বিবিধ প্রসঙ্গ ১২

image_pdfimage_print

 ১. নেতার আসনে দুর্বৃত্তকে বসানোর আযাব

গাড়ি গর্তে পড়ে এবং বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু ঘটে অযোগ্য চালকের কারণে। ফলে প্রতিটি দায়িত্বশীল সরকারের গুরু দায়িত্বটি হয় যাতে অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স না যায় -সেটির ব্যবস্থা নেয়া। বিষয়টি অবিকল জাতির বেলায়ও। চাষাবাদ, শিল্প, পশুপালন, গৃহনির্মাণ বা ব্যবসাবাণিজ্যে ব্যর্থতার কারণে কোন জাতিই ধ্বংস হয় না। সে ব্যর্থ্যতায় দারিদ্র্য আসলেও ভয়াবহ আযাব আসে না। জাতির জীবনে আযাব আসে এবং ধ্বংস হয়, নেতার আসনে আল্লাহতায়ালার অবাধ্য কোন দুর্বৃত্তকে বসালে। ফিরাউনের ন্যায় দুর্বৃত্তকে যারা খোদা বানিয়েছিল এবং তার পক্ষে অস্ত্র ধরেছিল তারা মিশরবাসীকে কোন কল্যাণ দেয়নি। ফিরাউনের অপরাধের সাথে মিশরবাসীদের অপরাধ তখন একাকার হয়ে গিয়েছিল। তাদের সে অপরাধ মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে ভয়াবহ আযাবকে সেদিন অনিবার্য করে তুলেছিল।

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের দায়ভারটি বিশাল। জনগণের ঈমান, যোগ্যতা ও বিবেকের পরীক্ষাটি হয় নেতা নির্বাচনের সামর্থ্যের মধ্য দিয়ে। গণতন্ত্র দেয় সুযোগ্য নেতা নির্বাচিত করে কল্যাণের পথে চলার সুযোগ। সে সাথে সুযোগ করে দেয় দুর্বৃত্ত নেতা নির্বাচন করে ভয়ানক আযাব ডেকে আনারও। ফলে গণতান্ত্রিক দেশে আযাবের সাথে শুধু দুর্বৃত্ত সরকারই দায়ী হয়না, দায়ী তারাও যারা সে দুর্বৃত্তদের নির্বাচিত করে। একটি জাতির জনগণ কতটা অযোগ্য ও বেঈমান সেটি যাচাইয়ের জন্য জরিপের প্রয়োজন পড়ে না, সেটি নির্ভূল ভাবে বুঝা যায় সেদেশের দুর্বৃত্ত শাসককে দেখে। প্রকৃত ঈমানদারদের স্বভাব হলো, দুর্বৃত্ত শাসককে তারা কখনোই মেনে নেয় না। গ্রামে বাঘ ঢুললে গ্রামবাসী যেমন একতাবদ্ধ হয়ে বাঘ হত্যা করে তেমন তারা কোন জালেম শাসক তাড়ায়। সে রকম লড়াই না থাকলে হলে বুঝতে হবে জনগণের মাঝে বিবেকবোধ, বিচারবোধ ও ঈমানের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়ে গেছে। গরু-ছাগল বাঘ তাড়ায় না, বরং বাঘের হাতে নিহত হওয়াই তাদের রীতি। তেমনি একটি পশু সুলভ স্বভাব তাদের মাঝেও যাদের মাঝ বিবেকবোধ, বিচারবোধ ও ঈমান বলে কিছু নাই।

নির্বাচনের মাধ্যমে যাচায় হয় জনগণের বিবেকবোধ, বিচারবোধ ও ঈমানের। এখানে ভূল হলে জনগণের উপর আযাব অনিবার্য হয়। তখন লক্ষ লক্ষ মানুষকে সে আযাবে প্রাণ দিয়ে ভূলের দায় পরিশোধ করতে হয়। সে পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ ও প্রাণনাশী হতে পারে তারই দুটি উজ্বল দৃষ্টান্ত হলো হিটলারের আমলের জার্মানী এবং মুজিব-হাসিনা আমলের বাংলাদেশ। হিটলারের ন্যায় এক ফ্যাসিস্ট দুর্বৃত্তকে নির্বাচিত করে জার্মান জাতি তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদটি ডেকে এনেছিল। তাতে জার্মান জনগণকে ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধের আযাবে পড়তে হয়েছে এবং তাতে মৃত্যু ঘটেছে বহু লক্ষ জার্মানীর। ধ্বংস হয়েছে বহু লক্ষ ঘরবাড়ী। তেমনি বাংলাদেশীগণ ভূগেছে ১৯৭০ সালে শেখ মুজিবের মত একজন ফ্যাসিস্ট দুর্বৃত্তকে নির্বাচিত করে। ফলে দেশবাসীর জীবনে এসেছে ভয়াবহ যুদ্ধ। এসেছে হাজার হাজার মানুষের জীবনে মৃত্যু। এসেছে আগ্রাসী হিন্দু ভারতের গোলামী। এসেছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। এসেছে বহু লক্ষ মানুষের জীবনে অনাহারের দুর্বিসহ যাতনা এবং মৃত্যু। গণতন্ত্রের কথা বলে মুজিব প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল ফেরাউনী মডেলের এক দল-এক নেতার বাকশালী স্বৈরাচার। গণতন্ত্রকে পাঠিয়েছিল কবরস্থানে। কেড়ে নিয়েছিল কথা বলার স্বাধীনতা। বিদ্রোহী জনগণকে নিয়ন্ত্রনে আনতে দেশব্যাপী দাবড়িয়ে দিয়েছিল নৃশংস রক্ষিবাহিনী। তাতে নিহত হয়েছিল তিরিশ হাজারের বেশী মানুষ।

বাংলাদেশের মানুষ একই ভূল করেছে ২০০৮ সালে হাসিনার ন্যায় ভোট-ডাকাত স্বৈরাচারিকে নির্বাচিত করে। সে ভূলের কারণে জনগণ হারিয়েছে ভোটের অধিকার। গণতন্ত্র গেছে নির্বাসনে। এবং পেয়েছে চুরিডাকাতি, ভোট-ডাকাতি, গুম-খুন-ধর্ষণ এবং ফাঁসির রাজনীতি। জনগণের রাজস্বের অর্থ এবং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় হচ্ছে শেখ হাসিনার বিশাল ডাকাত দলের প্রতিপালনে।  

 

২. কে নেতা হওয়ার যোগ্য?

বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এমন একটি দেশে কে নেতা হওয়ার জন্য যোগ্য বা অযোগ্য –সে বিষয়ে বিচারের মানদন্ডটি যে কোন অমুসলিম দেশ থেকে ভিন্নতর। কারণ, মুসলিম দেশ এবং অমুসলিম দেশের আদর্শিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক চরিত্র এবং লক্ষ্য যেমন এক নয়, তেমনি এক নয় উভয় দেশের নেতার উপর অর্পিত দায়ভারও। এমন একটি ভিন্নতার কারণেই ১৯৪৭ সালে বাঙালী মুসলিমগণ গান্ধি বা নেহেরুর ন্যায় হিন্দুকে নেতা রূপে গ্রহণ করেনি। তারা মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে নেতা রূপে বরণ করেছিল এবং পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। সে বাঙালী মুসলিমের সে আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা আজও বিলুপ্ত হয়নি। এবং ভবিষ্যতেও সেটি বিলুপ্ত হওয়ার নয়। এমন একটি মুসলিম দেশের নেতাকে শুধু বাঙালী হলে চলে না, তাকে তার রাজনীতিতে দেশটির মুসলিম জনগণের বিশ্বাস ও আশা-আকাঙ্খারও প্রতিফলন ঘটাতে হয়। সে প্রতিফলনটি ঘটানোর কারণে মহম্মদ আলী জিন্নাহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের কাছে কায়েদে আজম হতে পেরেছিলেন।

