কারা আল্লাহর সৈনিক এবং কারা শয়তানের সৈনিক?
- Posted by Dr Firoz Mahboob Kamal
- Posted on August 21, 2025
- Bangla Articles, Bangla বাংলা, সমাজ ও রাজনীতি
- No Comments.
ফিরোজ মাহবুব কামাল
বিভাজনটি দ্বি-জাতিতে
মানব ইতিহাসের বড় সত্যটি হলো, প্রতিটি মানবই হলো কোন একটি পক্ষের সৈনিক; হয় সে সৈনিক মহান আল্লাহর, নতুবা শয়তানের। নিরপেক্ষ বলে কিছু নাই। ঘরে আগুন লাগলে বা চোখের সামনের কোন শিশু পানিতে পড়লে নিষ্ক্রিয় থাকাটিও অপরাধ। তেমনি অপরাধ হলো ইসলাম ও মুসলিমদের উপর শত্রুর হামলা হলে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকা। সে নীরবতায় ও নিষ্ক্রিয়তায় খুশি হয় শয়তান। কারণ, তার নীরবতায় ও নিষ্ক্রিয়তায় বিজয় বাড়ে শয়তানের; তাই সে মূলত শয়তানের পক্ষের। শয়তানের পক্ষে সে নীরবে কাজ করে। যারা আল্লাহর সৈনিক তারা কখনো নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না; সর্ব সামর্থ্য দিয়ে শত্রু শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হয়। সে যুদ্ধের নানা রূপ। সেটি হতে পারে বুদ্ধিবৃত্তিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অথব সশস্ত্র। একই ভাবে যুদ্ধ করে শয়তানের পক্ষের শক্তিও। মানব ইতিহাসের বিশাল ভাগ জুড়ে হলো এই যুদ্ধের ইতিহাস।
দ্বি-জাতিতে বিভক্ত মানব সৃষ্টির পরিচয় মেলে পবিত্র কুর’আনেও। তাই দ্বি-জাতির ধারণা কোন নতুন ধারণা নয়, এটি অতি সনাতন। হাবিল ও কাবিলের জামানা থেকেই এব শুরু। পবিত্র কুর’আনে সে বিভক্তিটি চিত্রিত হয়েছে আল্লাহর দল এবং শয়তানের দল রূপে। এর বাইরে কোন তৃতীয় দলের উল্লেখ নাই। দ্বি-জাতির ভিত্তিতে পবিত্র কুর’আনে পৃথক দুটি সেনাবাহিনী এবং তাদের দুটি ভিন্ন এজেন্ডারও উল্লেখ এসেছে। একটি হলো মহান আল্লাহর সেনাদল যারা যুদ্ধ করে মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে। আরেকটি হলো শয়তানের সেনাদল যারা যুদ্ধ করে শয়তানের এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে। প্রতিটি মানব এ দুটি দলের কোন একটির সদস্য। কখনো বা সে যুদ্ধ নীরবে হয়, কখনো বা সেটি রক্তাক্ত রূপ নেয়। সদা যুদ্ধময় এই পৃথিবীতে কারো পক্ষে নিরপেক্ষ থাকার কোন সুযোগ নাই। তাই ধর্মনিরপেক্ষতার বয়ান নিতান্তাই ভণ্ডামী ও প্রতারণা মাত্র। এ বয়ানে অভিনয় আছে, সত্যতা নেই। মহান রব ফরজ করেছেন, প্রতিটি ঈমানদার হবে তাঁর নিজ দল তথা আল্লাহর দলের সক্রিয় সদস্য।
আল্লাহর দল ও শয়তানের দল
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজ দলের কথা তুলে ধরেছেন নিচের আয়াতে:
وَمَن يَتَوَلَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فَإِنَّ حِزْبَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلْغَـٰلِبُونَ ٥٦
অর্থ: “এবং যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব করে -তারাই হলো আল্লাহ দল; এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী।” –(সুরা মায়েদা, আয়াত ৫৬) ।
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের দলের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্যও পবিত্র কুর’আনে বর্ণনা করেছেন। তারা কখনোই আল্লাহর শত্রুদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করে না -এমন কি তারা যদি তাদের নিজ পিতামাতা, ভাইবোন ও আত্মীয় স্বজন হয়। এবং এ দলের সদস্যরা সর্বাস্থায় থাকে মহান আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট; প্রতিদানে তাদের উপর সন্তুষ্ট হন মহান আল্লাহ তায়ালাও। নিজ দলের সদস্যদের জন্য মহান রবের প্রতিশ্রুতি হলো, তাদেরকে তিনি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাই নাযিল হয়েছে:
لَّا تَجِدُ قَوْمًۭا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ يُوَآدُّونَ مَنْ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوْ كَانُوٓا۟ ءَابَآءَهُمْ أَوْ أَبْنَآءَهُمْ أَوْ إِخْوَٰنَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ كَتَبَ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْإِيمَـٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍۢ مِّنْهُ ۖ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّـٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ خَـٰلِدِينَ فِيهَا ۚ رَضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا۟ عَنْهُ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ حِزْبُ ٱللَّهِ ۚ أَلَآ إِنَّ حِزْبَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ٢٢
অর্থ: “(হে নবী,) আপনি এমন কোন জাতিকে কখনোই খুঁজে পাবেন না যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ ও আখেরাতের উপর অথচ বন্ধুত্ব স্থাপন করেছে তাদের সাথে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধীতা করে -এমন কি তারা যদি তাদের নিজ পিতা, পুত্র, ভাই ও জাতি-গোষ্ঠী হয়। এরাই হলো তারা যাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তা শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাদের প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে সমূহে যার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা। সেখানে তারা স্থায়ী ভাবে থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আছেন এবং তারা আছেন আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট। জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই সফলকাম।” –(সুরা মুযাদিলাহ, আয়াত ২২)।
ব্যক্তির ঈমান স্পষ্ট দেখা যায় বন্ধু নির্বাচনে। কারণ বন্ধু নির্বাচনে প্রত্যেকেই তার আদর্শিক, রাজনৈতিক, চারিত্রিক ও সাংস্কৃতিক ম্যাচিং তথা সাদৃশ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। এ ক্ষেত্রগুলিতে বিরোধ থাকলে বন্ধত্ব গড়ে উঠেনা। হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী ভারতের সাথে সেরূপ ম্যাচিং ছিল বলেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জাতীয়তাবাদী, ফ্যাসিবাদী, সেক্যুলারিস্ট, কম্যুনিস্টগণ ভারতের সাথে একাত্তরে একাত্ব হয়েছিল এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোয়ালিশন গড়েছিল। অপর দিকে যারা ইসলামপন্থীগণ কখনোই ভারতের ন্যায় ইসলামের দৃশ্যমান শত্রুকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করে না। এজন্যই ১৯৭১’য়ে কোন আলেম, কোন মুফতি, কোন হাক্কানী পীর, কোন ইসলামী দলের নেতাকর্মী পৌত্তলিক ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়নি; ভারতের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে নামেনি।। হিন্দুত্ববাদী ভারতকে একমাত্র তারাই বন্ধু রূপে গ্রহণ করেছিল যাদের নিজেদের যুদ্ধটি ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মহান আল্লাহ তায়ালা শয়তানের দলের বৈশিষ্ট বর্ণনা করেছেন নিচের আয়াতে:
ٱسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ ٱلشَّيْطَـٰنُ فَأَنسَىٰهُمْ ذِكْرَ ٱللَّهِ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ حِزْبُ ٱلشَّيْطَـٰنِ ۚ أَلَآ إِنَّ حِزْبَ ٱلشَّيْطَـٰنِ هُمُ ٱلْخَـٰسِرُونَ ١٩
এদের উপর চেপে বসেছে শয়তান; অতঃপর শয়তান তাদের মন থেকে আল্লাহর যিকির (স্মরণ) ভুলিয়ে দিয়েছে। এরাই হলো শয়তানের দল। জেনে রাখ, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।” –(সুরা মুযাদিলাহ, আয়াত ১৯)।
সর্বজ্ঞানী মহান রব তাঁর নিজ বাহিনী ও শয়তানী বাহিনীর পরিচয় পবিত্র কুর’আনে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরেছেন -যাতে ঈমানদারগণ এ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কোন ভুল না করে। রাষ্ট্রের বুকে চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণটি বুঝতে এবং ইসলামের শত্রু-মিত্রদের চিনতে প্রতিটি ঈমানদারকে মহান আল্লাহ তায়ালার এ কুর’আনী বয়ানকে অবশ্যই মগজে রাখতে হয়। নইলে শয়তানী বাহিনীকে বন্ধু রূপে গলা জড়িয়ে ধরাটি রাজনীতি ও সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়ায়। বাঙালি মুসলিমগণ তো এক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ও গাদ্দারীতে ইতিহাস গড়েছে। তার প্রমাণ, একাত্তরে তারা পৌত্তলিক শিবিরে যোগ দিয়ে তাদের বিজয়ী করেছে। আল্লাহর সাথে এমন গাদ্দারীর ইতিহাস গত ১৪ শত বছরে অতি বিরল।
মানব কিরূপে সৈনিক হয় মহান আল্লাহর বা শয়তানের?
মহান আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হওয়ার কারণে মানব জীবনের সামর্থ্যটি বিশাল। বস্তুত সে বিশাল সামর্থ্য দিয়েই তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সে সামর্থ্য যেমন ব্যক্তিকে অনন্ত অসীম কালের জন্য জান্নাতে নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তেমনি ব্যবহৃত হতে পারে জাহন্নামে পৌঁছানোর কাজে। সবচেয়ে ভয়ানক বিপদটি তখন ঘটে, যখন কিসে সাফল্য এবং কিসে ব্যর্থতা -সে মৌলিক বিষয়টি বুঝতে মানুষ ভুল করে। এক্ষেত্রে ভুল হলে শান্তি ও সাফল্যের বদলে এ জীবন ভয়ানক অকল্যাণের হাতিয়ারে পরিণত হয়। বিপর্যয় তখন শুধু পার্থিব জীবনে আসে না, আখেরাতের জীবনেও আসে।
মানুষের সবচেয়ে বড় সামর্থ্যটি হলো অগণিত মিথ্যার মাঝে সত্য আবিস্কারের সামর্থ্য। সে সামর্থ্যের গুণে মানব যেমন মহান আল্লাহ তায়ালার সৈনিক হতে পারে, তেমনি হতে পারে শয়তানের সৈনিকও। সত্য আবিস্কারে যারা সফল হয় তাদের পুরস্কার হলো জান্নাত, এবং যারা ব্যর্থ হয় তাদের শাস্তি জাহান্নাম। মানবের এ দুটি ভিন্ন চারিত্রিক রূপকেই পবিত্র কুর’আনে বার বার তুলে ধরা হয়েছে। কিরূপে একজন ব্যক্তি মহান আল্লাহ তায়ালার সৈনিক হয় এবং কিরূপে সৈনিক হয় শয়তানের -সে বিষয়টিও পবিত্র কুর’আনে তুলে ধরা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে ঈমানদারের মিশন এবং শয়তানের মিশনও। ঈমানদারের যুদ্ধটি মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করায়; আর বেঈমানের যুদ্ধটি শয়তানের এজেন্ডাকে বিজয়ী করায়। সে চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে নিচের আয়াতে:
ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱلطَّـٰغُوتِ’
অর্থ: “যারা ঈমান এনেছে তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে এবং যারা কুফুরি করেছে তারা যুদ্ধ করে শয়তানের পথে।” –(সুরা নিসা, আয়াত ৭৬)।
নিজ মিশনের শুরু থেকেই শয়তানের ঘোষিত এজেন্ডা হলো মানুষকে জাহান্নামে নেয়া; মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা হলো মানুষকে জান্নাতে নেয়া। ঈমানদার হওয়ার অর্থই হলো মহান তায়ালার সে এজেন্ডার সাথে একাত্ম হওয়া; সেটিই ঈমানের কাঙ্খিত রূপ। এ কারণে সে নিজেকে গড়ে তোলে মহান আল্লাহ তায়ালার সৈনিক রূপে; প্রতিদানে পায় জান্নাত। অপর দিকে বেঈমান মাত্রই একাত্ম হয় শয়তানের এজেন্ডার সাথে এবং কাজ করে শয়তানের সৈনিক রূপে। এবং শাস্তি স্বরূপ পায় জাহান্নাম।
পবিত্র কুর’আন: আল্লাহ তায়ালার সৈনিক গড়ার টেক্সটবুক
এ জীবনে শিক্ষণীয় বিষয় অনেক। পাঠ্য বইয়ের সংখ্যাও অসংখ্য। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়টি হলো, কিরূপে নিজেকে মহান আল্লাহ তায়ালার সৈনিকে পরিণত করা যায় -সেটি। যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর সৈনিকে পরিণত করে, তখন তাঁর সকল সামর্থ্য এবং সে সামর্থ্যের বিনিয়োগ তাকে জান্নাতে নেয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়। এমন ব্যক্তিরাই জান্নাত পায়। ফলে মানব জীবনে এর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় দ্বিতীয়টি নাই। অথচ অতি পরিতাপের বিষয় হলো, সেটি জানার আগ্রহ অধিকাংশ মানুষেরই ক্ষেত্রেই অতি সামান্য। সেটি জানতে হলে তো পবিত্র কুর’আন বুঝে পাঠ করতে হয়। পবিত্র কুর’আন হলো একজন ব্যক্তিকে মহান আল্লাহর সৈনিক রূপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একমাত্র টেক্সটবুক -যা এসেছে মহান রব থেকে। ডাক্তারী বই ছাত্রদের ডাক্তার বানায়, বিজ্ঞানের বই বিজ্ঞানী বানায়। আর পবিত্র কুর’আন বানায় আল্লাহর সৈনিক তথা মুজাহিদ। তাই একটি দেশে কুর’আন বুঝার কাজ যত অধিক, সে দেশে ততই তৈরী হয় আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার মুজাহিদ। এজন্যই ইসলামের শত্রুপক্ষের মূল লক্ষ্য মসজিদ বন্ধ করা নয়, বরং কুর’আন শিক্ষা বন্ধ করা। দখলদার ব্রিটিশগণ ক্ষমতা দখলের পর সে কাজটিই সর্বপ্রথম করেছিল। দখলদার সোভিয়েত রাশিয়া সে কাজটি করেছিল তার অধিকৃত মুসলিম ভূমিতে। ক্ষমতা হাতে পেয়ে সেক্যুলারিস্টগণ সে কাজটি করেছে তুরস্কে।
নবীজী (সা:)’র সাহাবাদের সবাই কুর’আন বুঝতেন; ফলে তাদের প্রত্যেকে মোজাহিদ রূপে বেড়ে উঠেছেন এবং অর্ধেকের বেশী সাহাবা শহীদ হয়েছেন। কুর’আন বুঝার স্বার্থে মিশর, ইরাক, সিরিয়া, সুদান, লিবিয়া, আলজিরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মৌরতানিয়াসহ বহু দেশের জনগণ নিজেদের মাতৃভাষাকে কবরস্থ করে কুর’আনের ভাষাকে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্রটি ভিন্ন। ছাত্রদের সামনে সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, অংক, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে রয়েছে অসংখ্য টেক্সটবুক। এসব টেক্সটবুক থেকে পাঠ দানের জন্য নির্মিত হয়েছে বহু হাজার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। সেগুলি শেখাতে নিয়োজিত রয়েছে বহু লক্ষ শিক্ষক। কিন্তু দেশের সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থায় পবিত্র কুর’আন পায়নি টেক্সটবুকের মর্যাদা। ফলে মহান আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ এ কিতাব থেকে জ্ঞানদানের কোন আয়োজন নাই। অথচ শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এরচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু থাকতেই পারেনা। তাই মহান রব’য়ের হিকমা হলো, তিনি নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাতের আগে কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে সর্বপ্রথম ফরজ করেছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমগণ মহান আল্লাহ তায়ালার এ সূন্নত থেকে কোন শিক্ষাই নেয়নি। শিক্ষা নিলে চিত্রটা ভিন্নতর হতো। তখন না বুঝে কুর’আনের তেলাওয়াতের বদলে কুর’আন বুঝা গুরুত্ব পেত।
বিপদের বড় কারণ হলো, মুসলিম সন্তানেরা বাঁচতে শিখেছে কুর’আনের প্রতি গভীর অবহেলা ও অবজ্ঞা নিয়ে। এর চেয়ে অধিক অপরাধের কাজ আর কি হতে পারে? সে অবহেলা ও অপরাধের কারণে বাংলাদেশে পৌত্তলিক রবীন্দ্রনাথের কবিতা বুঝতে পারে এমন ব্যক্তি ঘরে ঘরে থাকলেও পবিত্র কুর’আন বুঝতে পারে এমন মানুষ প্রতি ১০ হাজারের মাঝে একজনও নাই। কুর’আন তেলাওয়াতে অনেকের আগ্রহ থাকলেও আগ্রহ নাই সেটি বুঝার ক্ষেত্রে। রাষ্ট্র প্রধান বা রাজার বাণীর সাথে এমন অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্য দেখালে তাকে জেলে যেতে হতো। কারণ, সেরূপ অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্য তো বিদ্রোহের জন্ম দেয়। অথচ কুর’আনী বাণীর বিরুদ্ধে প্রবল বিদ্রোহ নিয়ে বাঁচছে মুসলিমগণ। সে বিদ্রোহের নমুনা হলো, ৫০টির অধিক মুসলিম দেশের কোথাও আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া বিধান প্রতিষ্ঠা পায়নি। পবিত্র কুর’আনের প্রতি এমন অবহেলা যে আখেরাতে জাহান্নামে হাজির করবে -তা নিয়ে কি সন্দেহ করা চলে?
পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান শুধু জান্নাতের পথ দেখায় না; বরং ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্যকে জান্নাতে নেয়ার হাতিয়ারে পরিণত করে। অপর দিকে অজ্ঞতার নাশকতাটি বিশাল। তখন অজানা থেকে যায় জান্নাতের পথ। সে অজ্ঞতা ব্যক্তির সামর্থ্যকে জাহান্নামে নেয়ার হাতিয়ারে পরিণত করে। এভাবে সে নিজে পরিণত হয়েছে নিজের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী হাতিয়ারে। মানব জীবনে এটিই হলো সবচেয়ে ভয়ানক নাশকতা। কোটি কোটি মানুষ এ নাশকতার শিকার। পারমাণবিক বোমার নাশকতা কাউকে জাহান্নামে নেয় না, কিন্তু জাহান্নামে নেয় নিজ জাহিলিয়াতের এই নাশকতা। এজন্যই মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধটি হলো নিজ অজ্ঞতা তথা জাহিলিয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। জাহিলিয়াত নির্মূলের এ যুদ্ধকে পবিত্র কুর’আনের সুরা ফুরকানে ৫২ নম্ব আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা “জিহাদান কবিরা” তথা বড় জিহাদ বলেছেন। এ জিহাদ অপূ্র্ণ রেখে পরিশুদ্ধ ব্যক্তি, পরিশুদ্ধ সমাজ ও পরিশুদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদ কখনো সফল হয় না। অধিকাংশ দেশে সকল সংস্কার কাজ ব্যর্থ হচ্ছে এ জিহাদটি না হওয়ার কারণে।
প্রতিযোগিতা হতে হয় ভাল কাজে
একজন দুর্বৃত্তের বিশাল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পেশাদারী অর্জন দেখে হিংসা ও পরশ্রীকাতরতায় অনেকের মন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। সেরূপ অর্জন এ জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন গণ্য হয়। সেরূপ ঈর্ষা সাধারণ মানুষদের জীবনে অতি স্বাভাবিক। নিজের অর্জন যাই হোক, অন্যের অর্জন তাদের মনে প্রচণ্ড ঈর্ষার জন্ম দেয়। কারণ, অধিকাংশ মানুষই এ পৃথিবীতে অর্থ-সম্পদ ও আনন্দ-সম্ভোগের প্রতিযোগিতায় জিততে চায়। পরাজিত হওয়াটাই তাদের কাছে অসহ্য। ঈর্ষার মূল কারণ তো এই পরাজয়। কিন্তু এমন ঈর্ষা প্রকৃত ঈমানদারদের থাকেনা, অন্যদের এরূপ পার্থিব সাফল্য দেখে তাদের প্রতিক্রিয়া বরং ভিন্নতর হয়। তাদের কাছে গুরুত্ব পায় আখেরাতের পরিণামটি। ঈমানদারদের প্রতিযোগিতা তো আল্লাহর কাছে প্রিয়তর হওয়ায়, তাঁর থেকে মাগফিরাত লাভে এবং আখেরাতে জান্নাত লাভে। মহান আল্লাহ তায়ালাও বান্দাদের মাঝে এরূপ ভাল কাজের প্রতিযোগিতাকে ভাল বাসেন। সেরূপ প্রতিযোগিতার হুকুম এসেছে সুরা হাদিদের ২১ নম্বর আয়াতে। বলা হয়েছে:
سَابِقُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ
অর্থ: “পরস্পরে প্রতিযোগিতা করো তোমাদের রব থেকে মাগফিরাত লাভ ও জান্নাত লাভের জন্য, যে জান্নাতের প্রশস্ততা প্রশস্ত আসমান ও জমিনের ন্যায় -যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে। এগুলি হলো আল্লাহর নিয়ামত যা তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দান করবেন। এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতের অধিকারী।”
একই রূপ নির্দেশ এসেছে সুরা আল ইমরানের ১৩৩ নম্বর আয়াতে। বলা হয়েছে:
۞ وَسَارِعُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا ٱلسَّمَـٰوَٰتُ وَٱلْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থ: “এবং তাড়াহুড়া করো তোমাদের রব থেকে মাগফিরাত লাভে এবং জান্নাত লাভে -যে জান্নাতের প্রশস্ততা আসমান-জমিনের ন্যায়, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীনদের জন্য।”
জাহান্নামের মানুষের পদচারণা এ পৃথিবী পৃষ্ঠে
যাদের সকল আগ্রহ এবং সকল প্রতিযোগিতা আখেরাতের জীবনকে সফল ও আনন্দময় করায়, তাদের কাছে পার্থিব সম্ভোগে মোহাচ্ছন্ন দুর্বৃত্তগণ অতিশয় দুর্ভাগা ও ব্যর্থ মনে হয়। জাহান্নামের পথে তাদের যাত্রা দেখে ঈমানদারের মনে ঈর্ষার বদলে আফসোস হয়। দুর্বৃত্তদের দেখে মনে হয়, এরাই হলো জাহান্নামের মানুষ -যারা পদচারণার সুযোগ পেয়েছে এ পৃথিবী পৃষ্ঠে। মহান আল্লাহতায়ালা এমন দুর্বৃত্তদের যে জাহান্নামে নিবেন -সে হুঁশিয়ারি পবিত্র কুর’আনে বার বার এসেছে। আগুনের গর্তের দিকে ধাববান নেশাগ্রস্ত মানুষটিকে দেখে -তা যত শান-শওকতেরই হোক, ঈর্ষার বদলে দুঃখ পাওয়াই তো স্বাভাবিক। নবীজী (সা:) তাদের এই ব্যর্থতা ও জাহান্নামের পথে যাত্রা দেখে কাঁদতেন। এদের পার্থিব অর্জন নিয়ে প্রকৃত ঈমানদারের তাই ঈর্ষান্বিত হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।
মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনটি হলো জান্নাতের পথটি চেনা এবং সে পথে চলার সামর্থ্য। সেটি ভাত-মাছে সৃষ্টি হয়না, বড় বড় ডিগ্রি লাভ বা অর্থ লাভেও হয় না। সে জন্য চাই কুর’আন বোঝা ও তা থেকে শিক্ষা নেয়ার সামর্থ্য। তাই ইসলামে এ কাজ ফরজ। মুসলিম রূপে বেড়ে উঠার এটিই প্রথম ধাপ। এ জন্যই মহান আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম ফরজ করেছেন পবিত্র কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে। ওহীর জ্ঞান তখন সাফল্যের রাস্তা খুলে দেয়। মানবের দৈহিক ক্ষুধা মেটাতে করুণাময় মহান রব এ পৃথিবীকে সাঁজিয়েছেন নানা রূপ ফল-মূল ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে, তেমনি জ্ঞানের ক্ষুধা মেটাতে নাজিল করেছেন ওহীর জ্ঞানসমৃদ্ধ সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব পবিত্র কুর’আন। সুস্থতম ও সুন্দরতম মানুষ তো তারাই যাদের আগ্রহ শুধু দেহের ক্ষুধা মেটাতে নয়, বরং যত্নবান মনের ক্ষুধা মেটানোতেও। কুর’আনী জ্ঞানার্জনের সে ফরজটি আদায় না হলে মুসলিম হওয়াই তখন অসম্ভব হয়। নামাজ-রোজাও তখন প্রাণহীন হয়।
পবিত্র কুর’আনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, একমাত্র জ্ঞানবান ব্যক্তিরাই আমাকে ভয় করে। এর অর্থ, যারা জাহেল, তাদের মনে আল্লাহর ভয় থাকে না। তাই আল্লাহভীরু মুসলিম হতে হলে জ্ঞানবান হওয়াটি রুরি। ভিত ছাড়া যেমন দালান গড়া যায় না, তেমনি কুর’আনী জ্ঞান ছাড়া মুসলিমও হওয়া যায় না। মানবের সে অতি অপরিহার্য প্রয়োজনটি মেটাতে দয়াময় আল্লাহ তায়ালা নিজের কিতাব যেমন নাজিল করেছেন, তেমনি সে কিতাবের সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছেন। সে সাথে সে কিতাব থেকে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। এ পৃথিবী পৃষ্ঠে অতিশয় দুর্ভাগা তো তারাই যারা সে কুর’আন থেকে পুষ্টি নেয় না; ফলে অপুষ্টিতে মারা যায় তাদের ঈমান।
সেক্যুলারিজম: জাহান্নামে নেয়ার হাতিয়ার
মানব জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাটি হলো মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মাগফিরাত লাভের জন্য নিজেকে যোগ্যতর করা। কারণ, যারা মাগফিরাত পায়, একমাত্র তারাই জান্নাত পায়। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে যা অনিবার্য হয়ে উঠে তা হলো জাহান্নাম। এ ক্ষেত্রে তারাই ব্যর্থ হয় যাদের সমগ্র সামর্থ্য ব্যয় হয় স্রেফ পার্থিব স্বার্থ হাছিলে এবং ভুলে থাকে বা অবহেলা করে আখেরাতের জীবনকে। এরূপ দুনিয়াবী স্বার্থ নিয়ে বাঁচাকে বলা হয় সেক্যুলারিজম বা ইহজাগতিকতা। সেক্যুলারিস্টদের জীবন যে পুরোপুরি ব্যর্থ -সে কথাটি স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে পবিত্র কুর’আনের সুরা কাহাফের ১০৩ এবং ১০৪ নম্বর আয়াতে। বলা হয়েছে:
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِٱلْأَخْسَرِينَ أَعْمَـٰلًا١٠٣
ٱلَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا ١٠٤
অর্থ: “বলুন (হে নবী), আমি কি তোমাদের বলে দিব, কারা কর্মের দিক দিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত? এরা হলো তারা যাদের সকল প্রচেষ্টা পণ্ড হয় পার্থিব জীবনের খাতিরে এবং মনে করে কাজকর্মে তারাই উত্তম।”
পবিত্র কুর’আনে সেক্যুলারিজম তথা ইহজাগতিকতার বিরুদ্ধে এটি হলো অতি কঠোর আয়াত। সেক্যুলারিজম যে জাহান্নামের নেয়ার হাতিয়ার -উপরিউক্ত আয়াতে সেটিই সুস্পষ্ট করা হয়েছে। সেক্যুলারিজম রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনকে পরকালের ভাবনামুক্ত তথা ইসলামমুক্ত করতে বলে। অথচ সেগুলি হলো মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করা হাতিয়ার। রাজনীতি মুমিনের জিহাদ; এবং সে জিহাদটি রাষ্ট্রকে জান্নাতের বাহন বানানোর। মুমিনের ঈমানের পরীক্ষা হয় বস্তুত রাজনীতির জিহাদে।
অপর দিকে সেক্যুলারিজম কাজ করে শয়তানের হাতিয়ার রূপে। শয়তান চায় রাষ্ট্র, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের প্রশাসনিক অবকাঠামো কাজ করুক তার নিজের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার হাতিয়ার রূপে। সেক্যুলারিস্টদের মূল তাড়নাটি কেবল এ দুনিয়ার জীবনকে আনন্দময় করায়; তাদের কাছে গুরুত্ব হারায় মহান রব থেকে মাগফিরাত লাভের বিষয়টি। ফলে এরাই হলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানব। এরা হলো জাহান্নামের যাত্রী। পার্থিব জীবনে তাদের আর্থিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাদারী অর্জন যত বড়ই হোক, তা আখেরাতে মূল্যহীন। না। আখেরাতে হিসাব হবে ঈমান, তাকওয়া, নেক আমল ও বাঁচার নিয়তের। আর সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল হলো আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদ। অথচ সেক্যুলারিস্টদের এজেন্ডা হলো সে পবিত্র জিহাদকে সন্ত্রাস বলা এবং সেটি বিলুপ্ত করা। তাদের মূল গলদটি হলো বাঁচার নিয়তে ও জীবনের গতিপথে -যার চুড়ান্ত পরিণতি হলো জাহান্নাম।
ANNOUNCEMENT
ওয়েব সাইটটি এখন আপডেট করা হচ্ছে। আগের লেখাগুলো নতুন ওয়েব সাইটে পুরাপুরি আনতে কয়েকদিন সময় নিবে। ধন্যবাদ।
LATEST ARTICLES
- The US Shows its Power of Extreme Barbarity
- The Terrorist State of the USA and its Unabated War Crimes
- The Iranians are not Weaker than the Afghans: The Hope for the US Victory is Fading Quickly
- The Urgent Need for Restructuring the Geopolitical Map of the Ummah
- ইরানে মার্কিনী ও ইসরাইলী হামলা: সৃষ্টি হলো নতুন কারবালা এবং উম্মাহ পেল নতুন ইমাম হোসেন
বাংলা বিভাগ
ENGLISH ARTICLES
RECENT COMMENTS
- Fazlul Aziz on The Israeli Crimes, the Western Complicity and the Muslims’ Silence
- Fazlul Aziz on India: A Huge Israel in South Asia
- Fazlul Aziz on ইসলামী রাষ্ট্রের কল্যাণ এবং অনৈসালিমক রাষ্ট্রের অকল্যাণ
- Fazlul Aziz on বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ
- Fazlul Aziz on Gaza: A Showcase of West-led War Crimes and the Ethnic Cleansing
ARCHIVES
- March 2026
- February 2026
- January 2026
- December 2025
- November 2025
- October 2025
- September 2025
- August 2025
- July 2025
- June 2025
- May 2025
- April 2025
- March 2025
- February 2025
- January 2025
- December 2024
- October 2024
- September 2024
- August 2024
- July 2024
- June 2024
- May 2024
- April 2024
- March 2024
- February 2024
- January 2024
- December 2023
- November 2023
- October 2023
- September 2023
- August 2023
- July 2023
- June 2023
- May 2023
- April 2023
- March 2023
- January 2023
- December 2022
- November 2022
- October 2022
- September 2022
- August 2022
- July 2022
- June 2022
- May 2022
- April 2022
- March 2022
- February 2022
- January 2022
- November 2021
- October 2021
- September 2021
- August 2021
- July 2021
- June 2021
- May 2021
- April 2021
- March 2021
- February 2021
- January 2021
- December 2020
- November 2020
- October 2020
- April 2020
- March 2020
- February 2020
- January 2020
- December 2019
- November 2019
- October 2019
- September 2019
- August 2019
- July 2019
- June 2019
- May 2019
- April 2019
- March 2019
- February 2019
- January 2019
- December 2018
- November 2018
