বিবিধ ভাবনা ৬১

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১. চাই নতুন ফসল

হিফাজতে ইসলামের হুজুরগণ সাংবাদিক সন্মেলন করে বলেন তারা রাজনীতিতে নাই।এটি চরম সূন্নত বিরোধী কথা। যার মধ্যে ইসলামের সামান্য জ্ঞান আছে তারা কি এরূপ কথা বলতে পারে? এসব হুজুরদের কাছে প্রশ্ন হলো, নবীজী (সা:) কি ১০ বছর মদিনায় রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন না? খোলাফায়ে রাশেদা কারা চালালো? সে কালে কারা ছিলেন নানা প্রদেশের গভর্নর, বিচারক ও প্রশাসক? রাজনীতিতে না থাকলে কি রাষ্ট্র চালানো যায়? নবীজী (সা:)’র এমন কোন সাহাবা ছিলেন যিনি জিহাদ করেননি? জিহাদই তো মুমিনের রাজনীতি।

পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশে মাদ্রাসাগুলিতে অতীতের এসব ইতিহাস শেখানো হয় না। তাই নবীজীর রাজনীতির সূন্নত হুজুরদের মধ্যে নাই। তারা জিহাদে নাই। যে সূন্নতে জানমালের কুরবানী দিতে হয় -তাতে তারা নাই। তারা আছেন মিলাদ, মুরদা দাফন, কুর’আন খতম, মুয়াযযীনী ও ইমামতি নিয়ে। ফলে দেশের আদালত থেকে বিলুপ্ত হয়েছে শরিয়ত। রাজনীতির ময়দানসহ সমগ্র দেশ দখলে গেছে ইসলামের শত্রু পক্ষের হাতে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, বহু হুজুর ভোটচোর হাসিনাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং কওমী জননী বলে।

তাই বাংলাদেশের বিপদ শুধু ভোটচোর হাসিনা ও তার দুর্বৃত্ত বাহিনী নিয়ে নয়, বরং বিভ্রান্ত মোল্লা-মৌলভীদের নিয়েও। শত শত মাদ্রাসার এরূপ ফসল থেকে কি কোন কল্যাণ আশা করা যায়?  রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্লাবনের প্রবল স্রোতে সব যেন ভেসে গেছে। নতুন ফসল ফলানো ছাড়া মুক্তি নাই।

২. নবীজী (সা:) কি তবে জঙ্গি নন?

মহান নবীজী (সা:)’র ঘরে শুধু জায়নামায ছিল না, অনেকগুলি তলোয়ার ও ঢাল ছিল। ছিল, ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সদা প্রস্তুতি। সেরূপ প্রস্তুতি থাকাটি শুধু নবীজী (সা:)’র সূন্নতই নয়, মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশও। শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে সর্বদা প্রস্তুত থাকার সে নির্দেশটি এসেছে সুরা আনফালের ৬০ নম্বর আয়াতে। তাই যুদ্ধের প্রস্তুতি না থাকাটাই মহান আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।

ইসলামের শত্রুরা নিজেরা যুদ্ধ করে। মুসলিম দেশগুলিকে দখলে নেয় ও মুসলিমদের হত্যা ও ধর্ষণ করে। এরাই আবার মুসলিমদের বলে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এবং নসিহত করে, ঘরে বসে তসবিহ পড়।অথচ নবীজী (সা) তসবিহ পড়েছেন ও দুর্বৃত্তদের নির্মূলে জিহাদও করেছেন।

আজ মুসলিমগণ দেশে দেশে ইসলামের শত্রুপক্ষের দখলদারির শিকার। আর যেখানে শত্রুপক্ষের দখলদারি থাকবে, সেখানে যুদ্ধও আসবে। সেটিই স্বাভাবিক। ইসলামে সে যুদ্ধটিকেই পবিত্র জিহাদ বলা হয়। অথচ ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যারাই জিহাদের কথা বলে তাদেরকেই বাংলাদেশে জঙ্গি রূপে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যেন জঙ্গি হওয়াটাই অপরাধ। সেটিই যদি হয় তবে একথাও বলা যায়, খোদ নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের সবাই জঙ্গি ছিলেন। জঙ্গি একটি উর্দু শব্দ; এসেছে জঙ্গ তথা যুদ্ধ থেকে। জঙ্গি তো সেই যে যুদ্ধ করে। যুদ্ধ তো নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবনে ছিল। তাদের প্রতিটি যুদ্ধই ছিল জিহাদ। সেসব জিহাদে তাঁরা আবু জাহেলসহ বহু কাফেরকে হত্যা করেছেন। অতএব জঙ্গি না হলে ইসলামের বিজয় আসতো কি করে?  তাহলে প্রশ্ন হলো, নবীজী (সা:) কি জঙ্গি নন? ফলে জঙ্গি হওয়াটি অপরাধ হবে কেন? বরং এটি তো ফরজ। আসলে এসব কথা তারাই বলে যারা ইসলামকে সব সময় পরাজিত দেখতে চায়। এজন্যই মুসলিমদের তারা যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে চায়। অথচ ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিজয় বৃদ্ধির জিহাদ ছাড়া ভিন্ন পথ নাই। আর মহান আল্লাহতায়ালা তো সেটিই চান।  

৩. রাজনীতির গুরুত্ব

যাদের দেশপ্রেমিক তারা রাজনীতিতে যোগ দেয়। কারণ রাজনীতিই হলো শত্রুদের হাত থেকে দেশ বাঁচানোর হাতিয়ার। তাই শত্রুদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হলো রাজনীতিতে নামতেই হবে। যাদের ঈমান আছে তারাও অবশ্যই রাজনীতিতে যোগ দেয়। কারণ রাজনীতিই হলো ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের জায়গা। রাজনীতিবিদগণই দেশ চালায়। এবং রাজনীতির ময়দানেই সিদ্ধান্ত  নেয়া হয় দেশ কোন নীতিতে চলবে। ফলে যারা রাজনীতিতে নাই দেশের উপর নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন ভূমিকা থাকে না। তাই যারার আল্লাহর দ্বীনের বিজয় চায় তাদের জন্য রাজনীতিতে যোগ দেয়া ছাড়া কোন উপায় নাই। নবীজী (সা:)কে তাই রাজনীতিতে নামতে হয়েছে এবং তাঁকে রাষ্ট্র প্রধান হতে হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামও রাজনীতিতে নেমেছেন। তাদের অনেকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন, প্রদেশের গভর্নর হয়েছেন, প্রশাসক হয়েছেন। এবং বিচারকের আসনেও বসছেন। সেটি কি কখনো নামায-রোযায় নিজেদের ধর্ম-কর্ম সীমিত রাখলে সম্ভব হতো?

যারা রাজনীতিতে নাই, বুঝতে হবে ইসলামের বিজয় নিয়ে ও শত্রুদের পরাজিত করা নিয়ে তাদের কোন আগ্রহ নাই। তারা বাঁচে গরুছাগলের ন্যায় স্রেফ পানাহার নিয়ে। মুসলিমদের পতনের মূল কারণ এটিই। তারা পরিত্যাগ করেছে নবীজী (সা)’র রাজনৈতিক সূন্নত। নবীজী (সা)’র রাজনীতির মূল কথা হলো, ক্ষমতার মসনদ থেকে মিথ্যার ধ্বজাধারী ও দুর্বৃত্তদের নির্মূল এবং সত্যদ্বীন ও ন্যায় বিচারের প্রতিষ্ঠা। মুসলিমদের যখন বিশ্বশক্তির মর্যাদা ছিল তখন তারা শুধু নামায-রোযাই আদায় করতেন না। রাজনীতির ময়দানে তারা প্রত্যেকেই লড়াকু সৈনিক ছিলেন। সবাব জীবনে শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ ছিল। আজ বাংলাদেশে মসজিদগুলিতে নামাযীর অভাব হয়না। কিন্তু দারুন অভাব হলো রাজনীতির ময়দানে ইসলামের পক্ষে মুজাহিদের। ফলে মাঠ দখল করে নিয়েছে ইসলামের শত্রুপক্ষ।  

৪. অমান্য হচ্ছে মহান আল্লাহতায়ালার আইনের

মহান আল্লাহতায়ালার নিজের ভাষায় তাঁর নিজের পরিচয়টি দিয়েছেন পবিত্র কুর’আনে। সেটি হলো, “মালিকুল মুলক” তথা সমগ্র বিশ্বের মালিক তথা রাজা। আইন ছাড়া রাজার রাজত্ব চলে না, রাজ্যে শান্তিও আসে না। তাই মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর রাজ্যে বসবাসকারি সকল মানবের জন্য আইন প্রণয়ন করেছেন -যাকে বলা হয় শরিয়ত। মানব জাতির শান্তি, শৃঙ্খলা ও সফলতা নির্ভর করে সে আইনের প্রয়োগের উপর। নামায যেমন তাঁর বিধান, তেমনি শরিয়তও হলো তাঁর বিধান। নামায না পডলে যেমন কাফের হয়, তেমনি কাফের হয় সে আইন না মানলে। সে ঘোষণাটি এসেছে সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে। অথচ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে সে আইনে আদালতে বিচার হয় না। বিচার হয় কাফেরদের আইনে। সে আইনে ব্যভিচারও বৈধ যদি তা সম্মতিতে হয়। মহান প্রভু মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে এর চেয়ে বড় বিদ্রোহ আর কি হতে পারে? এ বিদ্রোহীদের কি তিনি জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করবেন?

দেশের পুলিশ, প্রশাসন ও আদালতের কাজ হলো, যারা আইন মানে না -তাদের শাস্তি দেয়া। মুসলিম মাত্রই মহান আল্লাহতায়ার পুলিশ তথা প্রহরী। তাদের দায়িত্ব, মহান আল্লাহতায়ালার আইনের প্রতিরক্ষা দেয়া। মহান আল্লাহতায়ালার সে পুলিশগণ সক্রিয় ছিল মুসলিমদের গৌরব কালে। তখন মহান আল্লাহতায়ালার শরিয়তী আইন অমান্য করলে পুলিশগণ অপরাধীদের গ্রেফতার করতো এবং আদালত তাদের শাস্তি দিত। কিন্তু আজ মহান আল্লাহতায়ালার সে পুলিশ কই? তারা পুলিশ পরিণত হয়েছে শয়তানী শক্তির প্রণিত আইনের।

৫. যেদেশে দুর্বৃত্তকেও সন্মাতি করা হয়

কোথাও আগুন জ্বললে সে আগুনকে দ্রুত থামাতে হয়। আগুন না থামিয়ে তাতে পেট্রোল ঢালাটি গুরুতর অপরাধ। তখন ধ্বংস নেমে আসে। তেমনি কোথাও চুরিডাকাতি, গুম-খুন ও ধর্ষণের কান্ড ঘটলে দ্রুত সে অপকর্মের নায়কদের শাস্তি দিতে হয়। এটিই সভ্য সমাজের রীতি। নইলে সমাজ অসভ্যতায় ভরে উঠে। তাই অতি ঘৃণীত অপরাধ হলো, চোর-ডাকাত, গুম-খুন ও ধর্ষকের নায়কদের শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে সন্মানিত করা। আগুনে পেট্রোল ঢালার মত এটিও অতি ভয়ানক। এতে বিলুপ্ত হয় সুস্থ্য মূল্যবোধ ও দুর্বৃত্তির বিরুদ্ধে মানুষের ঘৃনাবোধ। তখন দেশে জোয়ার আসে দুর্বৃত্তির। অথচ বাংলাদেশে সেটিই হচ্ছে। দেশটিতে দেশজুড়ে ভোটডাকাতি করা হলেও আদালতে ভোটডাকাতকে শাস্তি দেয়া হয়না। বরং তাকে ক্ষমতার শীর্ষ আসনে বসিয়ে তাকে সন্মানিত প্রধানমন্ত্রী বলা হয়। এরচেয়ে গুরুতর অপরাধ আর কি হতে পারে? অপরাধীকে এভাবে সন্মানিত করে কি কখনো সভ্য সমাজ নির্মিত হয়?

৬. অভিশপ্ত ইহুদীদের পথে মুসলিম

পবিত্র কুর’আনের সুরা জুম্মা’তে ইহুদী আলেমদের ভারবাহি গাধা বলা হয়েছে। কারণ, তারা হযরত মুসা (আ:)’র উপর নাযিলকৃত তাওরাত গ্রন্থটি সাথে বহন করে বেড়ায় এবং পাঠও করে। তবে তাওরাতে বর্ণিত শরিয়তি আইন রাষ্ট্রে প্রয়োগ করে না। ফলে শরিয়তি আইন শুধু কেতাবেই রয়ে গেছে। এটি হলো মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। এরূপ বিদ্রোহ তাদর উপর কঠোর আযাবও এনেছে। পবিত্র কুর’আনে তাদের এ বিদ্রোহের ইতিহাস সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে -যাতে মুসলিমগণ তাদের ন্যায় বিদ্রোহের পথ না ধরে। সেরূপ বিদ্রোহ যে আযাব নামিয়ে আনে -সে হুশিয়ারীও বার বার শোনানো হয়েছে।

অথচ পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমগণ সে অভিশপ্ত ইহুদীদের পথই ধরেছে। ফলে একই রূপ গাধা বিপুল সংখ্যায় বেড়েছে মুসলিম সমাজেও। তারা বার বার কুর’আন পড়ে এবং কুর’আনে হাফিজও হয়। কিন্তু তারা রাষ্ট্রের বুকে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা দেয় না। তারা ভাবে এতেই আল্লাহতায়ালা খুশি হবেন। অথচ শরিয়তের প্রতিষ্ঠা হলো মুসলিম রাজনীতির গোলপোষ্ট। শরিয়ত হলো মহান আল্লাহতায়ালার নিজের জমিনে তাঁর সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সে সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লাগাতর জিহাদ ছিল নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবনে। এবং সে জিহাদে সাহাবাদের বেশীর ভাগ শহীদ হয়ে গেছেন। অথচ শরিয়ত প্রতিষ্ঠার সে জিহাদ না থাকায় মুসলিম দেশগুলিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কাফেরদের প্রণীত আইন। ফলে ব্যাভিচার, বেশ্যাবৃত্তি, মদ্যপান, জুয়ার ন্যায় বহু অপরাধও আইনসিদ্ধ হয়ে গেছে। শরিয়তের আইনভিত্তিক প্রাপ্য শাস্তি পাচ্ছে না ভয়ানক চোর-ডাকাত এবং ধর্ষকগণও।

অথচ সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে অতি স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যারা তার নাযিলকৃত শরিয়তী আইন অনুযায়ী বিচার করেনা তারা কাফের, জালেম ও ফাসেক। তাই প্রশ্ন হলো, পবিত্র কুর’আনের এরূপ আয়াত বার বার তেলাওয়াতে লাভ কি যদি তা পালন করা না হয়? এমন আমলহীন তেলাওয়াতে কি আল্লাহতায়ালা খুশি হন? ইসলাম কি শুধু কি নামায়-রোযা ও হজ-যাকাতে সীমিত? সেটি তো সকল ধর্ম ও সকল আদর্শের উপর মহান আল্লাহতায়ালার এই কুর’আনী বিধানের বিজয়। সেটি মহান আল্লাহতায়ালার নিজের ভাষায় “লি’ইউযহিরাহু আলা দ্বীনি কুল্লিহি”। অর্থ: সকল ধর্ম ও মতাদর্শের উপর তাঁর নির্দেশিত দ্বীনের তথা ইসলামের বিজয়।

ইহুদী-খৃষ্টানেরা বেঁচে আছে কিন্ত হযরত মূসা (আ:) ও হযরত ঈসা (আ:)র শিক্ষা বেঁচে নাই। একই পথ ধরেছে মুসলিমগণ। ফলে বিপুল সংখ্যায় তারা বেঁচে আছে; কিন্তু বেঁচে নাই নবীজী (সা:)র ইসলাম যাতে ছিল ইসলামী রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্রের অখণ্ডিত বিশাল ভূমি, শরিয়ত, খেলাফত, শুরা-ভিত্তিক শাসন ও জিহাদ। শরিয়ত বেঁচে থাকলে কি মুসলিম দেশে বেশ্যালয়, ব্যাভিচার, মদ, জুয়া ও সূদী ব্যাংকের ন্যায় হারাম আচার প্রতিষ্ঠা পেত?

৭. সভ্যতর সমাজ নির্মাণের খরচ

সভ্যতর সমাজ নির্মাণের খরচটি বিশাল। ডাকাতেরা কখনোই স্বেচ্ছায় ডাকাতির মাল ফেরত দেয় না। ছিঁচকে চোর ধরতে হলেও তার পিছনে বহু দূর দৌড়াতে হয়। চোর-ডাকাত, ভোট-ডাকাত ও নানারূপ দুর্বৃত্তদের হাত থেকে দেশ বাঁচাানোর খরচটি আরো বিশাল। সে লক্ষ্যে দেশবাসীকে সর্বদা যুদ্ধ নিয়ে বাঁচতে হয়। এ রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধটি বেতনভোগী পুলিশ বা সেপাহী দিয়ে হয়না। ইসলাম এটিকে বেতনভোগীদের পেশা নয়, পবিত্র জিহাদ তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। আর ইবাদতে বিনিয়োগ করতে হয় নিজের জান, মাল, মেধা, শ্রম তথা সমগ্র সামর্থের। ঈমানদার তখন মহান আল্লাহতায়ালা সার্বক্ষণিক সৈনিকে পরিণত হয়। ইসলামের ইতিহাসে বড় বড় বিজয় এনেছে তো এরূপ অবৈতনিক সৈনিকেরা। মহান আল্লাহতায়ালা ঈমানদারের সে বিনিয়োগের প্রতিদান দেন অনন্ত-অসীমকালের জন্য নেয়ামত ভরা জান্নাত দিয়ে।

ক্ষুধা থেকে বাঁচতে উপার্জনে নামতে হয়, নইলে জীবন বাঁচে না। তেমনি শয়তানী শক্তির গোলামী থেকে বাঁচতে লাগাতর জিহাদে নামতে হয়। নইলে ইসলাম নিয়ে বাঁচা যায় না। ঈমানদার রূপে বাঁচা ও সভ্যতা নির্মাণের এ পথটিই হলো জিহাদের পথ। এছাড়া কোন ভিন্ন পথ না্ই। সমগ্র মানব সমাজে এটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে একাজের পুরস্কারও সবচেয়ে বেশী। মুসলিমগণ তাদের গৌরব কালে যেরূপ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার জন্ম দিতে পেরছিলেন -তার মূলে ছিল জিহাদ। জনগণের জীবনে জিহাদের ন্যায় এ ফরজ ইবাদতটি না থাকলে দেশবাসীর উপর অসভ্যদের শাসন চেপে বসে। ধর্মের নামে তখন অধর্ম শুরু হয় এবং চাপানো হয় জুলুম-নির্যাতনের দুর্বৃত্ত শাসন। তখন কঠিন করা হয় সিরাতুল মুস্তাকীমে চলা। এবং সরকারি উদ্যোগে সহজ করা হয় জাহান্নামের পথে চলা। বাংলাদেশ হলো তারই উদাহরণ। ২৮/০৬/২০২১




Fake independence, collaboration with the enemies & moral collapse of the Muslims

Dr. Firoz Mahboob Kamal 

 The infrastructure of enemy occupation                

In 2003, when the US Army took over Baghdad, hundreds of Iraqis came to the street to celebrate the American victory. Prior to that, many of the Iraqi leaders invited and co-operated with the murderous US Army. The same happened with the USA’s invasion of Afghanistan and Syria. So the occupation of people’s mind took place prior to the geographical occupation. In the last 70 years, most of the Muslim countries have received independence from the direct rule of their colonial masters. But, the so-called independence doesn’t give the Muslims the basic human rights to fully practise their political independence. Nor do they enjoy the religious rights to practise even the most crucial and defining Islamic obligations like sharia, hudud, shura, khilafa, trans-ethnic Muslim unity and jihad in any of these so-called independent Muslim countries. Whereas, prior to the colonial occupation, the Muslims fully enjoyed such rights. The geographical occupation has ended but the mental occupation continues.

The so-called independence has turned so fake that it doesn’t give the basic rights to dismantle the divisive and de-empowering walls of the Muslim World –especially in the Middle East. These divisive borders in the Muslim World were created not to serve the Muslims. These are made only to keep the Muslims weak and to serve the colonial interest. Any attempt to draw the political map on the basis of the obligatory pan-Islamic brotherhood –as was the norm in most part of Muslim history, is considered a threat to their interest and hence get reversed even by fully-fledged wars. The enemy-imposed disintegration of the Muslim World into 57 states is now labelled as an integral part of international stability and security; hence, not allowed to break these walls. This is indeed the infrastructure of occupation.

The western imperialists fully understand that their dominance in the Muslim World can’t survive only with military victory. It needs ideological, social, cultural and geopolitical engineering. The geographical disintegration, de-Islamisation, secularisation, cultural conversion and delegitimisation of jihad are the indispensable parts of such engineering. And in its execution, the western imperialists have shown remarkable brilliance. They could take Muslims far away from Islam. So, in the First World War, the British and French imperialists could recruit more than a million Arab Muslims as mercenaries to occupy Muslim lands for them. The enemies’ success in ideological and cultural engineering is so huge that the Arabs celebrate the division of their land into 22 parts and jihad –the most important ibada in Islam stands alien among the Muslims. Even jihad against foreign occupation is labelled as a terrorist act. The project of de-Islamisation has been so successful that Prophet (peace be upon him)’s Islam with its core elements like sharia, hudud, shura-based rule, pan-Islamic unity doesn’t survive anywhere in the Muslim World. The profound success of enemies’ cultural engineering can be seen in clubs, pubs, casinos and the coastal beaches of the so-called Muslim countries like Turkey, Lebanon, Egypt, Tunisia, Algeria, Indonesia and many others. The practices there are seldom different from kuffar countries. In fact, the Muslims have been ideologically and culturally moulded to live without Islam.

About 1.3 billion Indians of different religions, languages, casts and ethnicities live in one state. But less than 300 million Arab Muslims of the same language, religion and ethnicity are forced to live inside the walls of more than 20 states –like the condemned detainees in prison cells. Such divisive prison cells –called states, are built to serve the exploitative interest of the imperialists, the security interest of Israel and the survival interest of the autocratic despots. These walls are erected by the imperialists to stop the spillage of oil revenues to the neighbouring poor people. These are reserved only for their own exploitation. The oilfields are given statehood. Separate flags of statehood are hoisted on oilfields like Kuwait, Bahrain, Qatar, UAE, Oman, and Brunai only to feed the imperialists. The colonial kufr laws, the western evil ideologies, the corruptive politics and the economics of multi-national exploitation still maintain their unfettered occupation in these so-called independent states. What could the worst irony that the Muslims celebrate such occupation as liberation! The anti-Islamic secularist elites -trained and tamed in the old colonial institutions, play the servile role to sustain such occupation. In most of the Muslim countries, the civil and military enclaves of these ruling elites are indeed the ideological cum cultural islands of the western imperialists. These enclaves show little dissimilarities from the western mainlands.

As a result of such occupation, trillions of dollars of oil, gas, petrodollars and other natural assets of the Muslim World are adding more affluence and military strength to the imperialists to sustain the occupation. All the bombs and missiles that are dropped on the people of Iraq, Afghanistan, Syria, Somalia, Yemen and other countries are indeed made by oil and gas money of the Muslim countries. As if, they are frying fish in their own oil. It is a pity that despite trillions of dollars of unearned petrodollars, 1.5 billion Muslims continue to remain the most powerless and the most defenceless people on earth. The brutal rulers of these client states receive the non-stop supply of bomber jets, heavy artilleries, tanks, cluster bombs, chemical bombs, and missiles to subjugate their own people. While visiting Saudi Arabia, the former US President Mr Donald Trump made a deal to sell 110 billion US dollars of weapon to enhance the kingdom’s killing power against its own people and neighbours. The USA also sold 12 billion dollars of weapons to a tiny country of Qatar with a native population of less than four hundred thousand.  

