দেশ নিয়ে ভাবনা-২

১.

শত কোটি টাকা দানের চেয়েও বড় সওয়াবের কাজটি হয় কাউকে জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচানোতে। তবে এ কাজের জন্য চাই পবিত্র কোর’আনের গভীর জ্ঞান। ইসলামে তাই নামায়-রোযার আগে জ্ঞানার্জন ফরজ করা হয়েছে। তাই ঈমানদারের কাজ হলো লাগাতর সে লক্ষ্যে জ্ঞানের সামর্থ্য বাড়ানো। এটিই হলো মানব জীবনের সবচেয়ে বড় সামর্থ্য। নবীজী (সাঃ) বলেছেন, যার জীবনে দু’টি দিন অতিবাহিত হলো অথচ তার জ্ঞানের ভান্ডারে কোন বৃদ্ধি ঘটলো না -তার জন্য ধ্বংস।

জান্নাতের এক ইঞ্চি ভূমিও হিমালয়ের পাহাড় সমান সোনা দিয়েও কেনা যায় না। নবী-রাসূলগণ অর্থদানের জন্য দুনিয়াতে আসেননি। জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচানোর উপকারটি করার জন্যই তারা পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রেরিত হয়েছিলেন। পৃথিবী পৃষ্ঠে এ কাজটিই সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে সে কাজটি করে রাষ্ট্রের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি। ইসলামী রাষ্ট্রের এটিই হলো সবচেয়ে বড় কল্যাণ। এজন্যই নবীজী (সাঃ)র মদিনায় হিজরতের পর নিজের ঘর না ঘরে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ আজকের মুসলিমগণ ইসলামী রাষ্ঠ প্রতিষ্ঠা না করে স্রেফ মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠায় সকল শক্তি নিয়োগ করছে। প্রতিটি মুসলিম ভূমিতে এভাবেই গাদ্দারি হচ্ছে নবীজী(সাঃ)র সর্বশ্রেষ্ঠ সূন্নতের সাথে। তাদের সে গাদ্দারির কারণেই শয়তান দখল জমিয়েছে মুসলিম দেশগুলিতে। দাড়ি রাখা বা টুপি মাথায় দেয়ার সূন্নত পালন না হলে এরূপ ভয়ংকর ক্ষতি হয় না, যা হয় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না দিলে                                                                                                       

অপরদিকে সবচেয়ে পাপের কাজ হলো কারো ঘরে চুরি-ডাকাতি করা নয়। বরং সেটি হলো কাউকে জাহান্নামের পথে ধাবিত করা। রাষ্ট্র ইসলাম বিরোধী শক্তির হাতে অধিকৃত হলে সে ভয়ানক গোনাহর কাজটি করে দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এবং সে সাথে টিভি ও পত্র-পত্রিকাগুলি। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫-২০ বছর কাটানোর পরও কোর’আন বুঝার সামর্থ্য বাড়ে না।  একই রূপ ভয়ংকর ক্ষতিতর কাজটি করে দেশের ইসলামচ্যুৎ সেক্যুলারিস্ট বুদ্বিজীবীগণ।

তাই দেশ থেকে চুরি-ডাকাতি, মদজুয়া ও পতিতাবৃত্তি নির্মূল এবং মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার চেয়েও অধীক সওয়াবের কাজটি হলো ইসলাম বিরোধী শক্তির হাত থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করা। এবং পরিপূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দেয়া। ইসলামে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। একেই বলা হয় জিহাদ। এ কাজে শত্রুর হাতে প্রাণ গেলে বিনা হিসাবে সাথে সাথে জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য হয়। পবিত্র কোর’আনে সে ওয়াদা বার বার দেয়া হয়েছে। এবং তাদের মৃত বলা হারাম করা হয়েছে। এ কাজের যথাযথ মর্যাদা নবীজী (সাঃ)র সাহাবাগণ বুঝেছিলেন। সে বুঝার মধ্যেই তো প্রকৃত ঈমানদারি। ফলে তাদের মধ্য থেকে শতকরা ৭০ ভাগ জিহাদের ময়দানে শহীদ হয়েছিলেন। অথচ আজকের মুসলিমদের মাঝে সে বুঝ ক’জনের? যারা নিজেদেরকে অআলেম বা আল্লামা মনে করেন তাদের মাঝেই বা ক’জনের? ফলে তারা বেছে নিয়েছে রোগে ভোগে বিছানায় মারা যাওয়াকে। ফলে শয়তানের অনুসারিগণ শুধু রাষ্ট্রের উপর নয়, তাদের ঘাড়ের উপরও চেয়ে বসেছে।     

২.

অসভ্য চোর-ডাকাত ও খুনি শাসকদের উপর খোদ নবীজী (সা:)র জ্ঞানগর্ভ ওয়াজও কাজ দেয়নি। পবিত্র কোর’আনের বাণীও তাদের দিলে আছড় করে না। দোয়া-দরুদেও তাদের নির্মূল করা যায় না। ফলে তাদের নির্মূলে নবীজী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাদেরও জিহাদে নামতে হয়েছে। দুর্বৃত্তদের শাসন নির্মূল করে তাঁকে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হয়েছে। এবং সে জিহাদে অধিকাংশ সাহাবাকে শহীদ হতে হয়েছে। শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা গড়ে কি সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গড়া যায়? সেটি সম্ভব হলে বাংলাদেশ দুর্বৃত্তে ৫ বার বিশ্ব-চ্যাম্পিয়ান না হয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত সভ্য দেশে পরিণত হতো। কারণ দুনিয়ার আর কোথাও এতো মসজিদ-মাদ্রাসা নাই -যা বাংলাদেশে আছে।

৩.

নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের ন্যায় বিশ্বের বহুদেশ সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে বহুদূর এগিয়ে গেছে। সেসব দেশের অনেক ব্যর্থতা থাকলেও এরূপ অসভ্যতা নাই যে, একজন রাতের ভোট-ডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। তাদের বিশাল কৃতিত্ব যে অসভ্য স্বৈরাচারি শাসকদের তারা বিদায় দিতে সমর্থ হয়েছে। কিন্তু ১৭ কোটি বাংলাদেশী সে সামর্থ্য এখনো অর্জন করতে পারিনি। পোষাক রপ্তানী, চিংড়ি রপ্তানী ও মানব রপ্তানী বাড়িয়ে কি এ অসভ্যতা ঢাকা যায়?

৪.

কোন পাড়ায় চোর-ডাকাতের আধিপত্য থাকলে সে পাড়ায় ভদ্রলোকের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়ে।তেমনি রাষ্ট্র যখন চোর-ডাকাতদের দখলে যায় তখন নিরীহ আবরার ফাহাদের নির্মম ভাবে লাশ হতে হয়। তখন শুধু থানা বা জেলখানা গুলিই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলিও নির্যাতনের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

৫.

সশস্ত্র ভোট-ডাকাতদের রুখার সামর্থ্য যখন নিরস্ত্র জনগণের থাকে না, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীও যখন ডাকাতদের সঙ্গি হয় এবং বিচারকগণও  যখন ভোট-ডাকাতিকে আইনসিদ্ধ এবং ডাকাতদের সরকারকে বৈধ সরকার বলে -তখন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট-ডাকাতদের সরানো যাবে এমনটি যারা ভাবে তাদের মানসিক চিকিৎসার জন্য পাগলা গারদে ভর্তি করা উচিত।

৬.

ঈমানদারের লক্ষণ, সে প্রতিক্ষণ বাঁচে জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচার চিন্তা নিয়ে। ফলে পাপ থেকে বাঁচা এবং ভাল কাজে তাড়াহুড়াটি তার মাঝে প্রবল। অপর দিকে বেঈমান বাঁচে আখেরাতকে ভূলে; ফলে সে পাপের পথে না্মে এবং চোর-ডাকাত ও ভোট-ডাকাত হয়।

৭.

গরুছাগলেরা ঘাস পেলেই খুশিতে মাথা নাড়ে, গলার রশিটা নিয়ে ভাবে না। যারা পশু চরিত্রের মানুষ তারা সরকারের চাকুরি পেলে খুশিতে নিরপরাধ মানুষদের ফাঁসিতে চড়ায় ও পিটিয়ে হত্যা করে। বাংলাদেশে এদের সংখ্যাটি বিশাল। এরাই দেশের মূল শত্রু। এদের কারণেই দেশ দুর্বৃত্তদের দখলে যায়। কোন সভ্য দেশে এমনটি ভাবা যায় না।

৮.

১৯৪৭’য়ে ভারতের পেট কেটে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম  রাষ্ট্র রূপে বেড়ে উঠার জন্য। ভারতের গর্ব, একাত্তরে যুদ্ধ করে পাকিস্তান ভেঁঙ্গে গোলাম একটি বাংলাদেশ জন্ম দিতে পেরেছে। এবং এ গোলামীকেই হাসিনা ও তার দলের লোকেরা স্বাধীনতা বলে উৎসব করছে। ভারতের আরো গর্ব, কাশ্মিরকে গোলাম বানিয়ে রাখতে সেখানে বহু হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ লাখ ভারতী সৈন্য রাখতে হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে সে কাজটি করছে দেশটির ভোট-ডাকাত সরকার এবং সরকারের অনুগত সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী। ফলে কাশ্মিরের গ্রামে ঢুকতে ভারতীয়রা ভয় পায়, কিন্তু বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চলাচলে বা দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলিতে পৌঁছতে ভারতের সে ঝুঁকি নাই। সেগুলি যেন ভারতেরই নিজস্ব সড়ক ও বন্দর।    

৯.

সবচেয়ে বড় ডাকাতি কারো গৃহে হানা দেয়া নয়। বরং ভোট ডাকাতির মাধ্যমে পুরা দেশের উপর ডাকাতি করা।বাংলাদেশ আজ এই ডাকাতদেরই দখলে।

১০.

দেশে খুন,গুম, ধর্ষণ ও স্বৈরশাসনের অসভ্যতা দেখেও যে ব্যক্তি নীরব থাকে, বুঝতে হবে সে নিজেও তাদের ন্যায় অপরাধী অথবা বিবেক শূণ্য। বাংলাদেশে এরূপ অপরাধী অথবা বিবেক শূণ্য মানুষের সংখ্যাটি অতি বিশাল। ফলে ৭০ লাখ জনসংখার হংকং’য়ে বা ৫০ লাখ জনসংখ্যার লেবাননে যেরূপ লক্ষ লক্ষ মানুষের দিনের পর দিন সরকার বিরোধী মিছিল হয় -সেটি ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে ভাবাও যায় না। অথচ হংকং বা লেবাননের জনগণের বিপদটি এমন নয় যে, তাদের দেশ বাংলাদেশের ন্যায় ভোট ডাকাতদের দখলে গেছে।  




দেশ নিয়ে ভাবনা-১

১.

একাত্তরে ভারত এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে। এক).পাকিস্তানকে ভেঁঙ্গেছে। দুই). বাংলাদেশকে গোলাম বানিয়েছে। এভাবে বিপুল ভাবে বেড়েছ ভারতের শক্তি এবং দুর্বল হয়েছে মুসলিমগণ। ভারতের কামান এখন ২০ কোটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে।

ভারতীয় সে প্রকল্পের সাথে সহযোগিতার চেতনাই হলো একাত্তরের চেতনা। আজ সে চেতনাই নিয়েই কাজ করছে শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকেরা। ফলে সমুদ্রবন্দর, করিডোর, নদীর পানি, গ্যাসসহ ভারত যাচ্ছে শেখ হাসিনা তাই দিচ্ছে। কারণ ভারতকে শক্তিশালী করার জন্য সেগুলি দেয়াকে শেখ হাসিনা অপরিহার্য মনে করে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মির সমস্যার সমাধান হতে হবে কাশ্মিরীদের রায়ের ভিত্তিতে। ভারত সে প্রস্তাব না মেনে গায়ের জোরে ভারত ভূক্ত করার জন্য সেখানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। সেখানে গণহত্যা ও দমন প্রক্রিয়া চালাতে ভারত সেখানে ৮ লাখ সৈন্য সমাবেশ করেছে। বিশ্বের মুসলিমগণ কাশ্মিরীদের পক্ষে। কিন্তু ভোট-ডাকাত হাসিনা ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। এভাবে মুসলিম স্বার্থের সাথে গাদ্দারি করে ভারতের পাশে দাঁড়ানোটাই  হলো একাত্তরের চেতনা। এ চেতনার যারা বিরোধী তারা শুধু একাত্তরের রাজাকারই নয়, আজকের এবং ভবিষ্যতের রাজাকারও।

২.
সভ্য শাসকেরা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে ভাবে না, দারুন ভাবে মানব-উন্নয়ন তথা মানবের চরিত্রের উন্নয়ন নিয়ে। নইলে সভ্য সমাজ নির্মিত হয় না। অপর দিকে ডাকাত সর্দারের মূল ভাবনাটি নিজ দলে ডাকাতের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে। অসভ্য ভোট-ডাকাত সরকারর মনযোগটি তাই জনগণের চরিত্র ধ্বংস নিয়ে। কারণ, এ পথে দুর্বৃত্ত বৃদ্ধির সাথে সাথে তার সমর্থকও বাড়ে। সে প্রয়োজন মেটাতেই ভোট-ডাকাত হাসিনার অসভ্য সরকার পরিকল্পিত ভাবে দেশে চোর-ডাকাত-ধর্ষক ও সন্ত্রাসীদের সংখ্যায় বিপুল ভাবে বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।

৩.
ভোট ও মিছিলের অধিকার বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলেও ছিল। তখনও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। পাকিস্তান আমলে শত শত মিছিল ও মিটিং করেছে মুজিব। কিন্তু ভোট-ডাকাত হাসিনা সে অধিকার বাংলাদেশীদের দিতে রাজী নয়। সে মৌল অধিকার নিষিদ্ধ করেছে নিজের অবৈধ গদি বাঁচাতে। এটিই হলো নিরেট অসভ্য শাসনের দুর্ভোগ।

 

৪.
দেশে আইনের শাসন থাকলে হাসিনাকে ভোট ডাকাতির অপরাধে জেলে যেতে হতো। হাসিনা তাই আইনের শাসনের বদলে তার দলের ক্যাডারদের শাসন প্রতিষ্ঠা
করেছে। শুধু পুলিশ বাহিনী নয়, আদালতেও ঢুকিয়েছে তার দলীয় ক্যাডারদের।
৫.

৫,

ভোট-ডাকাত হাসিনাকে মাননীয় বললে একজন দুর্বৃত্তকে সন্মান
করা হয়। এবং তাতে দুর্বৃত্তিকে বৈধতা দেয়া হয়। ইসলামে এটি হারাম। কোর’আন দুর্বৃত্তদের নির্মূলের হুকুম দেয়, সন্মান করতে নয়।

 

৬.
চোর-ডাকাত ক্ষমতায় গেলে পুলিশের কাজ হয় শাসক দলের খুনি ও চোর-ডাকাতদের পাহারা দেয়া। জনগণকে পাহারা দেয়ার গরজ তাদের থাকে না। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাই জনগণকে চোর-ডাকাতদের সরকারকে হটাতে হয়। নইলে অসভ্যতা নিয়ে বাঁচতে হয়। এমন দেশে হাজার হাজার আবরার ফাহাদ লাশ হবে এবং নুসরত জাহানকে আগুণে পুড়িয়ে হত্যা করা হবে -সেটিই অতি স্বাভাবিক।

৭.
কোন পরিবারে চোর-ডাকাত জন্ম নিলে সে পরিবারের ইজ্জত থাকে না। তেমনি কোন দেশে হাসিনার ন্যায় ভোট-ডাকাত প্রধানমন্ত্রী হলে বিশ্বমাঝে সে দেশেরও ইজ্জত থাকে না। কারণ, বিশ্ববাসী অন্ধ নয়। তারা দেখে, কোন দেশে কারা ক্ষমতায়। চোর-ডাকাত ও ভোট-ডাকাত ক্ষমতায় গেলে বিশ্বব্যাপী সেটি খবর হয়। এমন একটি চেতনার কারণেই যাদের আত্মসম্মান আছে সেরূপ কোন সভ্য জনগণ কখনোই অসভ্য ভোট-ডাকাতকে নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রি রূপে বরদাশত করে না। সে অসভ্য শাসন দিতে সভ্য জনগণ তাই যুদ্ধ করে।

 

৮.
বাংলাদেশে উন্নতি যা হচ্ছে সে কৃতিত্ব জনগণের। চোর-ডাকাতদের হাতে  দেশ  না গেলে আরো উন্নতি হতো। বাংলাদেশের জনগণ এক কালে শ্রেষ্ঠ বস্ত্রশিল্পের জন্ম দিয়েছিল। ভোট-ডাকাত হাসিনা যা বাড়িয়েছে তা হলো খুনি, চোর-ডাকাত ও ধর্ষকদের সংখ্যা।

৯.

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রয়েছে। হাসিনা ক্ষমতায় আসলো ভোট ডাকাতির ন্যায় বিশাল দুর্নীতি করে। কিন্ত সে দুর্নীতির বিচার কই? ভোট-ডাকাত হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রমাণ করেছে এ সংস্থার কর্তাব্যক্তিগণ নিজেরা কতটা দুর্নীতিতে ডুবে আছে।

 

১০.
বাংলাদেশের জনগণের জন্য সবচেয়ে লজ্জার বিষয়টি হলো চোর-ডাকাত ও খুনিদের কাছে বিচার ভিক্ষা করতে হচ্ছে। সভ্যদেশে যাদের বসবাস হয় কারাগারে তারাই সমগ্র দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে।




মিথ্যার সুনামি এবং দুর্বৃত্ত-অধিকৃত বাংলাদেশ

মিথ্যার নাশকতা

“মিথ্যা সকল পাপের মা”–এ উক্তিটি কোন সাধারণ বিজ্ঞজনের কথা নয়। বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও মহাজ্ঞানী হযরত মহম্মদ (সাঃ)। এ উক্তির মাঝে লুকিয়ে আছে দুর্বৃত্ত-মুক্ত সভ্য ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের এক বিপ্লবী দর্শন। রাস্তাঘাট, কৃষি, কলকারখানা বা তাজমহল নির্মাণের চেয়ে অধীক গুরুত্বপূর্ণ হলো মানব-উন্নয়ন। সে জন্য অতি অপরিহার্য হলো ব্যক্তির জীবন থেকে মিথ্যা নির্মূল। অপরদিকে মিথ্যার সুনামিতে গড়ে উঠে এক অসভ্য ব্যক্তি ও রাষ্ট্র। তখন দেশ ইতিহাস গড়ে চুরিডাকাতি, ভোট-ডাকাতি, গুম-খুন, সন্ত্রাস ও ধর্ষণের ন্যায় নানারূপ দুর্বৃত্তিতে। এবং এরই আধুনিক উদাহরণ হলো বাংলাদেশ। মানব জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাশকতাটি কখনোই রোগ-জীবানুর হাতে ঘটেনি, ঘটেছে মিথ্যার সুনামীতে। সে নাশকতাটি দুনিয়াতেই শেষ হয় না, পরকালে জাহান্নামে টানে। যুগে যুগে এটিই শয়তান ও তার অনুসারিদের মিশন।

যে শক্তির বলে মহান নবীজী (সাঃ) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার জন্ম দিতে সফল হয়েছিলেন -সেটি কোন সামরিক বল ছিল না। সেটি ছিল মুসলিমদের চারিত্রিক বল। সে চারিত্রিক বল সম্পন্ন ব্যবসায়ীদের দেখেই ইন্দোনেশিয়ার জনগণ দলে দলে মুসলিম হয়ে যায়। সে চারিত্রিক বলের কারণ, নবীজী (সাঃ) তাঁর অনুসারিদের মুক্তি দিয়েছিলেন মিথ্যা বলার পাপ থেকে। এবং অভ্যস্থ করতে পেরেছিলেন জীবনের প্রতি পদে সত্য বলায়। সমাজে সত্যবাদিতা এতটাই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল যে, মৃত্যদন্ডপ্রাপ্ত আসামীকেও বিচারক জামিন দিতে ইতস্ততঃ করেনি -এ বিশ্বাসে যে, সে ব্যক্তি ফিরে এসে মৃত্যুদন্ড মাথা পেতে মেনে নিবে। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সত্যবাদীতার উপর প্রবল বিশ্বাসে তার পক্ষে আদালতে জামিন রূপে খাড়া হওয়া ব্যক্তিরও সেদিন অভাব হয়নি। ওয়াদা মাফিক আদালতে ফিরে এসে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী প্রমাণ করেছেন, এ জীবনে মৃত্যু সহনীয়; কিন্তু অসহনীয় ছিল ওয়াদা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে মিথ্যুক রূপ হাজির হওয়া। এসব ঘটনাগুলো আজও ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছে।

ব্যক্তির চরিত্র ও গুণাগুণ বিচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারটি হয় সে কতটা সত্যবাদী তা দেখে। সে বিষয়টি জানার জন্য কোন গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। সেটি বুঝা যায় মুখ থেকে উচ্চারিত উক্তির মাঝে। এক্ষেত্রে হযরত আলী (রাঃ)’র জ্ঞানগর্ভ একটি উক্তি হলো, “মানুষের ব্যক্তিত্ব তার জিহবাতে”। এর অর্থ, মানুষের ব্যক্তিত্ব তার দৈহিক বল, অর্থ-সম্পদ, গায়ের রং, বংশমর্যাদায় প্রকাশ পায় না। প্রকাশ পায়,  মুখ খুললেই। হযরত আলী (রাঃ) নবীজী (সাঃ)’র সাহাবাকুলে অতি জ্ঞানী রূপে গণ্য হতেন। নবীজী (সাঃ)র হাদীস, “আমি জ্ঞানের গৃহ এবং আলী সে গৃহের দরজা।” হযরত আলী (রাঃ)’র জ্ঞানের সে গভীরতাটি ধরা পড়ে তার রচিত কিতাব “নাহাজুল বালাগা”র মধ্যে। কথা হলো, ব্যক্তিত্বের অর্থ কি? ব্যক্তিত্ব হলো চরিত্র, জ্ঞান ও গুণের এমন এক মিশ্রন যার ভিত্তিতে গড়ে উঠে ব্যক্তির নিজস্ব এক পরিচয় যা তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে। তবে চরিত্রের নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি হলো সত্যবাদিতা। স্রেফ ইট, বালি, লোহা ও সুড়কি দিয়ে ইমারাত গড়া যায় না। সে জন্য অপরিহার্য হলো সিমেন্ট। ব্যক্তির চরিত্রে তেমনি সিমেন্টের কাজ করে সত্যবাদীতে। মিথ্যাবাদীদের দৈহিক বল, মেধা, শ্রম, কর্মকুশলতা যতই থাক, তাদের যেমন চরিত্র থাকে না, তেমনি ব্যক্তিত্বও থাকে না। তাদের পক্ষে অতি সহজ হয় ব্যক্তিত্বহীন ও অপরাধী রূপে বেড়ে উঠা।

সত্যবাদীতা  ব্যক্তিকে লোভ-লালসায় হেলে পড়া থেকে বাঁচায়। অপরদিকে মিথ্যুকগণ স্বার্থ হাসিলের সুযোগ দেখলেই হেলে পড়ে। তাদের চরিত্রে কোন স্থায়ী রূপ থাকে না, তারা বহুরূপী হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরাই কখনো ফ্যাসিস্ট, কখনো জাতিয়তাবাদী, কখনো চীনপন্থি, কখনো ভারতপন্থি, আবার কখনো মার্কিনপন্থি হয়। কখনো আবার হজ্ব-ওমরায় যায়, মাথায় পটি বাধে, হাতে তাসবিহ নেয় এবং  তাবলিগের মজলিসেও হাজির  হয়।

ঈমানের প্রকাশ সত্যবাদীতায়

মানব সমাজে সর্বদাই দু’টি পক্ষঃ এক). সত্যের পক্ষ; দুই). মিথ্যা পক্ষ। ব্যক্তিকে সৎ, ধার্মিক ও দেশপ্রেমিক বানানোর লক্ষ্যে সর্বচেয়ে জরুরী হলো তাকে সত্যবাদি বানানো। সত্যবাদি হওয়াটাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এবং মানব জীবনে এটিই সবচেয়ে বড় বিপ্লব। তবে এ বিপ্লব কখনোই পানাহারে আসে না। এজন্য জরুরী হলো চেতনায় বিপ্লব। সে বিপ্লবের জন্য জরুরী হলো মহান আল্লাহতায়ালা এবং পরকালে বিচার দিনে জবাবদেহীতার উপর পূর্ণ ঈমান। ঈমানদারীর প্রকাশ যেমন সত্যবাদীতায়, বেঈমানীর প্রকাশ তেমনি মিথ্যাবাদীতায়। মানব তখনই সত্যাবাদি হয়, যখন সে বুঝতে পারে তার ঘাড়ে সর্বাবস্থায় ফেরশতা বসে আছে এবং তার প্রতিটি কথার উপর মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে লাগাতর নজরদারি আছে। সিসিটিভি বিকল হয়, কিন্তু নিয়োজিত ফেরেশতারা কখনোই দায়িত্ব পালনে ক্ষান্ত দেন না। ঈমানদারের মনে যে ভয়টি সব সময় কাজ করে তা হলো, মিথ্যা বলার অপরাধে তাকে পরকালে জবাব দিতে হবে। ফলে ঈমানদারের পক্ষে অসম্ভব হয় মিথ্যাচারি হ্ওয়া।

অথচ আল্লাহতায়ালার উপর ঈমান এবং পরকালে জবাবদেহীতার ভয় না থাকাতে সত্যবাদি হওয়া অসম্ভব হয় বেঈমানের পক্ষে। কে কতটা ঈমানশূণ্য, সে বিষয়টি অতি নিখুঁত ভাবে ধরা পড়ে কে কতটা মিথ্যা বললো তা থেকে। পরকালে জবাবদেহীতার ভয় না থাকাতে বেঈমানের কথা ও চরিত্রের উপর কোন লাগাম থাকে না। অথচ ঈমানদারের উপর সে লাগামটি হলো তার ঈমান এবং পরকালে জবাবদেহীতার ভয়।  তাই তাকে শুধু পানাহারে হারাম-হালালের বাছ-বিচার করলে চলে না। তাকে কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা সেদিকে নজর রেখে প্রতিটি বাক্য উচ্চারণ করতে হয়। গলায় রশি না থাকলে গরু যেখানে গাস পায়, সেখানেই মুখ দেয়। হারাম-হালালের বিচার সে করে না। তেমনি ঈমানশূণ্য ব্যক্তিও যেখানেই নিজের স্বার্থ হাসিলের সুযোগ দেখে সেখানে যা খুশি বলে এবং যা খুশি তা করে। তার পক্ষে তখন অসম্ভব হয় সৎ ও চরিত্রবান হওয়া। তাদের সামনে দুর্বৃত্তির সকল রাস্তা তখন খুলে যায়। এমন একটি মিথ্যাচারি জনগোষ্ঠি দুর্বৃত্তিতে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড গড়ে।

সভ্য সমাজ নির্মাণে বড় বাধা দুর্বৃত্ত-অধিকৃত সরকার

রাষ্ট্রের বুক থেকে মিথ্যা এবং সে সাথে দুর্বৃত্ত নির্মূলের কাজটি স্রেফ পুলিশ দিয়ে হয় না, সেটি শুরু করতে হয় জনগণের মাঝে আল্লাহতায়ালার উপর ঈমান এবং পরকালে জবাবদেহীতার ভয়কে বদ্ধমূল করে।  এবং সে কাজে মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া কার্যকর হাতিয়ারটি হলো পবিত্র কোর’আন। তাই ইসলাম কবুলের প্রথম মুহুর্তে যে ইবাদতটি প্রথম ফরজ হয় সেটি হলো কোর’আনের জ্ঞানার্জন। মুসলিমদের উপর ৫ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়েছিল নবীজী (সাঃ)’র উপর নবুয়তের দায়িত্ব দেয়ার ১১ বছর পর। অথচ বাংলাদেশে পবিত্র কোর’আন থেকে জ্ঞানার্জনের ফরজ পালনে সবচেয়ে বড় বাধাটি সৃষ্টি করেছে সরকার। সরকারের শিক্ষানীতির কারণে বাংলাদেশের একজন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করতে হয় পবিত্র কোর’আন থেকে একটি আয়াত না বুঝেই। ফলে ছাত্রদের মনে কীরূপে গড়ে উঠবে আল্লাহর ভয়? কীভাবে গড়ে উঠবে সত্যবাদিতা ও চরিত্র? এতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যলয়ে পরিণত হবে খুনি, ধর্ষক ও নানারূপ দুর্বৃত্ত উৎপাদনের কারখানায় –সেটি কি স্বাভাবিক নয়? বাংলাদেশের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল সম্প্রতি রিপোর্ট দিয়েছে, দেশে প্রতি বছর ৫ লাখের বেশী শিশুর জন্ম হয় অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের মাধ্যমে। যা হয় দেশের প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে। (সূত্রঃ প্রথম আলো, ১৮.১০.২০১৯)। আর তাতে বহু হাজার কোটি টাকা ডাকাতি হয়ে যায় জনগণের পকেট থেকে। মেধাবী ছাত্রগণ মেডেক্যাল কলেজে ঢুকে কীরূপ অর্থলোভী ডাকাতে পরিণত হয় এ হলো তার প্রমাণ। ইঞ্জিনয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে ঢুকে কীরূপ খুনিতে পরিণত হয় সে প্রমাণ তো মিললো সম্প্রতি বুয়েটে আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে। এসব দুর্বৃত্তদের হাতেই অধিকৃত বাংলাদেশের প্রশাসন, রাজনীতি, আইন-আদালত, বুদ্ধিবৃত্তি এবং সাংবাদিকতা। সভ্য মানব, সভ্য সমাজ ও সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্বৃত্তদের এ অধিকৃতি।

 

দেশ কি কবিরা গুনাহর আবাদভূমি?

প্রশ্ন হলো মিথ্যা ও মিথ্যুকের সংজ্ঞা কি? যা সত্য নয় সেরূপ প্রতিটি কথাই মিথ্যা। এবং যে ব্যক্তি সমাজে মিথ্যা রটায় সেই মিথ্যুক। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার অপরাধের তালিকাটি বিশাল। তবে সবচেয়ে বড় অপরাধটি হলো, তারা নিজেরা শুধু মিথ্যুক হয়নি, মিথ্যাচারি বানিয়েছে বাংলাদেশের বহু কোটি মানুষকে। শত শত মিথ্যার মাঝে যে মিথ্যাটি ছড়িয়ে শেখ মুজিব মিথ্যাচারিতায় বিশ্বরেকর্ড গড়েছে, সেটি হলো ১৯৭১’য়ে তিরিশ লাখ নিহতের মিথ্যা। অথচ একাত্তরের ৯ মাস যুদ্ধ কালে মুজিব বাংলাদেশে ছিলেন না। পাকিস্তানের জেল থেকে ফেরার পথে তিনি সে মিথ্যাটি বলেছিলেন লন্ডনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে। সাংবাদিকের প্রশ্নটি ছিল, একাত্তরের যুদ্ধে বাংলাদেশে কতজন নিহত হয়েছে তা নিয়ে। সে প্রশ্নের উত্তরটি কোন ব্যক্তিরই জানার কথা ছিল নয়। কারণ জানতে হলে সে জন্য তো দেশব্যাপী জরিপ করতে হয়। না জেনে যা বলা হয়, সেটিই তো মিথ্যা। তাই যে ব্যক্তি সত্য বলায় আগ্রহী সে কেন মিথ্যুক হওয়ার ঝুঁকি নিবে? ফলে শেখ মুজিব সত্যবাদী হলে তার জবাবটি হতো এরূপঃ “এ মুহুর্তে সে সংখ্যা বলা যাবে না। একমা্ত্র দেশ ব্যাপী জরিপ করেই বলা যাবে কত জন নিহত হয়েছে।” কিন্তু মিথ্যাচারি মুজিবের সত্য কথা বলা নিয়ে কোন আগ্রহ ছিল না। ফলে বললেন ভিত্তিহীন একটি মিথ্যা। মিথ্যা রচনায় তথ্য লাগে না, জরিপের প্রয়োজন পড়ে না। বললেন, নিহত হয়েছে ৩০ লাখ। সেটি মিথ্যাটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে ঠাঁই পেল।

প্রশ্ন হলো, যে মিথ্যা কথাটি বলে মুজিব মিথ্যাবাদিতায় ইতিহাস গড়লো, সে মিথ্যার কি কোন নিরপেক্ষ পরিমাপ হয়েছে? হয় নি। মিথ্যা বলা এবং মিথ্যাকে স্বীকৃতি দেয়া যখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তখন কে কতবড় মিথ্যা বল্লো -তা নিয়ে কোন বিচার বসে না। সে মিথ্যা নিয়ে্ও কোন চিন্তাভাবনা হয় না। বরং অপরাধ গণ্য হয় মিথ্যার বিরুদ্ধে খাড়া হওয়াটি। একাত্তরে বহু মানব নিহত হয়েছে। প্রতিটি হত্যাই অপরাধ। কিন্তু তিরিশ লাখ নয়, এক কোটি বা তার চেয়ে বেশী মানুষ নিহত হলেও মিথ্যা বলার নয় কবিরা গুনাহ জায়েজ হয় না। তিরিশ লাখের মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা দেয়ার মধ্য দিয়ে কোটি কোটি মানুষ পরিণত হয়েছে মিথ্যুকে এবং বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে মিথ্যার ন্যায় কবিরা গুনাহ আবাদের উর্বর ভূমি। এবং অপরাধ গণ্য হয় এ মিথ্যাকে মিথ্যা বলা। অথচ সভ্য দেশে মিথ্যুক ব্যক্তি অযোগ্য গণ্য হয় যে কোন সরকারি চাকুরির জন্যে। কোন মন্ত্রী মিথ্যা বললে তার মন্ত্রীত্ব কেড়ে নেয়া হয়।  ইসলামের গৌরব যুগে মিথ্যাবাদিগণ অযোগ্য গণ্য হতো আদালতে সাক্ষিদানের জন্য; এবং অযোগ্য গণ্য হতো হাদীস বর্ণনার জন্য। নিষিদ্ধ ছিল মিথ্যুককে শিক্ষক বা মসজিদের ইমামের পদে বসানো। অথচ বাংলাদেশে মুজিব ও হাসিনার ন্যায় মিথ্যাবাদীও দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়! মিথ্যাবাদী মুজিবকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়ারও চেষ্টা হয়!        

তিরিশ লাখ নিহতের তথ্যটি যে কীরূপ প্রকান্ড মিথ্যা –সেটি সামান্য ভাবলে একজন প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রও সহজে টের পাবে। কিন্তু বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, পত্রিকার সম্পাদক বা পার্লামেন্টের সদস্যও এতবড় বিশাল মিথ্যা নিয়ে ভাবতে রাজী নয়, সে মিথ্যার বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও রাজী নয়। মিথ্যার কাছে নীরবে আত্মসমর্পণেই তাদের আনন্দ। তিরিশ লাখের অর্থ তিন মিলিয়ন। একাত্তরে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি অর্থাৎ ৭৫ মিলিয়ন। যে কোন স্কুল ছাত্রও হিসাব করে বের করতে পারে, সাড়ে ৭ কোটির (৭৫ মিলিয়ন) মাঝে তিরিশ লাখ (তিন মিলিয়ন) মানুষের মৃত্যু হলে প্রতি ২৫ জনে একজনকে মারা যেতে হয়। যে গ্রামে ১ হাজার মানুষের বাস সে গ্রামে মারা যেতে হয় ৪০ জনকে। ঘটনাক্রমে সে গ্রামে কেউ মারা না গেলে পরবর্তী গ্রামটি যদি হয় ১ হাজার মানুষের বসবাস তবে সেখান থেকে মারা যেতে হবে কমপক্ষে ৮০ জনকে। যে থানায় ১ লাখ মানুষের বাস সেখানে মারা যেতে হবে ৪ হাজার মানুষকে। প্রতি থানায় ও প্রতি গ্রামে নিহতদের সংখ্যা এ হারে না হলে ৩০ লাখের সংখ্যা পূরণ হবে না।

তাছাড়া ৯ মাসে তিরিশ লাখ মানুষকে হত্যা করতে হলে প্রতিদিন গড়ে ১১, ১১১ জনকে হত্যা করতে হয়। ১৯৭১’য়ে বাংলাদেশ ছিল একটি গ্রামীন জনসংখ্যা অধ্যুষিত একটি দেশ যার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ জনগণই বাস করতো গ্রামে। সেনাবাহিনীর পক্ষে যেহেতু প্রায় ৭০ হাজার গ্রামের মাঝে ১০% গ্রামে পৌঁছাতে হলে নদীনালা, দ্বীপ, বিল, হাওর ও চরে পরিপূর্ণ ৭ হাজার গ্রামে পৌঁছতে হয়। সেটি কি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে ৯ মাসে পৌঁছা সম্ভব ছিল? ফলে সহজেই ধারণা করা যায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী শতকরা ৯৫ ভাগ গ্রামেও পৌঁছতে পারিনি। ফলে তিরিশ লাখের বিপুল হত্যাকান্ডটি ঘটাতে হতো জেলা, মহকুমা বা উপজেলা শহরে। তখন পাড়ায় পাড়ায় অসংখ্য নারীকে ধর্ষিতা হতে হতো। এটি কি তাই বিশ্বাসযোগ্য? সে সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাক-বাহিনীর প্রকৃত সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ হাজার। -(সূত্রঃ জেনারেল নিয়াজীর লেখা বই  “Betrayal of East Pakistan”, ২০০১)। যুদ্ধবন্ধি রূপে যেসব পাকিস্তানীদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের মধ্যে অর্ধেকই ছিল বেসামরিক ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য। ৪৫ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যের পক্ষে কি সম্ভব ছিল বিল-হাওর,নদী-নালা,দ্বীপ ও চরাভূমিতে পরিপূর্ণ একটি দেশের প্রায় ৭০ হাজার গ্রামে পৌছানো? প্রতিটি গ্রাম দূরে থাক প্রতিটি ইউনিয়নেও কি তারা যেতে পেরেছিল? প্রকৃত সত্য হল, যুদ্ধকালীন ৯ মাসে অধিকাংশ গ্রাম দূরে থাক, অধিকাংশ ইউনিয়নেও পাক বাহিনী পৌঁছতে পারিনি। প্রতিটি গ্রামে ও ইউনিয়নে গেলে সীমান্তে যুদ্ধ করলো কারা? কারা পাহারা দিল দেশের বিমান বন্দর, নদীবন্দর, সবগুলো জেলা-শহর ও রাজধানী?

জরুরী মানব-উন্নয়ন

৩০ লাখ মানুষের নিহত হওয়ার এ তথ্য বিশ্বের দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়া দূরে থাক, বিশ্বাসযোগ্য হতে পারেনি বহু ভারতীয় সামরিক অফিসারের কাছেও। ভারতীয় রাজনীতিবিদগণ তিরিশ লাখের পক্ষে যতই বলুক, যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোন কোন ভারতীয় জেনারেলদের কাছে এটি হাস্যকর মিথ্যা। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাদের সে অভিমত একবার নয়, বহুবার প্রকাশ পেয়েছে। মিথ্যাচারিতায় মুজিব কন্যা হাসিনার রেকর্ডটিও কম নয়। হাসিনার মিথ্যাচার হলো, ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতিকে তিনি সুষ্ঠ নির্বাচন বলেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠ হলে কেউকি প্রদত্ত শতকরা শত ভাগ ভোট পায়। অথচ সেটি হাজার হাজার ভোট কেন্দ্রে হয়েছে। পরিতাপের বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষকও ভোট ডাকাতির সে নির্বাচনকে সুষ্ঠ বলেছে। মিথ্যুকগণ কোথায় পৌঁছেছে এ হলো তার নমুনা। কথা হলো, দেশে মশার আবাদ বাড়লো অথচ ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লো না –সেটি কি হয়? তেমনি দেশে মিথ্যাচারিতার সুনামি এলো অথচ দুর্বৃত্তির প্লাবন এলো না –সেটিও কি ভাবা যায়? মিথ্যা বেঁচে থাকলে, দেশবাসীর চেতনা ও চরিত্রের উপর তার নাশকতা্ও বাড়ে। তাতে দেশের উপর অধিকৃত বাড়ে দুর্বৃত্তদের। কারণ মিথ্যা ও দুর্বৃত্তি একত্র চলে। দুর্বৃত্ত-অধিকৃত দেশ তখন ইতিহাস গড়ে হত্যা, গুম, ধর্ষণ, ভোট-ডাকাতির নির্বাচন ও ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারে। মুজিব আমলে বাংলাদেশ যে ভাবে ভিক্ষার আন্তর্জাতিক ঝুলিতে পরিণত হলো বা এ শতাব্দীর শুরুতে দুর্বৃত্তে বিশ্বে পর পর ৫ বার বিশ্বরেকর্ড গড়লো –সেটির কারণ কি দেশের ভূমি বা জলবায়ু? কারণ তো মিথ্যাচার ও দুর্বৃত্তির সুনামী। কথা হলো, বস্ত্র রপ্তানি, চিংড়ি রপ্তানি ও মানব রপ্তানি বাড়িয়ে কি এ বিপদ থেকে মুক্তি মিলবে? মুক্তি মিলবে কি স্রেফ রাস্তাঘাট নির্মাণ ও অর্থনেতিক উন্নয়ন ঘটিয়ে? বরং এজন্য যা জরুরী তা হলো মানব-উন্নয়ন। মানব-উন্নয়নের জন্য যা জরুরী তা হলো শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতির অঙ্গণে মিথ্যচর্চার নির্মূল। এবং সে সাথে জরুরী হলো সত্যবাদী এবং দুর্বৃত্ত নির্মূলের লড়াকু সৈনিক রূপে জনগণকে গড়ে তোলা। ২০/১০/২০১৯

 




আবরার হত্যাঃ দায়মুক্ত কি শেখ হাসিনা?

দুর্বৃত্ত-অধিকৃত রাষ্ট্রঃ দুর্বৃত্তায়নের মূল হাতিয়ার

রাষ্ট্রই মানব সভ্যতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হলে এটি পরিণত হয় দুর্বৃত্তায়নের ভয়ানক ও অপ্রতিরোধ্য হাতিয়ারে। তখন সুনামি শুরু হয় গুম, খুন, ধর্ষণসহ নানারূপ অত্যাচারের। সরকার প্রধানকে তাই শুধু শাসক হলে চলে না, নাগরিকদের জন্য দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং অনুকরণীয় আদর্শও হতে হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি ভোট-ডাকাতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি কি করে অন্যদের জন্য চরিত্রের মডেল হতে পারেন। তিনি তো মডেল দুর্বৃত্তির। অথচ শাসকের আসনে বসেছেন খোদ নবীজী (সাঃ)। এটিই নবীজী (সাঃ)র শ্রেষ্ঠ সূন্নত। এভাবে তিনি শিক্ষ্যণীয় আদর্শ রেখে গেছেন মুসলিম রাষ্ট্রে শাসকের আসনে কে বসবে এবং কীভাবে শাসিত হবে দেশ। নবীজী (সাঃ)র ইন্তেকালের পর এ গুরুত্বপূর্ণ তাই শূন্য থাকেনি। দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃতও হয়নি। বরং নবীজী (সাঃ)র পর সে আসনে বসেছেন নবীজী (সাঃ)র আদর্শের সবচেয়ে কাছের এবং মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ লোকগুলি। বাংলাদেশের চেয়ে ৫০ গুণ বৃহ্ৎ রাষ্ট্রের শাসক হয়েও একটি মাত্র উঠ এবং একজন মাত্র সহচরকে নিয়ে হযরত উমর (রাঃ) ৫০০ মাইলের বেশী পথ সফর করে সরকারি কাজে জেরুজালেম গেছেন। মধ্য রাতে বিছানায় না ঘুমিয়ে খাদ্যের বস্তা নিজ পিঠে টেনে দুস্থ্য মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা নির্মিত  হয়েছিল এমন লোকদের দ্বারাই। অথচ বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে আরবাবের ন্যায় বিবেকবান লোকদের বেঁচে থাকাটিই অসম্ভব করা হচ্ছে।

মুসলিমদের শুধু নামায-রোযা, দাড়ি-টুপি ও পোষাক-পরিচ্ছদের সূন্নত পালন করলে চলে না, রাজনীতির অঙ্গণে নবীজী (সাঃ)র প্রতিষ্ঠিত সূন্নতগুলিও পালন করতে হয়। নইলে সমাজ জীবনে অনিবার্য় হয় বিপর্যয়। শাসন ক্ষমতা যখন হালাকু, চেঙ্গিজ, হিটলার বা কোন ভোট-ডাকাতের হাতে  অধিকৃত হয় তখন যা অনিবার্য হয়ে উঠে তা হলো অন্য গোত্র, অন্য দল ও অন্য ধর্মের মানুষের উপর গণহত্যা,গণধর্ষণ ও গণনির্যাতন। বাংলাদেশের মূল সমস্যাটি এখানেই। ভোট-ডাকাতির অপরাধে যে দুর্বৃত্তের জেলে যাওয়া উচিত  ছিল -সে এখন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন, এক লাশের বদলে দশ লাশ ফেলার রাজনীতি। ফলে বাংলাদেশের পথে ঘাটে -এমন কি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, মানুষ লাশ হচ্ছে। ভোট-ডাকাত প্রধানমন্ত্রীর এমন নীতির ফলে যারা কোনদিন খুন করেনি তারাও নেতাকে খুশি করতে নৃশংস খুনিতে পরিণত হচ্ছে। সেটিই দেখা গেল বুয়েটে আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে। বুয়েটের প্রতিটি ছাত্র্ই অতি মেধাবী। বুয়েটে ভর্তির আগে তাদের কেউই খুনি ছিল না। কিন্তু খুনি হয়েছে বুয়েটে ভর্তির পর। খুনি উৎপাদনে বুয়েট এ ক্ষেত্রে যে ইতিহাস গড়লো –বর্বরতায় তা কি কোন ডাকাত পল্লীর চেয়ে কম? খুনি হওয়ার সে প্রশিক্ষণ পেয়েছে বুয়েটে অধ্যয়নরত ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের হাত ধরে। প্রতি হলে টর্চার সেলসহ খুনি উৎপাদনের এ বিশাল কারখানাটি লাগাতর কাজ করেছে ভিসিসহ শত শত শিক্ষকের চোখের সামনে। এবং তারা সেটিকে দেখেও না দেখার ভান করেছে।

শেখ হাসিনার শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, তিনি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছসেবক লীগের ন্যায় আওয়ামী ঘরানোর সকল সংগঠনের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক অভিভাবকও। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গণে এসব সংগঠনের নেতাকর্মীগণ যা কিছু করে তাতে প্রতিফলন ঘটে খোদ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক স্বপ্ন, নীতি ও আদর্শের। সে বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামী অনিক সরকার তার জবানবন্দীতে। আসামী অনিক সরকারও একজন মেধাবী ছাত্র। নটরড্যাম কলেজ থেকে পাস করে সে বুয়েটে ভর্তি হয়। ভর্তির আগে সে খুনি ছিল না। কিন্তু কি ভাবে খুনের আসামী হলো সে বিষয়টি তার জবানবন্দীতে বলেছে এভাবে, “সিনিয়র জুনিয়র যাই হোক, আমরা তাদের (সরকারের সাথে ভিন্নমত পোষণকারিদের) এভাবেই পেটাতাম। কিন্তু দুর্ঘটনাক্রমে আবরারের মৃত্যু হয়েছে। মতের সাথে না মিললে কাউকে পিটিয়ে বের করে দিতে পারলে ছাত্রলীগের হাই কমান্ড আমাদের প্রশংসা করতো। ছাত্রলীগের এ সিস্টেমই আমাদের নিষ্ঠুর বানিয়েছে।” (দৈনিক সংগ্রাম, ১৫.১০.২০১৯)। প্রশ্ন হলো, ছাত্রলীগের হাই কমান্ড কেন এরূপ নিষ্ঠুর নীতি নীচের ক্যাডারদের উপর চাপিয়ে দিত? এর উত্তর একটিই। ছাত্রলীগের হাই কমান্ড এমন নিষ্ঠুরতায় নামতো তাদের অভিভাবক শেখ হাসিনাকে খুশি করতে। কারণ হাসিনার নির্দেশ তো এক লাশের বদলে দশ লাশ ফেলার। হাসিনার কাছে ছাত্রদের চরিত্র গঠন গুরুত্ব পায়নি। বরং গুরত্ব পেয়েছে ছাত্রদের চরিত্র ধ্বংস করে হলেও নিজের গদির নিরাপত্তা দেয়াটি।

 

ছাত্র রাজনীতিঃ দুর্বৃত্তায়নের সরকারি হাতিয়ার

খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও নির্যাতনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গলার রশি এভাবে ঢিল করে দেয়ারও একটি ইতিহাস আছে। পাকিস্তান আমল থেকেই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মূল হাতিয়ারটি হলো ছাত্র-রাজনীতি। তাই যারা সরকার হটাতে চায় বা সরকারে থাকতে চায় -ছাত্র রাজনীতিতে তাদের বিনিয়োগটি বিশাল। যে দেশে সামরিক বাহিনীর লোকেরা বার বার হাতিয়ার উঁচিয়ে ক্ষমতা দখল করে -তাদের তুষ্ট করতে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বড়  বড় প্লটের ব্যবস্থা করতে হয়ে। তাদের বিবিদের  জন্য ২৪ ঘন্টা গাড়ীর ব্যবস্থা করতে হয়। এবং বাড়ী নির্মাণের জন্য তাদেরকে অতি কম সূদে অর্থ জোগাতে হয়। দেশের খেদমত যেন একমাত্র তারাই করেন! পেশাদারি কাজের বাইরে নিজ দেশ দখলে ভারতীয় সেনাবাহিনী সেরূপ গুন্ডামী করে না বলেই তাদের সে সুযোগ-সুবিধা নেই। ফলে তাদের যেমন প্লট মেলে না, তেমনি স্ত্রীদের জন্য গাড়িও মেলে না। তাই সেদেশে স্কুটার বা মটর সাইকেলে চড়ে সেনা অফিসারদের পারিবারিক কাজ সারতে হয়।

দেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু এবং স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা পাওয়াতে ছাত্রনেতাদের এখন পোয়াবারো। একদিনে জনগণ যেমন শক্তিহীন হয়েছে, তেমনি ক্ষমতা ও কদর বেড়েছে ছাত্র নেতাদের। তাদের সুযোগ সুবিধা সেনাবাহিনীর চেয়েও অধীক। কারণ, প্রতিপক্ষ নির্মূলে ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের ন্যায় সেনাসদস্যগণ আবাসিক হলগুলিতে গিয়ে অপারেশন চালাতে অক্ষম। তাছাড়া পিল খানায় ৫৬ সেনা অফিসারকে খুন করে সেনাবাহিনীর মেরুদন্ডই ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। ফলে বড় বড় প্লটের বদলে তাদেরকে এখন ফ্লাট দিলেই চলে। কিন্তু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামর্থ্যটি এক্ষেত্রে বিশাল। যে কোন সময় সরকারের জন্য তারা বিপদ ঘটাতে পারে। তাই তাদের মনতুষ্টি করে চলতে হয় সরকারকে। এজন্যই লুটপাটের সকল দরজা তাদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে অর্থ-উপার্জনের জন্য ছাত্রনেতাদের এখন আর রাত জেগে লেখাপড়া করা এবং পাশ করে চাকুরি করার ফিকির করতে হয় না। সেনাবাহিনীর অফিসারদের ঢাকায় এক খানি ফ্লাটের মালিক হতে ১০-২০ বছরের চাকুরি শেষ করতে হয়। অথচ ছাত্রলীগের নেতাগণ বহু বাড়ির মালিক হয় এবং বহু কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স গড়ে তোলে ছাত্রাবস্থাতেই। এ ধরণের সুযোগ পেতে তাদের উপর অর্পিত দায়ভারটি হলো, ক্যাম্পাস থেকে সরকার বিরোধীদের নির্মূল। নির্মূলের সে প্রক্রিয়াতেই নৃশংস ভাবে নিহত হয়েছে আবরার ফাহাদ।

 

রাজনীতি খুনি উৎপাদনের

অধীক অর্থলাভ এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দের লোভে মেধাবী ছাত্ররা অতীতে মন দিয়ে লেখাপড়া করতো। পড়াশুনা শেষে ভাল চাকুরির খোঁজ করতো। দেশে ভাল চাকুরি না জুটলে বিদেশী পাড়ি জমানোর চেষ্টাও করতো। কিন্তু এখন সে রীতি পাল্টে গেছে। দেশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সাথে সাথে ছাত্ররা দেখতে পায় বিপুল অংকের অর্থপ্রাপ্তির অবাধ সুযোগ। এখানেই ছাত্র লীগের নেতাকর্মীগণ ব্যস্ত নিজ দলের সৈন্য সংগ্রহে। তাদের নজরে পড়ে এসব মেধাবী ছাত্রগণ। সরকার দলীয় এ ছাত্র-সৈনিকদের নির্ধারিত কোন বেতন নাই। তবে যা আছে তা বেতনের চেয়েও অধীক। তাদের প্রতিপালনে সরকারি প্রজেক্টের নামে বরাদ্দ হয় বিপুল অর্থ। সে অর্থপ্রাপ্তির লোভে যারা কোনদিনও গুন্ডামী করেনি তারাই পরিণত হয় নৃশংস খুনিতে। তাদের দিয়েই গড়ে উঠে সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনী। প্রতি হোস্টেলে গড়ে উঠে টর্চার সেল এবং প্রতিষ্ঠা পায় সন্ত্রাসের সংস্কৃতি। ফলে দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজ যে সন্ত্রাস ও খুনখারাবী – তার জন্য কি কোন ডাকাত-পাড়ার খুনিদের দায়ী করা যায়। দায়ী তো দেশের ভোট-ডাকাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের গদি বাঁচাতে যেমন ভোট ডাকাতিকে জায়েজ করেছেন, তেমনি বিরোধীদের নির্মূলে মেধাবী ছাত্রদেরও  নৃশংস খুনিতে পরিণত করেছেন। ফলে শহীদ আবরার হত্যার মামলায় কিছু লোককে শাস্তি দিলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? এজন্য যা জরুরী তা হলো চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসী ও খুনী উৎপাদনের যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তার নির্মূল। সে নির্মূলের কাজে যাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া উচিত সে ব্যক্তিটি হলেন দেশের ভোট-ডাকাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সরকার প্রধান রূপে ভোট-ডাকাত গদিতে থাকলে অন্যরাও চোর-ডাকাত ও খুনি হতেই  উৎসাহ পাবে। কারণ, ভোট-ডাকাতি করে যদি দেশের মালিক-মোক্তার হওয়া যদি বৈধ হয়, তবে অন্যরাই বা সৎ হবে কেন?  

 

বিচারের নামে গদি বাঁচানোর রাজনীতি

সরকার খুনিদের বিচারে বাধ্য হচ্ছে স্রেফ গণরোষ দমনের লক্ষ্যে, দেশে খুন-গুম-সন্ত্রাস বন্ধ হোক সে লক্ষ্যে নয়। শহীদ আবরার খুন না হয়ে যদি আহত হতো তবে বিষয়টি হাসিনার কেশাগ্রও স্পর্শ করতো না। তখন আবরারের পিতামাতাকে গণভবনে ঢাকা হতো না। পত্রিকায় বড় জোর খবর হতো জঙ্গি শিবির কর্মীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তখন সরকার ও সরকারি মিডিয়া তখন তৃপ্তির ঢেকুর কাটতো। অতীতে এভাবেই সরকারের নাকের ডগার উপর বসে শত শত ছাত্রকে পঙ্গু করা হয়েছে। শাপলা চত্ত্বরের শহীদদের ন্যায় আবরারের লাশ গুম করতে পারলেও কোন খবর হতো না। সে চেষ্টাও কি কম হয়েছে? পত্রিকায় প্রকাশ, খুনিরা পুলিশকে হোস্টেলে ঢুকতে না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে দিয়ে লাশ গায়েবের চেষ্টাও করেছে। এ নৃশংস হত্যাকান্ডকে কি ভাবে ম্যানেজ করা যায় তা নিয়ে ভিসিকে ৩৬ ঘন্টা উপরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন। সেসব কৌশল ব্যর্থ হওয়াতেই সরকার বিচারের দোহাই দিচ্ছে। অথচ খুনের বিচারে ভোট-ডাকাত সরকারের সামান্যতম আগ্রহ থাকলে শত শত মানুষ যে এ সরকার আমলে গুম-খুনের শিকার হয়েছে সেগুলিরও বিচার হতো। বিচার হতো ২০১৯ সালের ৬ই মে শাপলা চত্ত্বরে যে অসংখ মানুষকে খুন করা হলো তারও। বিচারের নামেও সরকার তার গদি বাঁচানোর রাজনীতি করে। শহীদ আবরারের বেলায় সে নাটকই শুরু হয়েছে। ১৭/১০/২০১৯        




শহীদ আবরারের লিগ্যাসি এবং বন্ধু নির্বাচনে হারাম চর্চা

ইতিহাসে স্থান পেল আবরার                                   

শহীদ আবরার দেশপ্রেম, বিবেকবোধ, দায়িত্ববোধ ও বিচা্রবোধের এক বিরল শিক্ষা রেখে গেল। সে উঠে এসেছিল কুষ্টিয়ার এক গ্রাম থেকে।সে ছিল বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কিন্তু চেতনার যে মান সে দেখিয়ে গেল সেটি যারা বড় মাপের বুদ্ধিজীবী, লেখক, ভিসি, প্রফেসর, বিচারক, রাজনীতিবিদ রূপে গর্ববোধ করেন -তাদের মাঝে কতটুকু? অথচ বীরত্ব ও সাহস নিয়ে তাদের অনেকের বড়াই রয়েল বেঙ্গল  টাইগারের সমান। অথচ তারাও সরকারের ফ্যাসিবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে কানে কানে কথা বলতেও ভয় পায়। তারা ভাবে, দেয়ালেরও কান আছে, না জানি সরকারের গোয়েন্দারা গুম না করে দেয়। অথচ দেশজুড়া ভয়ের রাজত্বে সাহসী আবরার সেখানে ফেসবুকে প্রকাশ্যে স্টাটাস দিয়েছে। এরূপ স্টাটাস দেয়ার পরিণতি  কি হতে পারে তা কি খুনি কবলিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বসবাস করার পরও শহীদ আবরার জানতো না? আবরারের মত মেধাবী ছাত্র সেটি অবশ্যই জানতো। জেনে বুঝেই সে শহীদ হওয়ার পথটি বেছে নিয়েছে।

আবরার শুধু মেধাবী ছিল না, ঈমানদারও ছিল। সে নিয়মিত নামায পড়তো এবং রোযাও রাখতো। সে এটিও জানতো ঈমানদার হতে হলে অবশ্যই সাহসী হতে হয়। কারণ ঈমান ও সাহস একত্রে চলে। এবং ভীরুতার সাথে চলে বেঈমানী। ভীরুগণ ঈমানের দাবী করে বটে, কিন্তু তারা সত্য কথা বলতে ভয়। ফলে কার্যতঃ তারা মুনাফিক হয়। মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর মহা নিয়ামত ভরা জান্নাত ভীরু-কাপুরুষদের দিয়ে ভরবেন –সেটি কি ভাবা যায়? জান্নাতের একটি বিশাল মূল্য আছে। কোরআনের ভাষায় পৃথিবী-পূর্ণ সোনা দিয়েও তা কেনা যায় না। জান্নাত তো তাদের জন্য যারা জান্নাতের মুল্যে মহান অল্লাহতায়ালার কাছে নিজেদের জীবন বিক্রয় করে। এবং একমাত্র সাহসীরাই নিজ জীবন দিয়ে সে মূল্য পরিশোধের সামর্থ্য রাখে। জান্নাত তো তেমন সাহসীদেরই পুরস্কৃত করার জন্য্। আবরার সে সাহসীদেরই একজন। অপরদিকে ভীরুতার শাস্তিটি বিশাল; সেটি অসম্ভব করে্ জান্নাতে পৌঁছা। তাই মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশঃ “তাদের ভয় করো না, আমাকে ভয় করো”। আবরার বিশাল কৃতিত্ব, সে ভীরুতার উর্ধ্বে উঠতে পেরেছিল। বুয়েটের সকল ছাত্রই মেধাবী। বহু হাজার ছাত্র বুয়েট প্রতিষ্ঠার পর থেকে পড়াশুনা করে বেড়িয়ে গেছে। গাছের ঝড়া পাতার ন্যায় অনেকেই পৃথিবী থেকে হারিয়েও গেছে। যারা বেঁচে আছে তারাও কিছু দিনের মধ্যে হারিয়ে যাবে। কিন্তু আবরার ব্যতিক্রম। সে ইতিহাসে বেঁচে থাকার পথ করে নিল। এবং সেটি মেধাবী হওয়ার জন্য নয়, বরং সাহসী ঈমানদার হওয়ার জন্য।

অনন্য শহীদ আবরার

আবরার অনন্য। এবং অনন্য হওয়ার কারণ, সে কোন দলের ক্যাডার নয়। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলির বড় অপকর্মটি হলোঃ দলীয় কর্মীদের বিবেককে তারা শৃঙ্খলিত করে। শৃঙ্খলিত সে লোকদের যা বলতে বলা হয়, তারা তাই বলে। যেভাবে দেখতে বা শুনতে বলা সেই ভাবেই দেখে বা শুনে। এর বাইরে তারা ভাবতে, শুনতে বা দেখতে রাজী নয়। মানুষ যে স্বাধীন বিবেক নিয়ে বাঁচতে পারে বা স্বাধীন ভাবে মতামত ব্যক্ত করতে পারে -তা এ খাঁচার পাখিরা ভাবতেই পারে না। তাদের বাঁচাটি হলো, তাদের নিজ দলের স্বার্থের সুরক্ষা নিয়ে বাঁচা। কোন দলের সদস্য না হওয়াতে আবরারের পক্ষে সম্ভব হয়েছে দল, দলের নেতা বা দলীয় দর্শনের উর্ধ্বে উঠে ফেসবুকে স্টাটাস দেয়া। সে স্টাটাস দিয়েছে দেশের স্বার্থ্য বাঁচাতে। কথা বলেছে, বাংলাদেশের পানি, গ্যাস ও ভূমির উপর ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে।

বাংলাদেশে আবরারের ন্যায় মেধাবী ছাত্র বহুলক্ষ। কিন্তু ক’জনের দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে আগ্রাসী ভারতের সে কুটিল ষড়যন্ত্র? ক’জন সে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে বা ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছে? ক’জন তার মত নির্মম ভাবে শহীদ হয়েছে। এসব মেধাবীগণ অতি ব্যস্ত নিজেদের ক্যারিয়ার গড়া নিয়ে। নিজেদের স্বার্থ নিয়ে তারা এতটাই ব্যস্ত যে, দেশের স্বার্থ্ নিয়ে ভাবার সময় তাদের নাই। অন্যরা  যারা ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং লেখালেখি করে, তাদেরও আবরারের ন্যায় এতটা নিষ্ঠুর ও বেদনাদায়ক আঘাত সইতে হয়নি।  

সংকট আরো গভীরে

আবরারের জীবনে যা ঘটলো, তা কোন সামান্য ঘটনা নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বরে চলমান নৃশংস বর্বরতার একটি খন্ড চিত্র মাত্র। এ নৃশংসতা শুধু বিশ্ববিদ্যায়ের চত্ত্বরেও সীমিত নয়, এ নৃশংসতা চলছে সমগ্র দেশ জুড়ে। এ সরকারের শাসনামলে শত শত মানুষ গুম হয়েছে এবং খুন হয়েছে। এবং সে খুন ও গুমের বিচার হয়নি। খুনিগণ থেকেছে বিচারের উর্দ্ধে। আবরারের উপর যে নৃশংস বর্বরতাটি ঘটলো তা চলমান খুন ও গুমের রাজনীতিরই ধারাবাহিকতা। যারা এ ফ্যাসিবাদী রাজনীতির নায়ক, তাদের কাছে নিরপরাধ মানুঁষের জীবনের কোন মূল্য নাই। তারা  ন্যায় বিচার পাক সেটিও তারা চায় না। তাই তারা সত্যকে ঢাকতে নানারূপ মিথ্যার জাল বুনছে। ইতিমধ্যেই তারা গুজব রটনা শুরু করেছে, আবরারের গায়ে কোন দাগ নাই। আবরারের থেথলে যাওয়া রক্তাত্ব পিঠের চিত্র যা ইতিমধ্যেই সোসাল মিডিয়াতে ছাপা হয়েছে -সেটিও তারা অস্বীকার করছে। আসামী পক্ষের উকিল বলছে, আবরারের দেহের দাগগুলো আঘাতের বদলে চর্ম রোগের কারণেও হতে পারে। কি বিস্ময়কর মিথ্যা! উভয় পক্ষের উকিলদের দায়িত্ব সুবিচারকে সুনিশ্চিত করা। বাধাগ্রস্ত করা নয়। কিন্তু সেটিই শুরু হয়েছে। অথচ ময়না তদন্তে বলা হয়েছে, আবরার তার দেহে প্রচণ্ড আঘাত ও অসহ্য বেদনার কারণে মারা গেছে। ন্যায় বিচারের শত্রুগণ নানারূপ মিথ্যা রটাচ্ছে আবরার হত্যার বিচারকে ব্যর্থ করা বা অপরাধীদের শাস্তিকে লঘু করার লক্ষ্যে। তারা তাঁকে শিবির কর্মী রূপেও চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে। যেন শিবির কর্মীদের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার নেই। যেন তারা মারা যাবে আবরারের ন্যায় অসহ্য বেদনা নিয়ে। একমাত্র ফ্যাসীবাদী বর্বরতাই মানুষকে এতটা অসভ্য ও নৃশংস করতে পারে।  

তাছাড়া ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার সামর্থ্য চোর-ডাকাতদের থাকে না। সে সামর্থ্য থাকে না ভোট-ডাকাতীর মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা একটি অবৈধ সরকারেরও। দুর্বৃত্ত সরকারের কারণে বাংলাদেশের পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতাগুলিও অতি বিশাল। রাজনীতি এখন আর শুধু রাস্তার গুন্ডা ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে সীমিত নেই, সেটি উঠে এসেছে আদালতেও। কাকে রিমান্ডে দেয়া হবে, কে শাস্তি পাবে এবং কে মুক্তি পাবে –বিচারকগণ সে ফয়সালাটি নেয় ভোট-ডাকাত সরকার প্রধানের মুখের দিকে তাকিয়ে। পুলিশও ক্ষমতাসীন দলের অনুমতি না পেলে খুনের তদন্তে নামে না, আসামীদেরও ধরে না। তাই আহত আবরারের দেহ সিঁড়িতে পড়ে থাকলেও পুলিশ সেখানে তদন্তে যায়নি। তাকে হাসপাতালে নিতে কোন এ্যামবুলেন্সও পাঠায়নি। কারণ, এসব করতে তো পুলিশকে রাজনৈতিক কর্তাদের থেকে অনুমতি নিতে হয়। অপরদিক বিচারকগণ পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারে। কাকে শাস্তি দেয়া হবে, কাকে নির্দোষ ঘোষণা দেয়া হবে -সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বিচারকদের নাই। তাই বহু খুনের মামলায় আদালতের বিচারকগণ এবং তদন্তকারি পুলিশগণ নিহতদের গায়ে আঘাতের কোন চি্হ্ন খুঁজে পায় না। এবং খুঁজে পায় না খুনিকে। খুনের কোন কারণও তারা খুঁজে পায় না। যেন মৃত ব্যক্তি খুনি ছাড়াই খুন হয়েছে। যেন সে নিজেই নিজেকে হত্যা করেছে! ফলে কারো কোন শাস্তিও হয় না। সরকারি দলের খুনিকে বাঁচাতে নিষেধাজ্ঞা থাকে খুজাখুজির বিরুদ্ধে। ফ্যাসীবাদ প্রতিষ্ঠা পেলে ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা এভাবেই কবরস্থ হয়। বাংলাদেশে ন্যায্য বিচার কবরস্থ্ করার সে কাজটি ঘটেছে বহু  আগেই।

ঘৃনার সামর্থ্য অপরিহার্য কেন?     

সভ্য মানবদের জীবনে শুধু ভালবাসার বল থাকলে চলে না। থাকতে হয় মিথ্যাচার, দুর্বৃত্তি, গুম, হত্যা, জুলুম ও ধর্ষণের ন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে ঘৃণার সামর্থ্য। তাকে শুধু শান্তিবাদী হলে চলে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও নামতে হয়। দুর্বৃত্ত নির্মূলের যুদ্ধে তাকে প্রাণও দিতে হয়। ইসলামের নবী (সাঃ)তো সেটিই শিখেয়ে গেছেন। পবিত্র কোর’আন দিয়েছে ভালবাসা ও ঘৃণার মানদন্ড। সে মানদন্ডে হারাম শুধু মদ্যপান, সূদ-ঘুষ ও শুকরের গোশত নয়। হারাম হলো দুর্বৃত্তদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং তাদের সাথে মিত্রতা গড়া। তাই দেশজুড়ে শহীদ আবরারের প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সেটি শুধু আবরার কেন্দ্রীক হলে ভয়ানক ক্ষতি হয়। ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে লড়াই তাতে ব্যর্থ হয়। ফ্যাসীবাদের নির্মূলে অপরিহার্য হলো, নেক কর্মের প্রতি ভালবাসার সাথে জুলুমের বিরুদ্ধে ঘৃণার সামর্থ্যকে তীব্রতর করা। কারণ, দুর্বৃত্তির বিরুদ্ধে ঘৃনার মাত্রাটি যাদের মাঝে প্রবল একমাত্র তারাই তার নির্মূলে জিহাদে নামে।  মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হওয়ার জন্য এ দু’টি গুণই অতি জরুরী।

দুর্বৃত্তির বিরুদ্ধে ঘৃণার ন্যূনতম সামর্থ্য যার আছে, সে কি কখনো এক দুর্বৃত্ত ভোট-ডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলতে পারে? এটি যেমন অনৈতীক। তেমনি ধর্মীয় ভাবে হারাম। এটি জঘন্য পাপাচার। সভ্য ও বিবেকবান মানুষ কখনোই লোহার কোদালকে সোনার গহনা বলে না। তাকে কোদালই বলে। নইলে মিথ্যাচার হয়। তেমনি ভোটডাকাতকে ভোটডাকাতই বলতে হয়। তাকে মাননীয় বললে দুর্বৃত্তিকে সন্মান দেখানোর কবীরা গুনাহ হয়। এ দ্বীনের সামান্য বিষয়টুকু বুঝার জন্যও কি সে সব হুজুরদের মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন পড়ে যারা দুর্বৃত্ত ভোট-ডাকাতকেও কওমী জননী বলে? সভ্য মানুষদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটি হলো, শ্রদ্ধা ভরে তারা স্মরণ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা জীবন বিলিয়ে দেয় দেশের স্বার্থকে সুরক্ষা দিতে। সে সাথে মনে প্রাণে ঘৃণা করে সেসব অসভ্যদের যারা গুম-খুন-সন্ত্রাসের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা দেয় এবং আগ্রাসী শত্রুর সাথে জোট বাধে। বাংলাদেশে এ দুটি পক্ষই রয়েছে। এক দিকে রয়েছে শহীদ আবরের মত নিরেট দেশপ্রেমীক। অপরদিকে রয়েছে বাকশালীদের ন্যায় মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের দুষমনেরা। 

হারাম হলো ভারতের সেবাদাসকে বাংলাদেশের বন্ধু বলা

তবে নানা রূপ দুর্বৃত্তির সাথে বাংলাদেশে যে হারাম কাজটি অতি ব্যাপক ভাবে হচ্ছে সেটি হলো এক অপরাধীকে বঙ্গবন্ধু বলার মধ্যদিয়ে। মুজিবের সবচেয়ে বড় পরিচয় গণতন্ত্রের হত্যাকারী বাকশালী রূপে। তাছাড়া মুজিবকে  বঙ্গবন্ধ খেতাবটি দেশের জনগণ দেয়নি। দিয়েছে মুজিবের বাকশালী ও রক্ষিবাহিনী চেতনার অনুসারিরা। তবে মুজিব শুধু গণতন্ত্র হত্যাকারিই ছিল না। তার হাতে নিহত হয়েছে ৩০ হাজারের বেশী রাজনৈতিক কর্মী। নিহত হয়েছে সিরাজ সিকদারের ন্যায় বহু রাজৈতিক নেতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্থ যদি পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতা হয়ে থাকে, তবে সেটি মুজিব আনেনি। মুক্তিবাহিনীও আনেনি। মুক্তিবাহিনী সমগ্র দেশ দূরে থাক একটি জেলাও স্বাধীন করতে পারিনি। একটি যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতা এনে দিয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতা দিলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা মিলেনি। বরং দিয়েছে ভারতের অধিনস্ত গোলামী। মুজিব ছিল ভারতীয় ষড়যন্ত্রের আজ্ঞাবহ গোলাম মাত্র। তাই বাংলাদেশের আজকের বাস্তবতা বুঝতে হলে ভারতের মুসলিম বিরোধী ষড়যন্ত্রকে অবশ্যই বুঝতে হবে। আবরার সেটি বুঝেছিল বলেই সে ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছিল। আর সেটি ভারতের সেবাদাসদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ভারতে নীতিতে কোনকালেই কোন অস্পষ্টতা ছিল না।এখনও নাই।  ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলছে লাগাতর যুদ্ধ। চলছে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের রাজনীতি। মুসলিমদের কষ্টকে অতিশয় যন্ত্রনাদায়ক করতে কাশ্মীরে চলছে লাগাত কার্ফিউ। ভারতে মুসলিমদের সংখ্যা শতকরা ১৫ ভাগ। অথচ চাকুরীতে তাদের সংখ্যা শতকার ৫ ভাগেরও কম। গরুর গোশতো খাওয়ার অভিযোগ এনে মুসলিমদের সেখানে রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আসাম থেকে মুসলিম নির্মূলের। মাথার টুপি কেড়ে নিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে, জয় শ্রীরাম বলতে। এ অবস্থায় কোন মুসলিম কি ভারতের পক্ষ নিতে পারে? সেটি করলে কি ঈমান থাকে? বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের মূল রক্ষক ও অভিভাবক হলো ভারত। তাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্রতর হলে জড়িয়ে পড়বে ভারত। এবং সে লড়াইয়ে বিজয়ী হতে হলে ভারতের ষড়যন্ত্র নিয়ে জনগণকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।  

ভারতের ন্যায় একটি কাফের রাষ্ট্রের সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা নিয়ে পবিত্র কোর’আনের নির্দেশনাগুলি অতি সুস্পষ্ট। তাদেরকে কখনোই বন্ধু রূপে গ্রহণ করা যেতে পারে না। আর পবিত্র কোর’আনে যা বলা হয়, ইসলামে সেটিই তো হারাম। পবিত্র কোর’আনে নির্দেশনা এসেছে এভাবেঃ “মু’মিনগণ যেন মু’মিনগণ ব্যতীত কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যে ব্যক্তি সেরূপ করবে, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক থাকবে না। …।” –(সুরা আল ইমরান, আয়াত ২৮।) এ বিষয়ে তীব্র ভাবে হুশিয়ার করা হয়েছে নীচের আয়াতেঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না…..।” –সুরা মুমতাহিনা, আয়াত ১)। আরো বলা হয়েছেঃ “(হে নবী) যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে -এমন মানুষদের উপস্থিতি আপনি কখনোই তাদের মাঝে পাবেন না যারা আল্লাহ ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখে….।” –সুরা মুজাদেলা, আয়াত ২২)। অর্থাৎ মুসলিম সমাজে কাফেরদের বন্ধুগণ শোভা পাবে সেটি মহান আল্লাহতায়ালার কাম্য নয়। অথচ বাংলাদেশে ভারতীয় কাফেরদের ঘনিষ্ট বন্ধুগণ শুধু শোভাই পায় না, বরং তারাই বাংলাদেশের ন্যায় একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা।   

প্রশ্ন হলো, উপরুক্ত তিনটি কোর’আনী নির্দেশনার মাঝে কি কোন অস্পষ্টতা আছে? যা সুস্পষ্ট তা হলো, ঈমানদার ব্যক্তি কখনোই একই সাথে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ এবং ইসলামে অবিশ্বাসী কাফেরদের পক্ষ নিতে পারে না। তাকে অবশ্যই একটি পক্ষকে বেছে নিতে হয়। শেখ মুজিব এখানে ভারতীয় কাফেরদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করেছে এবং সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে মহান আল্লাহতায়ালা ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে। মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধ অবস্থান নেয়ার কারণে, শেখ মুজিব পবিত্র কোরআনের আয়াত সরিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে। নিষিদ্ধ করেছে সকল ইসলামী দলগুলিকে এবং সেসব দলের নেতাদের পাঠিয়েছে কারাগারে।। তার আমলে বাংলাদেশ হারিয়েছে বাংলাদেশের ভূমি বেরুবাড়ী, হারিয়েছে পদ্মার পানি। হারিয়েছে স্বাধীনতা। স্বাক্ষর করেছে ২৫ সালা দাসচুক্তি। দেশ পরিণত হয়েছে ভারতের গোলাম রাষ্ট্রে। হাসিনাও তার পিতার পথ ধরেছে। সে সংবিধান থেকে সরিয়েছে মহান আল্লাহতায়ার উপর আস্থার বানিকে। ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ইসলামী ব্যক্তিদের। সে সাথে লাগাতর সমর্থণ দিয়ে যাচ্ছে কাশ্মীরের চলা ভারতে হত্যা,ধর্ষণ ও গুমের বর্বরতাকে। পদ্মা ও তিস্তার পানি আনতে  ব্যর্থ হলে কি হবে, সম্প্রতি হাসিনা চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেনি নদীর পানি ভারতকে দিয়ে এসেছে। সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের ভারত অপহরন করে নিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস নাই বাংলাদেশ সরকারের। বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাই গুরুতর। অক্টোপাসের ন্যায় ভারত চারদিক থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে ধরেছে। তাই স্রেফ আবরার হত্যার বিচার হলেই দেশে শান্তি আসবে না। যারা দেশের স্বাধীনতা নিয়ে যারা ভাবে তাদেরকে আরো গভীরে হাত দিতে হবে। গুম, খুন, ধর্ষন, স্বৈরাচার ও বিচারহীনতার কালচার যারা প্রতিষ্ঠা দিয়েছে নির্মূল করতে হবে তাদেরও । ১৩.১০.২০১৯




নির্মূল হোক অসভ্য শাসন এবং প্রতিষ্ঠা পাক সভ্য রাজনীতি

কেন এ গা জ্বালা?

শহীদ আবরারের নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে ছাত্র ও জনগণ যখন দেশব্যাপী ক্ষেপে উঠেছে তখনই সরকারি মহলে শুরু হয়েছে গা জ্বালা। সে গা জ্বালা নিয়ে তারা আন্দোলনের বিরুদ্ধে শুরু করেছে মিথ্যা রটনা, অভিনয় ও ষড়যন্ত্র । জনগণের ক্ষোভকে তারা জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্র বলছে। প্রশ্ন হলো হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা কি স্রেফ জাময়াত-শিবিরের কাজ?  প্রতিবাদের দায়িত্ব কি শুধু তাদের? ভোট-ডাকাত সরকারেরর তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ছাত্রদল-শিবির আড়ালে বুয়েটের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ‘বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে কেউ যেন তাদের স্বার্থ হাসিল করতে না পারে। এই ঘটনা নিন্দনীয়, নৃশংস ও ন্যক্কারজনক।” হাছান মাহমুদের এরূপ কথার অর্থ কি? রাজনীতি করা এবং আন্দোলন করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সে অধিকার যেমন সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের আছে, তেমনই আছে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপি-ছাত্রদলের। সে অধিকার আছে অন্য যে কোন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের। আর আন্দোলন করতে হলে তো মাঠে নামতেই হয়। সরকার বিরোধীদের মাঠে নামা দেখে তাই সরকারি মহলে এতো গা জ্বালা কেন? তবে এ গা জ্বালার মূল কারণ, সরকারের ফ্যাসিবাদী মানস। গণতান্ত্রিক চেতনায় বিরোধীদের আন্দোলন বৈধ ও স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু ফ্যাসিবাদে সেটি অসহ্য ও নির্মূল যোগ্য অপরাধ গণ্য হয়। তখন ঘটে শাপলা চত্ত্বরের গণহত্যা। অসংখ্য আবরারকেও তখন নৃশংস হত্যার শিকার হতে হয়।  

মিছিল-মিটিংয়ের অধিকার পানাহারেরর ন্যায় প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অতীতে শত শত মিছিল-মিটিং করে আওয়ামী লীগ সে মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ করেছে। আজকের বিরোধী দল সে অধীকারের প্রয়োগ করলে সেটিকে নিন্দনীয়, নৃশংস ও ন্যক্কারজনক বলা হবে কেন? অথচ সংবিধান সে মৌলিক অধিকার দানে দল বা ধর্ম ভেদে নাগরিকদের মাঝে কোন রূপ কম বা বেশীর তারতর্ম করে না। সে সাংবিধানিক অধিকার সরকারি দলের নেতাকর্মীদের যতটুকু, তা থেকে একটুও কম নয় বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের। কিন্তু হাছান মাহমুদের ন্যায় ভোট-ডাকাতগণ সে সম-অধিকার অন্যদের দিতে রাজী নয়। তাদের কথা, সে অধিকারের সবটুকু একমাত্র তাদের। ফলে পাকিস্তানী আমল থেকে শুরু করে প্রতিটি সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ মিটিং-মিছিল করার অধিকার ভোগ করলেও আজ সে অধিকার বিরোধী দলের কাউকে দিতে রাজী নয়। রাজপথে  জামায়াত-শিবির বা বিএনপি-ছাত্রদল দেখলে তাদের রাতের ঘুম হা্রাম হয়ে যায়। শুরু হয় গা জ্বালা। সে গা জ্বালাটিই ধরা পড়ে ভোট ডাকাত হাছান মাহমুদের বক্তব্যে -যা ছাপা হয়েছে দেশের পত্র-পত্রিকায়। বিগত দুটি নির্বাচনে এ ভোট-ডাকাতগণ জনগণের ভোটের অধিকার যেরূপ ছিনতাই করেছে, তেমনি ছিনতাই করতে চায় জনগণের আন্দোলনের অধিকার।

নৈতিক অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতির সুনামি

কাউকে সন্মানিত বলার অর্থ তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া। তাই সভ্য মানুষের ঈমানী দায়ভার হলো, সে সাক্ষ্য দিবে সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষ্যে এবং অন্যায় ও দুর্বৃত্তির বিরুদ্ধে। এখানে স্খলন বা বিচ্যুতি হলে বুঝতে হবে তার ঈমানে রোগ রয়েছে। তাই চোর-ডাকাত ও ভোট-ডাকাতদেরকে মাননীয় বলা ধর্মীয় ভাবে ও নৈতীক ভাবে হারাম তথা নিষিদ্ধ। এরূপ নিষিদ্ধ কর্ম সমাজে অবাধে চলতে থাকলে ডাকাতির ন্যায় শাস্তিযোগ্য অপরাধও সমাজে সন্মানজনক পেশা রূপে প্রতিষ্ঠা পায়। ডাকাতও তখন সমাজে মাননীয় হয়। একই রূপ অপরাধ ঘটে, একজন পতিতাকে সতি-সাধ্বী ও পুতঃপবিত্র বলা হলে। তাতে যেমন সত্য-গোপন হয়, তেমনি গুরুতর গুনাহ হয় একজন অতি নিকৃষ্ট অপরাধীর পক্ষে সাক্ষি দেয়ার। এরূপ সাক্ষিদান শিক্ষিত ও বিবেকবান লোকদের পক্ষ থেকে হলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং তাতে সমাজে দুর্বৃত্তদের ঘৃণার বদলে তাদের প্রতি সন্মান দেখানোর সংস্কৃতি নির্মিত হয়। তাই সেটি কবিরা গুনাহ। অথচ বাংলাদেশ সেরূপ কবিরা গুনাহই বেশী বেশী হচ্ছে। ফলে হাসিনার ন্যায় ভোট-ডাকাতও মাননীয় বলে সম্বোধিত হয়।

একই রূপ কবিরা গুনাহ হয়, ভারতের আজ্ঞাবহ গোলাম এবং গণতন্ত্র হত্যাকারী বাকশালী মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বললে। কথা হলো, গণতন্ত্র হত্যাকারি ব্যক্তি দেশের ও জনগণের বন্ধু হয় কি করে? চোর-ডাকাতগণ মানুষকে নিঃস্ব করে আর্থিক ভাবে। আর গণতন্ত্রের শত্রুরা নিঃস্ব করে মানবাধিকার থেকে। তখন জনগণ হারায় ভোট দেয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। অর্থের অভাবেও দিন চলে। কিন্তু স্বাধীনতা লুণ্ঠিত হলে জনগণ খাঁচায় বন্দী গোলামে পরিণত হয়। অধিকারহীন মানুষের পক্ষে তখন অসম্ভব হয় সভ্য মানুষ রূপে বাঁচা। স্বৈরাচারি শাসকেরা তাই মানবতার জঘন্যতম শত্রু। ইসলামে তাই অতিশয় নেক কর্ম হলো, এরূপ মানবতার শত্রু অপরাধীদেরকে ঘৃণা করা। সম্ভব হলে তাদের নির্মূল করা। ইসলামে সে নির্মূলের কাজটিই হলো পবিত্র জিহাদ। ব্যক্তির মাঝে ঘৃণার সে মাত্রাটি যতই গভীর হয়, ততই বাড়ে সওয়াব। আর গুরুতর পাপ হলো এরূপ অপরাধীকে সন্মান দেখানো। জনগণের এ পাপে জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা পায় পাপিষ্ট শয়তান। এবং সে সাথে হত্যাযোগ্য গণ্য আবরারের ন্যায় নিরীহ সত্যবাদীরা। সে পাপ থেকে বাঁচতেই সমাজের বিবেকমান এবং ঈমানদার মানুষেরা সচেতন ভাবেই ভোট-ডাকাত হাসিনার নামের আগে কোথাও মাননী্য় বলা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য। একই ভাবে বিরত থাকতে বাধ্য বাকশালী মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বলা থেকে। ব্যক্তির ঈমান তো এভাবেই শুধু নামায-রোযাতে নয়, কথার মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়। সেটি না হলে ঈমান মারা পড়তে বাধ্য।

শুধু নেক কাজকে ভাল বাসলেই সুশীল ও সভ্য হওয়া যায় না। বরং সে জন্য অর্জন করতে হয় চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণ, গুম ও হত্যাকে মনের গভীর থেকে ঘৃণা করার সামর্থ্য। বেশ্যাবৃত্তি করে অর্থ-উপার্জনের ন্যায় ভোট ডাকাতি করে প্রধানমন্ত্রী হওয়াও যে অতিশয় ঘৃণ্য বিষয় –সে ধারণাটি অতি প্রবল হওয়া সুশীল ও সভ্য হওয়ার জন্য জরুরী। একমাত্র তখনই রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিতে গড়ে উঠে সুস্থ্য সংস্কৃতি। দেশে তেমন একটি সুস্থ্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেলে ঘরের মেয়েরা কখনোই পতিতাবৃত্তিতে যোগ দেয়না। তখন সভ্য ঘরের সন্তানেরা ভোট-ডাকাতিতে নামে না। ভিতরে লালিত ঘৃণার কারণে তারা ভোট-ডাকাতকে কখনোই মাননীয়ও বলে না। ভোট-ডাকাত শেখ হাসিনাকে মাননীয় বললে এবং গণহত্যাকারি, রক্ষিবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মানব হত্যাকারি এবং ভারতের গোলাম শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বললে নির্মিত হয় ডাকাত পাড়ার অপসংস্কৃতি। অথচ বাংলাদেশে বিগত ৫০ বছর ধরে সে অপসংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজটিই লাগাতর হয়েছে। সে অপসংস্কৃতি প্রবল ভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার কারণেই খুনিরা ছাত্রনেতা হয়, ভোট-ডাকাত হাসিনাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রূপে সন্মানিত হয় এবং গণতন্ত্রের শত্রু বাকশালী মুজিবও তখন বঙ্গবন্ধু রূপে চিত্রিত হয়। অথচ পৃথিবীর আর কোথাও ভোট-ডাকাত ও একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার ফ্যাসিস্টদের সন্মান দেখানোর এরূপ অসভ্যতা বেঁচে নাই। কিন্তু বাংলাদেশে সে অসভ্যতা প্রবল হওয়ার কারণে দেশ দুর্বৃত্তিতে পর পর ৫ বার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। ইতিহাসে এ উপার্জন একমাত্র বাংলাদেশের। সেরূপ এক প্রবল অসভ্যতার কারণেই মুষ্টিমেয় ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের সেনা অফিসার, সরকারি আমলা, আদালতের বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পত্রিকার সম্পাদক এবং বুদ্ধিজীবীগণও অতি নৃশংস দুর্বৃত্তদের ঘৃণা করার সামর্থ্য পুরাপুরি হারিয়ে ফেলেছে। এবং এ রকম একটি অবস্থার কারণেই দেশপ্রেম গণ্য হচ্ছে হত্যাযোগ্য অপরাধ রূপে। এবং আগ্রাসী ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ গণ্য হচ্ছে স্বাধিনতা রূপে। একই কারণে হাসিনার ন্যায় ভোট-ডাকাতও ক্ষমতার টিকে থাকার সাহসই শুধু পাচ্ছে না, অনেকের কাছে মাননীয় রূপেও গণ্য হচ্ছে।

অভিনয় ও প্রতারণার জাল

সম্প্রতি সাংবাদিকদের সামনে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিত অভিনয় করছেন দেশের ভোট-ডাকাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন অভিনয়ের কদরও আছে। কারণ, এমন অভিনয় দিয়ে জনগণকেও সহজে বিভ্রান্ত করা যায়। শেখ মুজিবও স্বাধীনতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং ৮ আনা সের চাউল খাওয়ানোর নামে অভিনয় করে ক্ষমতায় গিয়েছিল। এর পরের কাহিনী তো ইতিহাস। অভিনয়ের অংশ রূপেই শহীদ আবরারের পিতামাতাকে ভোট-ডাকাত হাসিনা তার অফিসে ডেকেছে। অথচ দুনিয়া থেকে আবরারকে যারা বিদায় দিল তারা তো হাসিনার দলেরই পোষা গুন্ডা। এর আগেও বহু আবরারকে তারা হত্যা করেছে হাসিনার ঘোষিত “এক লাশের বদলে ১০ লাশ ফেলা”র নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে। তার হাতে গণহত্যা হয়েছে শাপলা চত্ত্বরে। শহীদ হয়েছে এবং ময়লার গাড়িত লাশ গায়েব হয়েছে হিফাজতে ইসলামের মুসল্লিদের।  পিলখানায় হত্যা করা হয়েছে ৫৬ জন সেনা অফিসারকে। মুজিবের ন্যায় হাসিনাও একই রূপ অভিনয় করছে গণতন্ত্রের নামে। ভোটের স্বাধীনতার কথা বলে উপহার দিয়েছে ভোটডাকাতি। বাকশালী মুজিবের ন্যায় হাসিনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ না করলেও নিষিদ্ধ করেছে তাদের রাজপথের রাজনীতি। এভাবে মুজিবের ন্যায় হাসিনাও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে অভিনয় ও প্রতারণার এক দুষ্ট রাজনীতি।

ক’দিন আগে ভোট-ডাকাত হাসিনা অভিনয়ের ঢংয়ে সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “আমরা তো সকল ব্যবস্থা নিয়েছি। অতএব আন্দোলন কোন?” ডাকাত হাসিনা এখানে ন্যাকা সেজেছেন। যেন তিনি বুঝেন না, আন্দোলন কেন হয়। আন্দোলন কি হয় স্রেফ একটি খুনের বিরুদ্ধে? আন্দোলন কি হয় কিছু খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলানোর দাবি নিয়ে? দেশে তো প্রতিদিন বহু মানুষ খুন হয়। তাই একটি বা দশটি খুনের ঘটনা নিয়ে কি দেশ ব্যাপী কোন আন্দোলন গড়া যায়? আন্দোলন তো হয়, এমন এক জালেম সরকারের নির্মূলে যার নীতিই হলো খুন, গুম, ধর্ষণকে রাজনীতির হাতিয়ার ও কালচারে পরিণত করা। খুনের অপরাধে আসামীদের ফাঁসি হলেও তাই আন্দোলন থামে না। কারণ, আন্দোলন তো অসভ্য ও অত্যাচারি শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে -যা ফ্যাসিবাদকে ধারণ করে ত্রাসের রাজত্বের প্রতিষ্ঠা দেয়।  

অপর দিকে ভোট-ডাকাত হাসিনা ও তার অনুসারিগণ বলা শুরু করেছে, “আবরারের হত্যা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।” কথা হলো আবরারে ত্যাকান্ডাটি কি পারিবারিক বিষয়? এটি কি টাকা-পয়সা বা জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় যে তাতে রাজনীতি হবে না? আবরারকে হত্যা করা হয়েছে নিরেট রাজনৈতিক কারণে। সেটি ঘটেছে ফেসবুকে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার কারণে। তাছাড়া রাজনীতি করা কি কোন নিষিদ্ধ কর্ম? সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মই তো রাজনৈতিক। সরকারের নিজের রাজনীতি যদি নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয় না হয়, তবে অন্যদের রাজনীতি কেন নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয় হবে? প্রশ্ন হলো, রাজনীতির বিরুদ্ধে যদি ভোট-ডাকাত হাসিনার এতই ক্ষোভ, তবে ছাত্রলীগর রাজনীতি যেভাবে সন্ত্রাস ও হত্যার নীতিতে পরিণত হয়েছে -সে রাজনীতি কেন বন্ধ করেন না? রাজনীতিকে ছাত্র লীগ কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে তা কি ভোট-ডাকাত হাসিনা বুঝে না? বুয়েটে যে হত্যাকান্ডটি ঘটালো সেটিই কি ছাত্রলীগের একমাত্র নৃশংস হত্যাকান্ড? এ ধরণের হত্যার ঘটনা বাংলাদেশে দুয়েকটি নয়, অসংখ্য বার ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সারা দেশে এভাবে বহুশত ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে গুম ও ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। ছাত্রলীগ এরূপ নৃশংসতার তান্ডব বহু বছর ধরে ঘটিয়ে আসছে। এরূপ নৃশংস অপরাধে সরকার এতদিন তাদেরকে পুরো লাইসেন্স দিয়েছিল। তাদের নীতি ছিল গায়ে ছাত্র শিবিরের ট্যাগ দিয়ে যে কোন ইসলামপ্রেমীকে মেরে ফেলা।

আবরার হত্যার পর ছাত্রগণ আজ জেগে উঠেছে। এরূপ নৃশংস হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন হবে -সেটিই তো অতি স্বাভাবিক ও সভ্য কর্ম। এবং না হওয়াটি অসভ্যতার আলামত। অথচ এরূপ প্রতিবাদ ভোট-ডাকাত অসভ্য সরকারের ভাল লাগেনি। ছাত্রদের এমন একটি বিবেকমান আন্দোলনকে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ নিন্দনীয় ও ন্যক্কারজনক বলেছেন। কথা হলো, এতো বড়ো নৃশংস ঘটনার পরও ছাত্ররা নীরব থাকে কি করে? এরূপ মুহুর্তে নীরব থাকাটি তো চরম অসভ্যতা। সেরূপ নীরবতায় দেশে অসভ্যতার সুনামি শুরু হবে –সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? তখন প্রশ্রয় পায় অশুভ খুনিচক্র। তখন আবরারগণ লাশ হয়, নারীরা ধর্ষিতা হয় এবং বীভৎস গুম-খুনও রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়। সে নৃশংস অসভ্যতা থেকে বাঁচাতে ছাত্র ও জনগণ আন্দোলেন নামবে -সেটিই তো স্বাভাবিক। সে আন্দোলনে শিবির, ছাত্রদল ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দল জড়িত হবে -সেটিই তো অতি প্রশংসনীয় বিষয়। একমাত্র এভাবেই তো দেশ ভোট-ডাকাত দুর্বৃত্তদের থেকে মুক্তি পেতে পারে। ১৫/১০/২০১৯




সভ্য ভাবে বাঁচার খরচ এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা

সেরা কৃতিত্ব কেবল সভ্য-সমাজ নির্মাণে

মানব জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যটি স্রেফ পানাহারে বাঁচা নয়, সেটি হলো সভ্য ভাবে বাঁচা।  তবে সভ্য ভাবে বাঁচার খরচটি বিশাল। তখন ঘর বাঁধার পাশাপাশি  সভ্য সমাজ এবং সভ্য রাষ্ট্রও নির্মাণ করতে হয়। তখন প্রতিষ্ঠা দিতে  হয় আইনের শাসন। তখন স্রেফ হিংস্র পশু বা মশামাছি তাড়ালে চলে না; চোর-ডাকাত ও দুর্বৃত্তদেরও তাড়াতে হয়। তাড়ানোর সে লড়াইয়ে প্রাণও দিতে হয়। মানব সমাজে এটি হলো সবচেয়ে ব্যায়বহুল এবং সবচেয়ে পবিত্রতম কাজ। ইসলামে এর চেয়ে বড় ইবাদত নেই। পরকালে এ কাজটি দেয় সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার। এ কাজে শহীদ হলে জুটে বিনা হিসাবে জান্নাত। সভ্য সমাজ নির্মাণের গুরুত্ব বুঝতেন বলেই এ মহান কাজে ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)য়ের সাহাবীদের শতকরা ৭০ ভাগ শহীদ হয়ে গেছেন। তাদের সে ত্যাগের বিনিময়েই মানব ইতিহাসের বুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা নির্মিত হয়েছিল। তখন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল আইনের শাসন। এবং নির্মূল হয়েছিল দুর্বৃত্তরা। অথচ অসভ্য ভাবে বাঁচায় সে খরচ নাই।সভ্য ভাবে বাঁচার যোগ্যতা না থাকায় অনেকেই তাই অসভ্যতার পথ বেছে নেয়। তাই নিকোবার, পাপুয়া নিউ গিনি ও আমাজানের গভীর জঙ্গলে বহু মানব সন্তান বসবাস করছে কোনরূপ ঘর, সমাজ ও রাষ্ট্র না গড়েই।

অতি অপ্রিয় হলেও সত্য হলো, বাংলাদেশ সর্বার্থেই একটি অসভ্য দেশ। এ অসভ্যতার প্রমাণ তো অসংখ্য। এ রাষ্ট্রটি বর্তমান শতাব্দীটি শুরু করেছে বিশ্বের প্রায় ২০০টি রাষ্ট্রকে হারিয়ে দুর্বৃত্তিতে ৫ বার প্রথম হয়ে। এদেশে নির্বাচন হলে ভোট ডাকাতি হয়। বিচার হলে নিরপরাধীদের ফাঁসীতে  ঝুলতে হয়। এবং নবেল প্রাইজ পাওয়া ব্যক্তিকেও জেলে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়। এবং শত শত খুনি পয়দা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণে। ফ্যাসিবাদের নিরেট অসভ্যতা নিয়ে দেশ চালাচ্ছে দেশের অবৈধ ও ভোট-ডাকাত প্রধানমন্ত্রী। ফেস বুকে মতামত দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণে লাশ হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়েও ধর্ষণে সেঞ্চুরীর উৎসব হয় –যেমনটি জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছিল। এদেশে লুট হয় শেয়ার মার্কেট, ব্যাংক এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের কোষাগার। হংকংয়ে ২০ লাখ মানুষ মিটিং করলেও কোন লাশ পড়ে না। মিটিং করতে সরকার থেকে অনুমতি নিতে হয় না। এটি স্বীকৃত জনগণের মৌলিক অধিকার রূপে। অথচ বাংলাদেশে রাজপথে মিছিল মিটিং নিষিদ্ধ। জনসভা করলে কামান দাগা হয় –যেমনটি শাপলা চত্ত্বরে হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ভিন্ন মতের টিভি। সরকারেরর সমালোচনা করে পত্রিকায় লিখলে গুম হতে হয়।

এদেশের সাধারণ মানুষ দূরে থাক, আলেমগণ সস্তায় বিক্রি হয়ে যায়। টাকা পেলে দুর্বৃত্তদের জননীকেও এরা কওমী জননী বা নিজেদের জননী বলা শুরু করে। অথচ যারা প্রকৃত ঈমানদার তাদের রীতি হলো জান্নাতের চেয়ে কম মূল্যে কারো কাছে নিজেকে বিক্রয় না করা। এদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান একজন গণতন্ত্র হত্যাকারি বাকশালী, ৩০ হাজার মানব হত্যাকারি জল্লাদ এবং দেশ বিক্রয়কারি এক দুর্বৃত্তকেও সর্বকালে সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বলে। এই হলো বিদ্যাবুদ্ধির মান! প্রশ্ন হলো, এ মাপের অসভ্য দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আছে কি? ক্যান্সার রোগীকে দেহে যে কান্সার আছে -সে সত্যটি মেনে নিয়েই চিকিৎসায় নামতে হয়। তেমনি বাংলাদেশ যে চরম একটি অসভ্য দেশ –সে সত্যটি মেনে নিয়েই বাংলাদেশীদের দেশের সংস্কারে নামতে হবে। তাই দায়ভারটি বিশাল। খরচের অংকও বিশাল। একাজে দুয়েক জন নয়, শত শত শহীদ আবরার চাই।

 

ভোট-ডাকাত হাসিনাঃ জনগণের সবচেয়ে বড় শত্রু

সভ্য সমাজ বা রাষ্ট্র নির্মাণের পথে সবচেয়ে বড় বাধাটি নর্দমার কীট বা হিংস্র জন্তু জানোয়ার থেকে আসে না। সেটি আসে দুর্বৃত্ত শাসকদের পক্ষ থেকে। এরাই মানব জাতির সবচেয়ে ঘৃণ্যতম দুষমন। নিজেদের গদি বাঁচাতে তারা শুধু নাগরিক অধিকারই কেড়ে নেয় না, গণহত্যা ও গণধর্ষণেও নামে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অটুট রাখতে এমন কি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ প্রশাসন, আদালত এবং মিডিয়াতেও নিজেদের আজ্ঞাবহ দুর্বৃত্তদের মোতায়েন করে। নবীরাসূলদেরও তাই কোন হিংস্র পশুদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়নি। লড়তে হয়েছে মানবরূপী এসব হিংস্র হায়েনাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে মানবরূপী এ পশুগণ যে কতটা হিংস্র ও নৃশংস সেটি ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বরে দেখা গেছে। তারা হিফাজতে ইসলামের শত শত নিরীহ মুসল্লীদের লাশ ফেলেছে কামান ও মেশিন গান দেগে। এবং লাশগুলো ময়লা ফেলার গাড়িতে করে অজানা স্থানে গায়েব করেছে। মুজিব আমলে  সে নৃশংসতা দেখে এ দুনিয়া থেকেই বিদায় নিয়েছে ৩০ হাজারের বেশী রাজনৈতীক কর্মী। নৃশংসতা দেখেছে সিরাজ সিকদার। মুজিব তাদেরকে ন্যায় বিচার দেয়া দূরে থাক, বাঁচার অধিকারটুকুও দেয়নি। নৃশংসতার নিদারুন বেদনা নিয়েই বিদায় নিল শহীদ আবরার ফাহাদ। সেটিও মুজিবের শিষ্যদের হাতে। কোন হিংস্র পশুও কি মানুষকে এতটো যাতনা দিয়ে হত্যা করে? অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, বাংলাদেশের মানুষগণ আশা করছে দেশের ক্ষমতাসীন দুর্বৃত্তগুলো তাদের কোলে ন্যায় বিচার তুলে দিবে? আহাম্মকগণ চিরকাল এভাবেই স্বপ্ন দেখে। এবং তাদের সে আহাম্মকির কারণেই যুগে যুগে দীর্ঘায়ু পেয়েছে অসভ্যদের নৃশংস শাসন ।

আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচারে শেখ হাসিনার যদি সামান্যতম আগ্রহ থাকতো তবে ভোট-ডাকাত হাসিনা নিজেই ক্ষমতা ছেড়ে নিজের ডাকাতির অপরাধে শাস্তি পেতে স্বেচ্ছায় কারাগারে যেত। সে কি জানে না ২০১৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের রাতে কীরূপ ডাকাতি করে ক্ষমতায় গেছে? সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচনি কমিশন তাদের ওয়েব সাইটে গত নির্বাচনে ভোটের ফলাফল ছেপেছে। হাসিনা যে ভয়ানক ডাকাত সেটি প্রমাণের জন্য কোন সাক্ষী সাবুদের প্রয়োজন নেই। নির্বাচনি কমিশনের রিপোর্টই সে কাজে যথেষ্ট। এমন কি পুরা রিপোর্ট পড়ারও প্রয়োজন নাই। সে কাজে নীচে দেয়া দুটি তথ্যই যথেষ্ট। এক). বলা হয়েছে ১০৩টি আসনের ২১৩টি কেন্দ্রে শতকরা ১০০ ভাগ ভোট পড়েছে। দুই). ১৪টি আসনে সবগুলো কেন্দ্রে অর্থাৎ ৭ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে শতকরা ৯০ থেকে ৯৯ ভাগ পড়েছে। নির্বাচনে সকল দল অংশ নিলেও বাংলাদেশের কোন নির্বাচনেই অতীতে শতকরা ৭০ভাগ ভোটও পড়েনি। ১০০% ভোট কি করে পড়ে? এটি একমাত্র ভোট ডাকাতিতেই সম্ভব। কারণ ভোট ডাকাতি স্রেফ ব্যালট পেপারের বান্ডিল লাগে, ভোটার নয়। ভোটার লিষ্টের বহু ভোটারই থাকে মৃত। ভাবটা এমন, কবর থেকে উঠে এসে মৃতরাও ভোট দিয়েছে। নইলে ভোট বাক্সে শতকরা ১০০ ভাগ ভোট পড়ে কি করে?

 

হাসিনাঃ সবচেয়ে বড় শত্রু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার

আবরার ফাহাদ শহীদ হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও তার দলের মন্ত্রীগণ কোরাস ধরেছে, দেশে আইনের শাসন আছে এবং আইন অনুযায়ী বিচার হবে। এটি নিছক জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্য। সেটি রাস্তায় নামা ছাত্রদের ঘরে ফেরানোর জন্য। এ অবধি শত শত খুন ও গুমের ঘটনা হয়েছে। কয়টির বিচার হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সামান্যতম আগ্রহ থাকলে সে আইনের প্রয়োগ হতো ভোট ডাকাত হাসিনার বিরুদ্ধেও। তাতে হাসিনার শুধু প্রধানমন্ত্রীত্বই হারাতে হতো  না, তাকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য জেলে যেতে হতো। চুরি-ডাকাতি করলে দেরীতে হলেও মৃত্যুর অবধি শাস্তি দেয়ার সুযোগ থাকে। হাসিনাই বা তা থেকে বাদ যাবে কেন? তাছাড়া অবৈধ ভাবে এতদিন যে ক্ষমতায় আছে, শাস্তি তো তাতেও বাড়ছে। সে শাস্তি কি তাকে পেতে হবে না? ইন্দিরা গান্ধি এতবড় ভোট ডাকাত ছিল না। তার শাসনামলে  মাত্র একটি  আসনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেটি প্রমাণ হওয়ায় তার প্রধানমন্ত্রীত্ব গিয়েছিল এবং তাকে জেলে যেতে  হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশে এ ভোট ডাকাতগণ জেলের বাইরে থাকে এবং বড় বড় কথা বলে।       

যে ব্যক্তি বাংলাদেশে আইনের শাসনের সবচেয়ে বড় শত্রু সে হলো শেখ হাসিনা। সে প্রমান প্রচুর। তবে একটি প্রমান ভূলবার নয়। সেটি উল্লেখ করেছেন এরশাদের এক কালের প্রধানমন্ত্রী জনাব আতাউর রহমান খান। তিনি তার বইতে লিখেছেন, এরশাদের সাথে দেখা করতে শেখ হাসিনা তার দফতরে এসেছেন। বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দাবী তুললেন খুনের কেসে শাস্তিপ্রাপ্ত ছাত্র লীগের দুই কর্মিকে প্রথমে মুক্তি দিতে হবে। নইলে তিনি এরশাদের সাথে বৈঠকে বসবেন না। কারা ছিল আদালতে শাস্তিপ্রাপ্ত ছাত্র লীগের সে দুই জন কর্মী? সে বিবরন দিয়েছেন জনাব আতাউর রহমান খান। আশির দশকে আবরারের মতই অতি নৃশংস ভাবে দুইজন শিবির কর্মীকে হত্যা করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। তাদেরকে ইট দিয়ে গুতিয়ে সারা দেহ থেথলানো হয়। গুড়িয়ে দেয়া হয় তাদের মাথা খুলি। আদালতের বিচারে খুনিদের শাস্তি হয়। কিন্তু সে শাস্তি হাসিনার পছন্দ হয়নি। তাই  এরশাদকে দিয়ে সে জঘন্য অপরাধীদেরকে হাসিনা মুক্ত করে নেয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে হাসিনার শত্রুতা কতটা প্রকট -এ হলো তার প্রমাণ। এরশাদ চেয়েছিল নিজের অবস্থান মজবুত করতে। বিএনপির মোকাবেলায় সে তখন হাসিনাকে কাছে টানছিল। হাসিনাও এরশাদের সে দুর্বলতা টের পেয়েছিল। তাই এরশাদের কাছে খুনির শাস্তি দেয়ার চেয়ে অধীক গুরুত্ব পেয়েছিল নিজের গদি বাঁচানো।

ডাকাত সর্দার কখনোই নিজ দলের ডাকাতদের বিচার চায় না। বরং চায়, ডাকাতগণ খুনখারাবী করুক এবং দলে আবার ফিরে আসুক। খুনখারাবীর শাস্তি দিলে ডাকাত দল টিকে না। সেটি হলে কম্বলের পশম বাছার ন্যায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ –এসবই এতদিনে বিলুপ্ত হয়ে যেতো। হাসিনা সেটি বুঝে। তাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো, নিজ দলের খুনিদের আইনের উর্দ্ধে রাখা। হাসিনার সে নীতির কারণেই তার দলীয় খুনিরা এতটা বেপরোয়া ভাবে খুন-খারাবী করতে পারে। এবং বিচারের দাবী নিয়ে রাস্তায় না নামলে পুলিশ যেমন এ্যাকশনে আসে না, বিচারও তেমনি আদালতে উঠে না। তাছাড়া বিচারে শাস্তি হলেই কি সে শাস্তির প্রয়োগ হবে? বিচারের রায় বানচাল করার জন্য হাসিনার হাতে রয়েছে তার প্রতি অতি অনুগত এক গোলাম চরিত্রের প্রেসিডেন্ট। হাসিনা যাকেই মাফ করে দিতে বলবে, তাকেই মাফ করে দেয়ার জন্য সে দুই পায়ে খাড়া। তাই এক আবরার নয়, হাজারো আবরার শহীদ হলেও সেটি হাসিনার কাছে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বরং তার কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো তার দলের প্রতিটি খুনিকে বাঁচানো। নইলে তার দল বাঁচবে না, তখন তার ক্ষমতাও বাঁচবে না। যারা বাংলাদেশকে একটি  সভ্যদেশ রূপে গড়ে তুলতে চায় তাদেরকে এ সহজ সত্য বিষয়টিকে বুঝতে হবে। অপরাধমুক্ত ও খুন-খারাবীমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে খুনিদের যে জন্ম দেয় তাকে কাঠগড়ায় তুলতে হবে। এবং নির্মূল করতে হবে তার শাসন। এখানে ব্যর্থ হলো বাঁচতে হবে দুর্বৃত্তদের কাছে আত্মসমর্পণের অসভ্যতা নিয়ে। ১২/১০/২০১৯




বিবেকহীন অসভ্যদের নির্মূল কেন অপরিহার্য?

অসভ্যগণ শিক্ষক হয় কি করে?

গত ২০১৮ সালের ৩০’য়ে ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে যা কিছু হয়েছে সেটি অতি অসভ্য ও নৃশংস রকমের এক ভোট ডাকাতি। কোন সভ্য দেশে এমন অসভ্য কর্মের কোন নজির নাই। বাংলাদেশেও নাই। এ ভোট ডাকাতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিল, ক্ষমতায় থাকার খাতিরে সে কতটা দস্যুবৃত্তিতে নামতে পারে। এবং দেখালো, সে কতটা নির্লজ্জ হতে পারে -সেটিও। মানুষ তাকে এ অপকর্মের জন্য কি বলবে বা ইতিহাসে সে কীরূপে চিত্রিত হবে -তা নিয়ে শেখ হাসিনার মনে ভাবনার লেশ মাত্র ছিল না। অথচ প্রতিটি সভ্য মানুষের মনে সে ভাবনাটাই প্রকট। অন্যরা কি বলবে -সে ভয়টি লোক-লজ্জা আছে এমন মানুষকে চুরি-ডাকাতির ন্যায় বদকর্ম থেকে দূরে রাখে। কারণ সভ্য মানুষ মাত্রই তো সমাজে সুনাম নিয়ে বাঁচতে চায়। হাসিনার চরিত্র সঠিক ভাবে বুঝার জন্য এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট।

প্রতিটি নির্বাচন কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ ডিসেম্বরের রাতে। এবং তা ঘটেছে পূর্বপরিকল্পনা মাফিক। এ নিয়ে এমন কি বাংলাদেশের নিরক্ষর মানুষদের মাঝেও কোন বিতর্ক নেই। কারণ, নিজের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ডাকাতিকে ডাকাতি রূপে চেনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি লাগে না। উচ্চ পাওয়ারের চশমাও লাগে না। নিজের ভোট দিতে গিয়ে জনগণ নিজেরাই বুঝে গেছে তার ব্যালটটি স্বস্থানে নাই। সেটি ডাকাতদের হাতে চলে গেছে। ফলে ভোট না দিয়েই তাকে ঘরে ফিরতে হয়েছে। ভোট ডাকাতির সাক্ষি তাই দেশের জনগণ। এরূপ ডাকাতির ফলে ডাকাতি হয়ে গেছে পুরা দেশ। এবং ডাকাতির ফসল গিয়ে উঠেছে ভারতের ঘরে। নবেন্দ্র মোদি হাসিনার দুর্বলতাটি বুঝে। জানে, হাসিনার পিছনে জনগণের ভোট নাই। জানে, ক্ষমতায় থাকতে হলে তার চাই ভারতের পাহারাদারি। হাসিনার অবৈধ সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভারত তাকে পুরাপুরি জিম্মি বানিয়ে ফেলেছে। ফলে যা ইচ্ছা তাই চুক্তির পর চুক্তি করে ছিনিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবাদের সাহস নাই, ইচ্ছেও নাই। এতে হাসিনার কোন ক্ষতি নাই, বরং তার বিশাল লাভটি হলো ক্ষমতায় থাকার। অথচ এরূপ অবৈধ ভাবে তার ক্ষমতায় থাকাতে ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের। কোন দেশের সভ্য ও বিবেকমান নাগরিক কি নিজ দেশের প্রতি এমন অসভ্য ও ক্ষতিকর কাজকে সমর্থন করতে পারে?

কে সভ্য এবং কে বিবেকবান –সে পরিচয়টি কি কখনোই ব্যক্তির বেশভুষায় ধরা পড়ে? সেটি অতি নিখুঁত ভাবে ধরা পড়ে অন্যায়, অসভ্য ও নৃশংসক কাজকে ঘৃণা করার মধ্য দিয়ে। সে সামর্থ্য চোর-ডাকাত, খুনি-ব্যাভিচারীদের থাকে না বলে্‌ই তারা অসভ্য। এবং এ অসভ্যদের কাজ হলো চুরি-ডাকাতি, খুন-ব্যাভিচারের ন্যায় নানারূপ অসভ্য কর্মে ডুবে থাকা এবং অন্যদের সে কাজে সমর্থণ দেয়া। এটিই তাদের সংস্কৃতি এবং এর মধ্যে জীবন কাটানোর মধ্যেই তাদের তৃপ্তি। একটি দেশে অশান্তির মূল কারণ, সে দেশের মশামাছি বা অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি নয়, বরং তারা হলো দুর্বৃত্ত শ্রেণীর মানুষ। আর্থিক স্বচ্ছলতা ও অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝেও তারা প্রকট অশান্তি ডেকে আনে। তাই বিদেশ থেকে অর্থাউপার্জন বাড়লে কি হবে, চোর-ডাকাত ও ক্ষমতালোভীদের উপদ্রবে তা সবই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে কেবল দুর্ভোগ।

বাংলাদেশে এরূপ অসভ্য ও নৃশংস চোর-ডাকাত ও তাদের সমর্থকদের সংখ্যাটি বিশাল। দেহের রোগ যেমন গোপন থাকে না, তেমনি গোপন থাকে না চরিত্রের রোগও। দেহের রোগে মানুষ অসভ্য বা নৃশংস হয়না। কিন্তু ভয়ংকর রকমের অসভ্য ও নৃশংস দানব সৃষ্টি হয় চরিত্রের রোগে। তাই বাংলাদেশের বড় বড় ক্ষতিগুলো দেহের রোগের কারণে হচ্ছে না। সেটি হচ্ছে চারিত্রিক রোগের কারণে। দেশে বার বার ভোট ডাকাতি হয়, ডাকাতি হয় শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংকে, আবরার ফাহাদের ন্যায় হাজার হাজার মানুষ গুম-খুন ও অত্যাচারের শিকার হয় -তা তো এ চরিত্রের রোগের কারণেই। তবে বাংলাদেশীদের জন্য অতিশয় পরিতাপের বিষয় হলো, দেশে শুধু চোর-ডাকাতদের সংখ্যাই বিপুল হারে বাড়েনি। বেড়েছে তাদের সমর্থনকারীদের সংখ্যাও। অথচ কোন সভ্যদেশে ডাকাতদের কোন বন্ধু থাকে না। অথচ বাংলাদেশে যারা ভোট-ডাকাতদের সমর্থণ করে যে সব অসভ্য কুলাঙ্গারদের সংখ্যাটি বিশাল। এবং তাদের বসবাস কোন মদ-জুয়ার পল্লী বা পতিতা পল্লীতে নয়, সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণে। খবরে প্রকাশ, ঢাকা বিশববিদ্যালয়ের এক হাজারের বেশী শিক্ষক গত ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে ডাকাতি না বলে সুষ্ঠ নির্বাচন বলেছে। সে তথ্যটি এক ছাত্র জমায়েতে বলেছেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অপর একজন শিক্ষক। হয়তো অন্যান্য বিশববিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। এটি মাথায় ঝাঁকুনি লাগানোর মত বিষয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কি ডাকাতপাড়া?

যারা চুরি-ডাকাতির সমর্থক হয়, তারাই তো চোর-ডাকাতদের সহচর হয়। প্রশ্ন হলো, এরূপ বিপুল সংখ্যক ডাকাত সমর্থক কি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলো? সভ্য দেশে বর্ণবাদ বা ফ্যাসীবাদকে সমর্থন করাও অপরাধ। এ অপরাধে কারো চাকুরি থাকে না। তবে প্রশ্ন হলো, শিক্ষক হওয়ার জন্য কি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হওয়াটাই জরুরী? ডিগ্রি তো চোর-ডাকাতদেরও থাকতে পারে। ডিগ্রির চেয়েও বেশী জরুরী এবং অপরিহার্য হলো বিবেকবান হওয়া। কারণ অন্যায়কে ঘৃণা এবং ন্যায়কে ভালবাসার সামর্থ্যটি ডিগ্রি থেকে আসে না, আসে বিবেক থাকে। তাই বহু নিরক্ষর ব্যক্তিও বিবেকবান হয়। সে বিবেকের বলেই তারা ডাকাতিকে ডাকাতি বলে; এবং সে অসভ্য কর্মটিকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। কিন্তু সে সামর্থ্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের সহস্রাধিক শিক্ষক অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশে মূল সমস্যাটি তো এখানেই। বিবেক না থাকলে শিক্ষক হওয়া দুরে থাক, রাস্তার ঝাড়ুদার হওয়ার জন্যও তো সে বিবেকহীন ব্যক্তিটি অযোগ্য। কারণ ঝাড়ুদার হতে হলেও তো সততা লাগে। নইলে নির্মূল হয় না রাস্তার আবর্জনা। বাংলাদেশে একটি সভ্যদেশ হলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যারা ভোট ডাকাতির সমর্থক তাদের চাকুরি যেত। কারণ, সভ্যদেশের কাজ শুধু রাস্তা থেকে আবর্জনা সরানো নয়, শিক্ষাঙ্গণ থেকে বিবেকহীন অসভ্যদের সরানোও। কিন্তু বাংলাদেশে সবই সম্ভব। ভোট-ডাকাত যেমন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, তেমনি ডাকাতের সমর্থকগণও শিক্ষক হতে পারে।

অথচ শিক্ষককে শুধু জ্ঞানদান করলে হয় না, ছাত্রদের সামনে তাকে উন্নত চরিত্র ও মূল্যবোধের মডেল রূপেও নিজেকে পেশ করতে হয়। কিন্তু যারা ভোট-ডাকাত ও চোর ডাকাতদের সমর্থক -তারা সেটি পারে না। এমন শিক্ষকদের হাতে সভ্য মানুষের বদলে অসভ্য মানুষ সৃষ্টি হয়। এবং সম্প্রতি তারই প্রমাণ মিললো বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুয়েটে। বুয়েটে যে অসভ্য ও নৃশংস খুনিরা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করলো তারা কোন ডাকাত পাড়ায় বেড়ে উঠেনি। বেড়ে উঠেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই অবস্থা তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বহু ছাত্র-ছাত্রী সেখানে খুন, গুম, আহত ও ধর্ষিতা হয়েছে। এরকম বিশ্ববিদ্যালয় দেশে হাজারটি হলেও কি দেশের কল্যাণ হবে? যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেই ভয়ংকর ডাকাত –সে এরূপ দস্যুবৃত্তির নিন্দাই বা করবে কেমনে? কুকর্মের নিন্দাতেও তো উন্নত রূচি চাই।

সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশ, জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কোটি টাকার ঘুষের সাথে জড়িত। এ কি কোন শিক্ষকের কাজ? অথচ সে ধরণের কাজ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণে। বহু শিক্ষককে দেখা গেছে ছাত্রীদের সাথে ব্যাভিচারে জড়িত হতে। মশামাছির কামড়ে দেশ ধ্বংস হয় না। বন্যাতে্ও ভেসে যায় না। ধ্বংস হয় এরূপ অসভ্য ও বিবেকহীন শিক্ষকদের কারণে। যারা এ শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশকে দুর্বৃত্তিতে সমগ্র বিশ্বমাঝে ৫ বার শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিয়েছিল -তারা কি কোন গ্রামে বা বস্তিতে শিক্ষা পেয়েছিল? তারা তো ছিল বিশ্ববিদ্যালয়েরই ডিগ্রিধারী। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যে কীরূপ দুর্বৃত্ত উৎপাদনের বিশাল বিশাল কারখানা –এতো তারই প্রমাণ। চালক মাতাল হলে বা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে গাড়ি চালালে তো দুর্ঘটনা ঘটবেই। তেমনি শিক্ষাদানে দুবৃত্তি ও ফাঁকি চললে ছাত্ররা চরিত্রহীন, বিবেকহীন এবং নৃশংস খুনি রূপে তো বেড়ে উঠবেই। সেটি না হওয়াই তো বরং অস্বাভাবিক।

 

সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণে জিহাদ কেন অনিবার্য?

বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ অনেক। তবে সবচেয়ে বড় কারণটি হলো, দুর্বৃত্ত শিক্ষকদের হাতে শিক্ষাঙ্গণের অধিকৃতি। শিক্ষকদের মূল ব্যর্থতা্টি হলো, সততা ও উন্নত চরিত্রের মডেল রূপে ছাত্রদের সামনে নিজেদের তুলে ধরার ব্যর্থতা। অথচ মানব সভ্যতার এটিই হলো সবচেয়ে পবিত্রতম কাজ। শিক্ষালাভ যেমন ইবাদত; তেমনি শিক্ষাদানও ইবাদত। যুগে যুগে শিক্ষাদানের সে কাজটি করেছেন নবী-রাসূলগণ। নামায-রোযা ফরজ হয়েছে অনেক পড়ে। কিন্তু জ্ঞানার্জন ফরজ হয়েছে কোরআন নাযিলের প্রথম দিন থেকেই। কিন্তু বাংলাদেশে একাজে যারা নেমেছে তাদের বিশাল সংখ্যাটি হলো দুর্বৃত্ত শ্রেণীর। ইবাদতের সে স্পিরিট তাদের মাঝে নাই। বরং তারা যে কতটা দুর্বৃত্ত -সেটির প্রমাণ রেখেছে বিগত ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে সুষ্ঠ নির্বাচন বলার মধ্য দিয়ে। তাদের মাঝে বিবেক বেঁচে থাকলে এরূপ ঢাহা মিথ্যাটি কি তারা কখনো বলতো? বাংলাদেশের বিবেকমান মানুষের উচিত এদের চিনে রাখা। কারণ দেশের ও দেশবাসীর নিরাপত্তা বাড়াতে শুধু বিষাক্ত শাপ ও পোকামাকড়কে চিনলে চলে না। চিনতে হয় এবং নির্মূল করতে হয় এরূপ অসভ্য দুর্বৃত্তদেরও।

যারা ইতিহাসে সভ্যতর সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে তারা সংস্কারের কাজটি কখনোই কৃষি, কলকারখানা বা পশুপালন দিয়ে শুরু করেনি। শুরুটি করেছিল মানব গড়া দিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি হয়নি। বরং বাংলাদেশে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রগুলো হলো দু্র্বৃত্তদের অধিকৃত ভূমি। শিক্ষাঙ্গণ ব্যবহৃত হয় ছাত্রদের চরিত্রকে কলুষিত করার কাজে। ফলে মেধাবী ছাত্ররা এখানে এসে খুনি হয়। এবং ধর্ষক ও টেন্ডারবাজ হয়। এবং তাদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়েও মানুষ লাশ হয়। অনেকেই নির্যাতিত হয় এবং বহু ছাত্রী ধর্ষিতাও হয়। ক্ষমতাসীন দল এখান থেকে সংগ্রহ করে নিজ দলের জন্য জঙ্গি সৈনিক। জাগরণ মঞ্চের এক ইসলাম বিরোধী ব্লগার যখন নিহত হল, শেখ হাসিনা সাথে সাথে তার বাসায় ছুটে গিয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক। কিন্তু আবরার ফাহাদ শহীদ হওয়ার ৩৬ ঘন্টা পরও শেখ হাসিনা দূরে থাক, বুয়েটের ভিসিও সেখানে ছুটে যায়নি। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের কাজ হলো সরকারি দলের খুনিদের নিরাপত্তা দেয়া। তখন অসম্ভব হয়, সরকারি দলের খুনিদের হাতে যারা শহীদ হয় তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো।

তাই বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে স্রেফ মশামাছি মারলে চলবে না। রাস্তার আবর্জনা সরালেও চলবে না। বরং শিক্ষাঙ্গণ থেকে নির্মূল করতে হবে দুর্বৃত্ত চরিত্রের ভিসি, শিক্ষক ও ছাত্র নামধারী খুনিদের। কোন রাষ্ট্রে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকতে পারে না। সমাজের বুকে এ দুর্বৃত্তরাই হলো সবচেয়ে অসভ্য, নৃশংস ও বিবেকহীন জীব। এদের কারণে অসম্ভব হয়, সভ্য-সমাজের নির্মাণ। দেশের পতিতাপল্লী, গাঁজার আখড়া, জুয়ার আসরগুলি চোর-ডাকাতদের দখলে গেলে দেশ ধ্বংস হয় না। কিন্তু দেশ ধ্বংস হয় দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় দুর্বৃত্তদের দখলে গেলে। অথচ বাংলাদেশে সেটিই হয়েছে। কোন দেশের সভ্য নাগরিক কি এ অবস্থায় নীরব ও নিস্ক্রীয় থাকতে পারে? সে নিস্ক্রীয়তায় কি সভ্যতা ও ভদ্রতা বাঁচে? সভ্য মানুষের পরিচয় তো এটাই, সে শুধু নিজ ঘরের আঙ্গিনা থেকেই আবর্জনা সরা্য় না, আবর্জনা নির্মূল করে রাষ্ট্রের অঙ্গণ থেকেও। ইসলামে তো এটিই হলো পবিত্র জিহাদ। সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের মধ্য দিয়েই তো উন্নত সভ্যতা নির্মিত হয়। একাজে নবীজী (সাঃ)র হাজার হাজার সাহাবা শহীদ হয়েছেন। স্রেফ দোয়ায় কাজ দেয়নি। মুসলিমগণ অতীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা নির্মাণ করতে পেরছিলেন দুর্বৃত্ত নির্মূলের জিহাদে সফল হওয়াতে। সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণে বাংলাদেশেও কি এ ছাড়া ভিন্ন পথ আছে?  ১১/১০/২০১৯ 




বাংলাদেশীদের মূল রোগ ও অর্জিত ভোগান্তি

বাংলাদেশীদের যে রোগটি তাদের জীবনে সীমাহীন ভোগান্তি বাড়া্চ্ছে সেটি কলেরা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু বা যক্ষা নয়; সেটি নিতান্তই নৈতীক। সেটি দুর্বৃত্তদের ঘৃণা করার বদলে তাদের শ্রদ্ধাভরে মাথায় তোলার রোগ।এ রেগের কারণে লোপ পায় একান্ত দুর্বৃত্তকেও ঘৃণার করার সামর্থ্য। বরং তাতে সৃষ্টি হয় তার দলে ভেড়া এবং তাকে নেতা বলার নেশাই প্রবলতর হয়। এ রোগের কারণেই অতীতে বাংলাদেশীগণ শেখ মুজিবের ন্যায় গণতন্ত্রের হত্যাকারী এবং ভারতের সেবাদাস এক ফ্যাসিস্টকে নিজেদের নেতা ও বঙ্গবন্ধু বলেছে। এবং এখনও বলছে। ১৯৭০’য়ের নির্বাচনে এ দুর্বৃত্তকেই বিপুল ভোটে বিজয়ীও করেছে। অথচ মুজিব তখনও ফেরেশতা ছিল না। এবং সে রোগের প্রকোপে আজও তারা মুজিবের কন্যা এবং মুজিবী আদর্শের পতাকাবাহীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছে। 

চোর-ডাকাতদেরকে যে ব্যক্তি নিজের বন্ধু বা দেশের বন্ধু বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে সমীহ করে তাতে তার নিজের চরিত্রের গভীর রোগটিও অতি নির্ভুল ভাবে ধরা পড়ে। সে নিজেও যে চোর-ডাকাত, ফ্যাসিস্ট ও খুনি হওয়ার যথেষ্ট উপযোগী -এভাবে সেটিও সে জানিয়ে দেয়। দুর্বৃত্তদের ঘৃনা করা এবং ন্যায়ের পক্ষ নেয়ার সামর্থ্য এমন লোকদের থাকেনা। এ রোগে আক্রান্তরাই অতীতে নবী-রাসূলদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে খাড়া হয়েছে। এবং বাধাগ্রস্ত করেছে দুর্বৃত্ত নির্মূলের প্রচেষ্ঠাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এদের সংখ্যাটি শুধু আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপিসহ অন্যান্য দলেও বিশাল। এমনকি এ রোগের প্রকট প্রকোপ মাদ্রাসা-মসজিদের ছাত্র ও হুজুরদের মাঝেও। মুজিবকে এরাও বঙ্গবন্ধু বলতে পাগল। হাসিনাকে তারা কওমী জননী বলছে। ভাইরাসের ন্যায় এ নৈতীক রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ঈমানদার হওয়ার শর্ত হলো, এ নৈতীক রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করা। ন্‌ইলে অসম্ভব হয় ঈমানদার হওয়া। প্রকৃত ঈমানদার কখনোই চোর-ডাকাত ও ভোটডাকাতদের ন্যায় দুর্বৃত্ত ও স্বৈরাচারি ফ্যাসিষ্টদের বন্ধু নিজেদের বন্ধু বলে মনে করে না। তাদের পিছনে কখনো জিন্দাবাদও বলে না। কারণ সে কাজে প্রবল বাধাটি আসে ঈমানের গভীর থেকে। কোন ঈমানদার কি শয়তানকে ফেরেশতা বলতে পারে? এটি তো জঘন্য অপরাধ। এটি দুর্বৃত্তদের পক্ষে সাক্ষী দেয়ার অপরাধ। এ অপরাধের জগতে যে ব্যক্তির বিচরণ, তার কি জাহান্নামে পৌছার জন্য মুর্তি পূজার প্রয়োজন পড়ে?  অথচ যারা জান্নাতে পৌঁছতে  চায় তারা বাঁচাটি ভিন্ন ধারার। তারা যেমন দুর্বৃত্তদের মনের গভীর থেকে ঘৃনা করে, তেমনি সর্বসামর্থ্য নিয়ে ময়দানেও নামে তাদের নির্মূলে।

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোর’আনের সুরা আল ইমরানের ১১০ নম্বর আয়াতে মুসলিমদের বিশ্বমাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি বলেছেন। তবে যে সামর্থ্যের কারণে তাদের এ বিশাল মর্যাদাটি দিয়েছেন সেটি এ নয় যে, তারা বেশী বেশী নামায-রোযা-হজ্ব-যাকাত পালন করে। বরং এ কারণে যে, তারা দুর্বৃত্তি ও দুর্বৃত্তদের নির্মূলে নামে এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি ঘটেনি; বরং ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টোটি। ফলে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় নয়, দেশ রেকর্ড গড়ছে দুর্বৃত্তিতে। এবং সে রোগের কারণেই বেগবান হচ্ছে মানুষ-খুন, নারী ধর্ষণ এবং চুরিডাকাতি। এবং সেটি হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি  ভাবে। সে অপরাধ থেকে মুক্ত নয় যেমন দেশের নির্ভৃত পল্লি, তেমনি রাজধানীর বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণ। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশের এ নৈতীক রোগে রোগীর সংখ্যাটি বিশাল। কোন সুস্থ্য মানুষ কি কখনো কোন দুর্বৃত্তকে বন্ধু বলে? কোন ডাকাতকে মাননীয় বলে? কোন সভ্য দেশে এমনটি ঘটে না। দুর্বৃত্তকে জেলে যেতে হয়। অথচ এ নৈতীক রোগের কারণে বাংলাদেশে এরূপ অপরাধ অতি বিপুল ভাবে হচ্ছে। ফলে মুজিবের ন্যায় মানব হত্যা ও গণতন্ত্র হত্যার নায়কও বঙ্গবন্ধুর খেতাব পাচ্ছে! এবং হাসিনার ন্যায় গণতন্ত্র হত্যাকারি ভোট ডাকাতকেও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি আমলা, সেনা কর্মকর্তাগণও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে। 

শেখ মুজিব যে কতবড় দুর্বৃত্ত ছিল এবং দেশের কল্যানের বদলে নিজের ভোগ বিলাস নিয়ে কতটা ডুবে ছিল -তারই চিত্র তুলে ধরেছেন সিঙগাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ তার নিজের ডাইরীতে। ১৯৭৩ সালে মুজিবের ন্যায় তিনিও কানাডাতে গিয়েছিলেন কমনওয়েলর্থ সন্মেলনে যোগ দিতে। তিনি গিয়েছিলেন অন্য যা্ত্রীদের সাথে একটি যাত্রীবাহী সাধারণ বিমানে চড়ে। এভাবে তিনি দেশের অর্থ বাঁচিয়েছেন এবং দেশকে পৌঁছে দিয়েছেন উন্নয়নের উচ্চ শিখরে। অথচ মুজিব গিয়েছিলেন বোয়িং ৭০৭’য়ের একটি পুরো বিমান নিয়ে। যেন তিনি একজন উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রনায়ক। সে বিমানটি এক সপ্তাহ ধরে পড়েছিল অটোয়া বিমান বন্দরে। শেখ মুজিবের এ কান্ড দেখেই প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ’য়ের চোখে ধরা পড়েছিল মুজিব নিজদেশের কতবড় শত্রু এবং দুর্বৃত্ত। মুজিবের সে স্বার্থপরতা ও  দুর্বৃত্তির কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায় ভিক্ষার তলাহীন ঝুড়ি রূপে।

প্রশ্ন হলো, মাত্র কয়েক মুহুর্ত দেখে প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ মুজিবকে যতটা সঠিক ভাবে তাকে চিনতে পেরেছিলেন তা বাঙালীরা কেন বিগত বহু যুগ পরও চিনতে পারলো না? কারণ তাদের নীতি শূন্যতা। কাউকে চিনতে হলে শুধু চোখের দৃষ্টি নয়, মনের দৃষ্টিও লাগে। মনের সে দৃষ্টিটি আসে ব্যক্তির বিবেক থেকে। কিন্তু মুজিবের অপরাধ শধু এ নয় যে, সে গণতন্ত্র হত্যা বা মানবহত্যা করেছিল। বরং তার বড় অপরাধ হলো, সে বিবেক হত্যার ভয়ানক মহামারি ঘটিয়েছিল। বিবেকের সে মহামারির কারণে বাংলাদেশীরা শুধু মুজিবকে নয়, তার প্রভু ভারতকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করেছিল। এবং বিপুল সংখ্যায় হত্যা করেছিল অবাঙালী মুসলিমদের। সে বিবেক শূণ্যতার কারণে আজও তারা মুজিবকে বঙ্গবন্ধু বলে। এবং সে বিবেক শূণ্যতার কারণেই বাংলাদেশীদের প্রকৃত অর্জনটি হলো ভারতের গোলামী। এ গোলামী নিয়ে্ই বাঙালীদের বাঁচতে হবে। এবং পরিত্রাণের কোন সহজ রাস্তা নেই।   

 প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ তার নিজের ডাইরীতে মুজিবকে নিয়ে কি  বলেছিলেন তা নীচে দেয়া হলো:  “Another person I remember from the Ottawa meeting was Prime Minister Sheikh Mujibur Rahman, …who¸ arrived in style at Ottawa in his own aircraft. When I landed, I saw a parked Boeing 707 with “Bangladesh” emblazoned on it. When I left, it was still standing on the same spot, idle for eight days, getting obsolescent without earning anything. As I left the hotel for the airport, two huge vans were being loaded with packages for the Bangladeshi aircraft. At the conference Mujibur Rahman had made a pitch of aid to his country…   So I made a virtue of arriving by ordinary commercial aircraft, and thus helped preserved the third world status of Singapore –.

৯/১০/২০১৯ 

 

   

 




The Indian War on Muslims

The Hindutva war

The worst devastations in human history are not caused by earthquakes, cyclones or tsunamis. These owe to wars -the crimes exclusively done by the humans. Only in two World Wars 75 million people are killed. After the World Wars, millions are killed in Vietnam, Afghanistan, Iraq and Syria; and the killing continues. The destructiveness of any war entirely depends on the toxicity of the ideologies of the warmongers. A virulent killer bug always causes killer disease. Likewise, a killer ideology always causes deaths, rapes and destructions. What would be the worst stupidity than to be dubious on its dreadfulness? All worst war-crimes are indeed the works of the people adherent to the toxic ideologies. In fact, ideologies like fascism, racism, nationalism, supremacism, imperialism, communism and religious fanaticism never passed any segment of history without making bloodbath. Ethnic cleansing, genocidal massacre, wars of occupation, regional wars, domestic wars and the World Wars indeed owe to these ideologies. Therefore, wherever these ideologies show their tide, one can be sure that some worst genocide is looming. In India, such a war has already been started since its inception; and it is against the Muslims with the embedded Hindutva fascism in its making.

War has its distinctive and defining markers; it brings gang rapes, genocidal killings, arsons, occupations, deprivation of human rights and mass-scale torture in the lives of the stipulated enemies. The Indian Muslims pass every day and every night amidst such war-crimes. The ongoing war against the Muslims doesn’t run in the territorial frontiers; rather in every Muslim enclaves. Any doubt on deadliness of a killer bug only brings more deaths. Similarly, doubt on dreadfulness of the toxic ideologies like Hindutva fascism, only exacerbate the genocide. Fascism has already shown its true face in Europe. The Muslims in India are now facing the same fate. The Hindutva fascists formed the world’s largest NGO called Rastriya Shevok Sangha (RSS) not to share goodwill with the minority compatriots; but to impart ideological militancy among its members. It was created with the sole objective to make India a Hindu state. (Andersen, Walter; Damla, Shridhar, 1987). When M.S Golwalker became the RSS President in 1940, he set it a goal not to fight against the British. (M.S Golwalker, 1974). During the British raj, the aim was to gain strength and to make RSS war-ready to fight the Muslims.

From day one of its inception in 1925, RSS was focussed on mobilising and strengthening the Hindutva recruits to fight against the Muslims. In 1927, within two years of its creation, the RSS launched its first Muslim cleansing operation in its birth place in Nagpur in Maharashtra. Its militants launched an organised attack against the local Muslims and the campaign went on for 3 days and forced the Muslims to leave the city. The creation of Pakistan in 1947 infuriated the RSS cadres; as if they have cut into pieces their mother India. Now they take the fight against the captivated Indian Muslims. They consider every Indian Muslim a traitor cum termite and a Pakistani inside. (Ashish Nandi, 2002). For its terrorist activities, the RSS was banned 4 times: in 1947, 1948, 1975-77 and 1992.  During British raj, it was banned for its communal terrorism by the provincial government of Punjab in 1947. In 1948, it was banned for killing Gandhi. In 1992, it had banned for destroying the historic Babri Mosque. Since Norendra Modi -a lifelong member of RSS, became the Prime Minister, everything changed. The RSS is no more alone in its mission. Along with this non-state fascist outfit, the whole state apparatus, the media, the police and the army are now working hand in hand to attain the Hindutva objective.

 

The cross-party epidemic

War is fought not only in the battle fields; but also fought on ideological, cultural and economic premises. Hindutva literature tells about such an inclusive war against the Muslims. All RSS compounds all over India indeed work as mini cantonment to train fighters for such a war. In fact, such a war has already been imposed on all the sectors of the Muslim life in India. They want not only the full surrender of the Muslims, but also the full decimation, demoralisation and de-Islamisation of the Muslims. For that, they have even deployed violent criminals as fighters to lynch, rape, torture and kill Muslims even on local streets and domestic premises. Thus, the Hindutva war has entered into the Muslim homes and impacted every aspects of the Muslim lives.

Malaria in India doesn’t differ from malaria in Europe; the same is true for an ideological disease. Therefore, whatever the German fascists did against the Jews in Europe, the Hindutva fascists are doing the same against the Indian Muslims. Like a virus, a toxic ideology too, never stays confined within the premise of a single political, religious or terrorist outfit. It shows a cross-party, cross-country and cross-border epidemic. India is a classic example. Therefore, its Hindutva epidemic has overwhelmed not only its culture, politics, media and education; but also the whole spectrum of life. Hence, the anti-Muslim hatred in Indian politics is not the monopoly of the RSS-BJP axis, the parties like the Indian National Congress and many others have also been infected with the same toxicity. Following examples may help understand the gravity of the issue.

The spell of the Hindutva venom on the Congress politics was fully exposed during the election campaign of 1989. To appease the Hindu voters, Rajiv Gandhi –the Congress Party’s sitting Prime Minister attempted to snatch the Hindutva mantra from RSS-BJP family by outplaying the issue. For that, he borrowed the Hindutva strategy of L.K. Advani –the BJP leader. He started his campaign from the district of Faizabad –known for its historic Babri Mosque. Dispelling the previous secular stand of the Congress, Rajiv Gandhi took the banner of Hindutva agenda in his own hand. He promised to inaugurate Rama Rajya –the rule and the kingdom of Rama, in India. (Pradeep Nayak, 1993). It was a clear departure from the declared political ideology of the Congress. He even opened the door of the Babri Mosque for the Hindu worshippers –which was strategically avoided by every Congress and non-Congress government in the past. But Rajiv Gandhi displayed his sheer lack of political wisdom and foresightedness. He gave preference to getting more votes over esteemed values, justice and respect for minority rights. Such siding with the Hindu majority and robust Hindutva radicalization of the Congress by Prime Minister Rajiv Gandhi prompted the Muslims to quickly leave the Congress. However, in the election, his trick to amass Hindu votes didn’t work. He failed to defeat the old vanguards of the Hindutva like BJP. As a result of losing the Muslim votes, the Congress ceased to exist anymore as an electable contender of power in Indian national politics. It could only show up as insignificant regional party in some smaller states.  

However, Rajiv Gandhi is not the only Congress leader to embrace the Hindutva ideology. It indeed runs through the veins of many of the prominent Hindu leaders. Even, Mr. Nehru -the first Prime Minister of independent India didn’t prove different from any other Hindutva communal leader. Only a thief can embrace a thief. Likewise, only a communal leader can embrace another communal leader. So, Nehru showed his Hindutva color by embracing Mr. Samya Prasad Mukherjee as a member of his first post-independence cabinet. Mr. Mukherjee was known as one of the most original gurus of Hindutva radicalization of Indian politics. He was the former President of Hindu Mahashava and the founder of Jana Sangha –the mother organizations of today’s BJP. Embracing him in the cabinet tells a lot; it in fact means embracing his ideology.

Mr. Narasima Rao -another Congress Prime Minister of India, also showed a very high level of anti-Muslim venom in his psyche. He joined politics as an armed terrorist against the Muslim rule in Hyderabad. (K.S. Komireddi, 2019). While he was the Prime Minister, he allowed the destruction of Babri Mosque by his premeditated malign inaction. As a Prime Minister, he had the full power to stop the day-long crime that was being committed in broad day light. But he preferred to stay silent. For a man in power, such deliberate silence only proves complicity in the crime. Another anti-Muslim Hindutva radical in the Congress and in the highest echelon of India’s power structure was Mr. Pronab Mukherjee. He was the former President of India. He visited Nagpur to pay his deep homage to the RSS founder Mr. Hedgewar in 2018. The issue didn’t stop at his homage; Mr. Mukherjee went further. He exulted the RSS founder a “great son of Mother India” in the visitor’s book. Only a man with full endorsement Mr. Hedgewar’s ideology could write such a high eulogy. On behalf of the RSS, it was acknowledged that after the visit of Mr. Pronab Mukherjee, the membership of RSS went high.

Mr. Hedgewar’s ideology and his political objective were never hidden. Mr. Pronab Mukherjee must be knowing that. Mr. Hedgewar proclaimed that India was a land only of the Hindus and consistently loathed the Muslims. He could never swallow the Muslims’ rule and their existence in India. He considered Muslims’ rule in India as a disgrace for the Hindus. His obsession to take the revenge from the Muslims prompted him to form the RSS. His successor, Golwalkar, was an admirer of Hitler and his policies towards the Jews. He even wrote that Nazi Germany was a “good lesson for use in Hindusthan to learn and profit by.” In such writings of Mr. Golwalkar, the implied message is very clear. The Germans had the Jews and the Indians have the Muslims. Hitler had nothing to teach Indians on Hindutva. But he had a lot to teach the Hindus how he could spread the supremacist politics of hatred against the minorities like Jews. He could also teach how he mobilised and motivated the Germans to take millions of Jews to the genocidal gas chambers. Mr. Golwalkar was highly impressed by Hitler’s quick success in exterminating the Jews; hence asked his Hindu compatriots to apply the same politics of hatred and the genocidal methodology against the Indian Muslims. Can a man with an iota of morality endorse such a toxic ideology? But Mr. Pronab Mukharjee travelled to Nagpur to pay homage to an icon of such ideology. A Muslim can easily understand how dreadful to live amidst hordes of such indoctrinated people. In a conventional war, fear of death runs only through those who are in the battlefield. But for Muslims, the whole India had turned into a battlefield. Hence all-time fear of death runs through every Muslim man, woman and children.                                                                                                  

In 1954, a Congress MP named Seth Govind Das moved a resolution in the Indian parliament for imposing a total ban on cow slaughter. Mr Vasan Sathe -another leading Hindutva fan in Congress, threatened to resign from the party if the party opposes the installation of a portrait of Mr. Savarkar –the original guru of Hindutva politics in India, in the parliament. (Naqvi, 2019). Moreover, the first post-independence genocidal massacre of the Muslims that took place in Hyderabad in 1948, wasn’t the work of RSS-BJP thugs. It happened under the watch of Congress Prime Minister Jawaharlal Nehru. More than 100 thousands Muslims were killed in that pogrom; and thousands of Muslim women were raped. Even in Jummu –a southern region in united Kashmir, a massive genocide took place while the Congress and its leader Nehru were in the helm of affairs. Prior to Indian occupation in 1947, Jammu had 60 percent Muslim population. But by a planned pogrom in 1948, it was brought down to 30 percent. The genocide was carried out under the direct command of Dogra king Maharaja Hari Singh of Kashmir -as a part of the desperate move in his last days of rule to make Kashmir a Hindu majority state. Prime Minister Nehru not only kept silence on such heinous massacre; rather gave safe sanctuary to Hari Singh in Mumbai.  

 

A mass murderer as a ruler      

Political appointments made by a ruling party always reflect its embedded ideology. Modi played a key role in mobilizing the cadres to destroy Babri mosque. In early October 2001, the Indian Prime Minister Atal Bihari Vajpayee summoned Norendra Modi to his residence and offered him the chief minister’s job of Gujrat. (K.S. Komireddi, 2019). A party like BJP or RSS are always run by a co-operative of leaders with strong ideological and cultural match. This is why a Muslim, a secularist or communist is fully incompatible in BJP or RSS outfits. Mr. Vajpayee is usually projected as moderate in the RSS-BJP camp. But how a moderate man can match with an extremist killer? How can he appoint such a killer as a chief minister? Later on, Modi as a chief minister not only showed his own color, but also revealed Mr. Vajpayee’s color as well.  A leader is rightly known by his close friends and the political decision. Modi’s intention, ideology and motive was not unknown to Mr. Vajpayee. Therefore, his appointment as the chief minister of Gujrat tells a lot about Mr. Vajpayee’s own ideology and motive.  It indeed exposed Mr. Vajpayee’s own Hindutva indoctrination.

Within 4 months of the appointment as the chief minister of Gujrat, Modi showed his real color.  In 2002, a train carrying Hindu extremists returning from the site of demolished Babri mosque got fire. Fifty-eight people burned to death. Mr. Norendra Modi didn’t wait for the enquiry, rather grab it as a great opportunity to do what he wanted to do. He instantly called it the work of the Islamic extremists. Modi’s announcement was enough to incite genocidal massacre against the Muslims in Gujrat. In one Muslim neighborhood, a mob of about five-thousands Hindus made their way through a slum and hacked ninety-seven Muslims to death and a mosque was blown up with liquefied petroleum. Across the road from the scene of carnage, stood a reserve police quarters. But no one from there lifted a finger. (Human Rights Watch, 2002). Thus, as a chief minister, Modi showed his own complicity in the crime. He need not kill or rape anybody himself; but his robust inaction worked as huge encouragement for the killers, the rapists and the arsonists to commit such crimes in thousands.

In an anti-Muslim pogrom, a Muslim of any rank doesn’t make any difference to be the worst victim. Former MP Ehsan Jafri was a very prominent Muslim leader of Gujarat. He had close acquaintance with Sonia Gandhi –the leader of Congress and personally known to Mr. Vajpayee -the sitting Prime Minister. Despite all such acquaintance, he was brutally tortured and slaughtered. Mr. Jafri was sheltering about 250 helpless Muslims in his residence. He spent hours making desperate calls to Modi’s office, but received no help. Modi turned deaf. At the end he urged the attackers, “Whatever you want do with me, do it; but please don’t kill those who have taken shelter in my house.” But his appeal felt on deaf ears. Mr. Jafri was dragged out of his house by the Hindu mob, tortured with all possible cruelty and sliced open with swords. At the end, he was burnt alive. Sixty-nine people seeking refuge inside Jafri’s house were killed in broad daylight over seven hours. In a civilized country, the police usually reach at the crime scene within five to ten minutes. But during the long period of seven hours, the state police didn’t bother to show up in the scene to stop this preventable massacre. (Vinod Jose, 2012).

Under Modi’s supervision, more than three thousand Muslims (in some estimate it is more than five thousands) were butchered, thousands of women were raped and more than hundred thousand Muslims were made homeless. Only a deliberate and premeditated inaction can justify such a crime. After such a criminal inaction, how can Modi deny his complicity in the genocidal massacre? But still, he didn’t lose the job. Not a single police officer was sacked or punished for such a criminal negligence. It is noteworthy that Prime Minister Vajpayee and the Home Minister Mr. Advani –god fathers of Mr. Modi, didn’t express any displeasure in public on such carnage. Instead, whatever carnage they could procure from this protégée, made them happy to hold the ladder at his footsteps to help him climb up to the Prime Ministerial post.

 

Modi: a psychopath

A man of morality usually resigns from his ministerial post for failing to prevent even a railway accident. But Mr. Modi never showed an iota repentance or remorse on heinous massacre of thousands of defenseless people in Gujrat, let alone resigning from the post. Rather, while responding to a reporter on his failure, he only lamented on the failure to control the media. As if, the genocidal pogrom against the Muslims itself wasn’t any crime, rather a big success! He blamed the unfettered media for giving publicity to that crime. (K.S. Komireddi, 2019). He would have been very happy if this carnage had gone unnoticed. Ashish Nandi –a distinguished social theorist and a clinical psychologist had an opportunity to take interview from Modi. Mr. Nandi gives a diagnosis on Modi’s psychiatric ill health based on some explicit and pathognomonic symptoms. Mr. Nandi wrote, “I still remember the cool, measured tone in which he (Mr. Modi) elaborated a theory of cosmic conspiracy against India that painted every Muslim as a suspected traitor and potential terrorist”. From the interview Nandi emerged ‘shaken’. As if, “he has met a textbook case of a fascist and prospective killer and perhaps even a future mass murderer.”–(Ashish Nandi, 2002).

Modi’s role, through commission and deliberate omission, in anti-Muslim pogrom in Gujrat in 2002, indeed gives enough evidences to prove the accuracy of Nandi’s diagnosis. Modi ’-as the chief minister of Gujrat, has the necessary power, police forces and other security apparatus under his command to quickly control the carnage. When the people are being killed, the women are being raped and the houses are being blazed, the government must show its quick and decisive action. This is indeed the norm of civilized governance. In such a critical situation, the government’s inaction for few moments means more deaths, more rapes and more arson. A single command of the chief minister was enough to bring all the security forces to the crime scenes and stop the genocide. But Mr. Modi preferred to stay silent. His silence worked as an implied message for the killers, the rapists and the arsonists. They took it as a full license to continue their crimes for weeks. Only a complicit criminal chief minister of a state can show such a role at a time when the anti-Muslim pogrom was going with the full swing. Because of his role, thousands of Muslims were killed, thousands of Muslim women were raped and more than hundred thousand people were made homeless destitute. All these crimes were done with a full jubilation on the street by the Hindutva forces. It is difficult to disbelieve that the sadistic Modi will not be celebrating his own contribution in the carnage in private.   

 

The genocidal war

Now the same Modi is the Prime Minister of India. When such a psychopathic Muslim-hater becomes the Prime Minister of a country with 200 million Muslims, the country is bound to enter into a bloodbath. A genocidal war then enters into its cities, villages, streets, mosques, markets and households to kill the so-called enemies. Modi’s home minister Mr. Amit Shah called the Muslims as termite. How can Mr. Modi, Mr. Shah and the alike sleep in night with 200 million termite in their midst? Such sleeplessness will surely make them more delusive and mad. So, Mr. Ashish Nandi’s diagnosis stands accurate not only for Mr. Modi, but also for thousands of his Hindutva comrades. Because of such madness, they enjoy cow urine as holy drink; but can’t drink water from the fellow humans of so-called lower caste.

India stands as a textbook case of a war-infested country. India doesn’t have a war on its border against any foreign power. But it has deployed 800 hundred thousand soldiers to fight a war against an unarmed civilian population within its own border. It is unprecedented in human history. India has made a small valley of Kashmir the most militarized area in the world. Afghanistan is at least ten times bigger than Kashmir. But the USA never deployed more than 150 thousands soldiers in Afghanistan. Whereas, the USA has to fight a terrible war against the war-hardened and death defying mujahids. Even the Soviet troops in Afghanistan was never that high either. The same is true for the USA army deployment in Iraq. Kashmir has a total population of about 9 million. In 1971, East Pakistan had 75 million population. In 1971, the Pakistan Army had to fight a war in its eastern province against half a million strong Indian Army, Navy and Air Force and the India-trained Bengali insurgents. But in East Pakistan, the Pakistan Army didn’t have even one-fifteenth portion of the Indian soldiers that are now deployed in Kashmir! It beggars belief! About the army deployment in East Pakistan, Lt. General A.A.K. Niazi –the Commander of Pakistan Army’s Eastern Command in 1971 wrote: “The total fighting strength available to me was forty-five thousand -34,000 from the army, plus 11,000 from CAF (Civil Armed Forces) and West Pakistan civilian police and armed non-combatants.” (A.A.K Niazi, 1998). 

The fascists are always obsessed with the elimination of those who are dissimilar to their faith, race, color and ideology. So, their war strategy is totally different from other countries. They need all-time war in all cities, all villages, all bazars, and all residential enclaves and even in all forests. Because they see enemies (termites) everywhere. Therefore, to sustain the war, they need more soldiers in Kashmir. They also need curfew for an endless period. It is also true that under the occupation of the Hindutva fascists, the Muslims are not the only victims. A relentless war also continues against the Maoists, the Adivasi, the Naga, the Mizo, the Christians, the Sikhs and many others. And, every war has its huge collateral costs, deaths and damages. Therefore, with such warmongering madness, these Hindutva supremacists are killing their own people. They are destroying their own environment and economy. If 800 thousands soldiers stay in Kashmir for another ten years and another 400 thousands in north-east India and in other parts, the Indian economy will collapse automatically. Then, Pakistan or any proscribed enemy will seldom need to engage in any combat with India.

So India stands as the worst enemy of its own people. Along with the unending internal war, worshipping and protecting cows are the two other most important political agendas of the Hindutva leaders. Billions of dollars are being spent to build world’s largest sculpture to glorify their Hindutva icons –as one built in Gujrat for Sarder Ballav Bhai Patel. As a result, they do not have enough money to look after their own poverty-stricken people. Therefore, India possesses not only the largest number of poor people on earth, but also gets the largest number of the suicidal deaths.

 

The culture of war-crimes

The Hindutva ideology has given birth to a strong culture of war crimes. Hence, India doesn’t need a full-fledged war on its border to have the wartime crimes of genocide, rape and arson; the Indian Muslim men, women and children have already become the victim of such crimes even without a war. Inner belief or ideology become visible through morality, culture and politics. Hence the people of same ideology show the similar morality, culture and politics almost everywhere. Therefore, the former Prime Minister Atal Bihari Vajpayee –the so-called moderate face of RSS-BJP family, didn’t show any discernible difference from Mr. Modi. Like Modi, he too, showed moral inability to condemn the bloodbath in Gujrat. While Gujrat was experiencing its most awful carnage in the history, Mr. Vajpayee was the Prime Minister of a coalition of about two dozen political parties. He was under tremendous pressure by those parties to sack Modi from the chief minister post. Bur he didn’t listen to them. (K.S. Komireddi, 2019). Instead of sacking or rebuking Modi, he lashed out at the Muslim victims. While addressing a meeting in Goa, he told that the Muslims “are not interested in living in peace”. (Vinod Jose, 2012). What did he mean by “living in peace”? Probably, Mr. Vajpayee had a different connotation of “living in peace” for the Muslims. Is it living in graveyards with absolute peace? Or, did he want a very peaceful submission of the Muslims to rape, arson and massacre?

In a corruptive cultural cum educational milieu, even a man with the highest university degree turns out to be the worst killer, rapist or arsonist. In such a situation, ideological sermons, political lectures, class room teachings and media reports work as powerful tools to kill people’s morality, humanity and ethical values. Such corruptive and corrosive endeavours –both by the Hindutva government and the NGOs, have badly impacted India. As a result, the moral ill health or death is huge. Because of that, even acts of raping, lynching, killing and even throwing children into fire have become an acceptable ethical, political or cultural norm in the society. Therefore, those who are complicit in such crimes get elected by a huge margin to the parliament. For the same reason, the former Prime Minister Atal Bihari Vajpayee and many top ranking Indian political leaders and intellectuals failed to condemn rape, arson and genocide committed against the Muslims in Gujrat in 2002. Because of the same moral death, most of the political parties in India could endorse not only the annexation of Kashmir but also support the Army’s barbaric atrocities there.

War brings war crimes. And fascism creates a permissive culture for the war crimes. Because of that, the German fascists could procure the necessary manpower to run their politics, administration, genocidal war, gas chambers and anti-Jews pogrom. In India, the Hindutva fascists have also been very successful to create such a conducive culture to run their Hindutva war and the anti-Muslim genocide. This is why, they could easily find a complicit media, Army, intellectuals to support endless curfew and war crimes in Kashmir. Under the fascists’ rule, the whole Germany turned out to be a warzone for a Jew. The same has happened for a Muslim in India, too: the war has engulfed the Muslim life everywhere.

Visibly, the psyche of the ruling Hindutva elite is now inundated with an intense form of immorality, inhumanity and savagery. The Muslims now face a culture of deaths, rapes, tortures, destruction and other horrors of collateral war crimes. In such an awful situation, peaceful survival for the Indian Muslims stands impossible. Establishing the rule of law and punishing the worst criminals like killers, rapists and arsonists no more exists as the priority of the government. Neither the police, nor the judiciary shows any interest in such things. As if, the Muslims have are no entitlement for these! So, the killers could kill more than three to five thousands Muslims and rape thousands in broad day light in Gujrat in 2002 without an iota of prohibition. The criminals didn’t face any police arrest or judicial prosecution. The same happened in Nellie in Assam, in 1983. There, the killers could kill about 10 thousands Muslims in 14 villages, but not a single killer was prosecuted and punished. Prime Minister Rajiv Gandhi made a pact with the political patrons of the killers and pardoned the perpetrators. The police, the law and the judiciary were kept defunct by the government only to appease the killers. Thus, the Hindu supremacist thugs are given the full licence to do all heinous crimes on the Muslims. In this regard, the Congress seldom makes any discernible difference from the BJP. Hitler gave similar impunity to the German fascists to kill Jews. So it appears, the Hindu supremacists have taken lessons from Hitler –as was advised by their guru Mr. Golwalkar. 

 

Kashmir is now Gujrat

The anti-Muslim war has attained a new intensity in Kashmir. What happened in Gujrat under chief minister Modi’s direct watch in 2002, is now happening under Prime Minister Modi’s watch in Kashmir. But there is a difference. In Gujrat, the carnage was carried out by the Hindutva thugs, the police and the provincial administration. In Kashmir, it is being carried out by the more powerful Indian Army and the central government. In war zone, the common people are not allowed to come to the streets. The streets are usually taken over by the Army. Eight hundred thousand soldiers of the Indian Army are doing the same in Kashmir by enforcing more than 60 days’ curfew in Kashmir. Such an act of barbarity has never happened against any civilian people in the whole human history. As a result, the parents can’t go to the shops for buying milk. The kidney dialysis patients can’t go to the hospital for dialysis. The diabetic patients can’t go to the pharmacy for insulin. The injured patients can’t be taken to the hospital emergencies. The people are strictly prohibited to do any work, run any business, earn any money or buy any food. Even in wartime, people are not deprived of such indispensable liberties. Even in prison, people are not subjugated with such barbarity.

Mr. Modi and his Hindutva cronies in media, administration and politics call such subjugation of the Kashmiri people by force as progression of peace. They call it a route to economic progress. And they deliberately hide the fact that along with 800,000 soldiers, the imposed curfew has become a powerful tool to torment the Kashmiri civilians. In reality, the truth is more awful. What the Hindutva killers and rapists commit during anti-Muslim riots in other parts of India, has become every day’s riot in Kashmir. The whole Kashmir has been turned to genocidal Gujrat. The killing, rape and arson in Gujrat have taken a pause; but such pause doesn’t exist in Kashmir. The barbarity is going relentlessly. Therefore, the Muslim men and women that are killed or raped in Gujrat, Kashmir has at least fifty times more than that. 

 

The war of terror

War starts and survives on vitriolic hatred against the enemies. For the Hindutva radicals of India, the perceived enemies are the Muslims. India has three wars against Pakistan. Every war against Pakistan was in fact anti-Muslim war. The war against Pakistan has now a pause; but it continues against the Muslims inside India. War brings not only deaths, destructions and pain, but also a weaponised propaganda against the perceived enemies. India is inundated with such propaganda and war crimes. So, a war of terror has come to the Muslims at their doorsteps, streets and businesses. On 28 September 2015, Mohammad Akhlaq, a fifty-year old farm worker, was dragged out of his house in the town of Dadri, an hour drive from Delhi, by a violent crowd of young Hindu men incensed by the rumor that he had slaughtered a calf. They killed Mr. Akhlaq by striking him repeatedly by bricks. They beat his son to within an inch of his life, assaulted his elderly mother, and attempted to molest his younger daughter. (Indian Express, 26 December 2015).

Like the party thugs, the Hindutva leaders proved no less heartless. They displayed their moral inability to condemn such a heinous crime. Instead, the top-tier leader of the BJP issued posthumous condemnation of Mr. Akhlaq for wounding the feelings of Hindu by eating beef. He also threatened that the Hindus should not be expected to remain silent when a cow is killed. So, the implied message for a Muslim is very clear: the Hindus have every right to break their silence by killing Muslims whenever they believe that a cow has been killed. They need not wait for a probe to establish the allegation –as happened with Mr. Akhlaq. One BJP MP Mr Shakhi Maharaj announced that he is ready to kill and get killed for mother (cow).” (News18, 6 October 2015). Similar statement came from the home minister of Gujrat; he equaled killing of cow or cow progeny with the killing of a human. (Human Rights Watch, 2019)

But the Hindutva leaders conveniently forget the other side of the reality. India is the number one exporter of beef in the world. As a result, millions of Indian cows –worshipped as goddess, turn into kebab worldwide. Since the agenda is to bring foreign currency, mass slaughtering of their mother goddess becomes lawful and acceptable business activity. Using hides of these mothers to make shoes also becomes the part of their economics. Such acts don’t touch the religious or emotional fibers of the people like Mr. Shakhi Maharaj. Nor did Mr. Maharaj get killed for saving mother cow from becoming kebab. But while politically needed to target the Muslims for torturing, raping and killing, the narratives on cows take a 180 degree shift. Then, protecting cow becomes a religious duty of a Hindu and killing a Muslim for eating beef becomes a holy act. In such politicized context, any police arrest or probe against the perpetrators of crimes turn hugely unwelcome. This is why, the BJP leaders could even intimidate the police to leave the perpetrators of murders alone. They could also tell that the Hindus are not in a mood to tolerate any harassment by the investigating police authorities. Then, the police enquiry and judicial probe –parts of the civilized norms, are labelled as harassment! One of the legislator even blamed the family for the death of Mr. Akhlaq. The crime of the family was none else but eating beef. (Indian Express, 2 October 2015).

The weaponized propaganda has other horrendous dimensions. It is aimed at putting tag of Islamic terrorism on the Muslims and justify brutal police torture and long detention against them. Here is an example. In the summer of 2007, in Mecca Masjid in Hyderabad, an improvised explosive device went off in the ablution area and killed 11 people. About ten thousand people were praying in the mosque at the time of the incidence. The authority instantly blamed Islamic extremists coming from Bangladesh and Pakistan. They were also linked with a Pakistani outfit. Immediately after the incident, 200 Muslims were arrested. After one year of nerve-wracking detention, 21 people were charged for prosecution. But all these initiatives were proved fake. The truth came to the surface only when a repentant Hindu priest -arrested by India’s National Investigation Agency, confessed that the explosion in Mecca Masjid was one of the many similar staged explosions by a militant Hindu group. He also told that the group is intimately connected with RSS -the parent body of BJP. The priest also acknowledged the involvement an of an Indian Army officer. (Swami’s confession, Frontline, Vol 28, 3 Jan 29 Feb 2011). But in most of the cases, none of the Hindu priests come forward to tell the truth, hence the anti-Muslim barbarity continues without any pause. The Hindutva war thus continues. 06/10/2019.

Reference

  1. J.Johnson (2010).A Dictionary of Hinduism. Oxford University Press. p. 142. ISBN 978-0-19-861026-7.
  2. Jaffrelot, Christophe Hindu Nationalism: A Reader. Princeton University Press. pp. 14–15, 86–93.
  3. Jaffrelot, Christophe (1996). The Hindu Nationalist Movement and Indian Politics, Hurst & Co.
  4. Savarkar, Vinayak (1923). Hindutva: Who is a Hindu?
  5. Andersen, Walter; Damla, Shridhar, 1987. The Brotherhood in Saffron: Rashtriya Sawayamsevak Sangh and Hindu Revivalism, Delhi, Vistaar Publications, 1987.
  6. S Golwalker, 1974. Shri Guruji Samgra Darshan, Volume 4, Bharatiya Vichar Sadhna.
  7. Basu, Tapan & Sarkar, Tanika; 1993. Khaki Shorts and Saffron Flags: A Critique of the Hindu Right, Orient Longman.
  8. Chitkara, M.G; 2004. Rashtriya Sawayamsevak Sangh; National Upsurge, APH Publishing.
  9. Human Rights Watch, 2002. “We Have No Orders To Save You: State Participation and Complicity in Communal Violence in Gujrat”, Volume 14, No. 3C, 2002. pp. 15-17.  
  10. Vinod Jose, 2012. The Emperor Uncrowned, Carawan, 1 March 2012.
  11. Ashish Nandi, 2002. Obituary of a Culture, Seminar, May, 2002.
  12. McKean, Lise 1996, Divine Enterprise: Gurus and the Hindu Nationalist Movement, University of Chicago Press.
  13. Chetan Bhatt, 2001. Hindu nationalism: origins, ideologies and modern myths. Berg. pp. 77 (context: Chapter 4).ISBN 978-1-85973-343-1.
  14. S. Komireddi, 2019, Malevolent Republic –A Short History of the New India, C. Hurst & Co. 41 Great Russel Street, London, WC1B 3PL.
  15. Human Rights Watch, 2019. Violent Cow Protection in India, 18 February, 2019, hrw.org/report/2019/02/18/violent-cow-protection-india/vigilante-groups-attack-minorities#
  16. A.K. Niazi, 1998. The betrayal of East Pakistan, Manohar Publishers & Distributors, 26 Ansari Road, Daryaganj, New Delhi 110002
  17. Only 4 percent of the Indian Muslims are graduates and only 5 percent have government employment. (Social, Economic and Educational Status of the Muslim Community of India: 2006uuuuu).
  18. “Social, Economic and Educational Status of the Muslim Community of India”, Prime Minister’s High Level Committee, November 2006:www.mhrd.gov.in/sites/upload_files/mhrd/files/Sachar_comm.pdf.
  19. “Swami’s confession”, Frontline, Vol 28, 3 Jan 29 Feb 2011.
  20. Ross Colvin and Satarupa Bhattachariya, “The remaking of Narendra Modi”, Reuters, 12 July 2013:htps://in.reuters.com/article/ india-modi-gujarat-bjp/special-report-the-remaking-of-narendra-modi-idINDEE96BOOY20130712.
  21. Javed Naqvi, Sept 17, 2019, Daily Dawn, Karachi, Pakistan.
  22. Stanley, Jason(2018). How Fascism Works: The Politics of Us and Them. New York: Random House. pp.14-15. 
  23. Pradeep Nayak, 1993. The Politics of the Ayodhya Dispute, Commonwealth Publishers, New Delhi, p.120.