মুসলিমদের সকল ব্যর্থতার মূল কারণ: ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতা
- Posted by Dr Firoz Mahboob Kamal
- Posted on August 17, 2026
- Bangla Articles, Bangla বাংলা, মুসলিম জাহান
- No Comments.
ফিরোজ মাহবুব কামাল
পূর্ণ ইসলাম পালন অসম্ভব অনৈসলামী রাষ্ট্রে
মুসলিম উম্মাহর জীবনেো আজ নানা রূপ ব্যর্থতা; তবে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি হলো ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতা মুসলিম উম্মাহর সকল অর্জনকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে এবং দ্রুত ধাবিত করছে পতনের দিকে। এবং সবচেয় ভয়ানক ব্যর্থতাটি অপেক্ষা করছে আখেরাতে। বেশি বেশি রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কল কারখানা, কলেজ বিশ্ববিদ্বালয় নির্মাণ করেও পতনের পথে এ যাত্রা থামানো যাচ্ছে না। যাত্রীদের ভাষা, গায়ের রং বা বেশভুষার কারণ গন্তব্য পৌঁছা কখন অসম্ভব হয়না। বরং অসম্ভব হয় গাড়িটি অচল হলে বা অজ্ঞ ও অযোগ্য চালকের হাতে পড়লে। তেমনি একটি জাতির জীবনে অতি গুরুতপূর্ণ হলো রাষ্ট্র। জনগণ কতটা সভ্য, ভদ্র ও পরিশুদ্ধ জীবন পাবে এবং জান্নাতের যোগ্য রূপে বেড়ে উঠবে সেটি তাদের পানাহার, ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর উপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে রাষ্ট্র কতটা সফল ভাবে নির্মিত হলো ও পরিচালিত হলো -তার উপর। তেমনি জাতি কতটা অসভ্য, দুর্বৃত্ত ও জাহান্নামের বাসিন্দা রূপে বেড়ে উঠবে -সেটিও নির্ভর করে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার উপর। অর্থাৎ একটি জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করে তার রাষ্ট্র। মরুবাসী গোত্রীয় মানুষদের থেকে উন্নত রাষ্ট্রে বসবাসকারি মানুষের গুণাগুণ এজন্যই ভিন্নতর হয়।
মহান নবীজী তাই শুধু কালেমা, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও অজু মেছওয়াক শেখানোর জন্য আসেননি; তিনি এসেছিলেন একটি আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জন্যও। এবং সে রাষ্ট্রের নির্মাণই ছিল নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবনের সবচেয়ে ব্যয় বহুল কাজ। অর্ধেকের বেশি সাহাবী সেকাজে শহীদ হয়ে গেছেন। সে যুগের গোত্রে গোত্রে বিভক্ত অসভ্য আরবগণ যেভাবে দ্রুত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও বিশ্ব শক্তির মর্যাদা পেল, তার কারণটি তাদের নামাজ রোজা. হজ্জ যাকত ও তাসবিহ পাঠ ছিল না। বরং সেটির কারণ ছিল ইসলামী রাষ্ট্র -যা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল নবীজী (সা:)। সে রাষ্ট্রটির প্রতিষ্ঠা নবীজী (সা:)’য়ের কাছে এতোই গুরুত্ব পেয়েছিল যে, মদিনায় হিজরতের পর নিজের জন্য গৃহ নির্মাণ না করে রাষ্ট্র নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন। তাঁর নির্মিত সে রাষ্ট্রই হলো মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র। এবং সে রাষ্ট্রের উপর নির্মিত হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা। শিক্ষা ফরজ হয় প্রতিটি নর-নারীর উপর। প্রতিষ্ঠা পায় আইনের শাসন, নারীরা পায় সমঅধিকার এবং পায় সম্পদের উপর অধিকার। দাসেরা পায় স্বাধীন জীবনের স্বাদ। অথচ এর আগে আরবের বুকে কোন রাষ্ট্র ছিল না। তৎকালীন দু’টি বিশ্ব শক্তি পারস্য সাম্রাজ্য ও রোমান সাম্রাজ্যের শাসকদের নজরে মরুবাসী আরবদের গুরুত্ব এতোই কম ছিল যে. আরব ভূমি দখলে নেয়ার জন্য তারা কোন চেষ্টাই করিনি। অথচ নবীজী (সা:)’য়ের নির্মিত রাষ্ট্রের বদৌলতে তাঁরা পায় বিশ্বশক্তির সম্মান। সেরূপ একটি রাষ্ট্রের নির্মাণ হলো আজকের মুসলিম জীবনের সবচেয়ে উপেক্ষিত ও অবহেলিত খাত।
ইসলাম শুধু আল্লাহ তায়ালা, নবী রাসূল, ফিরেশতা, আখেরাত ও কুর’আনের উপর বিশ্বাসের কথা বলে না। শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়া দরুদ পালন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম নয়। বরং পূর্ণ ইসলাম পালনে প্রতিষ্ঠা দিতে হয় ইসলামের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, শিক্ষা সাংস্কৃতিক, বৈচারিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ বিষয়ক সকল কুর’আনী নির্দেশনাকে। ইসলামী রাষ্ট্র দেয় সে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনের সহায়ক রাষ্ট্রীয় সামরিক ও বেসামরিক প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠা দেয় সহায়ক আদর্শিক, রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ। অনৈসলামী রাষ্ট্রে সে সুযোগ কখনো মেলে না। এমন কি সুযোগ মেলে না আদালতে শরিয়া পালন, শাসনতন্ত্রে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, স্কুল কলেজে কুর’আন শিক্ষা, সমাজ থেকে পাপাচার নির্মূল, মসজিদ নির্মাণ ও হিজাব পরিধানের ন্যায় ইসলামী অনুশাসন নিয়ে বাঁচা। ইসলাম পালনের অর্থ পূর্ণ ইসলাম পালন; এখানে আংশিক ইসলাম পালনের কোন সুযোগ নাই। নবীজী (সা:)ও পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনের সুযোগ তাঁর জন্ম ভূমি মক্কাতে পাননি; তাঁকে মদিনায় হিজরত করতে হয়েছে এবং সেখানে পূর্ণ ইসলাম পালন নিশ্চিত করতে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিতে হয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে হিজরত তাই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নবীজী (সা:) তাঁর ১০ বছরের মাদানী জীবনকে কাজে লাগিয়েছেন ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে এবং পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠা দিতে। খোলাফায়ে রাশেদার আমলে সাহাবাগণ বেঁচেছিলেন সে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের পূর্ণ পালন নিয়ে এবং নবীজী (সা)’য়ের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রকে আরো শক্তিশালী করে। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলিমগণ পরিণত হয় বিশ্বশক্তিতে। মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো সে ঈমানী দায় নিয়ে আমৃত্যু বাঁচা। নইলে ঈমান নিয়ে বাঁচাতে চরম ফাঁকিবাজি হয়; আর সে ফাঁকিবাজির নাম হলো মুনাফিকি।
পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনে অপরিহার্য হলো ইসলামী রাষ্ট্র
নবীজী (সা:)’য়ে যে নফল ইবাদতগুলি পালন করেছিলেন সেগুলি আজ পালিত হয় সূন্নত রূপে। নবীজী (সা:)’য়ের সে নফলগুলি পালন না করলে কেউ কাফির হয়না। অথচ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি নবীজী (সা:)’য়ের কোন নফল কর্ম ছিল না। সেটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কর্ম। সে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা না পেলে মহান রব’য়ের ভূ-রাজনৈতিক, বৈচারিক ও জনকল্যাণ মূলক এজেন্ডা, তাঁর সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন স্রেফ কিতাবে থেকে যেত। তখন ব্যর্থ হয়ে যেত কুর’আন নাযিল ও নবী প্রেরণের মুল উদ্দেশ্য। মুসলিমদের তাই শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের ন্যায় ইবাদতগুলি পালনের ক্ষেত্রে নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণ করলে চলে না, অনুসরণ করতে হয় তাঁর রাষ্ট্র নির্মাণের সূন্নতগুলিও। নইলে তাঁর অনুসরণের কাজটি হয়না; বরং বিদ্রোহ হয়। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশের ন্যায় অধিকাংশ দেশের মুসলিমগণ রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্র নবীজী (সা:)’য়ের শেখানো পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী। আর যাদের বিদ্রোহ নবীজী (সা:)’য়ের বিরুদ্ধে, তাদের বিদ্রোহ তো আল্লাহর বিরুদ্ধেও। এরূপ বিদ্রোহ নিয়ে কি কেউ মুসলিম হতে পারে?
