সকল ব্যর্থতার শুরু বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে ব্যর্থতা থেকে
- Posted by Dr Firoz Mahboob Kamal
- Posted on July 28, 2026
- Bangla Articles, Bangla বাংলা, মুসলিম জাহান
- No Comments.
ফিরোজ মাহবুব কামাল
ব্যর্থতা বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে
রাজনৈতিক অঙ্গণে বিজয়ী হতে হলে সর্বপ্রথম বিজয়ী হতে হয় জনগণের চেতনার ভূমিতে। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদের শুরুটিও সব সময় বুদ্ধিবৃত্তির ময়দান থেকে। মুমিনের জীবনে সেটিই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ। মক্কার কাফিরদের বিরুদ্ধে নবীজী (সা:)’য়ের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল নবুয়ত প্রাপ্তির ১৫ বছর পর, সেটি বদরের প্রাঙ্গণে ৬২৪ খৃষ্টাব্দে। কিন্তু তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের শুরুটি নবুয়তপ্রাপ্তির প্রথম থেকেই। সে লড়াইটি ছিল জনগণের চেতনার ভূমিকে জাহিলিয়াতের দখলদারি থেকে মুক্ত করার। জনগণের চেতনার ভূমি শয়তানী শক্তিবর্গ ও তাদের ধ্যান ধারণার হাতে অধিকৃত রেখে রাজনীতি, শিক্ষা সংস্কৃতি সশস্ত্র যুদ্ধসহ কোন ময়দানেই বিজয়ের সম্ভাবনা নাই। বুদ্ধিবৃত্তির এ জিহাদে কুর’আনী জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামকে বিজয়ী করার এ যুদ্ধে কুর’আনই একমাত্র মোক্ষম অস্ত্র। যেদেশে জনগণের মাঝে কুর’আনী জ্ঞানার্জনে আগ্রহ নাই এবং তৃণমূল পর্যায়ে কুর’আনী জ্ঞানদানের তেমন কোন কার্যকর আয়োজনও নাই, বুঝতে হবে সে দেশে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের আদৌ কোন সম্ভাবনাই নাই। সেরূপ একটি রাষ্ট্রীয় বিপ্লব আশা করাটি হবে বীজ রোপণ না করে ফসল আশা করার মত। কিছু আলেম আল্লামা ও মোল্লা মৌলভীর কুর’আন পাঠে এ বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব আসে। সেজন্য কুর’আনী জ্ঞানের বিস্তার চাই জনগণের স্তরে। বুদ্ধিবৃত্তির অঙ্গণের কাজটি না হওয়াতে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের পাকিস্তান প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। আলজিরিয়ার জিহাদও ব্যর্থ হয়েছে। এবং ব্যর্থ হতে যাচ্ছে আফগানিস্তানের জিহাদও।
বাংলাদেশের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামী দলের সংখ্যা অনেক। কিন্তু তাদের সাফল্যই নাই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে। তাদের ব্যর্থতার মূল কারণ, তারা ব্যর্থ হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব আনতে। তারা নাই বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে; তাদের হাতে নাই সে যুদ্ধের মূল অস্ত্র পবিত্র কুর’আন। এসব ইসলামী দলের নেতা-কর্মীদের আগ্রহ নাই কুর’আন বুঝায়; এসব দলে এমন মানুষের সংখ্যা অতি নগণ্য যারা কুর’আনের ভাষায় কুর’আন বুঝার সামর্থ্য রাখে। এমন অক্ষমতা নিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখাও অসম্ভব; কারণ সেরূপ একটি স্বপ্নটি দেখতেও কুর’আন লব্ধ জ্ঞান লাগে। স্বপ্ন দেখায় সে ব্যর্থতা দেখা যায় এ দলগুলির রাজনৈতিক কর্মসূচীর দিকে নজর দিলে। বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলি এখন আর ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কথা মুখে আনে না; আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসনের কথাও তারা বলে না। তারা বরং ব্যস্ত সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে। পবিত্র কুর’আন থেকে জ্ঞানদাান তাদের প্রায়োরিটি নয়; আগ্রহ নাই ইসলামী বই লেখায় ও বই পড়ায়। যেন অস্ত্র ছাড়াই তারা যুদ্ধ জয় করবে। তাদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থদান, বস্ত্রদান গোশতো দান। এগুলি অবশ্যই নেক আমল। তবে সবচেয়ে বড় নেক আমল হলো মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো। খাদ্যের অভাবে মানুষ জাহন্নামে যাবে না; কিন্তু জাহান্নামে যাবে ওহীর জ্ঞানের অভাবে। তাই নবী-রাসূলগণ অর্থদান, বস্ত্রদান গোশতো দানের জন্য পৃথিবীতে আসেনি। তাদের লক্ষ্য ছিল জনগণকে জান্নাতের পথ দেখানো। এজেন্ডা ছিল, তাদের চেতনার ভূমি থেকে জাহিলিয়াত নির্মূল; সে কাজে তাদের অস্ত্র ছিল ওহীর জ্ঞান।
কাউকে ভ্রান্ত পথে দৌড়াতে দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না, আজীবন দৌড়ালেও সে কখনো গন্তব্যে পৌঁছবে না। ব্যর্থ সে হবেই। তেমনি যারা ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে নবীজী (সা:)’য়ের প্রদর্শিত পথ ছেড়ে নিজেরাই পথ আবিষ্কার করে নিয়েছে তাদের ব্যর্থতাও অনিবার্য। এসব তথাকথিত ইসলামী দলগুলি কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে যুগ যুগ বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু তাদের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি কোনদিন সফল হওয়ার নয়। গন্তব্যে পৌঁছতে হলে নিজেদের গাড়িটি সঠিক রাস্তায় চালাতে হয়, ভূল পথে গন্তব্যে পৌঁছা যায় না। আর ইসলাম রাষ্ট্র নির্মাণে সঠিক রাস্তাটি হলো নবীজী (সা:)’য়ের অনুসৃত রাস্তা। সে রাস্তার শুরুটি কখনোই অর্থ বিতরণ, বস্ত্র বিতরণ, বিরানী বিতরণ ও গোশতো বিতরণ দিয়ে শুরু হয়নি; বরং শুরু হয়েছে কুর’আনকে আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে একজন মানুষ দূরে থাক একটি কুকুরও অনাহারে মারা যায়না। একজন মানুষও বিনা বস্ত্রে উলঙ্গ থাকে না। অথচ কুর’আনী জ্ঞানে অজ্ঞতার কারণে কোটি কোটি মানুষ ধাবিত হচ্ছে জাহান্নামের দিকে। দেশবাসী চাঁদাবাজী, সূদ, ঘুষ, প্রতারণার ন্যায় নানা দুর্বৃত্তির প্লাবনে ভাসছে। দুর্বৃত্তির প্লাবনে ভেসে কেউ জান্নাতে যায় না, সে প্লাবন জাহান্নামে নেয়। এমন নৈতিক বিপর্যয় থেকে আখেরাতের ভয় মুক্তি দিতে পারতো -যেমন মুক্তি দিয়েছিল আরবের জাহেল দুর্বৃত্তদের। এজন্য জরুরি ঘরে ঘরে কুর’আনী জ্ঞানদান। কিন্তু কুর’আনী জ্ঞান দানের কাজটিই বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত খাত। অথচ নবীজী (সা:)‘য়ের যুগে নামাজ রোজা ফরজ করার ১১ বছরে আগে মহান রব সে কাজটিই প্রথম করেছিলেন। অথচ সাধারণ মুসলিম দূরে থাক, এমন কি ইসলামী দলের নেতাকর্মীগণও সে ফরজ পালন করে না। বিজয় কি তবে আসমান থেকে পড়বে?
কুর’আনের সুপ্ত শক্তি শয়তানের অজানা নয়। সেটি বুঝা যায়, শয়তানের অনুসারীদের এজেন্ডা দেখে। ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ রোধে তারা মসজিদগুলিকে ধ্বংস করেনা; মুসলিমদের ঘরেও আগুন দেয়না। বরং সর্বস্তরে বন্ধ করে কুর’আন শিক্ষা। সেটি দেখা গেছে কম্যুনিস্ট শাসিত সোভিয়েত রাশিয়ায়। সে দেশটিতে নিষিদ্ধ কিতাবটি ছিল পবিত্র কুর’আন। সেটি দেখা গেছে বাংলাদেশে। মুজিব ও হাসিনার ন্যায় ইসলামবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে সর্বপ্রথম কুর’আন শিক্ষাকে সংকুচিত করেছে। স্কুল-কলেজের সিলেবাস থেকে বিলুপ্ত করেছে পবিত্র কুর’আনের তা’লিম। হাসিনা কারাবন্দী করেছে দেশের প্রখ্যাত তাফসিরকারকদের। শত্রুশক্তির সনাতন এজেণ্ডা হলো, জনগণের চেতনার ভূমিতে আদিম জাহিলিয়াতের প্লাবন আনা। সে লক্ষ্যে হাসিনার আমলে শুরু হয় রাস্তাঘাট ও শিক্ষাঙ্গণে শত শত মূর্তি স্থাপন। হাসিনার পতন হয়েছে এবং রাজপথ থেকে বহু মূর্তিও নির্মূল হয়েছে। কিন্তু বর্ষবরণ ও বসন্ত বরণের নামে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে পৌত্তলিক সংস্কৃতিকে। বুদ্ধিবৃত্তিক রণাঙ্গণে ইসলামের বিজয়কে প্রতিহত করার লক্ষ্যে এসবই হলো ইসলামের শত্রুপক্ষের স্ট্র্যাটেজী। এ স্ট্র্যাটেজী সফল হলে, অসম্ভব হয় রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গণে ইসলামের বিজয়।
গাদ্দারী আল্লাহ তায়ালার সাথে
মুসলিমদের ব্যর্থতার কারণ অনেক। তবে মূল কারণটি হলো, মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডার সাথে গাদ্দারী। তারা ব্যস্ত শুধু নিজ নিজ এজেন্ডা নিয়ে। মহান রব’য়ের ঘোষিত এজেন্ডাটি হলো, আ’মিরু বিল মারুফ (ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা), নেহী আনিল মুনকার (দুর্বৃত্তির নির্মূল) এবং লি’ইউযহিরাহু আলা দ্বীনি কুল্লিহি (সকল দ্বীনের উপর ইসলামের বিজয়)। মহান রব‘য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার কাজে হাতিয়ার হলো ইসলামী রাষ্ট্র। তাই আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে হলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিতে হয়, নইলে চরম গাদ্দারী হয়। জাতীয়তাবাদী, ফ্যাসিবাদী, সেক্যুলার ও বামধারার রাজনীতির অর্থ হলো মহান রব’য়ের সে এজেন্ডার সাথে গাদ্দারী। কারণ, এ ধারার রাজনীতির এজেন্ডাই হলো মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে ব্যর্থ করে দেয়া। গাদ্দারী হলো এ পরিস্থিতিতে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকা। পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমরা বেছে নিয়েছে গাদ্দারীর পথ। আর গাদ্দারীর পর যা অনিবার্য প্রাপ্তি তা হলো প্রতিশ্রুত আযাব। সে আযাবই আজ মুসলিমদের ঘিরে ধরেছে।
বিস্ময়ের বিষয় হলো, গাদ্দারীর ন্যায় মুসলিম জীবনের এ ভয়াবহ অপরাধ নিয়ে মুসলিমদের মাঝে কোন আলোচনা নাই। সেটি যেমন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য বিষয় নয়, তেমনি আলেম উলামা, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের আলোচনার বিষয়ও নয়। বরং এরূপ গাদ্দারী নিয়ে বাঁচাই সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটিই হলো মুসলিম ভূমিতে নব্য জাহিলিয়াত। অথচ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের শুরুটি হতে হয় এ জাহিলিয়াত নির্মূলের মধ্য দিয়ে। কারণ, সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি কখনোই জাহিলিয়াতের মধ্যে অবগাহন করে হয়না। জাহিলিয়াতের নির্মূলে মূল অস্ত্রটি হলো আল-কুর’আন। এজন্যই ঈমানদারের সবচেয়ে বড় সামর্থ্যটি তার দৈহিক বা অর্থনৈতিক বল নয়, বরং সেটি হলো কুর’আন বুঝার সামর্থ্য। একমাত্র সে সামর্থ্যই ব্যক্তিকে জাহিলিয়াত থেকে বাঁচায় এবং সিরাতাল মুস্তাকীম দেখায়। যে ব্যক্তি সিরাতাল মুস্তাকীম পায়, একমাত্র সেই পায় জান্নাত। নবীজী (সা:) তাঁর মিশনের শুরুটি তাই কুর’আন বুঝা দিয়ে শুরু করেছিলেন; নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত দিয়ে নয়। নবীজী (সা:)’য়ের এই বৈপ্লবিক স্ট্র্যাটেজির মধ্যে প্রকাশ ঘটেছিল সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তায়ালার হিকমত। কারণ, নবীজী (সা:) যা কিছু করেছেন, তা করেছেন মহান রব’য়ের নির্দেশে।
কুর’আন বুঝায় অক্ষমতা নিয়েও নামাজী, রোজাদার ও হাজী হওয়া যায়, কিন্তু ঈমানদার হওয়া যায়না। অসম্ভব হলো ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের মুজাহিদ হওয়া। এবং অসম্ভব হলো মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডার সাথে একাত্ম হওয়া। এজন্যই বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ দেশে কোটি কোটি নামাজী ও রোজাদার থাকা সত্ত্বেও ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে লোকবল নাই। সাহাবাদের ন্যায় সশস্ত্র জিহাদে অর্থ, শ্রম ও রক্তের কুর‘বানী দূরে থাক, এসব নামাজী ও রোজাদারগণ ইসলামের পক্ষে সামান্য ভোটদানের কষ্টটুকু করতেও তারা রাজী নয়। মূল ব্যর্থতাটি এখানে শিক্ষাব্যবস্থার। ছাত্র ছাত্রীদের অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয়ে কুর’আনী জ্ঞানের আলো জ্বালানোর কাজটি এ শিক্ষা ব্যবস্থা করেনি। বরং তাদের চেতনায় প্লাবন এনেছে জাহিলিয়াতের। আর জাহেল হওয়ার অর্থ শুধু মূর্তিপূজারী, লিঙ্গপূজারী ও নাস্তিক হওয়া নয়, বরং ঘুষখোর, সূদখোর, চোর ডাকাত, অর্থপাচারী, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচারী, সেক্যুলারিস্ট, ফ্যাসিস্ট, ন্যাশনালিস্ট, ধর্ষক এবং হত্যা ও গণহত্যার নায়ক হওয়াও। এরাই বাংলাদেশকে দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম করেছে। তাই এটি কি কখনো আশা করা যায়, ইসলামী চেতনাশূণ্য এ জনগণ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের পক্ষ ভোট দিবে?
দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা
শিক্ষাব্যবস্থার মূল দায়িত্ব, ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে কুর’আন বুঝার সামর্থ্য সৃষ্টি করা। জ্ঞানার্জনকে ফরজ করার মূল উদ্দেশ্য তো সেটিই। কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায় অধিকাংশ মুসলিম দেশে সে ফরজ আদায় হচ্ছে না। সন্তানদের পানাহারে বাঁচিয়ে রাখার কাজটি হচ্ছে বটে; তবে জান্নাতে নেয়ার কাজটি হচ্ছে না। অথচ নিজ সন্তানদের পানাহারে বাঁচিয়ে রাখার কাজটি পশু-পাখিরাও করতে পারে। মানব রূপে যা করণীয় তা হলো সন্তানদের জান্নাতের নেয়ার ব্যবস্থা করা। তাদের বাঁচাতে হয় জাতীয়তাবাদী, ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী, রাজতন্ত্রী, সেক্যুলার ও কম্যুনিস্ট ধারার হারাম রাজনীতির স্রোতে ভেসে যাওয়া থেকে। নইলে সে স্রোতে ভেসে নিশ্চিত জাহান্নামে যেতে হয়। ফলে এর চেয়ে বড় ক্ষতির কাজ আর কি হতে পারে? সে মহাক্ষতি থেকে বাঁচাতেই পবিত্র কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত ফরজ করার আগে ফরজ করা হয়েছে। এবং মহাপাপ গণ্য হয় অজ্ঞ থাকা। অথচ বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশে হাজার হাজার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হলেও তা দিয়ে জ্ঞানার্জনের ফরজ আদায় হচ্ছে না। শিক্ষাঙ্গণে স্থান নাই পবিত্র কুর’আনের; অথচ স্থান পেয়েছে নানা ইসলাম বিরোধী জাহিলী মতবাদ ও ধ্যান ধারণা। সিলেবাস থেকে পবিত্র কুর’আন বাদ পড়লেও বাদ পড়েনি পৌত্তলিক কাফিরদের লেখা বই। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে ইসলামের শত্রু উৎপাদনের কারখানায়। এ দুষ্ট শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে দেশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, প্রশাসন, মিডিয়া ও আইন আদলতে অধিকৃত হয়েছে শয়তান ও তার অনুসারীদের হাতে। এরা যুদ্ধ লড়ছে ইসলামের বিরুদ্ধে। এদের কারণে দেশ ভাসছে দুর্বৃত্তির প্লাবনে। শিক্ষাব্যবস্থা পরিণত হয়েছে দুর্বৃত্তায়নের কাজে শয়তানের হাতিয়ারে।
বাংলাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেরূপ বিপুল সংখ্যায় বেঈমান কাফির, মুনাফিক, জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট, সেক্যুলারিস্ট, কম্যুনিস্ট ইত্যাদি অপরাধী গড়ে উঠেছে -তা দেশটির পতিতা পল্লী, ডাকাত পল্লী ও পৌত্তলিক মহল্লাগুলিতেও গড়ে উঠেনি। যারা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে তারা যোগ দিচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক যুদ্ধে। এরা এতোই হিংস্র, নৃশংস ও বর্বর যে, লগি বৈঠা হাতে এদের ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দেখা গেছে ইসলামপন্থীদের হত্যা করে তাদের লাশের উপর নাচতে। এরাই ১৯৭১’য়ে পৌত্তলিক ভারতের অর্থ, অন্ন, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতীয় বাহিনীকে যুদ্ধ বিজয়ী করেছে এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান ভেঙেছে। এ অপরাধীরাই ১৯৭১’য়ে দুই থেকে তিন লাখ বিহারীকে হত্যা করেছে, হাজার হাজার বিহারী রমনীদের ধর্ষণ করেছে এবং তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট কেড়ে নিয়েছে। এরাই ঢাকার শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে’র রাতে শত শত মুসল্লীকে হত্যা করেছে এবং হ্ত্যা শেষে লাশগুলিকে গায়েব করেছে। ২০১৩ সালে এদের দেখা গেছে শাহবাগের মোড়ে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে ফাঁসির দাবী নিয়ে সমাবেশ করতে। এরা পরিণত হয়েছে চোর ডাকাত, ভোটডাকাত, গুম-খুনের নায়ক ও সন্ত্রাসী রাজনীতির ক্যাডারে।
মুসলিম দেশগুলো আজ যেভাবে ভেঙে যাচ্ছে, মুসলিম দেশগুলো শত্রুশক্তির হাতে যেরূপ অধিকৃত হচ্ছে এবং সে দেশগুলিতে যেভাবে কুফরি আইন ও সেক্যুলার সংস্কৃতির প্লাবন বইতে শুরু করেছে –তা তো এসব বড় বড় ডিগ্রিধারী জাহিলদের অপরাধের কারণেই; গ্রামের নিরক্ষর মানুষদের জন্য নয়। অথচ মুসলিম ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গর্বের কাজ করেছেন মরুবাসী আরব। সে কালে কোন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না, ফলে তাদের মাঝে ছিল না কোন ডিগ্রিধারি ব্যক্তি। অথচ তারাই আরবি ভাষাকে অতি স্বল্প সময়ের মাঝে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষায় পরিণত করেছিলেন। অথচ পবিত্র কুর’আনের পূর্বে আরবি ভাষায় কোন গ্রন্থ ছিল না। তাদের এ সাফল্যের মূল কারণ, তারা শুধু নামাজ রোজার ফরজই পালন করেননি, পালন করেছিলেন কুর’আন বুঝা ও তা থেকে জ্ঞানার্জনের ফরজও -যা আজকের মুসলিমগণ করছে না। ইসলামকে বিজয়ী করতে তারা সেদিন শুধু শ্রম, অর্থ ও সময়ই দেননি, প্রাণও দিয়েছেন। অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়েছেন। তারা শুধু সশস্ত্র রণাঙ্গণের যোদ্ধা ছিলেন না, যোদ্ধা ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক রণাঙ্গণেরও। অথচ সেরূপ ত্যাগের সামর্থ্য আজ ক’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীর?
হচ্ছে না কুর’আন শিক্ষা ও কুর’আন অনুসরণের কাজ
মুসলিমদের সকল অতীত গৌরবের মূল কারণ, কুর’আন থেকে শিক্ষা নেয়া এবং পদে পদে কুর’আন অনুসরণ করা। মহান রব’য়ের সর্বশ্রেষ্ঠ এ দানটি প্রমাণ করেছে এটিই হলো নিশ্চিত সাফল্যের একমাত্রে পথ। মুসলিমগণ যখনই মহান রব’য়ের দেয়া হিদায়েতের সর্বশ্রেষ্ঠ এ গ্রন্থটিকে বুঝতে ও অনুসরণ করতে চেষ্টা করেছে তখন তারা অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। পবিত্র কুর’আনের সে সামর্থ্যকে অবিশ্বাস করাই কুফুরি -যা অবিশ্বাসী মানুষকে কাফিরে পরিণত করে। অথচ আজ মুসলিম বিশ্বে কুর’আন থেকে শিক্ষা নেয়া ও কুর’আন অনুসরণের কাজটিই হচ্ছেনা। অথচ মুসলিমদের সকল অতীত সাফল্যের শুরু যেমন কুর’আনের অনুসরণ থেকে, তেমনি আজকের মুসলিমদের সকল পাপ এবং সকল ব্যর্থতার শুরু কুর’আন অনুসরণ না করা থেকে। কুর’আন থেকে দূরে সরার কারণে তারা বাঁচছে পদে পদে সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি নিয়ে। তারা শিক্ষা নেয়নি ইসলামের বিস্ময়কর সাফল্যের অতীত ইতিহাস থেকে। তবে সেটির কারণও রয়েছে। মুসলিম দেশগুলির দখলদারি এখন ইসলামের শত্রুপক্ষের। তারা পরিকল্পিত ভাবেই ইসলামের সাফল্যের অতীত ইতিহাসকে দেশের স্কুল কলেজে পড়াতে দেয়না। ক্ষমতাসীন শত্রুপক্ষ কখনোই চায়না, ছাত্র-ছাত্রীরা সাফল্যের কুর’আনী রোডম্যাপের সাথে পরিচিত হোক।
পবিত্র কুর’আনের বাণী বুঝতে জরুরি হলো খালেছ নিয়ত, সুস্থ বিবেক এবং সত্যের অনুসন্ধানে প্রবল আগ্রহ। নইলে বার বার কুর’আন পাঠ করেও লাভ হয়না। সেটি যে হচ্ছে না তার প্রমাণ হলো তো বাংলাদেশ। এ দেশটিতে আর কোন গ্রন্থই এতো ব্যাপক ভাবে পাঠ করা হয়না, যেরূপ পঠিত হয় পবিত্র কুর’আন। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ গৃহে প্রতিদিন কুর’আন তেলাওয়াত হয়; বহু লক্ষ ছাত্র ব্যস্ত কুর‘আন হিফজ করায়। হাজার হাজার মাদ্রাসায় বহু হাজার আলেম ব্যস্ত কুর’আন শিক্ষা দেয়ায়। অথচ দেশের সংবিধান, আইন আদালত, প্রশাসন, অর্থনীতি ও শিক্ষা সংস্কৃতিতে কুর’আনী বিধানের কোন স্থান নাই। কুর’আন পাঠ করা হয় স্রেফ সওয়াবের আশায়, আগ্রহ নাই কুর’আন থেকে হিদায়েত নেয়ায়। বাংলাদেশের আদালতে শরিয়ার কোন স্থান নেই; সেখানে চলে কুফুরি আইন -যে আইনে জ্বিনাও হালাল। দেশের সংস্কৃতি হলো, পতিতাপল্লীর জ্বিনার বাণিজ্যকে বৈধতা দেয়া এবং অশ্লিল নাচগানকে উৎসবে পরিণত করা। দেশটির অর্থনীতি চলে সূদ; অফিস আদালতে চলে ঘুষ এবং হাটে বাজারে চলে চাঁদাবাজী প্রতারণঅ। নামে মুসলিম হলেও বাংলাদেশের মানুষ বাঁচছে মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে।
নবীজী (সা:) যেরূপ ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিলেন, ১০টি বছর যে রাষ্ট্রটি পরিচালনা করলেন এবং সাহাবাগণ যেরূপ ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে প্যান ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্বের বন্ধন গড়লেন -সেরূপ রাষ্ট্র, রাজনীতি ও ভাতৃত্ব নিয়ে বাঙালি মুসলিম বাঁচে না। নবীজী (সা:)‘য়ের ইসলাম থেকে তাদের ইসলামই শুধু ভিন্ন নয়, ভিন্ন হলো তাদের রীতি নীতি, শিক্ষা সংস্কৃতি ও রুচিবোধ। মহান রব একতাকে ফরজ করেছেন এবং বিভক্তিকে হারাম করেছেন। অথচ বাঙালি মুসলিমগণ পৌত্তলিক কাফরিদের সাথে কোয়ালিশন করে নিজ দেশ ভাঙে এবং সে হারাম দেশভাঙা নিয়ে প্রতিবছর উৎসবও করে -যেমনটি ১৬ডিসেম্বর এলে বাংলাদেশীদের জীবনে দেখা যায়। অনেক ইসলামপন্থীও তাতে শামিল হয়। এভাবে পবিত্র কুর’আনী বিধান পরিণত হয়েছে নিছক তেলাওয়াতের বিষয়, পালনের বিষয় নয়। মহান রব’য়ের বিধানের বিরুদ্ধে এরূপ প্রকাশ্য বিদ্রোহ নিয়ে যখন কেউ মুসলিম রূপে দাবী করে এবং কুর’আনে চুমু খায় – সম্ভবত শয়তানও তখন হাসে। কারণ ইবলিস শয়তান নিজে কখনো মহান রব’য়ের এতোগুলি বিধানের বিরুদ্ধে একত্রে বিদ্রোহ করেনি -যেরূপ আজকের মুসলিমগণ করছে। ইবলিস মহান রব’য়ে একটি মাত্র হকুম অমান্য করেছিল; সেটি ছিল হযরত আদম (সা:)‘য়ের সিজদার হুকুম। অথচ বাঙালি মুসলিমরা বাঁচছে মহান আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য কুর’আনী হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে।
প্রেসক্রিপশন শত বার পাঠ করে বা মুখস্থ করে লাভ কি, যদি সে অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা না হয়? তেমনি বার বার কুর’আন খতম করে বা পুরা কুর’আন হিফজ করে লাভ কি, যদি তা অনুসরণ করা না হয়? সেটি তো পবিত্র কুর’আন এবং কুর’আন নাযিলকারী মহান রব‘য়ের অবমাননা। সে অবমাননা নিয়ে বাঁচাই মুসলিমের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বিপর্যয়ের আরো কারণ, বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলি ব্যর্থ হচ্ছে ছাত্র ছাত্রীদের মনে কুর’আন বুঝায় আগ্রহ এবং সামর্থ্য সৃষ্টিতে। দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ব্রিটিশ আমল থেকেই সেক্যুলার; ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও তাদের প্রণীত শিক্ষানীতির অবসান হয়নি। ফলে জ্ঞানদানে সেগুলিই গুরুত্বপায় যা সরকারি দফতরে চাকুরি বাকুরি, পেশাদারী কাজকর্ম ও আয় উপার্জনের সাথে জড়িত। গুরুত্ব হারায় অনন্ত অসীম আখেরাতের জীবনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপার্থিব বিষয়গুলো। ফলে কুর’আন পড়া হলেও তা থেকে শিক্ষা নেয়ার কাজটি হচ্ছে না। ফলে বহু বছর শিক্ষাঙ্গণে ব্যয় করলেও আদায় হচ্ছে না জ্ঞানার্জনের ফরজ।
অথচ খালেছ নিয়ত, সুস্থ বিবেক এবং সত্য জানায় প্রবল আগ্রহ থাকায় আরবের জনগণ কুর’আন বুঝায় এবং কুর’আন অনুসরণে বিস্ময়কর ইতিহাস গড়েছিল। মুসলিম ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কুর’আন বিশেষজ্ঞ তো তখনই গড়ে উঠেছে যখন মুসলিম বিশ্বে কোন মাদ্রাসা ও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। নবী (সা:)’য়ের যুগে ইসলামী রাষ্ট্রবিপ্লবের কাজে যারা সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছিলেন তারা ছিলেন হযরত আলী (রা:), হযরত বেলাল (রা:), হযরত সালমান ফারসি (রা:), হযরত খাব্বাব (রা:), হযরত মিকদাদ (রা:), হযরত ইয়াছির (রা:), হযরত সুমাইয়া (রা:), হযরত আম্মার (রা:)’র মত অতি সাধারণ মানুষ। তাদের সে সাফল্যের মূল কারণ, তাদের বিবেক কোন সেক্যুলার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বারা রোগাগ্রস্ত হয়নি। কোন সুফি দরবেশ বা তাবলিগী হুজুর কুর’আন থেকে দূরে সরিয়ে শুধু ফাজায়েল যিকর ও ফাজায়েলে আমলমুখী করেনি। তাদের স্বচ্ছ বিবেক আলোকিত হয়েছিল কুর’আনী জ্ঞানের আলোতে এবং বিপ্লব এনেছিল চেতনালোকে।
তারা শুধু নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাতের বিধানকেই কবুল করেননি, কবুল করেছিলেন ইসলামের সবটুকু। ইসলামের বিধান ও দর্শন নিয়ে তারা শুধু জায়নামাজে ধ্যানে বসেননি, বরং ময়দানে নেমেছেন এবং ইসলামের বিজয় এনেছেন রাষ্ট্র জুড়ে এবং সে বিজয়কে সুরক্ষা দিতে নিজেদের জানমাল নিয়ে সব সময় ময়দানে থেকেছেন। বার বার তারা জিহাদে নেমেছেন। দুর্বৃত্তদের জন্য রাজনীতির ময়দান একদিনের জন্যও খালি ছেড়ে দিয়ে নিজেরা কখনোই মসজিদের বা গৃহের চার দেয়ালের মাঝে আশ্রয় নেননি। বেতনভোগী সৈনিক না হয়েও তারা ইসলামের সার্বক্ষনিক সৈনিক হয়েছিলেন। এসব আত্মত্যাগী সার্বক্ষণিক সৈনিকেরাই আল্লাহর দ্বীনের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধে নিজ তরবারী কোষমূক্ত করেছেন। এমনকি হযরত আবু বকর (রা:)’য়ের ন্যায় নিবেদিত প্রাণ খলিফার সামনেও। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাঁকে বলেছেন, “হে আমিরুল মু’মিনিন! আপনি যদি আল্লাহর কুর’আন ও রাসুলুল্লাহ (সা:)’য়ের সুন্নাহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা না করেন, তবে এ তরবারি দিয়ে আপনাকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলবো।” তারা হযরত ওমর (রা:)’য়ের ন্যায় মহান খলিফর গায়ে বৃহৎ আকারের পিরহান দেখে তাঁর জুম্মার খোতবা থামিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, “এতো বড় জামা তৈরীর কাপড় কোত্থেকে পেলেন?” খলিফাকে জবাব দিতে হয়েছে। ঈমান ও কুর’আনী জ্ঞান-প্রসূত তাকওয়া সাধারণ মানুষের জীবনেও এরূপ ক্ষমতায়ন ঘটায়। তারা নির্ভীক হয় এমন কি শাসকের সামনেও।
কুর’আনী জ্ঞানের গুরুত্ব বুঝাতে মহান আল্লাহ তায়ালা বয়ান:
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ
অর্থ: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাময়।”-(সুরা ফাতির, আয়াত ২৮)।
মহান আল্লাহ তায়ালাকে কারা ভয় করে – উপরিউক্ত আয়াতে রয়েছে তা নিয়ে তাঁর নিজস্ব বয়ান। এ আয়াতে অঘোষিত অন্য সত্যটি হলো, যারা জাহেল তথা অজ্ঞ তাদের হৃদয়ে থাকে না আল্লাহর ভয়। এর অর্থ দাঁড়ায়, জাহেল তথা অজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য বেঈমান কাফির, মুনাফিক ও দুর্বৃত্ত হওয়া ছাড়া ভিন্ন পথ থাকে না। তবে এখানে যে জ্ঞানীদের কথা বলা হয়েছে তারা চিকিৎসা বিজ্ঞান, ইঞ্জিনীয়ারিং, ভূগোল বা বিজ্ঞানের অন্য শাখার জ্ঞানীদের কথা বুঝানো হয়নি। সেটি হলে তো সকল চিকিৎস্যক, ইঞ্জিনীয়ার এবং বিজ্ঞানী মুত্তাকি হতো। এখানে জ্ঞানী বলতে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে যাদের রয়েছে পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। এর অর্থ দাঁড়ায়, যার মধ্যে পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান নেই তার মধ্যে আল্লাহর ভয়ও নেই। যার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ভয় নাই, সে কি কখনোই তাঁর এজেন্ডার সাথে একাত্ম হতে পারে? এমন ব্যক্তিরা ব্যর্থ হয় সিরাতাল মুস্তাকীম চলতে। এমন অজ্ঞ মানুষেরা নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন করেও ঘুষ খায়, সূদ খায়, মিথ্যা বলে এবং শয়তানের পথ ধরে। বুঝতে হবে, নামাজী, রোজাদার ও হাজী হওয়ার জন্য জ্ঞানী হওয়া লাগে না। কুর’আনী জ্ঞানের অজ্ঞতা নিয়ে বহু ঘুষখোর, সূদখোর, প্রতারকও সেগুলি পালন করে। যাদের রয়েছে আল্লাহর ভয়, তাদেরকে বলা হয় মুত্তাকি। একমাত্র এরাই নিজেদের গড়ে তোলে জান্নাতের যোগ্য করে। ২৮/০৭/২০২৬
ANNOUNCEMENT
ওয়েব সাইটটি এখন আপডেট করা হচ্ছে। আগের লেখাগুলো নতুন ওয়েব সাইটে পুরাপুরি আনতে কয়েকদিন সময় নিবে। ধন্যবাদ।
LATEST ARTICLES
- বেঈমানী, বিভক্তি ও পতনের পথে আজকের মুসলিম
- বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তিনটি মিথ্যা ও মিথ্যার নাশকতা
- বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ
- রাজনীতির ফরজ বিষয় ও হারাম বিষয় এবং বাঙালি মুসলিমের পাপের রাজনীতি
- হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের উপর হামলা: গর্ত থেকে বেরিয়ে এলো কি বিএনপির লেবাসে গুপ্ত ফ্যাসিস্টরা?
বাংলা বিভাগ
ENGLISH ARTICLES
RECENT COMMENTS
- Fazlul Aziz on The Israeli Crimes, the Western Complicity and the Muslims’ Silence
- Fazlul Aziz on India: A Huge Israel in South Asia
- Fazlul Aziz on ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসালিমক রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- Fazlul Aziz on বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ
- Fazlul Aziz on Gaza: A Showcase of West-led War Crimes and the Ethnic Cleansing
ARCHIVES
- August 2026
- July 2026
- June 2026
- May 2026
- April 2026
- March 2026
- February 2026
- January 2026
- December 2025
- November 2025
- October 2025
- September 2025
- August 2025
- July 2025
- June 2025
- May 2025
- April 2025
- March 2025
- February 2025
- January 2025
- December 2024
- October 2024
- September 2024
- August 2024
- July 2024
- June 2024
- May 2024
- April 2024
- March 2024
- February 2024
- January 2024
- December 2023
- November 2023
- October 2023
- September 2023
- August 2023
- July 2023
- June 2023
- May 2023
- April 2023
- March 2023
- January 2023
- December 2022
- November 2022
- October 2022
- September 2022
- August 2022
- July 2022
- June 2022
- May 2022
- April 2022
- March 2022
- February 2022
- January 2022
- November 2021
- October 2021
- September 2021
- August 2021
- July 2021
- June 2021
- May 2021
- April 2021
- March 2021
- February 2021
- January 2021
- December 2020
- November 2020
- October 2020
- April 2020
- March 2020
- February 2020
- January 2020
- December 2019
- November 2019
- October 2019
- September 2019
- August 2019
- July 2019
- June 2019
- May 2019
- April 2019
- March 2019
- February 2019
- January 2019
- December 2018
- November 2018
