দেশ নিয়ে ভাবনা-২

image_pdfimage_print

১.

শত কোটি টাকা দানের চেয়েও বড় সওয়াবের কাজটি হয় কাউকে জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচানোতে। তবে এ কাজের জন্য চাই পবিত্র কোর’আনের গভীর জ্ঞান। ইসলামে তাই নামায়-রোযার আগে জ্ঞানার্জন ফরজ করা হয়েছে। তাই ঈমানদারের কাজ হলো লাগাতর সে লক্ষ্যে জ্ঞানের সামর্থ্য বাড়ানো। এটিই হলো মানব জীবনের সবচেয়ে বড় সামর্থ্য। নবীজী (সাঃ) বলেছেন, যার জীবনে দু’টি দিন অতিবাহিত হলো অথচ তার জ্ঞানের ভান্ডারে কোন বৃদ্ধি ঘটলো না -তার জন্য ধ্বংস।

জান্নাতের এক ইঞ্চি ভূমিও হিমালয়ের পাহাড় সমান সোনা দিয়েও কেনা যায় না। নবী-রাসূলগণ অর্থদানের জন্য দুনিয়াতে আসেননি। জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচানোর উপকারটি করার জন্যই তারা পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রেরিত হয়েছিলেন। পৃথিবী পৃষ্ঠে এ কাজটিই সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে সে কাজটি করে রাষ্ট্রের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি। ইসলামী রাষ্ট্রের এটিই হলো সবচেয়ে বড় কল্যাণ। এজন্যই নবীজী (সাঃ)র মদিনায় হিজরতের পর নিজের ঘর না ঘরে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অথচ আজকের মুসলিমগণ ইসলামী রাষ্ঠ প্রতিষ্ঠা না করে স্রেফ মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠায় সকল শক্তি নিয়োগ করছে। প্রতিটি মুসলিম ভূমিতে এভাবেই গাদ্দারি হচ্ছে নবীজী(সাঃ)র সর্বশ্রেষ্ঠ সূন্নতের সাথে। তাদের সে গাদ্দারির কারণেই শয়তান দখল জমিয়েছে মুসলিম দেশগুলিতে। দাড়ি রাখা বা টুপি মাথায় দেয়ার সূন্নত পালন না হলে এরূপ ভয়ংকর ক্ষতি হয় না, যা হয় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না দিলে                                                                                                       

অপরদিকে সবচেয়ে পাপের কাজ হলো কারো ঘরে চুরি-ডাকাতি করা নয়। বরং সেটি হলো কাউকে জাহান্নামের পথে ধাবিত করা। রাষ্ট্র ইসলাম বিরোধী শক্তির হাতে অধিকৃত হলে সে ভয়ানক গোনাহর কাজটি করে দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এবং সে সাথে টিভি ও পত্র-পত্রিকাগুলি। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫-২০ বছর কাটানোর পরও কোর’আন বুঝার সামর্থ্য বাড়ে না।  একই রূপ ভয়ংকর ক্ষতিতর কাজটি করে দেশের ইসলামচ্যুৎ সেক্যুলারিস্ট বুদ্বিজীবীগণ।

তাই দেশ থেকে চুরি-ডাকাতি, মদজুয়া ও পতিতাবৃত্তি নির্মূল এবং মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার চেয়েও অধীক সওয়াবের কাজটি হলো ইসলাম বিরোধী শক্তির হাত থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করা। এবং পরিপূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দেয়া। ইসলামে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। একেই বলা হয় জিহাদ। এ কাজে শত্রুর হাতে প্রাণ গেলে বিনা হিসাবে সাথে সাথে জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য হয়। পবিত্র কোর’আনে সে ওয়াদা বার বার দেয়া হয়েছে। এবং তাদের মৃত বলা হারাম করা হয়েছে। এ কাজের যথাযথ মর্যাদা নবীজী (সাঃ)র সাহাবাগণ বুঝেছিলেন। সে বুঝার মধ্যেই তো প্রকৃত ঈমানদারি। ফলে তাদের মধ্য থেকে শতকরা ৭০ ভাগ জিহাদের ময়দানে শহীদ হয়েছিলেন। অথচ আজকের মুসলিমদের মাঝে সে বুঝ ক’জনের? যারা নিজেদেরকে অআলেম বা আল্লামা মনে করেন তাদের মাঝেই বা ক’জনের? ফলে তারা বেছে নিয়েছে রোগে ভোগে বিছানায় মারা যাওয়াকে। ফলে শয়তানের অনুসারিগণ শুধু রাষ্ট্রের উপর নয়, তাদের ঘাড়ের উপরও চেয়ে বসেছে।     

২.

অসভ্য চোর-ডাকাত ও খুনি শাসকদের উপর খোদ নবীজী (সা:)র জ্ঞানগর্ভ ওয়াজও কাজ দেয়নি। পবিত্র কোর’আনের বাণীও তাদের দিলে আছড় করে না। দোয়া-দরুদেও তাদের নির্মূল করা যায় না। ফলে তাদের নির্মূলে নবীজী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাদেরও জিহাদে নামতে হয়েছে। দুর্বৃত্তদের শাসন নির্মূল করে তাঁকে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হয়েছে। এবং সে জিহাদে অধিকাংশ সাহাবাকে শহীদ হতে হয়েছে। শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা গড়ে কি সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গড়া যায়? সেটি সম্ভব হলে বাংলাদেশ দুর্বৃত্তে ৫ বার বিশ্ব-চ্যাম্পিয়ান না হয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত সভ্য দেশে পরিণত হতো। কারণ দুনিয়ার আর কোথাও এতো মসজিদ-মাদ্রাসা নাই -যা বাংলাদেশে আছে।

৩.

নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের ন্যায় বিশ্বের বহুদেশ সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে বহুদূর এগিয়ে গেছে। সেসব দেশের অনেক ব্যর্থতা থাকলেও এরূপ অসভ্যতা নাই যে, একজন রাতের ভোট-ডাকাতকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। তাদের বিশাল কৃতিত্ব যে অসভ্য স্বৈরাচারি শাসকদের তারা বিদায় দিতে সমর্থ হয়েছে। কিন্তু ১৭ কোটি বাংলাদেশী সে সামর্থ্য এখনো অর্জন করতে পারিনি। পোষাক রপ্তানী, চিংড়ি রপ্তানী ও মানব রপ্তানী বাড়িয়ে কি এ অসভ্যতা ঢাকা যায়?

৪.

কোন পাড়ায় চোর-ডাকাতের আধিপত্য থাকলে সে পাড়ায় ভদ্রলোকের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়ে।তেমনি রাষ্ট্র যখন চোর-ডাকাতদের দখলে যায় তখন নিরীহ আবরার ফাহাদের নির্মম ভাবে লাশ হতে হয়। তখন শুধু থানা বা জেলখানা গুলিই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলিও নির্যাতনের কেন্দ্রে পরিণত হয়।

৫.

সশস্ত্র ভোট-ডাকাতদের রুখার সামর্থ্য যখন নিরস্ত্র জনগণের থাকে না, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীও যখন ডাকাতদের সঙ্গি হয় এবং বিচারকগণও  যখন ভোট-ডাকাতিকে আইনসিদ্ধ এবং ডাকাতদের সরকারকে বৈধ সরকার বলে -তখন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট-ডাকাতদের সরানো যাবে এমনটি যারা ভাবে তাদের মানসিক চিকিৎসার জন্য পাগলা গারদে ভর্তি করা উচিত।

৬.

ঈমানদারের লক্ষণ, সে প্রতিক্ষণ বাঁচে জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচার চিন্তা নিয়ে। ফলে পাপ থেকে বাঁচা এবং ভাল কাজে তাড়াহুড়াটি তার মাঝে প্রবল। অপর দিকে বেঈমান বাঁচে আখেরাতকে ভূলে; ফলে সে পাপের পথে না্মে এবং চোর-ডাকাত ও ভোট-ডাকাত হয়।

৭.

গরুছাগলেরা ঘাস পেলেই খুশিতে মাথা নাড়ে, গলার রশিটা নিয়ে ভাবে না। যারা পশু চরিত্রের মানুষ তারা সরকারের চাকুরি পেলে খুশিতে নিরপরাধ মানুষদের ফাঁসিতে চড়ায় ও পিটিয়ে হত্যা করে। বাংলাদেশে এদের সংখ্যাটি বিশাল। এরাই দেশের মূল শত্রু। এদের কারণেই দেশ দুর্বৃত্তদের দখলে যায়। কোন সভ্য দেশে এমনটি ভাবা যায় না।

৮.

১৯৪৭’য়ে ভারতের পেট কেটে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে শক্তিশালী মুসলিম  রাষ্ট্র রূপে বেড়ে উঠার জন্য। ভারতের গর্ব, একাত্তরে যুদ্ধ করে পাকিস্তান ভেঁঙ্গে গোলাম একটি বাংলাদেশ জন্ম দিতে পেরেছে। এবং এ গোলামীকেই হাসিনা ও তার দলের লোকেরা স্বাধীনতা বলে উৎসব করছে। ভারতের আরো গর্ব, কাশ্মিরকে গোলাম বানিয়ে রাখতে সেখানে বহু হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ লাখ ভারতী সৈন্য রাখতে হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে সে কাজটি করছে দেশটির ভোট-ডাকাত সরকার এবং সরকারের অনুগত সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী। ফলে কাশ্মিরের গ্রামে ঢুকতে ভারতীয়রা ভয় পায়, কিন্তু বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চলাচলে বা দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলিতে পৌঁছতে ভারতের সে ঝুঁকি নাই। সেগুলি যেন ভারতেরই নিজস্ব সড়ক ও বন্দর।    

৯.

সবচেয়ে বড় ডাকাতি কারো গৃহে হানা দেয়া নয়। বরং ভোট ডাকাতির মাধ্যমে পুরা দেশের উপর ডাকাতি করা।বাংলাদেশ আজ এই ডাকাতদেরই দখলে।

১০.

দেশে খুন,গুম, ধর্ষণ ও স্বৈরশাসনের অসভ্যতা দেখেও যে ব্যক্তি নীরব থাকে, বুঝতে হবে সে নিজেও তাদের ন্যায় অপরাধী অথবা বিবেক শূণ্য। বাংলাদেশে এরূপ অপরাধী অথবা বিবেক শূণ্য মানুষের সংখ্যাটি অতি বিশাল। ফলে ৭০ লাখ জনসংখার হংকং’য়ে বা ৫০ লাখ জনসংখ্যার লেবাননে যেরূপ লক্ষ লক্ষ মানুষের দিনের পর দিন সরকার বিরোধী মিছিল হয় -সেটি ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে ভাবাও যায় না। অথচ হংকং বা লেবাননের জনগণের বিপদটি এমন নয় যে, তাদের দেশ বাংলাদেশের ন্যায় ভোট ডাকাতদের দখলে গেছে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *