নির্বাচন হতে পারে জিহাদের অথবা ভয়ানক অপরাধের হাতিয়ার
- Posted by Dr Firoz Mahboob Kamal
- Posted on January 24, 2026
- Bangla Articles, Bangla বাংলা, সমাজ ও রাজনীতি
- No Comments.
ফিরোজ মাহবুব কামাল
নির্বাচন কিরূপে জিহাদের বা অপরাধের হাতিয়ার?
সভ্য ও উন্নত রাষ্ট্র নির্মাণে নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচন যেমন হতে পারে জিহাদের হাতিয়ার, তেমনি হতে পারে ভয়ানক অপরাধের হাতিয়ার। আগে যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কাজে রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হতো, এখন সে পরিবর্তনের কাজটিই ভোট দিয়েও সম্ভব। তেমন আগে দেশ ভাঙার ন্যায় নাশকতার কাজে যুদ্ধ করতে হতো, এখনে সে অপরাধের কাজটি সম্ভব ভোট দানের মাধ্যমে। নির্বাচন হতে পারে ব্যক্তির ঈমানের পরীক্ষার হাতিয়ার। মানবের প্রতিটি কথা, কর্ম ও আচরণের মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহর তায়ালা তার ঈমান, আক্বল ও প্রজ্ঞার পরীক্ষা হয়। এ জীবনে সফল হতে হলে এবং পরকালে জান্নাত পেতে হলে এ পরীক্ষায় অবশ্যই পাশ করতে হয়। যারা সে পরীক্ষায় ফেল করে তাদেরকে এ জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এবং পরকালে জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করা মহান আল্লাহ তায়ালার সূন্নত নয়।
নির্বাচনে ঈমানের পরীক্ষা নেয়া হয় মানুষের সামনে যেমন নমরুদ-ফিরাউন ও মুজিব-হাসিনার ন্যায় দুর্বৃত্ত ফ্যাসিস্টদের হাজির করে, তেমনি ঈমানদার নেক বান্দাদের হাজির করেও। যারা জালেম দুর্বৃত্তদের পক্ষ নেয়, ভোট দিয়ে তাদেরকে বিজয়ী করে এবং অস্ত্র হাতে তাদের পক্ষে যুদ্ধ করে -তারা নিশ্চিত সে পরীক্ষায় ফেল করে। বাংলাদেশে সে ফেল করা লোকদের সংখ্যাটি বিশাল। বস্তুত তারাই বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে নির্বাচন এলে পরিচিত দুর্বৃত্ত প্রতারকগণই তাদের ভোটে বিজয়ী হয়। মুজিব ও হাসিনার ন্যায় ফ্যাসিস্ট দুর্বৃত্ত ও খুনি তাই আসমান থেকে নাযিল হয়নি, নির্বাচিত হয়েছে জনগণের ভোটে। তাদের কারণে আজও বাংলাদেশে সভ্য ও উন্নত রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ সম্ভব হয়নি; বরং দেশটি বার বার দুর্বৃত্তিতে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।
দেশে কিছু চোর, ডাকাত, প্রতারক, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসী থাকতেই পারে। কিন্তু এ অপরাধীদের কারণে একটি দেশের চরিত্র পাল্টে যায় না। দেশও ধ্বংস হয়না। তাদের কারণে সমগ্র জাতির উপর আযাব আসে না। কিন্তু দেশবাসীর চরিত্র ও সংস্কৃতি পাল্টে যায়, আযাব আসে এবং দেশ ধ্বংস হয়ে যায় যদি অধিকাংশ জনগণ সমবেত ভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। জনগণ যে কাজটি সম্মিলিত ভাবে করে সেটি হলো নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে। অপরাধ শুধু চুরি ডাকাতি, ধর্ষণ ও মানুষ খুন নয়, নির্বাচনে এমন সিদ্ধান্তও যাতে ভয়ানক ক্ষতি হয় দেশ ও দেশবাসীর। বাঙালি মুসলিমের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কর্মটি হয়েছে কোন যুদ্ধে অর্জিত হয়নি, বরং প্রতিষ্ঠা পেয়েছে জনগণের ভোটে -সেটি ১৯৪৬’য়ের নির্বাচনে। সে নির্বাচনে শতকরা ৯৬ ভাগ ভোটার ভোট দিয়ে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ রাষ্ট্র পাকিস্তানকে প্রতিষ্ঠা দেয়। অপর দিকে বাঙালি মুসলিমের সবচেয়ে বড় নাশকতার কাণ্ডটিও কোন যুদ্ধে হয়নি, বরং হয়েছে ১৯৭০’য়ের নির্বাচনে মুজিবের ন্যায় ভারতের এজেন্ট ও ভয়ানক অপরাধীকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে। মুজিব নির্বাচিত করায় পাকিস্তান ভেঙে যায় এবং ভারত বিজয়ী হয়। ইসলামে অতি ভয়ানক অপরাধের কাণ্ড হলো দেশ ভাঙা ও কাফির শক্তিকে বিজয়ী করা। সে ভয়ানক অপরাধের কাণ্ডটি ঘটেছে একাত্তরে। এবং এ অপরাধে দায়ী প্রতিটি ভোটার যারা ১৯৭০’য়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দিয়ে দলটিকে বিজয়ী করেছিল।
ভোটে নেতা নির্বাচনের কাজটি উচ্চতর ইবাদত পরিণত হয় -যদি সে সিদ্ধান্তটি মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ দেয়। কিন্তু নেতা নির্বাচনের সে কাজটি ভয়ানক অপরাধে পরিণত হয় যদি তাতে মুসলিম উম্মাহর অকল্যাণ হয়। মিশরবাসীর উপর মহান আল্লাহ তায়ালা বার বার নানা রূপ আযাব পাঠিয়েছিলেন। তাদের অনেককে নীল নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন। কারণ তারা সম্মিলিত ভাবে অপরাধ করেছিল; সেটি ফিরাউনকে খোদা বানানোর মধ্য দিয়ে। তারা আক্বলের পরীক্ষায় চরম ভাবে ফেল করেছিল। তারা ফিরাউনের ন্যায় অপরাধীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। অথচ তারা পাগল ও বুদ্ধিহীন বেওকুব ছিল না। বরং সে সময় সমগ্র বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারাই ছিল সবচেয়ে অগ্রসর। বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য পিরামিড তারাই নির্মাণ করেছিল -যা বিশ্ববাসীকে আজও তাক লাগিয়ে দেয়।।
১৯৪৭ সালে অধিকাংশ বাঙালি মুসলিম অবাঙালি কায়েদে আযম মহম্মদ আলী জিন্নাহকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করেছিল। অপর দিকে ১৯৭১ সালে অধিকাংশ বাঙালি মুসলিম বাঙালি শেখ মুজিবকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করেছিল। বাঙালি মুসলিমের এ দুটি সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের। ১৯৪৭ সালের সিদ্ধান্তে মুসলিম উম্মাহ পেয়েছিল পৃথিবী পৃষ্ঠে সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান। তাতে তারা স্বাধীনতা পেয়েছিল। পূর্ব বাংলার কৃষকগণ পেয়েছিল জমির মালিকানা। পেয়েছিল ভাষা, বর্ণ, আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে প্যান ইসলামী মুসলিম রাষ্ট্র নির্মাণে সুযোগ। পেয়েছিল শরিয়াসহ পূর্ণ ইসলাম পালনের সুযোগ। দেশটি তার অখণ্ডতা নিয়ে বেঁচে থাকলে আজ পারমানবিক বোমার অধিকারি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রে পরিণত হতো। বাঙালি মুসলিমগণ স্থান পেত তার চালকের আসনে। ১৯৭১’য়ের সিদ্ধান্তে একটি মুসলিম রাষ্ট্র খণ্ডিত হয়ে যায়; দেশ পরিণত হয় ভারতের আশ্রিত রাষ্ট্রে। সে সাথে পায় গণতন্ত্রের কবর, বাকশালী ফ্যাসিবাদ, ভয়ানক দুর্ভিক্ষ, আয়নাঘর, গুম, খুন, সন্ত্রাস ও ব্যাংক লুট ও অর্থপাচারের রাজনীতি। এসবই মুজিব ও হাসিনার ন্যায় নৃশংস দৃর্বৃত্ত ও ভারতীয় এজেন্টদেরকে নেতা নির্বাচনের কারণে।
ঈমানের পরীক্ষা হয় নেতা নির্বাচনে
ঈমানদার ও বেঈমানের ধর্ম, আদর্শ ও সংস্কৃতি যেমন এক নয়, তেমনি এক নয় নেতা ও ও রাজনীতি। ঈমান দেখা যায়না, কিন্তু দৃশ্যমান হয় কাউকে নেতা নির্বাচিত করলো সেটি দেখে। নেতা নির্বাচনে গুরুত্ব পায় নিজের মনের অতি কাছের লোকটি। এক্ষেত্রে নেতার সাথে আদর্শিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ম্যাচিং তথা মানানসই হওয়াটি গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে নেতা বানানোর অর্থ তার বিশ্বাস ও এজেন্ডাকে নিজের বিশ্বাস ও এজেন্ডা বানিয়ে নেয়া। মানবের বুদ্ধি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ঈমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হয় বস্তুত সঠিক নেতা নির্বাচনের সামর্থ্য দেখে। তাই অপরাধী দুর্বৃত্তকে যে ব্যক্তি নেতা নির্বাচন করে -সে কখনো ভাল লোক হতে পারে না। অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে খুন, ধর্ষণ ও চুরিডাকাতির অপরাধে নয়, বরং নেতা নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণে। কাউকে নেতা নির্বাচনের অর্থ: তার আনুগত্য করা এবং তাকে বিজয়ী করার দায় নেয়া। নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত যতই পালন করা হোক, সে যদি ফিরাউনের ন্যায় নৃশংস ফ্যাসিস্ট, খুনি ও ইসলামের দুশমনকে নেতা রূপে বেছে নেয়, তার জন্য জাহান্নাম তো অনিবার্য। নবীজী (সা:)’র হাদীস: পৃথিবী পৃষ্ঠে যার সাথে ও যার নেতৃত্বের অধীনে বসবাস, আখরাতেও থাকতে হবে তারই সাথে। মৃত্যুর পর ফিরেশতারা প্রথমে যে প্রশ্ন করবেন সেটি নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাতের বিষয়ে নয়। বরং রব কে, দ্বীন কে এবং রাসূল বা নেতা কে –এ বিষয়ে। তাই ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ শধু মহান আল্লাহ তায়ালা, তাঁর দ্বীন ও তাঁর রাসূলকে চেনা নয়, বরং সঠিক নেতাকে খুঁজে বের করাও।
অপরাধীকে নেতা নির্বাচিত করার অর্থ অপরাধে সরাসরি অংশ নেয়া। তখন সেটি জাতীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হয়; এমন জাতির ধ্বংসে বিদেশী শত্রুর প্রয়োজন হয়না। জাতির জনগণ নিজেরাই তখন নিজেদের শত্রুতে পরিণত হয়। তখন ভোট দিয়ে দেশ ও দেশবাসীর শত্রুকে নির্বাচিত করা হয়। নিজেদের ক্ষতি সাধনের নিজস্ব প্রকল্পে এমন কি চিহ্নিত শত্রুশক্তিকেও নিজ ঘরে ডেকে আনা হয়। জাতি নিজেই তখন আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। বাঙালি জীবনে সেরূপ আত্মঘাতী নাশকতা দেখা গেছে ১৯৭১’য়ে। সেদিন আগ্রাসী হিন্দুত্ববাদী ভারতকে বাংলার বুকে ডেকে আনা হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা সে সময় নিজ দেশ ভাঙতে এবং বহু হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠনে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিয়েছিল। একাত্তরের বিজয়ের পর ভারত আর বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ন্যায় একটি স্বাধীন দেশ রূপে মানতে রাজী নয়। বাংলাদেশকে ভারত তার নিজের প্রতিরক্ষা বলয়ের অংশ রূপে ভাবতে শুরু করে। এবং দেখতে চায় মুজিব, এরশাদ ও হাসিনার ন্যায় ভারত অনুগত সরকারকে। এভাবে একাত্তর বাঙালি জীবনে স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে।
ভোট হতে পারতো সভ্য ও উন্নত রাষ্ট্র নির্মাণের হাতিয়ার
গৃহে দুর্গন্ধময় আবর্জনা ও মশা-মাছির উপদ্রব দেখে সহজেই বুঝা যায় সে গৃহে সভ্য লোকের বসবাস নাই। তেমনি দেশে চুরি-ডাকাতি, গুম, খুন ও দুর্বৃত্তির প্লাবন দেখে বুঝা যায়, সভ্য নয় দেশটির জনগণ। কারণ সভ্য মানুষের পরিচয় তো দুর্বৃত্তি নির্মূলের জিহাদের মাঝে। নামাজ-রোজা পালন না করেও মানুষ সূদখোর ঘুষখোর অসভ্য হতে পারে -যদি তার মধ্যে জিহাদ না থাকে। কারণ জিহাদ হলো দুর্বৃত্তি নির্মূলের লড়াই -সেটি যেমন ব্যক্তি জীবনে, তেমনি সমাজ জীবনে। সভ্য মানুষের গৃহে যেমন আবর্জনা জমতে পারে না, তেমনি মুজাহিদ জনগণের দেশে কখনো দুর্বৃত্তির প্লাবন থাকে না। সে জিহাদের সে পবিত্র অঙ্গন হতে পারতো প্রতিটি নির্বাচন। নির্বাচন হতো পারতো আবর্জনা সরানোর হাতিয়ার।
পরিতাপের বিষয় হলো, বাঙালি মুসলিমগণ নির্বাচনকে পরিণত করেছে অতি অসভ্য ও দুর্বৃত্ত অপরাধীদের বিজয়ী করার হাতিয়ারে। তাই বাংলাদেশীরা শুধু দুর্বৃত্তিতেই ৫ বার বিশ্ব রেকর্ড গড়েনি, বরং রেকর্ড গড়েছে মুজিবের ন্যায় বাকশালী ফ্যাসিস্ট, গণতন্ত্রের কবরদাতা, গণহত্যাকারী জালেম, পাকিস্তান ভাঙার নায়ক এবং পৌত্তলিক ভারতের সেবাদাসকে নির্বাচনে বিজয়ী করে। তারা এমন কি এই ভয়ানক অপরাধীকে বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতার খেতাবও দিয়েছে। সমগ্র মানব ইতিহাসে এটি হলো চারিত্রিক কদর্যতার আরেক বিশ্ব রেকর্ড। অথচ ইসলামে অপরাধ শুধু মূর্তিপূজা নয়, বরং গুরুতর অপরাধ হলো দুর্বৃত্তকে ভোট দেয়া ও সম্মান করাও। ইসলামের এজেন্ডা তো দুর্বৃত্তির নির্মূল ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা। ফলে একজন পরিচিত দুর্বৃত্তকে একজন সভ্য মানুষ ভোট দেয় কি করে?
সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণে অবশ্যই চাই সভ্য জনগণ। অসভ্য জনগণ দিয়ে সে কাজ অসম্ভব। নবীজী (সা:) তাই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ১৩ বছর পূর্বে সভ্য ও ঈমানদার মানুষ নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে সে কাজটি কোন কালেই নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নত মোতাবেক হয়নি। ফলে সভ্য মানব নির্মাণে বাঙালি মুসলিমের ব্যর্থতাটি বিশাল। সেটিই বার বার দৃশ্যমান হয় প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দানে মানুষের চরিত্র দেখে। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয় পেশাদার দুর্বৃত্তরা। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে এ রোগের প্রথমে চিকিৎসা হতে হবে। তবে চিকিৎসা শুরু আগে সে রোগটিকে প্রথম স্বীকার করতে হবে। এ রোগের চিকিৎসায় একমাত্র ঔষধ হলো কুর’আনী জ্ঞান -যা সৃষ্টি করে আখেরাতে আল্লাহ তায়ালার দরবারে জবাবদেহীতার ভয়। সে কুর’আনী ঔষধ বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে নবীজী (সা:)’র যুগে। সে ঔষধের প্রয়োগ বাড়াতে হবে।
সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো মানব গুণাগুণের সঠিক মূল্যায়ন। সৎ মানুষ ও দুর্বত্তরা কখনো এক নয়। যে সমাজে সততা, সুশিক্ষা ও অভিজ্ঞতার বদলে দুর্বৃত্তি, অশিক্ষা ও অনভিজ্ঞতা গুরুত্ব পায় -সে সমাজ কখনোই সভ্য হতে পারে না। সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণে নির্মূল করতে হয় দুর্বৃত্তদের এবং প্রতিষ্ঠা বাড়াতে হয় সজ্জনদের। এ পবিত্র কাজে ভোট হতে পারতো শক্তিশালী হাতিয়ার। দেশের জনগণ যদি বেছে বেছে ঈমানদারদের ভোট দিত -তবে দেশ এতোটা দুর্বৃত্ত কবলিত হতো না। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের ব্যর্থতাটি বিশাল। জনগণের ভোটে পরিচিত দুর্বৃত্ত, প্রতারক, ব্যাংক লুটেরা, সন্ত্রাসীরাও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়। দীর্ঘকাল যাবত দেশ ধেয়ে চলেছে এ অসভ্যতার পথে। ফলে দেশ জুড়ে প্লাবনটি চুরি-ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের। এতে অসম্ভব হয়েছে সভ্য সমাজ ও সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ।
মানবের মূল্যায়নে আল্লাহ তায়লার বিধান
মহান আল্লাহ তায়ালা শুধু নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও হালাল-হারামের বিধানই দেননি, পবিত্র কুর’আনে তিনি বার বার জানিয়ে দিয়েছেন মানুষের মূল্যায়নে তাঁর কাছে মানুষের কোন গুণটি সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। সে মাপকাঠিতে যারা উত্তীর্ণ হবে তারাই পরকালে জান্নাত পাবে। মানুষের উপর ফরজ হলো, মানুষের মূল্যায়নে তারাও যেন অনুসরণ করবে মহান আল্লাহর তায়ালার সূন্নত। মহান আল্লাহর তায়ালার কাছে গুরুত্ব পায় মূলত দু’টি বিষয়। এক). ব্যক্তির ঈমান; দুই) তাঁর নেক আমল। এখানে গায়ের রং, মুখের ভাষা, দৈহিক আকৃতি এবং তার দলীয়, গোত্রীয় ও আঞ্চলিক পরিচয় গুরুত্বহীন। তাই ইসলামে জাতীয়তাবাদী, বর্ণবাদী, গোত্রবাদী ও আঞ্চলিকতাবাদী হওয়া হারাম। বলা হয়েছে:
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّـَٔاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ ٱلَّذِى كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
অর্থ: “এবং যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, অবশ্যই আমি তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ দূর করে দেব এবং আমি অবশ্যই তাদের সেই উত্তম আমলের প্রতিদান দেব, যা তারা করতো।” –(সুরা আনকাবুত, আয়াত ৭)।
উপরিউক্ত আয়াতে ব্যক্তির মূল্যায়নে ঈমান ও নেক আমল -মাত্র এ দুটি গুণের কথা বলা হয়েছে। এ আয়াতে তৃতীয় কোন গুণের উল্লেখ নাই। অথচ বাঙালি মুসলিমদের বিদ্রোহ মহান আল্লাহর তায়ালার অনুসৃত এ মানদণ্ডের বিরুদ্ধে। মানুষের বিচারে তার ঈমান ও নেক আমল গুরুত্ব পায়নি। তারা প্রতিষ্ঠা দিয়েছে নিজেদের আবিষ্কৃত মানদণ্ড। সে বিচারে গুরুত্ব পায় ব্যক্তির পরিবারিক, দলীয় ও আঞ্চলিক পরিচয়। নির্বাচন কালে সেগুলির দিকে নজর রেখেই ভোট দেয়া হয়। তখন ঈমানদারি ও নেক আমলের কোন গুরুত্বই থাকে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অধিকাংশ নেতারা ক্ষমতায় বসেছে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে। তাদের শিক্ষা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারটি প্রায় শূন্য। অন্য দলে যোগ্য ও ঈমানদার থাকলেও তাকে ভোট দেয়া হয়না। এটি গুরুতর পাপ, কারণ তাতে অবাধ্যতা হয় মহান আল্লাহর তায়ালার বিধানের।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হতে হলেও শুধু বি.সি.এস. পাশ করলে চলে না, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অভিক্ষতাও থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার একটি রাষ্ট্রে চালকের আসনে কাউকে বসানোর সময় জনগণ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দেখে না। নির্বাচনে ভোট দেয়ার সময় জনগণ তার গালভরা বুলি এবং দলীয় ও পারিবারিক পরিচয় দেখে। ঈমান ও নেক আমল দূরে থাক, শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়ার কি ছিল শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা ছিল? কিসের ভিত্তিতে জনগণ তাদেরকে ভোট দিল? অদক্ষ অনাড়িকে বাসের চালকের সিটে বসালে দুর্ঘটনা তো ঘটবেই। সেটিই তো স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে অপরাধী শুধু অদক্ষ ও অনাড়ি চালক নয়, যারা তাকে চালকের আসনে বসার অধিকার দিয়েছে –তারাও কি কম অপরাধী?
অশিক্ষিত ও অযোগ্যকে ভোট দিলে রাষ্ট্র যে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে –অতি স্বাভাবিক হলো সেটি। সেরূপ বিপর্যয় দেখা গেছে মুজিব, হাসিনা ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে। মুজিবকে ভোট দেয়ায় একাত্তরে যুদ্ধ, ভারতের লুণ্ঠন, ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, গণতন্ত্রের মৃত্যু, বাকশালী ফ্যাসিবাদ ও রক্ষি বাহিনীর গণহত্যা এসেছে। হাসিনাকে ভোট দেয়ায় ভোট ডাকাতি, গুম, খুন, গণহত্যা, ভোটডাকাতি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, নৃশংস ফ্যাসিবাদ ও আয়না ঘরের সংস্কৃতি এসেছে। খালেদা জিয়াকে ভোট দেয়ায় দেশে দুঃশাসন ও দুর্নীতির প্লাবন এসেছে এবং বাংলাদেশ দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৪ বার প্রথম হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ব্যর্থতার জন্য শুধু রাজনৈতিক নেতারা দায়ী নয়, দায়ী তো তারাও যারা ভোট দিয়ে তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়েছে। জনগণের ব্যর্থতা হলো, তারা তাদের শত্রুদের চিনতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অশিক্ষিত ও অযোগ্যদের আস্তাকুড়ে না ফেলে মাথায় তুলেছে। এটিও কি কম অপরাধ? তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে অতি অপরিহার্য হলো, জনগণকে শিক্ষিত, সচেতন ও বিবেকবান করতে হয়। বাংলাদেশে বার বার গণতন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ এটিই।
বাঙালি মুসলিমের ১৯৪৭’য়ের প্রজ্ঞা ও ১৯৭১’য়ের অপরাধ
১৯৪৭’য়ের নির্বাচনে বাঙালি মুসলিমগণ তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ঈমানদারীর পরিচয় দিয়েছে। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে উপমহাদেশের মুসলিমদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইসলামকে বিজয়ী করার বিষয়। ফলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান। বাঙালি মুসলিমের সমগ্র ইতিহাসে এটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ কর্ম। অপরদিকে ১৯৭১’য়ের নির্বাচনে সংঘটিত হয়েছে বাঙালি মুসলিমের সমগ্র ইতিহাসে পলাশীর পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় কদর্য পরাজয় ও অপরাধ। বিপুল ভোটে বিজয়ী করা হয়েছে মুজিবের ন্যায় একটি বিশ্বাসঘাতক অপরাধীকে। তাতে ভেঙে গেছে পাকিস্তান এবং বিজয়ী হয়েছে আগ্রাসী ভারত।
১৯৪৭’য়ে বাঙালি মুসলিমগণ তাদের নেতাদের চিনতে ভুল করেনি। সে সময় প্রথম সারির বাঙালি মুসলিম নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা, দূরদৃষ্টি, সততা, শত্রুদের সঠিক চিহ্নিতকরণ এবং বাংলার মুসলিমদের নিয়ে তাদের কল্যাণ–চিন্তা শেখ মুজিব, তাজুদ্দীন, জিয়াউর রহমান ও সিরাজুল আলম খানদের ন্যায় একাত্তরের নেতাদের চেয়ে অধিক ছিল। দেখা যাক, ১৯৪৭’য়ের নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। খাজা নাজিমুদ্দীন লেখাপড়া করেছেন ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী লেখাপড়া করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। মৌলভী তমিজুদ্দীন খান লেখাপড়া করেছেন কলকাতার প্রসিডেন্সি কলেজে। শেরে বাংলা ফজলুল হক ও নূরল আমীন লেখাপড়া করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমন সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা একাত্তরের কোন শীর্ষ নেতারই ছিল না। তাদের সামর্থ্য ছিল না এসব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পা রাখার।
বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত উচ্চ শিক্ষা ১৯৪৭’য়ের নেতাদের জীবনে বিফল হয়নি। সে শিক্ষা তাদেরকে দিয়েছিল ভূ–রাজনৈতিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। সে সাথে দিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর কিছু করার তাড়না। তাদের সে প্রজ্ঞাই তাদেরকে ১২ শত মাইল দূরের পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও পখতুন খা প্রদেশের সাথে একাত্ম করেছিল। সেদিন এক অখণ্ড পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত না হলে পূর্ব বাংলা সেদিন স্বাধীনতার মুখ দেখতো না, আরেক কাশ্মীরে পরিণত হতো। কারণ, বিচ্ছিন্ন পূর্ব বাংলাকে গ্রাসের জন্য ক্ষুদার্ত কুমিবের ন্যায় ভারত অপেক্ষায় ছিল। ১৯৪৭’য়ের নেতাদের ন্যায় সে ভূ–রাজনৈতিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা না থাকার কারণেই ১৯৭১’য়ের নেতারা ভারতে সাথে কোয়ালিশন গড়ে পাকিস্তান ভেঙেছে এবং ভারতের ভূ–রাজনৈতিক অভিলাষকে তারা পূরণ করেছে। ভারতের এজেন্ডাই ১৯৪৭’য়ের নেতাদের এজেন্ডায় পরিণত হয়েছিল। এতে ভারতের নিরাপত্তা বেড়েছে; কিন্তু বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে ভারতের আছে আত্মসমর্পিত এক অরক্ষিত ও আশ্রিত বাংলাদেশে। ১৯৭১’য়ের আত্মঘাতী যুদ্ধ তাই স্বাধীনতা দেয়নি বরং বিচ্ছিন্নতা ও নিরাপত্তাহীনতা দিয়েছে। সেরূপ একটি ভয়ানক সম্ভাবনাই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে বাধ্য করেছিল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে চিঠি লিখতে। সে চিঠিতে লিখেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তান যদি পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তবে ভারত তা গ্রাস করে নিবে। (সূত্র; প্রফেসর সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন লিখিত: The Waste of Time)।
১৯৭১’য়ের বাঙালি ফ্যাসিস্ট ও সেক্যুলারিস্ট নেতাদের কোন উচ্চতর দর্শন ও ভাবনা ছিল না। তারা শুধু ভাঙার সামর্থ্য দেখিয়েছে, গড়ার সামর্থ্য নয়। চেতনার দিক দিয়ে তারা ছিল ইসলামপূর্ব জাহিলী যুগের ট্রাইবাল। এবং ট্রাইবাল নেতাদের মতই প্রচণ্ড ফ্যাসিস্ট। ট্রাইবাল নেতারা নিজ গোত্রের বাইরের কাউকে নিয়ে ভাবতে পারে না। ফলে বিহারিদের বাড়ি দখল ও বিহারি মেয়েদের উপর ধর্ষণ তাদের কাছে বিশাল গৌরবের ও অর্জনের বিষয় গণ্য হয়েছে। তাদের ছিল ক্ষমতার প্রবল মোহ। তারাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে সন্ত্রাসের জন্ম দেয়। রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূলে মুজিবের রক্ষীবাহিনী, সিরাজুল আলম খানদের গণবাহিনী, জেনারেল জিয়ার সামরিক আদালত এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠিত RAB –এসবই হলো নির্মূলমূখী সন্ত্রাসী চেতনার ফসল। তারা রাষ্ট্রকে নিজেদের সন্ত্রাসী রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত করেছে। ফলে বাংলাদেশে যত মানুষ সমাজের দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছে তার চেয়ে বেশী খুন হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের হাতে।
১৯৪৭’য়ের পাকিস্তানপন্থী নেতাদের কেউই মুজিবের ন্যায় গণতন্ত্রের শত্রু ছিলেন না। তাদের কেউ মুজিবের ন্যায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বেতনভোগী চাকর–বাকর ছিলেন না এবং ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের সাথে নিয়ে তারা কখনোই কোন ষড়যন্ত্র করেননি –যেমনটি করেছে শেখ মুজিব। পাকিস্তান ভাঙা এবং দেশটিকে ভারতের অধীনত করার এজেন্ডা নিয়ে ১৯৪৭’য়ে দেশটির জন্মলগ্ন থেকেই দিল্লির শাসক চক্র সক্রিয় ছিল। কারণ, ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতাদের ছিল পাকিস্তান ভীতি। তারা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা যেমন চায়নি, তেমনি দেশটি বেঁচে থাকুক –সেটিও চায়নি। মুজিব স্বেচ্ছায় ভারতীয় সে প্রকল্পের কলাবোরেটরে পরিণত হয়। কারণ, মুজিবও ছিল ক্ষমতালোভী। বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশে তার ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠা যত সহজ ততটা সহজ পাকিস্তানে নয়। মুজিব সেটি জানতো। জাতয়তাবাদী চেতনার আরেক ট্রাইবাল মেজর জিয়াও ভারতের কোলে গিয়ে উঠে। শত্রু দেশে ভারতের নিমক খেতে মাওলানা ভাসানীও সে দেশে হাজির হয়েছিল। এদের কারো রাজনীতিতেই মুসলিম উম্মাহর প্যান-ইসলামী একতা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ভাবনা ছিল না। ফলে ভারতের গলা জড়িয়ে ধরতে তাদের কোন সংকোচ হয়নি।
অথচ ভারতে ১৯৪৭’য়ে যেমন বাঙালি মুসলিমের বন্ধু ছিল না, আজও যেমন বন্ধু নয়, তেমনি বন্ধু ছিলনা ১৯৭১’য়েও। নেকড়ে কখনোই স্বভাব পাল্টায় না, সে সব সময়ই জীবন সংহারি। হিন্দুত্ববাদী ভারতও তেমনি সব সময়ই মুসলিমের শত্রু। কিন্তু সে সামান্য ঐতিহাসিক সত্যটুকু বুঝার সামর্থ্য শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান, মাওলানা ভাসানী, সিরাজুল আলম খান -এদের কারোই ছিল না। ফলে একাত্তরে তারা তাদের ঘরে গিয়ে উঠেছে এবং প্রচুর নিমক খেয়েছে। ২৪/০১/২০২৬
ANNOUNCEMENT
ওয়েব সাইটটি এখন আপডেট করা হচ্ছে। আগের লেখাগুলো নতুন ওয়েব সাইটে পুরাপুরি আনতে কয়েকদিন সময় নিবে। ধন্যবাদ।
LATEST ARTICLES
- ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং যে হয়েছে সেটি বুঝার উপায় কি এবং প্রতিকার কিরূপে?
- এ নির্বাচনে কবর হোক পরিবারতন্ত্রের
- ভোটের জিহাদটি হোক বদমায়েশদের নির্মূলে
- স্বাধীন বাংলাদেশের নির্মাণ ও সুরক্ষা কীরূপে?
- জনগণের উচিত দেশের মেধাবী ছাত্রদের থেকে শিক্ষা নেয়া এবং বিএনপি’র দূর্বৃত্তদের পরাজিত করা
বাংলা বিভাগ
ENGLISH ARTICLES
RECENT COMMENTS
- Fazlul Aziz on The Israeli Crimes, the Western Complicity and the Muslims’ Silence
- Fazlul Aziz on India: A Huge Israel in South Asia
- Fazlul Aziz on ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসালিমক রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- Fazlul Aziz on বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ
- Fazlul Aziz on Gaza: A Showcase of West-led War Crimes and the Ethnic Cleansing
ARCHIVES
- February 2026
- January 2026
- December 2025
- November 2025
- October 2025
- September 2025
- August 2025
- July 2025
- June 2025
- May 2025
- April 2025
- March 2025
- February 2025
- January 2025
- December 2024
- October 2024
- September 2024
- August 2024
- July 2024
- June 2024
- May 2024
- April 2024
- March 2024
- February 2024
- January 2024
- December 2023
- November 2023
- October 2023
- September 2023
- August 2023
- July 2023
- June 2023
- May 2023
- April 2023
- March 2023
- January 2023
- December 2022
- November 2022
- October 2022
- September 2022
- August 2022
- July 2022
- June 2022
- May 2022
- April 2022
- March 2022
- February 2022
- January 2022
- November 2021
- October 2021
- September 2021
- August 2021
- July 2021
- June 2021
- May 2021
- April 2021
- March 2021
- February 2021
- January 2021
- December 2020
- November 2020
- October 2020
- April 2020
- March 2020
- February 2020
- January 2020
- December 2019
- November 2019
- October 2019
- September 2019
- August 2019
- July 2019
- June 2019
- May 2019
- April 2019
- March 2019
- February 2019
- January 2019
- December 2018
- November 2018
