এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও রাজনীতি বদলে দিবে

ফিরোজ মাহবুব কামাল

 

মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সম্পদে এতকাল লাভবান হচ্ছিল দেশগুলির স্বৈরাচারী শাসক চক্র এবং পাশ্চাত্য দেশের তেল কোম্পানিগুলো। এতদিন ‌তেল ও গ্যাস সম্পদ থেকে অর্জিত শত শত  বিলিয়ন ডলারের একচ্ছত্র মালিক হচ্ছিল দেশগুলোর স্বৈরাচারী শাসকগণ। জৌলুস বাড়ছিল তাদের পরিবারেরসে অর্থে বিশাল বিশাল প্রাসাদ নির্মিত হচ্ছিল। শত শত বিলিয়ন ডলার জমা হচ্ছিল পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাংকগুলিতে। সৌদি আরব একাই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করেছে। কাতারের শাসক ৪০০ মিলিয়ন ডলারের এক বিলাসবহুল বিমান উপহার দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এভাবেই তারা উম্মাহর অর্থের অপচয় করে।    

তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর স্বৈরাচারী শাসকগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ঘাঁটি করবার সুযোগ করে দিয়েছে। মার্কিনী এজেন্ডাই হলো তাদের এজেন্ডা। এ সামরিক ঘাঁটিগুলো মুসলিমদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য নির্মিত হয়নি। বরং এগুলির কাজ মুসলিম মধ্যপ্রাচ্যের উপর দখলদারি প্রতিষ্ঠা করা এবং ইসরাইলকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্যএবং এ ঘাঁটিগুলি ব্যবহৃত হচ্ছে ইরানের উপর হামলায়।

এবার তেল ও গ্যাসকুপগুলোতে আগুন লেগেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়েছে। এখন আর তেল উত্তোলিত হচ্ছে না। তেল উত্তোলন ও রপ্তানি বন্ধ হলে লাভ হবে আরব দেশের সাধারণ জনগণের ও মুসলিম উম্মাহর। তেল ও গ্যাস মাটির নিচে থাকলেই বরং মুসলিম উম্মাহর লাভ। তখন এ সম্পদ বাঁচবে দুর্বৃত্ত শাসকগোষ্ঠির হাতে লুণ্ঠন হওয়া থেকে। যখন এসব দেশে জনগণের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে তখন এই তেল ও গ্যাস সম্পদকে তারা জনগণের কল্যাণে লাগাতে পারবে।  এ যুদ্ধ দীর্ঘ কাল চললে ক্ষতি হবে স্বৈরাচারী আরব শাসকদের এবং পাশ্চাত্য দেশের অর্থনীতির। কোমর ভেঙে যাবে আরব স্বৈর শাসকদের। তখন জনগণের জন্য এদের পরাস্ত করা সহহবে

তাই বলা যায়, এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র রাজনীতি পাল্টে দিবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আরো বহু নেতাকে হত্যা করবে। বহু সামরিক ও বেসামরিক ‌অবকাঠামোকে ধ্বংস করবে। কিন্তু ইরান এতই বিশাল যে পুরা ইরানকে ধ্বংস করতে পারবে না। ইরান গাজা বা লেবানন নয়, এখানে ইরানের শক্তি। পুরনো নেতারা শহীদ হয়ে যাবে, নতুন প্রজন্ম নেতৃত্বের আসনে নতুন রক্ত, নতুন অভিজ্ঞতা ও নতুন বিপ্লবী জজবা নিয়ে দায়িত্ব নিবে৯ কোটি জনসংখ্যার দেশে এমন মুজাহিদদের সংখ্যাটি বিশাল -যারা শাহাদাতকে সৌভাগ্য মনে করে।

ইরান এর আগেও শত্রুর হাতে তাদের বহু শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছে। শহীদ হয়েছে আয়াতুল্লাহ বেহেশতী। তিনি ছিলেন ইসলামী বিপ্লবের অন্যতম স্থপতি। বলা হয়ে থাকে, তিনি বেঁচে থাকলে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর পর তিনি ইমামের দায়িত্ব পেতেন। একদিনের বোমা হামলায় এক সাথে হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট রেজায়ী ও প্রধানমন্ত্রী বাহানুরকে। হারিয়েছে তেহরান নামাজে জুম্মার প্রথম ইমাম আয়াতুল্লাহ তালেগানী। হারিয়েছে শীর্ষ বুদ্ধিজীবী আয়াতুল্লাহ মুনতাজিরীকে। ইরানের রাজনীতিতে তাদের গুরুত্ব শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ও শহীদ লারিজানীর চেয়ে কম ছিল না। কিন্তু তাদের শাহাদতে ইরান দুর্বল হয়নি, বরং দিন দিন শক্তিশালী হয়েছে।  ফলে এ যুদ্ধে ইরানের বিশাল ক্ষতি হলেও পরাজয়ের আদৌ সম্ভাবনা নাই। বরং এ যুদ্ধ জন্ম দিবে এক পারমানবিক ইরানের -যা পাল্টে দিবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও মানচিত্র।  ১৮/০৩/২০২৬

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *