বাংলাদেশ কিরূপে শো’কেস হলো অনৈসলাম ও দুর্বৃত্তির?

ফিরোজ মাহবুব কামাল

 

 শো’কেস দুর্বৃত্তি ও জাহিলিয়াতের

মুসলিম হওয়ার দায় হলো, তাকে শো‌’কেস হতে হয় পূর্ণ ইসলামের। তাকে দেখেই যেন ইসলাম দেখা যায়। তার কথা, কর্ম ও চরিত্রের মাঝে দৃশ্যমান হতে ঈমান, তাকওয়া, সততা, মানবতা, ভাতৃত্ববোধ, মানব কল্যাণে বিরামহীন তাড়না। তাঁর প্রতিক্ষণের তাড়না যেমন নিজে জাহান্নাম থেকে বাঁচা, তেমনি অন্যকে বাঁচানো। সে যেমন নিজে শেখে, তেমনি অপরকে শেখায়। সে পরিণত হয় ভ্রাম্যমান ছাত্র ও শিক্ষকে। তার কর্ম, চরিত্র ও আচরণ ইসলামের কথা বলে যা অন্যদের ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করে। নবীজী (সা:) এবং তাঁর প্রতিটি সাহাবা ছিলেন ইসলামের এরূপ শো’কেস। তাদের দেখেই অগণিত মানুষ মুসলিম হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার মত বিশাল দেশের জনগণকে মুসলিম করতে তার যুদ্ধ করতে হয়নি; প্রচারকের দলও প্রেরণ কতে হয়নি। সেখানে আগত মুসলিম ব্যবসায়ীদের দেখেই তারা মুসলিম হয়ে গেছে। ইসলাম প্রচারের এরূপ ইতিহাস বহু দেশেই নির্মিত হয়েছে।

কিন্তু এক্ষেত্রে বাঙালি মুসলিমের ব্যর্থতাটি বিশাল। তারা ইসলামের শো’কেস হতে পারিনি। বরং শো’কেস হয়েছে বেঈমানী, মুনাফিকি, দুর্বৃত্তি ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের। মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শো‌’কেস হলো বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন আদালত। সংবিধানে বিদ্রোহ মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে। আর দেশের আদালতের অঙ্গণে বিদ্রোহটি মহান রব’য়ের শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে। রাজনীতিতে অঙ্গণে বাংলাদেশ শো’কেস হলো বাঙালি ট্রাইবালিজম, সেক্যুলারিজম, ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস, দলবাদ, ওয়াদা ভঙ্গ ও মুনাফিকির। তারা দেশবাসীকে দিয়েছে রক্তাক্ত যুদ্ধ, গণ হত্যা, গুম খুন, জেল জুলুম ও আয়না ঘর। নীতি নৈতিকতার অঙ্গণে দেশটি এক বিশাল শো’কেস দুর্বৃত্তির। দেশটির সংস্কৃতিতে স্থান পেয়েছে ঘুষ, চাঁদাবাজী, ঋণখেলাফি ও প্রতারণা। দুর্বৃত্তির শো’কেস রূপে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়েছে। সংস্কৃতিতে তারা শো’কেস হিন্দুয়ানীর। সেটি বুঝা যায় বর্ষবরণ, বসন্ত বরণ ও ২১’য়ে ফেব্রেয়ারী এলে। তখন রাস্তায় দেখা যায় অগণিত আলপনা, বিশাল বিশাল মূর্তি মিছিল এবং ২১য়ের বেদী স্তম্ভে নারী পুরুষের নগ্ন পদে ফুলদানের আরতি। সে সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ইসলামের কোন চিহ্ন দেখা যায় না। বাংলাদেশ শো’কেস পাপকর্মেরও। সেটি দেখা যায় সূদী ব্যাংক, জূয়ার আখড়া ও শত শত পতিতা পল্লীতে জ্বিনার ব্যবসায়। শো’কেস ধর্মের নামে রম রমা ব্যবসার। সেটি দেখের পীরদের দরবারে এবং ওয়াজের মহফিলে।

 

অবমাননা কুর’আনের সাথে                

কুর’আন পথ দেখায়। কুর’আন ছাড়া কোন মুসলিম জনগোষ্ঠি সঠিক পথ পাবে এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা পাবে -সেটি বিশ্বাস করাই কুফুরি তথা ঈমান বিরুদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায় একটি মুসলিম দেশে কুর’আনের জ্ঞানে জনগণকে আলোকিত করার কাজটি হয়নি এবং এখনো হচ্ছে না। ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাঙালি মুসলিমগণ ভেবেই নিয়েছে কুর’আন ছাড়াই তারা সাফল্যের ও গর্বের ইতিহাস গড়বে। ফলে দেশের স্কুল কলেজে কুর’আন শিক্ষার কোন স্থান নাই, জনজীবনে কুর’আন বুঝার কোন তাড়না নেই, আদালতে কুর’আনী আইনের কোন স্থান নাই এবং রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিতে পবিত্র কুর‌’আনের প্রতি অঙ্গীকার নাই। বরং মেঘ যেমন সূর্যকে আড়াল করে রাখে, তেমনি কুর’আনের শিক্ষাকে আড়াল করা’র কাজটি সর্বত্র। এমন কি আলেমগণও ব্যর্থ হচ্ছে পবিত্র কুর’আনের অবিকল শিক্ষাকে -যা নবীজী (সা:) প্রতিষ্ঠা দিয়ে গিয়েছিলেন, জনগণের সামনে তুলে ধরতে। জনগণের মাঝে কুর’আন বুঝার সামর্থ্য সৃষ্টি করা যেন মাদ্রাসা শিক্ষার কোন প্রায়োরিটি নয়। এবং সেটি প্রায়োরিটি নয় দেশের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থারও। ফলে শিক্ষা খাতে বহু হাজার কোটি ব্যয় হলেও জ্ঞানার্জনের ফরজ আদায় হচ্ছে না।

সম্ভবত দেশের শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ কুর’আনের বাণী বুঝে না। অনেকে স্রেফ তেলাওয়াতের সামর্থ্য রাখে। আর না বুঝলে তা অনুসরণ করবে কি করে? ফলে মানব জাতির জন্য মহান রব’য়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দানটি স্রেফ কিতাবের পৃষ্ঠায় বন্দী হয়ে আছে। বাংলাদেশের ন্যায় একটি মুসলিম দেশে রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা সংস্কৃতি, আইন আদালত এবং জনগণের নীতি নৈতিকতার দিকে নজর দিলে বুঝা যায়, দেশটিতে বিজয় শয়তান ও তার অনুসারীদের। শয়তানের সে বিশাল বিজয়টি স্পষ্ট  বুঝা যায়, সংবিধানে মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্বের বিলুপ্তি, আদালতে শরিয়ার বিলুপ্তি, মুসলিম জীবনে কুর’আনী জ্ঞান ও জিহাদের বিলুপ্তি এবং দেশজুড়ে সূদ, ঘুষ, মিথ্যাচার, ব্যাভিচার, পতিতাবৃত্তি, চুরি ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ নানা দুর্বৃত্তির প্লাবন দেখে। অথচ প্রত্যাশা তো এটিই ছিল, মুসলিম ভূমিতে বিলুপ্ত হবে এরূপ সকল প্রকার দুর্বৃত্তি। ফলে গাদ্দরীটি হচ্ছে পবিত্র কুর’আন ও ইসলামের সাথে।

মুসলিম তো তখনই মুসলিম হয় যখন সে বাঁচে এবং বেড়ে উঠে ইসলামকে পূর্ণ ভাবে ধারণ করে। তখন রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সংস্কৃতিতে পূর্ণ ভাবে একাত্ম হতে হয় ইসলামের এজেন্ডার সাথে। যারা এভাবে একাত্ম হয় একমাত্র তারাই পায় সিরাতাল মুস্তাকীম। ইসলাম থেকে দূরে সরার অর্থ ইসলামের এজেন্ডা ও সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে দূরে সরা এবং ইসলামের শত্রুতে পরিণত হওয়া। বিচ্যুতির সে পথটি জাহান্নামের। বাংলাদেশে সেক্যুলারিজমের নামে সেটিই হচ্ছে। সেক্যুলারিস্টদের মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি মুখোশ মাত্র; কার্যতঃ তাদের যুদ্ধটি ইসলামের বিরুদ্ধে। সেটি বুঝ যায় রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, শিক্ষা সংস্কৃতির আঙ্গণকে ইসলামে অঙ্গীকারহীন করার মধ্য দিয়ে।  বাংলাদেশের রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিতে বিজয়টি তাদেরই; তাদের কারণে বহু ছাত্র ছাত্রীরা দূরে সরছে ইসলাম থেকে এবং ভেসে যাচ্ছে সেক্যুলারিজম, লিবারালিজম, জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও সমাজতন্ত্রের ন্যায় জাহিলী মতবাদের প্রবল স্রোতে। স্রোতে ভেসে যাওয়া এসব জাহেল জনশক্তি ইসলামের শত্রুপক্ষের সহিংস সৈনিকে পরিণত হচ্ছে। এজন্যই বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম ভূমিতে ইসলামের শত্রুপক্ষের লোকবলের ও অর্থবলের অভাব হয় না। তাদের বিশাল উপস্থিতি যেমন দেশের পুলিশ, প্রশাসন, বিচারক বাহিনী ও সেনাবাহিনীতে, তেমনি বিপুল সংখায় তারা দেশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, মিডিয়া ও সংস্কৃতির জগতে। এমন দেশে বার বার গণহত্যা হবে, গণতন্ত্র কবরে যাবে এবং দুর্বৃত্তরা ক্ষমতাসীন হবে -সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? এমন দেশে ভারতের ন্যায় পৌত্তলিক শক্তি দেশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও মিডিয়াতে  হাজার হাজার অনুগত যোদ্ধা  পাবে এবং হাসিনার ন্যায় খুনি ফ্যাসিস্ট ১৬টি বছর ক্ষমতায় থাকবে -সেটিই কি স্বাভাবিক নয়?

একই কারণে অতীতে দাস সৈনিক পেতে অসুবিধা হয়নি সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের। এসবই হলো জাহিলিয়াতের নাশকতা -যার শিকার হয়েছে অসংখ্য মুসলিম নারী পুরুষ। এমন জাহিলিয়াতের কারণে কাজী নজরুল ইসলাম ও জেনারেল ওসমানীও ব্রিটিশ কাফিরদের সৈনিক হয়েছে। জাহিলিয়াত এখানে কুর’আনী জ্ঞানশূণ্যতার  -যা প্রকট ভাবে বেড়েছে মুসলিম ভূমি ইসলামের দেশী ও বেদেশী শত্রুদের হাতে অধিকৃত হওয়ায়। দখলদার শাসক শক্তি মুসলিমদের খৃষ্টান, ইহুদি বা পৌত্তলিক বানাতে না পারলেও তাদেরকে ইসলামশূণ্য করতে পেরেছে। সে কাজটি করেছে কুর’আন থেকে দূরে সরানোর মাধ্যমে। এবং সেটি স্কুল কলেজের সিলেবাস থেকে কুর’আন থেকে শিক্ষাদানকে বাদ দিয়ে। জমিতে পানির সরবরাহ বন্ধ করলে ফসল বাঁচে না; তেমনি ছাত্রদের ঈমান বাঁচেনা কুর’আন শিক্ষা বন্ধ করলে। শয়তান ও তার অনুসারীগণ বিষয়টি জানে। তাই কম্যুনিস্ট শাসিত সোভিয়েত রাশিয়া ও চীনে কুর’আন শিক্ষা বিলুপ্ত করে মুসলিম শিশুদের নাস্তিক কম্যুনিস্ট বানানো হয়েছে। সে অভিন্ন শিক্ষা প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়েছে ঔপনিবেশিক ব্রিটশগণও। যে প্রক্রিয়ায় কম্যুনিস্টগণ মুসলিমদের কম্যুনিস্ট বানিয়েছে, সে প্রক্রিয়ায় ব্রিটিশগণ ইসলামে অঙ্গীকারশূণ্য সেক্যুলারিস্ট বানিয়েছে -যারা ব্রিটিশ শাসন বাঁচাতে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীতে দাস রূপে কাজ করেছে। ঔপনিবেশিক কাফির শক্তির হাতে অধিকৃত হওয়ার নাশকতাটি হলো, তখন শুধু মুসলিমদের সম্পদের উপরই শুধু ডাকাতি হয়না, নাশকতা ঘটে চেতনার ভূমিতেও। এতে মুসলিম ভূমিতে দাস সৈনিক পাওয়া তাদের জন্য অতি সহজ হয়েছে। আগ্রাসী ভারত সে প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশে কার্যকর করতে চেয়েছিল মুজিব, হাসিনার মত নওকরদের মাধ্যমে।    

 

 

ব্যর্থতা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে

ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতাই একটি মুসলিম জনগোষ্ঠির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। অন্য কাজের সাফল্য দিয়ে এ ব্যর্থতা পুষিয়ে নেয়া যায় না। রাষ্ট্রের দায় শুধু প্রশাসনের অবকাঠামো, রাস্তা ঘাট ও কল কারখানা গড়া নয়, বরং সে সাথে সংস্কৃতি, রুচি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের নির্মাণও। রাষ্ট্র সে কাজগুলি করে বলেই গুহাবাসী মানুষ আর সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক কখনোই একই রূপ হয়না। যে জনগোষ্ঠি কোন কালেই রাষ্ট্র গড়েনি এবং যে জনগোষ্ঠি রাষ্ট্র গড়েছে – বিশাল পার্থক্য দেখা যায় তাদের উভয়ের মাঝে। তাদের সংস্কৃতি, রুচি ও মূল্যবোধ কখনোই একই রূপ হয়না; পার্থক্যটি বিশাল। গুহাতে বা তাঁবুতে কখনোই কোন সভ্যতা গড়ে উঠেনি, গড়ে উঠেছে রাষ্ট্র নির্মাণের পর। কৃষি বা গৃহ নির্মাণ শিখতে মানবের বহুকাল লাগেনি। কিন্তু রাষ্ট্র নির্মাণ শিখতে হাজার হাজার বছর লেগেছে। তারপরও বহু অপূর্ণতা ও বহু ত্রুটি রয়ে গেছে।

মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ কর্ম হলো রাষ্ট্র নির্মাণ। রাষ্ট্র নির্মাণের ফলেই মানব সভ্যতা দ্রুত সামনে এগিয়েছে। জন্ম নিয়েছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচার ধারণা। পূর্বে এ সবের বালাই ছিলনা; ছিল জঙ্গলের বিধান। রাষ্ট নির্মাণের কাজে সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষণীয় আদর্শ রেখে গেছেন মহান নবীজী (সা:)। নবীজী (সা:)’য়ের জীবনে এটিই হলো সবচেয়ে বড় অবদান। শুরুতে ইসলামের দ্রুত প্রসারের পিছনে ছিল এই রাষ্ট্র।  মুসলিম উম্মাহর জান ও মালে সবচেয়ে বেশী খরচ হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ এবং সে রাষ্ট্রের সুরক্ষা দিতে। অপর দিকে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতাই হলো আজকের মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মুসলিম বিশ্বে বড় বড় শহর নির্মিত হয়েছে, সম্পদের প্রাচুর্য এসেছে, নির্মিত হয়েছে শত শত কল কারখানা ও হাজার হাজার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু নির্মিত হয়নি ইসলামী রাষ্ট্র। ফলে ১৫০ কোটের বেশী মুসলিম ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বমঞ্চে ভূ-রাজনৈতিক ও সিভিলাইজেশনাল শক্তি রূপে আবির্ভুত হতে। এটি এক বিশাল ব্যর্থতা।  

মানব সভ্যতার অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্মটি হলো জ্ঞানদান ও জ্ঞানার্জনের চেষ্টা। এগুণের কারণেই মানব জাতি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি গণ্য হয়। অর্থদান কাউকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচায় না। কিন্ত জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর সে কাজটি করে ওহীর জ্ঞান। কারণ সে জ্ঞান জান্নাতের পথ দেখায়। জ্ঞানদান ও জ্ঞানার্জনের সে মহৎ কাজটি গুহায় বা তাঁবুতে বসে হয় না, জঙ্গলেও হয়না। এজন্য চাই জ্ঞান দানের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবকাঠামা। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হলে রাষ্ট্রের বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো এবং তার অর্থবল ও জনবল পরিণত হয় জ্ঞানদানের কাজে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারে। মহান রব’য়ের বিধান তখন কিতাবে বন্দী থাকে না, তা প্রচার পায় এবং রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার জুড়ে তা প্রতিষ্ঠা পায়। তখন বিপ্লব আসে। রাষ্ট্র তখন শান্তির নীড় ও জান্নাতের বাহনে পরিণত হয়। তখন সমাজের অসহায় মানুষদের ভিক্ষায় নামতে হয়না। বরং রাষ্ট্রই তখন সাহায্য নিয়ে তাদের দোয়ারে গিয়ে হাজির হয়। এমন একটি বিপ্লব এসেছিল নবীজী (সা:) ও খোলাফায়ে রাশেদার আমলে। সেটি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ফলে। সমগ্র মানব জাতির ইতিহাসে এটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লব। মানবতা, জানমালের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন তখন শীর্ষে পৌঁছেছিল। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি না হলে শরিয়া বিধান ও ওহীর জ্ঞানের ন্যায় মহান রব’য়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দান তখন শুধু কিতাবেই থেকে যায়। এজন্যই পৃথিবী পৃষ্ঠে সবচেয়ে বড় নেককর্মটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ।

ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না দিলে সে ভূমি কখনো খালি থাকেনা, সেখানে প্রতিষ্ঠা পায়  অনৈসলামী রাষ্ট্র ও শয়তানী শক্তির শাসন। তখন শিক্ষার নামে শুরু হয় মানব মনের আঙ্গিনায় পরিকল্পিত দূষণক্রিয়া। তখন চেতনার সে ভূমিতে চাষাবাদ হয় দুষ্ট মতবাদের। বস্তুত ফ্যাসিবাদ, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, সেক্যুলারিজমের ন্যায় নানা ভ্রান্ত মতবাদের জন্ম হয়েছে অনৈসলামী রাষ্ট্র এবং সেটি ওহীর জ্ঞানশূণ্য ও ঈমানশূণ্য মানুষদের মগজে। সেটির প্রমাণ বাংলাদেশ নিজেই। বাংলাদেশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সংস্কৃতির ময়দানে যারা মতবাদী রাজনীতির নামে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত -তারা কোন কাফির দেশ থেকে আসেনি। তারা জন্ম নিয়েছে এবং বেড়ে উঠেছে বাংলাদেশেই। এখন এটি সুস্পষ্ট যে, মুসলিম ভূমিতে যতদিন নির্মিত হবে না ইসলামী রাষ্ট্র এবং মুসলিম সন্তানদের যতদিন দূরে রাখা হবে কুর’আন ও হাদীস থেকে -ততদিন মুসলিম ঘরে শুধু গাদ্দারই উৎপাদিত হতে থাকবে। ততদিন মুসলিম ঘরে সৈনিক পাবে ইসলামের শত্রুরা। ১৯০ বছর ধরে সেরূপ দাস সৈনিক পেয়েছে ব্রিটিশ কাফিরশক্তি; ১৯৭১’য়ে পেয়েছে ভারতের পৌত্তলিক কাফিরশক্তি। এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে পেয়ে আসছে ইসলাম, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার দেশী শত্রুরা।

তাই ঈমানদারের দায়টি বিশাল। সে দায়টি শুধু ইসলাম বিরোধীদের সামরিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দখলদারিকে প্রতিহত করা নয়; বরং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদ শুরু করা। নবীজী (সা:)’য়ের ন্যায় সে যুদ্ধের শুরু হতে হবে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ দিয়ে। এ যুদ্ধে অস্ত্র হবে পবিত্র কুর’আন এবং কুর’আন লব্ধ জ্ঞান। লক্ষ্য হবে, চেতনার ভূবন থেকে জাহিলিয়াতের নির্মূল। যাদের নাই বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধের সামর্থ্য, তাদের  মনে গড়ে গড়তে হবে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার সংস্কৃতি। এক্ষেত্রে মহান রব’য়ের নির্দেশ হলো:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِالْمَوَدَّةِ

অর্থ: “হে মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না। তাদের প্রতি দেখাবে না ভালবাসা।” –(সুরা মুমতেহিনা, আয়াত ১)।

উপরের আয়াতটি একটি আয়াতে মোহকামাত -যাতে মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম রয়েছে। এ আয়াতে যারা তাঁর নিজের শত্রু -তথা তাঁর দ্বীন ও এজেন্ডার শত্রু এবং মুসলিমদের শত্রু, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা এবং তাদের প্রতি ভালবাসা দেখানোকে তিনি হারাম করেছেন। প্রশ্ন হলো, কারা আল্লাহর শত্রু? জরুরি হলো, প্রতিটি মুসলিমের সেটি জানা। আল্লাহর শত্রু তো তারাই যাদের অবস্থান তাঁর সার্বভৌমত্ব, তাঁর ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় এজেন্ডা এবং তাঁর শরিয়া বিধানের বিরুদ্ধে। এরা হলো তারাই যারা কখনো চায় না এ পৃথিবী পৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠা পাক ইসলামী রাষ্ট্র -যা বিলুপ্তি ঘটাবে জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ফ্যাসিবাদ, সেক্যুলারিজম ও রাজতন্ত্রের ন্যায় সকল মতবাদী রাজনীতি ও দর্শনের। তাই ঈমানদারগণ কখনোই এমন দুর্বৃত্তদের রাজনীতির সমর্থক ও বন্ধু হতে পারে না। সেটি হারাম। তাছাড়া দুর্বৃত্ত বেঈমান কখনোই তার নিজের এজেন্ডা থেকে দূরে সরে না। ফলে তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়তে গেলে ইসলামের এজেন্ডা থেকে মুসলিমদের দূরে সরতে হয়। তাতে বেঈমানী হয় ইসলামের এজেন্ডার সাথে।

মশা মাছি আবর্জনার উপর বসাকে পছন্দ করে; তেমনি দুর্বৃত্তরা পছন্দ করে দুর্বত্তদের ক্ষমতায় বসাতে। এটিই দুর্বৃত্তদের রাজনীতি ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশে এ দুর্বৃত্তদের সংখ্যাটি এতোই বিশাল যে, বার বার নির্বাচন হলেও ইসলামপন্থীদের বিজয়টি স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তরা রয়ে গেছে রাষ্ট্রের deep stateয়ে। মিশর, তিউনিসিয়া, আলজিরিয়া, ফিলস্তিনের নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের বিজয়কে যেভাবে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে -সেটি হচ্ছে বাংলাদেশে। মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, ভারত -এদের কেউই মুসলিম দেশে ইসলামপন্থীদের বিজয় দেখতে চায় না। যারা ইসলাম থেকে যারা দূরে সরেছে -এরা চায় তাদের ক্ষমতায় আনতে। এটি তাদের ঘোষিত নীতি। বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলিতে তাদের পার্টনার হলো দুর্বৃত্ত কবলিত deep state। দুর্বৃত্তি করাই শুধু নয়, দুর্বত্তিকে বাঁচিয়ে রাখাও এদের নীতি। এদের কারণে দেশের রাষ্ট্র্রীয় ক্ষমতা থেকে এক দুর্বৃত্ত যায়, আরেক দুর্বৃত্ত ক্ষমতায় বসে। বিগত শত শত বছর ধরে বাংলার বুকে সে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। জনগণ যতদিন এ দুর্বৃত্ত শক্তির নির্মূলের যুদ্ধে সফল না হচ্ছে, ততদিন এ দুর্দিন শেষ হবার নয়।

 

 

দায় নিতে রাজী নয় সৈনিকের

মুসলিম হওয়াটি কোন মামুলি বিষয় নয়। এটি শুধু কালেমা পাঠ এবং নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন নয়। মুসলিম হওয়ার অর্থ জান্নাতের পথে যাত্রা শুরু করা। এটিই জীবনের মূল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। এটি বিশাল এক দায় নিয়ে বাঁচা। জীবনের এ যাত্রা পথে লাগাতর জিহাদ আছে, সে জিহাদে জান মালের কুরবানী আছে। এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ আছে। যে কোন যাত্রা পথে সবাইকে হাঁটতে হয়; হাঁটা বন্ধ করলে যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। তখন অসম্ভব হয় গন্তব্যে পৌঁছা। তেমনি জান্নাতের পথে যাত্রা বন্ধ করার বিপদটি ভয়ানক। তখন অসম্ভব হয় জান্নাতে পৌছা; জাহান্নামে পৌঁছা ছাড়া তখন ভিন্ন পথ থাকে না।

সেনাদলের সব সৈনিককেই যুদ্ধ করতে হয় -এটি এক সার্বক্ষণিক দায়। এমন কি ঘুমন্ত অবস্থায় যুদ্ধের ্ এলে তখন ঘুম থেকে ত্বরিৎ জেড়ে যুদ্ধে যেতে হয়। কোন সেনাদলে নিষ্ক্রিয় সৈনিক বলে কেউ নাই; তেমনি ইসলামে নিষ্ক্রিয় মুসলিম বলেও কেউ নাই। মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো সার্বক্ষণিক সৈনিক হওয়া। তাই নবীজী (সা:)’য়ের আমলে প্রতিটি সুস্থ মুসলিমকে রণাঙ্গনে দেখা গেছে। অথচ আজকের মুসলিমদের এখানেই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। তারা নামাজী, হাজী ও রোজাদার হতে রাজী, কিন্তু সৈনিকের সে দায় নিতে রাজী নয়। সে দায় পালনে ময়দানে হাজির না হলে মুসলিম থাকা যে যায়না -সে সামান্য জ্ঞানটুকুও তাদের নাই। এভাবে দায় এড়ানো যে বিশুদ্ধ মুনাফিকি সেটুকুও তারা জানে না।  এটি তো ভয়ানক অজ্ঞতা। এ অজ্ঞতা জাহান্নামে নেয়। বিষকে বিষ রূপে না জানার পরিণাম তো ভয়ানক; তখন বিষ পানে মারা যেতে হয়। পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিম মনের এ ভয়ানক অজ্ঞতাকে দূর করবে এমন মৌলিক জ্ঞানটুকু বাংলাদেশের স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাগুলি ছাত্রদের দিচ্ছে না। ফলে গুরুতর অপরাধের কাণ্ড ঘটছে শিক্ষালয়ে।  ব্যর্থতা এখানে কুর’আনী জ্ঞানদানে।

বস্তুত মুসলিম উম্মাহর সকল ব্যর্থতার শুরু শিক্ষাদানে ব্যর্থতা থেকে। যে অজ্ঞতার কারণে এমন কি একজন নিয়মিত নামাজী, রোজাদা ও হাজীও পূর্ণ ঈমানদার হতে ব্যর্থ হয়। মুসলিম মনে সে অজ্ঞতা বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে ব্রিটিশগণ পরিকল্পিত ভাবে স্কুল কলেজে যেমন কুর’আন শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল, তেমনি জিহাদ বিষয়ক শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল তাদের অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রিত আলিয়া মাদ্রাসা ও কওমী মাদ্রাসাগুলিতে। ধর্মপালন বলতে এসব মাদ্রাসায় শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়াদরুদের তালিম দেয়া হয়। বয়ান দেয়া হয় কুর’আন তেলাওয়াত ও কুর’আন মুখস্থ করার ফজিলতের। কুর’আন বুঝা তেমন গুরুত্ব পায়না। সেখানে রাষ্ট্র, জিহাদ ও রাষ্ট্রীয় ভূ-রাজনীতির ভাবনার কোন স্থান নাই। তারা চায়, জনগণ গবাদী পশুর ন্যায় বাঁচতে শিখুক জালেম শাসকের জুলুম সহ্য করে। জনগণকে এভাবেই পোষমানা জীবে পরিণত করা হয়। আত্মসমর্পিত জনগণ তখন শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদের দায় নেয় না; বরং বিপুল সংখ্যায় জালেম শাসকের চাটুকর সৈনিকে পরিণত হয়। মুসলিম বিশ্বের দুর্বৃত্ত জালেম শাসকগণ তো বেঁচে আছে তাদের সাহায্য নিয়েই।

এরূপ চাটুকরদের দিয়ে এজিদ বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিল এবং খোলাফায়ে রাশেদাদের রেখে যাওয়া বিশাল রাষ্ট্রের উপর নিজের দখলদারি প্রতিষ্ঠা করেছিল। মুসলিমদের পতনের যাত্রা তখন থেকেই বেগবান হয়। একই ভাবে অনুগত চাটুকরদের দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনাও গড়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং  RAB ও ছাত্রলীগের দুর্বৃত্ত বাহিনী। অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র এ ভাবে দখলে চলে গেছে ইসলামের শত্রু শক্তির হাতে; ফলে কোথাও বেঁচে নাই নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম। দুর্বৃত্ত শক্তির এ দখলদারীর কারণে রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে নৃশংস অপরাধ কর্মের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারে। ফলে দেশের সকল চোর ডাকাত, সকল সন্ত্রাসী এবং সকল খুনিগণ মিলে যত অপরাধ সংঘটিত করে -তার চেয় হাজার গুণ অধিক অপরাধের কাণ্ড ঘটায় রাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীগণ। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি পরিণত হয়েছিল সবচেয়ে বড় অপরাধী সংগঠনে। তার আমলে বার বার গণহত্যা হয়েছে। ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেট থেকে বার বার হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে দেশ থেকে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের ন্যায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানকে অপরাধীদের দখলে রেখে ইবাদত শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ-যাকাতে সীমিত রাখলে – পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হয়, এ হলো তার নমুনা।

ব্রিটিশ অনুমোদিত আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার ফল হলো, এসব মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা নামাজে হাজির হলেও জিহাদে হাজির হতে রাজী নয়। মসজিদ মাদ্রাসার নির্মাণে কোটি টাকা দানে রাজী হলেও ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে ভোট দিতেও তারা রাজী নয়। এসব মাদ্রাসার শিক্ষকগণ বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের অস্ত্র হতে পারে এমন একখানী ভাল বই লিখতে বা পড়তে রাজী নন। এমন কি রাজী নন, সেরূপ কোন ভাল বই বাজার থাকলে সেটি ছাত্রদের হাতে তুলে দিতে। এভাবেই পরিকল্পিত ভাবে ইসলামী জ্ঞানশূণ্যতার সাথে ছাত্রদের মনে জিহাদশূণ্যতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। মাদ্রাসাগুলি ব্যবহৃত হচ্ছে নিজ নিজ ফিরকা, ত্বরিকা ও মজহাবের অনুসারী তৈরীর কাজে। ফলে যতই নির্মিত হচ্ছে মাদ্রাসা, ততই বাড়ছে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি। জিহাদ থেকে দূরে সরানোর প্রজেক্ট সফল হওয়াতে মুসলিম ভূমি কাফির শক্তির হামলার শিকার হলেও প্রতিরোধের যুদ্ধে সেখানে নামাজীদের দেখা যায় না। বাঙালি মুসলিমের এ রোগ অনেক পুরনো। তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাত্র ৪ হাজার সৈন্য তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ বাংলাকে কয়েক ঘন্টায় দখলে নিতে পেরেছিল। এ বিশাল বাংলা জয়ে ব্রিটিশের রাজকীয় সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে নামতে হয়নি, কোম্পানীর ক্ষুদ্র বাহিনীই যথেষ্ট ছিল। এটি নিদারুন লজ্জার বিষয়। এ বিপর্যয়ের কারণ, বাঙালি মুসলিমগণ তখন মনযোগী হয়েছিল জগত বিখ্যাত মসলিন, মখমল, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও রেশম পণ্যের প্রাচু্র্য বাড়াতে, ওহীর জ্ঞান বাড়াতে নয়। আর এর পরিণতি হলো, স্বাধীনতা হারিয়ে ব্রিটিশের গোলাম হয়েছে। আজও মুসলিম উম্মাহর দেহে একই রোগ। কুর’আনী জ্ঞানের শূণ্যতা থেকে জন্ম নিয়েছে ঈমানশূণ্যতা। ঈমানশূণ্যতা থেকে জন্ম নিয়েছে জিহাদশূণ্যতা। ফলে দেশ মসজিদ মাদ্রাসায় ভরে গেলেও জিহাদে লোক নাই। নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনে আগ্রহ দেখা গেলেও দায় নিতে রাজী নয় সৈনিকের। ফলে মুসলিমগণ ব্যর্থ হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে। ফলে মুসলিম ভূমিতে শাসন চলছে ইসলামের শত্রুদের। ১৯/০৫/২০২৬     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *