ যে শুধু মুজিবামলের ন্যায় তলাহীন ভিক্ষার ঝুলি হবে তা নয়,পুরা দেশই হয়তো হারিয়ে যাবে।

 

লক্ষ্য ইসলামের নির্মূল

বাংলাদেশ আজ যে ভয়ানক বিপর্যয় -সেটি হঠাৎ আসেনি। বরং সৃষ্ঠি করা হয়েছে একটি গ্রান্ড পরিকল্পনার অংশ রূপে। মূল পরিকল্পনাকারি এখানে বাকশালী জোগালদারেরা নয়, বরং সেটি ভারত। লক্ষ্য,বাংলাদেশের মেরুদন্ড চূর্ণ করা। লক্ষ্য, দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব প্রান্তে মুসলিম শক্তির উত্থাণকে চিরতরে প্রতিহত করা। একাজে একাত্তরের ন্যায় আওয়মী লীগ এবারও একা নয়। একাত্তরে পাকিস্তান ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু ১৭টি কোটি বাঙালী মুসলমানের মাঝে জাগরণের সে সুপ্তশক্তি এখনও রয়ে গেছে। এতেই ইসলামের শত্রু শক্তির মাঝে প্রচন্ড দুর্ভাবনা। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার বুকে বাঙালী মুসলমানরাই যে সবচেয়ে বৃহৎ জনশক্তি সেটি ইসলামের শত্রুপক্ষ ভূলে যায় কি করে? এ শক্তিই তো ১৯৪৭সালে পাকিস্তানের সৃষ্টিকে অনিবার্য করেছিল। বীজ থাকলে তো চারাই গজাবেই। পাকিস্তান ভেঙ্গে গেলেও ইসলামের বীজ তো রয়ে গেছে। তাই তারা এবার বাংলার বুক থেকে সে বীজ নির্মূলে হাত দিয়েছে। তাদের প্রচন্ড ভয়, সে বীজ থেকে না জানি ভারতের পূর্ব প্রান্তে আরেক পাকিস্তানের জন্ম হয়।তাই গুরুত্ব পেয়েছে তাফসির মহফিল বন্ধ ও  জিহাদ বিষয়ক বই বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আলেমদের ফাঁসিতে ঝুলানোর কাজ। তাই সে প্রকল্পের অংশ রূপেই টিভি, পত্র-পত্রিকা, ব্লগ, ফেসবুক যোগে লাগাতর হামলা হচ্ছে আল্লাহতায়ালা, তার রাসূল পাক (সাঃ) ও ইসলামের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ আমলেও ইসলামের বিরুদ্ধে এতবড় ষড়যন্ত্র হয়নি।

নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি হলে তার পরিণতি যে কি হয় -সেটি কি হাসিনা জানতো না? শুধু হাসিনা নয়, তার প্রভু ভারতও সেটি জানতো। কিন্তু তাদের এজেন্ডা তো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে একটি মহাবিপর্যয় উপহার দেয়া। গ্রামবাসীর ঘরে আগুন লাগাতে ডাকাতদের মনে দুঃখ জাগে না। ডাকাতদের হত্যায় যে গ্রামবাসী ধেয়ে আসে তাদের ঘরবাড়ির প্রতি ডাকাতদের দরদ থাকার কথা নয়। তাদের ঘরে আগুণ লাগাতে ডাকাতেরা বরং আনন্দিত হয়। শেখ হাসিনার অজানা নয় যে, সমগ্র বাংলাদেশ আজ  তার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে উত্তাল। সে নিজে দেখেছে তার স্বৈরাচারি পিতা ও তার পরিবারের প্রতি দেশবাসীর আচরণ। দেখেছে স্বৈরাচারি শাসনের নির্মূল নিয়ে সে সময় দেশবাসীর উল্লাস। এমন কি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক উকিলও মুজিবের মৃত্যুতে বলেছিল “ফিরাউনের পতন হয়েছে।” ফলে দেশ ও দেশবাসীর জানমাল, শিল্প, বানিজ্য,অর্থনীতি ও শিক্ষা নিয়ে শেখ হাসিনার দরদ থাকবে এবং ধ্বংসের হাত থেকে সেগুলি বাঁচাতে তার সরকার এগিয়ে আসবে সেটি কি আশা করা যায়? নিজ দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও কি তার ভাবনা আছে?  ফলে দেশের বর্তমান সংকটের চেয়েও জটিল সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান বিশ্বের অন্য কোন দেশে সম্ভব হলেও বাংলাদেশে সেটি যে অসম্ভব তা নিয়ে কি কোন সন্দেহ আছে? শেখ হাসিনা চাইলেও ভারত সেটি হতে দিবে না। সেরূপ একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধান ভারত একাত্তরেও হতে দেয়নি। ২০১৩ বা ২০১৪ সালেও নয়। কারণ সেটি হলে বাংলাদেশের মেরুদন্ড ভাঙ্গার কাজটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাতে অপূর্ণ থেকে যাবে ভারতের ইসলাম-বিনাশী এজেন্ডা। বাংলাদেশের চলমান সংকট নিয়ে ভারত তাই আনন্দে ডুগডুগি বাজাচ্ছে।একাত্তরের পর ভারত ছিনিয়ে নিয়েছিল পাট ও  চায়ের বাজার। ছিনিয়ে নিয়েছিল বেরুবাড়ি এবং পদ্মা ও তিস্তার পানি। ছিনিয়ে নিয়েছিল হাজার হাজার কোটি টাকার পাকিস্তানী অস্ত্র। এবার ছিনিয়ে নিবে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস ও চিংড়ি মাছের বাজার।ছিনিয়ে নিবে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি। পুরাপুরি দখলে নিবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার। সে সাথে ছিনিয়ে নিবে ইসলামের মৌল চেতনাও। ভারত বাংলাদেশকে বানাতে চায় আরেকটি কাশ্মীর। আরেকটি সিকিম। কুমিরের কাজ তো একের পর এক শিকার ধরা। শিকার ধরার সে রাজনীতিই হলো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ভারতের বিদেশ নীতি। ভারত ইতিমধ্যেই কাশ্মীর,জুনাগড়,মানভাদর, হায়দারাবাদ,সিকিম পেটে পুরেছে। এখন চায় নতুন শিকার। সে নতুন শিকারটি  যে বাংলাদেশ -তা নিয়ে কি আদৌ কোন সন্দেহ আছে?

 

লাগাতর হোক জিহাদ

এমুহৃর্তে জনগণের দায়ভার বিশাল। ইসলামের শত্রুপক্ষটি সব সময়ই প্রতিবেশী ভারতে জামাই আদর পাবে। যেমনটি একাত্তরে পেয়েছিল। সে আদর হাসিনা ও তার পরিবার এখনও পায়। কিন্তু বাঙালী মুসলমানদের দেশতো মাত্র এক খানই। তাদের পালাবার স্থান নাই। আর শত্রুর হামলার মুখে পৃষ্ঠ প্রদর্শণ করা বা পালানো তো কবিরা গুনাহ। সে কবিরা গুনাহ তো জাহান্নামে নেয়। বাংলার প্রতিটি মুসলমানের উপর মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বড় আমানত হলো এই বঙ্গভূমি। এ ভূমিতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা তো নিয়োগপ্রাপ্ত খলিফা। মুসলমানের ধর্ম তো অর্পিত আমানতের খেয়ানত নয়। সে কাজ তো মুনাফিকের। মুসলমানের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ভূমিতে আল্লাহর দ্বীনের পূর্ণ বিজয়। কোন দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলিম অথচ সে দেশে শরিয়ত থাকবে না সেটি কি ভাবা যায়? সাহাবায়ে কেরামদের জীবনে একটি দিনও কি শরিয়তের আইনের প্রতিষ্ঠা ছাড়া অতিবাহিত হয়েছে? একাজে মুসলমান কি কখনোই আপোষ করে? তবে সে লক্ষ্যপূরণে প্রাথমিক দায়িত্ব হলো,অধিকৃত ভূমির উপর থেকে দুর্বৃত্তদের দখলদারি নির্মূল। মুসলিম ভূমিতে ইসলামের শত্রু পক্ষের বিজয় মেনে নিলে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষে থেকে অর্পিত আমানতের খেয়ানত হয়।আর আমানতের খেয়ানত যা অনিবার্য করে তা তো মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিশ্রুত আযাব। সে খেয়ানতের কারণেই বনী ইসরাইলের উপর প্রচন্ড আযাব এসেছিল। তাই মুসলিম ভূমি যেখানেই ইসলামের শত্রুপক্ষের হাতে অধিকৃত,জিহাদ সেখানে অনিবার্য হয়ে উঠে। এ জিহাদে কোন কাজা নাই। তাই যে অধিকৃত মুসলিম দেশে জিহাদ নেই সেদেশের মুসলমানগণ যে ইবাদতে ব্যর্থ হচ্ছে তা নিয়ে কি সন্দেহ থাকে? এমন ব্যর্থতা কি বাংলাদেশের মুসলমানদের কম?

শত্রুশক্তির হাত থেকে দেশরক্ষার দায়িত্বটি প্রতিটি নাগরিকের। এ দায়িত্ব স্রেফ কিছু ইসলামি সংগঠনের নেতাকর্মীর নয়।এ দায়িত্ব সবার। বাংলাদেশ আমাদেরকে কি দিয়েছে সেটি বড় কথা নয়।আমরা এদেশকে শত্রুশক্তির হাত থেকে বাঁচাতে ও আল্লাহর শরিয়ত প্রতিষ্ঠার কাজে কি করেছি সেটিই মূল। মহান আল্লাহর কাছে তা নিয়েই বিচার হবে।ইসলামের শত্রুপক্ষ আজ একতাবদ্ধ। ইসলামের নির্মূলে তাদের এজেন্ডা ও অঙ্গিকার সুস্পষ্ট। তাদের প্রস্তুতিও বিশাল। একতাবদ্ধ হওয়াটি তাদের কাছে রাজনীতির  প্রধান কৌশল। কিন্তু মুসলমানের কাছে সেটি ফরজ ইবাদত। এ ফরজ পালিত না হলে কঠিন গুনাহ হয়। তাদের এ লড়াই স্রেফ ক্ষমতা দখলের রাজনীতি নয়, বরং পবিত্র জিহাদ।

আওয়ামী বাকশালীরা যে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা রুখতে চায় তা নিয়ে কি কারো কোনরূপ সন্দেহ আছে? ফলে তারা যে ইসলামের শত্রুপক্ষ তা নিয়েও কি সামান্যতম সন্দেহ থাকে? আর এমন শত্রুশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তো শতকরা শতভাগ জিহাদ।শরিয়তের এমন আত্মস্বীকৃত শত্রুদের মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক রূপে একদিনের জন্য মেনে নেয়া ও তাদের শাসনকে দৃর্ঘায়ীত করতে রাজস্ব দেয়া তো কবীরা গুনাহ। ইসলামের এ মৌলিক কথা বুঝতে কি বিরাট আলেম হওয়ার প্রয়োজন পড়ে? মুসলিম ভূমি ইসলামের শত্রুপক্ষের হাতে এরূপ অধিকৃত হওয়ার পরও যদি জিহাদ ফরজ না হয় তবে জিহাদ আর কবে ফরজ হবে? জিহাদের হুকুম কি তবে কোরআনের পৃষ্ঠাতে বন্দী থাকবে? আল্লাহর পথে জিহাদ মু’মিনের জীবনে দুটি পরিণতি দেয়। এক, বিজয়। দু্‌ই, শাহাদত। এছাড়া তৃতীয় কোন সম্ভাবনা আছে কি? আর এ দুটি পরিণতির কোনটি মু’মিনের কাছে অপছন্দের হতে পারে? যারা জিহাদ বিমুখ তাদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহতায়ালার হুশিয়ারিঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কি হলো যে যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয় তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে ভূতলে ঝুঁকে পড়? তোমরা কি আখিরাতের বদলে পার্থিব জীবনে পরিতুষ্ট? আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগের উপকরণ তো অকিঞ্চিৎকর।” –(সুরা তাওবা আয়াত ৩৮)।

শাহদত দেয় মু’মিনে জীবনে সবচেয়ে বড় বিজয়। দেয় মৃত্যুহীন জীবন। দেয় কবরের আযাব ও রোয হাশরের বিচার থেকে মুক্তি। দেয় সরাসরি জান্নাতলাভ। মুসলমানগণ যখন একতাবদ্ধ হয়ে জিহাদে নামে তখন সে ময়দানে তারা একাকী থাকে না। তাদের সাথে থাকেন মহাশক্তিমান মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর অপরাজেয় ফেরশতা বাহিনী। বিশ্বের কোন শক্তির কি সামর্থ আছে সে শক্তিকে পরাজিত করার? ফলে বিজয় তখন অনিবার্য হয়ে উঠে। মুসলমানগণ যে আজ দেশে দেশে পরাজিত তার কারণ, সে জিহাদে তারা নিজেদের জানমালের বিনিয়োগ বাড়ায়নি। মসজিদে নামাযীদের ভিড় বাড়লেও জিহাদের ময়দান ফাঁকা। অথচ নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের আমলে ঘরবাড়ি ছেড়ে শত শত মাইল দূরের জিহাদের ময়দানে হাজির হতেন। আর আজ জিহাদের ময়দান ঘরের সামনে এসে হাজির হলেও তাতে লোকসমাগম নাই। অথচ মু’মিনের ঈমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হয় জিহাদের ময়দানে, জায়নামাজে নয়।পবিত্র কোরআনে মহান  আল্লাহতায়ালা সে চরম ঘোষণাটি দিয়েছেন এভাবে, “তোমরা কি মনে করে নিয়েছো যে তোমরা (এমনিতেই) জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ তোমাদের কে জিহাদ করেছে আর কে ধৈর্য ধরেছে সেটি এখনো প্রকাশ করেননি?” –সুরা আল ইমরান আয়াত ১৪২)।

 

জিহাদঃ এক অনিবার্য পরীক্ষা

চাকুরি জীবনের যে কোন বিশাল প্রমোশনের জন্য অনিবার্য হয় পরীক্ষায় পাশ করা। আর মানবজীবনের সবচেয়ে বড় প্রমোশন তো হলো জান্নাতলাভ। সে বিশাল প্রমোশন কি মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত পরীক্ষাটিতে কৃতকার্য হওয়া ছাড়া সম্ভব? আর সে পরীক্ষাটি যে জিহাদের ময়দানে হয় সেটিও কি কোন গোপন? কিন্তু পরীক্ষার সে ময়দানে আজকের মুসলমানদের উপস্থিতি কই? সে পরীক্ষার ময়দানে হাজির হননি এমন কোন সাহাবীকে কি ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে? তাঁরা শুধু হাজিরই হননি, শতকরা ৭০ ভাগের বেশী সাহাবী তো শহীদ হয়ে গেছেন। অথচ আজকের মুসলমানদের শতকরা ৭০ জন দূরে থাক, একজনও কি শাহাদতের মর্যাদা পাচ্ছে? সেটি হলে বাংলাদেশের যে থানায় দুই লাখ মানুষের বববাস সে থানায় ২ হাজার মানুষ শহীদের মর্যাদা পেত। দেশের প্রতি জেলায় এমন জিহাদ শুরু হলে নির্মূল হতো আল্লাহর তাবত শত্রুগণ এবং প্রতিষ্ঠা পেত শরিয়তি বিধান। ১৩০ কোটি মুসলমান তখন বিশ্বশক্তি রূপে প্রতিষ্ঠা পেত।

তাই মুসলমানের দায়িত্ব স্রেফ নামায-রোযা, হজ-যাকাত পালন নয়,বরং জিহাদের কোরআনী হুকুম পালনে আপোষহীন হওয়া। নইলে চলমান লড়াইটি নিছক রাজনীতির সংঘাতই থেকে যাবে, সেটি পবিত্র জিহাদে পরিণত হবে না। রাজনীতির লড়াইয়ে ক্ষমতার রদবদল হয়, কিন্তু তাতে আল্লাহর দ্বীনের বিজয় আসে না।সরকারের পতন হলেও তাতে শরিয়তেরও প্রতিষ্ঠা ঘটে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতে বহু রক্ত ঝরেছে। বহুবার সরকারেরও পতন ঘটেছে। কিন্তু তাতে ইসলামের বিজয় আসেনি। সেটির কারণ, রাজনীতির লড়াই স্রেফ ক্ষমতা দখলের হিংস্র যুদ্ধ রূপেই থেকে গেছে। রাজনীতির সে যুদ্ধগুলো জিহাদে রূপ নেয়নি। ফলে তাতে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সাহায্যও জুটেনি। ২০১৪সালের ৫ই জানুয়ারীতে বাংলাদেশে তো শুধু ভোট ডাকাতি হয়েছে। কিন্তু ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও দেশ বাঁচানোর এ পবিত্র জিহাদে আত্মনিয়োগ না বাড়ালে আগামীতে সমগ্র দেশই ডাকাতি হয়ে যাবে। তাতে ইসলাম ধ্বংসের কাজ আরো ব্যাপকতর হবে। তখন ঈমান নিয়ে বাঁচা ও পূর্ণ ইসলাম পালনই বাংলাদেশে অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাছাড়া মহান আল্লাহতায়ালার কাছে জিহাদবিমুখ ব্যর্থ বান্দা রূপে ভয়াবহ আযাব বাড়বে আখেরাতেও। ১১/০১/২০১৫

                        




The Fascist Occupation & the Tragedies in the Muslim World

The foreign fascists & the crime

Literally, fascism is an autocratic system of ruling by possessing all political power in one hand and by brutal annihilation of all forms of opposition and criticism. It is an extreme form totalitarianism; it makes shameless mockery of election, judiciary and prosecution. What robbers and thieves commit in darkness, the fascists do it daylight. It entails strict regimentation of all political, industrial, judicial and educational policies of the country with aggressive nationalist or racist attitude. If judged on such parameters, all the colonial rule of the European imperialists would perfectly fit into a frame of extreme fascism. Whenever and wherever they occupy a country, they immediately turn to worst fascists. Such occupation thus brings worst tragedies for the people in occupied countries. In fact, fascism is taken as a political tool to sustain the occupation. They occupy almost every things. All crucial sectors of the country stay under their full control. The citizens of the occupied countries turn mere political slave. They are given no political space or role to decide the fate of their own life and their own country. They are not given the right to practise even their own Qur’anic law. The US did the same after the occupation of Afghanistan and Iraq. This is indeed the consequence of every occupation. So, in Islam, it is the most hateful act to embrace it.

One can easily see the ugliest form of fascism in the British occupation of Bengal. They occupied the country for economic exploitation in every possible way; no higher human conscience worked here. So, they could chop off the fingers of the native muslin weavers without any remorse. They deemed it as an economic necessity to secure monopoly of the British clothes. For the same reason, they didn’t feel any moral guilt to force the poor cultivators of Bengal to grow indigo plant, instead of rice, to feed the demand of their own domestic and international markets. Due to such moral death, these fascist imperialists didn’t feel any remorse either for the great Bengal famine of 1769-73 that killed almost one-third of the population. The famine was caused by the mindless colonial exploitation and the sheer neglect of food delivery. Before the British occupation, the fertile land of Bengal never had such famine in her entire history, rather had remarkable affluence –as recorded by the famous traveller Ibn-e-Battuta in his diary. The colonialist didn’t face any moral remorse either when they ethnically cleansed millions of Red Indians in America and millions of the Aborigines in Australia. Like sending people to gas chambers, the extermination of people by traditional ways of man-slaughtering or by politically engineered famine also remain the favoured options of the fascists. With such lowest low of the morality, the US could drop nuclear bombs too. How such fascists can claim any moral edge over the Nazi fascists?     

 

The native fascists

With the end of colonial occupation, the rule of the foreign fascists ended formally in the Muslim World. But a new era of occupation started with the home-grown fascists. Bangladesh, Egypt and Uzbekistan are indeed the perfect prototype to display the ugliest calamity of such occupation. They possess almost all the traits of the colonial fascists. They, too, are the worst enemy of Islam. Like the colonial era, the people of these occupied countries still stand deprived of basic human, political and religious rights. Islamic education, culture and sharia are given no space; all spaces in politics, judiciary, education and administration are grabbed by these fascists. In all these occupied countries, the opposition parties are not allowed to hold any public meeting. The free press is gagged. They elect themselves as the ruler, and raise courts to convict their political opponents. The political process has been restrained only to chant chorus in support of the rulers. These fascists fully understand that the real constituency of their power is not the people, but the foreign powers in Washington, Moscow, Delhi, France or other cities. That is why, Shaikh Hasina of Bangladesh, Abdul Fatah Sisi of Egypt, Islam Karimov of Uzbekistan and other fascist occupiers didn’t bother about the public anger. They stay more focused to fulfil the agenda of their foreign master. They understand, if the foreign life-support is withdrawn, they will instantly meet their political death like Shah of Iran or Mubarak of Egypt. Hence, their compliance to the foreign masters is hundred per cent. As a result, the Muslim World is impregnated with a new set of slave dynasty. Due to such slave rulers, India does not face any difficulty to get full length corridors or business deals in Bangladesh. They can even install the spy camp inside the cantonment. Nor does the USA face any difficulty in setting up military bases or recruiting foot soldiers for her war against Islam from the Muslim countries. These are indeed the ugliest calamities of occupation.

 

The brutal fascism: the case of Bangladesh

In Bangladesh, the current Prime Minister of Bangladesh grabbed power in 2013 without a proper election. Out of 300 seats of the parliaments, 152 MP got elected without a single ballot paper being casted in any ballot box. In the whole election process, even 5% voters didn’t attend the polling booth to cast their vote. But this time, on 30 December, 2018, Hasina touched the lowest low of immorality. She made a history in annals of election; the ballot boxes were filled with ballots in the night prior to the polling day. So, the people didn’t need to cast any votes; the voters were ask to return home. The job was done by the party hooligans and the subservient polling officers. In a constituency of Gopalgonj district, Shaikh Hasina got 229, 531 votes and the main opposition party candidate Lt. Col (retired) Faruk Khan got only 123 votes. It tells loudly a lot about the nonsensical farce of the so-called election. But still Mrs Hasina does not feel any shame to claim as the elected the Prime Minister. Under her rule, the judiciary, the prosecution and the law enforcing agencies look equally nonsensical. They stand ever ready to hang anybody if Shaikh Hasina wishes his elimination. Scores of opposition leaders have already been eliminated by these subservient people. It is significant to note that the Prime Minister India and the President of China didn’t show any morality either; they were prompt to congratulate such a proven ruthless robber of public votes.

Shaikh Hasina’s government is the largest terrorist outfit in the country to terrorise the people. The police, the army and the border guards are being used to kills and suppress the opposition parties and their members. For example, on 5th May, 2013, hundreds of protesters of Hefazat-e-Islam  -a religious conservative party, were killed or wounded on the streets of Dhaka. The dead bodies were stolen from the scene to hide the intensity of crime. Hundreds of the opposition activists are being kidnapped by the police and the security personnel in plain clothes; and they never return them back. Now Bangladesh stands more occupied then Kashmir. Although claims be secular, but the country has been converted a perfect satanic state. A 100% domestic court has been given a label of international criminal court to convict and hang the potential political opponents. He turned the judiciary a servile institution to serve only the ruling clique. Like the colonial era, the common people have a given a role only to be silent bystanders.

 

The fascists in the Muslim World and the patrons

In Egypt, the Army has become the most brutal fascist outfit. General Abul Fatah Sisi –the Army chief grabbed power only by military force by removing Dr Morsi -the firstly elected President in Egypt’s history. He killed thousands people to secure the power. In Uzbekistan, another fascist Islam Karimov rule the country with iron fist since the country’s independence from Soviet Union since his recent death. The big powers of the world always run business as usual with this criminals. Their only concern is to prevent any possible Islamic resurgence –the only perceived threat to their dominance. Since these home-grown fascists are pursuing the same political objective enjoy perfect ideological and political match with the imperialist warlords in Washington, Moscow, Delhi or Paris. Such policy of the international fascists gets overtly displayed in Syria. Bashar al Assad has proved to be one of the most brutal fascist in human history. He has killed nearly 4 hundred thousand Syrians and caused more destruction to the country’s largest city Aleppo than it was done to Hiroshima and Nagasaki. He has driven out 8 million people from their home. But removing him from power is no issue for the Americans, the Russians and the Europeans. The bombers of these countries are cautiously avoiding his palace. Their only agenda is to fight the Islamists there; hence perfectly match with the agenda of the terrorist gangs of Bashar al Assad. Such international nexus of the anti-Islamic fascists not only creates havoc in the Middle East, but also appears as the greatest threat against peace of the whole mankind. Once there was only Adolf Hitler in the world and the terrorism of that fascist was more or less contained in the smallest continent of the world, but now so many Hitlers are working together to terrorize the whole world. Such a horrendous calamity never happened in the whole human history.      

 




The Imperialists’ War Coalition & the Calamity of Moral Death

The coalition in crime            

The Muslims now face one of the most critical crisis in the history. Deaths and destruction abound everywhere. Alavi Shia regime of President Bashar al Assad in Syria and the pro-Iran Shia regime in Iraq are relentlessly engaged in killing the Sunni Muslims and destruction of Islam’s historic heart land. They have forged coalition with the known external enemies of Islam. The majority Sunni Muslims of Iran had the same fate of persecution and genocidal cleansing with Shia occupation of that country by the Safavi Shia rulers in the early sixteenth century. They were give two option: either to convert to Shia belief or die. The predominant Sunni Iran was then forcefully converted to a Shia Iran; and a wall of complete separation was built against Muslim World on a sectarian line. Since then, Shia Iran worked as a close partner of the European imperialists to restrict or truncate the Osmania khilafa –the citadel of Muslim power in those days. Today, Iran has returned back exactly to the same old role. They trust and make partnership with the non-Muslims than the Muslims. Imam Khomeini –the father of Iranian revolution in 1979, used to call the US as great Shaitan, but now Iran has embraced the US to foil any attempt of emerging the Muslims as a great civilizational power.  

Razing cities after cities to the ground, killing people and evicting them as destitute into a foreign land is not the job of a country’s government; these are the agenda of the enemy. Israel is doing that to the Palestinians since its creation. The US did the same in Iraq and Afghanistan. But both the Syrian and Iraqi Shia regimes are doing the same to the native Muslims. Such acts could only please the enemy of Islam and invite more military and monetary help to cause more death and destruction. In fact, to add more brutality to the destruction, the old and established enemies of Islam have already joined the Shia mission. The US and its partners are providing the high tech destructive weapons to Iraq to do the job with more ferocity. The US usually gives such weapons of mass destruction to Israel to keep its brutal occupation in Palestine. But now the US has many Israel in the area to do its job and crush any possible Islamic resurgence. The Syrian regime too, receives similar weapons from its Russia to do the same job. Along with the Americans, thousands of Iranian revolutionary guard fighters and Iranian Army personnel have joined the war to cleanse Iraq of its Sunni population. In Syria, along with the Russians, thousands of Shia fighters from Lebanon, Afghanistan and Pakistan have joined the Syrian regime in its war against the Sunni majority. As a result, the whole Muslim heartland is quickly becoming a complete war zone. The flame of war that was ignited by the US and its coalition partners in Afghanistan and Iraq, now receives explosive fuel.  

Neither the US, nor Russia rely on the local clients to promote their agenda. Hence they have themselves entered into the war. Thus they show, it is their own war. The Russian Air Forces now run an intense bombing campaign in Syria. The US Air Force is doing the same in Iraq. Most parts of historic cities like Aleppo, Homes, Hama, Idlib, Zabadani, Daraya, Kobani in Syria and Ramadi, Tikrit, Hadisa and Fallujah in Iraq are already reduced to heaps of rubbles. During the US occupation, the cities like Fallujah, Tikrit and Mosul –the citadel of resistance against the occupation, were destroyed several times; now face the combined assault of the US, Iraq and Iran. Thousands of the US Army personnel are now fighting alongside the Iraqi and the Kurdish fighters. Likewise, hundreds of Russians are fighting alongside the Syrian regime. The Sunni men, women and children are being bombed only to force them to a full surrender. In both Syria and Iraq, since there is little sign of collapse of the resistance, killings and destructions are not going to end either.

 

The crime of silence

In the corridor of crimes, keeping silence has an immoral implication. Such silence is itself a crime of appeasing a criminal. Those who can stop crime, their silence and inaction is a major sin in Islam. “Enjoining the right and forbidding the wrong” is the Qur’anic assignment for every believing man and women. Hence, silence is incompatible with the Islamic way of life. It may be pursued by morally sick people not to distract, disturb or resist the criminals from wrongdoings. But such silence indeed prevails all over the world. Even in World Wars, none of the warring countries was so heavily bombed and had half of the population evicted from homes. The UN could stop the war; it is its official duty to do so. But the member states couldn’t pass even a single resolution to condemn such genocidal war crimes. No amount of barrel bombs, chemical bombs, cluster bombs could break the passionate inaction of this world body. So, the ugly war crime continues. The UN thus becomes accomplice to crime.

There is a discernible reason for such failures of the UN. The UN’s governing body –the Security Council, stands fully occupied by a club of established war criminals. It is a post-World War II creation; hence work of a psyche loaded with pathological greed for global hegemony. The warring parties of two World Wars showed their teeth of barbarity by killing more than 75 million people. The US –the most powerful member of the club set a new high of cruelty by dropping nuclear bombs on Hiroshima and Nagasaki that instantly killed about 140, 000 people. The organisation came into being only to sustain the newly gained supremacy of the winning parties in the war. As members of the same club, the US, the Soviet Union, the UK, France and China secured the veto-owning permanent status in the Security Council; the majority of the world population were thus kept out of this most powerful UN body. There is proof that the UN aims at freeing the world from further wars. Instead, the veto-owning countries proved to be the key promoter of war across world. How the UN can think of stopping any war while most of the bombs and missiles are still being are made and dropped by the five permanent members of the Security Council. The UN stands hostage to their domineering interest of the big powers; as a result, it can’t condemn even the most grotesque war crimes of the client state –as happened repeatedly in the case of Israel. Such strangulation by the warmongering stakeholders only could lead to its moral death. In fact, the moral death of the UN is so much pronounced that it couldn’t find any ethical problem in giving recognition to illegal creation of Israel on the occupied land of the local Arabs. Nor did it find any immorality to give prompt legality to the US occupation of Afghanistan and Iraq. Now, instead of stopping or condemning the massive death and destruction in Iraq and Syria, the UN ratifies such barbarity of the US and Russia and their partners. Now, not only people of Iraq and Syria, but also the whole world stands hostage to the brutal immorality of the killer big powers.

Even after colossal deaths and destruction in two World Wars, the warring countries like US, the UK, Russia, France and China didn’t exhaust their appetite to commit more crimes in their own backyard or in their occupied lands. The post-World War genocides in Palestine, Vietnam, Afghanistan, Iraq, Chechnya, Xinxiang, Algeria and many other countries give convincing testimony to that. While the UN itself stands captive of their veto power; how can such an organisation help others get free from their captivity? So the UN couldn’t do anything for the people under occupation in Palestine, Kashmir, Arakan (Rakhayan state in Myanmar), Chechnya, Xinxiang and many other parts of the world. In fact, the UN had its moral death on the first day of its birth; and due to the corruptive immorality of the stakeholders, the moral death has turned global. As a result, the coalition’s brutality in Iraq and Syria gets support from almost all western countries. Due to the same moral death, they didn’t bother to support the illegal creation of Israeli on the occupied land of Palestine and the massive destruction and massacre in Gaza. The US’s perversion is so huge that its army personnel embraced the Kurdish YPG terrorists in Syria as the partners of war, though they are known as terrorist even by the US administration for years. To demonstrate their comradeship with YPG, the US army personnel also wore their Marxist-Leninist emblem. Due to their anti-Islamic obsession, they are ready to embrace any anti-Islamic thugs like the killer Abdul Fattah Sisi of Egypt, YPG terrorists and Bashar al-Assad of Syria.    

 

The culture of immorality

Immorality or moral death is no less epidemic than the most epidemic form of physical illnesses. Moral death of Pharaoh thus affected the Egyptian too. Hence, they become a party to brutal crimes against the Bani Israel. Hitler’s moral death thus affected the Germans too, they became feeders of the gas chambers against the Jews. Likewise, in modern days, the moral death is not confined with the imperialist circles; the leaders of the Muslim countries are also infected with the same disease. Hence they stand silent –as if they have no role to stop the ongoing barbarity.    

 In all ages, it has been the culture of evil forces to rejoice deaths and destruction in their occupied lands. Such enemy practices are not new in the Muslim lands. In recent time, the people of Palestine, Afghanistan and Iraq have seen the dancing perpetrators of such crimes on their streets. In the medieval era, it was crusade – a genocidal war of the European Christian coalition in land of Palestine. The infidels of Makkah or the Christians of Jerusalem didn’t feel even the slightest horror of war when the cities were taken over by the Muslims. Not a single man was killed while Jerusalem came under the Muslim rule. But the Muslims of Jerusalem had a full blood bath when it was taken by the Crusaders. That happened too, to the Muslims of Spain by the Christian conquerors: it was a total cleansing of Muslims and Islam there. The same horror visited the Muslim World and many Asian and African countries in the 18th and 19th century with the colonisation by the European imperialists. In 20th century it was the joint invasion of the Osmania khilafa, mutilation of the Muslim Middle East into more than 20 pieces and the creation of the illegal state of Israel in their midst by forceful eviction of  its original inhabitants. And now it is the 21st century crusade with a new high of barbarity. Thousands of bombs and missiles are being dropped on their head, such barbarity never happened with any other people on earth.

Every disease has its own causes, pathology and symptoms. Therefore, the current brutality against the Muslims has its own causes and pathological backdrop, too. The anti-Muslim hatred of the early Crusaders never died out from the European psyche. It has in fact re-emerged in 21st century’s Western imperialism with more virulence. It has only taken a new form. The individual western country no more works like lone predators in the Muslim World; now they don’t have such power to do that either. Hence, they need to form a global coalition. Therefore, in the occupation and destruction of Afghanistan and Iraq, the US was not alone. More than 40 countries joined its crusade. While starting the invasion, President George Bush used the narrative of crusade in TV speech with the full understanding of its historical motive and perspective. And now, more than 60 countries contribute to the US crusade in Iraq and Syria –as claimed by John Kerry, the US Secretary of State. Now, both the Western and the Eastern brands of the Christian imperialists are concurrently committing their atrocities in a coordinated manner. The declared aim of the joint campaign is not to harm Basher al-Assad of Syria or sectarian Shia regime in Iraq, but to resist any attempt of Islamic resurgence.

So the world enters into a new stage. Such a huge and joint enterprise in killing never happened before; not even in the World Wars. Death, destruction and eviction and other brutality that started in Palestine about 70 years ago, are now taking place with more intensity in Syria, Iraq, Libya, Afghanistan, Palestine and many other Muslim countries. The men, women and children who never left their home before, are now forced to leave their country. The poor and innocent people of Afghanistan tasted 24 years of American and Russian atrocities; 1l years (1979-89) by the hand of Russians and 13 years (2001-14) by the Americans. They forced more than 5 million Afghans to leave the country and killed more than one and half million. Although, the US announced the withdrawal of its troop in 2014, but it wasn’t a full pull-out. Hence the occupation hasn’t truly ended; therefore, Afghanistan still stays occupied and the killing still continues. The same occupation continues in Iraq.

 

The new high in barbarity

The USA, Russia and other imperialists have their own agenda in the occupation in Syria, Iraq and other Middle Eastern countries. The natural resources and the strategic importance of the region have attracted more enemies than friends; therefore, added more deaths and destruction to the people. An enemy state like Israel was established in the heart of Muslim Middle East to make such suffering a permanent feature of the Muslim life. The imperialist countries find their security interest in every oil field, gas field, cotton field, water way and most importantly even in the Islamic belief of the Muslims. In order to protect such self-declared security interest they claim they have the right to declare any war or pre-emptive war against any country in the world. On such self-manufactured pretext the US invaded and destroyed Afghanistan and Iraq. The mission of destruction hasn’t stopped yet, Syria, Libya, Mali, Yemen and many more countries are added to the list. Any resistance to such imposed war of aggression is called terrorism.  Any Islamic resurgence to go back to the prophetic Islam of sharia, hudud, khilafa and jihad is conceived as a threat to their security interest. So Muslims are being bombed to restrict their Islamic practice to the US prescription. Both the US and Russian are bombing people to force them surrendering to their hegemony -as Israel is doing since its illegal creation.

 

The status quo of failure

The leaders of the imperialist camps have no quarrel with the brutal killers in the regions like General Abdul Fattah al Sisi of Egypt, the Saudi King or other autocrats. Although they dropped thousands of bombs on the innocent civilians, but never used a single word against them. On the contrary, they have forged a close coalition with these killer regimes to pursue a common agenda. The common agenda entails the status quo of autocratic rule, keeping intact the divisive walls and non-implementation of Islamic obligations like sharia, khilafa, jihad, hudud and the Muslim unity. Such status quo is indeed the infrastructure to keep the Muslim ummah weak and defeated. It has shown its full efficiency in preventing the resurgence of Islam as a global power. This is why the anti-Islamic global coalition is very keen to do everything to give sustenance to this status quo; any attempt to dismantle any element of it is considered a threat to their so-called security interest. They call it a threat of global stability. So the concurrent wars of the various imperialists has become a global war on Islam and the Muslims. It is also the war of their own survival as the world’s dominant power.

It is a common strategy of the imperialists to put some humanitarian façades to hide the real intention. But how a humanitarian cause could be served by dropping bombs and missiles on civilian population? They have already displayed their intention by flattening cities, killing men, women and children and igniting the ethnic feuds. They have poisoned even the innocent environment of the occupied land. The US Air Force dropped depleted uranium and other toxic chemicals on Iraqi cities and villages. Thus they have polluted the soils and water so badly that it will take generations to produce healthy foods and vegetables –as reported by many international experts. As an outcome of such US crime, hundreds of thousands of Iraqi children are born with birth defects or cancer. The intensity of destruction is unparalleled in the whole human history; no other country received so many bombs and missiles in the past –not even during the World Wars. In Iraq and Syria, human deaths have been almost 7 times higher than the deaths by nuclear bombs in Hiroshima and Nagasaki. Thus, the US barbarity has indeed attained an unprecedented new high. And the killing still continues. This way, the US reveals its moral death. And only with such moral death, the people in the White House, in the US Congress and in the media could celebrate such colossal barbarity in Iraq and Afghanistan as “mission accomplished”. However, in the Muslim countries, they could also find people with the same moral death. They readily forged coalition with them; therefore while US bomber drops bombs on his own could get the excuse to call it a coalition bombing. It is no surprise that even a brutal killer gets plenty of love from his domestic pets. In the Muslim countries, the imperialists invested heavily to raise such pets with no moral entity. The British did it successfully during their colonial era through its mind-manipulating education system. Hence when the British Army occupied Iraq and Palestine in 1917, most of its soldiers were such pets grown up in its colonies. In most of the Muslim countries, such mind corruptive system still continues. So in the Muslim lands, there is no shortage of such peoples who love fighting shoulder to shoulder with the foreign occupiers and kill their own people. Hence, thousands of such people in Iraq, Syria, Afghanistan and many other Muslim countries have already joined the US-led war.

 

The new power equation

The Russia and the US were known for mutual enmity for ages. In the post-World War era, they couldn’t stay on the same side of any war. They were the enemies in the Korean and the Vietnam wars. They were engaged in the Cold War for about half a century. But now they stand together against the Muslims. To truncate the body of Muslim Ummah, the Russian and the Americans work together as the two cutting blades of the same scissors. The US and its partners have a lot of anguish against Russia’s role in Ukraine, Crimea, Georgia and many other countries; and have imposed economic embargo on Moscow. But they are quite happy on its role in Syria since it is killing the Muslims and destroying the Syrian cities. Such Russian role exactly fit into the strategic frame of the US led crusade. As a consequence, the US and its partners have even developed close partnership with Russia to encounter any Islamic resurgence in the Muslim World. They have mutually divided the field of operation in the Muslim land to kill their common targets. Hence when the Russian Army raged the Chechen city of Grozny to the ground and committed a massacre there, Vladimir Putin got enthusiastic support from the US and other western capitals. Now the Russian Air Force is bombing Syrian part; and the USA is doing the same in Iraq. Each of them enjoys the support of the other. They are destroying the cities, villages, roads, houses, roads and high ways indiscriminately; and show no restraint in bombing even the hospitals, mosques, schools and market places. Most parts of the cities like Ramadi, Tikrit, Kobani, Homs, and Hama are razed to the ground. The Russian jets are dropping massive bombs on historical cities like Idlib, Aleppo, Raqqa, Palmyra and many others. The United States and its ally are carrying out the same mission in Falluja, Mosul and other parts of Iraq. Such anti-Muslim global unity of the imperialists is a new phenomenon in so-called Clash of Civilisation –as was postulated by Professor Huntington in his book. Islamic resurgence in any form and in any part of the world is perceived as a threat to the western civilisation. In such a war against Islam, only the Muslims stands divided.

 

Collaboration with the killers

Promoting peace has never been the aim of these neo-imperialists. They are interested only to prolong their hegemony. They can achieve that only through collaboration of the local clients. Hence they forge close partnership with autocratic killers and work keep enmity against any people’s revolution. So to kill democratic rights of people, the US gives billions of dollar to General Sisi, and Russia supplies arms to Bashar al Assad.  President Bashar al Assad has killed more than 300 thousands people in Syrian, and driven out 3 million out of Syria with full Russian help. But still couldn’t have any control over the country. The end of Basher regime in Syria means end of Russia’s hegemony in the Middle East. So Russia has joined Assad to kill more Syrians and destroy more Syrian cities and villages to protect his oppressive regime. The USA is doing the same in Iraq. End of Shia regime means the end of US hegemony in Iraq. With such collapse, several trillion dollars of its military investment in the war of occupation will go in vain.  The US is not ready to tolerate such a loss. Therefore to keep the status quo intact, the US is supplying the sophisticated killer machines to the Shia militia to kill more Sunni Iraqis. Through the US assistance, the Shia regime that has already evicted millions of Sunni Iraqis from their ancestral homes. But the Shia regime still couldn’t fully crash the Sunni resistance, hence the US needed to directly enter into the field. The US Air Force has already dropped thousands of bombs on Sunni cities and villages.

 

The epidemic of moral death

The Muslim Ummah is now in a tragic turmoil. The deaths and destruction are only the symptoms; the real disease lies much deeper. The most catastrophic problem is indeed the moral death of the Muslim Ummah. The physical death has its own distinctive signs; the dead people can’t move and response. But the morally dead people have other symptoms. They can move and response; but they can’t see even the worst crime as crime. Even the ugliest brutality doesn’t touch their heart. With such moral death, the Arab infidels could bury their daughter alive. What could be the ugliest terrorism on earth than launching a man-slaughtering war against an innocent weak people? The US led invasion in Afghanistan and Iraq was exactly the same. The Russian bomber planes are committing the same crime in Syria. In the Muslim World, the ruling clique, the political leaders, the intellectuals and the media elites have mostly died a moral death long before. Hence, they can’t see any crime in such war of invasion.  Therefore, the largest or the second largest or the third largest anti-war rallies against the US invasion in Iraq didn’t take place in Jakarta, Karachi, Dhaka, Istanbul or Cairo. It was in London, Rome and Paris. The morally dead people can’t even appreciate the Greatness of Allah Sub’hana wa Ta’la; nor do they see the beauty of His revealed Truth. They even fail to find their own heroes. They fail to recognise the self-sacrificing Muslims heroes who fight the infidel foreign occupiers. Due to such moral death, the people like Nimrod, Pharaoh, Abu Jehel, Abu Lahab couldn’t see even the best attributes of their contemporary great prophets.

Men and women get their highest height as human not for physical health, but for moral highness. And one can’t build up his or her moral health by eating and drinking most heathy food staff. For that, it is indispensable to acquire the Divine knowledge – revealed only to the prophets. The Holy Qur’an still exist as the final and the most accurate source of such knowledge. About 14 hundred years ago, the Arab people showed how the summit of perfect moral health could be quickly reached by acquiring Qur’anic knowledge; as a result of such moral achievement, they could build the best people on earth in the whole human history. Their moral boost was so high that the ruler of the largest country of the contemporary world could ask his servant to ride on the camel by turn and he himself would pull the rope on foot in a more than 5 hundred mile long journey to Jerusalem. And in the middle of the nights, he would carry food to the poor putting it on his own shoulder. Not a single ruler in any episode of time in the whole human history could display such a high moral health.

But such health of morality has cataclysmically collapsed in the Muslim world. And it owes to long rule of colonial infidels and the home-grown brutal autocrats. They didn’t have any love or any interest to ensure the supply of Divine food of knowledge for the human souls. Rather, they stood against the Quranic knowledge; and allowed people to take Qur’an only as a book of mere recitation, but not for understanding what Allah Sub’hana wa Ta’la has commanded to them. Like today, they considered the Islamist people with sound Qur’anic knowledge as the staunch enemy. Satan doesn’t fail to identify its enemy. The colonialist, the secularists and the autocrats didn’t fail either. They realised that the Qur’anic knowledge and the prophetic tradition make people incompatible with their un-Islamic colonial or autocratic rule. They found it extremely difficult to win over the hard core Islamists of high moral heights. Hence they opened road for a moral collapse. That was through secularisation of education. Today’s Muslims are following the same road. As a result, the moral deaths have been so massive and so epidemic in the Muslim world that it has turned more than one and half a billion Muslims spineless silent watchers of the worst crime against Islam and the Muslims. Worst of all, millions of these Muslims have turned armed collaborators in the imperialists’ war in Afghanistan, Iraq, Syria, Libya and many other countries.

The people with moral death even fail to recognise that war of aggression is not a simple crime; rather the ugliest criminal act on earth. Such crime is beyond the imagination of an ordinary murderer. Those who could drop nuclear bombs, raze cities to the ground and could kill more than a million in Afghanistan, Iraq and other countries can only unleash the spiral of such crime –as started with their invasion of Afghanistan and Iraq. They are now putting more fuel to keep the flame of war alive and to give it a global dimension. Only the people with moral death can approve such a genocidal war and rejoice its bombing campaign. But such moral death has become so pervasive and epidemic that launching and sponsoring such genocidal wars is not only a White House or Kremlin affair. Now it has global sponsors and supporters. Instead of condemning such war crimes, most of the world leaders support it. In Islam, doing everything to eradicate crime is not mere politics, it is a religious obligation. In a Muslim’s life, enjoining the right and forbidding the wrong is a lifelong mission (a’maru bil ma’ruf wa nehi anil mukar) –as has been assigned by Allah Sub’hana wa Ta’la in the holy Qur’an. But those who embrace and co-operate with the non-Muslim invaders in their countries are not the known infidels; rather the people with Muslim names. Here it reveals the extent of moral death of today’s Muslims.

 

The calamity of moral death

Physical death puts an end to man’s all abilities. But moral death opens the door to do crimes on a cataclysmic scale. All the catastrophic wars, World Wars, ethnic cleansing, and genocides are the works of the people with moral death. With such a death, men and women even with sound physical health eulogize the most criminal act of warmongering leaders. These are the people who have eyes but can’t see the brutalities. They have ears but can’t hear the agonies of atrocities. They have tongue, but don’t speak out against the cruelties. They have soul too, but loves falsehood and can’t understand the Truth. Allah Sub’hana wa Ta’ala –the Creator, labels these people as the vilest animal on earth. It is revealed, “Surely, the vilest of animal in Allah’s sight are the deaf, the dumb who do not understand.”–(Sura Anfal, verse 22). Amidst abundance of such moral death, even a killer autocrat can raise a huge genocidal army and enjoy popular support. So, Hitler could raise huge army; and also could run many gas chambers. And Joseph Stalin could run thousands of concentration camps. Due to same moral collapse, the US didn’t need any animals to drop the nuclear bombs. Since the people with moral health deter war crimes; and hinder recruitment to feed war need, the war criminals and the brutal despots never like them. Instead, they like moral annihilation. They realise that the people with moral health do not submit to their lies; hence they restrict the spread of Truth and Islamic upbringing. So, they restrict Qur’anic teaching. In all ages, such war criminals and despots stood as the worst enemy of the prophets. Now they stand against Islam and the tradition of the prophet. To ensure such moral collapse of men and women, they need to spread poisonous beliefs and lies that kill moral conscience. The modern propaganda machinery does the job very effectively. Hence, Hitler and many others could easily raise a huge army of collaborators. Due to the same reason, the US President George Bush and the British Prime Minister Tony Blair could get elected for the second term after launching a genocidal war in Iraq on false pretext.