মুসলিমদের উপর ফরজ হলো পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন। আংশিক ইসলাম পালনের কাজটি ঈমানদারের কাজ নয়; সেটি শয়তানের। শয়তান সে পথে গিয়ে অভিশপ্ত হয়েছে। শয়তানের অপরাধ, সে মহান রব’য়ের একটি মাত্র হুকুম অমান্য করেছিল। সে হুকুমটি ছিল হযরত আদম (আ:)কে সিজদার। আর আজকের মুসলিমগণ বিদ্রোহে শয়তানকে ছাড়িয়ে গেছে। তারা বিদ্রোহ করছে মহান রব’য়ের বহু হুকুমের বিরুদ্ধে। সে বিদ্রোহের নজির হলো, মুসলিম দেশের আদালতে মহান আল্লাহ শরিয়া নাই; শাসনতন্ত্রে তাঁর সার্বভৌমত্ব নাই। পতিতাপল্লীগুলিতে চলছে জ্বিনার বাণিজ্য এবং ব্যাংক গুলিতে চলছে সূদ। পূর্ণ ইসলাম পালনের কাজটি শুধু বিপুল সংখ্যায় মসজিদ মাদ্রাসা গড়লে এবং ওয়াজ মহফিল করলে হয়না। শুধু নামাজী, রোজাদার ও হাজীদের সংখ্যা বাড়ালেও হয় না। বাংলাদেশে কি তাদের সংখ্যা কম? কিন্তু তাতে কি পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন হচ্ছে? প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কি মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া? নির্মূল হয়েছে কি দুর্বৃত্তি?
পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনের জন্য অতি অপরিহার্য হলো ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। নইলে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনের বিষয়টি কেবল কিতাবেই থেকে যায়। এজন্যই নবীজী (সা:) মদিনায় হিজরতের পর নিজের জন্য গৃহ নির্মাণ না করে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন। কারণ, সেটি তাঁর নিজের গৃহ নির্মাণের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এবং সে রাষ্ট্রের সুরক্ষায় ও ভূগোল বাড়াতে আমৃত্যু জিহাদে লিপ্ত থেকেছেন। নবীজী (সা:) ২৮টি যুদ্ধে সশরীরে শরীক হয়েছেন এবং ৫৫টি যুদ্ধ নিজে শরীক না হয়ে পরিচালনা করেছেন। তবে নবীজী (সা:) যা কিছু করেছেন সেটি তাঁর নিজের আবিষ্কার ছিল না, বরং সেগুলি তিনি করেছেন মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে। অথচ আজকের মুসলিমগণ একাজে নেই; তাদের কাছে গুরুত্ব পায় না ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ন্যায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অথচ মুসলিম হওয়ার জন্য নবীজী (সা:)’য়ের ন্যায় শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন করলে চলে না, তাঁর ন্যায় রাষ্ট্রও নির্মাণ করতে হয়। এবং সে রাষ্ট্রের নির্মাণে ও সুরক্ষায় জিহাদও করতে হয়। সেটি না করলে নবীজী (সা:) পূর্ণ অনুসরণ যেমন হয় না, তেমনি পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার কাজটিও হয়না। অপূর্ণাঙ্গ মুসলিম তো তারাই যারা বাঁচে মহান রব’য়ের হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে। সেটি শয়তানের সূন্নত; শয়তান বিদ্রোহ করেছিল হযরত আদম (আ:)কে সিজদা করার হুকুম অমান্য করে। আর আজকের মুসলিমগণ শয়তানের সূন্নত পালন করছে নিজ দেশের আদালতে শরিয়া এবং সংবিধানে মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা না দিয়ে। এবং বিদ্রোহ করছে দেশ থেকে দুর্বৃত্ত নির্মূলের জিহাদ না করে।
ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের কাছে এতোই গুরুত্ব পেয়েছিল যে, মুসলিমদের জান, মাল, শ্রম ও সময়ের সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছিল ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা দেয়ার কাজে। তাদের সে কুরবানীর বরকতেই মুসলিমগণ যেমন রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পেয়েছিল, তেমনি পেয়েছিল পূর্ণাঙ্গ দ্বীন পালনের সহায়ক পরিবেশ। বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং সে রাষ্ট্রের সুরক্ষার জিহাদ নিয়ে বাঁচাই নবীজী (সা:)’য়ের শ্রেষ্ঠ সূন্নত। সে গুরুত্বপূর্ণ সূন্নতটি বিলুপ্ত হলে অসম্ভব হয় পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন। ইসলামের গৌরব যুগে নবীজী (সা:)’য়ের সে সূন্নত গুরুত্ব পেয়েছিল; তাই সে সূন্নত নিয়ে বাঁচতে দেখা গেছে প্রত্যেক সাহাবীকে। কিন্তু আজ সে সূন্নতটি মুসলিম জীবনে বেঁচে নাই। এজন্যই বিশ্বের কোথাও প্রতিষ্ঠা পায়নি ইসলামী রাষ্ট্র; ফলে বেঁচে নাই নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত সে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম।
গুরুত্ব পায়নি নবীজী (সা:)’য়ের রাষ্ট্র নির্মাণের সূন্নত
মুসলিম বিশ্বে আজ মসজিদ ও মাদ্রাসার সংখ্যা লক্ষ লক্ষ। সেগুলির আয়তনও বিশাল বিশাল। দেশে দেশে বিশাল আকারে এবং বিপুল সংখ্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুর’আনের তাফসির, আলোচনা সভা, তাবলিগ জামায়াতের ইজতেমা এবং ওয়াজ মাহফিল। কিন্তু সেগুলি মুসলিম উম্মাহর ভাগ্য বদলায়নি। হচ্ছে না ঈমানদার মানুষ গড়ার কাজ। সুরক্ষা পাচ্ছে না মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা ও জান মালের নিরাপত্তা। আরো দ্বিগুণ বা তিনগুণ মসজিদ মাদ্রাসা গড়লেও মুসলিম উম্মাহর ভাগ্য বদলাবে না; সুরক্ষিত হবে না স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। কারণ, সেগুলি সুনিশ্চিত করা মসজিদ-মাদ্রাসার কাজ নয়। এ বিশেষ কাজগুলি একান্তই ইসলামী রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রের কাজ কখনোই মসজিদ মাদ্রাসা দিয়ে হয়না। নবীজী (সা:) তাই ইসলামী রাষ্ট্র গড়েছিলেন। মুসলিমদের আজকের দুর্গতির কারণ মসজিদ মাদ্রাসার কমতি নয়, বরং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে চরম ব্যর্থতা। আজ বিশ্বের মানচিত্রে অর্ধশতাধিক মুসলিম রাষ্ট্র; কিন্তু সে রাষ্ট্রগুলির নির্মাণে ও পরিচালনায় আদৌ গুরুত্ব পায়নি নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নত। বরং গুরুত্ব পেয়েছে বর্ণ, ভাষা ও অঞ্চল ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ এবং ইসলাম থেকে দূরে সরার সেক্যুলার নীতি। ফলে চরম অবাধ্যতা হয়েছে নবীজী (সা:)’যের সূন্নতের সাথে। ফলে দ্রুততর হয়েছে ইসলাম থেকে দূরে সরা এবং পতনের ধারা।
নবীজী (সা:) দাড়ি, টুপি, পাগড়ি, মেছওয়াক ইত্যাদি বহু সূন্নতই মুসলিম সমাজে পালিত হয়। তাঁর চরিত্রের নানা গুণাবলীর উপরও আলোচনা হয়। তবে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মপ্রচারক রূপে তিনি যতটা প্রচার পেয়েছেন, সেরূপ প্রচার পাননি সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনির্মাতা, সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান, সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক ও সর্বশ্রেষ্ঠ দুর্বৃত্তি নির্মূলকারী মুজাহিদ রূপে। মানুষের কাছে তাঁর লেবাস, পানাহার ও ইবাদতের সূন্নত যতটা গুরুত্ব পায়, ততটা গুরুত্ব পায়না তাঁর রাষ্ট্র নির্মাণের সূন্নত। আজকের মুসলিমদের ইসলাম পালনে এখানেই হলো সবচেয়ে বড় শূণ্যতা ও ব্যর্থতা। ফলে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না ইসলামী রাষ্ট্র। ফলে বাড়ছে না মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও গৌরব। বরং বাঁচছে বিভক্তি, পরাজয় ও পরাধীনতা নিয়ে।
অথচ নবীজী (সা:)’য়ের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজটি না হলে এবং সাহাবাদের হাতে সে রাষ্ট্রকে আরো বৃহৎ ও শক্তিশালী করার কাজটি না হলে ব্যর্থ হয়ে যেত মানব সৃষ্টিকে নিয়ে মহান রবের কুর’আনে ঘোষিত সে এজেন্ডা। মুসলিমগণ তখন ইসলামী রাষ্ট্রের অভাবে ব্যর্থ হতো পূর্ণ ইসলাম পালনে। কারণ, পূর্ণ ইসলাম পালনের কাজটি স্রেফ নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও দোয়া-দরুদ পালনের মধ্য দিয়ে হয়না। সে কাজটি স্রেফ মসজিদ মাদ্রাসা ও পীরের খানকাতে বসেও হয়না। শরিয়া আইনের প্রতিষ্ঠা দিতে প্রশিক্ষিত ইসলামী আইনবিদ, পুলিশ ও আদালত লাগে। জনগণকে কুর’আনী জ্ঞানে শিক্ষিত করতে লাগে হাজার হাজার রাষ্ট্রীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সহযোগিতা লাগে দুর্বৃত্তের নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদে।
মানব জাতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার হিকমত
পৃথিবী পৃষ্ঠে মানব জাতির ইতিহাস বহু হাজার বছরের। কিন্তু সে ইতিহাস নানারূপ ব্যর্থতায় ভরপুর। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি ঘটেছে সভ্য মানব ও সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জনগণ শাসিত হয়েছে মানব রূপী নৃশংস পশুদের দ্বারা। শাসকদের দ্বারা বড় বড় প্রাসাদ ও দুর্গ নির্মিত হলেও মানবিক গুণ সম্পন্ন মানব নির্মাণের কাজটি হয়নি। তাই মানব সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাটি গৃহ নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ, কৃষি বিপ্লব বা শিল্প বিপ্লব নয়, বরং সেটি হলো সভ্য মানব ও সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের বিপ্লব। সমগ্র মানব ইতিহাসে সে অভূতপূর্ব বিপ্লবটি এনেছিলেন মহান নবীজী (সা:)। এখানেই বুঝতে হবে সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহর হিকমত। তিনি নবীজী (সা:)কে স্রেফ নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত শেখাতে প্রেরণ করেনি, বরং প্রেরণ করেছিলেন সুসভ্য মানব, সুসভ্য সমাজ ও সুসভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি মুসলিমদের হাতে কলমে শিখিয়ে দিতে। কারণ এখন ভুল হলে রাষ্ট্র পরিণত হয় ভয়ানক অপরাধের হাতিয়ারে। মানব সভ্যতা তখন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তারই প্রমাণ হলো, মানব ইতিহাসের নৃশংস গণহত্যা, গণধর্ষণ, বর্ণবাদী নির্মূল, ধর্মীয় নির্মূল, শ্রেণী শত্রু নির্মূল, ভিন্ন মতবাদীদের নির্মূল, দাস ব্যবসা, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও বিশ্বযুদ্ধের ন্যায় ভয়ানক অপরাধের সংঘটক হলো রাষ্ট্র। মানব জাতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় নাশকতাগুলি সংঘটিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় শক্তির হাতে।
তাই ইসলামের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা শুধু মানব সংস্কার নয়, বরং সেটি হলো রাষ্ট্রের সংস্কার ও রাষ্ট্রের উপর মহান রব’য়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। রাষ্ট্রের বুকে তিনিই একমাত্র সার্বভৌম শক্তি; তাঁর এজেন্ডাই হলো রাষ্ট্রের এজেন্ডা। কোন রাজা, সংসদ বা জনগণের এক্ষেত্রে দখলদারি নাই। অন্য ধর্ম থেকে এখানেই ইসলামের মূল পার্থক্য। অন্য ধর্মের প্রবর্তকগণ রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না; ফলে রাষ্ট্রের সংষ্কার তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি। তাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে কেবল মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের সংস্কার; গুরুত্ব পায়নি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার। ফলে অন্য সকল ধর্মে বিশাল অপূর্ণতা রয়ে গেছে। অথচ ইসলামে সে অপূর্ণতা নাই। কারণ, নবীজী (সা:) ইসলামের প্রবর্তক ছিলেন না; তিনি প্রচারক ছিলেন মাত্র। পূর্ণাঙ্গ ইসলাম ও তার সকল বিধিগুলি এসেছে মহান আল্লাহ থেকে। মহান রব’য়ের নির্দেশেই তিনি ব্যক্তির আধ্যাত্মিক সংস্কারের সাথে মনযোগ দিয়েছেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সংস্কারে। এবং সেটি নিজে রাষ্ট্রের চালকের আসনে বসে। মদিনায় হিজরতের পর নিজের জন্য গৃহ নির্মাণ না করে রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে হাত দেন। নিজের বসবাসের জন্য বেছে নেন মসজিদের সাথে লাগানো ছোট্ট একটি কামরা। আমৃত্যু মসজিদের সে কামরাতেই তিনি থেকেছেন। অথচ নবীজী (সা:)’য়ের হাতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া রাষ্ট্রটি ছিল বাংলাদেশর চেয়ে আয়তনে ২০ গুণ বৃহৎ। এ থেকে বুঝা যায় নবীজী (সা)’য়ের জীবনের প্রায়োরিটি।
রাষ্ট্র যেমন হতে পারে গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের ন্যায় নৃশংসতম অপরাধের হাতিয়ার, তেমনি হতে শ্রেষ্ঠ নেক কর্মের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই যিনি দেশ ও বিশ্বের কল্যাণ নিয়ে ভাবেন তিনি কখনো রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জিহাদ থেকে দূরে থাকতে পারেন না। ইসলামে এটি শ্রেষ্ঠ ইবাদত। মিথ্যা ও দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং সত্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার কাজে রাষ্ট্রের বিকল্প নাই। তাই শ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো রাষ্ট্রকে সে কাজে হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করা। কিরূপে সেরূপ একটি রাষ্ট্রের নির্মাণ এবং কিরূপে সে রাষ্ট্রের পরিচালনা -সে কাজটি নবীজী (সা:) সাহাবাদের শিখিয়েছেন ১০টি বছর রাষ্ট্রপ্রধান থাকা কালে। এভাবেই নবীজী (সা)’য়ের হাতে শুরু হয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র, সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কৃতি ও সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা নির্মাণের কাজ। তবে এর কোনটাই নবীজী (সা)’য়ের নিজের আবিষ্কার ছিল না; তাঁকে ফিরেশতা মারফত শিখিয়েছেন সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তায়ালা। নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণের অর্থ তাই মহান আল্লাহর অনুসরণ -সে বার্তাটি এসেছে পবিত্র কুর’আনে।
নবীজী (সা:)’য়ের অভিযোগ উম্মতের বিরুদ্ধে
অতি পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমান যুগের আলেমগণ নবীজী (সা:)’য়ের ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার সূন্নত নিয়ে বাঁচেন না। সে জিহাদে তারা নাই। এ সূন্নতটি গুরুত্ব পায়নি এমন কি সাধারণ মুসলিমদের কাছেও। অথচ শয়তান ও তার অনুসারিগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতির গুরুত্ব বুঝতে ভুল করেনি। ফলে ইসলামের এই শত্রুপক্ষ বাংলাদেশসহ অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রের উপর দখলদারি তারা নিজ হাতে নিয়েছে। বহু আলেম, বহু তাবিলিগী, বহু পীর, বহু নামাজী ও হাজী তাদের সে দখলদারিকে সমর্থনও দিয়েছে। ইসলামের এ শত্রুপক্ষের দখলদারির কারণেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের আদালতে শরিয়া পালন অসম্ভব হয়েছে। এভাবে তারা মুসলিমদের বাধ্য করছে কাফির জালিম ও ফাসিক হতে। কারণ, আদালতে যারা শরিয়া অনুযায়ী বিচার করেনা, তারা যতই নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন করুক না কেন, মহান আল্লাহ তায়ালার খাতায় মুসলিম রূপে স্বীকৃতি পায়না। তারা গণ্য হয় কাফির, জালিম ও ফাসিক রূপে -যার সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে। প্রশ্ন হলো, আলেমগণ কি এ আয়াতগুলি পড়ে না? না পড়লে, না বুঝলে এবং এগুলির উপর আমল না করলে তারা কি আলেম রূপে পরিচয় দেয়ার অধিকার রাখে? তাদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর দরবারে মহান নবীজী (সা:)’য়ের ফরিয়াদ হবে, “হে রব, আমার উম্মত কুর’আনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে।” নবীজী (সা:)’য়ের সে ফরিয়াদের উল্লেখ এসেছে নিচের আয়াতে:
وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَـٰذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا’
অর্থ: “এবং রসূল বললেন, হে আমার রব, নিশ্চয়ই আমার সম্প্রদায় এই কুর’আনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে।”-(সুরা ফুরকান, আয়াত ৩০)।
মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে উত্থাপিত নবীজী (সা:)’য়ের উপরিউক্ত অভিযোগ তো সাংঘাতিক। অভিযোগ কুর’আন পরিত্যাগের। কুর’আন পরিত্যাগের অর্থ তো ইসলাম পরিত্যাগ। যারা কুর’আন অনুসরণ করে তাদেরকে বলা হয় মুসলিম। কিন্তু যারা কুর’আন পরিত্যাগ করে তারা তো অমুসলিম তথা কাফির। পবিত্র কুর’আনের এ আয়াতটি তেলাওয়াতের পর একজন মুসলিমের হৃদয় তো ভয়ে কেঁপে উঠার কথা। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে সাক্ষী দিচ্ছেন খোদ নবীজী (সা:)। এবং নবীজী (সা:)’য়ের এ অভিযোগ তো শত ভাগ সত্য; সেটি স্পষ্ট ধরা পড়ে মুসলিম উম্মাহর দিকে নজর দিলে। নবীজী (সা:) যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা দিয়ে গিয়েছিলেন, সে পূর্ণ ইসলাম মুসলিম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই। বেঁচে আছে কেবল নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত, দোয়া দরুদ ও মসজিদ মাদ্রাসা নিয়ে আংশিক ইসলাম। নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠা দেয়া ইসলামে ছিল ইসলামী রাষ্ট্র, শরিয়ার বিচার, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, কুর’আন শিক্ষা, প্যান ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্ব, দুর্বৃত্তির নির্মূলের জিহাদ, মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা এবং বিশ্ব শক্তির মর্যাদা। কিন্তু আজ এসবের কোনটাই বেঁচে নাই। প্রশ্ন হলো, যাদের অবস্থান আসামীর কাঠগড়ায় এবং যাদের বিরুদ্ধে নবীজী (সা:)’য়ের এমন অকাট্য গুরুতর অভিযোগ, তারা কি কখনো তাঁর রহমত আশা করতে পারে? নবীজী (সা:)’য়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগই তো অপরাধী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এমন অপরাধীরা যা পায় তা হলো প্রতিশ্রুত আযাব। সেটি যেমন এ দুনিয়ায়, তেমনি আখেরাতে।
প্রশ্ন হলো, আজকের মুসলিমগণ কি সে প্রতিশ্রুত আযাব নিয়েই বাঁচছে না? সে আযাবের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ভারতের ন্যায় বিদেশী কাফির শক্তি, তেমনি সেক্যুলারিস্ট, ফ্যাসিস্ট, কম্যুনিস্ট, জাতীয়তাবাদী, রাজতন্ত্রী ইত্যাদি পরিচয়ের ইসলামের দেশী শত্রুগণ। কারণ, আযাব দেয়ার জন্য মহান অল্লাহ তায়ালা শুধু ভূমিকম্প, সাইক্লোন ও প্লাবনের ন্যায় দুর্যোগ দেন না; শয়তানকেও নিযুক্ত করেন। শয়তান শুধু ইবলিস নয়, যারা বাঁচে মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে -তারা সবাই শয়তান। শয়তান এখন বড় বড় রাষ্ট্রীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইরানের ইমাম খোমেনী তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শয়তানে বুজুর্গ তথা বড় শয়তান বলতেন। বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় শয়তান হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ভারতের ন্যায় রাষ্ট্রগুলি। ইসলাম থেকে দূরে থাকা এবং ২২ টুকরোয় বিভক্ত আরবদের শাস্তি দিচ্ছে ইসরাইল। তেমনি সেক্যুলার ও জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশীদের আযাব দিতে হাজির হয়েছে ভারত। বাংলাদেশকে ভারত গাজা বানাতে চায়। মুসলিমদের উপর শয়তানী শক্তিকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে মহান রব’য়ের নীতির ঘোষণা এসেছে নিচের আয়াতে:
وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَـٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ
অর্থ: “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণকে ভুলে যায়, আমি তার উপর শয়তানকে নিযুক্ত করে দেই, অতঃপর সেই হয় তার সঙ্গী হয়। -(সুরা যুখরুফ, আয়াত ৩৬)।
মুসলিমরা যে মহান আল্লাহর স্মরণকে ভুলে গেছে সে প্রমাণ তো অসংখ্য। তাঁর তো ভুলে গেছে তাঁর সার্বভৌমত্বের কথা, তাঁর শরিয়ার কথা, তাঁর ভূ-রাজনৈতিক ও বৈচারিক এজেন্ডার কথা এবং তাঁর শিক্ষা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক নীতিমালার কথা। মহান আল্লাহ তায়ালার বিধানকে ভুলে তারা আঁকড়ে ধরেছে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, রাজতন্ত্র, সেক্যুলারিজমের ন্যায় নানা হারাম মতবাদ। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না করে তারা প্রতিষ্ঠা করেছে সেক্যুলার জাতীয়তাবাদী স্বৈরাচারী রাষ্ট্র। একতাকে মহান আল্লাহ ফরজ করেছেন, কিন্তু তারা বাঁচে বিভক্তি নিয়। আরবরা খেলাফত ভেঙে ২২ টুকরোয় বিভক্ত হয়েছে। আর বাঙালি মুসলিমরা পৌত্তলিক কাফিরদের সাথে জোট বেঁধে পাকিস্তান ভেঙেছে। গড়া নিয়ে নয়, তারা উৎসব করে মুসলিম দেশ ভাঙা নিয়ে। মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তাদের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে। প্রশ্ন হলো যারা এমন বিদ্রোহ নিয়ে বাঁচে, তারা কি কখনো মহান রাব্বুল আলামীনের রহমত আশা করতে পারে? তাদের আযাব দিতে কাঁধের উপর মহান রব’য়ের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত শয়তান বসিয়ে দেয়া হবে -সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? ১৬/৮/২০২৬
ANNOUNCEMENT
ওয়েব সাইটটি এখন আপডেট করা হচ্ছে। আগের লেখাগুলো নতুন ওয়েব সাইটে পুরাপুরি আনতে কয়েকদিন সময় নিবে। ধন্যবাদ।
LATEST ARTICLES
- The Proxy States in the Middle East, the War of Geopolitics and the New Hope
- মুসলিম দেশে শয়তানী শক্তির স্ট্র্যাটেজি এবং মুসলিমদের ব্যর্থতা
- ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসলামী রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- রাজনীতি ও রাষ্ট্র নির্মাণে ঈমানদারের এজেন্ডা এবং বেঈমানের এজেন্ডা
- মুসলিমদের বাঁচা ও বেড়ে উঠা: ব্যর্থতাটি কোথায়?
বাংলা বিভাগ
ENGLISH ARTICLES
RECENT COMMENTS
- Fazlul Aziz on The Israeli Crimes, the Western Complicity and the Muslims’ Silence
- Fazlul Aziz on India: A Huge Israel in South Asia
- Fazlul Aziz on ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসালিমক রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- Fazlul Aziz on বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ
- Fazlul Aziz on Gaza: A Showcase of West-led War Crimes and the Ethnic Cleansing
ARCHIVES
- September 2026
- August 2026
- July 2026
- June 2026
- May 2026
- April 2026
- March 2026
- February 2026
- January 2026
- December 2025
- November 2025
- October 2025
- September 2025
- August 2025
- July 2025
- June 2025
- May 2025
- April 2025
- March 2025
- February 2025
- January 2025
- December 2024
- October 2024
- September 2024
- August 2024
- July 2024
- June 2024
- May 2024
- April 2024
- March 2024
- February 2024
- January 2024
- December 2023
- November 2023
- October 2023
- September 2023
- August 2023
- July 2023
- June 2023
- May 2023
- April 2023
- March 2023
- January 2023
- December 2022
- November 2022
- October 2022
- September 2022
- August 2022
- July 2022
- June 2022
- May 2022
- April 2022
- March 2022
- February 2022
- January 2022
- November 2021
- October 2021
- September 2021
- August 2021
- July 2021
- June 2021
- May 2021
- April 2021
- March 2021
- February 2021
- January 2021
- December 2020
- November 2020
- October 2020
- April 2020
- March 2020
- February 2020
- January 2020
- December 2019
- November 2019
- October 2019
- September 2019
- August 2019
- July 2019
- June 2019
- May 2019
- April 2019
- March 2019
- February 2019
- January 2019
- December 2018
- November 2018
