বিবিধ ভাবনা ৬৪

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১. জান্নাতের মূল্য পরিশোধ এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের শুদ্ধিকরণ

পরকালে রয়েছে অভাবনীয় নিয়ামত ভরা জান্নাত। সেখানে মানুষ পাবে অন্তহীন এক আনন্দময় জীবন। তবে তার একটি মূল্য আছে। সেটি পেতে হলে মৃত্যুর আগেই প্রতিটি ব্যক্তিকে তার মূল্য পরিশোধ করে যেতে হয়। মৃত্যুর পর সে সুযোগ থাকেনা। মূল্য পরিশোধের সে বিশাল কাজটি অন্যদের চোখের পানি, দোয়া-দরুদ ও দান-সাদকায়ে হয়না। জান্নাতে নিজের বাসস্থানের মূল্য পরিশোধের দায়িত্বটি প্রতিটি ব্যক্তির নিতান্তই নিজের। জান্নাতের এক বর্গহাত জমি পাহাড়সমান সোনা দিয়েও কেনা যায় না। কিনতে হয় বলিষ্ঠ ঈমান ও নেক আমল দিয়ে। নেক আমল হলো মহান আল্লাহতায়ালার কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ক্যারেন্সি।

নেক আমলের অসীম সামর্থ্য প্রতিটি নারী ও পুরুষকে মহান আল্লাহতায়ালা দান করেছেন। দৈহিক বল, , বুদ্ধির বল ও অর্থ-সম্পদ –এসবই দেয় নেক আমলের সামর্থ্য। এভাবে মহান আল্লাহতায়ালার ব্যক্তিকে দিয়েছেন জান্নাতের মূল্য পরিশোধের পর্যাপ্ত সামর্থ্য। মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া সে নেয়ামতগুলির সঠিক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মানুষ ফিরেশতাদের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। একজন ভেড়ার রাখাল, দরিদ্র কৃষক এবং নিঃস্ব দিনমজুরও সে মূল্য পরিশোধ করতে পারে। স্রেফ কথার দ্বারা এমন এমন নেক আমল করা যায় যা বহু কোটি টাকা দানেও করা যায় না। সেটি যেমন সত্য বানী প্রচার ও সত্যের পক্ষে সাক্ষী দিয়ে, তেমনি মিথ্যার ও মিথ্যুকদের মুখ উম্মেচন করে।

নবী-রাসূলগণ সম্পদশালী ছিলেন না। তাদের নেক আমলের মূল হাতিয়ারটি ছিল জিহবা তথা মুখের কথা। সে জিহবাকে তাঁরা ব্যবহার করেছেন অন্যদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর কাজে। তাঁরা পথহারা মানুষদের পথ দেখিয়েছেন জান্নাতের। হাজার কোটি টাকা দানেও কি এমন নেক আমল করা যায়? এছাড়াও নেক আমলের রয়েছে আরো অসংখ্য পথ। সেটি যেমন পথ থেকে কাঁটা তুলে, পথিককে পথ দেখিয়ে, ক্ষুদার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দিয়ে, জ্ঞানহীনকে জ্ঞান দিয়ে এবং বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দিয়ে। মানুষ শিক্ষিত হবে, নানারূপ দক্ষতা অর্জন করবে  এবং উপার্জনের নামবে শুধু নিজের আনন্দ বাড়াতে নয়, বরং নেক আমলের সামর্থ্য বাড়াতে। সে ব্যক্তির চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আর কে যে তার সকল সামর্থ্য শুধু নিজের আরাম-আয়াশ বৃদ্ধিতেই ব্যয় করলো এবং কিছুই যোগ করলো না নেক আমলের ভান্ডারে? এরূপ ব্যক্তিরাই ব্যর্থ হয় জান্নাতের মূল্য পরিশোধে। তারাই বাসিন্দা হবে জাহান্নামের।  