 

The collective failure

For the ongoing occupation of the Muslim countries, not a single person, group, generation or tribe to be blamed. It owes to the collective failure of the whole ummah. The rebellion against the decree of Allah Sub’hana wa Ta’la and pursuance of their own opportunistic agenda indeed lies in the heart of all failures. They ignored the Islamic principle that obeying the Qur’anic prescription is an obligation on every Muslim and no one is exempted from the obligation. Awfully, most of the Muslims pay little heed to such Qur’anic command. Islam is no more practised in the way as has been practised in the early days of Islam. When the Muslim countries remain occupied by the colonialists for about two hundred years, most of the Muslims showed total inaction or abstention. A very few took part in obligatory jihad against the occupying kuffars. Their action thus stands exactly opposite to that of the early Muslims. When the first Islamic state was attacked by the Arab, Persian or Roman kuffars, the Muslim participation in jihad was more than 90 cent percent. Only the sick, the blind and the lame stayed behind. In the war against the invading Roman Army in Tabuk, only three Muslims didn’t take part. In response, they faced a social boycott.

Iman of a believer never stays hidden. It is visibly expressed through participation in war in the way of Allah Sub’hana wa Ta’la. The physical, financial and intellectual engagement in jihad against the enemies of Islam indeed works as the most reliable marker of iman. Even a hypocrite can dress like a Muslim. He can join five times a day in religious rituals and can also spend money on charities. But, he doesn’t possess the moral strength or appetite to join a war against Islam’s enemies. The enemies of Islam now appear everywhere; almost all of the Muslim countries stand under one or other forms of occupation. These forces of falsehood have dismantled sharia, hudud, shura, Muslim unity, Islamic education and other basics of Islam all over the Muslim World. But, where is jihad against these warring forces of falsehood? Instead, they accept them as the leader and celebrate their rule. Whereas, because of jihad, a few thousand people of Medina could raise the most powerful Islamic state in history. They could defeat two contemporary World Powers like the Roman and the Persian Empires. Within a very short period of time, they emerged as the most powerful state on earth. They could release millions of people from centuries-old slavery and tyranny. Because of the Islamic State, the Muslims could also practise full Islam with its sharia, hudud, shura, khelafa and trans-ethnic Muslim brotherhood without an iota of comprise. This is why they got labelled as the best people on earth of all ages.

 

The betrayal and the deviation

Prophet Muhammad (peace be upon him) is recognised as the best prophet and the best man in the whole span of human history. Such credit doesn’t owe solely to his role as the great preacher of Islam. Rather, it is due to his decisive role as a political leader who could successfully defeat the forces of evils and raise an Islamic civilisational state which could become the most powerful World Power in the contemporary world. He worked as the head of the Islamic state for ten years and left an invaluable legacy vis-a-vis running a state.  If he had limited his works only to teaching, preaching and doing rituals, the Muslims had to live under the kuffar occupation –as is the case with the Palestinian, Kashmiri and Uighur Muslims today. Then, raising head as a dominant civilisation force would have remained only as a dream.

Prophet Muhammad (peace be upon him) turned politics into a life-long ibada –called jihad to eradicate the forces of evils and implement the truth and justice. The obligatory prayers are the binding obligation unto Allah Sub’hana wa Ta’la. But the life-long political war to Islamise state and societies is an obligation unto mankind. The deeds like donating money, building a house, giving education and curing illness are good works. But the greatest service to mankind is to establish a safe and welfare state free from falsehood, oppression and injustices. Lecturing on morality and preaching good words don’t need to be a saint. Anyone can do that. But the real merit lies in the implementation. Good words do not bring any benefit if fail to get implemented.  Prophet Mohammad (peace be upon him) not only preached morality, humanity, equality and people’s right, but he could also fully implement that. That makes him distinctly different from others. He is indeed unique in the whole history of mankind. So he is the greatest m\n in the history of mankind. Politics of eradicating the evils and enjoying justice is his greatest legacy. But the Muslims are now known for the dismal betrayal against such prophetic legacy.      

The enemies of Islam are not afraid of Muslims’s huge number. Nor are they worried about millions of mosques and the increasing number of attendants. They are only worried about Prophet (peace be upon)’s political legacy that can turn Muslims into a powerful revolutionary force. The enemies are deadly against such Islam of the Prophet (peace be upon him). They have given it a new name called political Islam. How ridiculous that the enemies even claim that such political Islam has no place in Prophet’s Islam. What a shameful deviation! The ruling despots of Saudi Arabia, Egypt, UAE, Bahrain, Oman and many other countries are at the forefront against Prophet (peace be upon)’s political legacy. In fact, their Islam has no similarity with Prophet (peace be upon)’s Islam. In Prophet’s Islam, there is no place for the autocrats. Therefore, the rulers like Abu Bakar (R), Omar (R), Osman (R) and Ali (R) didn’t need to be a son of a king. These enemies of Islam hide the historical fact that Prophet (peace be upon him) ruled as the head of the state for ten years. It is a huge disgrace for the whole Muslim ummah that the seat which has the honour to have the Prophet (peace be upon him) on it has been usurped by autocratic tyrants. They were not elected by the people but selected by the colonial occupiers. As per their master’s wish, they could drive the Ummah each day only to a new low.

  

The moral collapse

In comparison to the achievement of the early Muslims, the failure of today’s 1.5 billion Muslims is highly awful and humiliating. They could raise large armies and could also build a huge number of shops, roads, schools, universities and industries. But, they can’t even think of any Islamic state in any part of the world, let alone establishing it. They have made history in inaction, submission and surrender. Millions of them have even taken the path of collaboration and coalition with the invading enemies only to appease their opportunistic greed. The moral depletion of today’s Muslims has been so profound that it has caused them the serious ethical inability to hate, condemn or protest against the most brutal enemy aggression in any part of the Muslim world. So, the largest anti-war demonstration against the USA invasion in Iraq in 2003 didn’t take place in any of the big Muslim capital cities like Jakarta, Islamabad Cairo, Dhaka or Ankara rather in London, Paris or Rome. The moral failure of the Muslim thus gets displayed worldwide.

The symptoms of the collective failure of the Muslims are huge. These are expressed robustly through moral, cultural, spiritual, educational, ideological and political failures. Of the ten top most corrupt countries of the world, most are Muslim countries. Similarly, the most brutal autocrats who deny basic human rights to their own people also happen to be Muslim. These despots are so cruel and genocidal that they roll tanks and heavy artilleries on the streets to kill unarmed protestors –as seen in recent years in Cairo, Islamabad, Dhaka, and Damascus. The government of Syria dropped chemical bombs, barrel bombs and cluster bombs on the civilians to kill or evict them from their homes. When the people of Gaza got the shower of Israeli bombs, the Egyptian government didn’t bother to open the border to receive even the wounded children and women. When the traumatised Rohingya Muslims from Myanmar tried to take shelter in neighbouring Bangladesh, initially their boats were not allowed to get nearer to the shore. They were forces to sail for far distant Malaysia, Thailand or Indonesia. Later on, the Bangladesh government was obliged to give them access to avoid global condemnation.

 

The enemy crimes and the complicity of the cowards

Cowardice causes incurable moral incompetence to be a true Muslim. To be a Muslim, it needs minimum courage for telling the truth and to stand against crimes and injustices. Nor does it help qualify for enjoying basic human rights. Such rights have never been a gift, rather earned by bloody combat against the oppressive tyrants. It is a tragedy that a long period of imprisonment by the enemy occupiers always deconstructs souls, beliefs, behaviour and culture. It has proved highly catastrophic during the long slavery under the European colonial tyrants. It has worked as a strong dehumanising factor to culminate cowardice among the Muslims. If a lion is kept in captivity for decades, it detests coming out of the cage even if the door is left open. Because of long colonial taming, Muslims could be easy prey in the hands of the home-grown autocrats. Therefore, the criminal rulers are not the only party to commit crimes in the Muslim World, the complicity of the cowardly people who accept such native or foreign killers as the ruler and work as their obedient servants also bear the blame. Such submission to the criminal despots brings disgrace, failure and punishment both here and in the hereafter. Indeed, such submission to the criminal despots is incompatible with true submission to Allah Sub’hana wa Ta’la. This is why fighting against kuffar occupation is such a high ibada in Islam. Those who are killed in the encounter enter paradise without any trial.  

The tyrants always make it impossible to follow the Qur’anic roadmap. Because they prescribe their own roadmap to be pursued by the subjects. This is why autocracy and Islam are incompatible. Hence, standing against tyrant rulers is not a political agenda, it is a prophetic job. To add more importance to that, Prophet Ibrahim (peace be upon him), Prophet Musa (peace be upon him) and many prophets were commanded by Allah Sub’hana wa Ta’la to stand face to face against the tyrants like Nimrod and Pharaoh. For freeing people from submission to the evil rulers, jihad comes as the highest form of ibadah. It stands as a Qur’anic obligation. To disseminate such a message, Allah Sub’hana Ta’la commands His great Prophet (peace be upon him) to announce the following Qur’anic advice to the people in public: “O prophet! Say (to the people): I advise you only on one thing, rise up for Allah (against the criminals who oppose Islam) in two (if possible) or singly (on your own).” -(Sura Saba, verse 46). So the Muslims are not given an option to wait for a big leader, a big party or Imam Mehdi for starting the assigned job.

 

The common kuffar agenda

Falsehood and its awful calamities never die. Instead, it keeps on challenging the Divine Truth all the time and in all places. In all ages, it gets new preachers, new leaders and new armies. Hence, the enmity to Islam that could attain the cataclysmic hype at the time of Nimrod, Pharaoh, and Abu Jahl still survives under the US-led imperialists. Corrupting the Qur’anic ideology of Islam as well as the physical, ideological and cultural occupation of the Muslim ummah receive the highest priority in their politics, economics and warfare. For carrying out such an anti-Islamic agenda, they have recruited a huge number of fake ulama, fraudulent Muslim intellectuals and mercenary soldiers from the Muslim lands. They consider the rise of Islam as a great threat to western civilisation. In his meeting on July 6, 2017, with the Russian President Mr Vladimir Putin in Hamburg, the former USA President Mr Donald Trump very candidly expressed such fear. To encounter the Islamic challenge, he sought very earnestly the Russian collaboration. Such a request for Russian help exposes his deep fear that the USA alone can’t win its war against Islam. Such Islamophobia dominates not only in the psyche of President Donald Trump, the leaders of the EU, Russia, India, China and other non-Muslim countries are no exception. These kuffar countries have a lot of differences on a lot of issues; but while they deal with Islam and the Muslims, show the full consensus. Because of such consensus, these imperialist countries could easily give the full legality to the illegal creation of Israel on an entirely occupied Muslim land of Palestine. They also show a similar consensus on the Indian occupation of Kashmir. Now, they show the full consensus too in condemning any resistance against such illegal occupation as terrorism. Because of the same anti-Islamic venom, fighting against the US-led occupying force in a Muslim land get condemned as terrorism.

Each of the imperialist countries has its old anti-Muslim and anti-Islamic war in its own domain. Such wars take these countries naturally and understandably to the anti-Muslim camp. The USA is heavily entangled in its never-ending imperialistic war against the Islamists in Afghanistan, Iraq, Syria, Yemen, Somalia, Palestine and many African countries. The USA Army has killed more than a million people in those countries and turned hundreds of cities and villages into rubbles. Thus the USA has already raised a huge flame of hatred in the Muslim souls; every day they are adding more fuel to the flame by killing more people. Russia has a similar genocidal war in Chechnya, Ingushetia, Dagestan and Syria. In 1999, the Russian Army flattened the whole city of Grozny –the capital of Chechnya and killed thousands of Muslims there. The Russian warplanes also flattened the historic Syrian city of Aleppo and many others in Syria too. India’s war in Kashmir and China’s war in Xinjiang are no less genocidal either. More than a hundred thousand Muslims have already been killed in Kashmir. The Indian Army’s killing mission still continues with more lethal weapons. Indian Prime Minister Narendra Modi’s visit to Israel definitely added more killing skills and more sophisticated weapons to the Indian Army. Anyone who stands against such killing of Muslims is labelled as a terrorist. But those who occupy foreign countries, flatten cities and kill millions ironically claim to be the torchbearer of democratic values. Like many western leaders, President Donald Trump used to claim that the USA is at war to defend Western values!

Therefore the question arises if the USA wars of occupation, genocide and destruction are applauded as the defence of western democratic values then what else is barbarity? On such a perverted conceptual premise, evicting people from homes, total destruction of cities and bombing people to death is declared as a victory. Therefore, almost total destruction of Aleppo, Ramadi, Fallujah, Tikrit, Kobani, Raqqa and Mosul is celebrated as a great victory both by the occupying power and their cronies in the Muslim land. The occupied Muslim lands have indeed proven to be the fertile breeding ground for such servile cronies. The physical, intellectual and political occupation has proven to be so much morally toxic that the Muslims of the occupied land even join the kuffar enemies to celebrate their victories –as seen in Jerusalem and Damascus in 1917, Dhaka in 1971, in Kabul in 2001 and in Baghdad in 2003. And now, they celebrate the occupation of their countries native tyrants.

 

The test and the failure

Allah Sub’hana wa Ta’ala has a strategy. From the very beginning of human civilisation, the world is ideologically, politically and culturally bi-polar. One pole is for true faith, morality, good deeds and justice. This is the pole of Allah Sub’hana wa Ta’ala. The other polar is for the falsehood, immorality, crimes and injustice. In this pole, all the deviations and perversions in the name of religions, ideologies, traditions, and cultures are lumped together. Shaitan is allowed to plays a role here. He calls people to his pole of falsehood, crimes and immorality. There is no third or neutral pole. Like today, the world stayed always polarised. Such a state of bipolarity tests people’s ability to select the right one.  

Everyone has been given the free choice to side with any one of the two poles. The needed fitness of a human for a place in paradise is tested here in this world. It is indeed the most crucial and decisive test in life. But it is not a difficult test. Allah Sub’han wa Ta’a has created humans as His best creation and everyone is instilled with adequate intelligence to pass the past. He can even land on the moon with the imbued intelligence. People fail the test only because of the wrong focus and inattention. For passing the test, it needs to be correctly polarised. In the past, even a huge number of illiterate people could amply pass it. Moreover, thousands of prophets and many Divine books are sent to help people pass the test. Whoever fails the test indeed betrays all invaluable Divine endowments. For such a betrayal, one has to pay a heavy price. He or she qualifies for the hellfire.

Most of the people will burn in the hellfire not for killing, stealing or raping someone, but for failing this simple test of common sense. It never needs any college or university education to pass it. The wrong and the right, the truth and the falsehood, the morality and immorality are not difficult to differentiate. As the mid-day sun, these are distinctly visible. Fourteen hundred years ago even the illiterate men or women of Arabia could rightly identify the truth from the falsehood; hence could be rightly polarised.

Shaitan has his strategy and a huge army to take people to his pole. It is a pity that Shaitan could get immense success to polarise people to his side even in the Muslim countries. Thus Shaitan has exposed the ideological as well as the moral collapse of the Muslims. They have awfully failed to stand around Allah Sub’hana Ta’la’s pole. Even religious scholars, university professors, imams, intellectuals, and political leaders have failed to be rightly polarised. This is why very few of them are found in the camp of Islam. As a result, Prophet (peace be upon him)’s Islam with the Islamic state, sharia, hudud, rule of shura, jihad, and Muslim unity is non-existent in the Muslim World. It indeed owes to the individual as well as the institutional failure of the Muslims. The educational, political, cultural and religious institutions have badly failed to generate the necessary insight among Muslims to pass the test. All other failures of the Muslim ummah are the outcome of this fundamental failure. 24.06.2021




বিবিধ ভাবনা ৬০

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১. ইতর চেতনা ও অর্জিত আযাব

ভাষা, বর্ণ  ও আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে বিশ্বময়ী প্যান-ইসলামীক মুসলিম ভাতৃত্ব ও ঐক্যের কথা বললেই অনেকের কাছে সেটি অসম্ভব ও অলিক ইউটোপিয়ান কথাবার্তা মনে হয়। এরূপ কথায় তাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। কিন্তু উপায় নাই। লক্ষ্যটি বহু দূরের ও দুরুহ মনে হলেও  পথচলাটি প্রতি মুহুর্তে সঠিক পথে হওয়াটি জরুরি। নইলে চলাটি ভূল পথে হয়। তাই একতার পথ ছাড়া ঈমানদারের সামনে ভি্ন্ন পথ নাই। বিশ্বময়ী মুসলিম ঐক্যের পথই হলো মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নির্দেশিত একমাত্র সঠিক পথ। পবিত্র কুর’আনে এই পথকেই বলা হয়েছে সিরাতুল মুস্তাকীম। বিভক্তির পথ কখনোই সিরাতুল মুস্তাকীম হতে পারে না, সেটি শয়তানের পথ। তাছাড়া পথ চলায় সফল হওয়াটিই বড় কথা নয়। সেটি ভাবনার বা শংকার বিষয়ও নয়। সফলতা জুটে একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফলে সফলতার পুরা ক্রেডিট তো মহান আল্লাহতায়ালার। ব্যক্তি তো পুরস্কার পায় তার নিয়েত, মেহনত ও সঠিক পথ বেছে নেয়ার পুরস্কার রূপে। গন্তব্যে পৌঁছতে বিফল হলে তার জন্য কোন শাস্তি নাই। বহু নবীও মিশনে সফল হতে পারেননি। রোজ হাশরে ঈমানদারের বিচার হবে এ নিয়ে, সে নির্দেশিত পথটি অনুসরণ করেছে কিনা। এখানে ভূল হলে জাহান্নামে পৌঁছতে হবে। 

ইসলাম সকল ভাষা, সকল অঞ্চল ও সকল বর্ণের মানুষের ধর্ম। ইসলামের অনুসারী প্রতিটি মুসলিমকে তাই সকল ক্ষুদ্রতার উর্দ্ধে উঠে বিশ্বময়ী হতে হয়। বিশ্বময়ীতার মধ্যেই ঈমানদারী। ইসলাম তাই প্রতিটি ঈমানদারকে ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতা উর্দ্ধে উঠে মনটাকে সবার জন্য প্রসারিত করতে শেখায়। অন্যদের সাথে হাত ধরাধরি করে রাষ্ট্র গড়াতেই সওয়াব। এটিই মহান নবীজী (সা:)’র গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত। এতেই মানব জাতির কল্যাণ। মুসলিম ইতিহাসে এরূপ ভাতৃত্ববোধের চেতনাই প্যান-ইসলামী চেতনা রূপে পরিচিত। মুসলিমগণ অতীতে যত বড় বড় বিজয় এনেছে সেগুলি ভাষা-ভিত্তিক বিভক্তির কারণে নয়, বরং বিশ্বময়ী এই ভাতৃত্বের কারণে। তখন আরব, ইরানী, তুর্কী, কুর্দি, আফগানী, মুর, আলবানী, বলকানী –এরূপ নানা বর্ণ ও নানা ভাষার মুসলিমগণ একত্রে ও একই লক্ষ্যে যুদ্ধ করেছে।

অনৈক্য ও বিভক্তির পথটি শুরু থেকেই শতভাগ ভ্রষ্টতার পথ। এটিই হলো পাপের পথ -যা অনিবার্য করে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ভয়ানক আযাব। সে হুশিয়ারীটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়া হয়েছে সুরা আল-ইমরানের ১০৫ নম্বর আয়াতে। তাই যারা ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার নামে বিভক্তির কথা বলে তাদের বিদ্রোহটি মহান আল্লহতায়ালার বিরুদ্ধে। অনুসরণটি এখানে শয়তানের। জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, বর্ণবাদের ন্যায় মতবাদগুলি নতুন নয়। এগুলি আদিম জাহিলিয়াত বা অজ্ঞতা। তাই যার হৃদয়ে শরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে -সে ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী, গোত্রবাদী ও বর্ণবাদী হতে পারে না। ইসলামে এটি হারাম এবং শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ। নবীজী (সা:)’র আমলে কারো মধ্যে একতার বদলে এরূপ বিভক্তির নেশা ধরা পড়লে তার পিঠে বেত্রাঘাত করা হতো। কারণ সেটিকে মুসলিম উম্মাহর একতার বিরুদ্ধে শত্রুর ষড়যন্ত্র মনে করা হতো। শয়তান মুসলিমদের মুর্তিপূজার দিকে ডাকে না, ডাকে ভাষা পূজা, বর্ণপূজা ও ভূগোল পূজার দিকে। মুর্তিপূজার চেয়ে ভাষা, বর্ণ ও ভূগোল পূজার নাশকতা কি কম? আরবগণ ২২ টুকরায় এবং মুসলিম উম্মাহ ৫৭ টুকরায় বিভক্ত ও পরাজিত এসব নানামুখী পূজার কারণে।

অপর দিকে একতার সুফল তো বিশাল। বিশ্বজনীয় ভাতৃত্বের কারণেই ইথোপিয়ার বিলাল (রা:), ইরানের সালমান ফারসী (রা:), রোমের শোয়ায়েব (রা:) ও আরবের ওমর (রা:)’য়ের মধ্যে কোন বিভেদ ছিল না।  মর্যাদায় কোন ভেদাভেদ ছিলনা। সে সীসাঢালা দেয়ালসম একতার কারণেই মুসলিমগণ বিশ্বশক্তির জন্ম দিতে পেরেছিল। ইসলামের এরূপ বিশ্বময়ী চেতনাটি এখনো বেঁচে আছে পবিত্র কুর’আন ও হাদীসে। ব্যক্তির ঈমানকে শুধু নামায-রোযা ও হজ্জ-যাকাতের সামর্থ্য দিলে চলেনা, তাকে অন্য ভাষা, অন্য বর্ণ ও অন্য ভূগোলের মুসলিমকে ভাই রূপে বরণ করার সামর্থ্যও দিতে হয়। সে সামর্থ্য সৃষ্টি না হলে বুঝতে হবে প্রচণ্ড শূণ্যতা রয়েছে ঈমানে। ঈমানের সে শূণ্যতাটি শুধু মুর্তিপূজায় ধরা পড়ে না, বরং প্রবল রূপে ধরে পড়ে জাতিপূজা, ভাষাপূজা, ফেরকাপূজা ও বর্ণপূজার মধ্যে।

মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত ও দুর্বল করেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিচয়ের প্রতি নেশাধারী ঈমানশূণ্য এই বেঈমানগণ। তাই মুসলিম উম্মাহকে বিজয় ও গৌরবের পথে নিতে হলে বিভক্তকামী বেঈমানদের খপ্পড় থেকে মুসলিম উম্মাহকে অবশ্যই উদ্ধার করতে হবে। নইলে মুক্তির কোনই সম্ভাবনা নাই। বিভক্তির পথে চলে হাজার হাজার মসজিদ-মাদ্রাসা গড়েও কোন কল্যাণ নাই। কৃষি, শিল্প, রাস্তাঘাট ও বানিজ্য বাড়িয়েও তখন বিজয় আসে না। কারণ বিভক্তির পথটাই হলো পরাজয় ও আযাবের। এবং সে সাথে সেটি ভয়ানক বিপদ বাড়াবে আখেরাতে।  

কুয়ার ব্যাঙ ও গর্তের কেঁচোর বাঁচাতেও একটি ভাবনা থাকে। সেটি বিশ্বকে ক্ষুদ্র করে দেখার ইতর ভাবনা। সেরূপ ইতর ভাবনা নিয়েই রাজনীতির বাজারে ব্যবসা করে জাতীয়তাবাদ, আঞ্চলিকতাবাদ, ফেরকাবাদ ও বর্ণবাদের অনুসারীগণ। এমন ভাবনা নিয়ে বাঁচাটি ইসলামে শতভাগ হারাম। এদের কারণেই মুসলিম বিশ্বে যত বিভক্তি, হানাহানি ও বিপর্যয়। ইসলাম exclusiveness য়ের বদলে inclusiveness নিয়ে বাঁচতে শেখায়। প্রকৃত ঈমানদার মাত্রই inclusive তথা কসমোপলিটান। প্রকৃত ঈমানদারের রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি তাই ভাষা, বর্ণ, ফেরকা ও আঞ্চলিকতার ক্ষুদ্রতায় সীমিত থাকে না। এমন একটি বিশ্বময়ী চেতনার কারণেই ভারতের বুকে খেলাফত আন্দোলন চলা কালে মাওলানা আবুল কালাম লিখেছিলেন, “বলকানের যুদ্ধে কোন তুর্কী সৈনিকের পা যদি গুলি বিদ্ধ হয় এবং তুমি সে গুলীর বেদনা যদি হৃদয়ে অনুভব না করো -তবে খোদার কসম তুমি মুসলিম নও।” 

ভাষা, বর্ণ ও অঞ্চল ভিত্তিক ক্ষুদ্রতর পরিচয়ে যারা বিশ্বাসী এবং বিভক্তির নেশায় যারা উম্মত্ত -তারাই হলো মুসলিমদের ঘরে বেড়ে উঠা মুসলিমদের পরম শত্রু। তারাই হলো শয়তানের বন্ধু। শয়তান চায় আরব মুসলিমগণ অনারব মুসলিমদের ঘৃনা করুক এবং হত্যা ও ধর্ষণ করুক। এবং চায়, গভীর ঘৃনা নিয়ে বাঙালীগণ হত্যা ও ধর্ষণ করুক অবাঙালীদের। শয়তানের সে রক্তাত্ব পৈশাচিক খেলা ১৯১৭ সালে দেখা গেছে আরব ভূমিতে এবং বাংলার মাটিতে দেখা গেছে ১৯৭১ সালে। আজ ইসরাইলীদের হাতে আরবদের যে পরাজয় এবং আগ্রাসী ভারতের পদতলে বাঙালী মুসলিমদের যে গোলামী –সেটি অর্জিত হয়েছে নিজ ঘরে জন্ম নেয়া বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের নেতৃত্বে। বাংলার মাটিতে মুজিব আবির্ভুত হয়েছিল শয়তানের খলিফা রূপে। তার নেতৃত্বেই মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি এসেছে, এসেছে রক্তাত্ব যুদ্ধ এবং এসেছে ভারতের পদতলে গোলামীর আযাব। অথচ এমন আযাবের হুশিয়ারী পবিত্র কুর’আনে বহুবার শোনানো হয়েছে। বাঙালীর বিবেকের পঙ্গুত্ব এ পর্যায়ে পৌছেছে যে, শয়তানের সেবাদাসকে তারা জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু বলে।   

 

২. ঈমানদারী ও বেঈমানীর স্বরূপ 

ঈমানদারের ঈমান গোপন থাকে না। সেটি প্রকাশ পায় চেতনা, চরিত্র, কর্ম ও বাঁচবার মিশনে। তাকে শুধু মহান আল্লাহতায়ালার উপর বিশ্বাস নিয়ে বাঁচলে চলে না। তাকে বাঁচতে হয় মহান আল্লাহতায়ালার মিশনকে বিজয়ী করার নির্ভীক সৈনিক রূপে। মহান আল্লাহর সে মিশনটি ঘোষিত হয়েছে সুরা আনফালের ৭ ও ৮ নম্বর আয়াতে।  সেটি হলো সত্যকে সত্য রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়া এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে বাতিল করা। উক্ত সুরার ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি চান কাফেরদের শিকড় কাটতে। এবং সেটিও ফিরেশতাদের দ্বারা নয়, ঈমানদারদের দিয়ে। সত্যকে প্রকাশ করা এবং মিথ্যাকে বাতিল করার যে মহান সূন্নতটি মহান আল্লাহতায়ালার, প্রতিটি মুসলিমকে বাঁচতে হয় সে মহান সূন্নত নিয়ে। প্রখ্যাত মার্কিন বুদ্ধিজীবী নওম চমোস্কি ষাঠের দশকে বলেছিলেন, বুদ্ধিজীবীদের দায়ভার হলো সত্যকে সাহসিকতার সাথে তুলে ধরা এবং মিথ্যার মুখোশ উম্মোচন করা। অথচ ইসলামে সে দায়ভারটি শুধু বুদ্ধিজীবীর নয়, বরং প্রতিটি ঈমানদারের। ইসলামে এটি পবিত্র ইবাদত।

জালেমের সামনে মুখ ফুটে সত্য কথা বলায় সাহস লাগে। কারণ তাতে গুম, খুন ও নির্যাতনের ভয় থাকে। ভীরু, কাপুরুষ ও বেঈমানদের সত্য বলার সাহস থাকে না। সে সাহস আসে ঈমান থেকে। নামায, রোযা, হজ্জ ও উমরাহ পালনের সামর্থ্য ঘুষখোর, সূদখোর, মিথ্যাবাদী, চোরডাকাত, এবং ভোটডাকাতের ন্যায় অপরাধীদেরও থাকে। কিন্তু সত্য বলা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সামর্থ্য তাদের থাকে না। কারণ, নিজের স্বার্থ রক্ষা করে বাঁচাই তাদের মূল নীতি। তাই সত্য ও ন্যায়ের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা থাকে না। চোখের সামনে চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, জুলুম নির্যাতন হতে দেখেও তারা নিশ্চুপ থাকে। তাদের বেঈমানী তাই সুস্পষ্ট দেখা যায়। অথচ ঈমানদারের পক্ষে জালেমের জুলুম ও মিথ্যাচারের সামনে নীরব থাকাটি অসম্ভব। কারণ সে জানে, সত্যকে গোপন করা কবিরা গুনাহ। সত্যকে প্রকাশ করতে গিয়ে এ জন্যই ঈমানদারের জীবন জিহাদ শুরু হয়। আগুন থাকলে উত্তাপ থাকবেই। তেমনি ঈমান থাকলে জিহাদও শুরু হয়। জিহাদ না থাকাটি তাই বেঈমানীর লক্ষণ।   

 

৩. নবীজী (সা:) কেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী?

মহান নবীজী (সা:) সর্বশ্রষ্ঠ নবী এজন্য নয় যে, তিনি ইসলাম প্রচার করেছেন। বরং এজন্য যে, আরবের বিশাল ভূ-ভাগ থেকে দুর্বৃত্তদের দখলদারী বিলুপ্ত করে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে সভ্য ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন। বড় বড় কথা অনেক বুদ্ধিজীবীই বলেছেন, কিন্তু সেগুলি প্রয়োগ করতে পারেননি কিন্তু নবীজী (সা:) সত্য, সুবিচার ও ন্যায়ের বানী শুধু প্রচারই করেননি, প্রতিষ্ঠাও দিয়েছিলেন। দুর্বৃত্তদের নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার রাজনীতিকে তিনি পবিত্র জিহাদে পরিণত করেছিলেন। তিনি দেখিয়ে যান, ইসলামের মিশন শুধু ইসলাম প্রচার নয়, বরং স্বৈরাচারী দুর্বৃত্তদের নির্মূল ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। কারণ সমাজে দুর্বৃত্তদের অক্ষত রেখে সত্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা দেয়া যায় না। 

শুধু নামায-রোযা ও মসজিদ মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়িয়ে সমাজকে সভ্যতর করা যায়না। শান্তিও আসে না। বাংলাদেশে মসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা কি কম? কিন্তু দেশ তাতে কতটা সভ্যতর হয়েছে? ঘর গড়লে ঘরের পাশের আবর্জনাও সরাতে হয়। তেমনি সভ্য রাষ্ট্র গড়তে হলে রাষ্ট্রের বুক থেকে চোরডাকাত,খুনি, সন্ত্রাসী, ধর্ষক, ইত্যাদি দুর্বৃত্ত নির্মূলের জিহাদও থাকতে হয়। নইলে রাষ্ট্র দুর্বৃত্তদের দখল যায়। বাংলাদেশ তো তারই দৃষ্টান্ত।

  

৪. বিলুপ্ত হয়েছে নবীজী (সা:)’র শ্রেষ্ঠ সূন্নত

ঈমানদারকে শুধু নামাযী ও রোযাদার হলে চলে না, রাজনীতির ময়দানে তাকে নির্ভীক ও আপোষহীন সৈনিক হতে হয়। কারণ রাজনীতিই হলো সমাজ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। রাজনীতির ময়দান থেকেই নির্ধারিত হয় দেশ ও জনগণকে কোন দিকে ধাবিত করা হবে এবং কীরূপ গড়া হবে ব্যক্তি, সমাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি। নামায-রোযা হচ্ছে হ্ক্কুল আল্লাহ তথা মহান আল্লাহতায়ালার হক অর্থাৎ তাঁর প্রতি ব্যক্তির দায়বদ্ধতা। আর রাজনীতি হলো হক্কুল ইবাদ তথা জনগণের হক অর্থাৎ জনগণের প্রতি ব্যক্তির দায়বদ্ধতা। জনগণকে কিছু অর্থদান, বস্ত্রদান বা গৃহদানই সেরা দান নয়। বরং সবচেয়ে বড় দানটি হলো একটি সুশীল, সভ্য ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র দান করা। একমাত্র তখনই সে পায়  জানমাল ও ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা। জনগণ তখন পায় ন্যায় বিচার। পায় সুশিক্ষা। পায় মহান আল্লাহতায়ালার শরিয়ত পালনের ন্যায় ফরজ পালনের সুযোগ। রাষ্ট্র তখন কাজ করবে জান্নাতে নেয়ার বাহন রূপে। অথচ কাফেরদের অধিকৃত রাষ্ট্রে সে সুযোগ থাকে না। তখন রাষ্ট্র পরিণত হয় জনগণকে দুর্বৃত্ত করা তথা জাহান্নামে নেয়ার বাহনে। ঈমানদারের রাজনীতি এজন্যই পবিত্র জিহাদ তথা শ্রেষ্ঠ ইবাদত।

জনগণের জন্য মহান নবীজী (সা:)’র গুরুত্বপূর্ণ অবদানটি শুধু ইসলাম প্রচার ছিল না, বরং সেটি ছিল ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এটিই নবীজী (সা:)’র শ্রেষ্ঠ সূন্নত। ইসলামী রাষ্ট্রের কারণেই মুসলিমগণ পেয়েছে বিশ্বমাঝে বিশ্বশক্তির মর্যাদা নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ। বেগবান হয়েছে ইসলামের প্রচার। সেরূপ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হলে কুর’আনের শিক্ষা শুধু কুর’আনের মাঝেই বন্দী থাকতো –যেমনটি হয়েছে খৃষ্টান ধর্ম ও ইহুদীদের ক্ষেত্রে। তখন মুসলিমগণ পেত না শত্রু পরিবেষ্টিত বিশ্বে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা। তখন মুসলিমদের উপর নেমে আসতো আজকের অধিকৃত কাশ্মির বা ফিলিস্তিনের মুসলিমদের ন্যায় গোলামী জীবন ও নিরাপত্তাহীনতা।  

নবীজী (সা:)’র আমলে প্রতিটি ঈমানদার শুধু নামাযী ও রোযাদার ছিলেন না, তারা ছিলেন দুর্বৃত্ত নির্মূলের রাজনীতির সার্বক্ষণিক সৈনিক। সে রাজনীতির কারণেই নবীজী (সা:) ১০ বছর রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে বসতে পেরেছিলেন। সে রাজনীতি অব্যাহত থেকেছে নবীজী (সা:)’র ইন্তেকালের পরও। ফল সে আসনে বসেছেন তাঁর প্রথম সারির সাহাবাগণ। আজকের মুসলিমগণ বিপুল সংখ্যায় নামায পড়ে, রোযা রাখে এবং হজ্জও করে। হাজার হাজার মসজিদ-মাদ্রাসাও তারা প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও দুর্বৃত্তি নির্মূলের যে রাজনীতি নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম করেছেন সে জিহাদের রাজনীতিতে তারা নাই। তারা রাজনীতি করে ইসলামকে বাদ দিয়ে। ফলে দেশ দখলে গেছে চোর-ডাকাতদের হাতে।

 

৫. বাঙালী মুসলিমের ব্যর্থতা

ইতিহাসের নানা পর্বে বাঙালী মুসলিমদের ব্যর্থতাটি বিশাল। বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বটি নবাব সিরাজুদ্দৌলার একার ছিল না। অথচ তাঁর পরাজয়ের পর বাংলার জনগণ যুদ্ধের ময়দানে নামেনি। তিতুমীর ও মজনু শাহের নেতৃত্বে সামান্য কিছু মানুষ জিহাদ করেছে, কিন্তু সাধারণ জনগণ নীরব ও নিষ্ক্রিয় থেকেছে। স্বাধীনতা বাঁচাতে লড়াইয়ের ময়দানে জনগণের না নামাতে ১৯০ বছর ইংরেজের গোলামী করতে হয়েছে। তাই শুধু নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। দোষ বাংলার জনগণের।

আগ্রাসী কাফের শত্রুগণ ইরানের উপরও হামলা করেছে। বার বার হামলা করেছে আফগানিস্তানের উপর। কিন্তু দেশ দু’টির জনগণ সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেনি। হাতের কাছে যা পেয়েছে তা দিয়ে শত্রু নির্মূলে যুদ্ধে নেমেছে। কারণ স্বাধীনতা বাঁচানোর যুদ্ধটি স্রেফ সরকারের নয়, সমগ্র জনগণের। অথচ আফগানীদের সংখ্যা বাংলার জনগণের সিকি ভাগও নয়। কিন্তু তারা ইংরেজদের দুই বার শোচনীয় ভাবে পরাজিত করেছে। পরাজিত করেছে সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় দুটি বিশ্বশক্তিকেও। বিজয়ের কারণ, শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইকে তারা সমগ্র জনগণের জিহাদে পরিণত করেছে। জিহাদে মুসলিমগণ একাকী থাকে না, তাদের সাথে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ফিরেশতারাও যোগ দেয়। পবিত্র কুর’আন সে কথাটিই বার বার বলে।

বাংলাদেশীগণ কি আফগানিস্তানের জনগণ থেকে শিক্ষা নেবে না? বাংলাদেশ আবার অধিকৃত হয়েছে ভারত ও তার দালাল শত্রু শক্তির হাতে। কিন্তু কোথায় সে স্বাধীনতার যুদ্ধ? দেশ কোন দল বা নেতার নয়, সমগ্র জনগণের। তাই স্বাধীনতা বাঁচানোর দায়িত্বও সকল জনগণের। ভারত কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়ার চেয়েও শক্তিশালী? ১৭ কোটি বাঙালী কি সাড়ে তিন কোটি আফগানের চেয়েও দুর্বল? অভাব এখানে জনশক্তির নয়, বরং ঈমানের। ঈমান বাড়ানোর যুদ্ধটি হয় চেনতার ভূমিতে। এটি এক অবিরাম বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ। এবং সে যুদ্ধে মূল হাতিয়ারটি হলো পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়া যায়না, তাই ঈমান না বাড়িয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধ লড়া যায়না। মহান আল্লাহ তাই পবিত্র কুর’আন দিয়ে ইসলামের বিজয়ের কাজের শুরু করেছিলেন। বদর-ওহুদের রক্তাত্ব যুদ্ধের প্রায় ১৫ বছর পূর্বে নবীজী বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধটি শুরু করেছিলেন। অথচ আজও বাংলাদেশে তেমন একটি যুদ্ধ শুরুই হলো না। বাঙালী মুসলিমদের আজ তাই মহান আল্লাহতায়ালার অনুসৃত হিকমা ও নবীজী (সা:)’র সূন্নতের দিকে ফিরে যেতে হবে। নইলে স্বাধীনতার যুদ্ধে সৈন্য জুটবে না। ২২/০৬/২০২১

 




The monopolization of wars and the new occupation in the Muslim World

Dr. Firoz Mahboob Kamal

The imperialists’ wars and the subjugated Musli

The US and the European citizens exercise the arrogance to carry weapons anywhere in Afghanistan, Iraq, Saudi Arabia, Qatar, Kuwait, UAE, Syria, Mali, and many more Muslim countries. They even set military bases in those countries and seek no permission from anybody to kill anyone there. Rather, they are the people who give permission vis-à-vis who should carry weapons, make weapons or do war in the Muslim World. Anyone who carries a weapon, makes war, and changes the political landscape without their permission gets labeled as a terrorist and a threat to the so-called global security and stability. Such a doctrine of colonialism gives them a full monopoly of war and sanitizes every act of their invasion, oppression, murder, destruction, and exploitation in the occupied lands. They use the UN to receive such a certificate.

In the colonial era, the army of a tiny country like Belgium killed 10 million people only in Congo. And the British colonial army could almost ethnically cleanse the whole population of the Red Indians from the USA, the Aborigines from Australia, and the Maoris from New Zealand. These colonialists proved so shameless, remorseless, and morally so deprived that they erected statues of the leaders of genocidal cleansing on the occupied lands to glorify the massacres. Awfully, the same moral illness that caused immense deaths and sufferings in the former colonies still overwhelm the Muslim World. So the bloodshed continues. Like the era of old colonialism, these neo-colonialist killers do not face any conviction in the occupied lands. So they could kill more than a million in Palestine, Afghanistan, Iraq, Syria, Chechnya, Kashmir, and Yemen and could flatten hundreds of cities and villages without facing any criminal charge in any court of the world. Therefore, the avid killers of Muslims like George W. Bush, Tony Blair, Barak Obama, Donald Trump, Vladimir Putin, and Narendra Modi stand unpunished.

No Muslim country is immune to imperialists’ aggression. And, no Muslim country can exercise any moral or legal right to penalize even the worst criminals of the occupying countries. This is why while the US helicopters ran a raid in Abbottabad in 2011 or Raymond Davis -an armed CIA man killed two Pakistani men in Lahore in the same year, the government of Pakistan – a boastful nuclear power couldn’t dare take any action, let alone punish the cold-blooded murderers. The President and the Prime Minister of Pakistan showed tongue-tied silence even to condemn such a horrendous crime. Therefore, one can easily guess what could be the case of the non-nuclear Muslim states like Indonesia, Bangladesh, Turkey, Egypt, Saudi Arabia, and others while subjected to the same imperialist arrogance. They could be easily coerced to fit into their agenda. This is why very few Muslim countries could resist the US pressure of joining a killing mission against Iraqi Muslims in 1991 on the pretext of Saddam’s invasion of Kuwait. Whereas the same Muslim countries stayed silent while the USA invaded Afghanistan and Iraq, and Israel invaded Gaza and the Indian Army launched its killing mission in Kashmir.

Hypocrisy is the most conspicuous feature of the imperialists’ policy towards Muslims. They have their own concocted narratives to justify their crimes. While the south Sudanese Christians started their terrorist campaign to dismember the largest country in Africa, the USA and its partners called it liberation war. Not only they give them full political support but also donated huge money and weapons. But while the native citizens of Afghanistan, Iraq, Palestine, Syria, Kashmir, or Chechnya do war to free their countries from the foreign occupiers get the label of terrorist. The US drones do not respect any border of any Muslim country and execute killing operations anywhere they wish. Israel does the same. This is indeed an absolute monopoly of a globalized war by the imperialists. They demand no less than total submission to their hegemony. Still, they blame the Muslims for their dirty mess and spread Islamophobic narratives as the cover-up. More awfully, most of the Muslim rulers, politicians, intellectuals and even ulama buy and spread the same enemy version of the stories. The sovereignty and dignity of more than 1.5 billion Muslims thus go to the gutter and the kuffar imperialists appear as the real masters of the Muslim World.

 

The Muslim mercenaries and their crimes

The USA has established about 800 bases worldwide. It has its Air Force base in Qatar, Naval Force base in Bahrain, and has installed a huge number of troops in Afghanistan, Iraq, Syria, Saudi Arabia, and many other Muslim and non-Muslim countries in the world to give long sustenance to the monopoly of their brutal war. Other countries like Russia, China, and India also run their regional monopolies in their occupied Muslim backyards. Russia has Chechnya and other Caucasian areas. China has Xing Xiang. And India has Kashmir. They also spread their own fabricated narratives to sanitize their war of blatant occupation. Whereas, the Muslims hide their own Islamic narratives, imperatives, and agendas in warfare. In fact, the ugliest deviation of the Muslims from the Qur’anic roadmap and the maximum damage to the ummah started with the betrayal of the Qur’anic agenda in warfare as well as with the denial of the core survival objective -as has been prescribed by Allah Sub’hana wa Ta’la. The journey to hellfire indeed starts from such a self-engineered deviation. Thus, jihad -the most powerful tool of implementation of Allah Sub’hana wa Ta’la’s sovereignty on earth and to protect Muslims’ independence is kept defunct to serve the agenda of the enemies.

Because of Muslims’ own betrayal, Islam survives only in the pages of the Holy Qur’an. The mass-scale conversion of the so-called believers in Islam to evil ideologies like secularism, nationalism, racism, tribalism, fascism, and capitalism has brought the most catastrophic changes in their objective of survival and lifestyle. This has indeed caused an overwhelming shift in their political, educational, professional, and cultural priorities. Whereas, the Muslims must stay faith-bound only to please Allah Sub’hana wa Ta’la and die for His cause –as per the Holy pledge mentioned in Sura Taubah, verse 111. But these ideological converts to evil ideologies enjoy investing their wealth, talent, and even life for the known enemies of Islam. They willingly work as mercenaries not only in their civil and military infrastructures of evil, but also in media, education, information technology, commerce, and even in intellectual warfare all over the Muslim World. The newspapers, the TV channels, and other media outlets in the Muslim countries vividly display the works of these mercenaries. They indeed run a full-scale intellectual war against Islam and the Islamists in every Muslim country. This is indeed a new form of invasive colonization of the Muslim mind by the worst form of corrosive ideologies -worse than the enemy’s military occupation. Such inclusive and invasive colonization of the intellectual premise of the Muslims and the Muslim countries never happened in the past.

As a result, Muslim men, women, and children try in every possible way to make themselves fully congruent and saleable to the enemies at a higher price. They learn languages, earn skills, and train in subjects that have higher demand in the enemy’s job market. They indeed dream for the enemies, migrate for the enemies, work for the enemies, and even do war and die for the enemies. For example, in two World Wars, more than one million Arabs and more than 200 thousand Indian Muslims fought for the British, the French, and the Italian imperialists. And now, millions of Iraqis, Syrians, Chechens, and Afghans are fighting shoulder to shoulder with the USA and the Russian kuffars. In 1971, thousands of Bengali Muslims joined the Hindu idolaters to dismember Pakistan -the largest Muslim country in the world. And the Pakistan Army under President Musharraf joined the USA’s war in Afghanistan and handed over hundreds of Islamists to the Americans to be kept and tortured in Guantanamo Bay. Such betrayal against Islam and Muslims still continues.

Because of the self-selling mercenaries with a Muslim name, the enemies of Islam –both native and foreign thrive in the Muslim lands. Therefore, they could sustain their brutal occupation and carry out their aggressive anti-Islamic agenda in politics, education, culture, administration, judiciary, and warfare. Fighting in the way of Allah Sub’hana wa Ta’la and bringing back the glory of Islam no more survive as an issue in most of the Muslims’ lives. Thus, the enemies of Islam have monopolized the whole war effort and political activities for their own benefit and left no space for true believers and for the true Islamic cause. In fact, more Muslims are now being killed in Muslim lands by these native mercenaries than by the alien kuffars. The Muslims now face a new enemy occupation with a new name. And the crimes being committed against Islam and Muslims remain the same.




Tyranny of fascists in Bangladesh

Dr Firoz Mahboob Kamal

Demolition of democracy & tide of tyranny                

Fascism has never been a sign of civilized living. It is a symbol of pure barbarity. It is the rule of political criminals who make robbery on people’s basic rights and annihilate all democratic values. In a democracy, power lies in the hand of people of all colors, races, and religions. The people execute the power through votes in elections, views in the media, rallies on the streets, and writing books or columns in the newspapers. But in fascism, such exercise of people’s power doesn’t exist. All tools of making opinions and influencing people are controlled by the despots. Fascism creates a milieu of immorality, oppression, dehumanization, and de-empowerment of the people. The despots in power execute the worst brutality to keep the people in tight control. This is why it is incompatible with the people of enlightenment, morality, and higher values. Bangladesh is in the grip of such a brutal rule of fascists Shaikh Hasina –the leader of Awami League. The people of Bangladesh suffered from the same fascism under Shaikh Mujiber Rahman –father of Shaikh Hasina in the first half of the seventies.  

Shaikh Hasina –like her father Shaikh Mujib used and abused democratic rights to snatch people’s rights. Her party was defeated several times in fair elections. But fascists can’t tolerate electoral defeats, hence hate fair elections. This is why they take electoral tools into their own hands. Hence, after coming in power in 2008, Shaikh Hasina abolished the neutral caretaker government formula introduced in 1991. Institutions like impartial election commission, free participation in the election, free media, neutral state bureaucracy, basic human rights, and an independent judiciary are dismantled. The Army, the police, the election commission, and the party cadres were used to rob the general elections in 2014 and in 2018. She made it impossible to change the government in power through votes. Elections were used only to extend Hasina’s autocratic rule. In 2014, even 5 percent of people didn’t cast their votes and there was no polling booth in 153 constituencies of the parliament. But the enslaved Election Commission declared it a fair and legitimate election. On 30 December 2018, the ballot papers were robbed in the night before Election Day by the party hooligans and were cast in bulk in favor of Shaikh Hasina’s Awami League candidates. The Army and the police were deployed in the polling booth only to facilitate the robbery. Therefore the ruling fascists won in all seats except a few reserved for the pet opposition candidates.

Hasina runs the show of her own chosen model of democracy in Bangladesh. The absence of rule of law shows its awful manifestations in every nook and corner. The forced disappearances or extrajudicial killings of the political opponents, hanging of Islamist leaders by the fake judiciary, muzzling of the free press, closing independent TV channels, torturing people for protesting in the street, and impunity for the ruling party’s murderous hooligans are the new normal in Bangladesh. Laws are made and executed only to protect the ruling elites and punishing the opponents. Thousands of people are forced to take political asylum in foreign countries or to hide inside Bangladesh to avoid death or persecution in police custody. 

 

The brutal fascism

The tribal barbarity never dies. It only changes its forms and brutality. It has returned back to Bangladesh with a new form and new intensity. It is Awami fascism. Instead of the supremacy and arrogance of an ancient pagan tribe, fascism is now practiced as the absolute supremacy and arrogance of a single political party. It doesn’t leave any space for other parties or beliefs. Here the rule of law doesn’t work; only the whims of the party leader get preference. Bangladesh’s 80 percent export earning comes from readymade garments. But the garment workers’ salary is lowest in the world. They are not allowed to do any trade union movement for better salary and improved working conditions A young man named Aminur Rahman faced forced disappearance –possibly death for attempting to organize garment workers.

Whenever human civilization makes some progress from fascism, the basic human rights and the rule of law return back. But for such civilizational progress, it requires some institutional build-up based on morality and higher human values. The human body can’t survive with non-functioning or dis-functioning vital organs like the heart, lung, liver, and brain. Similarly, a civilized society can’t survive with the absence of basic human rights and value-based institutions. This is why the right to free expression, the right to forming an organization, and the right of practicing religion are so vital for civilized living. Hence, free judiciary, impartial rule of law, free media, and unbiased state institutions are indispensable for it. But in Bangladesh, all such institutions are successfully dismantled. The imams are put behind the bar only for delivering sermons that don’t fit in Hasina’s political line. The media is allowed only to praise the government policy. Those who showed courage to reveal true stories either faced forced disappearance or death.   

Like pagan beliefs, fascism survives only through the brutal forces of the power-addict rulers. It doesn’t possess any moral ground. They didn’t allow even the most peaceful man like Prophet Mohammad (peace be upon him) to preach Islam. They enforce their own sovereignty. Pharaoh is a classic prototype of such rulers. Mujib and Hasina appeared as mini Pharaohs in Bangladesh. Statues of Shaikh Mujib are installed to demand neck bending submission to his political and ideological narratives. Putting a floral wreath on the feet of his statues is taken as a marker of such submission. Idols are no more the stuff of temples; these are brought to streets, squares, and doorsteps of schools, colleges, and other public premises to make statue-worshipping a popular culture in Bangladesh. Thus, fascism has built a new cultural and ideological milieu that is 180 degrees opposite to the Muslims’ faith. Because of such ideological and political enslavement, fascism makes it impossible for a Muslim to grow up as a true Muslim. Enforced allegiance to autocrat indeed works as a bar to submission to Allah Subhana wa Ta’la. In fact, allegiance to an autocrat makes people slavish soldiers fighting for his or her cause and turn inimical to Islam. This is why those who are aligned with fascist Hasina show stern enmity against Islam and the Islamists.

 

The calamity of Awami immorality               

Those who are the power-addict, find morality a big barrier against their whims. Therefore, they drop it in the bin on day one of their political careers. As a result, moral deprivation or immorality is the most distinctive element in their character. Because of such moral deprivation, Shaikh Mujib could easily bury multi-party democracy and impose a one-party brutal dictatorship. He didn’t hesitate to betray his own electoral promise of democracy. Shaikh Hasina showed the same betrayal against the caretaker government. When she was out of power, she fought for it. But when in power, she abolished it. In both situations, addiction to power was the guiding force and not morality. Whereas, holding the parliamentary election under a caretaker government was the consensus formula of all political parties in Bangladesh –adopted in 1991. It has its historical background. Since party-based government repeatedly failed to hold fair elections, an election under a caretaker government was preferred as the only option by all the political parties including the Awami League. Under such a caretaker government, elections were successfully held in 1991, 1996, and 2000. There was no post-election complaint against the fairness of the election. Such a successful experiment of the caretaker government indeed encouraged other countries like Pakistan to think about it. 

Moreover, the constitutional legality of such a caretaker government was never challenged by any political leader, nor by any legal expert. Even Shaikh Hasina couldn’t openly raise any objection against it. She could take only a deceitful secretive route by using Chief Justice Abul Khair to abolish it. It is significant to note that even three previous Supreme Court Chief Justices didn’t consider it illegal to head the caretaker government. But Chief Justice Abul Khair unsettled the settled issue and opened the door of serious political instability in the country. He indeed served the agenda of power-hungry fascists. He was so desperate to serve his presumed beneficiary that nobody needed to ask him to deliver a judgment on it. In an unrelated non-constitutional litigation, he jumped on the issue of caretaker government and abolished it by making a casual remark on its constitutional legality. He didn’t allow any legal experts to make any argument on the subject. Whatever he had in his mind was announced as a final Supreme Court verdict. Thus, Shaikh Hasina was given a green signal to go ahead with her agenda. Later on, it came to the press that the same Abul Khair took one million Taka from Prime Minister Shaikh Hasina’s Relief Fund.

Now, there exists little doubt about the real beneficiary of his judgment. It gave the sitting Prime Minister Shaikh Hasina the opportunity to engineer an election coup in 2014. Thus it shows how the highest court of the country can be complicit to promote evil agenda of a power-addict autocrat. In such a forged election, Hasina didn’t need to launch any tiresome election campaign. Nor did she need to open polling booth in more than half of the country. She could easily manufacture a victory for her party only by appointing a compliant Election Commissioner and using the servile administrative machinery. And in December 2018, the enslaved electoral machinery helped her to make country-wide robbery on ballot papers. Through such election engineering the victory is so guaranteed for the ruling party that the party stalwarts could openly claim that Shaikh Hasina will stay in power till her death.

In fascism, sovereignty belongs only to the ruler. The people are made only tax-paying powerless subjects. In the name of election what gets imposed on the people is not democracy but slavery unto the ruler. In fact, the people of Bangladesh is now experiencing such a political slavery. In the past, Hasina met electoral defeats on multiple occasions. Since she couldn’t manipulate the election as the head of the government, she had to swallow those defeats. After the abolition of care-taker government, the whole election process has become a selection process to benefit the ruling dictator. In the past, no one could defeat even the most unpopular dictator like General (rtd) Ershad in any election while he was in power. Now, who can dare defeat Shaikh Hasina and her party while she is in power?

 

The stalemate

Bangladesh is back to square one. The people have to start afresh and a very difficult journey for democracy. Without a functioning heart, how can a body survive? How can democracy survive without a fair and free election?  Here lies the crux of the whole political pathology of Bangladesh. As a result, the confrontational politics between the illegitimate fascist government and the democratic opposition forces stay as the permanent feature. The country thus enters into a war-like situation. Like drug addiction, power addiction also kills common sense. Because of that, the ruling Awami League leader fails to understand the simple fact that fake or robbed elections –even if held ten times, can’t solve the problem. It can only aggravate the crisis. Such an election can only cause a huge wastage of money.

Shaikh Hasina and her cronies also talk about democracy. But they conveniently forget that free and fair election is its lifeline. In the absence of a free election, democracy also dies. Then, the people are deprived of any tool to punish the government for its wrongdoing. As a result, the ruling party feels unaccountable and freely engages in corruption, atrocities, vote-rigging, and other barbaric evils without any fear. The people may have huge anger, but stand helpless to change the government. As a result, the government can freely use judicial and extrajudicial killing, torture, imprisonment, enforced disappearance, and politically motivated criminal cases to eliminate the political opponents. This is why under the rule of Shaikh Hasina, the killing and enforced disappearance of the opposition leaders is so rampant. and public meetings, free press, free election, and fair judiciary stand as a rarity. The government is using its weaponized media to smear the defiant leaders. Whoever exposes the government’s wrongdoings meets with harsh punishment or even faces death. The enslaved media is left with no option other than to support the government policies.

 

Elimination of fascism: an urgency

Islam makes people incompatible with the political and ideological project of autocrats. Autocrats never leave any space for Islam to play a political, ideological, and cultural role. Islam is kept captive within rituals. Hence, it is heinous treason against the Almighty Allah if a Muslim invests the Allah-given endowments in the service of any autocrat that restricts the practice of full Islam. In order to promote an Islamic cause, it needs a promotive environment. Therefore, the elimination of fascists is an indispensable Islamic necessity. It is an Islamic obligation on every Muslim that he must deploy his physical, moral, spiritual, and intellectual abilities to promote the cause of Allah Sub’hana wa Ta’la. This is why the history of Islam is the history of fighting against the autocrats. Through ages, it has always been the moral and ideological binding on every Muslim either to dismantle the autocratic rule and build an Islamic state or migrate from a devilish prison-state to a safer place –as did Prophet Muhammad (peace be upon him) and his companions. It is indeed the greatest political sunnah (legacy) of the Prophet (peace be upon him) that shows how to play a civilizational role for mankind and please Allah Subhana wa Ta’la. In fact, such a prophetic legacy (Sunnah) made the Muslims the greatest civilizational power in the whole human history. It is indeed the gravest crime of an autocrat that puts a bar against such a great civilization march.    

 

 The only option

Holding a fair election is not space science. Even a country like Pakistan, India, Nepal, Sri Lanka, and the Maldives can do that. It only needs an element of morality. But the fascist Awami League leader Hasina doesn’t have that. She feeds only on sadistic perversion. That creates a real crisis in Bangladesh. The fascists can never run a democracy. They are trained only to run brutal autocracy. It also a historical fact that fascists were never defeated by votes in any part of the world. Robbing or rigging the election is the craft they can claim expertise in that. So, killer Bashar al-Assad of Syria could manage 95 percent votes in the election. Hosni Mubarak of Egypt could get 98 percent of the votes. And Shaikh Hasina can win almost all seats in the parliament –as she did in the 2018 election. There are defeated only by people’s revolution. There exists no other option.

Now it is the time to change the vocabulary. Those who rob people’s voting rights and stay in power by the brutal force of the Army and the Police must be labeled as terrorists. Those who fight these terrorists must be applauded as freedom fighters. A fascist regime never gets support from the people. They survive only on the support of foreign countries. Shaikh Hasina enjoys such support. India, the USA, and the European countries now severely suffer from Islamophobia. Shaikh Hasina understands this western pathology and is taking full benefit of that. She smears the main opposition parties as to the promoter of Islamic extremism cum terrorism. She takes those lies to the foreign camps. She thinks such lies will help remove her own illegitimacy and allure the world powers to support her. On 28th May 2018, her government convened the foreign diplomats at Dhaka. She gave them a lecture eulogizing her own project and maligning the opposition. She manipulates the Islamophobia of the non-Muslims in western countries to pull them to her side. Her harsh policies towards the Islamic parties are projected as saleable credentials.

It is also true that the USA and its European allies have little love for democracy. Rather their love for autocrats and fascists is quite robust. So the brutal king of Saudi Arabia, the killer General Abdel Fateh Sissi of Egypt and the autocrats of the Gulf States thrive on their love. Their hatred is mostly against the Islamists –even if they are elected by popular votes. So in the Muslim countries, the USA and its allies are the real obstacles in the path of democracy. Bangladesh is not an exception either. Very recently, a population survey was conducted by Democratic Alliance Foundation on 50 thousand people in 53 countries. The majority of the respondents opined that the USA and its allies are the main obstacles in the path of democracy in the world. By dismantling the democratic process in Egypt, Algeria, and Palestine and rolling back the Arab Spring, the USA and its allies gave ample testimony to that. The democratic forces of Bangladesh must understand this stern reality. So the people of Bangladesh must fight their own battle. About 90 percent of the people of Bangladesh are deadly against fascist Hasina. No civilized citizen supports her evil rule. She is surviving only because of the disunity of the people. If the people stand united on the street, she will not find even a road to flee. Her foreign friends will not be able to protect her. 21.06.2021




Restriction on militarization of Muslims and massive militarization of the enemies 

Dr Firoz Mahboob Kamal

Restricting militarization and the enemy occupation

The massive militarization of Islam’s enemies and restricting militarization of the Muslims are the old two-prong enemy strategy that the Muslims are facing for centuries. Because of such a strategy, nobody puts an embargo on Israel for its secret piling up of nukes. But Iraq was occupied and its cities were bombed to rubbles on the false accusation of making weapons of mass destruction. And Iran faces an embargo although stays far away from any nuclear possession. For the same reason, the USA refused to give high tech missile defence system and the latest model of fighter jets to Turkey.

Since the colonial takeover of the Muslim World, the implementation of such a strategy got highly intensified. The colonial occupiers could carry a sophisticated weapon but the native Muslims were punished for carrying even a knife.  The current worldwide dominance of the western imperialists owes to the high operational success of this strategy. The enemy occupation has its various facets: mostly operates in the form of military, economic, cultural, ideological and political occupation. The enemies are of two categories: the homegrown and the alien. In fact, de-Islamisation, demilitarisation, demotivation and de-empowerment of the Muslims started much earlier than the European colonial occupation. These were firstly initiated by the home-grown evil despots. They did it to keep the monopoly of power in their own hand and to keep the people in a state of perpetual submission. In fact, the enemies of Islam –whether native or alien, take the same strategy to sustain their occupation.

The process of de-empowerment of the ummah indeed started with the monopolisation of war by the home-grown enemies of Islam. Such a project made the common Muslims totally incapable to play their own role as the soldiers of Islam. They were made not only silent observers of the despots’ war of occupation but also forced to finance their own enslavement by paying high tolls to the ruler. During the rule of the tyrannical Muslim despots, defending the Muslim countries was made hostage to their own whims. Such issues enjoyed little priority or importance in their policy. The demilitarisation of the Muslims by such despotic rulers was so total that while Bengal –the richest state in the contemporary world, was invaded by the private army of the East India Company, no arm or ammunition was found in the hand of the common Bengali Muslims to defend their country. Whereas, defending a country against the kuffar invasion is not mere patriotism, is indeed the expression of his true faith. It is a religious obligation on every believing man.

A wolf never preys on another wolf; rather looks for a lone weaker target. The foreign enemies too hunt for the rich Muslim countries with the most demilitarised cum demotivated people. In the past, the divisive and de-militarisation policy of the native despots always allured the foreign enemies to invade the Muslim lands; and made it much easier for them to take over. This is why Bengal becomes the first target of colonisation by the British in the whole Muslim World. In her most conducive milieu for the enemies, the collusion of the power-hungry Army Chief with the invading British proved catastrophic. It paved the way to end the Muslim rule not only in Bengal but also in the whole of India. The same strategy worked for the enemies in other parts of the Muslim World. 

 

The Islamic obligation and the failure

In the golden days of Islam, the defence of a Muslim state has never been an exclusive domain of the rulers and their cronies. It used to be the binding obligation on everyone. It used to be considered the most crucial issue for every Muslim citizen. According to the Holy Qur’an, any kuffar aggression against a Muslim land makes jihad obligatory on every believer on the first day of the aggression. But, how a Muslim can discharge such an obligatory role if he is disarmed by the ruler? It is indeed the ugliest crime that despotic Muslim rulers could commit against Islam and the ummah. The practise still continues. The tyranny of autocratic rule is disappearing from most parts of the non-Muslim world, but it is thriving in the Muslim world. They have turned the whole Muslim World into a conglomerate of prisons cells for its own citizens. The people in prison cells can’t defend themselves -even if killed or tortured. Nor do they get help from the inmates of other cells. The same is true for the Muslim World. Hence, when the people of Gaza are bombed by the Israeli jets, even the injured people can’t get access to neighbouring Egypt and the Egyptians don’t come to their help either. Thus, they are made hostage in their own land by their own rulers. Because of such a hostage state, whenever the imperialists invaded a Muslim land, its people couldn’t play any defensive role. They could only stare at the heavily armed invaders with silent awe.

 

The only exception and the glory

Amidst tides of surrenders, only the Afghan Muslims could stand as the exception. For that, there exists a noteworthy reason. They were the only people on the earth who were not de-weaponised and de-empowered by their rulers. The per capita weapons in Afghanistan still stand the highest in the whole world. Hence, they could rightly fulfil the religious obligation in defending Islam and their country. This is why, the poor Afghans could show the most spectacular miracles by defeating three contemporary World Powers like the British, the Russian and the Americans while these powers were in their peak of military might. No country in the whole human history could show such valour successfully against three great World Powers. 

History has repeatedly proven that staying armed with all necessary weapons is the best deterrence against the enemy offence. Keeping such readiness is indeed a Qur’anic obligation. In this regard, Allah Subhana wa Ta’ala reveals His binding decree: “And make ready against them all that you can procure of the power, including horses of war (in modern days these must be nuclear weapons, tanks, warplanes, drones, missiles, ballistic missiles, heavy artillery, etc.) to instil fear in the heart of the enemy of Allah and your own enemies and others besides whom, you may not know but Allah does know.” –(Sura Anfal, verse 60). Such a Qur’anic decree makes it an obligation on every Muslim ruler not only to equip the citizens with the necessary weapons and training but also to mobilise them to the war field so that they can exercise their own obligatory role against any enemy invader. But that is not happening in the Muslim World. Because the usurpers of the Muslim countries have their own agenda that conflicts with the agenda of Allah Subhana wa Ta’la. Since mass militarisation makes their own illegal occupation unsustainable, the enemies –both the home-grown and the foreign, never wish that weapons should fall into the hands of the common people. As if, the common Muslims have no right, duty or obligation to engage in the defence of their own country! This is why after the occupation of Afghanistan, it was the prime strategy of the USA to disarm the Afghan people as a whole. However, it failed.

 

The enemy monopolisation of war and weapons

In order to give sustenance to occupation and exploitation, the monopolisation of war and weapons by the imperialists and de-empowerment of the Muslims have always been the key strategies since day one of the occupations of any Muslim land. The British colonialists raised more than five hundred princely states in India, but the rulers of these so-called states were not allowed to have an effective army or frame any war strategy. They were used only as a tool to collect revenues, to keep the people de-empowered, and to protect the British monopoly of British goods. The rulers of these vassal states could stay in power only because of their full submission to the colonial hegemony. Now, the direct colonial rule has ended. But the same policy of monopolisation of war by the despots and the de-empowerment of people still continues. They are ready only to give vassalage status to the so-called newly independent states. So these states like Saudi Arabia, UAE, Bahrain, Qatar, Kuwait, and Oman had to allow US military bases on their soil and also support the US military campaign. Once Pakistan had to give the same opportunity to the USA.

Moreover, more have been added to the strategic depth of the enemies’ war. Serving the military objectives of the US-led global coalition is not the only imposed obligation, it is also needed to keep the Qur’anic principle away from the affairs of politics, governance, education, culture and judiciary. So, no Muslim country is allowed to introduce sharia law. Like the Indian princely states of the British era, the imperialists created and protect 22 states in the Middle East and 57 Muslim states globally. The matter of defence policy, war policy, warfare and raising or dismantling political boundaries still remain in the hands of the imperialists. The presence of a US-led coalition in Iraq, Syria, Saudi Arabia, Qatar, Kuwait, Bahrain, Yemen, and Mali is only to strengthen imperialists’ hegemony in the Muslim World.

 

The crime and the calamity

Defending the frontiers of a Muslim country is no one’s monopoly. Nor is it the exclusive domain of a despot and his pet army. It is also crucial that the command of the Muslims’ defence force must not stay in the hands of the non-Muslims at any point in time –contrary to the norm under the European occupation. It must stay as an all-time exclusive domain of the Muslims –as was the rule during the golden days of Islam. Most importantly, it is the religious obligation, as well as the solemn right of every believer. Moreover, fighting in the way of Allah Sub’hana wa Ta’la is not a salaried job, rather the highest ibadah in Islam. It is indeed the part of the holy transaction that a believer needs to make with his Almighty Lord –as declared in verse 111 in sura Taubah. As per the transaction, a believer sells his life and wealth to Allah Subhana wa Ta’la in exchange of a place in paradise. And he needs to spend the purchased assets of His Lord that are kept under his custody only in His prescribed way. Fighting in His way is indeed a part of that deal.

As per prophetic narration, spending a moment on the frontier as a defender of the Islamic state is more rewarding than standing the whole night in prayer. And, jihad -the greatest ibadah, does not take place in a mosque or on a prayer mat. It happens only when one stands face to face against the enemies in a combat zone. A man can’t be a prophet anymore. But he can attain the status of a highly esteemed shahid and can stay very near to the prophets in paradise by taking part in jihad. This is why most of the companions of the Prophet (peace be upon him) took that highly honourable route. Hence, during the golden days of Islam, there was no need for any professional army or any cantonment. Instead, the whole ummah worked as a solidified army and every Muslim was a soldier. And, the whole land of Muslim ummah grew up as a cantonment. The downfall of the Muslim indeed started at a time when such tradition of the early Muslims was forgotten or ignored and the ummah stood de-militarised. It is indeed the ugliest crime of the autocrats that brought the worst calamity to the ummah.

The fundamental right cum duty of a believer for defending his faith and country is usurped not only by the non-Muslim imperialist occupiers but also by the so-called Muslim despots. A believer is thus prevented coercively from fulfilling his obligatory duty to fight against the established enemies. This way he is prevented from taking part in jihad. It is indeed one of the most catastrophic consequences of occupation by the external or internal enemies of Islam. Thus a coercive prohibition is imposed on the promised route to paradise. Jihadi spirit and war skills of the common people are perceived as a serious threat to their evil rule. In order to condemn such an original Islamic spirit, they even put a tag of terrorism on it. Whereas, the most terrorising forces in the whole Muslim World are not the Islamists; they are the armies of the tyrannical despots and the imperialists. The main concern of the despots of the Muslim countries is not to defend Islam or independence, but to give sustenance to their own rule. They allow people to grow up only as submissive cowards, and not as death-defying fighters with the Islamic spirit. This way, the brave people are deliberately kept out of the country’s security or military corridors. This is why the foreign invaders found it very easy to conquer the countries ruled by the most brutal dictators. The army of such despots show their skills only in quick surrender to the enemies or fleeing from the war fronts. The Arab despots’ wars in 1948, 1967 and 1973 against Israel give ample testimony to that.

For an autocratic ruler, war means a battle between two contestant ruling cliques and their pet armies. The common people are kept away from the scene. So, the history books hardly make any mention of the common people. The story of kings, amirs, shahs, sheikhs, presidents and other despots occupies the most part of it. Only the palaces of these despots could show their existence, and the dwellings of the common people of the past show no traces of their presence in the history books. In fact, apart from bearing the financial burden of the extravagant corrupt despots, the common citizens are given no political role and responsibility vis-à-vis governance and defence of any Muslim country. Hence, the common people are seldom equipped to do anything else in any war. Whereas, jihad against any kuffar occupation is a Qur’anic obligation on every believer. But, such teaching of Islam stand deeply hidden in the Muslim World. Even the imams of mosques and the teachers of the religious schools seldom mention such Qur’an prescriptions. The ruling despots frame laws, install courts and set vile media to sanitise their oppression -even the genocidal massacres and to vilify the opposition. They deploy a huge team of police, prosecution and pet judges only to punish those who stand against their rule.

 

The roadmap of failures

The autocratic despots have caused awful other calamities too. It has turned all the value-adding institutions for the common men and women highly dysfunctional, non-functional or corruptive. Hence, the life-changing social engineering institutions like schools, colleges and universities, mosques, madrasah, police academies, civil and military staff colleges are doing more damages to the ummah than any good. Instead of promoting an enabling environment for the people, they are generating a culture of de-motivation, de-moralisation and de-empowerment. As a result, the social capital stands very low in almost all of the Muslim countries. The military defeats, the endemic Army coups, the internal strife and other political calamities indeed owe to the failures of these institutions. This is why despite trillions of dollars of unearned money from petroleum, gas, and other resources, the Arab Muslims stay the most powerless and defenceless people on the earth. The despotic rulers in the Muslim world survive only because of the powerlessness of the common people. If these autocrats were put as ruler in any of the western countries, they would have been beheaded or dethroned instantly by the empowered native people –as happened to many of their kings in the past. But, these despots receive constant protection from the western imperialists. Because these tyrants have proved their worth by keeping the Muslims confined in their heavily protected prison cells called states. In absence of such servile rulers, the exploitative interest of the western imperialists would have been in great peril. This is why the western powers keep so strong ties with brutal autocrats like President Abdul Fatah Sisi of Egypt and Mohammad bin Salman of Saudi Arabia. 

Moreover, the monopolisation of war in the hand of a power-grabbing army also has its own catastrophic consequence. If the army betrays or collapse, there existed no second line of defence against the enemies. In Muslim history, the failure of these so-called professional armies is huge. They caused awful disasters even in recent years. The secular Army has the minimal appetite to fight any war to the end. In the wars of 1948, 1967 and 1973 against Israel, the coalition of Arab Armies were badly defeated by the tiny Israeli Army. The whole Sinai Valley, the West Bank and the Golan Heights were quickly lost to Israel. Whereas, few thousand Hamas fighters could resist the Israeli advance under continuous air attacks in Gaza for about 50 days. The coalition of Arab Armies couldn’t withstand that even for a week. In 1971, the Pakistan Army had the same disgraceful failure in East Pakistan. India did much less bombing in Dhaka and other parts of East Pakistan than the Israeli bombing in Gaza or the US bombing on Mosul. Mosul didn’t fall in 9 months, but Pakistan Army with its 45 thousand soldiers surrendered to the infidel Indian army in less than 3 weeks. These so-called professional armies could show their skills only in conquering their own countries. In Pakistan, Turkey, Egypt and many other Muslim countries, they could do that many times. The army could also grab a huge number of residential areas for its officers in major cities.

 

The continuing de-empowerment of the people and the worsening calamity

Muslim history reveals some amazing and enlightening truths. All the great victories of the early Muslims against the world powers like the Roman and the Persian Empires were not the works of so-called professional armies raised in barracks or cantonments. Such spectacular victories in the whole human history indeed owe to the death-defying common Muslims. Those who defeated the British Army twice on Afghan soil were not any professional army either, they were the Afghan common Muslims. In the last few decades, the two world powers like the USSR and the USA were also defeated in the Afghan soils by the same common people. The USA was also defeated in Vietnam by the same type of volunteer fighters.

On the contrary, the defeat of the professional Bengal Army against the tiny private army of the British East India Company sets an example of how they are useless to serve any Muslim cause. The Army of Nawab Sirajuddaulah –the last Muslim ruler of Bengal, had 50 thousand soldiers, 40 canons and 10 war-elephants on the battlefield of Palashy. Whereas the East India Company had only three thousand soldiers under the command of Col. Robert Clive. But the Nawab lost the war before it started. The betrayal of Mir Zafar –the Commander of the Muslim Army caused the catastrophe.

While an army is raised out of the people with no commitment to Islam, such disastrous failures are natural. Such army professionals quickly change the paymaster if receive a bigger promise. Due to such betrayal in 1757, the Nawab’s Army in Bengal didn’t fight any real war against the British. Not a single shot was fired from any canon. Thus, the British East India Company got an easy victory over a huge area of Bengal, Bihar and Orissa; and the fleeing Nawab was captured and killed. And the common Muslims were kept disarmed and demotivated to play their role in that critical juncture. It was one of the fateful days not only for the Bengali Muslims but also for the Indian Muslims as a whole. The disastrous consequence of the Muslim ummah at the hands of the British indeed started from there. When the common people are de-empowered and kept out of the fateful scene, such terrible consequence is not unusual. Awfully, the process of de-empowerment and demilitarisation continues. As a result, the calamity in the Muslim ummah doesn’t show any sign of dissolution, rather gets worse. 06.04.2019; 2nd edition 19.06.2021




বিবিধ ভাবনা ৫৯

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১.ব্যর্থ শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিজয় কুশিক্ষার

কোন জাতির উত্থান বা পতনের কাজটির শুরু কখনোই ক্ষেত-খামার বা কলকারখানায় হয়না। সেটি হয় শিক্ষাঙ্গণে। মহান নবীজী (সা:) তাই মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা গড়ার কাজটি কৃষি উন্নয়ন বা শিল্পউন্নয়ন দিয়ে শুরু করেননি। শুরু করেছিলেন শিক্ষা দিয়ে। তিনি আজীবন ছিলেন একজন সার্বক্ষণিক শিক্ষক। শিক্ষাদান ও শিক্ষালাভকে তিনি শ্রেষ্ঠ ইবাদত রূপে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কুর’আনের প্রথম নির্দেশ বানী তাই নামায-রোযার হুকুম নয়, বরং সেটি “ইকরা” তথা “পড়ো”। পড়ার অর্থ জ্ঞানবান হওয়া। মহান আল্লাহতায়ালা যে ইবাদতটি ঈমানদারদের উপর সর্ব-প্রথম ফরয করেছেন সেটি নামায, রোযা, হজ্জ বা যাকাত নয়, সেটি হলো জ্ঞানার্জন। লক্ষণীয় হলো, বিশ্বের সকল ধর্মের মাঝে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা শিক্ষালাভকে সকল নর-নারীর উপর বাধ্যতামূলক করেছে। অথচ মুসলিমগণই আজ সবচেয়ে অশিক্ষিত।এ হলো তাদের ইসলাম থেকে দূরে সরার নজির।

মানব-উন্নয়নের কাজটি কখনোই পানাহার বাড়িয়ে হয় না, সেটি ঘটে জ্ঞান লাভের মধ্য দিয়ে। জ্ঞানই বিপ্লব আনে চেতনা, চরিত্র ও কর্মে। একমাত্র জ্ঞানের গুণেই একজন জাহিল ব্যক্তি ঈমানদারে পরিণত হয়। এবং অপরাধী ব্যক্তি নেকবান্দায় পরিণত হয়। মানব-উন্নয়নের এ মৌলিক কাজটি বাদ দিয়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে যত উন্নয়নই হোক -তা দিয়ে সভ্য মানুষ যেমন নির্মিত হয় না। তেমনি উন্নত সভ্যতাও গড়ে উঠে না। বাংলাদেশে কি দালান-কোঠা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, ও কলকারখানা কম হয়েছে? কিন্তু দেশ তাতে কতটা সভ্য হয়েছে?

একটি দেশ কতটা অসভ্য –সে বিচারটি কখনোই দেশটিতে বসবাসরত ইতর জীব-জন্তুর সংখ্যা দিয়ে হয় না। বরং সেটি হয়, দেশটিতে আইনের শাসন কতটা প্রতিষ্ঠা পেল এবং চোর-ডাকাত, ভোটডাকাত, খুনি, ধর্ষক ও সন্ত্রাসীদের শাস্তি না দিয়ে কতটা সন্মানের আসনে বসানো হলো -তা থেকে। এরূপ অসভ্যতায় বাংলাদেশ বিশ্বে রেকর্ড গড়েছে। কারণ, একমাত্র এ দেশটিতেই দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে সন্মান দেয়া হয়। বিশ্বের আরো কোন দেশই এতটা নীচে নামেনি। আইনের শাসন আছে এমন কোন সভ্য দেশে কি এমনটি ঘটে? বরং প্রতিটি সভ্য দেশের চোর-ডাকাতদের স্থান হয় জেল খানার বদ্ধ কুঠুরিতে। জঙ্গলে হিংস্র পশুটি যেমন মনের আনন্দে ঘুরে, বাংলাদেশেও তেমন মনের আনন্দে ঘুরে দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাতটি। বরং বিস্ময়ের বিষয় হলো, সমগ্র দেশবাসীর মাঝে সে ভোটডাকাতই হলো সবচেয়ে স্বাধীন নাগরিক। এবং তার অবাধ স্বেচ্ছাচারের সে স্বাধীনতাকে পাহারা দেয় দেশের সমগ্র পুলিশ ও সেনাবাহিনী। অথচ স্বাধীন ভাবে কথা বললে অন্যদের গুম ও খুন হতে হয়। অথবা রিমান্ডে গিয়ে নির্যাতিত হতে হয়।     

যখন কোন দেশ স্বৈরাচার, গুম, খুন, ধর্ষণ,ও সন্ত্রাসের ন্যায় অসভ্যতায় ভরে উঠে -তখন বুঝতে হবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কাজ করছে না। কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেই সমাজের বুক থেকে আবর্জনা সরানো তথা দুর্বৃত্তদের নির্মূলে সৈনিক গড়া হয়। জমিতে গাছ না জন্মালে যেমন আগাছা জন্মে, তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি চরিত্রবান মানুষ না গড়লে সেখানে বিপুল সংখ্যায় দুর্বৃত্ত গড়ে উঠে। বাংলাদেশে সেটিই ঘটেছে। তাই দেশে যারা স্বৈরাচার, গুম, খুন, ও সন্ত্রাসের রাজনীতির জোয়ার এনেছে তারা কোন গভীর জঙ্গলে বেড়ে উঠেনি। তারা বেড়ে উঠেছে দেশের শিক্ষালয়গুলিতে। আবরার ফাহাদদের মত নিরীহ ছাত্রদের তাই ডাকাতপাড়ায় খুন হতে হয়নি, খুন হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। বাংলাদেশে তাই বিপুল সংখ্যায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে কাজের কাজ তেমন হয়নি।

শিক্ষাদানের কাজটি স্রেফ পড়তে বা লিখতে শেখানো নয়, বরং সেটি সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায় এবং সজ্জন ও দুজ্জনকে চেনার সামর্থ্য সৃষ্টি করা। এবং সে সাথে মিথ্যা ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াকু সৈনিক রূপে গড়ে তোলা। কান্টনমেন্টে গড়ে উঠে দেশের সীমান্তে লড়াই করার সৈনিক। আর দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠে রাজনীতির অঙ্গণে শত্রুর বিরুদ্ধে লাগাতর লড়াই করার সৈনিক। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তাই রাজনৈতিক যুদ্ধের ক্যান্টনমেন্ট। দেশের শিক্ষিত জনগণ জালেমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নির্ভিক সৈনিকে পরিণত হয়তো সঠিক শিক্ষাব্যবস্থার কারণেই। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সে কাজটি হয়নি। ফলে ১৭ কোটি মানুষের দেশে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে লড়বার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল গড়ে উঠেনি। 

সুশিক্ষার বিপরীতে কুশিক্ষার একটি পদ্ধতিও সমাজে সব সময় কাজ করে। সে পদ্ধতি প্রবল ভাবে কাজ করে চোরের গৃহে, ডাকাতপাড়ায় ও সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠনে। সেখানে শেখানে হয় চুরিডাকাতি, খুন ও ধর্ষণে পারদর্শি হতে। ঘৃনা করতে শেখায় ধর্ম, ন্যায়-নীতি, ধর্মকর্ম ও অন্যান্য নেক কর্মগুলিকে। কারণ, ধর্ম, নেককর্ম ও ন্যায়নীতির প্রতি ভালবাসা নিয়ে গুম, খুন, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করা যায় না। ভোটডাকাতিও করা যায় না। তেমন একটি চেতনা নিয়ে জুতা পায়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লীদেরও পেটানো যায় না। সে জন্য সুনীতির প্রতি প্রচণ্ড ঘৃনা ও দুর্নীতির প্রতি প্রবল আসক্তি সৃষ্টি করতে হয়। সে সামর্থ্য সৃষ্টির জন্যও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জরুরি। বনজঙ্গলে সে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নাই ফলে সেখানে চোরডাকাত, ভোটডাকাত ও গুম-খুনের নায়কগণ গড়ে উঠে না। সে জন্যও মহল্লায় মহল্লায় আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্র লীগ চাই। বাংলাদেশে কুশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানগুলি বিপুল ভাবে বিজয়ী। প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় দেশের সর্বোচ্চ আসনে একজন ভোটডাকাতকে বসিয়ে তারা প্রমাণ করেছে -তাদের সংখ্যা ও শক্তি কতো বিশাল।

 

২. ব্যর্থ মাদ্রাসা শিক্ষা

একজন ছাত্র বহুবছর ধরে মাদ্রাসায় শিক্ষা নেয় কি শুধু এজন্য, তার কাজ হবে মসজিদে আযান দেয়া, মুর্দা দাফন, কবর জিয়ারত, মিলাদ পড়ানো, বিবাহ পড়ানো বা বড় জোর কোন এক মসজিদে ইমামতি? মাদ্রাসা শিক্ষার এটিই কি মূল উদ্দেশ্য? কোন ভিন্ন উদ্দেশ্য হলে সেটিই বা কি? তাদের সাফল্য রাষ্ট্র ও সমাজের অন্য কোন অঙ্গণে? দেশে প্রশাসন, সেনা বাহিনী, আদালত, মিডিয়া, রাজনীতি ও ব্যবসা-বানিজ্যে কি তাদের কোন স্থান আছে? দেশে প্রতি বছর যতগুলি বই লেখা হয়, তার মধ্যে কতগুলি তাদের লেখা? দেশে যেসব পত্র-পত্রিকা বের হয় তাতেই বা তাদের ক’টি লেখা ছাপা হয়?

ব্যক্তি ও সমাজকে সভ্যতর কাজে শিক্ষার বিকল্প নাই। শিক্ষিত ব্যক্তিটি পায় অন্যায়, মিথ্যা ও জুলুমকে ঘৃণা করার সামর্থ্য। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ডিগ্রি বা পাগড়ি বিতরণ নয়। সেটি হলো মানুষকে জ্ঞানবান, প্রজ্ঞাবান ও চরিত্রবান করা। সভ্যতর সমাজের যোগ্য সদস্য রূপে ছাত্রদের গড়ে তোলা। মুসলিম জীবনে কুর’আনী জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ব এখানেই। পানাহার দেয় দৈহিক বল নিয়ে বেড়ে উঠার সামর্থ্য, এবং কুর’আনের জ্ঞান দেয় ঈমান নিয়ে বেড়ে উঠার সামর্থ্য। তাই এ জ্ঞান ছাড়া মুসলিম হওয়া অসম্ভব। ঈমান থেকেই ব্যক্তি পায় নেক আমলের সামর্থ্য; বস্তুত ঈমান দেখা যায় সে সামর্থ্যের মাঝে। ব্যক্তির বেঈমানী দেখে তাই বুঝা যায়, সে ব্যক্তির জীবনে বিদ্যাশিক্ষা কোন কাজই দেয়নি।

শিক্ষার গুণেই মানুষ পূর্ণ মানুষ তথা ইনসানে কামেল রূপে গড়ে উঠে। চিকিৎস্যক, ইঞ্জিনীয়ার, কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী ইত্যাদি পেশার লোকেরা যদি শুধু নিজ নিজ পেশাদারী বিষয়গুলি বুঝে এবং অজ্ঞ থেকে যায় ধর্মীয় জ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন ও রাজনীতির ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে –তাতে জ্ঞানার্জনে অপূর্ণতা থেকে যায়। তখন দেশে পেশাদারদের সংখ্যা বাড়লেও দারুন অভাব থেকে যায় কামেল তথা পূর্ণাঙ্গ মানুষের। সে অপূর্ণাঙ্গতা যদি মাদ্রাসাগুলিতে ধর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘটে -তবে সেটির নাশকতাটি আরো বিশাল। তখন অতি অশিক্ষিত ব্যক্তিগণও আলেম রূপে সমাজে পরিচিত পায়। “আলেম” শব্দের অর্থ জ্ঞানী। তবে জ্ঞানী হওয়ার অর্থ শুধু কুর’আন-হাদীস পড়তে ও বুঝতে শেখা নয়। ইতিহাস, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন, যুদ্ধবিজ্ঞান ও ভূগোল ইত্যাদি বহু বিষয়ে বহু কিছুই শিখতে হয়। কারণ শুধু নামায,রোযা, হজ্জ, যাকাতের মসলা-মাসলা জানলেই সভ্য ও উন্নত সমাজ নির্মাণ করা যায়না। শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জ্ঞান যেমন চাই, তেমনি চাই উন্নত যুদ্ধাস্ত্র, কৃষি, শিল্প ও যুদ্ধবিজ্ঞানের জ্ঞান।  নবীজী (সা:) জ্ঞানার্জনে চীনে যেতে বলেছেন। সেটি কুর’আন-হাদীসের জ্ঞান শিখতে নয়। সেটি ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্য শাখার জ্ঞান শেখার প্রয়োজনে। তাই ইসলামের গৌরব কালে মুসলিম জ্ঞানী ব্যক্তিগণ শুধু কুর’আনের তাফসির লিখেননি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় নানা বই লিখেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলি সেরূপ জ্ঞানী ব্যক্তি ক’জন তৈরী করেছে? ক’জনের মাঝে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখার জ্ঞান আহরণের সে তীব্র আগ্রহ? এ দিকে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যর্থতাটি অতি বিশাল। যথার্থ জ্ঞানী না হয়েই তারা নিজেদের নামের সাথে আলেম তথা জ্ঞানীর পদবী লাগাচ্ছেন।

“মাওলানা” শব্দের ন্যায় “আলেম” শব্দের আবিস্কারক হলো ভারতীয় উপমহাদেশের মাদ্রাসায় লেখাপড়া করা ব্যক্তিবর্গ –বিশেষ করে দেওবন্দ মাদ্রাসার সাথে যারা জড়িত তারা। অনেকের নামের আগে কুতুবুল ইলম তথা ইলমের তারকাও লেখেন। এটি এক ধরণের তাকাব্বুরি তথা নিজেকে বড় রূপে জাহির করার তাড়না। অথচ ইসলামের গৌরব যুগে যারা জ্ঞানবিজ্ঞানে বিপ্লব এনেছিলেন তারা নিজেদের নামের আগে কখনোই আলেম, আল্লামা বা মাওলানা লেখেননি। আল রাযী, আত তারাবী, ইবনে কাছির এবং আল কুরতুবীর ন্যায় মুসলিম ইতিহাসের বিখ্যাত তাফসিরকারকগণও নিজেদের মাওলানা বা আলেম বা আল্লামা বলে জাহির করেননি। তারা নিজেদের রচিত বইয়ে শুধু নিজের নাম ও পিতার নাম লেখাটিই যথেষ্ট মনে করেছেন। নিজেকে আলেম বা জ্ঞানী রূপে জাহির করার খাসলত এমন কি যারা সেক্যুলার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবীন প্রফেসর তাদেরও নাই। কারণ সেটি তাদের কাছে রুচিশীল গণ্য হয় না।

প্রশ্ন হলো, মাদ্রাসা যে ছাত্রটি ভাষা বিজ্ঞান, রাজনীতি, ইতিহাস, ভূগোল, সমাজ বিজ্ঞান ও দর্শন নিয়ে সমগ্র ছাত্র জীবনে কিছুই পড়ার সুযোগ পেল না -সে নিজেকে আলেম বা জ্ঞানী রূপে জাহির করে কোন যুক্তিতে? বিস্ময়ের বিষয় হলো এরূপ স্বঘোষিত আলেমগণ কিছু কাল পর তাদের নামে সাথে আল্লামা লেখা শুরু করেন বা অন্যদের দিয়ে লেখার ব্যবস্থা করেন। এক কালে সমগ্র ভারত জুড়ে একজন মাত্র ব্যক্তি সমাজের গণ্যমান্যদের পক্ষ থেকে মাত্র আল্লামা খেতাব পেয়েছিলেন। তিনি হলেন আল্লামা মুহম্মদ ইকবাল। আল্লামা শব্দের অর্থ অধিক জ্ঞানী। তিনি  সত্যই ছিলেন একজন আল্লামা। অন্যদের জন্য আল্লামা খেতাব পাওয়াটি তিনি কঠিন করে দেন। তিনি উর্দু, ফারসী, আরবী ও ইংরাজী এ চারটি ভাষা জানতেন। অতি উচ্চাঙ্গের কবিতা লিখেছেন উর্দু ও ফার্সি ভাষায়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন ইংল্যান্ড ও জার্মানীতে। জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে পি.এইচ.ডি করেছেন। বিলেত থেকে ব্যারিস্টারী পাশ করেছেন। অথচ আজ হাট হাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকদের অধিকাংশই হলো আল্লামা। ক’খানা বই লিখেছেন এসব আল্লামাগণ? ক’টি ভাষায় তারা পন্ডিত? প্রশ্ন হলো নামের আগে এরূপ আলেম বা আল্লামা লেখা কি নবীজী (সা:)’র সূন্নত? 

শিক্ষাই মানুষের জীবনে পূর্ণতা দেয়। যে কৃষক, শ্রমিক বা অন্য কোন পেশাজীবী ব্যক্তি নিজের কর্মের বাইরে কোন শিক্ষা বা প্রশিক্ষণই নেয়নি -সে অপূর্ণাঙ্গ। নবীজী (সা:) ছিলেন একজন ইনসানে কামেল তথা পূর্ণাঙ্গ মানুষ। তিনি একদিকে যেমন ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, তেমনি ছিলেন আদর্শ রাষ্ট্রীয় নেতা, আদর্শ শিক্ষক, আদর্শ বিচারক, আদর্শ জেনারেল, আদর্শ ব্যবসায়ী, আদর্শ স্বামী, এবং আদর্শ পিতা। সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেও তাঁর হাতে কোন মাদ্রসা, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। তাঁর শিক্ষাদানের আসরগুলি বসতো কখনো বা মসজিদের মেঝেতে, কখনো কারো গৃহে, কখনো রাস্তার ধারে এবং কখনো বা গাছের নীচে। তার মাদ্রাসার ছাত্রগণই পরবর্তী কালে শ্রেষ্ঠ ফকিহ, শ্রেষ্ঠ গভর্নর, শ্রেষ্ঠ বিচারক, শ্রেষ্ঠ প্রশাসক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ জেনারেল পরিণত হয়েছেন। দেশে দেশে মুসলিমদের বিজয় ও গৌরব তো বাড়িয়েছেন তারাই।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার সে সাফল্যটি কোথায়? অথচ দেশে মাদ্রাসার সংখ্যা বহু শত। কোন কোন মাদ্রাসার আকার অতি বিশাল এবং সেগুলির ছাত্রসংখ্যাও বহু হাজার।  মাদ্রাসার শিক্ষকগণ নবীজী (সা:)’র নানা সূন্নতের কথা বলেন। কিন্তু কোথায় তাদের জীবনে নবীজী (সা;)’র রাজনীতি ও জিহাদের সূন্নত? তারা কি জানেন না, নবীজী (সা:) ১০ বছর রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন? দুর্বৃত্ত শক্তির নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় তার জীবনে জিহাদ ছিল লাগাতর। জিহাদই ছিল তার রাজনীতি। অথচ মাদ্রাসার হুজুরগণ সাংবাদিক সন্মেলন ডেকে বলেন তারা রাজনীতিতে নাই। যেন রাজনীতি সূন্নত বিরোধী কোন হারাম কর্ম! বাংলাদেশ আজ দুর্বৃত্তদের দখলে। প্লাবন এসেছে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও ধর্ষণের। কিন্তু কোথায় তাদের জীবনে সে দুর্বৃত্ত নির্মূলের জিহাদ?

দুর্বৃত্তকে ঘৃনা করার সামর্থ্যটি একজন শিক্ষিত মানুষের অতি মৌলিক গুণ। সে কখনোই চোরডাকাত, ভোটডাকাত বা অন্য কোন দুর্বৃত্তকে সন্মান দেখায় না। এটি যেমন রুচি-বিরুদ্ধ, তেমনি ঈমান-বিরুদ্ধ। কুর’আনের ইলম শুধু চুরিডাকাতি, অন্যায়, সন্ত্রাস ও জুলুমকে ঘৃনা করতে শেখায় না, বরং দুর্বৃত্তদের নির্মূলে সৈনিক রূপে গড়ে তোলে।  নবীজী (সা:)’র আমলে তো সেটিই হয়েছে। কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে সে সামর্থ্যই বা কতটুকু সৃষ্টি হয়েছে? মাদ্রাসার যারা শিক্ষক বা হুজুর তাদেরই বা সে সামর্থ্য কতটুকু? সে সামর্থ্য থাকলে হিফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কি শেখ হাসিনার মত একজন ভোটডাকাত দুর্বৃত্তকে মঞ্চে বসিয়ে মিটিয়ে করতেন বা তার সাথে হাত মেলাতেন? অথচ তারা শুধু হাসিনার সাথে হাতই মেলাননি, তার মত একজন খুনিকে কওমী জননীও বলেছেন। পত্রিকায় সে খবর ছাপা হয়েছে। শাপলা চত্ত্বরে হাসিনার নির্দেশে যে শত শত হিফাজত কর্মী শহীদ হলো –সেটিও তারা ভূল গেলেন? ২০১৩ সালের ৫ মে’র রাতে হিফাজতে ইসলামের কতজন কর্মী শহীদ হলো তাদের নামধাম ও ঠিকানা নেতারা কোনদিন প্রকাশ করলো না। এরূপ সত্য গোপন করা কি জায়েজ? বছর ঘুরে বার বার ৫ মে’র রক্তাত্ব দিনটি ফিরে আসে, কিন্তু সে দিনের শহীদদের স্মৃতি নিয়ে তেমন কোন স্মরণ সভাও করা হয়না। নিজেদের শহীদদের কি মানুষ এভাবে ভূলে? বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলি কি ছাত্রদের এগুলিই শিক্ষা দেয়? ১৮/০৬/২০২১  




বাংলা সাহিত্যে মুসলিম বিদ্বেষ ও হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা

ফিরোজ মাহবুব কামাল

প্রেক্ষাপট: মুসলিম-বিদ্বেষ ও ইংরেজ-তোষণের

বাংলায় মুসলিম শাসনের বিলুপ্তির পর পরই মুসলিমদের দ্রুত পতন শুরু হয়। এবং জাগরণ শুরু হয় হিন্দুদের। হিন্দুদের সে জাগরণের পিছনে মূল কারণটি ছিল তাদের প্রতি ইংরেজদের অনুগ্রহ। ঔপনিবেশিক ইংরেজগণ সাম্রাজ্য কেড়ে নিয়েছিল মুসলিমদের থেকে। ফলে মুসলিমদের তারা বন্ধু হিসাবে পাবে -সেটি ইংরেজগণ কোন কালেই ভাবতে পারিনি। বরং তাদের মনে ছিল মুসলিম ভীতি। মুসলিমদের দমিয়ে রাখার জন্য ভারতবাসীদের মধ্য থেকেই সাহায্যকারীর প্রয়োজন দেখা দেয়। সে কাজে তারা হিন্দুদের  বেছে নেয়। এবং হিন্দুগণ সে কাজ আনন্দ চিত্তে গ্রহণ করে। মুসলিম শাসনামলে বাংলার সিকিভাগ চাষাবাদ যোগ্য জমি মসজিদ-মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ ছিল। সেগুলিকে বলা হতো লাখেরাজ সম্পতি অর্থাৎ যার কোন খেরাজ বা রাজস্ব দেয়া লাগতো না। ইংরেজগণ সে জমি ছিনিয়ে নিয়ে হিন্দুদের দেয় এবং একটি জমিদার শ্রেণী সৃষ্টি করে। জমিদারদের কাজ হয় রাজভৃত্য রূপে ইংরেজ শাসনের প্রতিরক্ষা দেয়া। ফলে মুসলিম দমনে ইংরেজদের গ্রাম-গঞ্জে নামতে হয়নি, সে কাজ হিন্দু জমিদারগণই তাদের পাইক-পেয়াদা দিয়ে করতো। আর এতে হিন্দুদের প্রতি ইংরেজদের সাহায্য ও সহানুভূতির পরিমানও বেড়ে যায়।

বস্তুত এরূপ নিবেদিত-প্রাণ হিন্দু সেবক শ্রেণীর কারণেই ইংরেজদের নিজ দেশ থেকে বাড়তি সৈনিক আনতে হয়নি। অপরদিকে জমি কেড়ে নেয়ার কারণে মাদ্রাসাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিক্ষিত মুসলিম পরিবারগুলি দ্রুত মুর্খ হতে শুরু করে। ব্রিটিশ দখলদারীর আগে মুসলিম তাঁতিদের হাতে তৈরী হতো বিশ্বের সেরা কাপড় মসলিন। সে বস্ত্র শিল্পের বিশ্বজুড়া বাজারের কারণে বাংলা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ধনি দেশ। বাজারে ব্রিটিশদের কাপড়ের বাজার বাড়ানোর লক্ষ্যে তাঁতীদের আঙ্গুল কেটে মসলিন শিল্প ধ্বংস করা হয়। বাংলা চাষীদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। তাদের দিয়ে জোর করে নিল চাষ করানো হয়। এভাবে শিক্ষা ও অর্থনীতি –এ উভয় ক্ষেত্রেই মুসলিমদের নীচে নামানো শুরু হয়। এরই ফলে দ্রুত বাড়তে থাকে হিন্দুদের সাথে মুসলিমদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দূরত্ব। ব্রিটিশদের এরূপ মুসলিম-বিরোধী নীতির কারণে যে মুসলিম পরিবারের পক্ষে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে দরিদ্র ও অশিক্ষিত হওয়া অসম্ভব ছিল তাদের পক্ষে স্বচ্ছল ও শিক্ষিত থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ স্বাক্ষ্যটি এসেছে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের একজন স্কটিশ কর্মকর্তা মি. ডব্লিও ডব্লিও হান্টারের পক্ষ থেকে।

ইংরেজদের প্রতি ভক্তি ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও শত্রুতা শুধু হিন্দু জমিদারদের নিজেদের বিষয় ছিল না, সে অভিন্ন চিত্রটি প্রবল ভাবে দেখা দেয় হিন্দু সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের মাঝেও। ভারতের ইতিহাসে অতি আলোচিত একটি পর্ব হলো বাঙালী রেনাসাঁ। আসলে সেটি ছিল বাঙালী হিন্দু রেনেসাঁ। সেটি ছিল ইংরেজদের সহায়তা নিয়ে এবং মুসলিমদের পিছনে ফেলে বাঙালী হিন্দুদের একক ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। সেটি যেমন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, তেমনি অর্থনৈতিক ও শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে। শত শত বছর এক দেশ ও এক আলো-বাতাসে বসবাস করেও হিন্দুদের মনে মুসলিম বিদ্বেষ যে কতটা তীব্র -সেটিই প্রবল প্রকাশ পেয়েছে হিন্দুদের রচিত সাহিত্যে।

 

বাংলা সাহিত্যে গালিগালাজ: লক্ষ্য মুসলিমগণ

হিন্দু কবি সাহিত্যিকগণ মুসলিমদের প্রশংসা করে কোন ভাল শব্দ ব্যবহার করেছে সে প্রমাণ খুঁজে পাওয়া অতি কঠিন। বরং তাদের লেখনীতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গালিগালাজের পরিমাণটি অধিক। যে গালিগুলি মুসলিমদের বিরুদ্ধে সচারচর ব্যবহার করেছে তা হলো ম্লেচ্ছ, যবন, নেড়ে, পাষন্ড, পাপিষ্ঠ, পাপাত্মা, দুরাত্মা, দুরাশয়, নরাধম, নরপিশাচ, পাতকী, বানর, এঁড়ে, দেড়ে, ধেড়ে, অজ্ঞান, অকৃতজ্ঞ, ইতর, ইত্যাদি। বঙ্কিম চন্দ্রের ‘মৃণালীনী’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘রাজ সিংহ’ ও ‘কবিতা পুস্তক’, ইশ্বর গুপ্তের ‘কবিতা সংগ্রহ’ দামোদর মুখোপাধ্যয়ের ‘প্রতাপসিংহ’ যজ্ঞেশ্বর মুখোপাধ্যয়ের বঙ্গানুবাদিত ‘রাজস্থান’ দীন বন্ধু মিত্রের ‘জামাই বারিক’ ইত্যাদি ইসলাম বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৩৮-১৯০৩ খ্রি.) কাব্যসজ্জায় সুস্পষ্ট মুসলমান বিদ্বেষ পাওয়া যায় । “হেমচন্দ্র তাঁর বীরবাহুতে (১৮৬৪ খ্রি.) লিখেছে,আরে রে নিষ্ঠুর জাতি পাষণ্ড বর্বর, পুরাব যবন-রক্তে শমন-খর্পর। [ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আধুনিক বাংলা কাব্যে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক, প্রথম প্রকাশ, ঢাকা, বাংলা একাডেমী, ১৯৭০]।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮২৭-৮৭ খ্রি.) পদ্মিনী উপাখ্যানে (১৮৫৮ খ্রি.) স্বাধীনতার কামনা, পরাধীনতার বেদনা ও দেশপ্রীতির সাথে সাথে প্রকাশ পায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিদ্বেষের ভাব। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৭৯ তে প্রকাশিত অশ্রুমতী নাটক উৎসর্গ করেন অনুজ রবীন্দ্রনাথকে। এবং উক্ত নাটক ছিল মুসলিম বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। উক্ত নাটকের সৈন্যগণ বলছে, “আজ আমরা যুদ্ধে প্রাণ দেব, চিতোরের গৌরব রক্ষা করব, মুসলমান রক্তে আমাদের অসির জ্বলন্ত পিপাসা শান্ত করব”… (অশ্রুমতী: জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নাটক সমগ্র, সাহিত্য সংসদ,২০০২, পৃষ্ঠা ১১৩।)]।

অতিশয় মুসলিম বিদ্বেষী ও ইংরেজভক্ত ছিলেন ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত। ইংরেজদের সাথে যুদ্ধরত মুসলমানদের মৃত্যুতে প্রচণ্ড খুশী হয়ে তিনি রচনা করেন;

একেবারে মারা যায় যত চাঁপদেড়ে (দাড়িওয়ালা)

হাঁসফাঁস করে যত প্যাঁজ (পিঁয়াজ) খোর নেড়ে

বিশেষত: পাকা দাড়ি পেট মোটাভূড়ে

রোদ্র গিয়া পেটে ঢোকে নেড়া মাথা ফূড়ে

কাজি কোল্লা মিয়া মোল্লা দাঁড়িপাল্লা ধরি

কাছা খোল্লা তোবাতাল্লা বলে আল্লা মরি

ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তের কবিতায় মুসলিম বিদ্বেষের পাশাপাশি ব্রিটিশদের প্রতি ভক্তির মাত্রাটিও ছিল অতি উগ্র। তার একটি নমুনা দেয়া যাক। তিনি লিখেছেন: “ভারতের প্রিয় পুত্র হিন্দু সমুদয় মুক্তমুখে বল সবে ব্রিটিশের জয়।(দিল্লীর যুদ্ধ : গ্রন্থাবলী,পৃ. ১৯১)।]

বঙ্কিমচন্দ্র তার নিজের ভান্ডারের সবগুলি গালিগালাজ ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করেছেন। ‘ম্লেচ্ছ’ হতে শুরু করে ‘যবন’ পর্যন্ত। এমনকি প্রাচীনকালে বৌদ্ধদের দেয়া ‘নেড়ে’ গালিটাকেও সে দিতে বাদ রাখেনি। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘আনন্দ মঠ’ (১৮৮২) উপন্যাসে এক মন্তব্যে বলেন, ‘‘ধর্ম গেল, জাত গেল, মান গেল, কূল গেল, এখনতো প্রাণ পর্যন্ত যায়। এ নেড়েদের (মুসলমানদের) না তাড়াইলে আর কি হিন্দুয়ানি থাকে’’। এমনকি গল্পের মাধ্যমে মসজিদ ভেঙে মন্দির গড়ার ইচ্ছাও প্রকাশ পেয়েছে এ উপন্যাসে; ভাই, এমন দিন কি হইবে, মসজিদ ভাঙ্গিয়া রাধা মাধবের মন্দির গড়িব? [আনন্দমঠ, তৃতীয় খন্ড, অষ্টম পরিচ্ছেদ]।

শুধু তাই নয়, “তিনি ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এ দানেশ খাঁকে দিয়ে মুসলমানদেরকে ‘শুয়ার’ বলে গালি দিয়েছেন। ‘রাজসিংহ’ উপন্যাসে কতিপয় স্ত্রীলোককে দিয়ে সম্রাট আওরঙ্গজেবের মুখে লাথি মারার ব্যবস্থা করেছেন। ‘মৃণালিনী’তে বখতিয়ার খিলজীকে ‘অরণ্য নর’ বলেছেন। কবিতা পুস্তকে তিনি লিখেছেন, ‘‘আসে আসুক না আরবী বানর – আসে আসুক না পারসী পামর’’। (আফজাল চৌধুরীর শেষ কবিতা: মুকুল চৌধুরী, দৈনিক সংগ্রাম,ঈদসংখ্যা-২০১২)।

 

সাম্প্রদায়িক রবীন্দ্রনাথ

বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় কবি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু তাঁর রচিত সাহিত্যে সাম্প্রদায়িকতা ও মুসলিম বিদ্বেষের প্রমাণ অঢেল। বিস্ময়ের বিষয় হলো, প্রতিবেশী মানুষের প্রতি মানুষের প্রতি ঘৃণা নিয়ে একজন মানুষ নবেল পুরস্কার পায় কি করে? তার বন্ধু মুসলিম বিদ্বেষী ব্রাহ্ম রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তিনি মুসলিম জাতি ও সমাজ সম্বন্ধে তার নানা লেখায় বরং বিরূপ মন্তব্যই করিয়াছেন। (বাংলাদেশের রবীন্দ্রচর্চা, মনিরা কায়েস, পৃ. ২৩)। শিবনারায়ণ রায় বলেছেন: “তিনি (রবীন্দ্রনাথ) কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে কিছুই চর্চা করেননি। সম্পূর্ণ অবহেলা করেছেন.. (প্রতিক্ষণ, জুলাই ১৯৯৩, পৃ. ১৭)।”  গোরা উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ লেখেন, “ভালো মানুষি ধর্ম নয়; তাতে দুষ্ট মানুষকে বাড়িয়ে তোলে। তোমাদের মহম্মদ সে কথা বুঝতেন, তাই তিনি ভালোমানুষ সেজে ধর্ম প্রচার করেন নি।” (গোরা,পৃষ্ঠা ১৭)।”

রবীন্দ্রনাথ তার ‘রীতিমত নভেল’ নামক ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র হরণ করেছে এভাবে: “আল্লা হো আকবর” শব্দে রণভূমি প্রতিধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছে। একদিকে তিন লক্ষ যবনসেনা, অন্যদিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য। হর হর বোম্‌ বোম্‌! পাঠক বলিতে পার, কে ঐ দৃপ্ত যুবা পঁয়ত্রিশ জন মাত্র অনুচর লইয়া মুক্ত অসি হস্তে অশ্বারোহণে ভারতের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর করনিক্ষিপ্ত দীপ্ত বজ্রের ন্যায় শত্রুসৈন্যের উপরে আসিয়া পতিত  হইল?  বলিতে  পার,  কাহার  প্রতাপে  এই অগণিত  যবনসৈন্য  প্রচণ্ড  বাত্যাহত অরণ্যানীর  ন্যায়  বিক্ষুব্ধ  হইয়া  উঠিল?  কাহার বজ্রমন্দ্রিত  ‘হর  হর  বোম্‌  বোম্‌’ শব্দে  তিনলক্ষ ম্লেচ্ছকণ্ঠের “আল্লা  হো  আকবর” ধ্বনি  নিমগ্ন  হইয়া  গেল? ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব নক্ষত্র।”

‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপাদিত্যের মুখ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলাচ্ছেন- “খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।” রবীন্দ্রনাথের ব্রিটিশ-ভক্তি ও মুসলিম বিদ্বেষের নজির মেলে তাঁর ‘কণ্ঠরোধ’ (ভারতী, বৈশাখ-১৩০৫) নামক প্রবন্ধে। তিনি লিখেছেন, “কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্রখন্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষ রুপে ইংরেজদেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে- ইটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল।” (রবীন্দ্র রচনাবলী, ১০ খন্ড,৪২৮ পৃষ্ঠা) 

ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন, “হিন্দু জাতীয়তা জ্ঞান বহু হিন্দু লেখকের চিত্তে বাসা বেঁধেছিল, যদিও স্বজ্ঞানে তাঁদের অনেকেই কখনই এর উপস্থিতি স্বীকার করবে না। এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ভারতের রবীন্দ্রনাথ যাঁর পৃথিবীখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবিকতাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কিছুতেই সুসংগত করা যায় না। তবুও বাস্তব সত্য এই যে, তার কবিতাসমূহ শুধুমাত্র শিখ, রাজপুত ও মারাঠাকুলের বীরবৃন্দের গৌরব ও মাহাত্ম্যেই অনুপ্রাণিত হয়েছে, কোনও মুসলিম বীরের মহিমা কীর্তনে তিনি কখনও একচ্ছত্রও লেখেননি। যদিও তাদের অসংখ্যই ভারতে আবির্ভূত হয়েছেন।” (Dr. Romesh Chandra Majumder, History of Bengal, p 203.)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তীব্র মুসলিম বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক চেতনার অতি উজ্বল দৃষ্টান্ত মেলে তাঁর ‘শিবাজী উৎসব্’ (১৯০৪) কবিতায়। ভারত জুড়ে তখন হিন্দু জাগরণের ঢেউ। সে ঢেউ বাংলাতেও এসে পড়ে। উল্লেখ্য হলো, মহারাষ্ট্রের বালগঙ্গাধর তিলক নামক একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা ১৮৯৫ সালের ১৫ এপ্রিলে সেখানে শিবাজী উৎসব চালু করেন। তার একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল। সেটি হলো শিবাজীকে হিন্দু জাগরণের আদর্শ নেতা রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়া। শিবাজী উৎসবের অনুকরণে চালু হয় গণপতি পূজা। গরু হত্যা বন্ধে ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গো-রক্ষিণী সভা। মহারাষ্টের শিবাজী উৎসবের অনুকরণে কলকাতায় শুরু হয় শিবাজী উৎসব ১৯০২ সালের ২১ জুন তারিখে। শিবাজী উৎসবের মূল মন্ত্র ছিল চরম মুসলিম বিদ্বেষ, সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িকতা। সে সাম্প্রদায়িক চেতনার সাথে রবীন্দ্রনাথও জড়িত হয়ে পড়েন। “শিবাজী উৎসব” কবিতাটি তারই দলিল।  

শিবাজী উৎসবের সূত্র ধরেই বাংলায় সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির শুরু। তারই সূত্র ধরে এ বাংলাতেই জন্ম নেয় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা। পরবর্তীতে যা পরিণত হয় জনসংঘে এবং তার কিছুকাল পর আজকের বিজিপি’তে। “শিবাজী উৎসব”  কবিতার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ শিবাজীর কর্মকান্ড ও জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখেন: “কোন দূর শতাব্দের এক অখ্যাত দিবসে নাহি জানি আজ মারাঠার কোন শৈল অরণ্যের অন্ধকারে বসে হে রাজা শিবাজী তব ভাল উদ্ভাসয়া এ ভাবনা তরিৎ প্রভাবৎ এসেছিল নামি ‘একরাজ্যধর্ম পাশে খন্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত বেধে দিব আমি।” এ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ শিবাজীকে ভারতের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, খন্ড, ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত ভারতকে ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করা ছিল শিবাজীর জীবনের উদ্দেশ্য।

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ও আর.এস.এস’য়ের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয়, ভারতের সকল মুসলিমই পূর্বসূত্রে হিন্দু। ফলে  ফলে তাদেরকে ঘরে ফেরাতে হবে। এটিকে তারা বলে “ঘর ওয়াপসি”। অথচ এ ধারণাটি কবি রবীন্দ্রনাথই প্রথম চালু করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: মুসলমানরা ধর্মে ইসলামানুরাগী হলেও জাতিতে তারা হিন্দু। কাজেই তারা ‘হিন্দু মুসলমান’। -(আবুল কালাম শামসুদ্দিনের লেখা অতীত দিনের স্মৃতি, পৃষ্ঠা: ১৫০)। মুসলিমদের হিন্দুতে ফিরিয়ে আনার জন্য যে কমিটি হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এই কমিটির কাজ ছিল নিম্নবর্ণের যেসব হিন্দু মুসলিম হয়েছিল তাদের আবার হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেয়া।-(প্রশান্ত পালের লেখা রবি জীবনী: ৬ষ্ঠ খন্ডের ২০৭ এবং ২০৮ পৃষ্ঠা, আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা)।

ভারতে বিধবা মহিলাদের মৃত স্বামীর চেতায় একত্রে জ্বালানোর অতিশয় নৃশংস রীতি চালু ছিল। রাজা রাম মোহন রায় এবং ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মত অনেকেই এ নিষ্ঠুর প্রথা রোধে ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ দেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সতীদাহ প্রথাকে সমর্থন করে কবিতা লিখেছেন। এই হলো রবীন্দ্রনাথের বিবেক ও মানবতার মান! মুসলিমগণ যেহেতু সতিদাহ প্রথাকে নিন্দা করতো, তাতে রবীন্দ্রনাথের রাগ গিয়ে পড়ে মুসলিমদের উপর। তিনি তার কবিতায় মুসলিমদের যবন বলে গালি দেন। সে কবিতাটি হলো: “জ্বল জ্বল চিতা! দ্বিগুন দ্বিগুন পরান সপিবে বিধবা বালা জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন জুড়াবে এখনই প্রাণের জ্বালা। শোনরে যবন, শোনরে তোরা, যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে, স্বাক্ষী রলেন দেবতার তার, এর প্রতিফল ভুগিতে হবে।”

কোন বিবেকবান মানুষ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেনা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ করেছেন। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ কলিকাতার গড়ের মাঠে এক সমাবেশ হয়। ঠিক তার দু’দিন পূর্বে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হতে দেওয়া যাবে না। উক্ত উভয় সভার সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ( তথ্যসূত্র: কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি, ড. নীরদ বরণ হাজরা, ২য় খণ্ড, ৪র্থ পর্ব)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সেদিন ময়দানে নেমেছিল হিন্দু সংবাদপত্রগুলো, হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও নেতারা। গিরিশচন্দ্র ব্যানার্জী, রাসবিহারী ঘোষ এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জির নেতৃত্বে বাংলার এলিটরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৮ বার স্মারকলিপি দেন লর্ড হার্ডিঞ্জকে এবং বড়লাটের সঙ্গে দেখা করেন। (ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন রিপোর্ট, খ- ৪, পৃ. ১৩০)।

 

সাম্প্রদায়িক শরৎচন্দ্র ও অন্যরা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়ের লেখাতেও প্রচুর মুসলিম বিদ্বেষ। তার হিন্দু সাম্প্রদায়িক চেতনার প্রমাণ মেলে “বর্তমান হিন্দু-মুসলমান সমস্যা” নামক প্রবন্ধে। উক্ত প্রবন্ধে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মুসলিমদের পাণ্ডা বলে সম্বোধন করেন। তিনি লিখেছেন: হিন্দুস্থান হিন্দুর দেশ। হিন্দু-মুসলমান-মিলন একটা গালভরা শব্দ। বস্তুত, মুসলমান যদি কখনও বলে, হিন্দুর সহিত মিলন করিতে চাই, সে যে ছলনা ছাড়া আর কি হইতে পারে, ভাবিয়া পাওয়া কঠিন। একদিন মুসলমান লুণ্ঠনের জন্যই ভারতে প্রবেশ করিয়াছিল, রাজ্য প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য আসে নাই। সেদিন কেবল লুঠ করিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই, মন্দির ধ্বংস করিয়াছে, প্রতিমা চূর্ণ করিয়াছে, নারীর সতীত্ব হানি করিয়াছে, বস্তুতঃ অপরের ধর্ম ও মনুষ্যত্বের উপরে যতখানি আঘাত ও অপমান করা যায়, কোথাও কোন সঙ্কোচ মানে নাই। তাই তাকে নিয়ে আহমদ ছফা বলেছেন, “এই রকম সাম্প্রদায়িক রচনা শরৎবাবুও লিখতে পারেন আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে”  (যদ্যপি আমার গুরু, আহমদ ছফা, পৃষ্ঠা ৫৬)।

হিন্দু সাহিত্যিকদের লেখায় মুসলিম বিদ্বেষ ও হিন্দুত্ব এতটাই প্রকট ছিল যে ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ লিখেছিলেন,কি পরিতাপের বিষয় আমাদের শিশুগণকে প্রথমেই রাম শ্যাম গোপালের গল্প পড়িতে হয়। সে পড়ে গোপাল বড় ভাল ছেলে। কাশেম বা আব্দুল্লাহ কেমন ছেলে সে তাহা পড়িতে পায় না। এখন হইতেই তাহার সর্বনাশের বীজ বপিত হয়। তারপর সে তাহার পাঠ্যপুস্তকে রাম-লক্ষণের কথা,কৃষ্ণার্জ্জনের কথা, সীতা-সাবিত্রির কথা, বিদ্যাসাগরের কথা, কৃষ্ণকান্তের কথা ইত্যাদি হিন্দু মহাজনদিগেরই আখ্যান পড়িতে থাকে। সম্ভবতঃ তাহার ধারণা জন্মিয়া যায়, আমরা মুসলমান ছোট জাতি, আমাদের বড় লোক নেই। এই সকল পুস্তুক দ্বারা তাহাকে জাতীয়ত্ব বিহীন করা হয়। বুদ্ধদেবের জীবনী চারপৃষ্ঠা আর হযরত মোহম্মদ (সা:) এর জীবনী অর্ধপৃষ্ঠ মাত্র। অথচ ক্লাসে একটি ছাত্রও হয়তো বৌদ্ধ নহে। আর অর্ধাংশ ছাত্র মুসলমান।.. মূল পাঠ্য ইতিহাসে হিন্দু রাজাদের সম্বদ্ধে অগৌরবজনক কথা প্রায় ঢাকিয়া ফেলা হয়,আর মুসলমানদিগের বেলা ঢাকঢোল বাজাইয়া প্রকাশ করা হয়। (আমাদের (সাহিত্যিক) দারিদ্রতা, মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, জৈষ্ঠ ১৩২৩, সংগ্রহে মুস্তফা নুরউল ইসলামঃ সাময়িক পত্রে জীবন ও জনমত, পৃঃ ৩০-৩১)। 

 




Muslims’ celebration of disintegration & the strategy of collaboration with the enemies 

Dr. Firoz Mahboob Kamal

The celebration of rebellion!

The division is forbidden (haram) in Islam. But the Muslims celebrate disintegration in the name of national and tribal states. This is the level of deviation of Muslims from Islam. As a result, the Muslims as an ummah cease to exist. They exist only as national, racial, tribal, or linguistic identities –as was the case of pre-Islamic Arab idolaters. A human body can’t survive with its truncated body parts. Likewise, the ummah can’t survive with divisive body polity, maps, flags, walls, and borders. Causing division among Muslims has always been the job of the worst enemies of Islam. A true believer can never chase such a path. Despite all mutual differences, dividing Muslims has always been considered haram (forbidden) by all schools of the Islamic faith. But still, little effort is being done to unite the Muslims. The division only helps qualify for heavy punishment from Almighty Allah –as promised in sura al-Imran verse 105 in the Holy Qur’an. But awfully, not only they are divided but also celebrate the division with high grandeur.

A Muslim can stay as Muslim only if he fully submits to the wish of Allah Sub’hana wa Ta’la. And Allah Sub’hana wa Ta’la wishes Muslims’ unity. But they preferred to stand disintegrated into 57 Muslim states. What else could be the worst rebellion against the wish of Allah Sub’hana wa Ta’la? Every national or tribal state has a specific day of disintegration. They celebrate those days of rebellion against His Qur’anic command as a mark of national pride! Can rituals like five-time prayer, fasting, hajj, and charity undo such grave crime of rebellion? The Qur’anic command “la tafarraku” (don’t be divided) is binding on every Muslim. Only those who are stubbornly disobedient to Allah Sub’hana wa Ta’la can ignore such stern warning. Islam is all about the full submission to His all orders, and any disobedience to any order is kufr. Those who excel in consistent submission to such Qur’anic orders, earn His blessing. Otherwise, they qualify for His punishment. No amount of religious rituals are a substitute of submission.

The political map of a country tells a lot about its citizens’ faith, vision, mission, and survival objective. The current map of the Muslim World is indeed an accurate indicator to show how deeply runs disobedience against Allah Sub’hana wa Ta’la among the Muslims today. It also shows how far they have deviated from the legacy of the Prophet (peace be upon me) and his rightly guided companions. No amount of religious rituals and attire can hide such deviation. It also shows, how the mad obsession with ethnic, linguistic, tribal, and other parochial identities has fully undermined the concept of ummah and dismantled Islam’s most powerful institution like khilafa. Under the new US-led occupation, the same process of disintegration has earned a new life in Iraq, Syria, and Yemen.

In comparison to Muslims’ divisive obsession, non-Muslims show far better political sagacity and wisdom. The South Asian Hindus could form the united India, the European colonialists could form the European Union and the American imperialists could forge the United States. They look cosmopolitan, but the Muslims look tribal. Despite the same language, the same ethnicity, and the same geographical landmass, the Arabs have formed 22 states. All-Wise Allah Sub’hana wa Ta’la wants the unity of the Muslims and Shaitan wants disunity. It is a pity that the Muslims have chosen to please Shaitan. Dividing the Muslim World has always been the key strategy of the enemies of Islam. They support militarily, politically, intellectually, and financially to cause and sustain the disintegration of the Muslims. In 1917, the British and the French launched wars in the Middle East to dismantle Osmania Khilafa. With the collaboration of the Arab tribal leaders, they could create 16 Arab states. Thus they could perpetuate the foundation of subjugation of about 300 million Arab Muslims to 5 million Israelis.

The geographical disintegration is the incurable infrastructure of weakness and failure. Even a child knows that. Hence an enemy wants that for the Muslims. In the golden days of Islam, the Muslims had only one state. And the enemies have divided one old province of Syria into 5 independent states. These are Syria, Lebanon, Jordon, Israel, and Palestine. In 1971, the Indians with the Russian help did war against Pakistan to dismantle this largest Muslim country of the contemporary world and could create a captive Bangladesh. Now in Iraq, Syria, and Yemen, the US-led coalition is trying to cause further disintegration of Islam’s heartland. It is also their key strategy to do war against anyone who tries to dismantle the divisive walls. So the Muslims are not allowed to break the walls of the prison cells –raised in the name of tribal or national identities. This is why while Saddam Hussain took back Kuwait –the former integral part of Iraq, the USA, and its allies declare war against Iraq. But when India took Kashmir, Israel took Palestine, the same western countries stay silent. The western imperialists don’t keep it hidden that their security interest lies in the divided political map of the Muslim World. Again and again, they have shown their full commitment to protecting the current infrastructure. Although they call it the stability of the status quo, it is indeed the strategy to keep the Muslims disintegrated, powerless, and subjugated.

The Ummah doesn’t exist 

Ummah is a pure faith-based construct. It doesn’t embrace or glorify any racial, ethnic or national connotation. The physical existence of the ummah is the most distinguishing marker of Muslimness of a people. To know the true belief of the Muslims, doesn’t need any soul-searching effort; it gets expressed through their political polity, identity, ambition, and actions. Ummah is indeed the collective political, ideological, cultural, and civilization embodiment of all Muslims. It is the trans-ethnic common global identity of the believers with a solid foundation on their identical faith, values, laws, and political cum civilizational ambition. The conceptual construct of ummah provided the early Muslims the much-needed huge infrastructure to emerge as the global civilizational power. Only because of such a faith-based groundwork, the Muslims with diverse ethnicities like the Arabs, the Persians, the Kurds, the Moors, the Turks, the Afghans, the Andalusians, the Balkans, and others could work shoulder to shoulder to bring victories in Asia, Africa, and Europe. In the whole history of mankind, such a united brotherhood of so many different ethnicities never happened before. Otherwise, there is nothing new in conquering lands and establishing empires. The barbaric Mongol hordes, the genocidal European colonialists, and the trigger-happy US imperialists could also conquer huge lands. But they couldn’t build any trans-ethnic brotherhood, higher values, sound laws or civilization. Instead, they could build massive infrastructures for genocides, ethnic cleansing, slave trading, economic exploitation, famines, wars and World Wars. Because of their moral void, millions of Indians, Red Indians, Africans, Aborigines, Maoris, Incas, and many others were forced to perish from the surface of the earth. The catalog of their crime is huge. And the legacy still survives. Hence, a culture of occupational wars, genocidal killing, destruction of cities, and economic exploitation still thrives in the modern world. The people of Afghanistan, Iraq, and Syria witnessed that.

The Muslims have their own awful internal problems. The concept of Muslim ummah can’t survive in a high tide of toxic ideas like monarchism, nationalism, tribalism, racism, secularism, and other man-made ideologies. Nor can it sustain in the absence of the Qur’anic knowledge. For surviving as a true Muslim, every believer needs constant feeding of Islamic thoughts, vision, mission, and objective. Such knowledge is the vital lifeline for the ummah. It indeed builds the ideological backbone of a Muslim individual and the ummah. Hence, in Islam, seeking knowledge is a life-long obligation -no less important than regular foods and drinks. Hence, seeking Qur’anic knowledge was made obligatory 11 years before the obligatory five-time prayer. In absence of that, institutions like Muslim ummah or khilafa can’t survive. This is why the enemies always aim at dismantling the educational and cultural institutions of Islam.

The Muslims have badly lost the ideological war –the cold war. It is indeed a strong precursor of defeat in the hot war –the conventional war. The ideological defeat owes to deep deprivation of Qur’anic knowledge. In the name of education, an enemy project to cause knowledge deprivation was executed during the whole colonial occupation of the Muslim World. The colonialists have left but the political power has been hijacked by those who got fully brainwashed by the secularised education system of the colonial era. So, they continue with the same de-Islamisation project of the enemy. As a result, the Muslims stand defeated and the ummah has ceased to survive.

With the demise of the ummah and its political infrastructure called khilafa, the Muslims now face the most catastrophic calamity in the whole history of Islam. In absence of the political cum military infrastructure of khilafa, the Qur’anic guidance and the prophet’s tradition remain non-functional. True Islam lives only in the Holy Qur’an. Such a state of affairs has indeed generated a perfect recipe for further defeat, occupation, exploitation, and killing. This is why trillions of unearned petrodollars of the Middle East and about 1.5 billion population couldn’t help Muslims come out of the current quagmire. Rather, day by day they are sinking down to a new low. They are growing only in number but not in faith and commitment. Like a diseased man, the Muslims are the seat of their own disease and rotten from inside. The crisis is so deep that the Muslims are no more known for their adherence to the Qur’anic guidance. The Qur’anic laws, the pan-Islamic brotherhood, the trans-ethnic institutions like khilafa and jihad in the way of Allah Sub’hana wa Ta’la find no place in the Muslim World. They have embraced ideas, laws, values, cultural practices, warfare, and the concept of state-building based on pre-Islamic jahiliya. This is why these so-called Muslim states show little dissimilarities from those of the kuffars. 

The visible dissimilarities of today’s Muslims from the early Muslims are not in the field of religious rituals, names, and nomenclature, but in the purpose of survival. The early Muslims survived to serve the agenda of Allah Sub’hana wa Ta’la. It is to bring victory for His deen. But today’s Muslims survive to serve national, tribal, monarchical, or party agendas. Allah Sub’hana wa Ta’la’s agenda hasn’t had any place in their life. All these dissimilarities owe to detachment from the Holy Qur’anic. Most of them finish their college and university education without understanding a single verse of the Holy Qur’an. In the golden days of the Muslims, even a farmworker, a shepherd, and a poor vendor had a better understanding of the Holy Qur’an than a university graduate or a Ph.D. scholar of today. To them, intellectual feeding was no less important than physical feeding. They didn’t have any doubt that their iman will surely die if they don’t take regular feeding from the Holy Qur’an. Hence, learning Qur’an was no less important in the early Muslims’ life than eating and drinking. Since the Holy Qur’an has lost its importance in Muslim life today, the huge dissimilarities in faith and action from the early Muslims could crop up so easily.  

The early Muslims, at their highest point, didn’t have a huge population. Nor did they have a big army. Neither did they have trillions of dollars of unearned wealth like today. But they didn’t experience a similar scale of occupation, genocide, rapes, destruction, and eviction as it is the norm in Palestine, Kashmir, India, Myanmar, Uighur, Bosnia, Mindanao, Afghanistan, Syria, and Iraq. Rather, they made the history of miraculous successes against the contemporary big powers. They could raise the Muslims as the most powerful World Power. But today, the Muslims are the most defenseless people on earth. They have armies and weapons, but these are not to protect Muslim men and women. These are only to protect the despotic rulers and bomb the freedom-seeking people –as currently happening in Syria and other Middle East countries.

Moreover, arms and ammunition don’t decide the fate of a people. Arms don’t fight any war, rather the people who carry the arms do the job. Hence, the quality of the soldiers is decisive that the quality and quantity of arms. The current state of the Arab World gives testimony to it. It is reported that from the year 2000 to 2019, Israel received arms from the USA, UK, France, Spain, and Germany of value 9.6 billion dollars. Whereas in the last 20 years, Saudi Arabia alone received arms of 29.3 billion dollars. In the same period, the arms sale to UAE was 21.1 billion. It was 17.5 billion dollars to Egypt and 6 billion dollars to Qatar. (The Daily Dawn, Karachi, 29.05.2021). But, what is the outcome of such a huge amount of arms in the Arab hands? Did it increase their military might? The jointly run war by Saudi Arab and UAE is failing badly against the poor fighters in Yemen.    

 

The strategy of collaboration with the enemies

The enemy’s crusade against Islam and the Muslims never ends. It only changes the strategy and frontiers. They start new wars on new frontiers. The First World War ended in 4 years. The Second World War ended in 5 years. But the US-led current war against Islam and the Muslims doesn’t show any sign of ending even in its 20th year. They are inventing more clues and new narratives to enter into new territories. The current crusade –declared exactly as a crusade by President George W. Bush, started in Afghanistan in 2001 to dismantle the Islamic rule of Taleban. It has now expanded to Iraq, Syria, Libya, Somalia, Yemen, Mali, Chad, Central Africa, and other territories. It is also true that the enemies of Islam have stopped winning any of their wars. They can only continue the killing and the destruction. Even the former US President Donald Trump acknowledged the fact in one of his speeches. Even the US-led coalition of 60 countries couldn’t gain control over 20 percent of Afghanistan in 16 years. The same is true in Iraq, Syria, and Yemen. They can only prolong the war to delay Islam’s resurgence as a global power. So, the current war will continue for many more decades to add more devastating miseries. Hence, there exists little doubt that more difficult days are lying ahead for the Muslims. Many more Muslim countries are in the queue to receive the same brutalities, deaths, and destruction as happening now in Palestine, Afghanistan, Iraq, Syria, Somalia, Mali, and Yemen. This is the price that the Muslims are now subject to pay for their division, deviation, and servile adherence to the established enemies of Islam. Such a punishment is indeed an unfaltering Qur’anic promise. For failing to do the assigned job, more severe punishment is waiting for them in the hereafter.

Now it is the policy of the US-led coalition to reinforce their war machines to drop more bombs, drones, and missiles on the Muslim cities and villages. Every year they increase their defense budget and desperately search for new killing machines. Russia, China, and India are doing the same. Now the whole Muslim World is under the constant surveillance of the multi-racial imperialists. They have divided the area of influence among themselves. What Israel is doing in Palestine, India is doing the same in occupied Kashmir. And China is doing the same in occupied Eastern Turkistan called Xing Xiang. More bombs are dropped in Syria than were dropped in any single country like German, Japan, France, or England in the First or the Second World War. Whoever raises the head in the name of Islam is labeled as a terrorist. His home is marked as a target for a drone attack. For being killed, he doesn’t need to engage in any war on the US or European soil. This is the new reality imposed on the Muslim World.

In the name of fighting Islamists, cities after cities are bombed to rubbles in Muslim countries. Drones are hitting homes in Pakistan, Yemen, Afghanistan, Syria, and Somalia. Thousands of innocent men, women, and children are being killed. About sixty countries are drawn into the US-led war against the Muslims. Such a huge number of states were not involved even in World Wars. Therefore, apart from occupations, destructions, and killings, they have attained spectacular success to create a global ummah of kufr. This ummah of kufr is also glued together by similar faith, values, political aim, and commitment. To resist the resurgence of Islam, they are ready to do any war in any part of the world. In order to solidify their occupation and to install their own cronies in the occupied lands, they have imposed a policy of forced eviction of people from their own homes -as Israel did in Palestine.

 

Readiness for the surrender

Muslims have now reached a new phase in history. They do not have any strategy to face the enemies. Instead, they are in a haste to make full surrender. They even search for ways to work as the enemies’ partners in occupation, arson, and genocidal massacre. Therefore, President Erdogan of Turkey decided to work with killer President Vladimir Putin. President Putin has occupied Syria and has appeared as the sole protector of killer Bashar al-Assad. The Russian soldiers are also working in Libya and Central Africa. The Turkish Army also worked with the US Army in running the occupation in Afghanistan. They call such collaboration with the enemy wisdom (hikma). While working with the devils one can’t avoid doing evils. In the past, Sheikh Abdullah of Kashmir, Sheikh Mujibur Rahman of Bangladesh, President Musharraf of Pakistan, and Hamid Karzai of Afghanistan followed the same strategy of collaborating with the occupiers. The lust for worldly gains inspires these stooges to forget the consequence in the hereafter. Likewise, millions of de-Islamised Muslims join the US-led ummah of kufr to kill their fellow Muslims. Many of them are engaged in the intellectual war against Islam and Muslims. This is an unprecedented event in Muslim history. Even the tyrants like Pharaoh, Nimrod, and the Arab infidels couldn’t think of such recruitment of Muslims as their foot-soldiers in the past.

The enemies of Islam didn’t make any error in discovering the real source of Muslims’ strength. They correctly discovered that the Holy Qur’an and the unity of the Muslims stand against their agenda. So, they are at war on both fronts. During their colonial rule, they built religious schools to create a class of ulama who will encourage people to recite the Qur’an and not to understand it. And causing geopolitical disintegration of the Muslim World is their key. Hence they created 22 Arab states. Now they drop bombs to destroy the physical infrastructures like the roads, bridges, homes, and hospitals. Thus they are doing everything to block the emergence of Muslims as a united and viable ummah. As a part of the same project, Israel is not the only creation. They have created countries like Saudi Arabia, Kuwait, Qatar, UAE, Syria, Jordan, Bahrain, Oman, and others to serve the same imperialistic agenda. This way the 22 Arab states didn’t increase Muslims’ power, rather enhanced the security of Israel and the USA.

 

The USA’s love for the autocrats

Like Israel, these artificial Arab states also received quick recognition by the imperialist countries, the imperialist-owned League of Nations, and later on by the UN. The map of the Arab World was drawn by the imperialists to protect the interest of the imperialists. Never a plebiscite took place to know the opinion of the native people. This is the type of democracy that the US-led imperialists prescribe for the people in the occupied Muslim lands. In each of these Arab states, they installed a dynasty of the most submissive and servile clients who never show any willingness to give any share of the political power to their own citizens. The US government and its allies have shown their intense love for these cruel autocrats. They also take the full burden of protecting them. They have already shown their readiness to fight any war to protect them from their people.

In return, the rulers of these oil-reach Arab states follow a strategy of full collaboration with the imperialists. Protecting the economic and strategic interests of the western imperialists is the core agenda of these rulers. Hence, the USA enjoys the full liberty to build bases for its Air Force, Land Force, and the Navy in any part of the heart of the Muslim World. From these bases, they can easily target any Muslim city, industry, bridge, or home with better precision. Western companies also enjoy the full monopolistic access to drain oil and gas from these countries. As a result, trillions of dollars of the Muslim World do not stay in the Muslim lands, rather go directly to those who have already declared an unending crusade against Islam. The US dollar could attain the status of an international currency only because of this Muslim money funneled into the US economy. Due to the continuous flow of this Muslim money, the USA could sustain its ongoing war in Afghanistan, Iraq, Yemen, and Syria -an area much larger than the whole of Western Europe and for a period much longer than the total duration of two World Wars. So, they do war against the Muslims with Muslims’ money.

In the creation of these new states, the imperialists had another sinister objective. It is to prevent the spill-over of their unearned huge wealth to the poor Arabs living in neighboring Yemen, Jordan, Palestine, Syria, Egypt, Sudan, and Mali. Such dispersion of wealth to the poor Arabs would have reduced the share of western imperialists; hence could badly damage their economic interest. Restrictive borders of these oil and gas-rich states thus provide huge protected wealth for the imperialists’ consumption. This is why the US and its ally do not hesitate to tell that the economic interest of the West, as well as their national security, lie in this Middle Eastern oil and gas. As if, this oil and gas belong to the western companies. And to keep this ownership, the imperialists are keen to protect these servile rulers, at any cost.

Thus, extreme western selfishness works here to protect this ugly status quo. Unless the oil and gas reserve gets finished, there is little chance that the imperialists and their cronies will come to the sense to remove the disastrous division of the Arab World and end the ongoing war. Whoever protests against this robbery of the Muslim wealth and stand for the democratic right of the people are blamed as a terrorist. Bashar al-Assad has killed more than 2 hundred thousand people in Syria, and half of the population are driven out of their home. He used chemical bombs, cluster bombs, and barrel bombs on the civilian population. The western countries who lecture on human rights didn’t throw a single stone against his army. Now they are lecturing on making peace with this murderous devil.

Bashar al-Assad is not the only dictator engaged in a genocidal mission. Israel is doing the same crime for more than 70 years. Other despots in the area are ready to commit the same brutal massacre if the people come down to the streets for their democratic rights like the brave Syrians. Their deep hatred against human rights and people’s participation in politics is not unknown. Like Bashar al-Assad, these despots are fearful of their own people. Hence, they are highly fearful of the so-called Arab Spring. The US-led coalition is worried, too. Therefore, it is the common strategy of these despotic rulers and the US-led imperialists to dismantle or contain the Arab Spring. So, they got common ground to celebrate the overthrow of the Egyptian President Dr Mohammad Morsi ­-the first elected President of the country by the Army. Thus the USA government’s fake love for democracy and the real love of autocracy is exposed. In order to stop the wave of Arab Spring, the rulers of Saudi Arabia and UAE –the US partners in an anti-democracy coalition gave billions of dollars to the Egyptian Army and other anti-democratic forces in Egypt to overthrow President Morsi. The rulers of Saudi Arabia and UAE are now extending their arms to embrace Syria’s killer Basher al-Assad to include him in the same club of criminal despots. General Abdul Fatah al-Sisi of Egypt –the brutal killer is also taken a partner to kill and suppress the Islamists. 16.06.2021




বিবিধ ভাবনা ৫৮

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১. শাবাশ ফিলিস্তিনীরা

অবাক করার মত বিস্ময় দেখিয়েছে ফিলিস্তিনী জনগণ। বাংলাদেশের জনগণের জন্য তাদের থেকে অনেক কিছুই শিখবার আছে। ফিলিস্তিনের জন্য যেমন ইসরাইল, বাংলাদেশের জন্য তেমনি হলো ভারত। যে লড়াইটি আজ ফিলিস্তিনীরা লড়ছে, সে লড়াইটি বাংলাদেশীদেরও লড়তে হবে। ফিলিস্তিনীদের পাশে কেউ নাই। তারা একাই যুদ্ধ লড়ছে। অন্যরা ফিলিস্তিনীদের পক্ষ নিতেও ভয় পায়, কারণ তাতে শত্রুতা অনিবার্য হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের  সাথে। বাংলাদেশও সব দিকে শত্রু দ্বারা পরিবেষ্টিত, লড়তে হবে একাই। ইসরাইল কোন সাধারণ রাষ্ট্র নয়। সেটি এক বিশাল ক্ষুদার্ত কুমির। শুরু থেকেই সে আগ্রাসী। তার রয়েছে দুইটি বিশাল চোয়াল যা দিয়ে শক্ত ভাবে চেপে ধরেছে সমগ্র ফিলিস্তিনকে। শুরুতে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা শতকরা ৫ ভাগের বেশী ছিল না। এখন রীতিমত পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছে ফিলিস্তিনের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগকে। বাকি সিকি অংশকেও লাগাতর ক্ষতবিক্ষত করছে বিশাল দুই দাঁতালো মাড়ির মাঝে রেখে। ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ী এবং শিশুরাও এ কুমিরের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। রেহাই পাচ্ছে না হাসপাতাল, ক্লিনিক, পাওয়ার হাউস, ও পানির লাইন।

এ আগ্রাসী কুমিরকে শক্তি ও সাহস জুগাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্টসহ সকল পশ্চিমা জগত। তারা শুধু অবৈধ দেশটিকে জন্মই দেয়নি, বিপুল অর্থে ও অস্ত্রে প্রতিপালনও দিচ্ছে। এ কুমিরের গ্রাস থেকে ফিলিস্তিনীদের মুক্তি দেয়ার কেউ নাই। প্রতিবেশী মিশর ও জর্দানের কাছে গুরুত্ব নাই ফিলিস্তিনীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। তাদের দরদ বরং ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি। সম্প্রতি আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, সুদান এ কুমিরকেই কোলে তুলে নিয়েছে। ইসরাইলে সাথে এ দেশগুলি কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের হাসিনা সরকারও এ কুমিরের কাছে প্রিয় হতে উদগ্রীব। তাই এতোদিন পাসপোর্টে ইসরাইলে প্রবেশের উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটিও তুলে দিয়েছে। তাছাড়া আল-জাজিরা ডক্যুমেন্টারী তো দেখিয়ে দিয়েছে, ইসরাইল থেকে সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের বাতিক কত গভীর। শত্রুর সাথে বানিজ্য করার অর্থ তো তার হাতে অর্থ তুলে দেয়া। বাংলাদেশ তো তাই করছে।আর সে অর্থ ব্যয় হচ্ছে ফিলিস্তিনীদের হত্যা ও নির্যাতিত করার কাজে।

কিন্তু কুমিরের চোয়ালে আটকা পড়েও অবাক করার মত সাহস দেখিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনী জনগণ। ফিলিস্তিনী যুবকগণ খালি হাতে এবং কখনো হাতে ঢিল নিয়ে লড়ে যাচ্ছে ইসারাইলের ট্যাংকের বিরুদ্ধে। নানারূপ দমন প্রক্রিয়ার মুখেও ফিলিস্তিনীগণ অবাক করার মত সাফল্য দেখিয়েছে নিজেদের শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে। তাদের হাতে রাষ্ট্র নাই, প্রশাসন নাই এবং অর্থও নাই। অথচ স্বাক্ষরতার হার ফিলিস্তিনীদের মাঝে শতকরা শত ভাগ। অন্ধ ও বধিরদদেরও তা শিক্ষা দিয়েছে। শতভাগ শিক্ষার সে হার বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের মত তেলসমৃদ্ধ দেশগুলিতে নাই। আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো পিএইডি ডিগ্রিধারীদের হার বিশ্বের সকল রাষ্ট্রগুলির মাঝে সবচেয়ে বেশী হলো ফিলিস্তিনীদের মধ্যে। ফিলিস্তিনীদের সমুদয় জনসংখ্যা ঘরে-বাইরে দিয়ে এক কোটিও নয়। কিন্তু ২২টি আরব দেশের প্রায় ৩৫ কোটি আরব যে সংখ্যক লেখক ও বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি করেছে ফিলিস্তিনী লেখক ও বুদ্ধিজীদের সংখ্যা তার চেয়ে অধিক। এভাবে ফিলিস্তিনীরা বিপুল সংখ্যায় গড়ে তুলেছে বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের কৌশলী লড়াকু সৈনিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা প্রফেসর হলো ফিলিস্তিনী। ফিলিস্তিনের লন্ডনস্থ্য রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে  বললেন, এমনকি ইসরাইলের কোন কোন হাসপাতালের শতকরা ৪০ ভাগ ডাক্তার হলো ফিলিস্তিনী। অথচ ইসরাইলে ফিলিস্তিনীগণ জনসংখ্যার মাত্র শতকরা ২০ ভাগ। তাছাড়া আরবী ভাষায় উচ্চাঙ্গের সাহিত্য সৃষ্টিতেও ফিলিস্তিনীগণ এগিয়ে আছে বাকি আরবদের থেকে।

ফিলিস্তিনীদের আরেক সাফল্য হলো তারা গড়ে তলেছে বিপুল সংখ্যক বিশ্বমানের সাংবাদিক এবং বিশেষজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সেটি বুঝা যায় আল-জাজিরার আরবী ও ইংরেজী বিভাগের রিপোটিং ও বিশ্লেষনের মান দেখলে। গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে যারা দিবারাত্র অতি উচ্চমানের রিপোর্টিং করে তারা সবাই ফিলিস্তিনী। ইংরেজী ভাষায় তাদের রিপোর্টিং করার দক্ষতা কোন দক্ষ ইংরেজ বা মার্কিন সাংবাদিকের চেয়ে কম নয়। বিশ্বজুড়ে আল-জারিয়ার জনপ্রিয়তার মূল কারণ রিপোর্টিংয়ের উচ্চ মান। আল-জাজিরা ছাড়াও তারা কাজ করছে অন্যান্য বহু বিদেশী চ্যানেলগুলিতেও। তাদের কারণেই ইসরাইলের বর্বরতাগুলি আজ সরাসরি অসংখ্য কামেরার নখদর্পনে। সেগুলি ত্বরিৎ বেগে প্রদর্শিত হয় সমগ্র বিশ্বজুড়ে। এরই ফল হলো, বিশ্বজুড়ে জনমত গড়ে উঠছে ফিলিস্তিনীদের পক্ষে। সেটি বুঝা যায় ইসরাইলীদের হামলার প্রতিবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং দক্ষিণ অ্যামেরিকার শহরগুলির রাজ পথে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় দেখে। লক্ষণীয় হলো, বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই অমুসলিম। কারণ, বহু মার্কিনী ও ইউরোপীয়রা বুঝতে পেরেছে ইসরাইলকে দেয়া তাদের রাজস্বের অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশু হত্যার কাজে। বিবেকমান মানুষ কি তখন নীরবে বসে থাকে? এমনকি অনেক ইহুদীরা‌ও “ফ্রি প্যালেস্টাইন”প্লাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে ফিলিস্তিনীদের এটি এক গুরুত্বপূ্র্ণ বিজয়।    

২. সভ্য ও অসভ্যদের পরিচয়        

সভ্য মানুষেরা বসত ঘরে আবর্জনা জমতে দেয় না। সেগুলি নিয়মিত পরিস্কার করে। তেমনি রাষ্ট্র থেকেও নির্মূল করে আবর্জনা তথা দুর্বৃত্তদের। এ কাজগুলি নিয়মিত না হলে দেশ সভ্য বসবাসের আযোগ্য হয়ে পড়ে। অপরদিকে অসভ্য মানুষেরা মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের ন্যায় আবর্জনার স্তুপকে ভালবাসে। তারা যেমন ঘরের আঙ্গিনায় আবর্জনার স্তুপ গড়ে, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রকে দুর্বৃত্ত ও অসভ্য মানুষে ভরে তোলে। এরাই ভোটচোর ও ভোটডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রূপে বরণ করে নেয়। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে বিশ্বমাঝে ইতিহাস গড়েছে।

অথচ সভ্য মানুষের গুণ হলো, চুরিডাকাতি ও ভোটডাকাতির ন্যায় দুর্বৃত্তিকে সে মন দিয়ে ঘৃনা করে। এ জন্যই যে কোন সভ্য দেশে ভোটচোর ও ভোটডাকাতদের স্থান হয় কারাগারে, তাদেরকে কখনোই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয়না। তাই কারো বিবেক আছে কি নাই –সেটি গোপন থাকার বিষয় নয়, সূর্যের আলোর ন্যায় দেখা যায়। যার বিবেক আছে সে কখনোই চোর-ডাকাতকে মাননীয় বলে না, বরং সামর্থ্য থাকলে সে দুর্বৃত্ত অপরাধীর মুখে সর্বশক্তি দিয়ে থাপ্পড় মারে। অপরদিকে যে ব্যক্তির বিবেক নাই, সে ভোটচোরকে মাথা ঝুঁকিয়ে কুর্নিশ করে এবং তারা পায়ে মালিশ করে।

পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশে সে অসভ্য কর্মটিই ব্যাপক ভাবে হচ্ছে। চোরডাকাত, ভোটডাকাত দুর্বৃত্তদের ঘৃনা করা বদলে তাদের প্রতি সন্মান দেখার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। এটি এমন এক ভয়ানক সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক দুর্গতি, যার নাশকতা কোভিড মহামারী বা সুনামীর চেয়েও অধিক। মহামারী বা সুনামীতে কিছু মানুষ মারা যায় কিন্তু তাতে জাতির চরিত্র ও বিবেক মারা যায়না। কিন্তু সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক দুর্গতিতে মৃত্যু ঘটে জাতীয় চরিত্র ও বিবেকের।  অথচ সে ভয়ংকর অপসংস্কৃতি নির্মিত হচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আদালতের বিচারক, সেনাবাহিনীর জেনারেল, সংসদ সদস্য, সচিব, বুদ্বিজীবী ও মিডিয়া কর্মীদের পক্ষ থেকে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষক দল বেঁধে ভোটডাকাতিকে সুষ্ঠ নির্বাচন বলে বিবৃতি দেয় তখন কি বুঝতে বাকি থাকে, তাদের বিবেক আদৌ বেঁচে নাই?

গরুরা ঘাস চায়, প্রভুর গুণ দেখে না। মানবরূপী গরুগণেরও একই ধর্ম। তারা বেশী বেশী উচ্ছিষ্ট চায়, মনিবের গুণ দেখে না। তাই চোর, ভোটচোর, ভোটডাকাত, খুনি, ও সন্ত্রাসী হওয়াটি এই গরুচরিত্রের মানুষদের কাছে ঘৃণার কারণ হয় না। বাংলাদেশের জন্য ভয়ানক বিপদের কারণ হলো দেশটি এরূপ গরু চরিত্রের মানুষের সংখ্যাটি বিশাল। ফলে হাসিনার মত নৃশংস ভোটডাকাতকেও অসংখ্য চাকর-বাকর ও চাটুকর পেতে আদৌ বেগ পেতে হয়না। এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর জেনারেল, সচিব, আদালতের বিচারক পর্যায়ের লোকেরাও সে কাজে সদা প্রস্তুত। রবীন্দ্রনাথ এদের নিয়েই বলেছিলেন, হে বিধাতা সাত কোটি প্রাণীরে রেখেছো বাঙালী করে, মানুষ করোনি। বাঙালী ব্যর্থতা বস্তুত মানুষ হওয়া নিয়েই।

৩. মানুষ ও অমানুষ

যে ব্যক্তি একজন ভোটডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে সে ব্যক্তি প্রফেসর, আদালতের বিচারপতি, সেনাবাহিনীর জেনারেল, সরকারের সেক্রেটারী, লেখক বা বুদ্ধিজীবী হতে পারে, কিন্তু সে ব্যক্তি আদৌ কোন মানুষ হতে পারে না। সে বস্তুত মানবরূপী শতভাগ অমানুষ। তার পক্ষে ঈমানদার হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। ভাত-মাছ-মাংস দৈহিক বল দেয়। ঈমান দেয় নৈতিক বল। নৈতিক বলে সে চোর কে চোর, স্বৈরচারী দুর্বৃত্তকে স্বৈরচারী দুর্বৃত্তই বলে। তাই যার হৃদয়ে শরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে সে কি  কখনো কোন ভোটডাকাত দুর্বৃত্তকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে? যে ব্যক্তি সেরূপ বলে, বুঝতে হবে সে ব্যক্তি পাকা বেঈমান। ঈমান না থাকার কারণেই তার মাঝে কোন নৈতিক বল নাই। পশুর বাচ্চারা শুধু গায়ে-গতরে বড় হয়।ন্যায়-অন্যায়ের বোধ নিয়ে তারা বাড়ে না। একই অবস্থা মানবরূপী পশুদেরও। এরাই বাংলাদেশে চোরডাকাত-ভোটডাকাতকে সন্মান করে। ভোটডাকাত সর্দারনীকে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলে।

৪.জঙ্গলের রাজা ও অসভ্যদের রাজা

জঙ্গলে যে পশুর দেহ, দাঁত ও নখর বড় সেই বনের রাজা হয়। আর অসভ্য দেশে চুরি-ডাকাতি, ভোটডাকাতি, গুম-খুন ও সন্ত্রাসের সামর্থ্য যার বেশী -সেই প্রধানমন্ত্রী বা শাসক হয়। তারই উজ্জল দৃষ্টান্ত হলো বাংলাদেশ। অপর দিকে সভ্য সমাজের লক্ষন হলো, সেখানে সন্মানিত হয় ভদ্র ও যোগ্য জনেরা। তাই একটি দেশ কতটা অসভ্য বা সভ্য সেটি বুঝার জন্য গবেষণার দরকার পড়েনা। চোখ খুললেই সেটি সুস্পষ্ট দেখা যায়। সেটি বুঝা যায় দেশটি চোরডাকাত, ভোটডাকাত, খুনি, ধর্ষক ও সন্ত্রাসীরা কতটা সন্মানিত হয় -সেটি দেখে। এ বিচারে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। একমাত্র এ দেশটিতেই একজন রাতের ভোটচোরকে কারাগারে না পাঠিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে সন্মান দেখানো হয়। এ লজ্জা ও অপমান সমগ্র বাংলাদেশীদের।

৫. আল্লাহর সৈনিক ও দলীয় ক্যাডার


যে ব্যক্তি মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীন ইসলামকে রাষ্ট্রের বুকে বিজয়ী করার লক্ষে কাজ করে সে পাগল হয় অন্য ইসলামপন্থীদের সাথে একতা গড়ার জন্য। কারণ সে জানে, একতা ছাড়া বিজয় অসম্ভব। তাছাড়া সে ব্যক্তি এটিও জানে, একতা গড়া নামায-রোযার ন্যায় ফরজ এবং অনৈক্য মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আযাব ডেকে আনে। অপর দিকে যে ব্যক্তি দল, মাজহাব, পীর বা ফিরকার জন্য কাজ করে সে একতার ঘোরতর শত্রু। অন্যদের সাথে একতা গড়ার মাঝে সে নিজের দল, নিজের ফিরকা, নিজের মজহাব ও নিজের পীরমুরিদীর বিলুপ্তি দেখে। তাই সে একতার কথা মুখে আনে না। বাংলাদেশে ইসলামের পরাজয়ের মূল কারণ তো এখানেই। যারা নিজেদের ইসলামী রূপে জাহির করে তাদের প্রবল আগ্রহটি হলো অনৈক্যে। এভাবে মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করার বদলে খুশি ও বিজয়ী করছে শয়তানকে।

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে ইসলামের নামে দল, মজহাব, ফিরকা ও পীরের নামে বিপুল সংখ্যাক ক্যাডার থাকলেও মহান আল্লাহতায়ার দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মুখলেছ সৈনিক নাই। এ ক্যাডারদের মূল তাড়নাটি দলের নেতা, মাজহাবের গুরু ও পীরদের খুশি করা, মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করা নয়। অথচ যদি দেশে বহু শত নবী একত্রে প্রেরিত হতেন তবে তাদের মধ্যে সীসাঢালা প্রাচীরসম একতা স্থাপিত হতো। কারণ তাদের সবারই লক্ষ্য হতো মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করা; কোন দল, ফেরকা, মজহাব বা ফেরকার কর্তা ব্যক্তিকে খুশি করা নয়।

৬. অশিক্ষার খেসারত

সভ্য মানুষের আগ্রহ শুধু পানাহারে নয়, বরং লাগাতর শেখা ও শেখানোতেও। শুধু পানাহার নিয়ে বাঁচাটি পশুর গুণ। অশিক্ষা ও কুশিক্ষার নাশকতা বিশাল। তাতে মুসলিম হওয়া দূরে থাকে, মানুষ হওয়াই অসম্ভব করে। পবিত্র কুর’আনে ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি ঈমানদার হলো মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা তথা প্রতিনিধি। ইংরেজীতে এরূপ প্রতিনিধিকে বলা হয় ভাইসরয়। খলিফার পক্ষে সার্বভৌম হওয়া হারাম। তাকে কাজ করতে হয়ে প্রভূর দেয়া এজেন্ডা ও কর্মপদ্ধতি মেনে। সেক্ষেত্রে হের ফের হলে জাহান্নামে যেতে হয়।

মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিনিধি তথা ভাইসরয়ের দায়িত্বটি এক বিশাল দায়িত্ব। মানব জীবনে এটিই হলো সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোন মুর্খ বা জাহেল ব্যক্তির পক্ষে সে বিশাল দায়ভার পালন কি সম্ভব? যে ব্যক্তি তার প্রভুর দেয়া নির্দেশনা ও কর্মপ্রণালীই বুঝে না, সে দায়িত্ব পালন করবে কী করে? যে ব্যক্তি সেনা কমান্ডারের কমান্ডের ভাষাই বুঝে না -সে ব্যক্তি সৈনিক হয় কি করে? মুসলিম মানেই তো আল্লাহর সৈনকি। মুর্খ বা জাহেল ব্যক্তির পক্ষে এজন্যই অসম্ভব হলো মুসলিম হওয়া। তার জন্য শয়তানের খলিফা হওয়া ও জাহান্নামের যাত্রী হওয়া সহজ হয়ে যায়।  

তাই ইসলামে সর্বপ্রথম যে ইবাদতটি ফরজ করা হয়েছে সেটি নামায-রোযা বা হজ্জ-যাকাত নয়। সেটি হলো কুর’আনের জ্ঞানার্জন। এবং “ইকরা”তথা পড়ে কুর’আনের প্রথম শব্দ। লক্ষণীয় হলো, বিশ্বের সকল ধর্মের মাঝে একমাত্র ইসলামই শিক্ষালাভকে ফরজ ইবাদত তথা বাধ্যতামুলক করেছে। নবীজী (সা:)’র হাদীস: যারা কুর’আন শিক্ষা করে এবং কুর’আন শিক্ষা দেয় তারাই মানবকুলে শ্রেষ্ঠতর। অথচ পরিতাপের বিষয় হলো মুসলিমগণই আজ বিশ্বমাঝে সবচেয়ে অশিক্ষিত। এবং সে অশিক্ষাটি সবচেয়ে বেশী হলো কুর’আন শিক্ষার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীগণ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করে পবিত্র কুর’আনের একটি আয়াত বুঝার সামর্থ্য অর্জন না করেই। দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষেতখামার বা কলকারখানায় নির্মিত হয় না, সেটি হয় শিক্ষাঙ্গণে। অথচ বাংলাদেশে এটিই হলো সবচেয়ে ব্যর্থ খাত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও চোরডাকাত-ভোটডাকাত দুর্বৃত্তদের ঘৃনার সামর্থ্য পাচ্ছেনা। ১৫/০৬/২০২১