Home •আন্তর্জাতিক বিন লাদেনের মৃত্যু ও মার্কিনীদের উৎসব
বিন লাদেনের মৃত্যু ও মার্কিনীদের উৎসব PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Tuesday, 03 May 2011 00:57

মার্কিনী সৈন্যদের হাতে নিহত হয়েছেন ওসামা বিন লাদেন।তাঁকে হত্যা করা হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ শহর থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার উত্তরে এ্যাবোটাবাদ শহরে তাঁর বাসভবনে। হামলাটি হয়েছিল দুটি মার্কিন হেলিকপ্টার নিয়ে,তার মধ্যে বিধ্বস্ত হয়েছে একটি। বলা হচেছ, বিন লাদেনের মৃত্যু হয়েছে মার্কিন সৈন্যদের সাথে বন্দুক যুদ্ধে। সাথে মারা গেছেন তাঁর স্ত্রী। হত্যার পর বিন লাদেনের মৃতদেহকে মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তানে নিয়ে যায় এবং তড়িঘড়ি করে উত্তর আরব সাগরে ডুবিয়ে দেয়। কবর দেয়নি এ ভয়ে,তাঁর কবরস্থান যেন তীর্থস্থানে পরিণত না হয়। বারাক ওবামার মুখ দিয়ে বিন লাদেদের মৃত্যুর খবরটি ঘোষিত হওয়ার পরই নিউয়র্কের টুইন টাওয়ারের স্থানটি শত শত মার্কিনীর আনন্দ উৎসবের স্থানে পরিণত হয়। মার্কিনী প্রশাসনের সাথে আনন্দে শামিল হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সারকোজীসহ অন্যান্য পাশ্চাত্য নেতারাও। তবে বারাক ওবামার নিজের আনন্দের কারণটি আরো গভীর। বিন লাদেনকে এরূপে হত্যা করায় হয়তো আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর জন্য সম্ভব হবে একটি সহজ বিজয়।

 

লক্ষণীয় হল,বিন লাদেনকে হ্ত্যা করার দাবী করা হলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনও তাঁর লাশের ছবি প্রকাশ করেনি। অথচ ইরাকে সাদ্দামের দুই পুত্র ও আল কায়েদা নেতা যারকাভীর হত্যার সাথে সাথে তাদের ফটো সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছিল। বিন লাদেনের মৃত্যু হয়েছে বন্দুক যুদ্ধে।ফলে আগুণে পুড়ে বা বিশাল বোমায় তার দেহ ছ্ন্নিভিন্ন হয়নি। ফলে সনাক্তাহীনও হয়নি। তাই একটি ছবি প্রকাশ করলে মার্কিনীদের দাবীর গ্রহণযোগ্যতাই বাড়তো। কিন্তু সেটি না করায় বিন লাদেনের মৃত্যু নিয়েই দেখা দিচ্ছে সন্দেহ ।তবে ধরা যাক,বিন লাদেনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন হল, বিন লাদেন যে মিশন নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সেটিরও কি মৃত্যু হয়েছে?

 

মার্কিনীদের কাছে বিন লাদেন ছিলেন সন্ত্রাসী। এফবিআইয়ের ওয়ানটেড ম্যানের লিস্টে তিনিই ছিলেন শীর্ষে। কিন্তু প্রশ্ন হল, মুসলমানদের কাছেও কি তাঁর এটিই পরিচয়? বিভিন্ন মুসলিম দেশের নাগরিকগণ বিন লাদেনকে কি ভাবে দেখে তা নিয়ে বহুবার বহু জরিপ হয়েছে। সেসব জরিপে প্রতিবারই যেটি প্রকাশ পেয়েছে তাহল,তাঁকে দেখা হয় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্রদের পরিচালিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক রূপে। তাদের কাছে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হল জর্জ বুশ। এমন একটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত পেয়েছে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিরকার বহু অমুসমলিম দেশেও। আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন ও ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে বেশী বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরাইলের সৈন্যদের হাতে। মার্কিন পরিচালিত যুদ্ধের কারণে একমাত্র ইরাকেই মারা গেছে ৫ লাখের বেশী নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষ। বোমা বর্ষিত হয়েছে হাট-বাজার, ঘরবাড়ী এমনকি বিয়ের আসরে। এদেশ দুটি এখনও মার্কিনীদের হাতে অধিকৃত। ফিলিস্তিন অধিকৃত ইসরাইলীদের হাতে। বিন লাদেন পরিচিতি, এমন আরোপিত যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী সৈনিক রূপে। তাই তাঁর মৃত্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানা শহরে উৎসব শুরু হলেও তেমন একটি উৎসবমুখর চিত্র মুসলিম বিশ্বে অসম্ভব। তাছাড়া মার্কিনীদের ও মুসলমানদের উৎসব ও দুঃখের বিষয়গুলিও কি এক? ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান বা ইরাকে অসংখ্য নারী,পুরুষ ও শিশু যখন বিমান হামলায় নিহত হয় তখন তাদের সে নৃশংস মৃত্যুতে মার্কিন নেতাদের বিবেকে কি সামান্যতম দুঃখও জাগে? জাগলে সে হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কই? প্রতিরোধই বা কই? পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ড্রন হামলায় এখনও কেন শত শত নিরীহ নারী-পুরুষকে হত্যা করা হয়? অবস্থা দেখে মনে হয়, মার্কিনীদের কাছে শুধু বিন লাদেনই হত্যা যোগ্য নয়, হত্যা যোগ্য যেন এসব নারী, পুরুষ ও শিশুরাও। তাই পাকিস্তানের রাজপথে লক্ষ লক্ষ মানুষ এ ড্রন হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ রাস্তায় নামলেও মার্কিনীদের মাঝে তা নিয়ে কোন ক্ষোভ নাই।কোনরূপ ভ্রুক্ষেপও নেই। বরং এরূপ প্রতিটি হত্যাই যেন মার্কিন নেতাদের কাছে উৎসবযোগ্য। যেমন মার্কিন সৈন্যদের কাছে উৎসবযোগ্য গণ্য হয়েছিল বাগদাদের আবুগারিবের জেলে বন্দীদের উলঙ্গ করে তাদের একের ঘাড়ে অপরকে চাপিয়ে পিরামিড গড়ায়। একই পৃথিবীতে বাস করলেও চেতনার মানচিত্রটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় দেশগুলোতে যে কতটা ভয়ানক ভাবে ভিন্ন এ হল তার প্রমাণ।

 

ওসামা বিন লাদেনের জন্ম হয়েছিল ১৯৫৭ সালে সৌদি আরবের অন্যতম ধনি বিন লাদেন পরিবারে। আরব বিশ্বজুড়ে কনস্ট্রাকশন ব্যবসাসহ বিশাল ব্যবসা হল এ পরিবারের হাতে। অর্থনীতি ও বিজিনেস স্টাডিজে লেখাপড়া করেছিলেন জেদ্দায়।১৯৭৯ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার আগ্রাসন হয় আফগানিস্তানে। অনেকের ন্যায় তাঁর কাছেও কম্যিউনিষ্ট শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধটি ছিল শত ভাগ বিশুদ্ধ জিহাদ।নামাযের ন্যায় জিহাদেরও কোন ভৌগলিক সীমারেখা ন্যায়, সবদেশেই সেটি ফরজ। তাই বিশ্বের নানা দেশ থেকে হাজার হাজার মুসলমান তখন ছুটে যায় আফগানিস্তানের রণাঙ্গণে। যোগ দেন বিন লাদেনও।সে জিহাদে তিনি বিণিয়োগ করেন শুধু শারীরীক সামর্থ নয়, বিশাল অর্থনৈতিক সামর্থও। খরচ করেন পিতার ব্যবসা থেকে নিজের প্রাপ্ত অংশের কোটি কোটি ডলার। মোজাহিদের বিপুল রক্ত, অর্থ ও মেহনতের কোরবানীর ফলে অবশেষে পতন ঘটেছিল সোভিয়েত রাশিয়ার। কিন্তু সোভিয়েত রাশিয়ার পতন হলেও সেদিন বিন লাদেনের জিহাদ শেষ হয়নি। সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা অধিকৃত ভূমি শুধু আফগানিস্তানই ছিল না,অধিকৃত ফিলিস্তিন, কাশ্মির, চেচনিয়াসহ বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ। অনেক মুসলিম দেশেই মার্কিনীদের ঘাঁটি।এমনকি  শত শত মার্কিন সৈন্যের অবস্থান তার নিজদেশ সৌদি আরবেও। বিন লাদেনের কাছে মুসলিম বিশ্বের এমন অধিকৃত অবস্থা ছিল অসহ্য । তাই এবার যুদ্ধ শুরু করেন মার্কিনীদের বিরুদ্ধে। লন্ডনের ইন্ডডেপেডেন্ট পাত্রিকার সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক বিন লাদেনের সাথে তিন বার সাক্ষাত করেন। আল জাজিরার সাথে ০২.০৫.১১ তারিখের সাক্ষাতকারে তিনি বলেন,“ওসামা বিন লাদেন একবার আমাকে বলেন, সোভিয়েত রাশিয়াকে আমরা বিশ্বের মানচিত্র থেকে বিদায় দিয়েছি।এবার বিদায় দিতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্টকে।” এ লক্ষ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আল কায়েদা। এর পর থেকে বিশ্বের নানা স্থানে আল কায়েদার হামলা শুরু হয় মার্কিন অবস্থানের উপর। আল কায়েদার হামলা সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির উপর, নিহত হয় বহু মার্কিন সৈন্য। অবস্থা বিপদজনক দেখে সৌদি আরব ছাড়তে বাধ্য হয় মার্কিন সৈনিকরা। আল কায়েদার হামলার শিকার হয় কেনিয়া ও তানজানিয়ায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ইয়েমেনের অদূরে হামলা হয় মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে। হামলা হয় খোদ নিউয়র্ক ও ওয়াশিংটনে।হামলা হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের হেডকোয়ার্টার পেন্টাগনে। বিধ্বস্ত হয় টুইন টাওয়ার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূমিতে মৃত্যু হয় প্রায় তিন হাজার মার্কিনীর। ইতিপূর্বে মার্কিনীরা প্রকাণ্ড দুটি বিশ্ব যুদ্ধ লড়েছে। কিন্তু কোন বিশ্বযুদ্ধেই শত্রুর হাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূমিতে এত মার্কিনীদের প্রাণ হারাতে হয়নি। এমন সাহস মার্কিনীদের এক কালের পরম শত্রু জার্মান, জাপান এবং রাশিয়াও দেখায়নি।

 

বিন লাদেনের লড়াই যে শুধু সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ছিল তা নয়, তাঁর লড়াই ছিল মূলত শরিয়ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও। শরিয়ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মুসলিম দেশগুলিকে সাম্রাজ্যবাদীর প্রভাব মুক্ত করাকে তিনি পূর্বশর্ত মনে করতেন। দেশের অভ্যন্তরে রাশিয়ার প্রভাবে রেখে সেটি যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সম্ভব নয় ব্রিটিশ বা মার্কিনীদের প্রভাবে রেখেও। সেটি তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। জামাল উদ্দিন আফগানির মত তিনি ছিলেন মনেপ্রাণে প্যান-ইসলামিক। সকল মুসলিম ভূমিকে তিনি নিজের প্রাণের ভূমি মনে করতেন। সেগুলির প্রতিরক্ষায় তাই অর্থদান, রক্তদান এবং শ্রমদানে কোনরূপ কার্পন্য করেননি। তাই যেমন আফগানিস্তানে গেছেন,তেমনি সূদান এবং পাকিস্তানেও  গেছেন। রবার্ট ফিস্ক ০২/০৫/১১ তারিখে আল জাজিরার সাথে সাক্ষাতকারে আরো বলেন বলেন, “একবার বিন লাদেন বলেছিলেন,“মুসলিম বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও সকল সমস্যার সমাধানের একটি মাত্র হল শরিয়তের প্রতিষ্ঠা।” এরফলে তিনি শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন মুসলিম নামধারি সেক্যিউলারদেরও। একারণেই বিন লাদেনের মৃত্যুতে উৎসব মুখর শুধু মার্কিনী যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য বিশ্বের অমুসলিম দেশগুলিই নয়,আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বের সেক্যিউলার মহলগুলিও। তাই ওসামা বিন লাদেনের নিহত হওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানে পিপলস পার্টির সরকার। প্রচণ্ড আনন্দ প্রকাশ করেছেন, আফগানিস্তানের প্রেসেডেন্ট জনাব হামিদ কারজাই। বিন লাদেনের মৃত্যুর সংবাদে হামিদ কারজাই এতটাই খুশি হয়েছেন যে কাবুলে এক ভাষণে তিনি বলেছেন, “তালেবানদের উচিত বিন লাদেনের মৃত্যু থেকে শিক্ষা নেয়া। তাদের উচিত যুদ্ধ বন্ধ করা।” তিনি ভূলেই গেছেন, বিন লাদেন তো মারা গেছেন বন্দুকের গুলি ছুড়তে ছুড়তে। অথচ তিনি তালেবানদের বলছেন সে শিক্ষাটি ভূলে যেতে! অপরদিকে পাকিস্তানের তালেবানগণ ঘোষণা করেছে, তারা তাদের মার্কিন বিরোধী লড়াইয়কে আরো তীব্রতর করবে। ফিলিস্তীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও হামাস নেতা ইসমাঈল হানীয়া এ হত্যাকে নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, “বিন লাদেন ছিলেন একজন মহান আরব মোজাহিদ।” আল জাজিরার সাথে এক সাক্ষাতকারে আফগানিস্তানের তালেবান নেতা ও সাবেক বিদেশ মন্ত্রী মোল্লা জায়িফ বলেছেন,“এটা এক আদর্শিক যুদ্ধ। এ ধরণের যুদ্ধে কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে কোন ক্ষতি হয় না। তাছাড়া মার্কিনীদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই থেকে (উদ্ভুদ পরিস্থিতির কারণে) বিন লাদেন বহু বছর ধরে অনেক দূরে ছিলেন। তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না যারা ময়দানে লড়ছেন তাদের সাথে এমন কি যোগাযোগ রাখাও। ময়দানের লড়াইয়ে গড়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব। ফলে তাঁর মৃত্যুতে চলমান লড়াইয়ে কোন দূর্বলতা আসবে না।” ফলে বুঝা যায়, বিন লাদেনের মৃত্যুকে অনেকে “শেষ খেলা” রূপে ঘোষণা করলেও সে খেলা যে শেষ হচ্ছে না সে প্রমাণই অধিক।

 

বিন লাদেন নিছক একজন ব্যক্তি ছিলেন না, ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এক নতুন স্ট্রাটেজীর প্রনেতা।‘আল কায়েদা’ শব্দের শাব্দিক অর্থও হল স্ট্রাটেজী। এ সংগঠণের মূল লক্ষ্য দৃশ্যত দুটি। এক, অধিকৃত মুসলিম দেশে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই। দুই, শরিয়তের প্রতিষ্ঠা। এজন্যই তাদের শত্রু শুধু আগ্রাসী কাফের শক্তিই নয়,সেক্যিউলার শক্তিও। বিন লাদেন তাঁর লড়াই প্রথমে আফগানিস্তানে শুরু করলেও এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান, ইরাক, জর্দান, সূদান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, মরক্কো, আলজিরিয়া, মৌরতানিয়া, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নানা দেশে। এসব দেশে গড়ে উঠেছে আল কায়েদের নিজস্ব সংগঠন ও কমান্ড স্ট্রাকচার। বিন লাদেনের সাফল্য হল, তিনি মারা গেলেও ইতিমধ্যে তাঁর সে স্ট্রাটেজীকে তিনি ইতিমধ্যেই নানা দেশে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি অনন্য।  এত গুলো মুসলিম দেশে এমন এক অভিন্ন স্ট্রাটেজী নিয়ে আর কোন সংগঠনেরই উপস্থিতি নেই।

  

বিন লাদেনের উপর হামলায় মার্কিন বিমান যেভাবে পাকিস্তানের গভীরে প্রবেশ করেছে তা নিয়ে মার্কিন সরকারের আনন্দ বাড়লেও অতি মহা বিপদে পড়বে পাকিস্তানে সরকার। কারণ, এ হল পাকিস্তানের সীমানা লংঘন ও সার্বভৌত্বের বিরুদ্ধে হামলা। জেনারেল মোশাররফ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মার্কিনী সৈন্যদের কখনই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে হামলা পরিচালনার সুযোগ দেননি। মার্কিনীরা বলছেন,তারা এ হামলাটি করেছে একক ভাবে, পাকিস্তান সরকারকে এব্যাপারে তারা কিছুই বলেনি। আর সেটি সত্য হলে পাকিস্তানের জারদারী সরকারের জন্য সেটি মহা বিপদ। কারণ এ শুধু পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিষয় নয়, নিরাপত্তার বিষয়ও। এ্যাবোটাবাদের কাছেই পাকিস্তানের পারমাণবিক রিয়াক্টর। শহরটি মূলত একটি সামরিক শহর। সেখানে রয়েছে পাকিস্তানের মিলিটারি এ্যাকাডেমি। এমন একটি শহরে মার্কিন সৈন্যরা দুইটি হেলিকপ্টার নিয়ে হামলা করলো আর পাকিস্তান সেনাবাহিনী টেরই পেল না, সেটি সেদেশবাসীর জন্য ভয়ানক দুশ্চিন্তার কারণ। এর ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে, সরকার কি ভাবে নিরাপত্তা দিবে দেশের পারমাণবিক স্থাপনা ও পারমাণবিক বোমাসহ দেশের ভৌগলিক সার্বভৌমত্বকে? জনগণের সামনে আসিফ জারদারীর সরকারকে অবশ্যই এর ব্যাখা দিতে হবে। সরকার যদি বলে, এ হামলা হয়েছে তাদের অনুমতি নিয়ে তবে তাতেও সরকারের জন্য সমস্যা কমবে না। বরং বাড়বে। কারণ, তখন প্রশ্ন উঠবে, সরকার যদি বিন লাদেনের হত্যায় আগ্রহীই থাকতো তবে সে উদ্যোগ কেন নিজে নিল না? কেন সে কাজে মার্কিনীদের জন্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলার সুযোগ করে দিল।  জারদারীর সরকার ইতিমধ্যেই নানা সমস্যায় গভীর পাঁকে আবদ্ধ। সম্প্রতি প্রকাশ, দেশটির অভ্যন্তরে অদৃশ্য ভাবে অবস্থান নিয়ে আছে শত শত মার্কিন সৈনিক ও সিআইয়ের এজেন্ট। সিআইয়ের একজন সশস্ত্র এজেন্টের হাতে লাহোরে গভর্নর হাউস থেকে অনতিদূরে দিবালোকে নিহত হল একজন পাকিস্তানী নাগরিক। পাকিস্তান সরকার হত্যাকারিকে গ্রেফতার করলেও তার বিচার করতে পারিনি। তাকে নিরাপদে তুলে দিতে হয়েছে মার্কিনীদের হাতে। এতে প্রচণ্ড ভাবে বিক্ষুব্ধ পাকিস্তানের জনগণ। পাকিস্তানী মহিলা ড. আফিয়া সিদ্দিকী মার্কিন জেলে এখনও কারারুদ্ধ, তাঁকে পাকিস্তান সরকার ফেরত আনতে পারছে না। পাকিস্তানের জন্য এটিও চরম অপমানজনক। ক্ষোভে সে দেশের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা রাস্তা উত্তপ্ত করে রেখেছে বহুদিন ধরে। এবার সে উত্তপ্ত আগুনে পেট্রোল ঢালা হল। মার্কিনীরা সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে বিশেষ করে পাকিস্তানের ন্যায় একটি বৃহৎ রাষ্ট্রকে কতটা মগের মুল্লুক বানিয়ে ফেলেছে এ হল তার নমুনা। অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জনাব জিলানী বলেছেন,পাকিস্তান সরকার এ হামলার সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু ওবামার ডিফেন্স এ্যাডভাইজার মিষ্টার জন ব্রেনান হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাতকারে আজ যা বল্লেন সেটি অন্য রকম। তাঁর কথা,“অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যপ্ত পাকিস্তান কর্তপক্ষকে আমরা কিছু্ই জানায়নি।” প্রশ্ন হল, না জানালে পাকিস্তান সরকার মার্কিনীদের সাথে সহযোগিতা করলো কিভাবে? মনে হচ্ছে পাকিস্তানে সরকার কোন গুরুতর বিষয় লুকাতে চাচেছ। তবে পিপলস পার্টির সরকার যদি মার্কিনীদের সাথে সত্যই সহযোগিতা করে থাকে তবে সে জন্য সেজন্য তাকে মাশূলও দিতে হবে। এতে আল কায়েদার টার্গেটে পরিণত হবে শুধু মার্কিনীরাই নয়, পাকিস্তানের শাসক দলের নেতারাও। মোশাররফ স্বৈরাচারি ছিলেন, কিন্তু তিনি পাকিস্তানের জনগণের মনের খবরটি জানতেন। তাই মার্কিনীদের সাথে সহযোগিতা রাখলেও মার্কিনী সৈন্যদের দেশের ভিতরে অপরারেশনে নামতে দেননি। কিন্তু সেটি দিলেন পিপলস পার্টির সরকার। বেনজির ভূট্টো ক্ষমতায় এসেছে মার্কিনীদের সমর্থন নিয়ে। মার্কিনীরাই মোশাররফকে বাধ্য করেছে ক্ষমতা ছাড়তে। বেনজির ভূট্টোর বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি গদিতে বসতে চেয়েছিলেন মার্কিনীদের কাছে আত্মসমর্থন করে। এখন অভিযোগ উঠবে, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার মূল শত্রু হিন্দুস্থান নয়, কোন বিদেশী শক্তিও নয়। বরং সেটি সে দেশের নির্বাচিত সরকার। নির্বাচিত শত্রুরাই অন্যশত্রুদের জন্য পথ করে দিচ্ছে। সে দেশের নির্বাচন ভাল মানুষের নির্বাচনই অসম্ভব করে তুলেছে। ফলে একটি নির্বাচিত সরকারও যে নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যে কতটা শত্রুতা হতে পারে তার নজির শুধু সিকিমের লেন্দুপ দর্জিই নয়।শুধু শেখ মুজিবও নয়। একই পথের পথিক রূপে প্রমাণিত হলেন আসিফ জারদারীও। ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর লেন্দুপ দর্জি সিকিমকে তুলে দিয়েছিলেন ভারতের হাতে। ভারতীয় বাহিনীর জন্য দেশের সীমান্ত খুলে দেয়ার ২৫ সালা চুক্তি করেছিলেন শেখ মুজিব, ভারতের হাতে তুলে দিয়েছেন পদ্মার পানি। এবং ভারতভূক্ত করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ভূমি বেরুবাড়ী। ১৯৭১য়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই একটি কাফের শক্তির সামনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রের অপমানজনক বিপর্যয় ডেকে আনে। আর আজ একই ভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মার্কিন বাহিনীর হামলার সুযোগ করে দিলেন জনাব আসিফ জারদারী। এদের কাছে নির্বাচিত হওয়ার মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম রক্ষা করা নয়, দেশকে শক্তিশালী করাও নয়। বরং সেটি হল,ক্ষমতালাভ,এবং ক্ষমতালাভের সাথে সাথে দেশের অর্থভান্ডারের উপর দখলদারি প্রতিষ্টা করা। ফলে এটি নিশ্চিত, আসিফ জারদারীর এ ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রচণ্ড বিতর্ক হবে,প্রচণ্ড ভাবে উত্তপ্ত হবে পাকিস্তানের রাজপথ। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ এবার রাজপথে নামবে সেটি নিশ্চিত। জনগণের নিজস্ব শক্তি যে কত বিশাল সেটি তো তারা দেখেছে মিশর, সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন ও তিউনিসিয়ার বিপ্লবে। ফলে বলা যায়, বিন লাদেনের মৃত্যুতে বিপ্লব আসছে পাকিস্তানের রাজনীতিতেও।

 

বিন লাদেনের বড় স্ট্রাটেজিক সফলতা হল, মার্কিনীদেরকে তাদের সমূদ্রঘেরা নিরপদ সীমান্ত থেকে বাইরে নিয়ে আনতে পেরেছিলেন। তাদেরকে টেনে এনে খাড়া করেছিলেন আফগানিস্তানের ক্ষেত-খামার ও পাহাড়-পর্বতের মাঝে। ফলে মার্কিনীদের উপর হামলা করতে বিন লাদেনের অনুসারিদের আর বিমান হাইজ্যাক করে এখন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। তাদেরকে তারা নিজ বন্দুকের সামনে পাচ্ছে নিজ ভূমিতেই। ফলে বহু হাজার মার্কিনীকে হত্যা করার পাশাপাশি বিপন্নদশা ডেকে এনেছে মার্কিন অর্থনীতিতেও। বিগত ১০ বছরের বেশী কাল ধরে মার্কিনীরা যুদ্ধ লড়ছে আফগানিস্তানে। কিন্তু বিজয় থেকে দিন দিন তারা শুধু দূরেই সরছে। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদের বহু জেলা শহর থেকে ইতিমধ্যে তারা সৈন্য অপসরণ করছে। দশ বছর পূর্বে আফগানিস্তানের যতটুকু ভূমি তাদের দখলে ছিল এখন সেটুকুও নাই।  এখন তারা পলায়নের রাস্তা খুঁজছে। তবে বিন লাদেনকে হত্যার পর এবার বারাক ওবামা একটি মহা সুযোগ হাতে পেল। আফগানিস্তানের ভূমি তাদের হাত ছাড়া হলে কি হবে, এবার সে পরাজয়কে মহা বিজয় আখ্যা দিয়ে সৈন্য সরানোর একটি কারণ খুঁজে পেল।   

 

ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে একটি আদর্শ ও তাঁর স্ট্রাটেজীর মৃত্য ঘটে না। চলমান সে লড়াইয়ে নতুন নেতৃত্ব বরং অনেক সময় নতুন প্রেরণা যোগ করে। আল কায়েদা কখনই কোন কেন্দ্রীয় নেতেৃত্বের আওয়াতায় ছিল না। এ সংগঠনে যোগদানের জন্য কারো কোন সদস্যপদ লাভের প্রয়োজন পরে না। যে কোন ব্যক্তিই যে কোন সময় যে কোন দেশে আল কায়েদা নামে সংগঠন খুলতে পারে। বিন লাদেন নিজে কোন সামরিক কমান্ডারও ছিলেন না। কোন হামলায় তিনি নিজে কোন নেতৃত্ব দেন নাই। বরং কাজ করেছেন একজন অনুপ্রেরণা দাতা রুপে। গোপন আস্তানায় বসে সেটি তিনি দিয়ে আসছেন বহুবছর ধরে। এখন সেটি কবরে শুয়েও দিতে পারবেন। তাঁর অনুসারিদের কাছে তিনি একজন শহীদ। এবং যেভাবে যিনি মারা গেলেন সেটিও অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মারা গেছেন লড়াই করতে করতে। তাঁর সাথে লড়াই করতে গিয়ে মারা গেছেন তাঁর স্ত্রী। তাদের সে লড়ায়ে ঘটানস্থলে ভূপাতিত হয়েছে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার। তাঁর সে লড়াকু শেষ মুহুর্তটির স্মৃতি নিয়ে বিন লাদেন যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মনে।নিহত বীরদের কাহিনী তো এভাবেই দেশে দেশে গৌরব গাঁথায় পরিণত হয়। বিন লাদেনের শত্রুদের এখানেই ভয়। সে ভয় নিয়েই মার্কিনীরা তাঁর লাশকে গায়েব করেছে। বলছে তার লাশকে তারা উত্তর আরব সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এভাবে তাঁর লাশ গায়েব করতে পারলেও তাঁর স্মৃতিকেও কি গায়েব করতে পারবে? মার্কিনীরা আজ  উৎসব করছে ঠিকই। কিন্তু সেটি করছে প্রচণ্ড ভয় নিয়ে।সে ভয়ের কারণে মার্কিন সরকার শুধু নিজ দেশে  নয়, সমগ্র পৃথিবীতে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক স্থাপনায় উপর সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

 

হামিদ মির পাকিস্তানের জিয়ো টিভিতে কর্মরত একজন সাংবাদিক। তিনি ওসামা বিন লাদেনের সাথে তিনবার সাক্ষাতকার নেয়ার সুযোগ পান। ১৯৯৭ সালের মার্চের এক সকালে বিন লাদেন তাঁকে বলেছিলেন, “ধনী বাবার ছেলে আমি। চাইলে ধনাঢ্য সৌদি নাগরিকের মত আমিও ইউরোপ কিংবা আমিরিকায় বিলাসী জীবন কাটাতে পারতাম। আমি তা করেনি। হাতে তুলে নিয়েছি অস্ত্র, চলে এসেছি আফগানিস্তানের পাহাড়ে। শুধু কি ব্যক্তিগত লাভের আশায়? সেখানে আমার প্রাতিটি মুহুর্ত কেটেছে মৃত্যুকে সঙ্গী করে। মুসলমানদের উপর যারা আঘাত করে চলেছ তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনার ধর্মীয় দায়িত্ব থেকেই শুধু এ পথে এসেছি। এ করতে গিয়ে মৃত্যু অনিবার্য হলেও তা নিয়ে আমি পরওয়া করি না। আমি এবং আমার মতো আরো অনেকের মৃত্যুই একদিন লাখ লাখ মুসলিমকে তাদের উদাসীনতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে।” ১৯৯৮ সালে মে মাসে প্রদত্ত এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ আমি জানি,আমার শত্রুরা অনেক শক্তিশালী। তবে আমি নিশ্চিত করে বলছি, তারা আমাকে হত্যা করতে পারবে,কিন্তু জীবিত ধরতে পারবে না।” হামিদ মিরের কাছে ২০০১ সালে প্রদত্ত শেষ সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “শহীদ হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।আমি শহীদ হলেও আরো অনেক ওসামা বিন লাদেন সৃষ্টি হবে।” অবশেষে ওসামা বিন লাদেনের জীবনের বিশাল সে স্বপ্নটি পূরণ হলো।এভাবে বিন লাদেনের মৃত্যুতে একজন ব্যক্তির মৃত্যু হল ঠিকই, কিন্তু তাঁর মৃত্যুতে প্রবল ভাবে বলবান হল তাঁর আদর্শ।সে আদর্শে তিনি নতুন প্রাণ দিয়ে গেলেন নিজের রক্ত ঢেলে।বছরের পর বছর লুকিয়ে লুকিয়ে বাঁচা বা রোগেভোগে বিছানায় মারা গেলে সেটি হত না। ওসামা বিন লাদেনের জীবনে এখানেই বড় সাফল্য। লুকিয়ে থাকা বিন লাদেনের চেয়ে মৃত বিন লাদেন এখন তাই বেশী শক্তিশালী। তবে মার্কিনীদের অজ্ঞতা, তারা জীবিত মানুষের শক্তি দেখলেও মৃত মানুষের শক্তি দেখেনি। ০২/০৫/২০১১

 

  

 

 

 

 

                                         



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
Comments (1)
যেন মহান আল্লাহতায়ালা কবুল করেন
1 Saturday, 14 May 2011 06:15
Dr. Mahfuz

মাহবুব ভাই,


আসসালামু-আলাইকুম। আপনার সুন্দর প্রচেষ্টাকে যেন মহান আল্লাহতায়ালা কবুল করেন। আমি ইতিমধ্যে আপনার লেখাগুলো পড়া শুরু করেছি। তবে ফন্টের আকার ছোট হওয়ায় খুব অসুবিধা হয়। সোলায়মান লিপিতে হলে ভাল হত। আমিও কিছুটা চেষ্টা করছি। শুভেচ্ছান্তে-   মাহফুজ

 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.