বিবিধ ভাবনা (১২)

image_pdfimage_print

ফিরোজ মাহবুব কামাল

 ১.

বাংলাদেশে এখন দুটি পক্ষ। এক পক্ষে ভোটচোর হাসিনা সরকার, দুর্বৃত্ত পুলিশ বাহিনী, তাঁবেদার প্রশাসনিক বাহিনী এবং দুর্বৃত্ত সরকারের আজ্ঞাবহ আদালত। এটিই দেশের দুর্বৃত্তদের পক্ষ। তাদের হাতে ডাকাতি হয়েছে জনগণের ভোট এবং হাইজ্যাক হয়েছে দেশ। অপর পক্ষে ভোট-ডাকাতির শিকার মজলুম জনগণ। বাংলাদেশের আগামীদিনের লড়াই হবে এ দুই পক্ষের। এ লড়াইয়ে তৃতীয় পক্ষ বা নিরপেক্ষ বলে কেউ নাই। দুর্বৃত্ত পক্ষের বিরুদ্ধে মজলুলের লড়াইয়ে নিরপেক্ষ থাকার অর্থ দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তিতে সহায়তা দেয়া।

২.

অসভ্য সরকারের সবচেয়ে বড় বিপদটি হলো তারা সভ্য জীবনযাপন অসম্ভব করে। এবং রাস্তা খুলে দেয় অপরাধের। এ অপরাধীরা নিজেদের দলকে বড় করতে দুর্বৃত্তের উৎপাদন বাড়ায়। ফলে ভয়ানক সুনামী আসে চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, গুম,খুন,ধর্ষণ, ফাঁসি ও সন্ত্রাসের ন্যায় নানারূপ অসভ্যতার। বাংলাদেশ সে রকম সুনামীর গ্রাসে। তাই সবচেয়ে উত্তম জিহাদ ও নেক কর্ম হলো দুর্বৃত্ত শাসনের নির্মূল। একমাত্র এ পথেই অসভ্যতার আযাব থেকে মুক্তি মেলে এবং দেশ সভ্য বসবাসের উপযোগী হয়।

৩.
প্রাসাদ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কারখানা দুর্বৃত্তগণও গড়ে।  ফিরাউনের মত দুর্বৃত্তগণ বিশাল বিশাল পিরামিড গড়েছে। কিন্তু পৃথিবী পৃষ্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সভ্য মানুষ গড়া। সভ্য মানুষ গড়লে সমাজও সভ্যতর হয়। এ কাজের জন্যই মহান আল্লাহতায়ালা নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন। ঈমানদারদের কাজ হলো নবী-রাসূলদের সে সূন্নত নিয়ে বাঁচা। একমাত্র এ পথে যারা বাঁচে তারাই জান্নাত পায়। 

 

৪.
সভ্য সমাজের লক্ষণ শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচন নয়, বরং সে সমাজে জনগণের অধিকার থাকে সরকারের অন্যায় নীতির প্রতিবাদের। সে অধিকার না থাকলে অসম্ভব হয় সভ্য সমাজ নির্মাণ। তখন প্রতিষ্ঠা পায় অসভ্যদের স্বৈরশাসন। একটি দেশ কতটা সভ্য সে বিচার দেশের বিল্ডিং, রাস্তাঘাট বা কলকারখানা দেখে হয় না, সেটি হয় জনগণ কতটা অধিকার নিয়ে বাঁচে তা থেকে। কিন্তু দেশ দুর্বৃত্তদের দখলে গেলে সে অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদও তখন অপরাধ রূপে গণ্য হয়। সরকার তখন নিজের আয়ু বাড়াতে প্রতিষ্ঠা দেয় চুরিডাকাতি, গুম, খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের রাজনীতি। বাংলাদেশের ভোটডাকাত সরকার সে অসভ্যতাই প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। এ অসভ্যতাকে মেনে নেয়া আরেক অসভ্যতা।

৫.
জীবনের এজেন্ডা যত বড় হয় আল্লাহর কাছে তত বেশী পুরস্কার মেলে। সমাজের ছোট লোকেরা ছোট ছোট এজেন্ডা নিয়ে বাঁচে। এজন্যই তারা ছোট জীব। ছোট লোক সে সব স্বার্থপরগণও। কারণ তাদের এজেন্ডা শুধু নিজেকে নিয়ে, অন্য কেউ তাদের এজেন্ডায় স্থান পায় না। যারা দল, গোত্র ও জাতি চেতনা নিয়ে বাঁচে তারাও সমাজের ক্ষুদ্র জীব। সবচেয়ে বড় এজেন্ডা তো আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার এজেন্ডা। এজন্যই শহীদগণ শ্রেষ্ট্র মানব। কারণ তাদের মাঝে ব্যক্তিস্বার্থ, গোত্র স্বার্থ, জাতি স্বার্থের ভাবনা থাকে না। তারা শ্রম দেয়, অর্থ দেয় এবং প্রাণ দেয় মহাপ্রভু মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে। সেখানে থাকে সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের ভাবনা। সাহাবাগণ একারণে শ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন। কারণ তাদের কর্মের বিনিময়ে জান্নাতের পথ পেয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানব।

৬.
মহান আল্লাহর দেয়া নেক আমলের সামর্থ্যগুলো বিশাল। একমাত্র জিহবা দিয়ে এমন নেক আমল করা যায় যা বহু কোটি টাকা দানেও সম্ভব নয়। সেটি সত্যের পক্ষে ও মিথ্যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া। জিহবার সাহায্যে বহু মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো যায়। দেখানো যায় জান্নাতের পথ। কোটি কোটি টাকা দিয়ে কি এতো বড় উপকার করা যায়? এটিই ছিল নবী-রাসূলদের কাজ। নবীগণ অর্থ বিতরণ করেননি –কারণ সে সামর্থ্য তাদের ছিল না। তারা জ্ঞান বিতরণ করেছেন। এবং সেটি জিহবার সাহায্যে। আর জ্ঞান জান্নাতের পথ দেখায়, অর্থ জাহান্নামেও নিতে পারে।

৭.

প্রতিবেশীর চিন্তা নিয়ে বাঁচার মধ্যেই ঈমান। প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগলে বা সেখানে কেউ আহত হলে ঈমানদারকে সেখানে ছুটে যেতে হয়। যার মধ্যে মানবতা বলতে কিছু নাই, একমাত্র সে ব্যক্তিই প্রতিবেশীর বিপদে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে। ভারতে মুসলিমগণ খুন হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, তাদেরকে নাগরিকতা শূণ্য করা হচ্ছে -কিন্তু বাংলাদেশের সরকার তা নিয়ে নিশ্চুপ। সরকার যে কীরূপ মানবতাশূণ্য সেটি বুঝতে কি এরপরও কিছু বাঁকি থাকে?

৮.

আল্লাহর বড় নিয়ামত হলো জিহবা। এ নিয়ামতের বড় খেয়ানত হয় যদি সে জিহবা দিয়ে আল্লাহর যিকর না করে গীত গাওয়া হয় দুর্বৃত্তদের। বাংলাদেশে সেটিই হচ্ছে। এ জিহবা দিয়ে ভোটচোরকেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলা হয়, গণতন্ত্র হত্যাকারী বাকশালীকেও জাতির পিতা ও বন্ধু বলা হয়। এ জিহবা দিয়ে জয় বাংলা বলা হয়, কিন্তু বলা হয় না আল্লাহু আকবর। মহান আল্লাহতায়ালার শরিয়তী বিধানের পক্ষেও কথা বলা হয়না। মহান আল্লাহতায়ালার নিয়ামতের সাথে এর চেয়ে বড় গাদ্দারী আর কি হতে পারে?

৯.

প্রতিটি ব্যক্তিই এজেন্ডা ও কর্ম নিয়ে বাঁচে। কোন কোন এজেন্ডা ও কর্ম শুধু নিজের জন্য। এবং কোন কোন এজেন্ডা ও কর্ম পরিবার, দল ও দফতরের জন্যও। এসবের বাইরে ঈমানদারকে বাড়তি এজেন্ডা ও কর্ম নিয়ে বাঁচতে হয়। এবং সেটি মহান আল্লাহতায়ালাকে খুশি করার জন্য। প্রতিদিন ঈমানদারকে এ হিসাব অবশ্যই নিতে হয়, তার সামর্থ্যের কতটা ব্যয় হলো মহান আল্লাহকে খুশি করার কর্মে। যার মধ্যে সে ভাবনা ও হিসাব নাই –বুঝতে হবে তার ঈমানও নাই।

১০.
মানব জীবনে আসল কামিয়াবী হলো মুসলিম হওয়ায়। নইলে অনিবার্য হয় জাহান্নামে পৌঁছা। অথচ এখানেই মানবের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মুসলিম তো সেই যার পূর্ণ আত্মসমর্পণ মহান আল্লাহর প্রতিটি হুকুমের প্রতি। অথচ মুসলিম বাঁচছে তাঁর হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে। মুসলিম দেশগুলোতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা নেই। প্রতিষ্ঠা দেয়া হয়েছে কুফরি আইন –যে আইনে ব্যভিচারও দন্ডনীয় অপরাধ নয়। বরং আইনের কাজ হয়েছে পতিতাপল্লীকে হিফাজত করা। মুসলিম হওয়ায় ব্যর্থতা যে কত প্রকট সেটি কি এর পরও বুঝতে বাঁকি থাকে?     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *