বিবিধ ভাবনা (৩৯)

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১. ইসলামের বিপক্ষ শক্তির বিজয় উৎসব 

বাংলাদেশে ইসলামের বিপক্ষের শক্তির বিজয়গুলো বিশাল। বাংলাদেশে বহু কোটি মানুষের পেটে দুই বেলা ভাত না জুটলে কি হবে, সে বিজয় নিয়ে বাংলাদেশে এখন শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে উৎসব হচ্ছে। এ উৎসবে প্রধান অতিথি হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও গুজরাতের মুসলিম গণহত্যার নায়ক নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি প্রতিনিধিত্ব করে ভারতের মুসলিম নিধনকারী হিন্দুত্ববাদী আর,এস,এস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজিপি’র সম্মিলিত অক্ষ শক্তির। এরাই আসাম ও পশ্চিম বাংলা থেকে বাঙালী মুসলিমদের বাংলাদেশী বলে বহিস্কারের ষড়যন্ত্র করছে। এরাই বাবরি মসজিদকে ধুলির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ইসলামের শত্রু শক্তির কাছে ভারতের মুসলিম বিরোধী এ উগ্র শক্তিটি যে কতটা কাছের -তা নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান অতিথি করে সেটিই প্রমাণ করলো। ভারতে মুসলিম গণহত্যা হলে বা সীমান্তে বাংলাদেশীকে হত্যা করা হলে -এ জন্যই এরা সেগুলির নিন্দা করেনা।

এদের আরেক বিজয় হলো, বাঙালী মুসলিমদের তারা সফল ভাবে দূরে সরাতে পেরেছে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা থেকে। ফলে শরিয়ত ও জিহাদের কথা কেউ মুখে আনে না। যেন শরিয়ত ও জিহাদ -এ দুটি ইসলামের কোন অংশই নয়। দেশের আদালতে শরিয়ত প্রতিষ্ঠা না দিলে যে মহান আল্লাহতায়ালার খাতায় কাফের, ফাসেক ও জালেম গণ্য হতে হয় -সে হুশও জনগণের চেতনা থেকে তারা বিলুপ্ত করতে পেরেছে। দাফন দিতে পেরেছে প্যান-ইসলামিক মুসলিম ভাতৃত্ব। ফলে অবাঙালী মুসলিমগণ তাদের কাছে ঘৃণার বস্তু। একাত্তরে এরাই উৎসব ভরে তাদের হত্যা ও ধর্ষণ করেছে। এবং তাদেরকে ঘরবাড়ী থেকে তাড়িয়ে সেগুলি দখলে নিয়েছে। হিন্দুদের ন্যায় মূর্তি নির্মাণ ও মূর্তির পদতলে ফুল চড়ানো এখন তাদেরও সংস্কৃতি। ইসলামপন্থীদের ফাঁসি, শাপলা চত্ত্বরে গণহত্যা, নিষিদ্ধ কোর’আনের তাফসির –এ গুলোও কি কম বিজয়?

তাদের সবচেয়ে বড় বিজয়টি আসে ১৯৭১’য়ে। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ইসলামের শত্রু পক্ষের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় নাশকতা। সে কাজে তারা সাথে পায় আগ্রাসী ভারতীয় কাফেরদের। ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমগণ ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে মুসলিম শক্তি রূপে উত্থানের স্বপ্ন দেখেছিল এবং সে স্বপ্নের বাস্তবায়নে জন্ম দিয়েছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ পাকিস্তান। ভারতের কাফেরগণ চায়নি, পাকিস্তান সৃষ্টি হোক এবং বেঁচে থাকুক। চায়নি, বাংলাদেশের ইসলামবিরোধী শক্তিও। ১৯৭১’য় ভারতীয় আগ্রাসী শক্তির সাথে কোয়ালিশন গড়ে তারা সফল হয় উপমহাদেশের মুসলিমদের সে স্বপ্নকে পন্ড করতে। তাতে বিজয়ী হয়েছিল ভারত। ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর বিজয়ে উল্লসিত হয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি পার্লামেন্টে দাঁড়িয় বলেছিল, “হাজার সালকা বদলা লে লিয়া।” ইন্দিরা গান্ধির সে বদলাটি ছিল ভারতের বুকে মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দুদের প্রতিশোধ। প্রশ্ন হলো, হিন্দুদের সে বদলা নেয়ার যুদ্ধে একজন মুসলিম কীরূপে জড়িত হয়? লক্ষণীয় হলো, বাংলাদেশের কোন আলেম বা কোন ইসলামী দল তাতে জড়িত হয়নি। কিন্তু জড়িত হয় এবং সহায়তা দেয় বাংলাদেশের ইসলাম বিরোধী শক্তি। একাত্তরের সে প্রতিশোধের যুদ্ধে তারাই ভারতে ঘরে বিজয় তুলে দেয় এবং সে বিজয় নিয়ে ভারতীয় কাফেরদের সাথে মিলে এখন উৎসব করছে।

প্রশ্ন হলো, যে উৎসবটি কাফেরদের সাথে নিয়ে হয়, তাতে শয়তান খুশি হলেও মহান আল্লাহতায়ালা কি খুশি হন? সে ভাবনাই বা ক’জন বাংলাদেশীর? সমগ্র মুসলিম ইতিহাসে কখনো কি এমন হয়ছে, মুসলিমগণ কাফেরদের সাথে একত্রে বিজয় উৎসব করেছে? মুসলিম ও কাফেরদের বিজয় ও পরাজয়েরে বিষয়গুলো তো ভিন্ন ভিন্ন। কাফেরদের যাতে বিজয়, তাতে তো মুসলিমদের পরাজয়।   

 

২. ইসলামপন্থীদের পরাজয়

বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের পরাজয়গুলো বিশাল ও ভয়ানক। সে পরাজয়গুলো নিয়ে তাদের মাতম হওয়া উচিত। তারা ব্যর্থ হয়েছে ঐক্যবদ্ধ হতে। ব্যর্থ হয়েছে দেশের আদালতে শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠা দিতে। ব্যর্থ হয়েছে অন্যায় ও দুর্বৃত্তির নির্মূলে এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায়। অথচ অন্যায় ও দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা নিয়ে বাঁচাটাই তো মুসলিম জীবনের মূল মিশন। এ মিশন নিয়ে বাঁচার জন্যই তারা মহান আল্লাহতায়ালার খাতায় শ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদা পায়। একমাত্র এ পথেই নির্মিত হয় উচ্চতর সভ্যতা। সে মিশন নিয়ে বাঁচার কারণেই মুসলিমগণ অতীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। অথচ আজ বাঙালী মুসলিমগণ জন্ম দিচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের। এবং শাসক রূপে মেনে নিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাতকে।

তাদের বিশাল ব্যর্থতা পবিত্র কোর’আনকে বুঝায় এবং কোর’আনের জ্ঞানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ায়। কোর’আন না বুঝে তারা শুধু তেলাওয়াতে দায় সারছে। পবিত্র কোর’আনের সাথে এর চেয়ে বড় বেয়াদবী আর কি হতে পারে? এরূপ বেয়াদবদের কি মহান আল্লাহতায়ালা কখনো ইজ্জত দেন? আল্লাহতায়ালা কোর’আনের জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন, না বুঝে তেলাওয়াতকে নয়।

ঈমানদারের পরীক্ষা কি শুধু নামায-রোযা পালনে হয়? নামায-রোযা তো নবীজী(সা:)’র যুগে মুনাফিকদের জীবনেও ছিল। সূদখোর, ঘুষখোরও তো নামায পড়ে। তাকে তো বিজয়ী হতে হয় ইসলামের বিজয় আনার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা ব্যর্থ হয়েছে নবীজী(সা:)’র ইসলাম নিয়ে বাঁচায়। তারা যে ইসলাম নিয়ে বাঁচছে সেটি তো নবীজী(সা:)’র ইসলাম নয়; সেটি তো তাদের নিজেদের মনগড়া ইসলাম। নবীজী (সা:)’র ইসলামে ইসলামী রাষ্ট্র ছিল, জিহাদ ছিল, শাহাদত ছিল, শরিয়ত ও হুদুদের পালন ছিল এবং প্যান-ইসলামিক মুসলিম ঐক্য ছিল। বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের মাঝে এর কোনটাই নাই। তাদের মাঝে বেঁচে আছে ফেরকাপরস্তি, পীরপরস্তি, মজহাবপরস্তি, ইত্যাদি। নবীজী (সা:)’র ইসলাম নিয়ে বাঁচতে হলে জান ও মালের বিশাল খরচ পেশ করতে হয়। সাহাবাদের শতকরা ৬০ ভাগের বেশী তাই শহীদ হয়েছেন।

 ৩. কবিরা গুনাহ

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোর’আনে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও দুর্বৃত্তি নির্মূলের হুকুম দিয়েছেন। প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ হলো, সে হুকুমগুলো মেনে চলা। অথচ বাংলাদেশের মানুষ বাঁচছে সে হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে। উল্লেখ্য হলো, যারা তাঁর হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, তাদেরকে পবিত্র কোর’আনে কাফের ও ফাসেক বল হয়েছে। কাফের, ফাসেক ও জালেম বলা হয়েছে তাদেরও যারা শরিয়তের হুকুম মানে না। ইসলামের এগুলো অতি মৌলিক বিষয়।

অথচ বাংলাদেশে মুসলিমদের দ্বারা মহান আল্লাহতায়ালার সে হুকুম মানার কাজটি হয়নি। দুর্বৃত্তদের নির্মূল না করে জনগণ তাদের প্রতিপালনে রাজস্ব দেয় এবং বিপুল সংখ্যায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রতিপালনের খরচ জোগায়। দেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাজ হয়েছে রাস্তায় জনগণকে পেটানো এবং নির্বাচন কালে ভোটডাকাতি করে দুর্বৃত্তদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া। ২০১৩ সালে এদের দেখা গেছে শাপলা চত্ত্বরে গণহত্যায়। এমন দুর্বৃত্তদের প্রতিপালন করা তো কবিরা গুনাহ।

৪. সবচেয়ে বড় বাঁচা মুনাফিকি থেকে বাঁচা

সবচেয়ে বড় বাঁচাটি হলো মুনাফিকি থেকে বাঁচা। নামায-রোযা করা সহজ। ঘুষখোর, সূদখোর এমনকি দুর্বৃত্ত বেঈমানেরাও নামায পড়ে এবং রোযা রাখে। নবীজী (সা:)’র যুগে অতি দুর্বৃত্ত মুনাফিকগণ নামায পড়তো। তারা নামায পড়তো এমন কি নবীজী (সা:)’র পিছনে জামাতের প্রথম সারীতে। নামায পড়লেও তারা ইসলামের পরাজয় চাইতো। নবীজী (সা:)কে হত্যা ও মুসলিমদের পরাজিত করার লক্ষ্যে তারা কাফের ও ইহুদীদের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করতো। এরা কাফেরদের চেয়ে্ও নিকৃষ্ট। এরাই ঘরের শত্রু। পবিত্র কোর’আনে বলা হয়েছে, এদের স্থান হবে জাহান্নামে কাফেরদের চেয়েও নীচে তথা অধিকতর ভয়ানক স্থানে।

এমন মুনাফিকদের সংখ্যা কি বাংলাদেশে কম? বাংলাদেশে যারা ইসলামকে পরাজিত রেখেছে, তাদের সবাই কি মূর্তিপূজারী কাফের? তাদের অনেকেই নামায পড়ে, রোযা রাখে এবং যাকাত দেয়। অথচ এদের অনেকই ১৯৭১’য়ে দেখা গেছে ভারতীয় কাফেরদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করতে। কাফেরদের এজেন্ডা ও তাদের এজেন্ডা সেদিন একাকার হয়েছিল। এমনটি কোন ঈমাদারের জীবনে এক মুহুর্তের জন্যও ঘটে? তেল ও পানি যেমন একত্রে মেশে না, তেমনি মুসলিমের এজেন্ডা ও কাফেরদের এজেন্ডা কখনোই একত্রে মেশে না। মুসলিম ভূমিতে যুদ্ধ শুরু হলে এভাবেই মুনাফিকদের চরিত্র ধরা পড়ে। তাই এ জীবনে সবচেয়ে কঠিন হলো মুনাফিকি থেকে বাঁচা। নবীজী (সা:)’র যুগে ১ হাজারের মাঝে ৩০০ জন মুনাফিক রূপে ধরা পড়েছিল। এটি এত বিশাল সংখ্যা; এবং সেটি নবীজী (সা:)’র উপস্থিতিতে। এখন সে সংখ্যাটি তা থেকে বহুগুণ বেশী।

জিহাদ মুনাফিকদের আলাদা করতে অব্যর্থ ফিল্টারের ন্যায় কাজ করে। ঈমান থাকলে জিহাদ থাকতেই হবে। যার মধ্যে জিহাদ নাই, বুঝতে তার মধ্যে ঈমানও নাই। বিষয়টিকে মহান আল্লাহতায়ালা সুরা হুজরাতের ১৫ নম্বর আয়াতে অতি সুস্পষ্ট ভাবে ব্যক্ত করেছেন। এ আয়াতে জিহাদকে তিনি ঈমানের অঙ্গ এবং ঈমান যাচা্ইয়ের শর্ত রূপে ঘোষণা দিয়েছেন। মুনাফিকি তাই দেখা যায়। শত্রুর নির্মূলে ও ইসলামের বিজয় সাধনে যার জীবনে জিহাদ নাই, সে ব্যক্তি যতই নামায-রোযা করুক -সে ব্যক্তি মুনাফিক।

৫. খাড়া হও আল্লাহর রাস্তায়

“(হে নবী, ঈমানদের) বলুন, “তোমাদের জন্যএকটি মাত্র ওয়াজ (নসিহত): খাড়া হও আল্লাহর জন্য জোড়ায়ূ জোড়ায় অথবা একাকীই; অতঃপর চিন্তাভাবনা কর।”-(সুরা সাবা, আয়াত ৪৬)। আল্লাহর জন্য খাড়া হওয়ার অর্থ ইসলামের বিজয়ে তাঁর সৈনিক রূপে খাড়া হওয়া। তাই মুসলিমকে শুধু নামাযে খাড়া হলে চলে না, রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও যুদ্ধের ময়দানে ইসলামের পক্ষে খাড়া হতে হয়।

তবে খাড়া হওয়ার জন্য শর্ত এ নয়, তাকে বিশাল কোন দলের সদস্য হতে হবে। যার যা সামর্থ্য আছে তা নিয়েই খাড়া হতে হবে। উপরুক্ত আয়াতে বলা হয়েছে, সাথী না জুটলে, একাকীই খাড়া হতে হবে। যুদ্ধ নানা ভাবে হয়। অস্ত্রের হতে পারে, বুদ্ধিবৃত্তিকও হতে পারে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কোন একটি স্ট্রাটেজী অবশ্যই বেছে নিতে হবে। ইসলামে নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকার কোন অবকাশ নাই। ঈমান নিয়ে বাঁচতে হলে জিহাদ নিয়েই বাঁচতে হবে। নিষ্ক্রীয় থাকার পথটি মুনাফিকির পথ।

নমরুদের সামনে খাড়া হয়েছিলেন হযরত ইব্রাহীম (আ:) নিতান্তই একাকী। তাঁর সাথে কেউ ছিল না। ফিরাউনের সামনে খাড়া হয়েছিলেন হযরত মূসা (আ:) ও হযরত হারুন (আ:) –মাত্র এই দুই ভাই। এরাই তো মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ নক্ষত্র। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে তাদের সে সাহসী ভূমিকা অত্যন্ত ভাল লেগেছিল এবং পবিত্র কোর’আনে তাদের সে সাহসিকতাকে তিনি চিরকালের জন্য অক্ষয় করে রেখেছেন। এবং দেখিয়েছেন, ঈমান কাকে বলে?

৬. বাংলাদেশীদের ব্যর্থতা

 গৃহে গলিত আবর্জনার স্তুপ দেখে শতভাগ সঠিক ভাবেই বলা যায়, সে গৃহে কোন সভ্য মানুষ বাস করে না। কোন সভ্য মানুষ কখনোই ঘরে আবর্জনা স্তুপ নিয়ে বসবাস করেনা। আবর্জনা সরানোই তাঁর সংস্কৃতি। তেমনি কোন দেশে ভোটডাকাতদের শাসন দেখেও নিশ্চিত বলা যায়, সে দেশে কোন সভ্য জনগণ বাস করেনা। সভ্য জনগণ বাস করলে সেদেশে ডাকাত তাড়ানোর যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত। অথচ তেমন একটি যুদ্ধ বাংলাদেশে নাই। ফলে বাংলাদেশ কেমন দেশ -সেটি কি বিশ্বাবাসীর কাছে কোন গোপন বিষয়? আজ শত শত কোটি টাকা খরচ করে ৫০ বছরের পুর্তি উৎসব হচ্ছে। কিন্তু ভোটডাকাতদের শাসনের যে অসভ্যতা -তা কি তাতে দূর হবে? এটি ঘরে গলিত আবর্জনার স্তুপ রেখে মুখে কসমেটিক লাগানোর মত।

৭. সবচেয়ে বড় নেক কর্ম

কাউকে কিছু পানাহার বা অর্থ দিয়েই অনেকে ভাবেন -কতই না সে উপকার করলো। কিন্তু ঈমানদারের ভাবনাটি বিশাল। সে ভাবে শুধু তার দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়া নিয়ে নয়, বরং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো নিয়ে। সে কাজের ছওয়াব এতোই বেশী যে মহান আল্লাহতায়ালা তাকেও জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করেন। সে কল্যাণ কর্মের ভাবনা নিয়েই যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এসেছিলেন। তাদের মিশনের লক্ষ্য অর্থনৈতিক বিপ্লব ছিল না, বরং সে্টি ছিল জান্নাতের যোগ্য রূপে মানবকে গড়ে তোলা। মাথা টানলে যেমন কান আসে, তেমনি জান্নাতের উপযোগী মানুষ সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রও তখন শান্তি ও সৃষ্টিশীল কর্মে ভরে উঠে।

রাষ্ট্র ইসলামী হলে সে বিশাল কাজটিই অতি সহজ হয়ে যায়। কারণ রাষ্ট্রই হলো মানব সভ্যতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান; মানবের কল্যাণে ও অকল্যাণে রাষ্ট্রের ক্ষমতাটি বিশাল। ফলে এ রাষ্ট্রকে দুর্বৃত্ত শক্তির কবজায় রাখার বিপদটি ভয়াবহ। রাষ্ট্রকে তখন জাহান্নামে নেয়ার বাহনে পরিণত হয়। ইসলামে তাই সবচেয়ে বড় নেক কর্মটি মসজিদ বা মাদ্রাসা গড়া নয়, সেটি হলো ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ। এটিই মানব সভ্যতার সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ। তখন দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি, আইন-আদালত, প্রশাসন, অর্থনীতি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যেমন মানুষকে শয়তানী শক্তির হাত থেকে রক্ষা দেয় তেমনি প্রস্তুত করে জান্নাতের উপযোগী করে। ২৭/০৩/২০২১