উম্মাহর বিভক্ত মানচিত্র ও ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয়

ফিরোজ মাহবুব কামাল

 

বিভক্তি মানচিত্রের নাশকতা

ঈমান ও ইবাদত নিয়ে বাঁচার তাড়না থাকলে একতা নিয়ে বাঁচার তাড়নাটিও তীব্রতর হয় কারণ, একতা নিয়ে বাঁচাও মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম একতাবদ্ধ বাঁচার মধ্যে ব্যক্তির তাকওয়া দেখা যায় নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাত ও দোয়া-দরুদ বহু সূদখোর, ঘুষখোর এবং মিথ্যাবাদীও আদায় করে, কিন্তু সে ইবাদত তাদেরকে বিভক্তির বিচ্যুতি থেকে বাঁচায় না ব্যক্তির বেঈমানী স্পষ্ট দেখা যায় বিভক্তি গড়া ও সে বিভক্তি বাঁচিয়ে রাখার রাজনীতিতে বিপুল সংখ্যক মুসলিমের প্রচণ্ড আসক্তি হলো বিভক্তির নিষিদ্ধ রাজনীতিতে সে আসক্তির কারণেই নানা ভাষা, নানা বর্ণ ও নানা অঞ্চলের নামে মুসলিমগণ বিভক্ত ভূগোল নিয়ে বেঁচে আছে সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি যে কতটা বিশাল সেটি বুঝতে গবেষণা লাগে না; সেটি বুঝা যায় বিভক্তির  মাত্রা দেখে কারণ বিভক্তির অর্থই হলো সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি

সে বিভক্তির রাজনীতি অনিবার্য করে শত্রু শক্তির গোলামী তখন অসম্ভব হয় ভৌগলিক সংহতি নিয়ে বাঁচা। পরিতাপের বিষয় হলো, ১৯৭১’য়ে বিপুল বাঙালি মুসলিম ফ্যাসিস্ট মুজিবের ন্যায় এক দুর্বৃত্তের নেতৃত্বে একতার পথ ছেড়ে বিভক্তির পথ বেছে নিয়েছিল তেমনি ১৯১৭ সালে বিভক্তির পথ বেছে নিয়েছিল জাতীয়তাবাদী ও গোত্রবাদী সেক্যুলার আরবগণ। ব্রিটিশ ও ফরাসী কাফিরদের সহায়তা নিয়ে তারা অখণ্ড আরব ভূমিকে খণ্ডিত করেছে ২২ টুকরোয়। অথচ মহান আল্লাহর তায়ালার প্রতিশ্রুত আযাব পেতে নাস্তিক, জালেম বা মূর্তিপূজারী হওয়া লাগে না, বিভক্তির পথ বেছে নেয়াই সে জন্য যথেষ্ট। পবিত্র কুর’আনে সে হুশিয়ারি শোনানো হয়েছে নিচের আয়াতে:

 وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ۚ وَأُولَـٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ

অর্থ: “আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং নিদর্শন সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে- তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।” –(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১০৫)

একাকী একখানি গৃহ নির্মাণও অসম্ভব। তেমনি বিভক্তি নিয়ে কোন জনগোষ্ঠি সফল রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারে না। রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য জরুরি হলো একতা। ভাষা, বর্ণ বা ভূগোল ভিত্তিক বিভক্তি নিয়ে অসম্ভব হলো শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্মাণ। সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তায়ালা এজন্যই নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের ন্যায় একতাকেও ফরজ করেছেন। তিনি শুধু মদ, জুয়া, জ্বিনা, চুরি-ডাকাতি ও মানব খুনকে হারাম করেননি, হারাম করেছেন বিভক্তিকেও। বিভক্তি যে আযাবকে অনিবার্য করে সে ঘোষণা এসেছে উপরিউক্ত আয়াতে।

তাই মুসলিমগণ বিভক্ত হলো এবং দেশ ভাঙলো, অথচ তাদের আযাব এলো না -সেটি কখনো হয় না। বাঙালি মুসলিমগণ সে আযাব পেয়েছে ১৯৭১’য়ে পাকিস্তান ভাঙার পর। সে আযাবের নমুনা হলো, তারা ভারতের গোলাম হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ভিক্ষার তলাহীন ঝুলি হাতে ভিক্ষুকের খেতাব জুটেছে, গণতন্ত্রের বদলে বাকশালী ফ্যাসিবাদ মিলেছে এবং ১৫ লাখের বেশী ১৯৭৪’য়ের দুর্ভিক্ষে না খেয়ে মারা গেছে। বহু হাজার মানুষ নিহত হয়েছে মুজিব ও হাসিনা সরকারের পরিচালিত গণহত্যায়। এগুলিই তো একাত্তরের মূল অর্জন। আরবগণ খেলাফত ভেঙেছে এবং ২২ রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়েছে, ফলে তাদের উপরও আযাব অব্যাহত রয়েছে। বিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়াসহ বহু আরব দেশ তো সে অর্জিত আযাবের সাক্ষি।

 

বৃহৎ রাষ্ট্র গড়ে বিশ্বজনীন প্যান ইসলামী সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গড়ে বিভক্তির ট্রাইবাল সংস্কৃতি

বৃহৎ রাষ্ট্র গড়ে একতাবদ্ধ ভাবে বাঁচা ও রাজনীতির সংস্কৃতি। গড়ে উঠে নানা বর্ণ ও নানা ভাষার মানুষের মাঝে পারস্পারিক সম্পৃতি। বৃহৎ রাষ্ট্র তখন কাজ করে সাংস্কৃতিক “মেল্টিং পট” রূপে। তখন আরব, ইরানী, তুর্কি, কুর্দি, হাবশী একই শহরে পাশাপাশি বসবাস করেছে। বৈবাহিক সূত্রেও আবদ্ধ হয়েছে। বৃহৎ ভূগোলে বসবাসকারি মুসলিম জনগণ চেতনায় প্যান ইসলামী তথা বিশ্বজনীন মুসলিম ভাতৃত্বে বিশ্বাসী হয়। উমাইয়া, আব্বাসীয় ও উসমানিয়া খেলাফত আমলে তো সেটিই দেখা গিয়েছিল। অপর দিকে দেশের ভূগোল ছোট হলে মনের ভূগোলও ছোট হতে শুরু করে। ছোট মনের মানুষগুলি তখন নিজ ভাষা, নিজ গোত্র ও নিজ এলাকার মানুষের বাইরে অন্য কাউকে নিয়ে ভাবে না। চেতনার দিক দিয়ে তারা ট্রাইবাল হয়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র দেশ হওয়াতে বাংলাদেশীদের মাঝে সে ক্ষুদ্র ট্রাইবাল চেতনাটি প্রবল। ব্যাঙ তার গর্তে যেমন একা থাকতে চায়, তেমন একটি ভাবনা কাজ করে ক্ষুদ্র দেশের মানুষের চেতনায়। তাদের মগজে সবার আগে বাঙালি ও বাংলাদেশ, প্রতিবেশী ও মুসলিম উম্মাহ নিয়ে তাদের ভাবনা থাকে না। তাই একজন বিহারি পাকিস্তানের বৃহৎ মানচিত্রে যতটা গ্রহনযোগ্যতা পায় বা যতটা স্থান পায় কলকাতার বাঙালিদের মাঝে -সেটি কখনোই তারা বাংলাদেশের বাঙালিদের মাঝে পায়না। কলকাতার রাস্তায় বহু বিহারি মুসলিমকে এ গ্রন্থের লেখক সানন্দে ব্যবসা করতে দেখেছে। খেলাফত আমলে দেশের ভূগোল বিশাল হওয়াতে তাদের মনের ভূগোলও বিশাল ছিল; সে মনের জগতে প্রতিবেশীর জন্যও জায়গা ছিল। ফলে আরব, তুর্কি, কুর্দি, ইরানী, হাবশী, মুর ইত্যাদি নানা ভাষার মানুষ একই দেশের একই শহরে শান্তিতে বসবাস করেছে। তাদের মাঝে কোন দাঙ্গা ফ্যাসাদ হয়নি। অথচ বাংলাদেশে সেটি ভাবা যায়না; এ ক্ষুদ্র দেশটির মানুষের চেতনার ভূমির সবটুকু জুড়ে শুধু বাঙালি নিয়ে ভাবনা। সেখানে মুসলিম উম্মাহর অবাঙালিদের জন্য কোন স্থান নাই। তাই দেশটিতে ১৯৭১’য়ে দুই থেকে তিন লাখ বিহারিকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়ে তাদের খোলা আকাশের নিচে পাঠানো হয়েছে। কোন বাঙালি মুসলিম নেতা-কর্মীই সে নৃশংস বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এক দিনের জন্যও রাজপথে নামেনি। অথচ তখনও বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক দল ছিল এবং সেসব দলের শত শত রাজনৈতিক নেতা কর্মী ছিল। এবং ছিল বহু কবি, সাহিত্যিক, লেখক, প্রফেসর ও বুদ্ধিজীবী -যারা নিজেদের আলোকিত মনে করে। তাদের কাউকে সেদিন সে নৃশংস বর্বরতার বিরুদ্ধে লিখতে বা কথা বলতে শোনা যায়নি। বাঙালি মুসলিমের বিবেকহীনতা সেদিন উলঙ্গ ভাবে প্রকাশ পায়।

 

বাঙালি মুসলিমের মূল সংকটটি চেতনার ভূমিতে

বাঙালি মুসলিমের গুরুতর সংকটটি তাদের চেতনার ভূমিতে। মুসলিমগণ যখন বৃহত্তর উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তখন তাদের চেতনার ভূমিও যে দারুন ভাবে ক্ষুদ্রতর হয় -বাংলাদেশ হলো তার নজির। মানুষের চেতনার ভূবনে ক্ষুদ্র ভূগোলের প্রভাব পড়ে; গোত্রে বসবাসী মানুষেরা যেমন গোত্রবাদী হয়, ক্ষুদ্র ভূগোলের মানুষেরা তেমনি বর্ণবাদী, ফ্যাসিবাদী ও নির্মূলমুখী হয়। এটিই ক্ষদ্রতর ভূগোলে সংস্কৃতি। ইসলাম সে গৃহবন্দী ক্ষুদ্রতা থেকে মুক্তি দিতে দিনে ৫ বার মসজিদের নামাজে ডেকে আনে। নবীজী (সা:) ও তার সাহাবাগণ তাই নানা গোত্র, নানা বর্ণ ও নানা অঞ্চলের মানুষকে নিয়ে রাষ্ট্র নির্মাণ করেছেন। সেরূপ রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি না করলে মুসলিমগণ কখনোই বিশ্বশক্তি হতে পারতো না।  এজন্যই ইসলামে গুরুতর শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ হলো মুসলিম দেশের ভূগোল ভাঙায় অংশ নেয়া। এমন অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কারণ, অপরাধীর যুদ্ধ এখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের রাজনৈতিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে। এজন্যই ঈমানদার মুসলিমগণ সে অপরাধ থেকে সব সময় দূরে থেকেছে। মুসলিম দেশে সব সময়ই দেশ ভাঙার সে হারাম কাজে নেতৃত্ব দিয়েছে ইসলাম থেকে দূরে সরা জাতীয়তাবাদী, বর্ণবাদী ও আঞ্চলিকতাবাদী ফ্যাসিস্ট ও কম্যুনিস্ট শক্তি। এবং তাদের সহায়তা দিয়েছে বিদেশী কাফিরগণ। ১৯১৭ সালে আরব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সে সহায়তা দিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ ও ফরাসীরা। ১৯৭১’য়ে বাঙালি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সে সহায়তা দিয়েছে ভারতীয় পৌত্তলিক কাফিরগণ।  

বিভক্তির নাশকতা বহুমুখী। ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বসবাসকারি মুসলিমদের রুচি, আগ্রহ ও সামর্থ্য থাকে না মুসলিম উম্মাহর বিশ্বশক্তি রূপে বেড়ে উঠা নিয়ে স্বপ্ন দেখার। তারা স্বভাবতই ট্রাইবাল হয়। ঈমানদার বাঙালির ভাবনায় প্রথমে থাকে উম্মাহ ও ইসলামের বিজয়ের কল্যাণের ভাবনা। সর্বোপরি থাকে মহান আল্লাহকে খুশি করার তাড়না। কিন্তু ট্রাইবাল বাঙালির ভাবনায় থাকে প্রথমে বাংলাদেশ বা বাঙালির ভাবনা। তাদের থাকে আল্লাহ তায়ালার বদলে ট্রাইবাল বাঙালিকে খুশি করার তাড়না। সেক্যুলারিস্টদের বেঈমানীর শুরু এখান থেকেই। পাকিস্তানের বৃহৎ ভূগোল এজন্যই ট্রাইবাল বাঙালিদের কাছে অসহ্য ছিল। পাকিস্তান ভাঙার কারণ অনেক; তবে মূল কারণটি হলো পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি মুসলিমের ট্রাইবাল চেতনা। পাকিস্তান বৈষম্য ছিল, সামরিক স্বৈরাচার ছিল, দুর্নীতি ছিল। কিন্তু বাঙালি ট্রাইবাল নেতাদের মনযোগ সে সমস্যাগুলির সমাধানে ছিল। তাদের এজেন্ডা হয় পাকিস্তান ভাঙা। কারণ তাদের মনিব ভারত সেটিই প্রথমে চাইতে।  

পাকিস্তানের প্রধান অপরাধ, দেশটি ১৯৭১’য়ে খণ্ডিত না হলে জনসংখ্যায় বিশ্বে চীন ও ভারতের পর তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হতো এবং মুসলিম বিশ্বে হতো প্রথম। পাকিস্তানের উত্থান হতো তৃতীয় বৃহত্তম পারমানবিক শক্তি রূপে। এমন পাকিস্তান ভারতে কাছে অসহ্য ছিল। অসহ্য ছিল শয়তান ও তার তাবত অনুসারীদের কাছে। তারা কখনোই চায়নি, দেশটি অখণ্ড থাকুক। ফ্যাসিস্ট ও ভারতসেবী শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালিরাও তাই শরিক হয় শয়তানের পাকিস্তান ভাঙার প্রকল্পে। আজ সে পাকিস্তান ভাঙা নিয়েই ট্রাইবাল বাঙালিদের জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসব হতো। মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ নিয়ে সামান্য ভাবনা থাকলে তো একাত্তরে পৌত্তলিক ভারতের বিজয় নিয়ে তারা মাতম করতো। প্রশ্ন হলো, ইসলামে একতা ফরজ এবং বিভক্তি হারাম -ইসলামের এ মৌল বিধানের উপর ঈমান থাকলে কি তারা ১৯৭১’য়ে পাকিস্তান ভাঙা নিয়ে উৎসব করতো? পাকিস্তান ভাঙা নিয়ে তাদের এ উৎসব তাদের ইসলাম থেকে বিচ্যুতিটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।  মুজিব ও তার অনুসারীগণ ঈমানদার হলে বিভক্তির এ হারাম পথে কখনোই পা রাখতো না।

অথচ মুসলিমদের ভূগোল যখন বৃহৎ ছিল তখন তাদের মন অতি উদার ও পরোপকারী ছিল। এমন কি অন্য দেশের জনগণের কল্যাণে তারা যুদ্ধ করেছে। যেমন মহম্মদ বিন কাসিম তাঁর বাহিনী নিয়ে সুদূর ইরাক থেকে ছুটে এসেছিলেন সিন্ধুর অত্যাচারি রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। লক্ষ্য ছিল, সিন্ধুর মজলুম জনগণকে মুক্তি দেয়া। একই কারণে কাশ্মীরী মুসলিমদের স্বাধীনতা দিতে বার বার যুদ্ধ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু ভৌগলিক ক্ষুদ্রতার কারণে সে রুচি বাংলাদেশীদের নাই। ফলে প্রতিবেশী মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমগণ বার বার গণহত্যার শিকার হলেও তাদের পাশে বাংলাদেশ কখনোই দাঁড়ায়নি।   

 

উম্মাহর গভীর সংকট তার বিভক্ত মানচিত্রে

ঈমান নিয়ে বাঁচার অর্থ ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে একতা নিয়ে বাঁচা। একতার মধ্যে তাই ঈমান দেখা যায়, এবং বেঈমানী দেখা যায় বিভক্তির মাঝে।  মদ, জুয়া, জ্বিনা, সূদ, ঘুষ যেমন ঈমানদারের কাছে অসহ্য, তেমনি অসহ্য হলো মুসলিম মানচিত্রের বিভক্তি। ঈমানদারের প্রবল আগ্রহ যেমন নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাতে, তেমনি আগ্রহ থাকে একতাবদ্ধ বিশাল ভূগোল গড়ায়। মুসলিম উম্মাহ বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছিল তো তেমন এক ঈমান সমৃদ্ধ চেতনাতেই। মুসলিম উম্মাহর ৫০টির বেশী রাষ্ট্রে বিভক্ত মানচিত্র হলো বেঈমানীর দৃশ্যমান রূপ এ বেঈমানী কখনো নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাত দিয়ে লুকানো যায়না শয়তান সব সময়ই মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি চায় এবং কাফেরদের মাঝে চায় একতা শয়তানী শক্তিবর্গ তাই জোট বেঁধে পাকিস্তানকে বিভক্ত করেছে; অথচ ভারতের ১২০ কোটি হিন্দুকে একতাবদ্ধ রেখেছে

স্পেনে মুসলিমদের ৭ শত বছরের শাসন বাঁচেনি কারণ, তারা ছিল বিভক্ত স্পেনের মুসলিম শাসক পরিবারে দেখা গেছে পিতার বিরুদ্ধে পুত্রকে এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইকে যুদ্ধ করতে পিতার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে রাজপুত্ররা অমুসলিম রাজাদের সাথে কোয়ালিশন গড়েছে এবং যুদ্ধে পিতাকে পরাজিত করেছে অপরদিকে খৃষ্টানগণ ছিল একতবদ্ধ -একতাবদ্ধ হয়েছে এক রাজ্যের রাজা ফার্ডিনান্ড এবং অপর রাজ্যের রানী ইসাবেলা। বিভক্তির কারণে বিপুল সম্পদ, জনবল ও অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও স্পেন থেকে মুসলিমদের নির্মূল হতে হয়েছে বিভক্তির প্রতি যুগে এবং প্রতি দেশে একই পরিণতি ডেকে আনে। আজও মুসলিমদের জনবল ও সম্পদে কমতি নেই; কিন্তু বিভক্তি ও দুর্বৃত্তির কারণে তারা আজ নিজ দেশেও পরাজিত ও অধিকৃত ২২টি রাষ্ট্রে বিভক্ত ৪০ কোটি আরব আজ জিম্মি ৭০ লাখ ইসরাইলীদের হাতে। বিভক্ত মুসলিমদের এভাবে শাস্তি দেয়াই মহান আল্লাহ তায়ালার সূন্নত। 

শত্রু শক্তির অধিকৃতি ও গোলামী থেকে বাঁচাতেই মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের মাঝে একতাকে ফরজ করেছেন এবং বিভক্তিকে হারাম করেছেন কিন্তু মুসলিমদের বিদ্রোহ পবিত্র কুর’আনে ঘোষিত মহান আল্লাহ তায়ালার সে হুকুমের বিরুদ্ধে। নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়া দরুদের ন্যায় ইবাদত যতই পালন করা হোক তা কখনোই পরাজয় ও পরাধীনতা থেকে বাঁচায় না অতীতেও বাঁচায়নি; ভবিষ্যতেও বাঁচাবে না কারণ, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়া দরুদের ন্যায় ইবাদতগুলি কখনোই ঈমান, একতা ও জিহাদের বিকল্প নয় একতার বিকল্প একমাত্র একতা তাই নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাতের বাইরে একতাকে আলাদা ভাবে ফরজ করা হয়েছে স্বাধীনতা ও ইজ্জত নিয়ে বাঁচতে হলে অন্যান্য ইবাদতের সাথে জিহাদও চাই তবে সে পবিত্র জিহাদ শুধু একাকী হলে চলে না, অন্যদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তুলতে হয় অনৈক্যের কারণে অতীতে বার বার আযাব এসেছে কিন্তু সে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ায় মুসলিমদের কোন আগ্রহ নাই! মহান রবের হুকুম পালন তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি বরং গুরুত্ব পেয়েছে সে হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। ১৫/০৫/২০২৬

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *