ইরানে মার্কিনী ও ইসরাইলী হামলা: সৃষ্টি হলো নতুন কারবালা এবং উম্মাহ পেল নতুন ইমাম হোসেন

ফিরোজ মাহবুব কামাল

 

নিঃসন্দেহে ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ সায়েদ খামেনাইয়ের শাহাদাত ইরানকে আরো শক্তিশালী করলো। তার শাহাদত ইরানী জনগণকে দিল নতুন প্রেরণা ও ‌ নতুন সম্ভাবনা। ইরান পরিণত হলো এক নতুন কারবালায়। এবং সৃষ্টি হলো এযুগের নতুন ইমাম হোসেন। তিনি ছিলেন একজন জিন্দা শহীদ। প্রায় ৪০ বছরে আগে তিনি একটি বোমা হামলায় একটি হাত হারিয়েছিলেন; কিন্তু প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি বৃদ্ধবয়সে শাহাদতের মর্যাদা পেলেন। এটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।    

আয়াতুল্লাহ খামেনাই এতটাই সাহসী  এবং শাহাদতের জন্য তিনি এতটাই প্রস্তুত ছিলেন যে, নিজ বাসস্থান ছেড়ে তিনি কোন গোপন স্থানে যাননি। ভূগর্ভের নিচে কোন বাংকারে গিয়ে আশ্রয় নেননি। অথচ চাইলে  তিনি সেটি পারতেন। প্রেসিডেন্ট পুটিন তাঁকে রাশিয়ার মেহমান হতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি রাজী হননি। হযরত ইমাম হোসেন (রা:)য়ের ন্যায় তিনিও ময়দানে বীরদর্পে  শাহাদতের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। এমন নেতারাই  ইতিহাস গড়ে। এবং অন্যদের মাঝে ঈমানকে জোয়ার তোলে। ইতিমধ্যেই রাজপথে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে ইরান, ইরাক, পাকিস্তান ও ইয়েমেনে।  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রচন্ড হামলার মুখে ইরানের সাধারণ জনগণ বিস্ময়কর সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। উপর্যপরি বোমা হামলার ভয়ে তারা ভূগর্ভের বাংকারে আশ্রয় নেয়নি। নিজ গৃহেও বন্দি থাকেনি। তারা লাখে লাখে রাস্তায় নেমে এসেছে এবং মার্কিনী ও ইসরাইলী হামলার প্রতিশোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিশ্ববাসীকে তারা জানিয়ে দিয়েছে, প্রাণপ্রিয় নেতার ন্যায় তারাও শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত। যেদেশে এতো জিন্দা শহীদ, সে দেশকে কি কেউ পরাধীন করতে পারে?

বুঝতে হবে, ইরান গাজা নয়। এটি এক বিশাল দেশ। ইরান গাজার ন্যায় চার দিক দিয়ে ইসরাইল দ্বারা ঘেরাও নয়। তবুও গাজা ধ্বংস করতে ইসরাইলের দুই বছর লেগেছে। এখনও হামাসকে নির্মূল করতে পারিনি। নির্মূলের কাজ সমাধা করতে আন্তর্জাতিক বাহিনীর দাবি তুলেছে। তাই ২০ বছরেও কি ইরানকে ধ্বংস করতে পারবে? ইরানের যুদ্ধ নিয়ে বাঁচার ইতিহাস আছে। ইসলামী বিপ্লবের শুরু থেকেই দেশটি যুদ্ধ নিয়ে বাঁচছে।    

এখন সুস্পষ্ট,  শুধু ইরানে নয়, বহু মুসলিম দেশেই রাজনীতির নতুন যুগের শুরু হবে‌ যা কাঁপিয়ে দিবে ইসলামের শত্রু পক্ষকে। যারা ভেবেছিল সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনাইকে হত্যা করলেই ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেবে তারা হতাশ হলো। এখন কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নামলে জনগণই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। ফলে তারা এখন ভয়ে গর্তে ঢুকেছে।    

হামলর প্রভাব পড়বে ইরাক, পাকিস্তান,  ইয়েমেন ও আফগানিস্তানসহ বহু দেশে। এসব দেশের জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে এবং মার্কিনী ও ইসরাইলীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। বহু দেশের রাজপথ এখন রণাঙ্গণে পরিণত হয়েছে। করাচীর রাজপথে মার্কিন কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভে আজ ৯ জন শহীদ হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হয়েছে বাগদাদের রাজপথে। ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মৌচকে ঢিল মেরেছে। এটি নিশ্চিত যে, রাজনৈতিক অঙ্গণে এ যুদ্ধ আরো বিস্তৃত হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে ইসলামের শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে

মুসলিম উম্মাহর সামনে এখন সুস্পষ্ট হলো কারা মুসলিমদের প্রকৃত শত্রু। যে ইসরাইল ও আমেরিকা যৌথভাবে গাজাতে গণহত্যা চালালো তারা কখনোই মুসলমানদের বন্ধু হতে পারেনা। তারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর পরীক্ষিত শত্রু। ‌আর  সৌদি আরব,  কাতার, কুয়েত, আমিরাত, বাহারাইন ও ওমানের মত যেসব দেশ  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় শত্রুদেরকে নিজ দেশে সামরিক ঘাঁটি বানানোর অধিকার দেয় তারাও মুসলিমদের বন্ধু হতে পারেনা। তারাও ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রু। এ যুদ্ধ মুসলিম উম্মাহর এ শত্রুদের মুখোশটি এখন উন্মোচিত করে দিল। লে তাদের জন্য বিপদ বাড়লো

মহান আল্লাহতায়ালা সুবাহানাতালা সবকিছুই দেখছেন। তিনি দেখছেন, কারা ইসলাম ও মুসলিম উম্মার দুশমন। তিনি দেখছেন তাদের অপরাধের মাত্রা। তিনি দেখছেন তার মুসলিম বান্দাদের ক্রন্দন, বেদনা ও আহাজারি। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি যেমন আবরাহার বিশাল বাহিনীকে আবাবিল পাখি পাঠিয়ে ধ্বংস করেছিলেন,  তেমনি ধ্বংস করতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে। ইনশাল্লাহ মহান রব’য়ের সাহায্য আসবে বং বিশ্ব রাজনীতিতে বিশাল পরিবর্তন আনবে। আশা করা যায় এখান থেকেই শুরু হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতন এবং  শুরু হবে মুসলিম উম্মার উত্থান০১/০৩/২০২৬

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *