ওসমান হাদির আদর্শকে অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে

ফিরোজ মাহবুব কামাল

 

বাঙালি মুসলিমের সমগ্র ইতিহাসে ওসমান হাদি হলো একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান। সে হলো অটল ঈমান, দুর্বার সাহস, চরম ‌আত্মত্যাগ  এবং অবিরাম জিহাদের প্রতীক। সভ্য, স্বাধীন ও নিরাপদ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চাই এমন নির্ভীক, দেশপ্রেমিক, সৎ ও ঈমানদার মুজাহিদ। ওসমান হাদির জীবনে একটি মাত্র লক্ষ্য ছিল এবং একটি মাত্র তাড়না ছিল। সেটি হলো, কি করে বাঙালি মুসলিমদের শত্রু শক্তির আগ্রাসন থেকে স্বাধীন রাখা যায়। এবং কি করে একটি সভ্য, উন্নত ও গণতান্ত্রিক  রাষ্ট্র নির্মাণ করা হয়। এজন্যই সে ছিল স্বাধীনতাবিরোধী ও ভারতসেবী ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রধান টার্গেট। 

শয়তান ও তার অনুসারীরা কখনোই নিজেদের শত্রুদের চিনতে ভুল করে না। তাই তারা ভুল করেনি হাদিকে চিনতেও। হাদি গুলীবিদ্ধ হয়ে প্রমাণ করলো, শয়তানি শক্তির কাছে সে কত বড় মাপের শত্রু রূপে গণ্য হয়েছিল। অপর দিকে হাদিও বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল শত্রুদের চিনতে ভুল করেনি। হাদি চিনতে পেরেছিল রাজনৈতিক জগতের ফ্যাসিস্টদের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক জগতের ফ্যাসিস্টদের। হাদির আপোষহীন যুদ্ধ ছিল বস্তুত সকল ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে।

আল্লাহর কাছে যারা প্রিয়তর হতে চায় তারা এভাবেই হাদির ন্যায় শয়তানী শক্তির টার্গেটে পরিণত হয়। অপর দিকে যারা শয়তানী শক্তির কাছে গ্রহণ যোগ্যতা বাড়াতে ব্যস্ত, তারা ব্যর্থ হয় আল্লাহ তায়ালার বন্ধু হতে। তাদেরকে গুলী বিদ্ধ হতে হয়না।  ফাঁসিতেও ঝুলতে হয়না, কারাগারে বা আয়না ঘরেও যেতে হয়না। অথচ আল্লাহ তায়ালার বন্ধুগণ অবশ্যই পরিণত হয় শয়তানের শত্রুতে। এটিই ইতিহাস। নিরস্ত্র হয়েও হাদি তাই সশস্ত্র শত্রুর হামলার শিকার হলো।   

ওসমান হাদির গুলীবিদ্ধ হওয়ায় প্রমণিত হলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা পলায়ন করলেও তার অনুসারীদের ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। তাছাড়া ফ্যাসিস্ট হাসিনাই দেশের স্বাধীনতা ও গনতন্ত্রের  একমাত্র শত্রু নয়। একাত্তরের ভারতসেবী ফ্যাসিবাদী বয়ান নিয়ে আরেক দুর্বৃত্ত শক্তির পদচারণা দেখা যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে। এসব দুর্বৃত্ত শক্তিগণ সুষ্ঠ নির্বাচন বানচাল করতে চায় এবং দেশের উপর দখল নিতে চায় সন্ত্রাসের মাধ্যমে। তারা ইতিমধ্যেই দেশের হাটবাজার, বাসস্টান্ড, টেম্পু স্টান্ড দখলে তাই নিয়েছে।  এখন দখলে নিতে চায় সমগ্র রাষ্ট্রকে।

হাদির উপর হামলা শত্রু শক্তির প্রথম হামলা যেমন নয়, তেমনি শেষ হামলাও নয়। বুঝতে হবে শত্রুর যুদ্ধ কখনোই শেষ হয়না। শত্রু শক্তি শুধু তার যুদ্ধের কৌশল পাল্টায় মাত্র। যুদ্ধ নিয়ে বাঁচাই শত্রুর কৌশল। যুদ্ধ শেষ হয়না তাদেরও যারা শত্রুর আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ইসলামকে বাঁচাতে চায়। তাদেরও বাঁচাতে হয় বিরামহীন যুদ্ধ নিয়েই। ইসলামে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা এজন্যই হারাম। সেগুলি মুনাফিকির লক্ষণ।     

হাদি যেরূপ মগজে গুলীবিদ্ধ হয়েছে তাতে চিকিৎসকদের মতে তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা অতি সামান্যই। তবে একজন জীবিত হাদি যা কিছু দিতে পারতো,  শহীদ হাদি তার চেয়ে অনেক বেশি‌ দিতে পারবে। শহীদের মৃত্যু নাই।  তাই শাহাদাত লাভ করলে বাঙালি মুসলিমদের মাঝে শহীদ হাদি চিরকাল বেঁচে থাকবে এবং অবিরাম বিপ্লবের পথ দেখাতে থাকবে। পথ দেখাবে স্বাধীন, স্বনির্ভর ও ইসলামী বাংলাদেশ নির্মাণে।

দেহ রক্তশূন্য হলে রোগীকে বাঁচাতে ব্লাড ট্রান্সফিউশন দিতে হয়। তেমনি একটি জাতি ঈমানশূন্য হলে তাকে ঈমানের ট্রান্সফিউশন দিতে হয়। জাতীয় জীবনে‌ ঈমানের ট্রান্সফিউশন দেয়ার কাজটি করে শহীদগণ। তাই যে দেশে যত শহীদ উৎপাদিত হয় -সে দেশের মানুষ তত বেশী ঈমানদার হয়। মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী শহীদ তৈরী হয়েছে নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের আমলে। অর্ধেকের বেশী সাহাবা শহীদ হয়ে গেছেন। তাই তারা সফল হয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র, সভ্যতা ও সংস্কৃতি নির্মাণে। আশা করা যায় ওসমান হাদির আত্মত্যাগ বাংলাদেশের অগণিত মানুষের ঈমানকে উজ্জীবিত করবে। তাতে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়বে স্বাধীন ও সার্বভৌম ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে।

বাঙালি মুসলিমদের দায়িত্ব হলো ওসমান হাদির স্মৃতিকে ধরে রাখা। তার মত একজন মহান বীরকে সম্মানিত করা প্রতি বাঙালি মুসলিমের দায়িত্ব। যে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান দিতে জানে না -সে জাতি শ্রেষ্ঠ মানব উৎপাদনের কাজে বন্ধা হয়ে যায়। তাই দেশের স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ ওসমান হাদি সৃষ্টি করতে হবে। হাদি হবে নতুন প্রজন্মের জীবনে figure of highness. তার মত হওয়া নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা স্বপ্ন দেখবে।

ওসমান হাদীর মূল্যায়ন করতে হবে সকল দল ও মতের উর্দ্ধে উঠে। ‌ তার বক্তব্য ও লেখনীকে তুলে ধরতে হবে নতুন প্রজন্মের কাছে। তার জীবনীকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করতে হবে। বুঝতে হবে, যে দেশে ওসমান হাদির মত সাহসী ঈমানদার যুবক জন্ম নেয়, সে দেশ কখনো পরাধীন হয়না। ১৩/১২/২০২৫

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *