সাহিত্য ও বুক রিভিউ
ভালো বই না লেখা ও না পড়ার বিপদ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 23 September 2012 15:37

মানব যেভাবে পশু হয়

মানব জীবনের মূল সাফল্যটি দেহ নিয়ে বাঁচায় নয়,বরং মানুষ রূপে বেড়ে উঠায়। কিন্তু মানুষ রূপে বেড়ে উঠার সে কাজটি স্রেফ পানাহারে চলে না। বহু পশু মানুষের চেয়ে বেশী পানাহার করে,কিন্তু তাতে তাদের পরিচয় পাল্টায় না।আজীবন তারা ইতর পশুই থেকে যায়। মানবিক পরিচয় লাভের জন্য অতি অপরিহার্য হলো জ্ঞান। যার মধ্যে সে জ্ঞান নাই সে ব্যক্তি দেখতে মানবের মত হলেও আসলে পশু। তখন বিপন্ন হয় তার মানব রূপে বেড়ে উঠা। তখন পুরাপুরি ব্যর্থ হয়ে যায় মহান আল্লাহর মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যটি। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা এমন মানুষকে শুধু পশুই বলেন নাই,বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বলেছেন। কোরআনের ভাষায় “উলায়েকা কা’আল আনয়াম বালহুম আদাল” অর্থঃ তারাই হলো পশুবৎ বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট। মহান আল্লাহতায়ালার এ উক্তিটি যে কতটা নিখূঁত ও নির্ভূল সে প্রমাণ কি কম? সাম্রাজ্যবাদ,উপনিবেশবাদ ও ইথনিক ক্লিনজিং –এরূপ ইতর কর্মগুলো পশুদের সৃষ্ট নয়,সেগুলি তো মানবসৃষ্ট। যুদ্ধ বাধিয়ে স্বজাতির কোটি কোটি প্রাণীকে হত্যা করা পশু সংস্কৃতি নয়,সেটিও মানব সংস্কৃতি। পশু দুর্বৃত্তিতে ব্শ্বি রেকর্ড গড়ে না,কিন্ত এমন মানুষরা বার বার গড়ে। পশুরা ক্ষুধা না লাগলে শিকারও ধরে না। কিন্তু এ পশুরা ভরাপেট নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করে।

 

Read more...
 
নজরুল সাহিত্যে বিভ্রাট PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Thursday, 03 March 2011 22:19

 

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি।এটি এক বিরল সন্মান। তবে এটি শুধু সন্মানের বিষয়ই নয়,তাঁর সাহিত্য থেকে প্রত্যাশের বিষয়ও। সাধারণ কবি ও জাতীয় কবির মধ্যে পার্থক্য বিশাল। কাউকে জাতীয় কবি, জাতির নেতা বা জাতির পিতা রূপে আসীন করার অর্থ, জাতির সামনে তাঁকে মডেল বা আদর্শ রূপে খাড়া করা। মডেল বিভ্রান্তু বা পথভ্রষ্ট হলে যারা তাঁর অনুকরণে জীবন গড়ে তারাও বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হয়। তখন মহা বিপদে পড়ে সমগ্র জাতি। একজন বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট মানুষকে জাতির পিতা, জাতির নেতা বা জাতীয় কবির আসনে বসানোর বিপদ তাই ভয়ানক। ইতিহাসের বড় শিক্ষা হল,নিজ গুণে বা নিজ সামর্থে নির্ভূল হওয়াটি যে কোন ব্যক্তির পক্ষেই অসম্ভব –সে ব্যক্তিটি যত প্রতিভাবানই হোক। তেমনি আদর্শনীয় হওয়ার বিষয়টিও।

Read more...
 
বাঙালী মুসলমানের সাহিত্য-সংকট PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Saturday, 19 February 2011 20:25

 

মূল সংকটটি সাহিত্যে

বাঙালী মুসলমানের মূল সংকটটি কি? সেটি কি খাদ্য-সংকট? সম্পদের স্বল্পতা? ভূ-প্রবৃতি বা জলবায়ু? বস্তুত মূল সংকটটি খাদ্য বা সম্পদে নয়,  ভূমি বা জলবায়ূতেও নয়। বরং  সেটি দেশের সাহিত্যে। সাহিত্যে দূষন দেখা দিলে দূষন দেখা দেয় দেশবাসীর বিবেক,দর্শন, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ। তখন সে দূষন নৈতীক মড়ক আনে শুধু নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মাঝেই নয়, ডিগ্রিধারি, ক্ষমতাধারি ও অর্থশালীদের মাঝেও। তখন দেশের কবি-সাহিত্যিক,বুদ্ধিজীবী,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর,আদালতের বিচারপতি, দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এবং সংসদ-সদস্যগণও প্রচণ্ড দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী হয়। সমগ্র জাতি অসুস্থ্য হয় নীতি ও নৈতিকতায়। দেহের রোগ যেমন জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধাহ্রাস ও ওজনহ্রাসের ন্যায় নানারূপ লক্ষণ নিয়ে হাজির হয়,তেমনি নানারূপ লক্ষণ দেখা দেয় চেতনার রোগেও। দেশ তখন দূর্নীতিতে রেকর্ড গড়ে। প্রচণ্ডতা পায় পাপাচার। রাজনীতিতে বাড়ে স্বৈরাচার ও সন্ত্রাস। বাংলাদেশে ব্যাপক দূর্নীতি, সন্ত্রাস, স্বৈরাচার ও নানাবিধ অপরাধের বিস্তার দেখে এটুকু সঠিক ভাবেই বলা যায়,বিপুল সংখ্যক মানুষের চেতনা,নৈতিকতা এবং বিবেক আদৌ সুস্থ্য নয়।এবং এটি কোন মামূলী বিষয়ও নয়। বাঙালী মুসলমানের সকল রাজনৈতিক, সমাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার জন্ম গুরুতর এই নৈতিক অসুস্থ্যতা থেকেই।এর ফলে বিশ্বমাঝে মাথা তুলে দাঁড়ানো দূরে থাক,ইজ্জত নিয়ে বাঁচাই দিন দিন কঠিনতর হচ্ছে।

Last Updated on Monday, 21 February 2011 19:38
Read more...
 
বাংলা সাহিত্যে ইসলাম-বিনাশী উদ্যোগ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 20 February 2011 23:31

 সমগ্র ভারতে ইসলামের প্রসার সবচেয়ে দ্রুত ঘটেছিল বাংলায়। এরই ফল হল,বিশ্বের আর কোন দেশে এত ক্ষুদ্র ভৌগলিক সীমানার মধ্যে এত মুসলমানের বসবাস নাই যা বাস করে বাংলায়।তবে ইসলামের প্রসার রোধে ইসলামের শত্রুরা কোন কালেই বসে থাকেনি। আজকের ন্যায় অতীতেও নয়। অতীতে মুসলমানদের বিজয় রোধে তাদের সামরিক সামর্থ ছিল না,তবে সামর্থ ছিল ভাষা ও সাহিত্যে। ইসলামের যখন দ্রুত বিস্তার ঘটছে তখন প্রতিরোধে ময়দানে নামেন শ্রী চৈতন্য দেব ও তাঁর সাথীরা বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে। ভক্তিমূলক এ বৈষ্ণব গানের মধ্যে হিন্দু ধর্ম যেন নতুন প্রাণ পায়। বৈষ্ণব সন্যাসীরা তাদের ভাববাদী গান নিয়ে বাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতো,আর তাদের ঘিরে জমা হত গ্রামের হিন্দু নর-নারীরা। শ্রী চৈতন্য দেব ও তার শিষ্যরা এ ভাবে আবির্ভূত হয়েছিল এক সংগঠিত শক্তি রূপে, যোগ করেছিল নতুন আধ্যাত্মীকতা। কোথাও কোথাও তারা মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহও গড়ে তোলে। তাদের কারণেই স্তিমিত হয়ে যায় বাংলায় ইসলামের প্রসার,যা পরবর্তীতে দারুন ভাবে প্রভাবিত করে বাংলার পরবর্তী মানচিত্র ও রাজনীতি। বৈষ্ণব সাহিত্যির ফলেই বাংলার পশ্চিম অংশের জনগণের অধিকাংশই হিন্দু থেকে গেছে। ফলে বাংলা ধর্মীয় ভাবে বিভক্ত থেকে গেছে সেদিন থেকেই। বাংলার ভূগোলের সবচেয়ে দুর্বলতা এই ধর্মীয় এবং ভৌগলিক বিভক্তি। ফলে আরব,ইরান,তুরস্ক, আফগানিস্তান যেরূপ মুসলমানদের অখণ্ড মানচিত্র রূপে গড়ে উঠে,নির্মান করে শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্র সেটি বাংলাদেশে সম্ভব হয়নি। এভাবেই রহিত হয়ে যায় বিশ্বের মানচিত্রে একটি মুসলিম শক্তিশালী রাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশের উত্থান। কারণ শক্তিশালী রাষ্ট্রের নির্মানে শুধু জনশক্তিই জরুরী নয়,অপরিহার্য হল ভূগোলের বলও।

Last Updated on Sunday, 20 February 2011 23:36
Read more...
 


Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.