তবে নেক আমল যেমন জান্নাতে নেয়, পাপ কর্ম নেয় জাহান্নামে। তাই শুধু নেক আমল করলেই চলে না, বাঁচতে হয় পাপকর্ম থেকেও। সবচেয়ে বড় পাপ কর্মটি শুধু মহান আল্লাহতায়ালাকে অবিশ্বাস করা নয়, বরং সেটি তার তাঁর শরিয়তী বিধানকে অস্বীকার করা এবং সে বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। রাজার আইন অমান্য হলে কি রাজার রাজত্ব বাঁচে? এ অপরাধে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। তেমনি শরিয়তী আইন পালিত না হলে কি মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব বাঁচে? তাই দেশের আদালতে শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠা না দেয়াটি হলো এক ভয়ংকর পাপ। এ পাপ ব্যক্তিকে কাফের, জালেম ও ফাসেকে পরিণত করে –যা বলা হয়েছে সুরা মায়াদের ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে। অথচ সে পাপটিই হচ্ছে বাংলাদেশে। এ ভয়ংকর পাপের সাথে জড়িত যেমন শাসক চক্র, তেমনি জড়িত জনগণও। এক্ষেত্রে জনগণের পাপটি হলো, শরিয়তের বিলুপ্তিকে বিনা জিহাদ ও বিনা প্রতিবাদে মেনে নেয়ায়। অথচ বাংলাদেশের ন্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে মুসলিমদের পক্ষ থেকে সে পাপটিই হচ্ছে।     

নেক আমলের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্রটি হলো জিহাদ। এটিই হলো জান্নাতের মূল্য পরিশোধের সর্বশ্রেষ্ট উপায়। হাদীসে বলায় হয়েছে, জিহাদের ময়দানে রক্ত ঢেলে দেয়ার সাথে সাথে জান্নাতের মূল্য পরিশোধ হয়ে যায়। শহীদের জীবনে কখনো মৃত্যু আসে না, সে মৃত্যুহীন জীবন পায় সরাসরি প্রবেশ করে জান্নাতে। শহীদ হওয়ার পরও সে রিযিক পায়। রোজহাশরের বিচার দিনে শহীদকে বিচারের কাঠগড়ায় উঠতে হবেনা। প্রশ্ন হলো, জিহাদ কি? মিথ্যা ও অন্যায়ের নির্মূল এবং কুর’আনী সত্য ও ন্যায়কে বিজয়ী করার প্রতিটি প্রচেষ্টাই হলো জিহাদ। এটি হলো শয়তানী শক্তির নির্মূলের মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করার যুদ্ধ। সে জিহাদ যেমন কথার সাহায্যে হতে পারে, তেমনি হতে পারে লেখনি, অর্থ ও অস্ত্রের সাহায্যেও। নবীজী (সাা:)’র হাদীস: জালেম শাসকের সামনে হক কথা বলা উত্তম জিহাদ। জালেমের নির্মূলে যে ঈমানদারগণ নিজের জান বিলিয়ে দেয় -তারাই শহীদের মর্যাদা পায়।

যে দেশের মানুষের মাঝে মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করা ও জান্নাতের মূল্য পরিশোধে আগ্রহটি প্রবল, সে দেশে নেক আমলের জোয়ারটিও প্রবল। সে দেশে জালেম শাসক থাকতে পারে না। কারণ তারা জালেম
শাসকের নির্মূলকে আল্লাহকে খুশি করা ও জান্নাত লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম মনে করে। জান্নাতের মূল্য পরিশোধে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমটি যেহেতু দুর্বৃত্ত শাসক নির্মূলের জিহাদ, দেশবাসী ঈমানদার হলে প্রচণ্ড ভিড় জমে জিহাদের ময়দানে। জনপদে বিষাক্ত সাপ বা হিংস্র পশু ঢুকলে সভ্য মানুষ মাত্রই সেটিকে বধ করে। একই কান্ড ঘটে শাসনক্ষমতায় কোন দুর্বৃত্ত বসলে। দুর্বৃত্তমুক্ত সভ্য রাষ্ট্র ও সভ্য সমাজ তো এভাবেই গড় উঠে। এভাবেই পরিশুদ্ধি আসে রাষ্ট্রে। কিন্তু যে দেশে চোরডাকাত, ভোটডাকাত, খুনি ও সন্ত্রাসীর দীর্ঘ দিনের শাসন এবং জনগণের মাঝে নাই সে দুর্বৃত্ত শাসক নির্মূলের জিহাদ, বুঝতে হবে সে দেশে জান্নাতের মূল্য পরিশোধে আগ্রহী মানুষের সংখ্যাটি অতি নগন্য।     

২. যে বিপদ মানসিক রোগীর শাসনে

আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হওয়া, পরকালে জান্নাত পাওয়া ও ইতিহাসে প্রসংশনীয় স্থান পাওয়া নিয়ে যাদের কোন আগ্রহ নাই -তারাই শেখ হাসিনার ন্যায় খুনি, ভোটডাকাত ও নৃশংস স্বৈরচারী হয়। দুর্বৃত্তির পথে চলাটাই তাদের নীতিতে পরিণত হয়। এদের সন্মদ্ধে সুরা বাকারার ১৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন: “এরাই হলো তারা যারা হিদায়েতের বদলে কিনে নিয়েছে পথভ্রষ্টতাকে। তাদের এই বানিজ্যে কোন লাভ নাই। এবং এরা সঠিক পথে নাই।” শেখ হাসিনা অবুঝ নয়। সে জানে, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, গুম,খুন,নির্যাতন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি কোন সুস্থ্য মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ্কথাও সে জানে, এরূপ কুকর্মের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় কেউ সুনামের সাথে বেঁচে না। বাঁচে জনগণের ঘৃনা নিয়ে।

শেখ হাসিনা জেনে বুঝেই ভোটডাকাতির ন্যায় দুর্বৃত্তি ও নৃশংস স্বৈরাচারের পথটি বেছে নিয়েছে। অপরাধী মানুষের মূল চারিত্রিক সমস্যাটি এখানেই। যারা চোরডাকাত, খুনি, সন্ত্রাসী ও ধর্ষক তারা কখনোই মানুষ কি বলবে তা নিয়ে ভাবে না। তারা বরং নৃশংস অপরাধকর্মকে উপভোগ করে। এবং দিন দিন নৃশংসতার নতুন নতুন মাত্রা আবিস্কার করে। একই পথ ধরেছে শেখ হাসিনা। জনগণকে বেশী বেশী কষ্ট দিয়েই তার বেশী বেশী আনন্দ। এটিকেই মেডিক্যাল সায়েন্সে বলা হয় স্যাডিজম। এটি এক গুরুতর মানসিক রোগ। এ রোগ কোন শাসককে ধরলে রাষ্ট্র তখন নৃশংস অসভ্যতায় ইতিহাস গড়ে। ভয়ানক বিপদ ঘটে মানসিক রোগীকে বাসের ড্রাইভার বানালে। অথচ হাসিনা এখন বাংলাদেশের ড্রাইভিং সিটে। বাংলাদেশীদের ভয়ানক বিপদ এখানেই। যে মানসিক রোগীর স্থান হওয়া উচিত ছিল পাগলা গারদে, সে এখন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায়।       

৩. ইসলাম-পালন ছাড়াই মুসলিম?

প্রতিটি মুসলিমের নিজেকে অবশ্যই প্রশ্ন করা উচিত, সে কি ইসলামী বিধান তথা শরিয়তের প্রয়োগ চায়? যদি না চায় তবে সে কিসের মুসলিম? এবং আরো প্রশ্ন করা উচিত, সে যদি ইসলামের বিজয় তথা শরিয়তের প্রয়োগ চায়, তবে সে লক্ষ্যে তার ভূমিকাই বা কী? যদি ভূমিকা না থাকে তবে সে কিসের মুসলিম? মুসলিম পরিচয়টি কি নিছক কোন সাইন বোর্ড?

চৌধুরী ও খান বংশের কোন সন্তান পাগল বা চরিত্রহীন হলেও সে চৌধুরী ও খান হতে পারে। সে পরিচয়ের জন্য কোন চরিত্র বা যোগ্যতা লাগে না। কিন্ত ইসলামী চেতনা ও চরিত্র না থাকার কারণে মুসলিমের সন্তান কাফের, জালেম ও ফাসেকও হতে পারে। মুসলিম কোন বংশগত উপাধী নয়। এটি একটি গুণগত পরিচয়। একজন সৈনিককে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে বাঁচতে হয়। তাকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং যুদ্ধ শুরু হলে তাকে যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। যে ব্যক্তি সে দায়িত্বের দায়ভার বহন করতে রাজী নয় সে সৈনিক হতে পারেনা। তার চাকুরি থাকে না। বিষয়টি অভিন্ন প্রতিটি মুসলিমের ক্ষেত্রেও। প্রতিটি মুসলিমকেই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে বাঁচতে হয়। সেটি মহান আল্লাহতায়ালার সার্বক্ষণিক সৈনিকের। দায়িত্ব এখানে যেমন নিজ জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে ইসলামী বিধানের প্রয়োগ, তেমনি রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতি অঙ্গণে ইসলামকে বিজয়ী করার যে সার্বক্ষণিক জিহাদ –সে জিহাদের নিজের আত্মনিয়োগ। নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবনের মূল শিক্ষা তো এটাই। তাদের জীবনে ইসলাম বিজয়ী করার জিহাদ ছিল। সে জিহাদে অর্ধেকের বেশী সাহাবী শহীদ হয়েছেন। কিন্তু আজ ক’জন মুসলিমের জীবনে সে দায়িত্ব নিয়ে বাঁচার চেতনা? সে দায়িত্ব-পালন ছাড়া কি মুসলিম হওয়া যায়?     

৪. ইসলামের বিরুদ্ধে সেক্যুলারিস্টদের শত্রুতা

সেক্যুলারিস্টদের দাবী, তারা ধর্ম নিরপেক্ষ। এটি শুধু নিরেট মিথ্যা নয়, প্রতারণাপূর্ণও। ধর্ম নিরেপক্ষতার অর্থ: কোন ধর্মের প্রতি থাকবে না শত্রুতা। কিন্তু সেক্যুলারিস্টদের দর্শন, রাজনীতি ও কর্মকান্ড প্রচণ্ড ইসলাম-বিরোধী। তাদের নীতি ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলাম শুধু নামায-রোযা ও হজ্জ-যাকাতের বিধান দেয় না। দেয় প্রশাসন, রাজনীতি, বিচার-আচার, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও যুদ্ধবিগ্রহের নীতিও। নবীজী (সা:) নিজে ১০ বছর রাষ্ট্র প্রধান ছিলেন এবং তাঁর লিগাসী তথা সূন্নত রয়েছে সবকিছুতেই। ফলে মুসলিমকে পদে পদে মেনে চলতে হয় নবীজী (সা:)’র সে সূন্নতগুলিকে। এজন্যই তাঁকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামের প্রতিষ্টা দিতে সচেষ্ট হতে হয়। রাষ্ট্রকে গড়তে চায় জনগণকে জান্নাতে নেয়ার বাহন রূপে।

সেক্যুলারিস্টগণ মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং নামায-রোযা, হজ্জ-যাকাত, তাসবিহ-তাহলিলের অধিকার দিলেও রাষ্ট্রের বুকে ইসলামের বিজয় চায় না। কিন্তু ইসলামের অর্থ কি শুধু নামায-রোযা, হজ্জ-যাকাত, তাসবিহ-তাহলিল? সেটি মেন নিলে নবীজী (রা;) যে রাষ্ট্র প্রধান ছিলেন এবং শরিয়তের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন –সে সূন্নতের কি হবে? ইসলাম পালনের অর্থ হলো, স্বৈরাচারের বদলে শুরাভিত্তিক দেশ-পরিচালনা, আদালতে পূর্ণ শরিয়ত-পালন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার নীতি, প্রশাসনে দুর্বৃত্তির নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, স্কুল-কলেজে কুর’আন শিক্ষা, মসজিদ এবং মাঠে-ময়দানে কুর’আন-হাদীসের পূর্ণ স্বাধীনতা। কিন্তু সেক্যুলারিস্টগণ এসব হতে দিতে রাজী নয়। ইসলামকে তারা মসজিদের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী রাখতে চায়। আদালতে প্রবেশাধিকার দিতে রাজী নয় শরিয়তের। এবং তাদের শিক্ষানীতি ও রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো মুসলিমদের ইসলাম থেকে দূরে সরানো। প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে তারা ব্যবহার করে ইসলামপন্থিদের নির্মূল বা দমিয়ে রাখার কাজে। বাংলাদেশের সেক্যুলারিস্টগণ তো সে নীতিরই প্রয়োগ করছে। 

৫. ষড়যন্ত্র সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতকে নিষিদ্ধ করার

শত্রুগণ নামায-রোযা, হজ্জ-যাকাত ও মসজিদ-মাদ্রাসা দেখে ভয় পায়না। ভয় পায় জিহাদ দেখে। যারা জিহাদশূণ্য এবং ধর্মকর্মকে শুধু নামায-রোযা, হজ্জ-যাকাত ও তাসবিহ-তাহলিলে সীমিত করে -তারা কখনোই শত্রুদের প্রতিরোধে জিহাদে খাড়া হয়না। শত্রুদের জন্য রণাঙ্গণকে তারা খালি ছেড়ে দেয়। যাদের মাঝে জিহাদী চেতনা আছে, একমাত্র তারাই শত্রুদের রুখতে রণাঙ্গণে হাজির হয়। এজন্যই ইসলামের শত্রুদের সকল আক্রোশ জিহাদ ও জিহাদীদের বিরুদ্ধে। শত্রুগণ তাই মুসলিমদের জিহাদশুণ্য করার ষড়যন্ত্র করছে। হাসিনার পুলিস তাই জিহাদের বই পেলে বা জিহাদের উপর ওয়াজ করলে জেলে তুলে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রগণ মুসলিম দেশগুলির উপর চাপ দিচ্ছে স্কুল-কলেজের সিলেবাস থেকে জিহাদ বিষয়ক বিষয়গুলিকে বাদ দিতে। তারা জিহাদকে বলছে সন্ত্রাস। মসজিদের খতিবদের উপয় চাপ দিচ্ছে খোতবায় জিহাদ নিয়ে আলোচনা না করতে। এভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে মুসলিমদের জীবনে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতকে নিষিদ্ধ করার। এরূপ জিহাদশূণ্য করার লক্ষ্য একটিই। সেটি হলো শত্রুর হামলার মুখে মুসলিমদের জিহাদশূর্ণ তথা প্রতিরোধহীন করা। আর এতে শত্রুর জন্য সহজ হয় বিনা যুদ্ধে মুসলিম দেশ দখলে নেয়ার।   

৬. বিজয়টি শয়তানের

পবিত্র কুর’আনের সহজ সরল কথাগুলি বুঝার জন্য মুফতি-মৌলভী হওয়া লাগেনা। কুর’আন শুধু মুফতি-মৌলভীদের জন্য নাযিল হয়নি। নাযিল হয়েছে সহজ সরল ভাষায় সাধারন মানুষকে পথ দেখানোর জন্য। ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার, আইনজ্ঞ হওয়ার জন্য বিদেশী ভাষা শিখতে হয়। মোটা মোটা বহু বই পড়তে হয়। সেটি শুধু এ পার্থিব জীবনের আরাম-আয়েশ বাড়ানোর জন্য। কিন্তু সেসব বইয়ে জান্নাতের পথের সন্ধান মেলে না। সে পথের সন্ধান দেয় পবিত্র কুর’আন ও হাদীস।

মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানবকে জান্নাতে নিতে চান। সে জন্য জান্নাতের পথ চেনাটি ফরজ করেছেন। আর সে ফরজ বিধানটি হলো কুর’আন শিক্ষা। অপর দিকে শয়তান চায় মানুষকে জাহান্নামে নিতে। এ লক্ষ্যে শয়তানের স্ট্রাটেজী এ নয় যে সবাই সে মুর্তিপূজায় ডাকবে। বরং শয়তানের মূল স্ট্রাটেজীটি হলো জনগণের দৃষ্টি থেকে জান্নাতের পথকে লুকিয়ে রাখা। তখন পথহারা মানুষদের জাহান্নামে নেয়াটি সহজ হয়। এজন্যই চায় কুর’আন শিক্ষা থেকে মানুষকে দূরে রাখতে। বাংলাদেশের মত দেশগুলিতে বিজয়টি শয়তানের। ফলে ছাত্রগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করলেও পবিত্র কুর’আনের একটি আয়াত বুঝার সামর্থ্য তারা অর্জন করতে পারে না। ফলে ইসলামের বিচারে তারা মুর্খই থেকে যায়। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, বাংলাদেশের মানুষ মসজিদ-মাদ্রাসায় দেশ ভরে ফেললেও তারা শয়তানী শক্তির নির্মূলে জিহাদে নাই। ফলে বাধা বাড়ছে মুসলিম রূপে বাঁচা ও বেড়ে উঠায়।   

৭. ক্ষতির পথ ও বিজয়ের পথ

যারা ভাষা, দল ও জাতীয় স্বার্থের নামে রাজনীতি করে এবং অর্থ, শ্রম, মেধা ও প্রাণ বিলিয়ে দেয় তারা মহান আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে কি আশা করে? এটিই তো ক্ষতির ব্যবসা। রুজি-রোজগার ও পেশাদারীতে কতটা বিজয় হলো বা পরাজয় এলো -তা নিয়ে পরকালে প্রশ্নই উঠবে না। বরং জবাব দিতে হবে ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের নির্মূলে জান-মাল ও মেধার কতটা বিনিয়োগ হয়েছে তা নিয়ে। পরকালে তো তাঁরাই পুরস্কার পাবে যাদের বাঁচা-মরার মূল লক্ষ্য এবং শ্রম, মেধা, অর্থ ও রক্তের বিনিয়োগটি হয় মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করার লক্ষ্যে। ঈমানের অর্থ কি শুধু মহান আল্লাহতায়ালা, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব, আখেরাত ও রোয হাশরের উপর বিশ্বাস? ঈমানের অর্থ তো তাঁর দেয়া কুর’আনী বিধানের উপর বিশ্বাসও। এবং সে বিশ্বাসকে শুধু বিশ্বাসে সীমিত রাখলে চলে না, সে কুর’আনী বিধানের প্রতিষ্ঠাতেও নামতে হয়। নবীজী (সা:) তো সেটিই শিখিয়ে গেছেন।

এজন্যই হৃদয়ে প্রকৃত ঈমান থাকলে ইসলামকে বিজয়ী করার লাগাতর জিহাদও এসে যায়। জিহাদের শুরুটি হয় বুদ্ধিবৃত্তির ময়দানে। সে বুদ্ধিবৃত্তির জিহাদের মূল হাতিয়ারটি হলো পবিত্র কুর’আন। তবে শত্রুর নির্মূলে চুড়ান্ত লড়াইটি হয় সশস্ত্র যুদ্ধের ময়দানে। বদরের যুদ্ধে নামার পূর্বে নবীজী (সা:) বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদটি লড়েছেন ১৪ বছেরর বেশী কাল ধরে। সে জিহাদের অঙ্গণেই তৈরী হয়েছে বদরের যুদ্ধের মুজাহিদ। যে দেশে সে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ নাই সে দেশে অস্ত্রের যুদ্ধের মুজাহিদও জুটে না। মুসলিমকে তাই লড়তে হয় উভয় যুদ্ধের কৌশলী সৈনিক রূপে। কিন্তু আজ মুসলিমদের মাঝে সে বুদ্ধিবৃত্তিক সে জিহাদটি কই? ০৮/০৭/২০২১