The morally dead people never come to the street to protest or raise any concern against any brutality. They didn’t respond when the people were taken to the gas chambers or killed with nuclear bombs. The war criminals and the man slaughtering autocrats are very happy with these morally dead people. They call them law-abiding good citizens. In fact, such absence of protest in the street is an indicator of intensity of moral death of people. Their own body becomes the coffin of their dead souls.  Such people keep tongue-tied silence when thousands of bombs are being dropped on defenceless people of Iraq and Syria by the US and Russia. The situation has gone so worse that the worst war crimes are being endorsed as collateral damage or rightful war activities –especially if committed by the winning war criminals. Hence, the nuclear bombers or the killers in Vietnam, Afghanistan, Iraq and Syria are not put in any war tribunal. The US and Russian bombers in Syria and Syria also go unpunished.

How can peace be achieved in the world in abundance of such grotesque killers? The world has turned a perfect lawless jungle; here the powerful aggressor enjoys full impunity for its worst crimes. And the weaker receives all deadly punches and death. Is there any doubt that if the US drops dozens of nuclear bombs on the Muslim cities, still will be enjoying the full impunity –as enjoyed previously? The deaths and destruction that the US has already committed to Afghan, Iraqi and Syrian people are equivalent to lethal brutality of half a dozen nuclear bombs of the size dropped on Hiroshima. The Hiroshima bomb killed about 90, 000 people; but the US invasion in Afghanistan and Iraq is responsible for the death of more than a million. But the US still stands innocent! They do not have any remorse for that. This is why they couldn’t see any crime in massive Israeli bombardment on innocent civilians of Gaza. With such a dead soul and an image of brutality, how the US can be compatible with the civilised soul of the moral human? Such people have enough reason to be paranoid of others, hence the US develops huge defence force and global monitoring to ensure their security. Here lies the real problem of the US. With such a problem of dead morality, the US can only bomb and aggravate the problems. Since the invasion of Afghanistan and Iraq, they have given enough testimony to that. 20/062016

 

 

 

 

 

 




The Clash of Islamists and the Imperialists

The clash and the ideological basis 

Secularism is an ideology that has its own conceptual paradigm. Secularism can’t survive in a milieu where Islam dominates with it full ideological, cultural and civilisational aims. Hence the clash of Islamists and the imperialists is not a subject of the past, rather an all-time reality –especially in the Muslim world. The imperialists’s hedonic greed make them incompatible with the political and cultural dominance of Islam; so the clash is unavoidable. Since both secularism and Islam -as ideology, are not confined by any territorial boundary, the clash is global. Professor Huntington labelled it as clash of the civilization in his book; and described the followers of Islam as the sole challenger of the western civilisation. He advised to take Russia, China, India and others as partners in the battle against Islam and the Muslims. The sole objective of the occupying the imperialist enemy is not to build a Muslim country, rather to set up an infrastructure of weakness so that they can prolong their imperialist occupation. The British did it during their colonial rule. The French did it, too. Now the US is doing the same in Afghanistan, Iraq and other occupied Muslim lands. The divisive walls in the name of national or tribal boundaries are indeed raised a huge army of collaboratoIrs in all branches of the statecraft like politics, army, public administration and judiciary to work as their proxy even after the end of colonial rule.

The Americans have United States of America. The European have European Union. But their prescription for the Muslims are exactly opposite. The reason is quite simple. Since they consider Muslims as the civilizational enemy; they can’t allow the enemy to get united. Hence, the Muslims are not allowed to dismantle the walls of division. Rather they are supplying all necessary strategies, resources, weapons and even manpower on the ground to protect fortify walls of the division. In Iraq, the Sunni, the Shia, the Kurd all lived peacefully for last 14 hundred years. But the US led western invasion into Iraq made such peaceful co-existence unthinkable. The have given political power and arms to the Shia to torture and kill the Sunnis. Now each community live only in their own communities. This is new israelisation of the whole Muslim World –which entail forceful mass eviction of the original dwellers of the land and handing it over to the earth-grabbing people from the outside as is the norm in Israel. Before the US invasion of Iraq, the country was one country, and in the whole Arab World, there was only one Israel. But now there are many. Hence the Israelis are getting their friends in Arbil, Kirkuk, Solemania in Kurdistan; and in Baghdad, in Iraq and in many parts in Syria.

 

The imposed bar

An imposed bar restricts the most crucial aspect of the Muslims’s life, they are not even allowed to raise any voice against these post-World World boundaries that  –the greatest and the more harmful deviation from the prophetic tradition and the Qur’anic Islam. Islam doesn’t allow to raise divisive walls in the midst of the Muslims in the name of language, tribe, and territory. Such divisions please only the devil and not Allah Sub’hana wa Ta’la. They are not  allowed to return to original Islam that had sharia, hudud, khilafa and jihad -as was preached by the last prophet of Islam. They faith, practice and politics must be ratified  Their mission is not obscure. Now they are bombing the Arab lands to promote the same imperialist mission and interests. They label it protecting the Western security.

 

The occupation and the engineering

The US occupation and its political engineering has fatally damaged the ethnic compatibility in the Middle East that survived for more 14 hundred years. It has raised walls of ethnic and sectarian separation –as was raised by the Persian Safavi Shia rulers in the past. It is a fundamental damage to the social fabric. What Saddam did in Iraq are indeed peanuts in comparison to crimes committed by Bush, Obama and their ally in Iraq and Afghanistan. More awfully, they haven’t finished yet. The case of the US collaboration with the occupying Israeli killers tells a lot about the USA’s venomous policy against the Muslims. Mr Donald Trump –the US Republican candidate for the US presidency has been honest to regurgitate some of the truest venom which are usually kept hidden by the hypocrites like President Obama and ex-President Bill Clinton and George Bush and the alike.

The US occupation of Muslim land didn’t start with the occupation of Afghanistan in 2001 and Iraq in 2003. In fact, it started with the creation of Israel. Every inch of Arab land that has been occupied by Israel is done with the US money, weapon and the plan; and therefore not an exclusive Israeli occupation. It is rather a US-Israeli joint occupation; hence a fundamental US policy to prolong it. So, Israel receives enough encouragement to replicate the same brutality as the US did and still continues in Afghanistan and Iraq.

The Russian enmity and atrocities against the Muslims is not new either. Nor did it start with the occupation of Afghanistan in 1979. It started with the Tsarist occupation of the whole Muslims central Asia, Crimea and the Caucasus. In the Islamic heart land, none of the big powers has enough courage to invade alone; so, they always need local and international collaborators. During the World War I, the British imperialists made such alliance with the Arab tribal leaders to destroy Osmania khilafa. In the Arab world, both the US and Russia have their own subservient regimes in place to work as their Trojan horses. Russia has its own in Damascus. Now, Israel is not the only client state of the USA; the regimes in Iraq, Irbil, Jordan, Saudi Arabia, Egypt, Qatar, Kuwait and Bahrain are no less eager than Israel to help the US to promote its agenda in the Middle East.