বিবিধ ভাবনা (১১)

image_pdfimage_print

 

ফিরোজ মাহবুব কামাল

১.

কোন শিশু যখন পানিতে পড়ে তখন সবচেয়ে বড় নেক কর্ম হলো সে শিশুকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়া। তখন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাটি কবিরা গুনাহ। তেমনি যখন কেউ অনাহারে পড়ে তখন শ্রেষ্ঠ নেক কর্ম হলো তাকে খাদ্য দেয়া। এবং দেশ যখন অপরাধীদের দখলে যায়, তখন সবচেয়ে  বড় নেক কর্ম হলো সে অপরাধীদের নির্মূলের জিহাদ। সভ্য ভাবে বাঁচার এ ছাড়া ভিন্ন পথ নাই। কিন্তু আজ মুসলিমগণ ইসলামের এ মৌল বিধান থেকে দূরে সরেছে, ফলে ঘিরে ধরেছে দুর্বৃত্ত শাসনের আযাব।সে আযাবের গ্রাসে এখন বাংলাদেশ।

২.
সভ্য ও অসভ্য সমাজ চেনা খুবই সহজ। অসভ্যসমাজের বড় আলামতটি হলো, সে সমাজে ভয়ানক অপরাধীদের মাননীয় বলা হয়। এবং ভাল মানুষদের ঘৃনা করা হয়। অথচ বাংলাদেশে সে অসভ্যতাই বেশী বেশী হচ্ছে। তাই মুজিবের ন্যায় গণতন্ত্র হত্যাকারী বাকশালী খুনি ও ভারতের দালালকে বঙ্গবন্ধ ও জাতির পিতার সন্মান দেয়া হয়। এবং হাসিনার  ন্যায় ভোটচোর ফ্যাসিস্টকেও মাননীয় বলা হয়। অথচ সভ্য সমাজের আলামত হলো দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা। পবিত্র কোর’আনে মুসলিমদের জন্যই এ কাজকেই তাদের জীবনের মূল মিশন রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবং এ মিশন নিয়ে বাঁচার জন্যই সুরা আল-ইমরানের  ১১০ নম্বব আয়াতে তাদের শ্রেষ্ঠ মানব বলা হয়েছে।

৩.

ডাকাতেরা সবচেয়ে ভয়ানক ডাকাতকে সরদার বানায়। অপরাধীরাও তেমনি সবচেয়ে বড় অপরাধীকে নেতা বা নেত্রী বানায়। নইলে অপরাধ বাঁচে না। শেখ হাসিনার কদর আওয়ামী লীগে এ জন্যই অধিক। কারণ, বাংলাদেশে এমন অপরাধী নাই যে হাসিনার চেয়ে বেশী অপরাধী। বাংলাদেশের কোন চোর বা ডাকাতই ঘরে ঘরে ডাকাতি করেনি। কিন্তু সে ভয়ানক অপরাধটি করেছে হাসিনা। সে ডাকাতি করে ছিনিয়ে নিয়েছে অতি মূল্যবান ভোট। এবং ভোট তো অর্থের চেয়েও মূল্যবান। অর্থ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীত্ব কেনা যায়। কিন্তু ভোট ডাকাতি করলে সে পদটি ছিনিয়ে নেয়া যায়।

৪.
নিজের অর্থ,মেধা তথা সকল সামর্থ্যের বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ ভূমিটি হলো রাজনীতি। এটি পবিত্র জিহাদ। এটিই নবীজী (সা:)র শ্রেষ্ঠ সূন্নত।  নবীজী (সা:) নিজে রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন। মুসলিমগণ বিশ্বশক্তির মর্যাদা পেয়েছে, শরিয়ত প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, মুসলিমগণ সর্বকালের সর্বশ্রষ্ঠ সভ্যতা নির্মাণে সুযোগ পেয়েছে নবীজী (সা:)র এ সূন্নত এবং ইসলামের এ ফরজ বিধান নিয়ে বাঁচার কারণে। অথচ অধিকাংশ মুসলিমের জীবনে সে সূন্নত নাই। ফলে তারা আজ পরাজিত ও অপমানিত।

৫.
শারীরিক শক্তি, মেধা, অর্থ ও রক্ত তথা সকল সামর্থ্যের বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ ভূমি হলো রাজনীতি। জিহাদ ছাড়া ইসলামকে বিজয়ী করার অন্য কোন রাস্তা নই। চোরডাকাতও দান করে। ঘুষখোরও মসজিদে টাকা দেয়। প্রচার করা হয় ভোটচোর হাসিনাও নাকি তাহাজ্জুদ নামায পড়ে। কিন্তু ইসলামকে বিজয়ী করার জিহাদে মুনাফিকদের স্থান নাই। এ পবিত্র কাজ ও শ্রেষ্ঠ ইবাদতটি শুধু ঈমানদারদের দ্বারাই হয়। এ পথে যারা প্রাণ দেয় তাদেরকে শহীদ হয়। এবং তাদেরকে বিনা হিসাবে জান্নাত দেয়া হয়। তাঁরাই ইসলামের শ্রেষ্ঠ সন্তান। যে সমাজে তাদের ন্যায় শ্রেষ্ঠ সন্তান নাই, সে দেশ দখলে যায় দুর্বৃত্তদের হাতে। তারই উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

৬.

দুর্বৃত্তগণ ক্ষমতায় গেলে বড় ক্ষতিটা হয়, তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়, দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু তারাই। রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কলকারখানা গড়ে সভ্য দেশ গড়া যায় না। সভ্য দেশ গড়তে হলে সভ্য মানুষ গড়তে হয়। তাই সভ্য দেশে হিসাব হয়, দেশে কতজন সভ্য মানুষ তৈরী হলো -তা নিয়ে। কিন্তু দেশ দুর্বৃত্ত সরকারের অধীনে গেলে সেটি অসম্ভব হয়। দল বড় করতে ডাকাত সর্দার যেমন ডাকাত খোঁজে, দুর্বৃত্ত শাসকও তেমনি নিজের বাহিনী বড় করেত বেশী বেশী দুর্বৃ্ত্ত তৈরী করে। তাই বাংলাদেশে হাসিনার ক্ষমতায় থাকাতে দুর্বৃত্তির সুনামী প্রবলতর হচ্ছে।

৭.

মানুষের সবচেয়ে বড় পঙ্গুত্বটি দেহের পতন নয়, সেটি চরিত্রের পতন। দেহের পতন জাহান্নামে নেয় না। মানুষ জাহান্নামে যায় চরিত্রের পতনের কারণে। তেমনি একটি জাতির সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো তার দুর্নীতি -যা অসভ্যতা বাড়ায়। পরকালে এ প্রশ্ন উঠবে না দেশে কতগুলি রাস্তা বা ব্রিজ নির্মিত হলো, বরং প্রশ্ন উঠবে কতটা দূর্নীতি নির্মূল করা হলো এবং প্রতিষ্ঠা দেয়া হলো সুনীতিকে।    

৮.

মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোতে নেয়াই মহান আল্লাহতায়ালার সূন্নত। সে কাজে কোরআন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ দান। মহান আল্লাহতায়ালার সে সূন্নত পাল করে ঈমানদার জ্ঞানীরা। ফলে তাঁরাই শ্রেষ্ঠ মানব। অপর দিকে শয়তানের কাজ হলো মানবকে আলো থেকে অন্ধকারে নেয়া। এভাবে জাহান্নামে নেয়। সে কাজটি করে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বৃত্তরা। তারা্ই প্রতি সমাজে শয়তানের সৈনিক এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানব।

৯.
চোরডাকাতগণ তাদের দুর্বৃত্তিকে কখনোই দোষ হিসাবে দেখে না। দেখে নিজেদের শক্তি হিসাবে। দেখে অধিকার রূপেও। দুর্বৃত্তির সামর্থ্য তাদের অহংকারি বানায়। বাংলাদেশের ভোটডাকাত সরকারও তেমনি তাদের দুর্বৃত্তিকে সমস্যা রূপে দেখে না। তারা সমস্যা রূপে দেখে দেশের প্রতিবাদী জনগণকে। ফলে তাদের নীতি হয় যে কোন ভাবে জনগণকে দাবিয়ে রাখা ও তাদেরকে অধিকারহীন করা।

১০.
পশুদের রাজনীতি লাগে না। কারণ পশুদের রাষ্ট্র গড়তে হয় না। তাই মানুষের মাঝে পশুত্ব প্রতিষ্ঠা পেলে মানব জীবনও রাজনীতি শূণ্য হয়। রাজনীতি  না নিয়ে বাঁচাটি তাই পশুত্ব নিয়ে বাঁচা। এরিস্টোটেলের মতে মানুষ ও পশুর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, পশু রাজনীতি করে না, কিন্তু মানুষ রাজনীতি করে। এবং ইসলামে রাজনীতি হলো ফরজ। কারণ একমাত্র এ ফরজটি পালিত হলেই ইসলাম বিজয়ী হয় এবং পূর্ণ ইসলাম নিয়ে বাঁচা যায়। সে ফরজ বিলুপ্ত হলে বিলুপ্ত হয় নবীজী (সা:)’র -যাতে আছে ইসলামী রাষ্ট্র, শরিয়ত, জিহাদ ও প্যান-ইসলামিক ঐক্য। একমাত্র জিহাদের মাধ্যমেই বিজয়ী হয় সকল ধর্ম ও মতবাদের উপর ইসলামকে বিজয়ী করার মহান আল্লাহতায়ালার ভিশন। যা পবিত্র কোর’আনে ঘোষিত হয়েছে “লি’ইয়ুযহিরাহুদ্দিনী কুল্লিহি” –এ বয়ানটির মধ্য দিয়ে। সে রাজনীতি না থাকাতে বিজয়ী হয় দুর্বৃত্তরা। তখন সুনামী আসে গুম, খুন, চুরিডাকাতি ও ভোটডাকাতির অসভ্যতার। তারই উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

১১.
শেখ হাসিনার দাবী, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, গুম, খুন, সন্ত্রাসের অবাধ অধিকার  তাকে দিতে হবে। সেটি যেন তার পৈত্রিক অধিকার। অধিকার দিতে হবে যাকে ইচছা তাকে ফাঁসিতে চরানোর। অধিকার দিতে হবে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিচারক, মিডিয়া ও প্রশাসনের কর্মাচারিদের চাকর-বাকরে পরিণত করার। অধিকার দিতে হবে এসব চাকব-বাকর প্রতিপালেন যথেচ্ছা অর্থ খরচের। অথচ জনগণের অধিকার নাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার। ঈমানদারদের অধিকার নাই শরিয়তের পূর্ণ পালন নিয়ে বাঁচার। মুজিবাদের ন্যায় এ অসভ্যতাটাই হলো হাসিনাবাদ। ০৫/০১/২০২১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *