কিছু অপ্রিয় ভাবনা-১

১.

ঈমানের সংজ্ঞা কি এবং ঈমানদার কাকে বলে -এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞানটি মানব জীবনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ জ্ঞান। ভাষা, বিজ্ঞান বা গণিতের জ্ঞান না হলেও জান্নাতে পৌঁছা যাবে। কিন্তু ঈমানের অর্থ কি এবং ঈমানদার কীরূপে হওয়া যায় -সে বিষয়ে অ্জ্ঞতা নিয়ে প্রকৃত ঈমানদার হওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব হলো জান্নাতে পৌঁছা। বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, এখানে ভূল হওয়ার কারণে অতিশয় বেঈমানও নিজেকে ঈমানদার মনে করে। তখন ভূল হয়, কে ইসলামের শত্রু এবং কে বন্ধু -সেটি চিনতে। অথচ মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে বড় অজ্ঞতাটি হলো এ বিষয়ে।

বান্দার উদ্দেশ্যে ঈমানদারের সংজ্ঞাটি জানিয়ে দিয়েছেন খোদ মহান আল্লাহতায়ালা। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত সে সংজ্ঞাটি হলো: “ঈমানদার একমাত্র তাঁরাই যারা বিশ্বাস করে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে এবং এ নিয়ে আর কোন রূপ দ্বিধা-দ্বন্দ করে না এবং তারা নিজেদের মাল ও জান নিয়ে জিহাদ করে আল্লাহর রাস্তায়। ঈমানের দাবীতে একমাত্র তারাই হলো সত্যবাদী।” -(সুরা হুজরাত, আয়াত ১৫)।

তাই জীবনে জিহাদ ছাড়া নিজেকে ঈমানদার রূপে দাবী করাটি নিরেট ভন্ডামী। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের অর্থ হলো আল্লাহর নিজের রাজ্যে অর্থাৎ দুনিয়ার বুকে একমাত্র তাঁরই সার্বভৌমত্ব ও তাঁরই প্রদত্ত শরিয়তী আইনের প্রতিষ্ঠার জিহাদ। তাই যার জীবনে আল্লাহর আইন তথা শরিয়তকে বিজয়ী করার জিহাদ নাই, সে ব্যক্তি নামাযী, রোযাদার বা হাজী হতে পারে; মসজিদের ইমাম, আলেম, মাদ্রাসার শিক্ষক, মোফাছছের বা ইসলামী দলের নেতাও হতে পারে; কিন্তু সে ব্যক্তি কি প্রকৃত ঈমানদার হতে পারে?

জিহাদের পাশাপাশি শরিয়ত পালনের বিষয়টি আল্লাহর দরবারে ঈমানদার রূপে গণ্য হওয়ার জন্য অতি জরুরী। সে বিষয়টি মহান আল্লাহতায়ালা পরিস্কার করেছেন পবিত্র কোর’আনের সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে। উপরুক্ত তিনটি আয়াতে বলা হয়েছে, যারা শরিয়তের আইন অনুযায়ী বিচার করে না তারা কাফের, জালেম ও ফাসেক। মুসলিম রূপে গণ্য হওয়ার জন্য বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, ঔপনিবেশিক কাফেরদের হাতে অধিকৃত হওয়ার আগে সিরাজুদ্দৌলা-শাসিত বাংলা, মোগল-শাসিত ভারতসহ প্রতিটি মুসলিম দেশে শরিয়তের আইন অনুযায়ী বিচার হতো।

২.
রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মচারি প্রতি কাজে সরকারি আইন মেনে চলে। সে আইন অমান্য করলে বা তা্র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে শুধু চাকুরি থেকেই বহিস্কৃত হয় না, কঠোর শা্স্তিও ভোগ করে। কোর্টমার্শাল হয় বিদ্রোহী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের।

তাই জেল-জরিমানা থেকে বাঁচতে হলে দেশের আইন মেনে চলতে হয়। তেমনি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে হলে মানতে হয় শরিয়তের আইন। স্রেফ নামায়-রোযায় মুক্তি মিলে না। ঈমানের প্রকাশ তাই জীবনের প্রতি পদে শরিয়ত মেনে চলায়। নইলে ঈমানের দাবীটি ভূয়া গণ্য হয়। শরিয়তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে শাস্তি শুধু পরকালে নয়, দুনিয়ার বুকেও অনিবার্য হয়ে উঠে। মুসলিমগণ বস্তুতঃ দেশে দেশে সে আযাবের মধ্যেই। বাংলাদেশেও সে ভূয়া ঈমানেরই প্রদর্শণী হচ্ছে দেশের আদালতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা না দিয়ে।

৩.
পরকালের ভয় না থাকলে অতি কঠিন পাপও সহজ হয়ে যায়। পরকালের ভয়ই ঈমানদারের জীবনে বিপ্লব আনে। তখন ঈমানদারের জীবনে জিহাদ আসে এবং রাষ্ট্রের বুকে শরিয়ত প্রতিষ্ঠায় শহীদ হওয়ার অদম্য বাসনাও জাগে। পরকালের ভয় থাকাতেই নবীজী (সাঃ)র সাহাবীদের শতকরা৭০ ভাগের বেশী শহীদ হয়ে গেছেন। ফলে মুসলিমগণ বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে। নামায-রোযা, হজ্ব-উমরাহ মুনাফিকও করতে পারে। কিন্তু তার জীবনে জিহাদ থাকে না, শহীদ হওয়ার আগ্রহও থাকে না। তাদের সকল সামর্থ্য ব্যয় হয় পার্থিব জীবনকে সমৃদ্ধ করতে।

৪.

আলু-পটল,মাছ বা পোষাক রপ্তানি করা যায়। কিন্তু নারীও কি রপ্তানি করা যায়? শরিয়তে নারীদের তো একাকী হজ্বে যাওয়ারও অনুমতি নাই। অজানা বিদেশে এক অপরিচিতের ঘরে একজন পিতা বা মাতা তার মেয়েকে, ভাই তার বোনকে এবং স্বামী তার স্ত্রীকে কীরূপে কাজ  করার অনুমতি দেয়? সে ব্যক্তি যে নারী লোভি দুর্বৃত্ত নয় -সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হলো কী করে? কত মেয়ে ধর্ষিতা হয়ে দেশে ফিরছে সেটি কি তারা জানে না? সরকারই বা কেন নারীদের বানিজ্যিক পণ্যে পরিণত করে? এ কুফুরির বিরুদ্ধে আলেমদেরই বা প্রতিবাদ কই? অর্থের লোভে মানুষ কি এতটাই বিবেকশূণ্য ও ঈমানশূণ্য হতে পারে? এ বিবেকশূণ্যতার কারণেই সূদী লেনদেন ও বেশ্যাবৃত্তির ন্যায় জঘন্য পাপ কর্মও বৈধ অর্থনৈতিক কর্মে পরিণত হয়েছে।

৫.
যে আরএসএস গান্ধীকে হত্যা করেছিল তাদের হাতেই আজ অধিকৃত ভারতের শাসন ক্ষমতা, পুলিশ ও আদালত। ফলে মসজিদ ভাঙ্গলে এবং মুসলিমদের হত্যা ও ধর্ষণ করলেও ভারতে শাস্তি হয়না। মুসলিম নির্যাতনের যে কাজটি করে থাকে আরএসএস’য়ের গুন্ডারা, সেটিই করছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের পুলিশ। নরেন্দ্র মোদি নিজে আরএসএস’র প্রডাক্ট। অথচ তাকে ঘনিষ্ট বন্ধু রূপে পেয়ে নিজেকে ধণ্য মনে করে শেখ হাসিনা। উপঢৌকন রূপে হাসিনা মোদির জন্য পাঠায় বাংলাদেশী আম ও পাঞ্জাবী –যা বলেছে স্বয়ং মোদি। নরেন্দ্র মোদি যে নির্যাতনটি করছে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে, হাসিনাও সেটিই করছে বাংলাদেশী মুসলিমদের বিরুদ্ধে। মোদি প্রখ্যাত ইসলামী মনিষী যাকির নায়েককে ভারতে নিষিদ্ধ করেছে। হাসিনা সেটিই করেছে বাংলাদেশে। যে বীভৎস ও নৃশংস মুসলিম হত্যাকান্ডটি মোদি ঘটিয়েছে গুজরাতে, শেখ হাসিনা সেরূপ নৃশংস হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে হিফাজতে ইসলামের মুসল্লীদের বিরুদ্ধে ঢাকার শাপলা চত্ত্বরে।