এখানেই মুজিব-হাসিনার বাকশালী রাজনীতির বিশাল ব্যর্থতা। তাদের রাজনীতিতে যে বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে সেটি হলো চরম ক্ষমতালিপ্সা ও ভারতসেবী বাঁদী চরিত্র। কবরে পাঠানো হয়েছে বাঙালী মুসলিমের আশা-আকাঙ্খার কথা। জনগণের কাছে তারা এতটাই ঘৃণার পাত্র যে, ক্ষমতায় থাকতে মুজিবকে বিরোধীদলের রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করতে হয়েছে। এবং চালু করতে হয়েছে একদলীয় বাকশালী প্রথা। সে সাথে নিষিদ্ধ করতে হয়েছে সকল বিরোধী দলীয় পত্র-পত্রিকা এবং রাজপথের মিটিং-মিছিল। হাসিনাকেও একই পথ ধরতে হয়েছে। তাকে বিরোধী দলীয় নেতাদের গুম, খুন ও ফাঁসিতে ঝুলাতে হয়েছে। এবং ভোটের বাক্সে ডাকাতি করতে হয়েছে।এমন দুর্বৃত্ত ডাকাতগণ কি কোন মুসলিম দেশের নেতা হতে পারে? সেটি ডাকাত সর্দারকে মসজিদের ইমাম বানানোর মত।

 

৩. আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়া ও পাপ থেকে বাঁচার তাড়না

মুসলিমকে শুধু নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাত, তাসবিহ-তাহলিল নিয়ে বাঁচলে চলে না, তাকে বাঁচতে হয়ে বিশেষ একটি রাজনৈতিক লক্ষ্যকে হৃদয়ে নিয়ে। একজন কাফের যেমন হৃদয়ে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, সমাজবাদ বা সেক্যুলারিজম নিয়ে বাঁচে, মুসলিম সেটি পারে না। তাঁকে শুধু নিজ-জীবনে মহান আল্লাহর দ্বীন তথা শরিয়তকে প্রতিষ্ঠা দিলে চলে না, সেটির প্রতিষ্ঠা দিতে হয় সমাজ ও রাষ্ট্রের বুকে। এটিই নবীজী (সাঃ)র সূন্নত।  হৃদয়ে সে তীব্র বাসনাটি থাকার জন্য সে একজন কাফের থেকে ভিন্নতর। নবীজী (সাঃ)র প্রতিটি সাহাবা বেঁচেছেন সে রাজনৈতীক লক্ষ্যের বাস্তবায়নে। অধিকাংশ সাহাবী সে লক্ষ্য শহীদ হয়ে গেছেন। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হওয়ার এটিই তো একমাত্র পথ। ফলে যারাই মহান নবীজী (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবাদের অনুসারি তাদের হৃদয়ে থাকে মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হওয়ার প্রচণ্ড তাড়না। সে তাড়নার  কারণেই আল্লাহর রাজ্যে তাঁরই দ্বীন তথা শরিয়ত প্রতিষ্ঠায় মুসলিম জনগণ নিজেদের সর্ব-সামর্থ্যের বিনিয়োগ ঘটায়।

অথচ হাসিনার ন্যায় বাকশালীদের কাছে বিষয়টি ভিন্ন। তাদের কাছে সে বিশুদ্ধ ইসলামী চেতনা নিয়ে বাঁচাটি  চিত্রিত হয় সন্ত্রাস রূপে। এবং তারা নিজেরা বাঁচে হৃদয়ে ব্রিটিশ কাফেরদের প্রবর্তিত কুফরি আইনের প্রতি আত্মসমর্পণ নিয়ে। বাঁচে ভারতের গো-পূজারীদের পদসেবা দিয়ে। মুজিব-হাসিনা তাই মুসলিমদের নেতা-নেত্রী হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হয় কি করে? শরিয়তের বিলুপ্তি, ইসলামপন্থিদের হত্যা ও ফাঁসিতে ঝুলানোর মত যেসব অপরাধ ইসলামের শত্রুগণ যুগ যুগ ধরে করেছে, হাসিনা তো তাই করছে। মুজিবও সেটি করেছে। অথচ পাপ শুধু মুর্তিপূজা নয়, বরং ইসলামের শত্রুকে নেতা রূপে বরণ করাও। এ পাপে আযাব যে অনিবার্য -সে হুশ বা ক’জন বাংলাদেশীর?

 

৪. ইসলাম থেকে দূরে সরার পরিণাম

মুসলিমদের কাজ হয়েছে স্রোতে ভাসা। স্রোতের টানে তারা দূরে সরেছে  ইসলাম থেকে।তারা ভেসেছে সেক্যুলারিজম, জাতীয়তাবাদ ও সমাজবাদের স্রোতে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আটকা পড়েছে ইতিহাসের বর্বরতম ফ্যাসিবাদের চরে। আজ থেকে শত বছর আগেও মুসলিমগণ ইসলাম থেকে এতটা দূরে ছিল না। তখন মুসলিম জাহানের বুকে ৫৭টি দেশের নামে দেয়াল ছিল না। ভাষা, বর্ণ, এলাকার নামে খুনোখুনি ছিল না। অবস্থা এখন এতটাই খারাপ হয়েছে যে, নানা ভাষা, নানা বর্ণ ও নানা এলাকার মানুষ কিভাবে একত্রে থাকতে হয় -সে দিক দিয়ে ভারতীয় কাফেরগণও মুসলিমদের থেকে শ্রেষ্ঠ গণ্য হচ্ছে।

অথচ সে স্রোতে ভাসা থেকে বাঁচতেই মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশঃ “ওয়া তাছিমু বি হাবলিল্লাহি জামিয়াঁও ওয়া লা তাফাররাকু” অর্থঃ এবং তোমরা সবাই শক্ত ভাবে ধরো আল্লাহর রশিকে এবং পরস্পরে বিভক্ত হয়ো না। আল্লাহতায়ালার সে পবিত্র রশিটি হলো পবিত্র কোর’আন –যা বান্দার সংযোগ গড়ে মহান আল্লাহতায়ালার সাথে। একমাত্র এ কোর’আনই মুসলিমদের বাঁচাতে পারে বিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচাতে।  অথচ সে কোর’আন না ধরে মুসলিমগণ ধরেছে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, সমাজবাদ, রাজতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের রশি। ফলে সরেছে কোর’আন থেকে এবং পরস্পরে বিভক্তও হয়েছে। এবং বিভক্তি শত্রুর হাতে পরাজয়, হত্যা, ধর্ষষ ও ধ্বংস আনবে সেটিই তো স্বাভাবিক। এ হলো আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে অবাধ্যতার পরিণাম।   

৫. গণমুখিতা নয়, চাই আল্লাহমুখিতা

কে কতটা জনগণের কাছে প্রিয় হলো তার ভিত্তিতে জান্নাত জুটবে না। বহু নবীও জনগণের কাছে প্রিয় হতে পারেননি। বরং অনেক নবী ও তাঁদের অনুসারিদের জনগণ নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। প্রাণ বাঁচাতে তাদের অনেককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। আখেরাতে কল্যাণ তো মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়াতে। আর আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হওয়ার পথ তার প্রতিটি হুকুমের প্রতি সদা আনুগত্য।

কিন্তু মুসলিম জীবনে সে আনুগত্য কোথায়? আনুগত্যের প্রকাশটি ঘটে শুধু নামায-রোযায় নয়, বরং মহান আল্লাহতায়ালার আইন তথা শরিয়ত পালনের মধ্য দিয়ে। প্রশ্ন হলো, দেশের আদালতে শরিয়তের বদল ইংরেজ কাফেরদের রচিত আইনের কাছে আত্মসমর্পণ নিয়ে কি মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হওয়া যায়?  প্রিয় হওয়া যায় কি তাদেরকে সমর্থণ দিলে যারা ইসলামের আত্মস্বীকৃত বিপক্ষ শক্তি এবং কোয়ালিশন গড়ে নরেন্দ্র মোদির ন্যায় কাফেরের সাথে?
 

৬. হীনতা ও কদর্যতা বাড়ে দুর্বৃত্তকে সন্মান দেয়ায়

গরু-ছাগল,সাপ-শকুনের পূজা দিলে সে ইতর জীবগুলি মর্যাদা বাড়ে না। সেগুলি গরু-ছাগল, সাপ-শকুনই থাকে যায। বরং মর্যাদা হারায় তারা যারা সে ইতর জীবকে পূজা দেয়। তেমনি মর্যাদা থাকেনা শেখ মুজিবের ন্যায় ভারতের সেবাদাস এক গণতন্ত্র হত্যাকারী বাকশালী স্বৈরাচারিকে মর্যাদা দিলে। ফিরাউনের ন্যায় এক দুর্বৃত্তকে সন্মান দেয়াতে মিশরবাসী শুধু তাওরাত, ইঞ্জিল ও কোর’আনে নয়, সমগ্র মানব ইতিহাসে কুলাঙ্গর রূপে চিত্রিত হয়ে আছে। বড় বড় পিরামিড গড়ে সে দুর্বৃত্তিকে ঢাকা যায়নি। মাথায় দুর্গন্ধময় মল-মুত্র নিয়ে হাঁটায় কারো মর্যাদা বাড়ে না। মল-মুত্রের স্থান তো আবর্জনার স্তুপে, মাথার উপরে নয়। তেমনি দেশে সর্বোচ্চ আসনে ভোটডাকাত এক দুর্বৃত্তকে বসিয়ে তাকে মাননীয় বলাতেও বিশ্বের দরবারে দেশবাসীর মর্যাদা বাড়ে না। ভোটডাকাত দুর্বৃত্তদের স্থান তো জেলে হওয়া উচিত, শাসকের আসনে নয়।

৭. নরেন্দ্র মোদির বন্ধু শেখ হাসিনা

প্রতিবেশীর ঘরে যখন খুন-ধর্ষণ হয় –সেটি তখন সে ঘরের আভ্যন্তরীণ বিষয় থাকে না। অন্যরাও তখন সে অসভ্য বর্বরতা রুখতে ছুটে আসে। সে অসভ্যতার প্রতিরোধে উদ্যোগী  না হওয়াটি আরেক অসভ্যতা। কিন্তু সে সনাতন সভ্য নীতি  শেখ হাসিনার উপর কাজ করে না। হাসিনার কথা, ভারত আমাদের বন্ধু প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর ঘরে যা কিছু হোক সেটি তার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। অতএব কিছু বলা যাবে না।  তার অনুগত   RAB প্রধান বলেছে, ভারতে যা কিছু হচ্ছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। যে বাংলাদেশে ভারতের রাজ্য, কেন্দ্রীয় সরকারেরর বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না।

ভারতে মুসলিমদের উপর চলছে খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের চরম বিভীষিকা। বিশ্ববাসী তা নিয়ে সরব। কিন্তু সে নির্মম অসভ্যতার বিরুদ্ধে হাসিনা মুখ খুলছে না। বরং হাসিনা সমর্থণ করছে অসভ্যতার নায়ক নরেন্দ্র মোদিকে। এক ডাকাত আরেক ডাকাতের নৃশংস দুর্বৃত্তিকে নিন্দা করেনা। এখানে সে নীতিই কাজ করছে। তাই বাংলাদেশ ভোট-ডাকাতি হলে বা শাপলা চত্ত্বরে গণহত্যা হলে মোদির মুখে যেমন হাসিনার নিন্দা নেই, তেমনি মোদি সরকারের উদ্যোগে ভারত ও কাশ্মিরে গণহ্ত্যা হলে বা গরুর গোশতো খাওয়ার কারণে রাস্তায় পিটিয়ে মুসলিমকে হত্যা করলেও হাসিনার মুখে কোন প্রতিবাদ নাই। দুর্বৃত্ত মনিব ঘরের মধ্যে কাউকে ধর্ষণ করলে বা হত্যা করলে ঘরের চাকর প্রতিবাদ করে না। বরং সাহায্য করে না। ভারতের প্রতি সেরূপ বাঁদী চরিত্র হলো হলো শেখ হাসিনার। 

 

৮.অসভ্য শাসন এবং বিচারে বৈষম্য

ভারতে মাত্র এক হিন্দু নারীর ধর্ষণে ৪ জনের ফাঁসি হলো। কিন্তু গুজরাতে ২০০২সালে যারা শত শত মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং হত্যা করা হয়েছিল তিন হাজারেরও বেশী মুসলিমকে। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বাবরী মসজিদ। সে অপরাধে কারো কি ফাঁসী হয়েছিল? মোদি সরকারের কাছে সেগুলি কোন অপরাধই নয়। এবং মোদি নিজেও সে অপরাধের সাথে জড়িত। ভারতের আদালতে মুসলিমগণ ন্যায় বিচার থেকে যে কতটা বঞ্চিত এ হলো তার নজির। এমন করোনা ভাইরাসের রোগীদের সাহায্যের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা থেকেও মুসলিমদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। একটি দেশ অসভ্যদের শাসনে গেলে অবিচার কতটা প্রবল হয় –এ হলো তার নজির।

৯. ঈমানদার ও বেঈমানী: কীরূপে দেখা যায়?

ঈমানদারী ও বেঈমানী অদৃশ্য নয়। দুটি’ই খালি চোখে অতি সুস্পষ্ট ভাবে দেখা যায়। ঈমানদারী দেখা যায় অন্যায়কে ঘৃণা ও ন্যায়কে ভালবাসার সামর্থ্যে। দেখা যায় ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের নির্মূলের জিহাদে। দেখা যায় আল্লাহর নির্দেশ পালনে একাগ্রতার মাঝে। অপরদিকে বেঈমানী দৃশ্যমান হয় চুরি-ডাকাতি, ভোটডাকাতি, গুম-খুন, মিথ্যাচার ও স্বৈরাচারি নৃশংসতার মাঝে। দেখা যায় দেশী-বিদেশী কাফের শক্তির সাথে বন্ধুত্বের মাঝে। সে বেঈমানীটা আরো প্রবল ভাবে দেখা যায়, স্বৈরাচারি ভোটডাকাত শাসককে দেশের পিতা, দেশের বন্ধু, দেশের নেতা ও মাননীয় বলার মঝে।

কোর’আনের ইসলাম ও নবীজী (সা:)র আদর্শকে একমাত্র তাঁরাই ভালবাসে যাদের মধ্যে রয়েছে দুর্বৃত্তির নির্মূলে প্রবল আগ্রহ। আলো ও আঁধার একত্রে থাকে না; আলোর আগমনে আঁধার চলে যেতে বাধ্য। তেমনি কোন ব্যক্তির মাঝে নবীজী (সাঃ)র আদর্শ ও দুর্বৃত্তের আদর্শ একত্রে থাকে না। চরিত্রে দুর্বৃত্তি দেখে নিশ্চিত বলা যায় তার মধ্যে ইসলাম বলে কিছু নাই, নবীজী (সাঃ)র আদর্শেরও কিছু নাই। এমন ব্যক্তির নামায-রোযা, হজ্ব-উমরাহ, হাতে তাসবিহ, মাথায় টুপি বা হিজাব স্রেফ নিজের বেঈমানীটি লুকানোর স্বার্থে। যারা জালেম হওয়ার পথ বেছে ন্যায় তাদের জন্য অসম্ভব হয় ঈমানদার হওয়া। মহান আল্লাহতায়াল পবিত্র কোর’আনে বার বার বলেছেন, তিনি জালেমদের হিদায়েত দেন না। তাই ঈমানদার হতে হলে প্রথমে জুলুমের পথ ছাড়তে হয়। জালেম হওয়াটা কাফেরদের কাজ। তাই পবিত্র কোর’আনের ঘোষণাঃ “ওয়াল কাফিরুনা হুমুজ জালিমুন” অর্থঃ “এবং যারা কাফির তারাই জালিম” –(সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৪) । ১৫/০৪/২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *