একাত্তরের ইতিহাস (ই-বুক)
ভূমিকা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Thursday, 17 March 2016 00:29

বাংলাদেশের ইতিহাসে একাত্তরের গুরুত্ব অপরিসীম। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন অবসানের মাত্র ২৩ বছরে বাংলাদেশীরা দু’টি ভিন্ন পরিচয় পেয়েছে। এতো স্বল্প সময়ে এরূপ পরিচিতি পরিবর্তনের ইতিহাস মানব-ইতিহাসে বিরল। পূর্বের পরিচয়টি ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক রূপে। আজকের বাংলাদেশ তখন পরিচিত ছিল পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তান রূপে। ব্রিটিশের গোলামী থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিনটি ছিল ১৪ই আগষ্ট, ১৯৪৭ সাল। বাংলাদেশ তার বর্তমান পরিচিতি পায় একাত্তরে; এবং সেটি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে। তবে একাত্তরে বাংলাদেশীদের শুধু পরিচিতি ও মানচিত্র পাল্টে যায়নি, পাল্টে গেছে তাদের চিন্তা-চেতনা, ইতিহাস, মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চের অনেক কিছুই। ১৯৪৭’য়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল যোদ্ধা ছিলেন উপমহাদেশের মুসলিমগণ; প্রধান ভূমিকায় ছিল বাঙালী মুসলিমগণ। স্বাধীনতা অর্জনের সে লড়ায়ে অন্য ধর্ম ও অন্য দেশের লোকদের কোন দখলদারি ছিলনা। কিন্তু একাত্তরের পট পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ নায়ক রূপে আবির্ভুত হয়েছে ভারতীয় হিন্দুগণ –যারা প্রবল শত্রু ছিল ১৯৪৭’য়ের স্বাধীনতার। তাদের সাহায্য ছাড়া একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় অসম্ভব ছিল। বাংলাদেশের জন্মে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে সুবাদে ভারত ছেয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও অর্থনীতিসহ নানা অঙ্গণে। কারণ, জন্মে যার হাত থাকে তাকে কি এতো সহজে অস্বীকার করা যায়? বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে এটি এক বিশাল বাস্তবতা। যারা নিজ সামর্থ্যে স্বাধীন হয়, বিদেশের প্রতি তাদের সে দায়বদ্ধতা থাকে না। স্বাধীনতার স্বাদ ও আনন্দটি তখন ভিন্নতর হয়।

Read more...
 
অধ্যায় এক: কেন এ লেখা? PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Thursday, 17 March 2016 00:18

ঈমানী দায়বদ্ধতা

মৃত্যু,ধ্বংস বা বিপর্যয়কে কখনো কখনো ব্যক্তি বা জাতির জীবনে চাপিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু নিজেদের পক্ষ থেকে যখন ডেকে আনা হয় তখন সেটিকে আত্মঘাত বলা হয়। বাংলার মুসলিম জীবনে তেমন আত্মঘাত একাধীক বার এসেছে। যেমন ১৭৫৭ সালে, তেমনি ১৯৭১য়েও। কিন্তু কিভাবে সেটি এলো সেটি গুরুতর চিন্তাভাবনা ও গবেষণার বিষয়। কোন ব্যক্তির জীবনে আত্মঘাত ঘটলে তা নিয়ে বিচার বসেনা। কাউকে আসামীও করা হয় না। ফলে তার পোষ্টমর্টেমও হয় না। ব্যক্তির জীবনে আত্মঘাত সাধারণতঃ আত্মহত্যায় রূপ নেয়। নিজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সব ঘটনার যবনিকা সে নিজেই টেনে দেয়। কিন্তু জাতীয় জীবনে যখন আত্মঘাত ঘটে তখন সে আত্মঘাতে দেশের সবাই জড়িত হয় না; বরং কিছু লোক ডেকে আনে মাত্র। ডেকে আনার সে কাজটি করে দেশের ভ্রষ্ট চরিত্রের কিছু স্বার্থপর নেতা-নেত্রী। তাদের কাছে নিজেদের স্বপ্ন বা স্বার্থ পূরণটিই মূল, জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, মহান আল্লাহতায়ালার বিধান, মুসলিম-স্বার্থ এবং ইসলামের প্রতিষ্ঠা বা গৌরব –এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের কাছে গুরুত্ব পায় না। এরাই হলো মুসলিম ইতিহাসের মীর জাফর। মীর জাফরগণকোন কালেই জনগণের মতামত নিয়ে নিজ দেশে শত্রুদের ডেকে আনেনি,যুগে যুগে তারা শত্রুদের পক্ষ নিয়েছে স্রেফ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে। সত্তরের নির্বাচনেও একটি প্রকাণ্ড যুদ্ধের বিষয় কখনোই আলোচিত হয়নি, তেমনি ভারতকে ডেকে আনার বিষয়ও সামনে আসেনি। অথচ একটি প্রকাণ্ড যুদ্ধকে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ ভারতকে সাথে নিয়ে বহুবছর আগে থেকেই তেমন একটি যুদ্ধের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছিল। সে গুরুতর বিষয়টি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কিছুটা প্রকাশ পেলেও পুরাটি প্রকাশ পেয়েছে একাত্তরের পর। সে প্রকাশ না পাওয়াটিই ষড়যন্ত্র এবং জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।

 

Last Updated on Thursday, 17 March 2016 00:23
Read more...
 
অধ্যায় তিন: নিহত তিরিশ লাখের কাহিনী PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Thursday, 17 March 2016 00:05

অপরাধ সত্য লুকানোর

প্রতি যুদ্ধেই রক্তপাত ঘটে; রক্তপাত একাত্তরেও ঘটেছিল। নিহত ও আহত হয়েছিল হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু। কিন্তু সে যুদ্ধে কতজন নিহত হয়েছিল সে সংখ্যা এখনও সঠিক ভাবে নির্ণীত হয়নি। ১৬ কোটি বাংলাদেশীর এটি এক বড় ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতা নিয়ে আজ থেকে বহুশত বছর পরও প্রশ্ন উঠবে। পশুপাখীরা নিজেদের মৃত সাথীদের লাশ গণনার সামর্থ্য রাখে না। এটি তাদের অসামর্থ্যতা। একই রূপ অসামর্থ্যতা ধরা পড়ে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রেও। উন্নত দেশের সরকারগুলি দুর্যোগে গরু-ছাগল মারা গেলও তার সঠিক হিসাব রাখে। দেশে কতটা পশু সম্পদের ক্ষতি হলো এভাবে তার খতিয়ান নেয়। আজ থেকে শত শত বছর পর তখনকার প্রজন্ম বাংলাদেশীদের সে অসামর্থ্যতা দেখে কি বিস্মিত হবে না? বলা হয়, একাত্তরে নিহতদের সংখ্যা তিরিশ লাখ। অথচ তার কোন তথ্য-প্রমাণ নাই। কারণ, গ্রাম-গঞ্জে নেমে কেউই নিহতদের তালিকা তৈরি করেনি। সাহিত্য, পত্র-পত্রিকা, ফিল্ম ও ইতিহাসের বইয়ে তিরিশ লাখ নিহতের যে তথ্যটি দেয়া হয় সেটি মাঠ পর্যায়ে কোন রূপ জরিপ বা তথ্য সংগ্রহ না করেই। বলা হয় নিতান্তই লাগামহীন অনুমানের ভিত্তিতে। ফলে কোন বিবেকমান মানুষের কাছে কি সে তথ্য বিশ্বাসযোগ্য হয়? একাত্তরের যুদ্ধে কতজন নিহত হলো সেটি গণনা করার সামর্থ্য যে সরকারের ছিল না –বিষয়টি আদৌ তা নয়। তবে না করার কারণটি অন্যত্র। নিহতদের সংখ্যা নির্ণয়ের সে কাজটি তারা করেনি নিজেদের রটানো বিশাল মিথ্যাকে লুকানোর স্বার্থে। অথচ সত্য আবিস্কার করা প্রতিটি বিবেকমান মানুষের অতি মৌলিক দায়িত্ব। একমাত্র মিথ্যাচারীরাই সত্য আবিস্কারে উদাসীন হতে পারে। গুরুতর অপরাধটি এখানে সত্য লুকানোর –ইসলামে যা মহাপাপ।

Read more...
 
অধ্যায় দুই: ইতিহাসে নাশকতার উপকরণ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Thursday, 17 March 2016 00:14

আত্মঘাতি ইতিহাস

কোন জাতি ভূমিকম্প, ঘুর্নিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা মহামারিতে ধ্বংস হয় না। ধ্বংসের বীজ থাকে তার নিজ ইতিহাসে। আত্মহননের সে বীজ থেকে জন্ম নেয় জনগণের মাঝে আত্মঘাতি ঘৃণা; এবং সে ঘৃণা থেকে জন্ম নেয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও হানাহানি।যতই সে বিষপূর্ণ ইতিহাস পা|ঠ করা হয় ততই বাড়ে জনগণের মাঝে যুদ্ধের নেশা। বাড়ে সত্যচ্যুতি ও ভ্রষ্টতা। এমন আত্মহনন ও পথভ্রষ্টতার ভয়ানক বীজ ছিল ইসলামপূর্ব আরবদের ইতিহাসে। সে ইতিহাসই আরবদের সভ্য ভাবে বেড়ে উঠাকে শত শত বছর যাবত পুরাপুরি অসম্ভব করে রেখেছিল। নানা গোত্রে বিভক্ত আরবগণ নিজ নিজ গোত্রের বীরত্ব গাথা নিয়ে প্রচুর কবিতা লিখতো। সে কবিতায় থাকতো প্রতিদ্বন্দী গোত্রের বিরুদ্ধে বিষপূর্ণ ঘৃনা। থাকতো নিজেদের নিয়ে মিথ্যা গর্ব। নিয়মিত আসর বসতো সে কবিতা পাঠের। আরব গোত্রগুলির মাঝে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আগুণ শত শত বাঁচিয়ে রাখার জন্য সে কবিতাগুলি পেট্রোলের কাজ দিত। একই রূপ আজ পেট্রোল ঢালছে বাংলাদেশের একাত্তরের ইতিহাস। তাই একাত্তরের যুদ্ধ শেষ হলেও সে যুদ্ধের সহিংস চেতনাটি মারা পড়েনি। বরং সেটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তার মূলে নিয়মিত পানি ঢালা হচ্ছে। প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছেবহু একাত্তরের। এমন দেশের বিনাশে কি বিদেশী শত্রু লাগে?

Read more...
 
অধ্যায় চার: বাঙালী নির্মূল ও গণহত্যার প্রসঙ্গ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 23:50

যুদ্ধ কি বাঙালীর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবীর?

বাংলাদেশের সেক্যুলারিষ্টদের পক্ষ থেকে একাত্তরের সংঘাতকে দেখা হয়েছে বর্ণবাদী জাতিয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এ লড়াইকে বলা হয়েছে বাঙালীর সাথে পাঞ্জাবীর লড়াই। আসলেই কি তাই? নুরুল আমীন, ডা. অব্দুল মোত্তালেব মালেক, আব্দুর সবুর খান, শাহ আজিজুর রহমান, ফজলুল কাদের চৌধুরী র ন্যায় হাজার হাজার ব্যক্তি, মুসলিম লীগ, পিডিপি, জামায়াতে ইসলামী, নিজামে ইসলামীর ন্যায় বহু সংগঠন, রাজাকার বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য যে পাকিস্তানের পক্ষে লড়লো -সে তথ্য কি তারা ভূলে গেছেন। অপর দিকে সকল পশ্চিম পাকিস্তানীরাও কি পাঞ্জাবী ছিল? খোদ জেনারেল ইয়াহিয়া খানও পাঞ্জাবী ছিলেন না। তিনি ছিলেন পাঠান। পাকিস্তান আর্মির পূর্বাঞ্চলীয় কমাণ্ডার ছিলেন আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী। তিনিও ছিলেন পাঠান। ঢাকার কমাণ্ডার ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আরবাব। তিনিও ছিলেন পাঠান। একাত্তরের যুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের কমাণ্ডারদের মধ্যে পাঞ্জাবী ছিলেন জেনারেল জগতজিৎ সিং অরোরা। এবং তিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর। ফলে একাত্তরের যুদ্ধ পাঞ্জাবীর সাথে বাঙালীর যুদ্ধ হয় কি করে? একাত্তরের মিথ্যাচারিদের মিথ্যাচারটি এখানেও। বস্তুত এটি ছিল একটি রাজনৈতিক লড়াই। অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষের লোকদের সাথে বাঙালী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক্ষেত্রেও মিথ্যাচার হয়েছে; প্রকৃত সত্যটি তুলে ধরা হয়নি।

 

Last Updated on Wednesday, 16 March 2016 23:59
Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 7 8 Next > End >>

Page 1 of 8
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.