রাষ্ট্র কিরূপে জান্নাত বা জাহান্নামের বাহন হয়?
- Posted by Dr Firoz Mahboob Kamal
- Posted on September 19, 2026
- Bangla Articles, Bangla বাংলা, সমাজ ও রাজনীতি
- No Comments.
ফিরোজ মাহবুব কামাল
ব্যক্তির নির্মাণে রাষ্ট্রের সামর্থ্য
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানটি হলো রাষ্ট্র। ব্যক্তির ধর্ম, শিক্ষা সংস্কৃতি, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তির উপর সবচেয়ে বড় প্রভাব থাকে রাষ্ট্রের। কারণ রাষ্ট্রের হাতে থাকে শিক্ষা সংস্কৃতি, রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, আইন আদালত, প্রশাসনসহ সোসাল ইঞ্জিনীয়ারিয়িং সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য। ফলে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, চেতনা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ যেভাবে নির্মাণ করতে চায়, রাষ্ট্র সেটি পারে। রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করার ফলে সমগ্র প্রজাদেরও খ্রিস্টান বানাতে পেরেছিল। তেমনি সোভিয়েত রাশিয়ায় কম্যুনিজমের বিপ্লব আসাতে ঘরে ঘরে কম্যুনিস্ট গড়ে উঠেছে। তখন বিলুপ্ত হয়েছে সেদেশের হাজার হাজার মসজিদ মাদ্রাসা। কম্যুনিজম তখন সোভিয়েত রাশিয়ার সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশে। রাষ্ট্র এভাবেই জাহান্নামের বাহন হয়েছে। অথচ সোভিয়েত রাশিয়ার বিলুপ্তির পর সেদেশে এখন কম্যুনিস্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন। সেরূপ কম্যুনিজমের বিপ্লব এসেছিল ইউরোপের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র আলবানিয়াতে। দেশটিতে নাস্তিকতা রাষ্ট্রীয় আদর্শ রূপে ঘোষণা দেয়া হয়। ধর্মপালন অপরাধ ঘোষিত হয়। কম্যুনিস্টদের শাসন বিলুপ্ত হওয়াতে সেদেশেও কম্যুনিজম বিলুপ্ত হয়েছে।
রাষ্ট্রের এরূপ ক্ষমতার বিষয়টি সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তায়ালার চেয়ে আর কে ভাল জানেন? তাই তিনি নবীজী (সা:)কে শুধু পবিত্র কুর’আনের বাণী বাহকের দায়িত্ব দিয়ে পাঠাননি; বরং মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রের নির্মাতা রূপেও পাঠিয়েছেন। সে রাষ্ট্রের নির্মাণে তিনি তাঁকে পথ পদে পদে দেখিয়েছেন ফিরেশতা হযরত জিবারাইল (আ:)কে পাঠিয়ে। ফলে মাত্র ১০ বছরে বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণের অধিক বড় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। নবীজী (সা:)‘য়ের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাওয়াতে ঘরে ঘরে মুজাহিদ তৈরী হয়েছে। প্রতিটি মুসলিমের মাঝে তাড়না সৃষ্টি হয়েছে কুর‘আন বুঝায় এবং ইসলামের এজেন্ডার সাথে একাত্ম হওয়ায়। কুর’আনী জ্ঞানে নিজেকে সুশিক্ষিত করার তাড়নায় তারা প্রতিটি গৃহকে পাঠশালায় এবং প্রতিটি মসজিদকে মাদ্রাসায় পরিণত করেছেন। ইসলামকে প্রতিষ্ঠা দেয়ার লক্ষ্যে নিজের অর্থ, মেধা, শ্রম ও রক্তের কুরবানীতে তারা জিহাদের ময়দানের হাজির হয়েছেন। অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়ে গেছেন। তাদের সে কুর’বানীতে যে আরব ভূমিতে কোন কালেই কোন রাষ্ট্র ছিল না, জনগণ বাঁচতো গোত্রীয় ও বংশীয় পরিচয় নিয়ে, সেখানে নির্মিত হলো মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র। কিছু দিনের মধ্য সে রাষ্ট্র পরিণত হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বশক্তিতে। সে রাষ্ট্রের বরকতে মুসলিমগণ স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও বিশ্বব্যাপী ইজ্জত পেল। এখানেই রাষ্ট্রের শক্তি ও কল্যাণকারীতা। তাই পৃথিবী পৃষ্ঠে সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্য কর্ম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত তথা জিহাদ হলো নবীজী (সা:)‘য়ের অনুকরণে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। এমন রাষ্ট্র তখন পরিণত হয় জান্নাতের বাহনে। আর সবচেয়ে বড় পাপের কর্মটি হলো অনৈসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। সে রাষ্ট্র পরিণত হয় জাহান্নামের বাহনে। পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমগণ আজ সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্য কর্ম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত নিয়ে বাঁচে না। তাই মুসলি বিশ্বে কোন ইসলামী রাষ্ট্র নাই। বরং তারা বাঁচে সর্বনিকৃষ্ট পাপ কর্ম তথা অনৈসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিয়ে।
অনৈসলামী সেক্যুলার রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নাশকতা হলো, সেটি বিলুপ্ত করে পূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাড়না। এবং বিলুপ্ত হয় কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনের আগ্রহ। কারণ, কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র যেমন তার শিক্ষা সাংস্কৃতিক ইঞ্জিনীয়ারিংয়ের মাধ্যকে নাগরিকদের কম্যুনিস্ট বানায, তেমনি সেক্যুলার রাষ্ট্র গড়ে ইসলাম থেকে দূরে সরা মানব। এবং বিলুপ্ত করে পূর্ণ ঈমানদার হওয়ার আগ্রহ। এমন দেশের অধিকাংশ মানুষের কুর’আন তেলাওয়াতে আগ্রহ থাকলেও কুর’আনের অর্থ বুঝায় আগ্রহ থাকে না। অথচ পবিত্র কুর’আন হলো এ জীবনের রোডম্যাপ। তাই নামাজ রোজা পালন যেমন ফরজ, তেমনি ফরজ হলো কুর’আন বুঝা। কুর’আন না পড়ে ও না বুঝে সিরাতাল মুস্তাকীম চলা অসম্ভব। ফলে নামাজ রোজা পালন করলেও বাংলাদেশীদের সিরাতাল মুস্তাকীমে চলার কাজটি হচ্ছে না। সে ব্যর্থতার বড় দলিল হলো, দেশ জুড়ে গুম, খুন, ঘুষ, ধর্ষণ, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, স্বৈরাচার, সন্ত্রাস ও নানারূপ দুর্বৃত্তির জোয়ার। এমন কাজ কখনোই সিরাতাল মুস্তাকীমে চলা মানুষদের কাজ নয়। এরূপ পাপকর্মের প্লাবন নিয়ে বাঁচার পথটি তো জাহান্নামের যাত্রীদের। অথচ দেশকে এরূপ জাহান্নামের যাত্রীদের দিয়ে পূর্ণ করাই সরকারের পলিসি। আর সেটি ঘোষিত এজেন্ডা হলো শয়তানের। সরকারি কর্মকর্তা এবং সরকারি দলের নেতাকর্মীগণ হলো এ এজেন্ডা পূরণে শয়তানের সৈনিক।
রাষ্ট্র যেখানে শয়তানে হাতিয়ার
বাংলাদেশসহ বহু মুসলিম দেশের সরকারের ঘোষিত নীতি হলো সেক্যুলারিজম। সেক্যুলারিজের মূল কথা, রাজনীতি, প্রশাসন ও শিক্ষানীতিতে থাকবে না ইসলামের প্রতি সরকারের কোন রূপ অঙ্গীকার। জনগণকে কুর’আন বুঝানো এবং কুর’আনের পথ দেখানো সেক্যুলারিস্টদের নীতি নয়। সেক্যুলারিস্টগণ দেশের শিক্ষা সংস্কৃতি, রাজনীতি, আদালত, প্রশাসনে ইসলামের জন্য কোন স্থান ছেড়ে দিতে রাজী নয়। বরং ইসলাম থেকে দূরে সরা এবং দূরে সরানোই তাদের নীতি। এভাবে রাষ্ট্র পরিণত হয় শয়তানের হাতিয়ারে। ধর্মের পূর্ণ অনুসরণকে তারা সাম্প্রদায়িকতা ও পশ্চাদপদতা বলে। সেক্যুলারিস্ট শাসিত বহু দেশে রাজনীতির অধিকার দেয়া হয় একমাত্র সেক্যুলারিস্টদের; মুজিব ও হাসিনার আমলে বাংলাদেশেও সেটিই নীতি ছিল।
সেক্যুলার রাষ্ট্রে সরকারের এজেন্ডা হলো, জনগণের জন্য কুর’আনের পথে তথা সিরাতাল মুস্তাকীমে চলাটি অসম্ভব করা -অর্থাৎ পরিকল্পিত ভাবে তাদের পথভ্রষ্ট করা। পথভ্রষ্ট করার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সেক্যুলারিস্ট শাসকগণ মুসলিম দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে কুর’আন শিক্ষাকে বিলুপ্ত করে। সেক্যুলারিস্টগণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে পেলে এভাবেই রাষ্ট্রকে জাহান্নামের বাহনে পরিণত করে। একাজে তারা কাজ করে শয়তানের এজেন্ট রূপে। বস্তুত রাষ্ট্রের উপর শয়তান ও শয়তানপন্থীদের বিজয় দৃশ্যমান হয় পাপের প্লাবন দেখে। অথচ ঈমান থাকলে তারা তো নেক আমলের প্লাবন আনতো। পরিতাপের বিষয় হলো, পাপের প্লাবন ভাসা সেরূপ একটি রাষ্ট্র হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ। দেশটিকে মসজিদের দেশও বলা হয়। কিন্তু তারা পাপকর্মে বিশ্বের সকল কাফির দেশকে হারিয়ে দিয়েছে। সেটি বুঝা যায় দুর্বৃত্তিতে তথা পাপের অঙ্কে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হওয়া থেকে।
ঈমানদার হওয়ার অর্থ: প্রতিক্ষণ নেক আমলের তাড়না নিয়ে বাঁচা। প্রশ্ন হলো, পাপের জোয়ার সৃষ্টিকারীদের হাত থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করার চেয়ে বড় জিহাদ আর কি হতে পারে? কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশের মুসলিমগণ সে জিহাদে নাই। তাদের আত্মতৃপ্তি এ নিয়ে যে, তারা নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়াদরুদের মধ্যে আছে। অথচ নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম নিয়ে বাঁচার অর্থ শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত নিয়ে বাঁচা নয়। বরং বাঁচতে হয় দুর্বৃত্তি নির্মূলের জিহাদ নিয়েও –যেমন নবীজী (সা🙂 ও সাহাবাগণ বেঁচেছিলেন। প্রতিষ্ঠা দিতে হয় ইসলামী রাষ্ট্রের। অথচ সে বোধ অধিকাংশ নামাজী, রোজাদার, তাবলিগী ও হাজী সাহেবদের নাই।
প্রশ্ন হলো, যারা বিশ্বাস ওজু করলে সব পাপ পানির সাথে ঝরে যায়, বিশ্বাস করে ৩৩ বার সোবহানাল্লাহ পাঠ করলে ৭০ বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং বিশ্বাস করে হজ্জে আরাফার ময়দানে দোয়া করলে সারা জীবনের গুনাহ মাফ হয়ে যায় -তারা কেন জিহাদে অর্থ, শ্রম, সময় ও রক্তের কুরবানী পেশ করবে? বরং যারা জিহাদ করে এবং শহীদ হয়ে যায় তাদের তো এরা বেকুব বলবে! ফলে দেশ পাপের প্লাবনে ভেসে গেলেও তারা নীরব ও নিষ্ক্রিয় হওয়ার পথটি বেছে নিবে -সেটিই তো স্বাভাবিক। এরা কখনো জিহাদের নাম মুখে আনে না। ফলে নামাজী, হাজী, আলেম, আল্লামা, মুফতি, পীর, ইমাম ও মোহাদ্দেসদের সংখ্যা বিশাল হলেও আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জিহাদে মুজাহিদ নাই। তাই বাংলাদেশের ন্যায় দেশগুলির ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ের কারণ শুধু চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী, ঋণখেলাপি দুর্বৃত্ত এবং প্রতারক নেতাকর্মীগণ নয়, বরং বহুলাংশে দায়ী ধর্মের লেবাসধারী নিষ্ক্রিয় ও নীরব নামাজী, হাজী, আলেম, আল্লামা, পীর, মুফতি ও ইমামগণও। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে দেশ পুরোপুরি অধিকৃত হয়ে গেছে জাহান্নামের যাত্রীদের হাতে।
জিহাদবিমুখ মুসলিম এবং বিজয় দুর্বৃত্ত শক্তির
ঈমান নিয়ে বাঁচার অর্থ, বিরামহীন ইবাদত নিয়ে বাঁচা। কারণ, ইবাদত ছাড়া অন্য কোন কারণে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়নি। তবে ইবাদতের অর্থ শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত নয়, বরং মহান আল্লাহর প্রতিটি হুকুম মান্য করা। বাঁচতে হয় তাঁর এজেন্ডার সাথে একাত্ম হয়ে। তাই ঈমানদারের বাঁচার এজেন্ডা কখনোই মহান রব’য়ের এজেন্ডার বিপরীত হয় না -অর্থাৎ বাঁচে না শয়তানের এজেন্ডা নিয়ে। ঈমানদারের সকল কাজে ও ইবাদতে মূল তাড়নাটি হয়, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রিয়তর হওয়া। সেরূপ একটি তাড়নার কারণে ঈমানদার মাত্রই একাত্ম হয় মহান আল্লাহতায়ার এজেন্ডার সাথে। সে পবিত্র এজেন্ডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বা সে এজেন্ডার বিজয়ে অঙ্গীকারহীন হওয়ার অর্থ, মহান আল্লাহতায়ার সাথে সম্পর্কহীন হওয়া। এবং সম্পর্কহীন হওয়ার পথটি কাফির বা মুনাফিক হওয়ার।
এ পৃথিবী পৃষ্ঠে যেমন মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা রয়েছে, তেমনি রয়েছে শয়তানের স্বঘোষিত এজেন্ডা। সেটি হলো মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং মানুষকে জাহন্নামে নেয়া। শয়তান তার এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে হযরত আদম (আ:)’য়ের সৃষ্টি থেকেই। অপর দিকে ঈমানদারের দায়টি মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি আত্মসমর্পিত খলিফা হওয়ার। তাঁকে বাঁচতে হয় আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করা এবং শয়তানের এজেন্ডাকে পরাজিত করার লক্ষ্যে আমৃত্যু লড়াই নিয়ে। সে লড়াইটি হলো জিহাদ তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। জিহাদ হাতিয়ার রূপে কাজ করে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভে ও মাগফিরাত লাভে। মহান রব’য়ের প্রতিশ্রুতি হলো, যারা জিহাদ করে এবং জিহাদে শহীদ হয়, তিনি তাদের গুনাহগুলিকে শুধু মাফই করবেন না, সেগুলিকে নেকিতে বদলিয়ে দিবেন। অবশ্যই তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে। সে প্রতিশ্রুতি এসেছে নিচের আয়াতে,
فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِّنْ عِندِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ
অর্থ: “অতঃপর যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং আমার পথে থাকাতে যাদের উপর উৎপীড়ন করা হয়েছে এবং যারা লড়াই করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের গুনাহগুলিকে অপসারিত করবো। এবং অবশই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতে –যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত। এই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান।”-(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১৯৫)।
মহান রবের খলিফা হওয়ার কারণে মুসলিম কখনোই নিজের বাঁচার এজেন্ডা নিজে নির্ধারণ করতে পারে না। তাঁকে বাঁচতে হয় মহান রব’য়ের পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া এজেন্ডার বাস্তবায়ন নিয়ে। কাফির থেকে মুসলিমের এখানেই মৌলিক পার্থক্য। মুসলিম একমাত্র সেই যে মহান আল্লাহর এজেন্ডার প্রতি পূর্ণ ভাবে আত্মসমর্পিত। মুসলিম শব্দের আভিধানিক অর্থও সেটিই। যে অবাধ্য, সেই কাফির। মুসলিম জীবনে যুদ্ধ তাই অনিবার্য। কারণ তাকে বাঁচতে হয় মিথ্যা ধর্ম ও মিথ্যা মতবাদের বিলুপ্তি, দুর্বৃত্ত শক্তির নির্মূল এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জিহাদ নিয়ে। ফলে ঈমানদারের রাজনীতি কখনোই সেক্যুলার হয়না; তাঁকে বরং আমৃত্যু বাঁচতে হয় মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে ধারণ করে এবং ইসলামকে বিজয়ী করার যুদ্ধ নিয়ে। অপর দিকে সেক্যুলার হওয়ার অর্থ, রাজনীতি, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিতে ইসলামের প্রতি কোন রূপ অঙ্গীকার না রাখা। ফলে সেক্যুলারিস্টগণ যুদ্ধ করে মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে তথা ইসলামকে পরাজিত রাখার লক্ষ্যে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবল বিজয়টি সেক্যুলারিস্টদের। সেক্যুলারিস্টদের থাকে পার্থিব জীবনকে আনন্দময় করার তাড়না; ফলে লিপ্ত হয় লাগামহীন জীবন উপভোগে। ফলে তারা প্লাবন আনে সূদ, ঘুষ, চাঁদাবাজী, গুম, খুন, মিথ্যাচার, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চুরিডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতি, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারের। তারা বৈধ ও অবাধ করে নেয় ব্যভিচার, অশ্লিলতা, পতিতাবৃত্তি, সমকামিতা, মদ্য পান, জুয়ার ন্যায় পাপাচারকেও
বাংলাদেশে কোটি কোটি নামাজী ও রোজাদার রয়েছে। বহু লক্ষ মানুষ যাকাত দেয়; বহু হাজার মানুষ প্রতিবছর হজ্জ করে। মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার মোহাদ্দেসের সংখ্যাও বহু লক্ষ। লক্ষ লক্ষ মানুষ সংশ্লিষ্ট আছে তাবলিগ জামায়াতের সাথে। কিন্তু তাদের কারণে ইসলামের প্রতিষ্ঠা বাড়েনি এবং বিজয় পায়নি মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা। কারণ, তারা ইসলামের বিজয় ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠা নিয়ে ভাবে না। তারা নাই ইসলামের প্রতিপক্ষ নির্মূলে এবং ইসলামী বিধানকে বিজয়ী করার জিহাদে। তারা ভাবে ইসলামের বিধান শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাতে ও তাসবিহ তাহলিলে। অনেকে ভাবে, ইসলামের এমন কোন বিধান নেই যা রাষ্ট্রের আদালত, শিক্ষানীতি, সমাজনীতি, প্রশাসন, যুদ্ধবিগ্রহ ও অর্থনীতি পরিচালনায় পথ দেখাতে পারে। ফলে এ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি ইসলামের শত্রুপক্ষের দখলে গেলেও তারা চিন্তিত নয়। এজন্যই নবীজী (সা🙂 ও সাহাবায়ে কেরামের ইসলাম পালন থেকে তাদের ইসলাম পালন এতোটা ভিন্নতর।
পরিত্যক্ত হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ফরজ
মুসলিমদের বিপর্যয়ের শুরু মসজিদ মাদ্রাসা থেকে হয়নি, শুরু হয়েছে রাষ্ট্রীয় অঙ্গণ থেকে। শয়তানী শক্তির হামলার এটিই হলো মূল ক্ষেত্র; ফলে তাদের বিরুদ্ধে এখানেই গড়ে তুলতে হয় প্রতিরোধ। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজের শুরুটিও এখান থেকে করতে হয়। তাই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গণগুলির অবস্থান কুর’আনী রোডম্যাপের বাইরে নয়; রাজনীতিকে বাইরে রাখলে দ্বীন পালনের কাজটি হয়না। বরং সত্য তো এটাই, নবীজী (সা🙂 তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত রেখে গেছেন রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গণে। সেটি হলো তাঁর ১০ বছর মেয়াদী রাষ্ট্র পরিচালনার সূন্নত। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, মুসলিমগণ বাঁচছে সে সূন্নত অনুসরণ না দিয়েই। আলেমদের ব্যস্ততা টুপি দাড়ি, মাথায় পাগড়ি বাঁধা, মিলাদ মহফিল, ওরশ মহফিল, ফিরকাবাজী ও নিজেদের মধ্যকার কলহ–বিবাদ নিয়ে। রাষ্ট্রের বুক থেকে শয়তানী শক্তির দখলদারি নির্মূলের জিহাদে তারা নাই। সেটি যেন কোন ইস্যুই নয়। ভাবটা এমন, মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ, মসজিদের ইমামতি, মাদ্রাসার শিক্ষকতা, কুর’আন পাঠ, নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনের স্বাধীনতা পেলেই তারা খুশি। সে স্বাধীনতাটুকু পেলে আদালতে কুফুরি আইন প্রতিষ্ঠা পেলেও তা নিয়ে তাদের বিবেকে কোন দংশন হয়না। তাদের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় বলবান হচ্ছে ইসলামের শত্রুপক্ষ; আর তাতে পরাজয় ও বিপদ বাড়ছে মুসলিম উম্মাহর।
অথচ মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়াকে বিজয়ী করতে নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিটি সক্ষম সাহাবা জিহাদ করেছেন এবং বিশাল সংখ্যায় শহীদ হয়ে গেছেন। কিন্তু সেরূপ একটি বিজয় আনতে অধিকাংশ আলেম জিহাদে নামতে রাজী নয়। অথচ তাদেরই চোখের সামনে বিরামহীন যুদ্ধ করছে এবং বিপুল অর্থ, শ্রম ও রক্তের বিনিয়োগ করছে শয়তানের খলিফাগণ। শত্রু শক্তির আগ্রাসনের মুখে জিহাদ না থাকার অর্থ, রণাঙ্গণ শত্রুশক্তির জন্য খালি ছেড়ে দেয়া। তখন মুসলিম ভূমি সহজেই দখলে নেয় ইসলামের শত্রুপক্ষ। শত্রুশক্তির এরূপ দখলদারির প্রেক্ষাপট তৈরীতে নিজেদের যারা মুসলিম রূপে দাবী করে –তাদের অপরাধটি গুরুতর। অপরাধটি যেমন নিষ্ক্রিয়তার, তেমনি নিষ্ক্রিয়তার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তায়ালার দ্বীনের পরাজয় ও ইসলামবিরোধীদের বিজয় দান। এমন আত্মসমর্পিত চেতনা নিয়ে কি শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম জনসংখ্যার দেশেও কি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করা যায়? সেটি যে অসম্ভব তার প্রমাণ তো বাংলাদেশ। তাই ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে জরুরি হলো কুর’আনী জ্ঞান সমৃদ্ধ সর্বপ্রথম ইসলামী চেতনার নির্মাণ। সে কাজটি নবীজী (সা🙂 ১৩ বছর যাবত মদিনায় হিজরতের পূর্বে মক্কায় করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে সে কাজটি কোন কালেই হয়নি। আজও হচ্ছে না। ফলে বাঙালি মুসলিমগণ বাঁচছে নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম ছাড়াই –যে ইসলামে শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ছিল না, বরং ছিল ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ, শরিয়ার বিচার, কুর’আন শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, প্যান–ইসলামী ভাতৃত্ব এবং দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা জিহাদ।
অপরাধটি আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ও তাঁর দ্বীনকে পরাজিত রাখার
নবীজী (সা🙂 ও তাঁর সাহাবাগণ শত্রু বাহিনীর হামালাকে বদর, ওহুদ ও খন্দকের ওপারে আটকিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে মদিনার মুসলিম গৃহে ও মুসলিম মহল্লায় তারা ঢুকতে পারিনি। ফলে সেখানে শত্রুরা গণহত্যা চালাতে পারিনি। এবং মুসলিম জীবন থেকে শরিয়াও বিলুপ্ত করতে পারিনি। কিন্তু বাংলাদেশে ইসলামের শত্রুপক্ষ শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উপর নয়, প্রতিটি মহল্লা, প্রতিটি গৃহ ও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উপর পূর্ণ দখলদারি প্রতিষ্ঠা করেছে। বিদ্যালয়ে কি শেখানো হবে, আদালতে কোন আইনে বিচার হবে, কে স্বাধীনতা পাবে, কাকে ফাঁসীতে চড়ানো হবে, কাকে জেলে তোলা হবে এবং কে পাবে নিরাপত্তা – সে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিজ হাতে নিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা। ইসলামকে বিজয়ী করা ও শরিয়া প্রতিষ্ঠার এজেন্ডা নিয়ে রাজনীতি করা ও নির্বাচনে দাঁড়ানোও সে নিষিদ্ধ করেছিল। ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশের সেক্যুলার শাসনতন্ত্রকে সে হাতিয়ার বানিয়েছিল।
বাংলাদেশে ইসলামের শত্রুপক্ষ ধীরে ধীরে দখল জমিয়েছে সর্বত্র জুড়ে। অথচ প্রতিরোধে বাঙালি মুসলিমগণ জিহাদে নামেনি। তাদের জীবনে কখনোই বদর, ওহুদ ও খন্দক আসেনি। বদর, ওহুদ ও খন্দকের জিহাদ তো তাদের জীবনেই আসে যারা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে নামে। জিহাদ হলো নবীজী (সা:)’য়ের সর্বশ্রেষ্ঠ সূ্ন্নত; সে সূন্নত তারা পরিত্যাগ করেছে বহু আগেই। মহান আল্লহতায়ালার সাথে এটি এক বিশাল গাদ্দারী। যাদের মধ্যে নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণ নাই, বুঝতে হবে তাদের মাঝে আল্লাহর অনুসরণও নাই। নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণের মধ্য দিয়ে দেখা যায় আল্লাহ তায়ালার অনুসরণ। কারণ, নবীজী (সা🙂 তো তাই করেন, যা আল্লাহ তায়ালা চান। তাই বিপুল অর্থ, শ্রম ও রক্তের কুরবানী দিয়ে নবীজী (সা🙂 যেরূপ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করেন, সেটি ছিল মহান রব’য়ের ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ।
একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বিজয় পায় মহান রব’য়ের এজেন্ডা। নইলে সে পবিত্র এজেন্ডা শুধু পবিত্র কুর’আনেই থেকে যায়। তাই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না দেয়ার অর্থ মহান রব’য়ের এজেন্ডার সাথে গাদ্দারী। অথচ সে গাদ্দারীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে বিজয়ী করা হয়েছে ইসলামের শত্রুপক্ষকে এবং পরাজিত রাখা হয়েছে ইসলামকে। গুরুতর এ অপরাধের সাথে জড়িত এমন প্রতিটি মুসলিম –যারা নিজেদেরকে রাজনীতির ময়দান থেকে স্বেচ্ছায় দূরে সরিয়ে রেখেছে। অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকাকে সওয়াবের কাজ মনে করে। রাজনীতিকে তারা দুনিয়াদারী মনে করে। অথচ দেশ ইসলামের পথে যাবে না কুফরির পথে যাবে, আদালতে শরিয়তি আইন থাকবে কি থাকবে না, বিদ্যালয় কুর’আন শিক্ষা স্থান পাবে কি পাবে না –সে বিষয়টি মসজিদ মাদ্রাসা থেকে ঠিক হয়না। সেটি ঠিক হয় রাজনীতির ময়দান থেকে। তাই নবীজী (সা🙂 রাজনীতির ময়দান ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উপর দখল নিয়েছিলেন। মুসলিম হওয়ার অর্থ তো নবীজী (সা:)’য়ের সে সূন্নতকে অনুসরণ করা।
নবীজী (সা:)’য়ের সে পবিত্র সূন্নত খোলাফায়ে রাশেদাগণ বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বাঙালি মুসলিমদের কাছে নবীজী (সা🙂 ও সাহাবায়ে কেরামের সে সূন্নত আদৌ গুরুত্ব পায়নি। তারা আবিষ্কার করে নিয়েছে এমন এক ইসলাম যেখানে কোন রাজনীতি নাই; নাই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদ। বরং আছে ইসলামের শত্রুপক্ষের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ; আছে নির্বাচনে অর্থ দিয়ে ও ভোট দিয়ে তাদের নির্বাচিত করা। ইসলামের এ শত্রুগণ বাংলাদেশের মত মুসলিম ভূমিতে ইসলামের প্রতিষ্ঠা চায়না। প্রতিষ্ঠা চায়না মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়ার। তারা বাঁচছে ইসলাম বিরোধী শক্তির সামনে আত্মসমর্পণ নিয়ে। অথচ মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো, আত্মসমর্পণ হতে হবে একমাত্র সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে। এবং থাকতে হয়, ইসলামের বিজয়ে সকল সামর্থ্যের বিনিয়োগ। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে যারা সে বিনিয়োগ থেকে দূরে থেকেছে, তাদেরকে মুনাফিক বলা হয়েছে।
নবীজী (সা:)কে স্বচোখে দেখা, তাঁর কথা শোনা এবং তাঁর পিছনে নামাজ পড়াটি ছিল রীতিমত ভাগ্যের ব্যাপার। তাঁর সান্নিধ্যে এসে বহু শত মানুষ সমগ্র মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবে পরিণত হয়েছে। মহান রব তাদের ঈমান ও আমল দেখে যে খুশি হয়েছেন -সে বয়ান এসেছে পবিত্র কুর’আনে । তবে এটিও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যে, নবীজী (সা:)’য়ের পিছনে নামাজ পড়ে, রোজা রেখে এবং যাকাত দিয়েও তিন শতের বেশি মানুষ মুনাফিক হয়েছে। মুনাফিক হওয়ার কারণ, তারা অংশ নেয়নি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে। কিন্তু ইতিহাসের সে গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু থেকে অধিকাংশ বাঙালি মুসলিম শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের মত বহু মুসলিম দেশে মুসলিম জনসংখ্যা বিপুল ভাবে বাড়লেও তাদের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হচ্ছে না। ফলে মুসলিম ভূমিতে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া। অথচ মহান আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব ভূমিতে তাঁর সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়তি বিধানকে পরাজিত রাখার অপরাধটি গুরুতর। এরূপ অপরাধ প্রতিশ্রুত আযাব নামিয়ে আনে। সে আযাব যেমন নমরুদ ফিরাউন, হালাকু চেঙ্গিস ও মুজিব হাসিনার ন্যায় নৃশংস অপরাধীদের শাসন রূপে হাজির হয়, তেমনি আখেরাতে হাজির করে জাহান্নামের আগুনে। অথচ সে আযাব থেকে নিজে বাঁচার ও অন্যদের বাঁচানোর কোন উদ্যোগই নাই। সে আযাব থেকে বাঁচার একটিই মাত্র পথ, সেটি জিহাদ এবং জিহাদের মধ্য দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। সে জিহাদ যেমন প্রতিশ্রুত রহমত নামিয়ে আনে, তেমনি আনে বিজয়ও। কিন্তু সে হুশ ও সে দায়বোধ নিয়ে ক’জন মুসলিম বাঁচছে? ১৯/০৯/২০২৬
ANNOUNCEMENT
ওয়েব সাইটটি এখন আপডেট করা হচ্ছে। আগের লেখাগুলো নতুন ওয়েব সাইটে পুরাপুরি আনতে কয়েকদিন সময় নিবে। ধন্যবাদ।
LATEST ARTICLES
- বাংলাদেশ রাষ্ট্র: আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শো‘কেস
- The Ideological Engineering in the Muslim World & the Catastrophic Outcomes
- রাজনীতিতে সিরাতাল মুস্তাকীম ও সিরাতাদ দোয়াল্লিন
- এ জীবন কিরূপে বিফল হয় এবং কিরূপে সফল হয়?
- রাষ্ট্রই যখন নাশকতার হাতিয়ার
বাংলা বিভাগ
ENGLISH ARTICLES
RECENT COMMENTS
- Fazlul Aziz on The Israeli Crimes, the Western Complicity and the Muslims’ Silence
- Fazlul Aziz on India: A Huge Israel in South Asia
- Fazlul Aziz on ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসালিমক রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- Fazlul Aziz on বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ
- Fazlul Aziz on Gaza: A Showcase of West-led War Crimes and the Ethnic Cleansing
ARCHIVES
- October 2026
- September 2026
- August 2026
- July 2026
- June 2026
- May 2026
- April 2026
- March 2026
- February 2026
- January 2026
- December 2025
- November 2025
- October 2025
- September 2025
- August 2025
- July 2025
- June 2025
- May 2025
- April 2025
- March 2025
- February 2025
- January 2025
- December 2024
- October 2024
- September 2024
- August 2024
- July 2024
- June 2024
- May 2024
- April 2024
- March 2024
- February 2024
- January 2024
- December 2023
- November 2023
- October 2023
- September 2023
- August 2023
- July 2023
- June 2023
- May 2023
- April 2023
- March 2023
- January 2023
- December 2022
- November 2022
- October 2022
- September 2022
- August 2022
- July 2022
- June 2022
- May 2022
- April 2022
- March 2022
- February 2022
- January 2022
- November 2021
- October 2021
- September 2021
- August 2021
- July 2021
- June 2021
- May 2021
- April 2021
- March 2021
- February 2021
- January 2021
- December 2020
- November 2020
- October 2020
- April 2020
- March 2020
- February 2020
- January 2020
- December 2019
- November 2019
- October 2019
- September 2019
- August 2019
- July 2019
- June 2019
- May 2019
- April 2019
- March 2019
- February 2019
- January 2019
- December 2018
- November 2018
