মার্কিনী জঙ্গলতন্ত্রের বিপদ: স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে ভূগোল বদলাতে হবে
- Posted by Dr Firoz Mahboob Kamal
- Posted on January 4, 2026
- সমাজ ও রাজনীতি
- No Comments.
ফিরোজ মাহবুব কামাল
মার্কিনীদের জঙ্গলতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের নোংরা বড়াই
গতকাল ৩ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরা ও তাঁর স্ত্রীকে রাতের আঁধারে তাঁদের বাসস্থান থেকে উঠিয়ে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে। এটি ছিল সুস্পষ্ট অপহরণের অপরাধ। এ হামলায় হানাদার মার্কিনী সৈন্যরা মাদুরার ৪০ জনের বেশী নিরাপত্তা রক্ষিকে হত্যা করেছে। যে কোন সভ্য আইনে এটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে শাস্তি হওয়া উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সৈনিকদের। অথচ ঘটছে উল্টোটি। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে এবং তার উপর ড্রাগ পাচারের অপরাধে বিচার শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এভাবেই বিশ্বজুড়ে জঙ্গলতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দিল। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই মার্কিন জঙ্গলতন্ত্রীরা আবার গণতন্ত্র নিয়ে বড়াই করে
জঙ্গলে কোন আইন থাকে না। কোন পুলিশ এবং আদালতও থাকে না। বনের হিংস্র পশুগুলি যাকে ইচ্ছা তাকে শিকার করতে পারে; বাধা দেওয়ার কেউ থাকেনা। এ পৃথিবীকেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এ জঙ্গলে দুর্বল রাষ্ট্র ও তার জনগণের কোন স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত নাই। জাতিসংঘ শক্তিহীন। আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষমতা নাই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাতে যা ঘটালো –সেটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে জায়েজ করে দিল। এখন এটি আন্তর্জাতিক রীতিতে পরিণত হলো। সামর্থ্য থাকলে যে কোন শক্তিশালী রাষ্ট্র দুর্বল রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করতে পারে; তাতে তার কোন শাস্তি হবে না। ইসরাইল যে কোন দেশে সেটি করতে পারে। ইসরাইল ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, নিকোলাস মাদুরার সাথে যেমনটি ঘটেছে সেটি ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর সাথেও ঘটতে পারে। ভারত একই রূপ অপহরণের কাণ্ড ঘটাতে পারে বাংলাদেশ, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের ন্যায় প্রতিবেশী দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে। তাই মার্কিন অপহরণের এ ঘটনা দুর্বল রাষ্ট্রগুলির জন্য এক গভীর বার্তা দিল। সেটি হলো এ পৃথিবীতে দুর্বলদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার কোন গ্যারান্টি নেই। তাদের সামনের পথটি আত্মসমর্পণের। তাই স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। নিজেদের প্রতিরক্ষার সামর্থ্য নিজেদেরই অর্জন করতে হবে। সে পথটি নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হবে।
মুসলিম উম্মাহকে বাঁচাতে পারে একতা এবং যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি
জঙ্গলতন্ত্রের এ ভয়াবহ বিপদ থেকে বাঁচার পথটি সুস্পষ্ট। অতীতে সে পথ মুসলিমদের বার বার বাঁচিয়েছে। পথটি মানুষের দেয়া নয়, বরং সর্বজ্ঞানী মহান রব’য়ের। পথটি যেমন একতার, তেমনি একতার সাথে যুদ্ধের জন্য সার্বক্ষণিক ও সর্বাত্মক প্রস্তুতির। সেটি ফরজ প্রতি মুসলিমের উপর। বুঝতে হবে, আল্লাহতায়ালার বিধানে মুসলিমদের জন্য বিভক্ত ও দুর্বল থাকাই মহাপাপ। ইসলামে এটি হারাম। মহান রব যেমন একতাবদ্ধ হওয়াকে ফরজ করেছেন, তেমনি ফরজ করেছেন যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে বাঁচা। তাই উভয়ই ইবাদত। যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার সে হুকুম এসেছে নীচের আয়াতে:
وَأَعِدُّوا۟ لَهُم مَّا ٱسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍۢ وَمِن رِّبَاطِ ٱلْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِۦ عَدُوَّ ٱللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَءَاخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ ٱللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِن شَىْءٍۢ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
অর্থ: “এবং তাদের তথা শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে সর্বসামর্থ্য দিয়ে প্রস্তুতি নাও এবং প্রস্তুত করো তোমাদের যুদ্ধের ঘোড়াগুলিকে; এবং সে প্রস্তুতি দিয়ে সন্ত্রস্ত করো আল্লাহর শত্রুদের এবং তোমাদের শত্রুদের এবং তাদেরকেও যাদের তোমরা জান না -অথচ আল্লাহর তাদের জানেন।” –(সুরা আনফাল, আয়াত ৬০)।
ইসলামের বিধান হলো, মহান আল্লাহর তায়ালার পক্ষ থেকে যখন কোন নির্দেশ আসে, সেটি সাথে সাথে পালন করা প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ হয়ে যায়। উপরিউক্ত আয়াতে হুকুম এসেছে যুদ্ধের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতির। এ আয়াত অনুযায়ী স্রেফ প্রস্তুতি নেয়াটাই যথেষ্ট নয়। সে প্রস্তুতির মান এমন হতে হবে -যা দেখে যেন শত্রু শক্তি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয় এবং যুদ্ধ থেকে বিরত হয়। অথচ যুদ্ধের প্রস্তুতিটি কাজ করবে deterrent তথা প্রতিরোধক রূপে। তাই সেরূপ প্রস্তুতি না থাকাটিই হারাম। সেটি কবিররা গুনাহ। সে কবিরা গুনাহর শাস্তি আসে শত্রুর হাতে পরাজয়, গোলামী ও জুলুম রূপে।
বাঙালি জীবনে সে কবিরা গুনাহর ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন। ঐদিন ইংরেজ বাহিনীর ৪ হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় বাঙালি মুসলিমগণ যুদ্ধে নামেনি। তারা নীরব ও নিষ্ক্রয় থেকেছে। অথচ মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষার দায় শুধু সরকারি সেনাবাহিনীর নয়, প্রতিটি মুসলিম নাগরিকের। ঐদিন শত্রুর বিরুদ্ধের যুদ্ধের দায় শুধু সিরাজুদ্দৌলার বাহিনীর ছিলনা, ছিল প্রতিটি বাঙালি মুসলিমের। একমাত্র রাজাকারগণ ছাড়া অধিকাংশ বাঙালি মুসলিমের দ্বারা একই রূপ কবিরা গুনাহ হয়েছে ১৯৭১’য়ে। সেটি ভারতীয় পৌত্তলিক কাফিরদের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে না দাঁড়ানোর কারণে। অথচ একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানের প্রখ্যাত মুফতি ও আলেমের মতে ভারতীয় ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ফরজ ছিল। এবং হারাম ছিল ভারতের পক্ষে যুদ্ধ করা।
নবীজী (সা:) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে আরবের কাফের শক্তিবর্গ এবং পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের ন্যায় দুটি বিশ্বশক্তিকে পরাজিত করতে ক্যান্টনমেন্টে প্রশিক্ষিত কোন সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পড়েনি। সেসব যুদ্ধে কৃষক, শ্রমিক, ভেড়ার রাখাল, ব্যবসায়ী তথা সকল মুসলিমগণ যুদ্ধের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সাথে যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং নিজ অর্থ, নিজ অস্ত্র তথা সর্ব সামর্থ্য নিয়ে রণাঙ্গণে হাজির হয়েছেন। এবং মহান আল্লাহর তায়ালার সাহায্যে তারা বিজয়ী হয়েছেন।
বিভক্তি মানেই আযাবের পথ
পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমগণ নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাতের ফরজ বিপুল সংখ্যায় পালন করলেও একতাবদ্ধ হওয়ার ফরজটি পালন করে না। সে সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতিও নেয় না। বরং বিভক্তি ও বিবাদ নিয়ে বাঁচাকে সংস্কৃতিতে পরিণত করেছে। ফলে তারা স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। সেটি বুঝা যায় আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও লিবিয়ার উপরে শত্রুশক্তির আগ্রাসন, গণহত্যা ও ধ্বংস প্রক্রিয়া দেখে। মহান আল্লাহ তা‘আলা বিভক্ত মুসলিমদের এভাবেই শয়তানি শক্তির হাত দিয়ে শাস্তি দেন।
স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত নিয়ে বাঁচতে হলে মুসলিমদের অবশ্যই একতা গড়ার ফরজ পালন করতে হয়। একতার হুকুম এসেছে নীচের আয়াতে।
وَٱعْتَصِمُوا۟ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًۭا وَلَا تَفَرَّقُوا۟
অর্থ: “এবং তোমরা আল্লাহর রশি (কুর’আন)কে আঁকড়ে ধরো এবং বিভক্ত হয়োনা।” –(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১০৩)।
উপরিউক্ত আয়াতে একতাকে ফরজ এবং বিভক্তিকে হারাম করা হয়েছে। ফরজ পালন না করলে এর কোন কাফ্ফারা আদায়ের সুযোগ থাকে না, তখন পাওনা হয় আযাব। সে আযাবের প্রতিশ্রুতি শোনানো হয়েছে নীচের আয়াতে:
وَلَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ تَفَرَّقُوا۟ وَٱخْتَلَفُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلْبَيِّنَـٰتُ ۚ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ
অর্থ: “এবং তোমরা তাদের মত হয়োনা যার আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসার পরও বিভক্তি গড়লো এবং বিরোধ গড়লো। এরাই হলো তারা, যাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ভয়ানক আযাব।” –(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১০৫)।
বিকল্প নাই ভূগোল পাল্টানোর
মহান আল্লাহর তায়ালার হুকুমের সাথে পূর্ণ একাত্ম হতে হলে মুসলিম দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের ভূগোল পাল্টাতে হবে। বর্তমান ভূগোল নিয়ে বাঁচার অর্থ ৫০টির বেশী রাষ্ট্রে বিভক্ত হারাম ভূগোল নিয়ে বাঁচা। একজন মুসলিম যেমন শুকরের মাংস গলায় ঝুলিয়ে বাঁচতে পারে না, তেমনি বাঁচতে পারে না বিভক্তির হারাম ভূগোল নিয়েও। উত্তর আমেরিকার ৫০টি রাষ্ট্র মিলে United States of America নির্মাণ করেছে বলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতো শক্তিশালী। একতার শক্তি এমনই। সে ক্ষমতা বিভক্ত দক্ষিণ আমেরিকার নাই -যদিও তাদের জনবল ও সম্পদ কম নয়। সে ক্ষমতা নাই বিভক্ত মুসলিম উম্মারও। ভূ-রাজনৈতিক বিভক্তি এভাবে দুর্বলতা উৎপাদন করে। সে দুর্বলতার পথ ধরে পরাধীনতাও আসে।
উত্তর আমেরিকার ৫০টি রাষ্ট্রের এবং ভারতের ২৮টি রাজ্যের কাফিরগণ যদি ঐক্যবদ্ধ ফেডারেল রাষ্ট্রের জন্ম দিতে পারে তবে সে কাজ মুসলিমগণ কেন পারবে না? একতাবদ্ধ হওয়া কি জটিল রকেট সায়েন্স? একতাবদ্ধ হওয়া যে সহজ সেটি ভারতের অনগ্রসর মুসলিমগণ ১৯৪৭ সালে দেখিয়েছিল। ফলে তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা দিতে পেরেছিল।
একতাবদ্ধ হওয়া কাফিরদের উপর ফরজ নয়। সে কাজে তাদের জন্য কোন পুরস্কার নাই। কিন্তু মুসলিমদের জন্য তো একতা গড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। পরিতাপের বিষয় হলো আলেমগণ তাদের ওয়াজে অনেক নফল-মোস্তাহাবের উপর গুরুত্ব দেয়, কিন্তু গুরুত্ব দেয় না মুসলিম উম্মাহর একতার উপর। বরং তারা ফেরকা, মজহাব ও ত্বরিকারর নামে বিভক্তি বাড়ায়।
যা কিছু মুসলিম উম্মাহর জন্য ক্ষতিকর, মহান আল্লাহ সেটিকেই হারাম করেছেন। বিভক্তি এজন্যই হারাম। অথচ মুসলিমগণ সে হারাম পথটিই আঁকড়ে ধরেছে। আরবরা এক ভাষা, এক ধর্ম, এক বর্ণ ও এক ভূগোল থাকা সত্ত্বেও ২২ টুকরায় বিভক্ত। মুসলিমগণ ৫০টির বেশি রাষ্ট্রে বিভক্ত। এ বিভক্তি তো আযাবকে অনিবার্য করার পথ। সে আযাব আসছে শত্রু শক্তির হাতে হামলা, গণহত্যা, ধর্ষণ, ধ্বংস ও অধিকৃতি রূপে। ভেনিজুয়েলার উপর যে বিপদ আসলো এবং ইউক্রেনের উপর যে বিপদ চলছে -সে বিপদ থেকে বাঁচার জন্যই আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের উপর ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে একতাবদ্ধ থাকাকে ফরজ করেছেন। অথচ পরিতাপের বিষয় হলো মুসলিমগণ সে ফরজ পালন করে না। কোন ফরজ পালন না করা যে পাপ; এবং সে পাপের যে কঠোর শাস্তি আছে, সম্ভবত সেটিও তারা জানে না।
সত্যিকার মুসলিম হতে হলে শুধু ধর্ম নয়, দেশের ভূগোলও বদলাতে হয়। নইলে বিপদ কাটে না। তাই নবীজী (সা:) ও সাহাবাদের যুগে মুসলিমগণ শুধু তাদের ধর্মই বদলায়নি, বদলিয়েছে তাদের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল, গোত্র ও বর্ণের নামে গড়া বিভক্ত ভুগোলও। নবীজী (সা:)’র হাতে নতুন ধর্মের সাথে নির্মিত হয়েছে নতুন ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র। নতুন ভূগোল গড়ার কাজের শুরু হয়েছিল ক্ষুদ্র মদিনা থেকে। ধীরে ধীরে আরব, ইরানী, কুর্দি, তুর্কি, হাবশী, মুর এরূপ নানা ভাষা ও নানা বর্ণের মুসলিমরা এক বিশাল ভূগোলের জন্ম দেয়। সেটিই পরিণত হয়েছিল ইসলামী যুক্ত রাষ্ট্রে। ফলে তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছিল তৎকালীন বিশ্বের প্রধান বিশ্বশক্তি রূপে। পরিতাপের বিষয় হয় আজকের মুসলিমগণ নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের সে গৌরবময় সূন্নত নিয়ে বাঁচে না। বরং বাঁচে জাহিলী যুগের বিভক্তি নিয়ে। মুসলিম বিশ্বে তাই এতো জাতীয়, উপজাতীয় ও গোত্রীয় রাষ্ট্র।
ইতিহাস বদলানোর একমাত্র পথ
একতাবদ্ধ এক বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রের নির্মাণ ছাড়া মুসলিমদের ভাগ্য বদলানোর বিকল্প পথ নাই। ফলে অবশ্যই বদলাতে হবে মুসলিম উম্মাহর বিভক্ত ভূগোলকে । নানা ভাষা, নানা বর্ণ ও নানা অঞ্চলের মুসলিমদের একতাবদ্ধ হয়ে গড়ে তুলতে হবে ইসলামী যুক্তরাষ্ট্র (United Islamic State)। এটি কোন ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং প্রতিটি মুসলিমের উপর বাধ্যতামূলক। বুঝতে হবে, নানা ভাষা, নানা বর্ণ, নানা ফেরকা ও নানা ভূগোলের মুসলিমদের শুধু এক জায়নামাজে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ পড়লেই চলে না, এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতাও অর্জন করতে হয়। এমন যোগ্যতা অর্জন করাটাই বিশাল এবাদত। এবং সেটি ফরজ। এটি নবীজী (সা:)’র সর্বশ্রেষ্ঠ সূন্নত এবং মহান আল্লাহর তায়ালার কাছে অতি প্রিয়তম কাজ।মুসলিমদের গৌরব যুগে সেটি দেখা গেছে। আজকের মুসলিমগণ সে সূন্নত নিয়ে বাঁচে না বলেই তাদের এ পতন।
মুসলিম বিশ্বে আজ লক্ষ লক্ষ মসজিদ মাদ্রাসা। কিন্তু সেগুলি মুসলিম উম্মাহর ভাগ্য বদলাতে পারিনি। আরো দ্বিগুণ মসজিদ-মাদ্রাসা গড়লেও সেগুলি ভাগ্য বদলাবে না। সেগুলি বাড়াবে না মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। কারণ সে কাজ মসজিদ-মাদ্রাসার নয়। সে কাজটি করে একান্তই রাষ্ট্র। আজকের দুর্গতির কারণ মসজিদ-মাদ্রাসার কমতি নয়, বরং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতা। তাই মুসলিম উম্মাহর ভাগ্য বদলাতে হলে নবীজী (সা:)’য়ের মত রাষ্ট্র গড়তে হয়।
নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নত হলো, তিনি জাহেলী যুগের গোত্র, বর্ণ ও অঞ্চল ভিত্তিক বিভক্ত মানচিত্র ভেঙে একতাবদ্ধ বিশাল ইসলামী রাষ্ট্র গড়েছিলেন। সাহাবাগণ সে রাষ্ট্রকে আরো বড় করেছিলেন। সেকালে মুসলিমদের শক্তি, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মূল উৎস ছিল সে বিশাল রাষ্ট্র। সে রাষ্ট্রের বিলুপ্তির সাথে সাথে কবরে গেছে মুসলিমদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। এবং গোলাম হওয়া শুরু করেছে দেশী বিদেশী শত্রু শক্তির। তাই মুসলিমদের মনযোগ দিতে হবে সেরূপ একটি রাষ্ট্র গড়ায়। বিপ্লব আসবে, ইতিহাসও বদলে যাবে এবং স্বাধীনতাও সুরক্ষিত হবে যদি তারা বিভক্ত মানচিত্র ভেঙে ইসলামী রাষ্ট্রের বিশাল ভূগোল গড়তে পারে। ০৪/০১/২০২৬
ANNOUNCEMENT
ওয়েব সাইটটি এখন আপডেট করা হচ্ছে। আগের লেখাগুলো নতুন ওয়েব সাইটে পুরাপুরি আনতে কয়েকদিন সময় নিবে। ধন্যবাদ।
LATEST ARTICLES
- হারাম যুদ্ধ, হালাল যুদ্ধ, একাত্তরের যুদ্ধ এবং প্রতারক মুজিব
- বাংলাদেশের জন্মের বৈধতার সংকট
- নির্বাচন হোক দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ
- মার্কিনী জঙ্গলতন্ত্রের বিপদ: স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে ভূগোল বদলাতে হবে
- স্বাধীনতা ও ইসলামী রাষ্ট্রবিপ্লবের স্বার্থে একাত্তরের বয়ানের দাফন কেন জরুরি?
বাংলা বিভাগ
ENGLISH ARTICLES
RECENT COMMENTS
- Fazlul Aziz on The Israeli Crimes, the Western Complicity and the Muslims’ Silence
- Fazlul Aziz on India: A Huge Israel in South Asia
- Fazlul Aziz on ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসালিমক রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- Fazlul Aziz on বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ
- Fazlul Aziz on Gaza: A Showcase of West-led War Crimes and the Ethnic Cleansing
ARCHIVES
- January 2026
- December 2025
- November 2025
- October 2025
- September 2025
- August 2025
- July 2025
- June 2025
- May 2025
- April 2025
- March 2025
- February 2025
- January 2025
- December 2024
- October 2024
- September 2024
- August 2024
- July 2024
- June 2024
- May 2024
- April 2024
- March 2024
- February 2024
- January 2024
- December 2023
- November 2023
- October 2023
- September 2023
- August 2023
- July 2023
- June 2023
- May 2023
- April 2023
- March 2023
- January 2023
- December 2022
- November 2022
- October 2022
- September 2022
- August 2022
- July 2022
- June 2022
- May 2022
- April 2022
- March 2022
- February 2022
- January 2022
- November 2021
- October 2021
- September 2021
- August 2021
- July 2021
- June 2021
- May 2021
- April 2021
- March 2021
- February 2021
- January 2021
- December 2020
- November 2020
- October 2020
- April 2020
- March 2020
- February 2020
- January 2020
- December 2019
- November 2019
- October 2019
- September 2019
- August 2019
- July 2019
- June 2019
- May 2019
- April 2019
- March 2019
- February 2019
- January 2019
- December 2018
- November 2018
