হজ্জের শ্রেষ্ঠত্ব ও মুসলিমের ব্যর্থতা

ফিরোজ মাহবুব কামাল

 

হজ্জ কেন শ্রেষ্ঠ ইবাদত?  

ইসলামে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো জিহাদ; এ জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো শাহাদত। জিহাদ ও শাহাদতের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি তাঁর জীবনকে আল্লাহর পথে কুরবানী করে। শাহাদত ব্যক্তিকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। তাই জিহাদের শ্রেষ্ঠত্ব। এবং জিহাদের পরই হজ্জ শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আরাফার দোয়া জীবনের পাপের মোচন ঘটায়। কিন্তু হজ্জের কেন এ মর্যাদা? হজ্জ কেন অনন্য? বিষয়টি ভাববার বিষয়। ইবাদতের অর্থই যিকর তথা স্মরণ। নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত, তাসবিহ তাহলিলের ন্যায় প্রতিটি ইবাদতের মূল লক্ষ্য এই যিকর। এ দিক দিয়ে হজ্জ সবচেয়ে দীর্ঘ যিকির। হজ্জের শ্রেষ্ঠ মর্যাদার কারণ হলো এই দীর্ঘ যিকির। এ যিকির শুরু হয় হজ্জের প্রস্তুতি থেকে। যিকির অবিরাম চলতে থাকে দীর্ঘ হজ্জ যাত্রা কালে এবং হ্জ্জ কালে মক্কা, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফায় অবস্থান কালে। এবং যিকির চলে ক্বাবা শরিফের তাওয়াফ কালে,  সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী কালে এবং শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপ কালে। স্মরণ এখানে মহান আল্লাহর কুদরত, নেয়ামত এবং তার পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতার। স্মরণ এখানে রোজ হাশরের বিচার দিনে তাঁর কাছে জবাবদেহীতার।

কোন অনুষ্ঠানই শুধু ধর্মীয় হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠতর হয় না সেসব অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হওয়াতেও তা কল্যাণকর হয় না ভারতে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর গঙ্গাস্নানে হাজির হয় কিন্তু গঙ্গার পানিতে কি চেতনা চরিত্রের ময়লা পরিষ্কার হয়? পবিত্র হয় কি মন? বিপ্লব আসে কি চেতনালোকে চরিত্রে? চারিত্রিক বিপ্লব তো দেহ ধৌত করায় আসে না বিচিত্র বেশধারণ বা দেবদেবী, সাধুসন্নাসী ভগবানের নামে নানারূপ রূপ কথা, লোক কথা বা অলৌলিক কিচ্ছাকাহিনী পাঠেও আসে নাসে জন্য তো চাই এমন এক বিপ্লবী দর্শন যা মানব মনের গভীরে প্রবেশ করে এবং আঘাত হানে বিপ্লব আনে চেতনার মূল ভূমিতে এবং বিলুপ্ত করে ধর্ম, সংস্কৃতি ঐতিহ্যের নামে জমে উঠা অশিক্ষা, কুশিক্ষা কুসংস্কারের বিশাল আবর্জনাকে এভাবেই তো পরিশুদ্ধি আসে মানবের চেতনা চরিত্রে তখন বিপ্লব আসে সমাজ রাষ্ট্রজুড়ে এভাবেই তো উচ্চতর সভ্যতা নির্মিত হয় তবে সে বিপ্লবের জন্য শুধু বিপ্লবী দর্শনই জরুরি নয়, অপরিহার্য হলো এমন কিছু বিপ্লবী মহানায়ক যিনি শুধু কথা দিয়ে নয়, নিজের কর্ম, চরিত্র ত্যাগের মধ্য দিয়েও মানুষকে পথ দেখায় এভাবেই তো সমাজে অনুকরণীয় আদর্শ গড়ে উঠে মানব ইতিহাসের সে আদর্শ মহানায়কেরা হলেন নবী রাসূল

মানবের কল্যাণে মহান আল্লাহতায়ালা শুধু আসমানী কিতাবই নাযিল করেননি, সমাজের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নবী রূপে নিযুক্ত করেছেন ইসলাম শুধু মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাসকেই অনিবার্য করে না, বরং অনিবার্য করে নবী রাসূলদের বিশ্বাস করা তাদেরকে মেনে চলাকেও নবীরাসূলদের মাধ্যমে মানুষকে পথ দেখানো এবং সমাজ জুড়ে বিপ্লব আনা মহান আল্লাহতায়ালার সূন্নত মানুষের দায়িত্ব হলো মহান আল্লাহর সে মিশনের সাথে একাত্ম হওয়া কুর’আনে তাই বলা হয়েছে,

هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

অর্থ: “তিনিই সেই মহান আল্লাহ যিনি উম্মিদের মাঝে তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাসূল নিযুক্ত করেছেন যিনি তাদের সামনে পাঠ করে শোনান তাঁর আয়াত এবং তাদের মধ্যে আনেন পরিশুদ্ধি পবিত্রতা, এবং শিক্ষা দেন কিতাব এবং প্রজ্ঞা এবং এর পূর্বে তারা ছিল সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে”–(সুরা জুমু, আয়াত )

মানব জীবনে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বা বিপর্যয়টি খাদ্যাভাবে বা অর্থাভাবে আসে না ভগ্ন স্বাস্থ্যেও নয় সেটি আসে সত্য থেকে বিচ্যুতি তথা পথভ্রষ্টতার কারণে অপর দিকে সত্যকে খুঁজে পাওয়া বিভ্রান্তু থেকে মুক্তির মাঝেই মানবের সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ মানব সভ্যতার সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার তাই উড়োজাহাজ, পারমানবিক বোমা, রবোট বা কম্পিউটার নয়সেটি হলো জীবন জগতের স্রষ্টা নিয়ে সত্যের আবিষ্কার আর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি হলো সে সত্যকে খুঁজে পাওয়া ব্যর্থতাসত্য আবিষ্কারে যারা ব্যর্থ হয় তারা মিথ্যার উপাসকে পরিণত হয়। এবং সত্য আবিষ্কারের সফলতাই ব্যক্তির জীবনে সবচেয়ে বড় পুরষ্কারটি এনে দেয় সেটি হলো, অনন্ত অসীম কালের জন্য জান্নাত আর যারা তাতে ব্যর্থ য়, তারা পায় জাহান্নাম

 

হযরত ইব্রাহীম (আ:) কেন শ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় আদর্শ?

হযরত ইব্রাহীম (আ:)’য়ের কৃতিত্ব, তিনি সমগ্র মানব ইতিহাসে সত্য আবিস্কারে সবচেয়ে সফল শিক্ষণীয় ইতিহাস গড়েছেন অনেকে সত্য দ্বীনের মাঝে জন্ম নিয়েছেন; অনেকের কাছে সত্য দ্বীন মহান রব’য়ের পক্ষ থেকে ফিরেশতা মারফত হাজির হয়েছে। আর হযরত ইব্রাহীম (আ:) সত্যকে নিজ সাধনায় আবিষ্কার করেছেন।  এই একটি মাত্র কারণেই তিনি সমগ্র মানব ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বনি ইসরাইলের নবীদের মত কোন পয়গম্বরের ঘরে তাঁর জন্ম হয়নি বরং তাঁর জন্ম হয়েছিল কট্টোর পৌত্তলিক পিতার ঘরে মূর্তিপূজা ও মূর্তিনির্মাণই ছিল তার পেশা কিন্তু  সে কলুষিত পরিবেশে জন্ম নিয়েও পৌত্তলিকতার স্রোতে তিনি ভেসে যাননি বরং সত্যের আবিস্কারে স্রোতের উজানে ছুটেছেন। নিজের সকল প্রতিভা ও সামর্থ্যকে নিয়োজিত করেছিলেন সত্যে আবিস্কারে জীবনের শুরু থেকেই তাঁর মনে অদম্য আগ্রহ ছিল, কে এই বিশাল বিশ্বজগতের স্রষ্টা -সে সত্যটি জানা? সমগ্র মানব জাতির সামনে তিনি দেখিয়ে দিলেন, সত্যের অন্বেষণ অনুসরণে প্রবল সদ্বিচ্ছা লাগাতর প্রচেষ্টা থাকলে আল্লাহতায়ালার সাহায্যলাভও ঘটে তখন সফলতাও জুটে হযরত ইব্রাহীম (আ:)’য়ের জীবনের সেটিও আরেক শিক্ষা মানুষ তো পুরস্কার পায় তার ইচ্ছা প্রচেষ্টার কারণে সুরা আনকাবুতে তাই মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণা, “আল্লাযীনা জাহাদু ফিনা, লা’নাহদিআন্নাহুম সুবুলানা” অর্থ: যারাই আমার রাস্তায় প্রচেষ্টা করে, আমরা অবশ্যই তাদের পথ দেখাই আমাদের রাস্তার।” হযরত ইব্রাহীম (আ:) মহান আল্লাহতায়ালার বন্ধু হওয়ার সৌভাগ্য পেয়েছেন তো সে মহান নিয়েত প্রচেষ্টার বলেই অথচ সে সামর্থ্য কিছু বিকলঙ্গ ছাড়া প্রতিটি মানব সন্তানকেই তিনি দিয়েছেন। একমাত্র তারাই সফল হয় এবং সত্য পথ পায় যারা সে সামর্থ্যেক সঠিক ভাবে কাজে লাগায়।

মানব জীবনের সত্যিকার শ্রেষ্ঠত্ব হলো সত্য আবিস্কারেমিথ্যার স্রোতে ভাসায় কোান কৃতিত্ব নাই। পশুর ভাবনা ও তাড়না স্রেফ পানাহার নিয়ে, সত্য নিয়ে তার ভাবনা থাকেনা সে স্বভাবটি পশুবৎ মানুষদের ইব্রাহীম (:)’য়ের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেই যে, তিনি বাঁচতে চেয়েছেন মানবিক গুণের পূর্ণতাটি নিয়েস্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ দান হলো ভাবনার সামর্থ্য; আর সেটিকেই তিনি কাজে লাগিয়েছেন সত্যের আবিষ্কারে। এবং যখন তিনি সত্যকে খুঁজে পেলেন, তখন তাঁর জীবনে এলা বিশাল বিপ্লব। শুরু হলো সে সত্যকে নিয়ে বাঁচায় বিরাম যুদ্ধ। সে যুদ্ধের ঘোষণা এসেছে নিচের আয়াতে:

قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ

অর্থ: “ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে চমৎকার আদর্শ। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ছিন্ন হলো সম্পর্ক তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যার এবাদত কর তার সাথে; আমরা তোমাদের মানি না তাদেরশুরু হলো তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা -যত দিন না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো।” –(সুরা মুমতাহানা, আয়া আত ৪)

উপরিউক্ত আয়াতে হযরত ইব্রাহীম (আ:) ও তার অনুসারীদের মুসলিমদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ বলা হয়েছে। মহান রব চান, প্রতিটি মুসলিম তাকে ও তার অনুসারীদের অনুসরণ করুক। উপরের এ আয়াতটিতে তাঁর যে আদর্শকে অনুকরণীয় রূপে তুলে ধরা হয়েছে তা হলো, ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে চিরশত্রুতা ও অবিরাম যুদ্ধ নিয়ে বাঁচার নীতি। ইসলামের বিপক্ষ শক্তির সাথে আপোষের নীতিকে এখানে প্রশ্রয় দেয়া হয়নি। হযরত ইব্রাহীম (আ:) সে আপোষহীনতা নিয়ে একাই এক মিল্লাতে পরিণত হয়েছিলেন। নমরুদের বিরুদ্ধে সত্যের বাণী নিয়ে একাই খাড়া হয়েছিলেন। তাঁর আত্মসমর্পণ ছিল একমাত্র মহার রব‌’য়ের কাছে। মুসলিম শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো আত্মসমর্পণ। “মুসলিম” শব্দটির আবিষ্কারকও তিনি। মহান রব তাকে দিয়েছেন মুসলিমের আদি পিতার মর্যাদা।  

মহান আল্লাহ তায়ালা একজন মুসলিমকে কিরূপে দেখতে চান -তারই দৃশ্যমান রূপ তথা দৃষ্টান্ত হলেন হযরত ইব্রাহীম (আ:)। সত্যের পথে চলায় তিনি ছিলেন আপোষহীন। তিনি তাঁর নিজ জীবনের কুরবানীতে হাজির হয়েছিলেন। নমরুদের বাহিনী যখন জ্বলন্ত আগুনের মাঝে ফেলে তাঁকে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা রে তখনও তিনি বিচলিত হননি। মহান ব্যক্তিটি সেদিন সত্য থেকে সামান্যতম বিচ্যুত হননি যথন নিজের একমাত্র শিশু পুত্র ইসমাঈলের কুরবানীর হুকুম এলো তখনও সে হুকুম পালনে সামান্যতম ইতস্তত করেননি তাঁর সূন্নত, মহান রব’য়ের প্রতিটি হুকুমে লাব্বায়েক বলা। লাব্বায়েক বলার অর্থ, সে হুকুম পালনে লেগে যাওয়া।  মহান আল্লাহ তায়ালা চান, প্রতিটি মুসলিমও তাঁর ন্যায় তাঁর প্রতিটি হুকুমে লাব্বায়েক বলার নীতি নিয়ে বাঁচবে। অথচ এখানেই আজকের মুসলিমদের ব্যর্থতা। মহান রব’য়ের হুকুমে লাব্বায়েক বললে কি বাংলাদেশের সংবিধান থেকে তার সার্বভৌমত্ব বিলুপ্ত হতো? আদালত থেকে বিলুপ্ত হতো কি শরিয়ত? স্কুল কলেজ থেকে কি বিলুপ্ত হতো কুর’আন শিক্ষা? মহান রব’য়ের নির্দেশে লাব্বায়েক বললে কি শরিয়া বিরোধী দুর্বৃত্তদের বিজয়ী করতে নির্বাচনে ভোট দিত? আজ মুসলিম বিশ্বে লাব্বায়েক বলা হয় স্বৈরাচার শাসকদের হুকুমে।      

হযরত ইব্রাহীম (আ:)‌’য়ের অটল ঈমান এবং মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি হুকুমে লাব্বায়েক বলার নীতি এতোই ভাল লেগেছিল যে, মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে তিনি সম্মানিত করেছেন নিজের বন্ধু রূপে গ্রহন করে সমগ্র মানব কুলে তিনিই ঘোষিত হলেন খলিলুল্লাহ তথা আল্লাহর বন্ধু রূপে প্রশংসিত হয়েছে তারাও যারা তাঁর সে মহান আদর্শ কে অনুসরণ করে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণা,

وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِّمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ۗ وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا

 তাঁর অপেক্ষা দীনে কে উত্তম যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং একনিষ্ঠ ভাবে ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করে? এবং আল্লাহ ইব্রাহীমকে নিজের বন্ধু রূপে গ্রহণ করেছেন”- (সুরা নিসা, আয়াত ১২৫)

 

সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতা প্রসঙ্গ

মানব ইতিহাসে প্রতিভাধর ব্যক্তির সংখ্যা কি কম? তাদের হাতে আবিষ্কারের সংখ্যাও কি কম? কুর’আন নাযিলের শত শত বছর আগেও এসব প্রতিভাধরদের হাতে মিশরের পিরামিড, চীনের প্রাচীর ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগিচা নির্মিত হয়েছে ইতিহাসে সেগুলো বিস্ময়কর আবিস্কার রূপে স্বীকৃতিও পেয়েছে কিন্তু মানবপ্রতিভার সে বিনিয়োগ নিয়ে মহান আল্লাহতায়ালা খুশি হননি, কারণ সে প্রতিভাবান মানুষেরা ব্যর্থ হয়েছে সত্যকে খুঁজে পাওয়ার ন্যায় অতি মৌলিক কাজে এটিই মানব জাতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। আজও কি এরূপ প্রতিভাধারিদের ব্যর্থতা কম? বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে তারা নবেল প্রাইজ পেলেও সত্যকে খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা মুর্খ তাদের সে মুর্খতা হাজার হাজার বছর আাগের গুহাবাসীর চেয়ে কি কম? ফলে এসব আধুনিক জাহেলদের জীবনে বেড়েছে সত্যচ্যুতি বিভ্রান্তি

 গুহাবাসী আদিম জাহেলদে ন্যায় আধুনিক জাহিলদের জীবনেও এসেছে তাই আদীম অজ্ঞতা পাপাচার সনাতন মিথ্যা তো আজও বেঁচে আছে মিথ্যার পক্ষে এসব প্রতিভাধারিদের দ্বারা পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক ও সশস্ত্র যুদ্ধের কারণে এসব প্রতিভাবান আবিষ্কারকদের দুস্কৃতির কারণেই বিগত দুটি বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ দিতে হয়েছে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় বড় ক্ষতিগুলো হয়েছে সত্য আবিষ্কারে ব্যর্থতা ভ্রান্ত পথে মেধার বিপুল বিনিয়োগের ফলে তাই সত্য আবিস্কারে হযরত ইব্রাহীমের নানা প্রচেষ্টার কথা পবিত্র কুর’আনে বার বার বর্নিত হলেও এসব প্রতিভাধর আবিষ্কারকদের নিয়ে এক ছত্রও উল্লেখ নাই মহান আল্লাহর প্রিয় বন্ধু এবং মানব ইতিহাসের সে মহান নায়ক হযরত ইব্রাহীম (আ:)’য়ের মহান চরিত্রকে ঘিরেই হজ্জের পুরা অনুষ্ঠান তাই হজ্জের গুরুত্ব শিক্ষাকে বুঝতে হলে হযরত ইব্রাহীম (:)’য়ের দর্শন কর্মকে অবশ্যই বুঝতে হবে তাঁর ন্যায় এক মহান সত্যআবিষ্কারককে মধ্য মঞ্চে রেখে মহান আল্লাহতায়ালা সত্যপ্রেমিক মানুষদেরকে বহু কিছুই শেখাতে চান সে শিক্ষাটি মূলত মহান আল্লাহর প্রতিটি হুকুমের কাছে আজীবন আত্মসমর্পণের সেটিই হযরত ইব্রাহীম (আ:)’র সূন্নত হজ্জের এখানেই অনন্যতা হজ্জ জন্যই মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় অনুষ্ঠান  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *