যেভাবে চাপানো হলো একাত্তরের যুদ্ধ এবং হাতছাড়া হলো অভূতপূর্ব সুযোগ
- Posted by Dr Firoz Mahboob Kamal
- Posted on December 20, 2025
- Bangla Articles, Bangla বাংলা, বাংলাদেশ
- No Comments.
ফিরোজ মাহবুব কামাল
যেভাবে চাপানো হলো যুদ্ধ
একাত্তরের যুদ্ধ পাকিস্তান সরকার ডেকে আনেনি। কারণ সে মুহুর্তে পাকিস্তানের জন্য সেরূপ একটি যুদ্ধের প্রয়োজন ছিলনা; আয়োজনও ছিল না। একটি দেশের সরকার একমাত্র তখনই যুদ্ধ শুরু করে যখন শত্রু দেশ দ্বারা আক্রান্ত হয় অথবা নতুন দেশ জয়ের স্বপ্ন দেখে। ১৯৭১’একাত্তরে কোন নতুন দেশ দখলের স্বপ্ন পাকিস্তান সরকারের ছিল না। যুদ্ধের প্রস্তুতি থাকলে কি পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে একাত্তরের মার্চ মাসে মাত্র এক ডিভিশন সৈন্য অর্থাৎ ১৩ বা ১৪ হাজার সৈন্য রাখতো? সে সময় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া সরকার ব্যস্ত ছিল নির্বাচন শেষে ক্ষমতা হস্তান্তরের। অথচ মুজিবের এজেন্ডা ছিল পাকিস্তান ভাঙা ও বিচ্ছিন্ন এক বাংলাদেশের নির্মাণ -সেটি ষাটের দশ থেকেই। তাই শেখ মুজিব ও তার দল আওয়ামী লীগ পরিকল্পিত ভাবেই ১৯৭১’য়ের যুদ্ধ ডেকে আনে। কারণ যুদ্ধ ছাড়া মুজিবের পক্ষে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ বানানো অসম্ভব ছিল। ফলে তার পক্ষে আদৌ সম্ভব ছিল না ক্ষমতায় যাওয়া। অথচ নির্বাচনী বিজয়ের পর ক্ষমতাপাগল মুজিবের পক্ষে ক্ষমতার বাইরে থাকা অসম্ভব ছিল। তাই ভারতকে যুদ্ধে ডেকে আনে। আর ভারত এমন একটি যুদ্ধের জন্য ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই ছিল দু’পায়ে খাড়া। মুজিব সেটি জানতো; তাই সে পাকিস্তান ধ্বংসে ভারতের পার্টনারে পরিণত হয় এবং ১৯৭১’য়ে যুদ্ধ ডেকে আনে। আর যে যুদ্ধ ডেকে আনে, সেই তো যুদ্ধাপরাধী। কারণ, যুদ্ধ ডেকে আনার অর্থ ধ্বংস ও রক্তপাতকে ডেকে আনা।
তাছাড়া মুজিবকে ক্ষমতায় বসানোর মধ্যে ভারতেরও বিশাল স্বার্থ ছিল। মুজিবকে ক্ষমতায় বসানোর অর্থই ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি, প্রতিরক্ষা নীতি, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর ভারতের পূর্ণ দখলদারি ও লুটপাটের অবাধ সুযোগ -যা মুজিব আমলে দেখা গেছে। বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে মুজিব যা কিছু নির্বাচনী প্রচার কালে বলেছে তা ছিল ভোটারদের ধোকা দেয়ার কৌশল মাত্র। গণতন্ত্রের প্রতি এতো দরদ থাকলে মুজিব কেন গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা দিবে? কেন রক্ষীবাহিনী দিয়ে হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করবে? কেন সকল বেসরকারি পত্র-পত্রিকা নিষিদ্ধ করবে? আর অর্থনৈতিক মুক্তি? মুজিব তো দিয়েছে চুরি-ডাকাতি, লুণ্ঠন, কালোবাজারী ও ভারতে সম্পদ পাচারের অর্থনীতি। ধ্বংস করেছে পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত শিল্প কলকারখানা ও ব্যাংকগুলিকে। ৮ আনা সের চাল খাওয়ানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনেছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ -যাতে অনাহারে মারা যায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনা যেভাবে ব্যর্থ করা হলো
১৯৭১’য়ের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ইয়াহিয়ার সাথে চলা মুজিবের আলোচনা পরিকল্পিত ভাবেই ব্যর্থ করে দেয়া হয়। সে আলোচনা সফল করায় মুজিবের যেমন সামান্যতম আগ্রহ ছিলনা, তেমনি আগ্রহ ছিল না তার অনুসারী উগ্র আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগ নেতাদের। ছাত্র লীগের সিরাজুল আলম খান, আসম রব, আব্দুর রাজ্জাকের মত নেতারা মুজিবের উপর চাপ দিচ্ছিল ইয়াহিয়া ও ভূট্টোর সাথে আলোচনা বর্জন করতে এবং অবিলম্বে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করতে। এসব নেতারা এমন কি মুজিবের স্ত্রীকে দিয়েও মুজিবের উপর চাপ দিয়েছিল ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনা পরিহার করতে। এসব নেতারা সেসব কথা পরে নিজেরাই পত্রিকায় প্রকাশ করেছে। আলোচনা শুরু হওয়ার ২ সপ্তাহ আগেই ছাত্র লীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ভারতও চাচ্ছিল না, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে মুজিবের আলোচনা সফল হোক। তারা সবাই চাচ্ছিল, আলোচনা বর্জন করে মুজিব সত্বর স্বাধীনতার ঘোষণা দিক এবং যুদ্ধ শুরু করুক।
মুজিবের লক্ষ্য যদি গণতন্ত্র বাঁচানো ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া হতো, তবে সে লক্ষ্য হাছিলে একাত্তরের যুদ্ধের প্রয়োজন পড়তো না। কারণ, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, জুলফিকার আলী ভূট্টো এবং অন্যান্য দলের নেতারা মুজিবকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে রাজী ছিল। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান মুজিবকে পাকিস্তানের আগামী প্রধানমন্ত্রী রূপে ঘোষণাও দিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে রাজী ছিল না খোদ শেখ মুজিব। কারণ, মুজিব জানতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলে আগরতলা ষড়যন্ত্রে পরিকল্পিত বাংলাদেশ নির্মাণের কাজটি হতো না। এবং তাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তান ভাঙার কাজটি হতো না। মুজিব তাই পরিকল্পিত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে এবং সে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নির্মাণের দিকে।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া সাথে আলোচনা সফল হলে পাকিস্তানের অখণ্ডতা বেঁচে যেত। অথচ মুজিব সেটিই চাচ্ছিল না। সর্বশেষে শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে দাবী তুলেছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক আইন ও সামরিক বাহিনী তুলে নিয়ে তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের। পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টিই মুজিব আলোচনা থেকেই বাদ দেয়। মুজিবের সে চাল ইয়াহিয়া বুঝতে পারে। ইয়াহিয়ার কাছে মুজিবের সে প্রস্তাবটি যুদ্ধ ছাড়াই পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল মনে হয়েছিল। এতে ২৩ মার্চ আলোচনার সমাপ্তি ঘটে। মুজিবের অনুসারীরা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক ভারতে আশ্রয় নেয়া শুরু করে এবং ভারতের অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। তবে ভারতে যাওয়ার সময় দেশের ব্যাংকগুলি থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ শত শত কোটি টাকার অর্থ লুট করে ভারতে নিয়ে যায়।
১৯৭১’য়ের সাড়ে ৮ মাসের যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী কোন একটি জেলা দূরে থাক, একটি থানাও স্বাধীন করতে পারিনি। মুক্তিবাহিনীর সে ব্যর্থতা দেখে ২১ নভেম্বর তারিখে খোদ ভারতীয় সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তে হামলা করে এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভ করে। বস্তুত অবিকল এমন একটি যুদ্ধের পরিকল্পনা ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্রের রোডম্যাপেও। ভারত জানতো পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাত্র এক ডিভিশন সৈন্যের অবস্থান, এবং তার মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার সৈন্য ও বহু অফিসারই হলো বাঙালি। সকল পুলিশ ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (আজকের বিজিবি)’য়ের প্রায় সকল সেপাহী ছিল বাঙালি। ফলে ধারণা করা হয়েছিল বিদ্রোহের ডাক দিলে পাকিস্তান সেনা বাহিনী সহজেই পরাজিত হবে এবং পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হবে। পরিকল্পিত সে বিদ্রোহের ডাকটি দিয়েছিল মেজর জিয়া। ফলে একাত্তরের যুদ্ধ এবং যুদ্ধজনীত যত প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য দায়ী শেখ মুজিব ও ভারত। কারণ যুদ্ধ কখনোই ফুলের মালা নিয়ে হাজির হয় না। যুদ্ধ মানেই প্রানহানী ও ক্ষয়ক্ষতি। তাই যুদ্ধকে যারা অনিবার্য করে তারাই সে ক্ষয়ক্ষতির জন্য মূল দায়ী।
যুদ্ধ কিভাবে অনিবার্য করা হলো?
মুজিবের রাজনীতির মূল এজেন্ডা ছিল পাকিস্তান ভাঙা ও এক বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশ সৃষ্টি। সেটি ১৯৪৭ সালে থেকেই। মুজির তার সে এজেন্ডার কথাটি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারীর সোহরাওয়ার্দী উদ্দানের জনসভায় বলেছিল। এ নিবন্ধের লেখক মুজিবের সে উক্তিটি সেদিন নিজ কানে শুনেছিল। সেদিন মুজিবের উক্তিটি ছিল: “স্বাধীন বাংলাদেশ বানানোর লড়াই ১৯৭১ থেকে নয়, ১৯৪৭ থেকে শুরু করেছিলাম।” মুজিবের মুখ থেকে সে কথা শুনে সেদিন তাকে প্রচণ্ড প্রতারক মনে হয়েছিল। মুজিব তার মনের কথাটি লুকিয়ে রেখে জনসভা গুলিতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। এমন কি ৭ মার্চের ভাষণেও মুজিব পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়েছিল। এ নিবন্ধের লেখক সেদিনও রেস কোর্সের ময়দানের জনসভায় উপস্থিত থেকে মুজিবের মুখ থেকে উচ্চারিত পাকিস্তান জিন্দাবাদ ধ্বনি শুনেছিল। এসবই ছিল প্রতারণা। পাকিস্তান ভাঙার সে অভিন্ন এজেন্ডাটি ছিল ভারতেরও। ষাটের দশক থেকেই মুজিব ভারতীয় RAW এজেন্টদের সাথে মেলে পাকিস্তান ভাঙার প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিল। ইতিহাসে এটিই আগরতলা ষড়যন্ত্র নামে পরিচিত। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানী সামরিক গোয়েন্দাদের কাছে মুজিবের সে ষড়যন্ত্র ধারা পড়ে। মুজিবকে গ্রেফতারা করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনের চাপে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু মামলা তুলে নিলেও শেখ মুজিব ও ভারতের পাকিস্তান ভাঙার যৌথ প্রজেক্টের মৃত্যু হয়নি। বরং ১৯৭০ সালে মুজিবের বিশাল নির্বাচনী বিজয় সে আগরতলা ষড়যন্ত্রে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। পাকিস্তান ভাঙার সে এজেন্ডাকে সফল করতেই মুজিব ও ভারত উভয়ে মিলে ১৯৭১’য়ের যুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে। ভারত সরকার ইতোমধ্যেই যুদ্ধে জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ রুখতে ভারত সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তখন চলছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সোভিয়ের রাশিয়ার প্রবল স্নায়ু যুদ্ধ। পাকিস্তান মার্কিন বলয়ের রাষ্ট্র রূপে পরিচিত হওয়ায় সহজেই সোভিয়েত রাশিয়ার টার্গেটে পরিণত হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ যে অনিবার্য ও অতি আসন্ন -সেটি প্রেসিডন্ট ইয়াহিয়া খান একাত্তরের সেপ্টম্বরে মাসে টের পান। তখন সে যুদ্ধ এড়াতে ঐ মাসেই তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার মি. জয় কুমার অটালকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রশ্নে রেফারেন্ডামের প্রস্তাব দিয়ে ইন্দিরার সাথে আলোচনার কথা বলেন। মি. অটাল দিল্লি যান। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধি প্রেসিডন্ট ইয়াহিয়া সে প্রস্তাব নাকোচ করে বলেন, ১৯৭০’য়ের নির্বাচনে শেখ মুজিবের বিজয়ই সে স্বাধীনতার প্রশ্নে জনগণের রায়। অতএব নতুন কোন রেফারেন্ডামের প্রয়োজন নাই। (সূত্র: Richard Sisson and Leo E. Rose; War and Secession: Pakistan, India and the Creation of Bangladesh, University of California Press, 1990.)
অথচ ইন্দিরা গান্ধির সে বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। ১৯৭০’য়ের নির্বাচনটি স্বাধীনতার প্রশ্নে হয়নি। সে নির্বাচন হয়েছিল ৬ দফা ভিত্তিক স্বায়ত্বশাসন ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের ইস্যুতে। ইন্দিরা গান্ধি যদি ইয়াহিয়া খানের সে প্রস্তাব মেনে নিত তবে একাত্তরের রক্তাক্ত যুদ্ধ সহজেই এড়ানো যেত। তখন পাকিস্তানের হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র, সামরিক যান, ট্যাংক ও অন্যান্য মালামাল ভারতে পাচার হতো না, বাংলাদেশেই থেকে যেত। ভারত যুদ্ধ করে স্বাধীনতা দিয়েছে এ যু্ক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশকে যেরূপ ভারতের প্রতি নতজানু হওয়ার যুক্তি পেশ করা হয় -সেটি হতো না। সবই ঘটেছে ভারতের পরিকল্পনা মাফিক। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রস্তাব নাকোচ করে ভারত একটি যুদ্ধকে অনিবার্য করে। পরিতাপের বিষয়, এ নিয়ে বাংলাদেশের বাঙালি ফ্যাসিস্ট, বাঙালি সেক্যুলারিস্ট ও বাঙালি কম্যুনিস্টগণ খামোশ। তারা একাত্তরের যুদ্ধের জন্য দোষ চাপায় পাকিস্তানের ঘাড়ে এবং বলে পাকিস্তানই যুদ্ধ শুরু করে। অথচ এটি নিরেট মিথ্যাচারপূর্ণ ভারতীয় বয়ান।
ভারতীয় সেনাবাহিনী কেন ১৯৭১’য়ের ২১ নভেম্বর যুদ্ধ শুরু করলেো তার কিছু বিবরণ পাওয়া যায় ডা: কালিদাস বৈদ্যের লেখা এবং কলকাতা থেকে প্রকাশিত তার “বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের অন্তরালের শেখ মুজিব” বইয়ে। ডা: কালিদাস বৈদ্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW’য়ের ভিতরের লোক। ১৯৪৭’য়ে পাকিস্তান সৃষ্টির পর কালিদাস বৈদ্য ভারতে চলে যায়। কিন্তু পাকিস্তান ভাঙার মিশন নিয়ে আবার পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসে এবং থেকে যায়। তার সে পরিকল্পনায় সহযোগী ছিল চিত্তরঞ্জন সুতোর। তারা দুই জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। জড়িত ছিল পাকিস্তান ভাঙার ভারতীয় প্রকল্পের সাথেও। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থাতেই কালিদাস বৈদ্য ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হয় এবং সম্পর্ক গড়ে তোলে শেখ মুজিবের সাথে।
ডা: কালিদাস বৈদ্য তার বইয়ের ১৬৪ পৃষ্ঠায় লিখেছে, ১৯৭১’য়ের অক্টোবরের দিকে পূর্ববঙ্গে সর্বত্র শান্ত ভাব ফিরে এলো। কোর্ট কাছারি, অফিস আদালত, হাট বাজার স্বাভাবিক ভাবে চলতে শুরু করলো। পূর্ব পাকিস্তানের কোথাও কোন উত্তেজনা নাই। জীবন যাত্রা সাধারণ ভাবেই চলতে শুরু করলো। মুক্তি ফৌজের নাম গন্ধ সেখানে ছিল না। সে শান্ত পরিবেশ ফিরে আসাতে ইয়াহিয়া খান ও ভূট্টো মুজিবকে বলেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা সম্পূর্ণভাবে শান্ত। মুজিবও নিজেও চারিদিকে খবর নিয়ে জানতে পারে, তাদের কথা সত্য। বিভিন্ন দেশের টিভি দেখে এবং সংবাদপত্র পড়ে এবং রেডিও শুনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রকৃত অবস্থা মুজিব জানতে পরেছিলেন। কেননা তার বন্দিত্ব ছিল সাঁজানো; এসব দেখাশোনার সম্পূর্ণ সুযোগ তার ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের শান্ত অবস্থা দেখে মুজিব বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। তখন ইয়াহিয়া ও ভূ্ট্টো শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুরোধ করেন। মুজিব সে প্রস্তাবে রাজী হন। মুজিবের মতানুসারেই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১’য়ের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকেন।” এরূপ একটি সমাঝোতার খবর ভারতীয় গোয়েন্দা জেনে ফেলে। সেটি বানচাল করতেই ইন্দিরা গান্ধি নভেম্বরেই পূর্ব পাকিস্তানের উপর সামরিক হামালার পরিকল্পনা নেয়। এবং ২১ নভেম্বর ৩ ডিভিশন পাকিস্তানী সৈন্যের বিপরীতে ১০ ডিভিশন ভারতীয় সৈন্য নিয়ে হামলা করে।
তবে সামরিক হামলার আগেই ইন্দিরা গান্ধি আরেকটি ষড়যন্ত্র করে। সেটি হলো তাজুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন প্রবাসী সরকারের সাথে ৭ দফা চুক্তি স্বাক্ষর। এটি ছিল দাসত্বের চুক্তিতে বাংলাদেশকে অধিকৃত রাখার ষড়যন্ত্র। বলা হয়ে থাকে, এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম নাকি বেহুশ হয়ে যায়। সে ৭টি দফা চুক্তি ছিল:
এক). যারা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে, তারাই যোগ্যতা অনুসারে প্রশাসনে থেকে সরকার চালাবে। অন্যরা চাকরিচ্যুত হবে। দরকার হলে ভারতের অভিজ্ঞ কর্মচারিরা শূন্য পদগুলি সাময়িক ভাবে পূরণ করে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।
দুই). যুদ্ধকালে সামরিক প্রধান হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান। তার নির্দেশে যুদ্ধ পরিচালিত হবে।
তিন). বাংলাদেশে কোন সামরিক বাহিনী থাকবে না।
চার). সেনাবাহিনীর বদলে প্যারা মিলিশিয়া থাকবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সাহায্য করবে।
পাঁচ). উভয় দেশের মাঝে থাকবে খোলা বাজার, তবে মাঝে মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নীতি নির্ধারিত হবে।
ছয়). ভারতীয় সেনা বাহিনী অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবে। তবে প্রতিবছর আলোচনার মাধ্যমে তাদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনার সময়কাল নির্দিষ্ট হবে।
সাত). উভয় দেশের সরকারের পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত মতো একটি পররাষ্ট্র নীতিতে চলবে। (সূত্র: কালিদাস বৈদ্য, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের অন্তরালের শেখ মুজিব, ২০০৫।)।
বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা চাইলে আওয়ামী লীগের প্রবাসী সরকার কি কখনো এমন দাসত্বের চুক্তি স্বাক্ষর করতো? এটি তো সুস্পষ্ট আত্মসমর্পণের দলিল। ভারত যা চাইছে বস্তুত তাই তাজুদ্দীনকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। তাজুদ্দীন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আতাউল গণি ওসমানী এরা সবাই ছিল ভারতের ঘরে মেহমান। ভারতের মেহমানদারী ছাড়া তাদের বাঁচার পথ ছিল না। তারা প্রতিদিন বাঁচছিল ভারতের দেয়া পানাহারে। যুদ্ধের ময়দানেও তারা তাদের নিজেদের ও মুক্তি বাহিনীর সামর্থ্য বুঝতে পেরেছিল। মার্চ থেকে অক্টোবর অবধি যুদ্ধ করে পাকিস্তান ভাঙা দূরে থাক, তাদের পক্ষে পূর্ব পাকিস্তানের একটি থানা বা ইউনিয়নও দখলে নেয়া সম্ভব হয়নি। সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান তখন পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। হাজার হাজার মানুষ তখন রাজাকার বাহিনীততে যোগ দিচ্ছিল। এ অবস্থায় ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতের কাছে আব্দার করছিল, পাকিস্তান ভেঙে ও বাংলাদেশ সৃষ্টি করে তাদের জন্য দেশে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি করা হোক। আওয়ামী লীগ নেতাদের সে অসহায় অবস্থা থেকে ৭ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়েছে।
যে সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে গেল
অখণ্ড পাকিস্তান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ কখনোই ভারতের অধিনত গোলাম রাষ্ট্র হতো না। তখন আজকের ন্যায় বাঙালি মুসলিমদের প্রতিদিন ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় নিয়ে বাঁচতে হতো না। ৫৪টি নদীর পানি ভারতের হাতে লুণ্ঠিত হতো না। গণতন্ত্রকে কবরে যেত হতো না। এবং আলেমদের গণহত্যা ও ফাঁসির মুখে পড়তে হতো না। দেশের সেনানীবাসে নির্মিত হতো না আয়না ঘর। সংঘটিত হতো না পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারের হত্যা কাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের গণহত্যা। অখণ্ড পাকিস্তান বেঁচে থাকলে দেশটি পরিণত হতো ৪৪ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক রাষ্ট্র। তখন মুসলিম উম্মাহ পেত পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি অভিভাবক রাষ্ট্র। সম্প্রতি (১৭/৯/২০২৫ তারিখে) তেল সম্পদ সমৃদ্ধ সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। এটিকে অনেকে মুসলিম ন্যাটো বলছে –যা পাল্টে দিবে আগামী দিনের ভূ-রাজনীতি।
বিশ্বজুড়ে এখন নিরাপত্তা সংকট -বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর জন্য। বিলুপ্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন। ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে দুই বছর ধরে। ইসরাইল হলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নির্মাণের পথে বিশাল বাধা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকায় ইসরাইল অপ্রতিরোধ্য। সংকটই সমাধানের জন্ম দেয়। তাই অনিবার্য হয়ে উঠেছে মুসলিম ন্যাটা। আশা করা হচ্ছে, এ মুসলিম ন্যাটোতে অচিরেই যোগ দিবে কাতার, আমিরাত, ওমান ও কুয়েতসহ অনেক মুসলিম দেশ। যোগ দিতে পারে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিশর। কারণ ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়ার এবং সর্বশেষে কাতারের উপর ইসরাইলী হামলার পর উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির নিরাপত্তা এখন মহা সংকটে। তেল সমৃদ্ধ আরব দেশগুলি অর্থ সম্পদ থাকলেও তাদের প্রযুক্তিগত শক্তি নাই। সামরিক বলও নাই। পাকিস্তান ও তুরস্ক সে অভাব পূরণ করতে পারে।
নিজ ভূমির বাইরে কাতারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি, কিন্তু তাতে কাতার ইসরাইলী মিজাইল থেকে বাঁচেনি। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিয়েই ইসরাইল কাতারে হামলা করেছে। ফলে ভয় ঢুকেছে সৌদি আরবসহ ও তেল সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর। অথচ সৌদি আরব একাই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশী বিণিয়োগ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। শত শত ডলার বিনিয়োগ করেছে কাতার। কিন্তু তাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। এখন কদর বেড়েছে পারমাণিক শক্তিধর পাকিস্তানের। এখন আশা করা যায় তারা শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে পাকিস্তানে। তাতে পাকিস্তানে বাড়বে দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। তাই ভারত ও ইসরাইলে কাঁপন শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের জনশক্তি, সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক প্রযু্ক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অঢেল তেল সম্পদ এ মুসলিম ন্যাটোকে শক্তিশালী করবে। এবং পাশে থাকবে মার্কিন বিরোধী চীন এবং রাশিয়া। মুসলিম বিশ্বের জন্য এটি এক নতুন সম্ভাবনা।
অখণ্ড পাকিস্তানের মানচিত্রে পূর্ব পাকিস্তান থাকলে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠি রূপে বাঙালি মুসলিমগণ সুযোগ পেত বিশ্ব রাজনীতি ও বিশ্বের প্রতিরক্ষা নীতিতে প্রভাব ফেলার অভুতপূর্ব সুযোগ। তখন বাঙালি মুসলিমদের মন থেকে বিলুপ্ত হতো ভারত ভীতি। পূর্ব পাকিস্তান পেত উপসাগরীয় দেশ থেকে বিপুল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ। কিন্তু পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসাতে বাঙালি মুসলিমের সে বিশাল সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটেছে। আর এতে খুশি হয়েছে শয়তান এবং শয়তানের মিত্র ইসলামের শত্রু পক্ষ। কারণ, যেখানেই বাঙালি মুসলিমের ক্ষতি, সেখানেই তাদের বিজয় ও আনন্দ। ১৬ ডিসেম্বরে তারা সেরূপ এক বিজয় পেয়েছিল। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান সেদিন ভেঙে যায়। মুসলিমদের জন্য সেটি তো মাতমের দিন। অথচ মুসলিম উম্মাহ ও বাঙালি মুসলিমের শত্রুগণ সে বিজয় নিয়ে প্রতিবছর হিন্দুত্ববাদী ভারতের সাথে মিলে উৎসব করে।
বড়ই তাজ্জবের বিষয় হলো, ১৬ ডিসেম্বর এলে বহু ইসলামপন্থী দল ও তাদের নেতাকর্মীরাও বিজয় দিবস রূপে উৎসব করে। প্রশ্ন হলো, মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি ও শক্তিহানী এবং ভারতের ন্যায় কাফির শক্তির বিজয় নিয়ে যারা উৎসব করে, তারা কি কখনো মহান আল্লাহতায়ালার রহমত পেতে পারে? ভারতীয় কাফির শক্তির অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বে পাকিস্তানের ন্যায় একটি মুসলিম দেশ ভাঙার যুদ্ধকে যারা মহান মুক্তি যুদ্ধ বলে এবং ভারতের বিজয়কে যারা নিজেদের বিজয় বলে উৎসব করে, তারা নামাজী, হাজী, মুফতি, ইমাম ও ইসলামী দলের আমির বা নেতা হতে পারে, কিন্তু তারা যে মহান আল্লাহ তায়ালা এজেন্ডা ও শয়তানের এজেন্ডা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে – তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ থাকে? মুসলিম উম্মাহর আজকের ব্যর্থতার মূল কারণ রাষ্ট্র, মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামী দল, নেতা-কর্মী, নামাজী, রোজদার ও হাজীর কমতি নয়, বরং এই প্রকট বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতা।
ANNOUNCEMENT
ওয়েব সাইটটি এখন আপডেট করা হচ্ছে। আগের লেখাগুলো নতুন ওয়েব সাইটে পুরাপুরি আনতে কয়েকদিন সময় নিবে। ধন্যবাদ।
LATEST ARTICLES
- হারাম যুদ্ধ, হালাল যুদ্ধ, একাত্তরের যুদ্ধ এবং প্রতারক মুজিব
- বাংলাদেশের জন্মের বৈধতার সংকট
- নির্বাচন হোক দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ
- মার্কিনী জঙ্গলতন্ত্রের বিপদ: স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে ভূগোল বদলাতে হবে
- স্বাধীনতা ও ইসলামী রাষ্ট্রবিপ্লবের স্বার্থে একাত্তরের বয়ানের দাফন কেন জরুরি?
বাংলা বিভাগ
ENGLISH ARTICLES
RECENT COMMENTS
- Fazlul Aziz on The Israeli Crimes, the Western Complicity and the Muslims’ Silence
- Fazlul Aziz on India: A Huge Israel in South Asia
- Fazlul Aziz on ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসালিমক রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- Fazlul Aziz on বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ
- Fazlul Aziz on Gaza: A Showcase of West-led War Crimes and the Ethnic Cleansing
ARCHIVES
- January 2026
- December 2025
- November 2025
- October 2025
- September 2025
- August 2025
- July 2025
- June 2025
- May 2025
- April 2025
- March 2025
- February 2025
- January 2025
- December 2024
- October 2024
- September 2024
- August 2024
- July 2024
- June 2024
- May 2024
- April 2024
- March 2024
- February 2024
- January 2024
- December 2023
- November 2023
- October 2023
- September 2023
- August 2023
- July 2023
- June 2023
- May 2023
- April 2023
- March 2023
- January 2023
- December 2022
- November 2022
- October 2022
- September 2022
- August 2022
- July 2022
- June 2022
- May 2022
- April 2022
- March 2022
- February 2022
- January 2022
- November 2021
- October 2021
- September 2021
- August 2021
- July 2021
- June 2021
- May 2021
- April 2021
- March 2021
- February 2021
- January 2021
- December 2020
- November 2020
- October 2020
- April 2020
- March 2020
- February 2020
- January 2020
- December 2019
- November 2019
- October 2019
- September 2019
- August 2019
- July 2019
- June 2019
- May 2019
- April 2019
- March 2019
- February 2019
- January 2019
- December 2018
- November 2018
